ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : খুলনার শিরোমণি এলাকার ঐতিহ্যবাহী বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল এখন প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, টেন্ডারবিহীন নির্মাণকাজ এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে। দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র রোগীদের চক্ষুসেবা দিয়ে আসা হাসপাতালটিতে বর্তমানে সেবা কার্যক্রমই হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। হাসপাতাল সূত্র বলছে, প্রায় দেড় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় দুই হাজার ছানি অপারেশন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে বিরোধ এবং প্রশাসনিক অস্থিরতায় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ-পরবর্তী ক্ষমতার পালাবদল অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হাসপাতালটির ট্রাস্টি বোর্ড পরিচালিত হয় তৎকালীন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের নেতৃত্বাধীন আওয়ামীপন্থি প্রভাববলয়ের অধীনে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়কারী এবং কিছু সাংবাদিক হাসপাতালের পুরোনো বোর্ড বাতিলের দাবিতে সক্রিয় হন। পরে জামায়াত নেতা মুন্সী মঈনুল হককে চেয়ারম্যান করে নতুন বোর্ড গঠন করা হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে সমালোচনা বাড়লে ২৪ অক্টোবর নতুন করে ১১ সদস্যের আরেকটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। এতে ড্যাব জেলা সভাপতি ডা. রফিকুল হক বাবলুকে চেয়ারম্যান এবং মুন্সী মঈনুল হককে ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। বোর্ডে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাই মিয়া গোলাম কুদ্দুসকেও সদস্য করা হয়। টেন্ডার ছাড়াই নির্মাণকাজের অভিযোগ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, ট্রাস্টি বোর্ডের প্রত্যক্ষ প্রভাবেই রান্নাঘরের ওপর দুই থেকে তিন তলা ভবন নির্মাণ এবং হাসপাতালের প্রবেশমুখে গ্যারেজ তৈরির কাজ কোনো ধরনের উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়াই পছন্দের ঠিকাদারদের দেওয়া হয়। এছাড়া ওষুধ ক্রয়, অপারেশন থিয়েটারের সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক লেনদেনেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন কর্মচারী দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ছিল না এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে থাকা কর্মকর্তাদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। নিয়োগে আত্মীয়করণ ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে এহসানুল কবিরকে নিয়োগ দিতে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত বয়সসীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর উল্লেখ থাকলেও ট্রাস্টি বোর্ডের বিশেষ সিদ্ধান্তে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। হাসপাতালের সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, বয়সসীমা অতিক্রম করার বিষয়টি “সত্য” এবং বোর্ডের সিদ্ধান্তেই ওই নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছিল। এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবে বিশেষ কিছু রোগীকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত চিকিৎসা ছাড় দেওয়া হলেও সাধারণ স্টাফরা পান মাত্র ৩০ শতাংশ সুবিধা—এমন অভিযোগও উঠেছে। কর্মচারীদের আরও অভিযোগ, এক জামায়াত নেতার আত্মীয়কে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি কোয়ার্টারে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অপারেশন থিয়েটারের স্টাফদের নাশতা সুবিধাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। চাকরিচ্যুতি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ হাসপাতালজুড়ে রাজনৈতিক বিভাজন আরও প্রকট হয় কয়েকটি চাকরিচ্যুতির ঘটনায়। অভিযোগ রয়েছে, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের একটি অনুষ্ঠানে অনুমতি ছাড়া অংশ নেওয়ায় চিকিৎসক ডা. আশিককে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। অন্যদিকে বিএনপি ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মাজহারুল ইসলামকেও ভিন্ন অজুহাতে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নজরুল ইসলাম বলেন, “ডা. আশিক ও মাজহারুল ইসলাম হাসপাতালের নিয়মনীতি ভঙ্গ করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বে অচলাবস্থা গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের হাসপাতালে উপস্থিতি কমে যায়। এরপর নির্মাণকাজও বন্ধ হয়ে পড়ে। ১৩ এপ্রিল খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবি হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে চেয়ারম্যান ডা. বাবলুর উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন যে চেয়ারম্যান মূলত জামায়াতের প্রভাবেই পরিচালিত হচ্ছেন এবং বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টার্গেট করা হচ্ছে। ২৬ এপ্রিল হাসপাতালের বাইরে একটি গোপন বৈঠকের পর ট্রাস্টি বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য আর হাসপাতালে আসেননি। বর্তমানে কেবল চেয়ারম্যান ডা. রফিকুল হক বাবলুকে মাঝেমধ্যে হাসপাতালে দেখা যায়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তাগাদা এদিকে হাসপাতালটির নিবন্ধন ও ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খুলনার সমাজসেবা কর্মকর্তা (নিবন্ধন) মাসুদ রানা বলেন, হাসপাতালটি ১৯৮৬ সালে নিবন্ধন নিলেও পরবর্তীকালে কোনো নতুন বা পুরোনো কমিটির অনুমোদনের নথি সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সদ্য দায়িত্ব পাওয়া ভারপ্রাপ্ত পরিচালক শীতেশ ব্যানার্জি বলেন, “এ বিষয়ে কোনো সরকারি নোটিশ এসেছে কি না, তা এখনো আমার জানা নেই।” সেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ স্থানীয়দের আশঙ্কা, রাজনৈতিক দখলদারি ও প্রশাসনিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে খুলনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র রোগীদের জন্য স্বল্পমূল্যে ছানি অপারেশন ও চক্ষুচিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে স্বচ্ছ প্রশাসন এবং আইনানুগ ট্রাস্টি কাঠামোর আওতায় না আনলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্যতম মানবিক সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি—যার কাজ দুর্যোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তা প্রদান—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্নীতি, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একাধিক সূত্র, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণে এমন একটি চিত্র উঠে এসেছে যেখানে দীর্ঘদিনের অনিয়মের প্রভাব এখনো প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে। দুর্নীতির অভিযোগ: অতীত থেকে বর্তমান অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা বোর্ডের কিছু সদস্য এবং অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডার কারসাজি এবং নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এতে দেশি-বিদেশি অনুদানের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিচালিত এক অভিযানে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা ভবন নির্মাণ, নিয়োগ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করেন। দুদকের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়: * ভবন নির্মাণ চুক্তিতে ডেভেলপারদের অস্বাভাবিকভাবে বেশি অংশীদারিত্ব দেওয়া হয়েছিল * নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছিল * প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হয়েছে * অনুদানের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়নি তদন্ত ও বাধা পরবর্তীতে বিস্তারিত তদন্তের জন্য দুদক একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চায়। সে সময়কার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম তদন্তে সহযোগিতা করেন বলে জানা যায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হয়। একাধিক সূত্র দাবি করে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী তদন্তকে থামিয়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করে। যদিও এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ‘মব’ অভিযোগ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্মকর্তা ও বহিরাগতদের সম্পৃক্ততায় একাধিকবার চেয়ারম্যানের দপ্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এমন একটি ঘটনার তারিখ হিসেবে ৮ অক্টোবর উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এই ঘটনাগুলোকে কেউ কেউ “মব চাপ” হিসেবে বর্ণনা করলেও, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ছাড়া এই অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই সীমিত। ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ক: অভিযোগের কেন্দ্রে কারা? কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি দুর্নীতির অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী: * টেন্ডার, বদলি ও নিয়োগে প্রভাব খাটানো * প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ * বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা এছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক অচলাবস্থা তদন্ত, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। প্রভাব: সেবার মানে প্রশ্ন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ম ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সংস্থাটি তার প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারছে কি না—সে প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। দুদকের তদন্ত, অভ্যন্তরীণ অভিযোগ এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি একটি সংকটময় সময় পার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর নেতৃত্ব ছাড়া এই অবস্থা থেকে উত্তরণ কঠিন হবে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও স্বাধীন তদন্তের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে—এই অভিযোগগুলোর কতটা সত্য, আর কতটা অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের প্রতিফলন।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : ঝালকাঠী সদর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে রয়েছে পাহাড়সম দুর্নীতি,অনিয়ম,টেন্ডার বানিজ্য,সরকারি অর্থ তছরুপ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্প, ক্রয় কার্যক্রম এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া,ব্রিজ ও রাস্তা নির্মানকে কেন্দ্র করে অসংখ্য বার প্রশ্ন উঠেছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল ঝালকাঠির পিপলীতার এস এ জুয়েল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি। দুদকে অভিযোগ ঘিরে নতুন করে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে, যা পুরো ব্যবস্থাপনাকেই আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠী সদর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে। প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকার এই প্রকল্প নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে দোষারোপের পাল্টাপাল্টি অবস্থান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অভিযোগের সূত্রপাত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাস্টবিল্ডের পক্ষ থেকে, যারা দাবি করছে—টেন্ডার মূল্যায়নে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জমা দেওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। কী এই প্রকল্প? এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার দোগলচিড়া-বেতরা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ওটিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ টেন্ডারে একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। টেন্ডার আইডি ১০৩৩১৭৫-এ দুটি প্রতিষ্ঠান—ফাস্টবিল্ড ও ই-স্মার্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেড—একই দর (৪ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ৩০৩ টাকা) জমা দেয়। কোথায় অনিয়মের অভিযোগ? ফাস্টবিল্ডের অভিযোগ অনুযায়ী, ই-স্মার্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই এলজিইডির টেন্ডারে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তাছাড়া, তারা বিভিন্ন প্রকল্পের নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (NOA) গোপন রেখে নিজেদের টেন্ডার সক্ষমতা (capacity) বাড়িয়ে দেখিয়েছে। এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে মূল্যায়নে অগ্রাধিকার পেল—সেই প্রশ্ন তুলেছে ফাস্টবিল্ড। তদন্তের নির্দেশ, চিঠি নিয়ে বিভ্রান্তি অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রকল্প পরিচালক শরীফ জামাল উদ্দিন অলোক ঝালকাঠি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে একটি চিঠি দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলেন। তবে এই চিঠি নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম সরকার দাবি করেন, চিঠিটি সরাসরি তার কাছে নয়, বরং সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীর উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে—কারণ তিনিই টেন্ডার কমিটির সভাপতি। অন্যদিকে, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার বলেন, তিনি কোনো চিঠি পাননি। তার দাবি, টেন্ডার মূল্যায়নের কাজ আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. রাজিউল্লাহ সম্পন্ন করে গেছেন এবং তিনি শুধু তাতে স্বাক্ষর করেছেন। এই টেন্ডারে ক্ষমতার অপ ব্যবহার করেছেন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার।কারন তিনি ছিলেন টেন্ডার কমিটির সভাপতি।শিপলু কর্মকারের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি।তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন,ঝালকাঠি সদর উপজেলার দোগলচিড়া-বেতরা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজের টেন্ডারে অনিয়ম করে এলজিইডি থেকে টেন্ডারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া "ই-স্মার্ট" ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে (নোহা) নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ারবড দেযার অভিযোগ।উক্ত এলজিইডি এর সিনিয়র প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার টেন্ডার কমিটির সভাপতি হিসাবে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে। ‘আমি করিনি’—পাল্টা দাবি সাবেক কর্মকর্তার এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. রাজিউল্লাহ। তার বক্তব্য, তিনি কেবল দরপত্র খোলার কাজ পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বদলি হয়ে যান। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তার ভাষায়, “মূল্যায়ন রিপোর্টে আমার কোনো স্বাক্ষর নেই। এখন আমার ওপর দায় চাপানো হলে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।” বরখাস্ত প্রকল্প পরিচালকের অবস্থান এদিকে, এই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী প্রকল্প পরিচালক আদনান আকতারুল আজিম ইতোমধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই এবং বর্তমান প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। প্রশ্নের মুখে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই লাইসেন্সগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একটি টেন্ডার গ্রহণ এবং অন্যটি পুনঃটেন্ডার (রি-টেন্ডার) করার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো—তা স্পষ্ট নয়। এই বৈপরীত্যই এখন তদন্তের অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে। কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশে বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। প্রকল্প পরিচালক সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে আরো দু'টি অভিযোগ: ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল ঝালকাঠির পিপলীতার আব্দুল হাইর পুত্র এস এ জুয়েল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি। তিনি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন,পিপলিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে রমনাথপুর বাইপাস সংযোগ সড়কটির কাজ (আইডি নং ৫৪২৪০৪১৫৯) পুর্বে ইটের সলিং ছিল।পুর্বের রাস্তা যে দিকে ছিল সে দিকেই ইস্টিমেট করা সত্ত্বেও বর্তমানে কার্পেটিং করার সময় এই রাস্তাটি অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিযেছেন।এছাড়া, এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে ঝালকাঠির পুর্ব তারুলীর আলতাফ হোসেন মোল্লার পুত্র মোঃ লিটন মোল্লাও দুদকে লিখিত অভিযোদ দায়ের করেছিল। দুদক ও এলজিইডিতে একের পর এক অভিযোগ থাকলেও তিনি এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে। রয়েছেন বহাল তবিয়তে। সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ এই কর্মকর্তা দুর্নীতি ও অনিয়ম করলেও তিনি সব সময়ই থাকছেন খোশ মেজাজে। এ ব্যাপারে ঝালকাঠী সদর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় তিনটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে এসেছে: প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার ঘাটতি, চিঠি আদান-প্রদান নিয়েই বিভ্রান্তি, যা প্রশাসনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। দায় এড়ানোর প্রবণতা,সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরস্পরের দিকে দায় ঠেলে দিচ্ছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ার প্রশ্নবিদ্ধতা,সমান দর, নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং ভিন্ন সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ জোরালো হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে—এই অভিযোগগুলো কতটা সত্য এবং এর দায় কার ওপর বর্তাবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।