জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান: এক হাজার বছরেরও অধিক সময় ধরে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ইসলামী বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের অবিচল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় আজ এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি।
যে প্রতিষ্ঠানের নাম একসময় ছিল আলোকবর্তিকা, আজ সেই নামকেই ঢাল বানিয়ে এক শ্রেণির অসাধু দালালচক্র প্রতারণা, জালিয়াতি ও অপরাধের সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে—যার অভিঘাত কেবল ব্যক্তি বা পরিবারে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি জাতির সম্মান, একটি ঐতিহ্যের মর্যাদা এবং একটি বৈশ্বিক ইসলামী প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও আঘাত করছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, মিশরে অবস্থানরত কিছু বাংলাদেশি ‘নামধারী ছাত্র’ নিজেদের পরিচয়কে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে দেশে বসে থাকা নিরীহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
তাদের কৌশল সুপরিকল্পিত ‘নিশ্চিত ভর্তি’, ‘সহজ মিনহা (স্কলারশিপ)’, ‘দ্রুত প্রতিষ্ঠা’ এসব লোভনীয় প্রতিশ্রুতির ফাঁদে ফেলে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অথচ বাস্তবতা হলো, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভর্তি একটি কঠোর একাডেমিক প্রক্রিয়া, যেখানে যোগ্যতা, যাচাই ও আনুষ্ঠানিকতার প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
প্রতারণার ধরণও ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ভুয়া সিল-স্ট্যাম্প ব্যবহার করে জাল সার্টিফিকেট তৈরি, তথাকথিত স্কলারশিপের নামে অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ ডলার লেনদেন এসব যেন এখন নিয়মিত চিত্র।
আরও উদ্বেগজনক অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের একটি অংশ ইউরোপমুখী মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যেখানে ‘আজহারের ছাত্র’ পরিচয়কে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশ্বাস অর্জনের ছদ্মবেশ হিসেবে। অর্থাৎ, শিক্ষা ও ধর্মীয় আবেগ দুটোকেই তারা বাণিজ্যের নিষ্ঠুর পণ্যে পরিণত করেছে।
বিশেষভাবে টার্গেট করা হচ্ছে সদ্য হিফজ সম্পন্ন করা তরুণ এবং আলিম ও দাওরা পরীক্ষার্থীদের। পরিবারগুলোর ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ‘আজহারে ভর্তির নিশ্চয়তা’র প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মিশরে নিয়ে আসা হচ্ছে। এরপর শুরু হয় বাস্তবতার নির্মমতা ভর্তি অনিশ্চিত, থাকার ব্যবস্থা অনিরাপদ, আইনি কাগজপত্র জটিল, অনেকেই পড়ে যাচ্ছে আর্থিক ও মানসিক সংকটে।
কিছু ক্ষেত্রে তথাকথিত ‘মারকাজ’ খুলে এই দালালি কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মিশরে অধ্যয়নরত প্রকৃত শিক্ষার্থীরা। তাদের ওপর বাড়ছে প্রশাসনিক নজরদারি, জটিল হচ্ছে ‘একামা’ বা বৈধ আবাসনের প্রক্রিয়া, আর একটি অসাধু গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের দায়ভার এসে পড়ছে পুরো কমিউনিটির ওপর।
ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, এই দালালচক্র কেবল প্রতারণা করছে না, তারা আজহারের মর্যাদাকেই পরিকল্পিতভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
শিক্ষার্থী মুহাম্মদ আম্মার হোসাইন বলেন, ‘আমরা আলিম শেষ করে এখানে এসে কত কষ্ট করে মুয়াদালা (সমমান) সম্পন্ন করেছি এটা সহজ কোনো বিষয় নয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে, কঠোর যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে এখানে পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। অথচ দালালরা দেশে বসে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আজহারিদের সম্মান নষ্ট করছে। আমি সবাইকে সতর্ক করছি এই প্রতারণার ফাঁদে পা দেবেন না।”’
শিক্ষার্থী শরীফ সালাউদ্দিনের কণ্ঠে ছিল তীব্র ক্ষোভ। তিনি বলেন, এই দালালদের কারণে দেশে আল-আজহারের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি কেবল ব্যক্তিগত প্রতারণা নয়, এটি একটি ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে অপরাধ। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আরও কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ ইয়াসিন। তিনি বলেন, এদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে দেশে আজহারিদের কোনো সম্মান অবশিষ্ট থাকবে না। যারা ছাত্র পরিচয়ে মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দালালচক্রের কর্মকাণ্ড কেবল প্রতারণার সীমায় আবদ্ধ নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈশ্বিক আস্থাকেও দুর্বল করে দিচ্ছে।
ইতোমধ্যে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে এবং জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে কোনো অবৈধ কার্যক্রম সহ্য করা হবে না।
এই প্রেক্ষাপটে সময়ের দাবি স্পষ্ট সচেতনতা, যাচাই-বাছাই এবং আইনগত পদক্ষেপ। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে, জ্ঞানের পথে কোনো শর্টকাট নেই, আল-আজহারের মতো প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের প্রতিটি ধাপই স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা, যাতে এই প্রতারণা-চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলা যায়। কারণ একটি ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকেন্দ্রের নামকে ব্যবহার করে প্রতারণা শুধু অপরাধ নয়, এটি ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণা, বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কেবল দালালদের নয়, প্রশ্নটি আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতার আমরা কি ঐতিহ্যকে রক্ষা করব, নাকি প্রতারণার কাছে তা সমর্পণ করব?
লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং পৃথকভাবে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ১৭ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশ অনুযায়ী, বিদেশে শিক্ষাছুটিতে থাকা শিক্ষকদের একাধিকবার লিখিতভাবে কর্মস্থলে ফিরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হলেও ১৬ শিক্ষক সেই আহ্বানে সাড়া দেননি। প্রশাসনের ভাষ্য, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে তাদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুল হোসেন হাওলাদার, সহকারী অধ্যাপক পান্থ প্রতিম সরকার, প্রভাষক মো. আহসানউল্লাহ, মো. খায়রুল বাশার ও উপমা দাস; পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাকলী খাতুন; কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ময়মুনা বেগম কলি; রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেবব্রত পাল; আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ রহমান; লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান; ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া নাহিয়ান জুলফিকার; সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক অধরা তাহসিন; অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন; ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জল হুসাইন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাবিয়া খাতুন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে নির্দেশ দিয়েছে, শিক্ষাছুটিকালীন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণ করা সব আর্থিক সুবিধা ও অর্থ প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ফেরত দিতে হবে। পৃথক তদন্তে আরও একজন শিক্ষক বরখাস্ত একই দিনে প্রকাশিত আরেকটি অফিস আদেশে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন, নৈতিক স্খলন এবং পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তার চাকরিচ্যুতি ২৩ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে গঠিত সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন এবং শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করে রিজেন্ট বোর্ড অভিযোগগুলোকে "সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত" বলে মত দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, শিক্ষা ছুটি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের তারিখ, থিসিস ডিফেন্স-সংক্রান্ত সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, এসব নথি জমা দেওয়ার জন্য একাধিকবার লিখিতভাবে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। তদন্তে যে বার্তা একই বৈঠকে ১৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও বিদেশে উচ্চশিক্ষায় পাঠানো শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযোজন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণ করা আর্থিক সুবিধা বিধি অনুযায়ী ফেরত দেওয়ার নির্দেশও বহাল রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালিত ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর যৌন হয়রানি ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামিল উদ্দীন। অভিযুক্ত শিক্ষক বরুণ কুমার সাহা প্রতিষ্ঠানটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অশোভন ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে আসছেন। পাশাপাশি ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে কথা বলার ভিডিও ধারণ করে তা অভিভাবক ও প্রশাসনের কাছে পাঠানোর হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রোববার দুপুরে কয়েকজন শিক্ষার্থী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, শিক্ষক বরুণ কুমার সাহা প্রায়ই ক্লাসে ব্যক্তিগত ও অস্বস্তিকর প্রসঙ্গ টেনে আনতেন। তার ভাষ্য, “তিনি আগের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতেন। একবার প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের প্রসঙ্গ টেনে আমাকে উদ্দেশ্য করে এমন কথা বলেন, যা একজন শিক্ষকের মুখে মানায় না।” হিজাব পরিহিত এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক তাকে পশ্চিমা পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তার দাবি, শিক্ষক তাকে বলেন— “তুমি ২০ বছর পরে জিন্স আর টপস পরে আসলে আমি তোমাকে চিনতেই পারব না।” ওই শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার পর তিনি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তবে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে দীর্ঘদিন স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাননি বলেও দাবি করেন। আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, শিক্ষক বরুণ কুমার সাহা ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে দেখলেই সম্পর্ক নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতেন। তিনি বলেন, “কাউকে বাইরে কথা বলতে দেখলে ভিডিও করতেন। পরে সেই ভিডিও প্রিন্সিপাল বা গার্ডিয়ানকে পাঠানোর ভয় দেখাতেন।” অন্য এক শিক্ষার্থী জানান, অফ পিরিয়ডে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার সময় তার একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তাকে আলাদা ডেকে ভিডিওটি অভিভাবকের কাছে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শিক্ষক বরুণ কুমার সাহার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তদন্ত কমিটির কথা কী বলছে প্রশাসন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামিল উদ্দীন বলেন, আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ পাওয়ার পরই একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটির কয়েকজন সদস্য প্রশিক্ষণে থাকায় তদন্ত কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। তিনি জানান, গত ৭ মে শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবি জানালে নতুন করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। তার ভাষ্য, “শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ হয়েছে। কমিটি একটি খসড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেটি আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।” তিনি আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে এখনও স্বাক্ষর বাকি রয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অতিরিক্ত সুপারিশ যুক্ত হতে পারে। ডাকসুর উদ্বেগ ও ক্ষোভ ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসুর সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ, মানসিক হয়রানি, অননুমোদিত ভিডিও ধারণ এবং আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং অভিযোগের দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। ডাকসু বলেছে, এ ঘটনায় গড়িমসি না করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ ফিরে পাবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার একটি ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে আঘাত করার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কী ঘটেছিল? প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল কলেজে প্রবেশ করে এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ৪ থেকে ৫ জন শিক্ষক শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হন। এই ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী, যুবদলের সাবেক এক নেতা এবং আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে এই হামলায় নেতৃত্ব দেন। ভিডিওতে যা দেখা গেছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর একটি অংশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করলে বিষয়টি একপাক্ষিকভাবে ব্যাখ্যা করার ঝুঁকি রয়েছে। তাদের দাবি, বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ এবং শিক্ষকদের ওপর চড়াও হওয়ার প্রেক্ষিতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় আত্মসম্মান রক্ষার্থে ওই শিক্ষিকা প্রতিক্রিয়া দেখান। প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, কোনো পরিস্থিতিতেই একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান বা শারীরিকভাবে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রশাসনিক বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল অভিযুক্তদের একজনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জুতা দিয়ে পেটানো বিএনপি নেতা বহিষ্কার দাওকান্দি সরকারি কলেজে ঢুকে ভাঙচুর ও শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে পেটানোর ঘটনায় দুর্গাপুর উপজেলাধীন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে রাজশাহী জেলাধীন দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে আকবর আলী বলেন, এ বিষয়ে আমি জানি না। সেদিন এলাকার মুরব্বিরা দাওয়াত পত্র নিয়ে গেছিল। এ সময় ম্যাডাম বলেন- আপনারা কি জন্য এখানে। আপনারা টাকা নিতে আসছেন নাকি? এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক ভিডিওতে দেখা গেছে, এক নারী শিক্ষককে জুতা দিয়ে পেটাচ্ছেন এক বিএনপি নেতা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারী শিক্ষককে পেটানো ওই নেতা হলেন দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ও সহিংসতার ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা না গেলে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে। একই সঙ্গে আংশিক তথ্য বা ভিডিওর ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোরও আহ্বান জানানো হচ্ছে। এক নজরে দাওকান্দি সরকারি কলেজ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজ (স্থাপিত: ১৯৭২) একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান । বারনই নদীর তীরে অবস্থিত এ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (পাস/সম্মান) ও মাস্টার্স ১ম পর্বের কোর্স চালু রয়েছে । বর্তমানে এখানে ২/৩ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এবং এটি স্থানীয় শিক্ষার একটি প্রধান কেন্দ্র। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী: মারামারি ও ভাঙচুর: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কলেজের স্নাতক পরীক্ষা চলাকালীন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে । শিক্ষক লাঞ্ছনা: এই ঘটনায় কলেজের একজন নারী প্রদর্শক (ডেমোনেস্ট্রেটর) আলেয়া খাতুন হীরা লাঞ্ছিত হন এবং পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় । তদন্ত কমিটি: এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে । কলেজ সম্পর্কে তথ্য: অবস্থান: দাওকান্দি বাজার সংলগ্ন, জয়নগর ইউনিয়ন, দুর্গাপুর উপজেলা, রাজশাহী । শিক্ষাক্রম: কলা, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ।