Brand logo light

বরগুনা

নিহত ইব্রাহিম হোসেন কালু
বরগুনায় ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে আহতের অভিযোগ, গণপিটুনিতে নিহত কালু: মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলার জেরে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এনেছে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক বাণিজ্য এবং কথিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের প্রভাব। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল চারটার দিকে ইউনিয়নের ডেমা গ্রামে সংঘটিত এ ঘটনায় নিহত হন ইব্রাহিম হোসেন কালু (৩০)। গুরুতর আহত হয়েছেন তার সহযোগী তৌহিদ ইসলাম শুভ (২২)। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল কালু ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘কালু বাহিনী’কে ঘিরে একাধিক অভিযোগ থাকলেও তাদের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ঘটনার দিন বিকেলে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, স্থানীয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে ক্ষুব্ধ জনতা কালু ও তার সহযোগীদের ধরে গণপিটুনি দেয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের বরগুনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিম হোসেন কালুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তৌহিদ ইসলাম শুভকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আহত ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, ইব্রাহিম হোসেন কালুর বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তার কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। প্রায় চার মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। পুলিশের দাবি, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর কালু পুনরায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এসব কার্যক্রমে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই সর্বশেষ সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে ঘটনাটি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। একজন বহুমামলার আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে কীভাবে আবার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হলেন? স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন অভিযোগ থাকলেও কেন কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি? এবং শেষ পর্যন্ত কেন আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনির মতো পরিস্থিতি তৈরি হলো? এ বিষয়ে পুলিশ বলছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৩, ২০২৬ 0
বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলো
বরগুনায় মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ৭ দিন পর হত্যা মামলা, তদন্তে নতুন মোড়

ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর দুটি পৃথক কক্ষ থেকে মা ও তার দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাত দিন পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলাটি করেছেন। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার পাশাপাশি দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪), তার বড় মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২) এবং ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল, দুই মেয়েকে হত্যার পর ইতি রানী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়। তবে ঘটনার শুরু থেকেই নিহতদের স্বজনরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঘটনার পরদিন, ৪ জুন বিকেলে বরগুনা পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময়ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। তার দাবি, এর আগে থানায় মামলা করতে গেলে অন্য একজনকে বাদী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি আদালতের দ্বারস্থ হলেও মামলা গ্রহণে জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছিল। এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, “নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলো
বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় মা ও দুই কন্যার মরদেহ: ঋণের চাপ, নাকি অন্য কোনো রহস্য? তদন্তে পুলিশ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দুটি কক্ষ থেকে এক নারী ও তার দুই কন্যা সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিয়ে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সন্তানদের হত্যার পর মা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের জন্য। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর ৩ ও ৪ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহত নারী স্মৃতি রানী বরগুনা শহরের কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় পার্টটাইম ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উদ্ধার হওয়া দুই শিশুই তার কন্যা। দুটি কক্ষ, তিনটি মরদেহ পুলিশ সূত্র জানায়, ডাকবাংলোর ৩ নম্বর কক্ষের বিছানার ওপর আনুমানিক ছয় বছর বয়সী এক কন্যা শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পাশের ৪ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হয় স্মৃতি রানী ও প্রায় দুই বছর বয়সী আরেক কন্যা শিশুর মরদেহ। একই ভবনের দুটি পৃথক কক্ষে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কী কারণে শিশু দুটিকে আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছিল, কিংবা মৃত্যুর আগে তাদের অবস্থান কী ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার আগে কী করেছিলেন স্মৃতি রানী? জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কর্মস্থলে আসেন স্মৃতি রানী। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানতে পেরেছে, তিনি কিছুদিন ধরে আর্থিক সংকটে ছিলেন। পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তার ওপর ঋণের চাপ ছিল। তবে শুধুমাত্র আর্থিক সংকটই এই মৃত্যুর একমাত্র কারণ কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। আত্মহত্যা তত্ত্বের বাইরে যেসব প্রশ্ন তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এমন ঘটনায় কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— শিশু দুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কী? তাদের মৃত্যু একই সময়ে হয়েছে কি না? মায়ের মৃত্যুর ধরন আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু? ঘটনাস্থলে কোনো সুইসাইড নোট বা লিখিত বার্তা পাওয়া গেছে কি না? মৃত্যুর আগে কারও সঙ্গে স্মৃতি রানীর যোগাযোগ হয়েছিল কি না? ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। পুলিশের অবস্থান বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ. আলীম বলেছেন, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সামাজিক বাস্তবতার নির্মম প্রতিচ্ছবি স্মৃতি রানী ও তার দুই কন্যার মৃত্যুর ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়; এটি আর্থিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানসিক চাপের মতো বৃহত্তর বাস্তবতার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তবে এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার আগে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, আলামত এবং ময়নাতদন্তের তথ্যই শেষ পর্যন্ত বলে দেবে—ডাকবাংলোর ওই দুটি কক্ষে ঠিক কী ঘটেছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
গলদা-বাগদা রেণুপোনা
বরগুনায় কোটি টাকার গলদা-বাগদা রেণুপোনা জব্দ, নদী থেকে অবৈধ আহরণের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে বিপুল পরিমাণ গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণুপোনা জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। অভিযানে দুটি ট্রাক থেকে ২২৭টি ড্রামে সংরক্ষিত প্রায় ২২ থেকে ২৫ লাখ রেণুপোনা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২২ মে) সকালে সদর উপজেলার বড়ইতলা ফেরিঘাট এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। পরে উদ্ধার করা রেণুপোনাগুলো বিষখালী নদীতে অবমুক্ত করা হয়। জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানে মূল পাচারচক্রের সদস্যদের আটক করা সম্ভব না হলেও দুই ট্রাকচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে রেণুপোনা পাচারের সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্তে গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে উদ্ধার হওয়া রেণুপোনাগুলো নদী থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক উৎস থেকে চিংড়ির রেণুপোনা আহরণ দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ। তার ভাষায়, “একটি চিংড়ির রেণুপোনা সংগ্রহের সময় প্রায় ৪৯৮টি অন্যান্য মাছ ও জলজ প্রাণীর পোনা ধ্বংস হয়। ফলে এটি শুধু অবৈধ নয়, সামুদ্রিক ও নদীভিত্তিক জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় হুমকি।” মৎস্য বিভাগ আরও জানায়, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া এলাকায় সরকারি অনুমোদিত দুটি চিংড়ি হ্যাচারি রয়েছে। তবে জব্দ হওয়া রেণুপোনার ক্ষেত্রে কোনো বৈধ হ্যাচারি, লাইসেন্স বা পরিবহন অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে রেণুপোনা সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। বরগুনার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা রেণুপোনা আহরণ ও পরিবহন করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় নদী ও মোহনায় নির্বিচারে রেণুপোনা আহরণ শুধু সামুদ্রিক সম্পদকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং ভবিষ্যৎ মৎস্য উৎপাদন ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ এ বাণিজ্যের পেছনে থাকা নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে টেকসই নজরদারি না বাড়ালে পরিবেশগত ক্ষতি আরও গভীর হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
শওকত হাচানুর রহমান রিমন
বরগুনার সাবেক এমপি রিমনের সম্পদ জব্দের নির্দেশ, ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহ-সভাপতি এবং বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন-এর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, যানবাহনসহ বিভিন্ন আর্থিক সম্পদও অবিলম্বে অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বরগুনা জেলা জজ আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাইফুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য রিমনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমিদখল, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ও পরিবারের নামে থাকা সম্পদ গোপনে হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে আদালতের কাছে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তদন্তের স্বার্থে রিমনের সম্পদ সাময়িকভাবে জব্দের আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আবেদনে উল্লেখ থাকা পরিবারের সদস্যদের নামীয় সম্পদও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশে আরও বলা হয়েছে, তফসিলভুক্ত অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, যানবাহন এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদ দ্রুত অবরুদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আয়কর কর্তৃপক্ষকে রিমনের আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে আদালত সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত শেষে সম্পদের বৈধতা প্রমাণিত না হলে আদালত সেগুলো বাজেয়াপ্ত করতে পারেন। তবে বৈধ প্রমাণিত হলে সম্পদ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
তালতলী পানি উন্নয়ন বোর্ড  জমি
বরগুনার তালতলীতে পাউবোর জমি দখল করে মাছের ঘের, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার তালতলী উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় দুই একর জমি দখল করে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট নিশানবাড়িয়া মৌজার নলবুনিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাউবোর জমিতে খননযন্ত্র ব্যবহার করে ঘের নির্মাণ চলছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত সোহরাফ হাওলাদার, সিদ্দিক হাওলাদার, মস্তফা বিশ্বাস, লাল মিয়া, আ. হক মিয়া ও লাল মিয়া হাওলাদারের বিরুদ্ধে এ দখলের অভিযোগ উঠেছে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল অভিযুক্তদের মাটি কাটা বন্ধে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, সেই নোটিশের পরও কাজ বন্ধ হয়নি; বরং দখলদাররা আগের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হাওলাদার বলেন, সরকারি জমিতে খননযন্ত্র দিয়ে মাছের ঘের তৈরি করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে পাউবো কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। আরেক বাসিন্দা নজরুল হাওলাদার অভিযোগ করেন, নোটিশ দেওয়া হলেও তা কার্যত ‘লোক দেখানো’। তার ভাষায়, “নোটিশ দিয়ে থেমে যাওয়ার মাধ্যমে দখলদারদেরই সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।” তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। সিদ্দিক হাওলাদার দাবি করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন এবং লবণাক্ত পানির সমস্যার কারণে কিছু মাটি কাটা হয়েছে। তার মতে, এতে কোনো ক্ষতি নেই এবং পাউবো কর্মকর্তারাও বিষয়টি দেখে গেছেন। একইভাবে সোহরাফ হাওলাদার বলেন, সমুদ্রের লবণ পানি ঠেকাতে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, যা সবার উপকারে আসবে। মস্তফা বিশ্বাসও জানান, তারা নিজেদের জায়গা ব্যবহার করছেন এবং পাউবো কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের তালতলী-আমতলী সমন্বয়ক আরিফ রহমান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় পাউবোর জমি ও বাঁধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেখানে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটা হলে বাঁধের স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং লোনা পানির অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়ে। তিনি আরও বলেন, সরকারি জমি রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের দখল কার্যক্রম জনস্বার্থের পরিপন্থী। এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা পুনরায় কাজ চালালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১, ২০২৬ 0
গুপ্ত স্লোগানে ভরে উঠেছে বরগুনা সরকারি কলেজের দেয়াল, অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
গুপ্ত স্লোগানে ভরে উঠেছে বরগুনা সরকারি কলেজের দেয়াল, অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

ইবরাহীম সোহেল, বরগুনা : বরগুনা সরকারি কলেজের দেয়ালজুড়ে গুপ্ত গুপ্ত সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখার ঘটনা ঘটেছে। এসব স্লোগানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের প্রধান ফটক সহ  বিভিন্ন একাডেমিক ভবন এবং আশপাশের দেয়ালে একাধিক রাজনৈতিক স্লোগান লেখা হয়েছে। স্লোগানগুলোতে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে ক্যাম্পাসে এসে হঠাৎ করেই এসব লেখা দেখতে পান তারা। তবে কে বা কারা এসব লিখেছে, তা নিশ্চিতভাবে কেউ বলতে পারছেন না। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসটি অনেক সুন্দর ছিলো এখন অনেক নোংরা কথাবার্তা লিখে অসুন্দর করে তুলছে। তবে দেয়ালে লেখার প্রবণতা দীর্ঘদিনের হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। শুভঙ্কর নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজের সুন্দর দেয়াল গুলো বিভিন্ন শ্লোগান লিখে নষ্ট করে রেখেছে আসলে এটা দুঃখজনক। আমরা কলেজের সুন্দর একটা পরিবেশ চাই। এসময় তিনি আরও বলেন, ছাত্র দলের নেতারা এমন কর্মকাণ্ড করে আবার সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে পোস্টও করে। তবে এবিষয়ে ছাত্রদল নেতা ও কলেজ ছাত্র দলের আহবায়ক আবু হানিফের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করা হয় "গুপ্তের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ  ও মব কালচারের প্রতিবাদে  দেয়াল লিখন কর্মসূচি!  আর নয় গুপ্ত ক্যাম্পাস থাকবে মুক্ত।  ২২-০৪-২০২৬" এবিষয়ে বরগুনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.মো. মতিউর রহমান বলেন, আমি কলেজটিকে সুন্দর করে সাজিয়ে ছিলাম। তবে কলেজ ছাত্রদের আর সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্বও তাদের সেখানে তারা লেখালেখি করলে আমাদের করার কিছু নাই। কারন ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ নয় তাই সকলের জন্য উন্মুক্ত।     

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
আমতলী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স
মুক্তিযোদ্ধা ভাতার নামে ৯১ লাখ টাকা আত্মসাৎ: আমতলীতে ভুয়া হিসাব, জাল প্রোফাইল ও ব্যাংক জালিয়াতির তদন্ত

মুক্তিযোদ্ধা ভাতার নামে ৯১ লাখ টাকা আত্মসাৎ: ভুয়া হিসাব ও জালিয়াতির বিস্তৃত চক্র চার বছরে নিঃশব্দে অর্থ উত্তোলন, সামনে এলো বড় ধরনের অনিয়ম বরগুনা: বরগুনার আমতলী উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত চার বছরে অনুমোদনবিহীন একাধিক ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় ৯১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ধারী তোফাজ্জেল হোসেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—একটি চক্রের সহায়তায় ভুয়া হিসাব খুলে এবং জাল প্রোফাইল ব্যবহার করে এই অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। কীভাবে ঘটেছে জালিয়াতি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নির্দিষ্ট পে-রোল তালিকা অনুযায়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বরং— অনুমোদন ছাড়া একাধিক ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হয়েছে নিয়মিতভাবে সেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে একাধিক শাখা ব্যবহার করা হয়েছে লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে আমতলী, বরগুনা কোর্টবিল্ডিং, বরিশাল চকবাজার এবং কলেজ রোড শাখা।   একাধিক ভুয়া ও অননুমোদিত হিসাব অনুসন্ধানে জানা যায়, তোফাজ্জেল হোসেনের নামে আমতলী শাখায় একাধিক হিসাব খোলা হয়। এর মধ্যে— একটি বৈধ সঞ্চয়ী হিসাব একটি এমডিএস (ডিগিএস) হিসাব দুটি অননুমোদিত সঞ্চয়ী হিসাব শুধু তাই নয়, তার পরিবারের সদস্যদের নামেও হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে: স্ত্রী শাহানারা কাজলের নামে একটি হিসাব বোন লুৎফা বেগমের নামে একটি হিসাব এসব হিসাবে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার অর্থ জমা হয়ে পরে তুলে নেওয়া হয়েছে। ভুয়া প্রোফাইলের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। মোট ৪০টি মুক্তিযোদ্ধা প্রোফাইল শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে— ১৪টি সম্পূর্ণ ভুয়া ২০টি হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন এই ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে প্রায় ৯১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ঋণ জালিয়াতিও যুক্ত শুধু ভাতা নয়, জালিয়াতির পরিধি আরও বিস্তৃত। তদন্তে দেখা গেছে— তিনটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রোফাইলের বিপরীতে ঋণ নেওয়া হয়েছে ফরিদা বেগম, চম্পা ও রুনু নামের ভুয়া ব্যক্তিদের নামে মোট ২৪ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এতে বোঝা যায়, জালিয়াতির চক্রটি শুধু ভাতা আত্মসাৎ নয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বহুমুখী অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়েছে। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ব্যাংকের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য সামনে আসে। লিখিত বক্তব্যে তোফাজ্জেল হোসেন নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি দাবি করেছেন, মন্ত্রণালয়ের একজন ব্যক্তির সহযোগিতায় এই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেই ব্যক্তির পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন: তিনি কি সত্যিই মুক্তিযোদ্ধা? তোফাজ্জেল হোসেন ২০০৯ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় অনেক মুক্তিযোদ্ধার দাবি— মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স খুবই কম ছিল তিনি কোনো যুদ্ধে অংশ নেননি এতে তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাদের অজান্তেই অন্যদের হিসাবে টাকা চলে গেছে। মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন: “খালেদা বেগম ও তহমিনা ইউনুস নামে কাউকে আমি চিনি না। অথচ আমার ভাতার টাকা তাদের হিসাবে গেল—এটা কীভাবে সম্ভব, বুঝতে পারছি না।” পরিবারের অস্বীকার অভিযুক্তের স্ত্রী শাহানারা কাজল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি— তিনি কোনো ভাতা গ্রহণ করেন না কোনো আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নন পুরো বিষয়টি ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের কাজ তার ভাষায়: “আমার স্বামীকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।” ব্যাংক কর্মকর্তাদের অবস্থান ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি নজরে আসার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্যের মূল পয়েন্ট: অস্বাভাবিক লেনদেন ২০২৪ সালের শেষ দিকে ধরা পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় প্রধান কার্যালয়ের বিশেষ তদন্ত দল নামে একজন সাবেক ব্যবস্থাপক জানান, অনুমোদনহীন লেনদেনের কারণে কিছু হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে আরেক কর্মকর্তা বলেন, ভাতা সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠানো হলে ব্যাংকের পক্ষে সব ক্ষেত্রে তা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। আংশিক টাকা ফেরত তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি ২২ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো বড় অংশের অর্থ উদ্ধার হয়নি। প্রশ্নগুলো বড় এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: ১. কীভাবে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি হলো? সরকারি তালিকায় কীভাবে ১৪টি ভুয়া নাম যুক্ত হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ২. ব্যাংকের ভেতরে সহযোগিতা ছিল কি? একাধিক শাখায় লেনদেন হওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগসাজশের সন্দেহ জোরালো হচ্ছে। ৩. কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদারকি কোথায় ছিল? বিএফটিএন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হলেও যাচাই প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল। প্রশাসনিক দুর্বলতা ও পদ্ধতিগত ত্রুটি বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত জালিয়াতি নয়, বরং একটি পদ্ধতিগত ব্যর্থতার উদাহরণ। সম্ভাব্য দুর্বলতা: ডিজিটাল যাচাইয়ের অভাব প্রোফাইল যাচাইয়ে শৈথিল্য ব্যাংকিং নজরদারির ঘাটতি স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী চক্রের দাপট তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ ব্যাংকের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে— দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনাক্ত করা হবে অর্থ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালানো হবে বৃহত্তর প্রভাব মুক্তিযোদ্ধা ভাতা শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি জাতীয় সম্মানের প্রতীক। এই ধরনের জালিয়াতি— প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমায় দুর্নীতির নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করে   আমতলীর এই ঘটনা বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গভীর সংকটকে সামনে এনেছে। কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে সংগঠিত এই জালিয়াতি দেখিয়ে দিয়েছে, যথাযথ তদারকি না থাকলে রাষ্ট্রীয় সহায়তা কর্মসূচি কত সহজেই অপব্যবহৃত হতে পারে। এখন নজর সবার—তদন্ত কতদূর এগোয়, দায়ীদের কী শাস্তি হয়, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও ভাতা ফিরে পান কিনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0