Brand logo light
বাংলাদেশ

রাজাপুরে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
মোসাঃ রানী বেগম
মোসাঃ রানী বেগম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, রাজাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের সাবেক কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর কাঁঠালিয়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনি নিয়মিত অফিস না করায় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এদিকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় নিয়মিত অফিস করতে পারছিলেন না। ঘটনার দিন সকালে আনোয়ার হোসেন তার স্ত্রী মোসাঃ রানী বেগমকে নিয়ে অফিসে এসে কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিকেলে মো. কামরুল ইসলাম অফিসে এসে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে স্ট্যাপলার মেশিন দিয়ে রানী বেগমের মুখে আঘাত করেন। এতে তার দাড়ি ও গাল কেটে রক্তক্ষরণ হলে তিনি চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানায় জানানো হয়। এরপর রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী রানী বেগম অভিযোগ করে বলেন, “সকালে স্বামীকে নিয়ে অফিসে এসে সারাদিন অপেক্ষা করি। বিকেলে কর্মকর্তা অফিসে আসলে তার স্বামী সালাম দিলে কর্মকর্তা কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো আমার স্বামীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং নানা অভিযোগ তুলতে থাকেন। একপর্যায়ে কর্মকর্তা তার স্বামীকে মারতে উদ্যাত হন। এ সময় তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে স্ট্যাপলার মেশিন দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মুখে আঘাত লেগে রক্তক্ষরণ হয় এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

তবে অভিযুক্ত উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তারা নিজেরাই এমনটা করছে। আমি কাউকে মারধর করিনি।”  তিনি ঠিক মত অফিস করেন না, কেন অফিস করেন না এটা জানতে চাওয়ায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি।

এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
ফুয়েল পাস
কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু: ঢাকায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, তাদের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) পরীক্ষামূলকভাবে এ অ্যাপ চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশনে—ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশন—মোটরসাইকেল মালিক ও চালকদের জন্য অ্যাপটি ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে। পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি চালু করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে জ্বালানি বিতরণে বিলম্বসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি নিচ্ছেন, যা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে অটোমেশন ও রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। সিস্টেমটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এতে ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটালভাবে জ্বালানির বরাদ্দ এন্ট্রি দিতে পারবেন এবং কিউআর কোড স্ক্যান করে চালকরা নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি নিতে পারবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। স্মার্টফোন না থাকলেও ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে কিউআর কোড প্রিন্ট নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। সরকারের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে, অপচয় ও অনিয়ম কমবে এবং সংকটকালীন পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
আবু সাঈদের পরিবার

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়: মৃত্যুদণ্ড হলেও অসন্তুষ্ট পরিবার, আপিলের ঘোষণা

মোসাঃ রানী বেগম

রাজাপুরে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

জাতীয় সংসদ

জামায়াতের নাম বহাল রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশ বিল পাস

বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ
বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ,কার্ড বাণিজ্য, নিম্নমানের চাল ও অনিয়মে ক্ষুব্ধ জনতা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর বাউফলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ফ্যাসিস্ট দোসররা বহাল তবিয়তে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নীতিমালায় রয়েছে ডিলার পরপর দুই মাস নির্ধারিত তারিখের মধ্যে উপযুক্ত কারণ ব্যতিত খাদ্যশস্য উত্তোলন করতে ব্যর্থ হলে ডিলারশিপ বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু বাউফলে ৫/৬ মাস ডিলার খাদ্যশস্য উত্তোলনে ব্যর্থ হলেও এ নীতিমালার তোয়াক্কা করেন না অসাধু খাদ্য কর্মকর্তা নুরুল্লাহ।  সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাউফলে দুইটি খাদ্য গুদাম রয়েছে- একটি বগা খাদ্য গুদাম অপরটি কালাইয়া খাদ্য গুদাম। বগা খাদ্য গুদামে ২০২৬ সনে আমন চাল সংগ্রহ করা হয় মেসার্স সোনাই অটো রাইস মিল কালিশুরী, প্রোপ্রাইটর স্বপন চৌধুরীর মাধ্যমে। সেখান থেকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যোগসাজশে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করা হয় এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়াও বাউফল উপজেলায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি উপকারভোগীদের মাঝে চাল সরবরাহ করা হয় ফ্যাসিস্ট আমলের খাদ্য বান্ধব সহায়তা কার্ডে। যার শ্লোগান ছিল ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ম করেন উপকারভোগীদের কাছ থেকে শেখ হাসিনার শ্লোগান সম্বলিত পুরাতন কার্ড তুলে এনে বিনামূল্যে নতুন কার্ড সরবরাহ করা হবে। কিন্তু উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বাউফলের ২০/২২ হাজার কার্ড পরিবর্তনের নাম করে প্রতিটি কার্ড থেকে ২০০-৩০০ টাকা হাতিয়ে নেন। তাতে কোটি টাকার উপরে বাণিজ্য হয়। নামপ্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এই দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বগা-কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকে নিম্নমানের চাল বাউফল উপজেলা ডিলারগণের কাছে সরবরাহ করা হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর খাদ্য কর্মকর্তার যোগসাজসে অর্থের বিনিময়ে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট দোসরদের দিয়ে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। যাদের লাইসেন্স নবানয়ন নাই তাদের মাধ্যমে চাল বিতরণে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আভাস মিলছে।  সরেজমিনে ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট দোসররা পালিয়েছে। যার কারণে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের স্থলে অন্যলোকের মাধ্যমে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল বিতরণ করে আসছে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর ফ্যাসিস্ট দোসররা এলাকায় ফিরে এসে বাউফলে খাদ্য অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ ঘুষখোরদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে স্বপদে বহালের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। বাউফলে ১৩ জন ফ্যাসিস্ট দোসর একতাবদ্ধভাবে খাদ্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। তারা হল- বাউফল ইউনিয়নে বিনা ও শাহজাহান, নাজিরপুর ইউনিয়নে সেলিম, মদনপুরা ইউনিয়নের মোতাহার, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন মৃধা, ১৪ নং নওমালা ইউনিয়নের কৃষক লীগ সভাপতি মোঃ চান মিয়া মৃধা, ১ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ ওয়াহেদ খান, ২ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সহসভাপতি নুর ইসলাম গাজী।     উল্লেখ্য, বাংলাদেশের গ্রামীণ হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত একটি বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যার আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ভোক্তাদের অধিকার (ন্যায্য মূল্যে ও পুষ্টিকর খাদ্য পাওয়া) রক্ষা করা।  অভিযোগের বিষয়ে বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা রিপোর্ট করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
জাতীয় সংসদ

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল, সংসদে বিল পাস

জাতীয় সংসদ

সংসদে পৌরসভা সংশোধন বিল পাস: থাকছে না দলীয় প্রতীক

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু

তনু হত্যা মামলা: তদন্ত অগ্রগতি জানতে পিবিআই কর্মকর্তাকে আদালতে তলব,, আবারও জাগছে বিচারের আশা

ডা. সোলায়মান মাসুম
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এবিএম সোলায়মান মাসুমের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও প্রশাসনিক নিপীড়নের অভিযোগ

বরিশাল অফিস:  বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (এমসিএইচ-এফপি) ডা. এবিএম সোলায়মান মাসুমের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডা. এবিএম সোলায়মান মাসুমের বিরুদ্ধে  নারী সহকর্মী উম্মে হাবিবা ছন্দা যৌন হয়রানি ও প্রশাসনিক নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ঝালকাঠি জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালককে (এডি) প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অনৈতিক প্রস্তাব ও ছয় মাস বেতন বন্ধ থাকা পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা উম্মে হাবিবা ছন্দা অভিযোগ করেছেন, ডা. এবিএম সোলায়মান মাসুমের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে প্রশাসনিকভাবে ‘টার্গেট’ করা হয়েছে। নথিপত্র ও চিকিৎসা সনদ পর্যালোচনায় জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ জুলাই এক দুর্ঘটনায় আহত হন উম্মে হাবিবা ছন্দা। অর্থোপেডিক এর ডা. মো. ফেরদৌস রায়হান ছন্দাকে বিশ্রামের পরামর্শ দেন। ভুক্তভোগীর দাবি, ওই ঘটনার পর তার গর্ভপাত ঘটে এবং তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। সেই অবস্থাতেও ছুটি পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি আবার গর্ভধারণ করেন। ৫ জানুয়ারি গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. তানিয়া আফরোজ ছন্দাকে পরীক্ষা করে জানান যে, তিনি গর্ভপাতের ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং অন্তত এক মাস সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় তিনি ১১ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চিকিৎসাজনিত ছুটির আবেদন করেন। কিন্তু ২৫ জানুয়ারি একটি অফিস চিঠিতে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। একজন নারী কর্মীর ব্যক্তিগত মাতৃত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে এভাবে প্রমাণ চাওয়াকে অনেকেই প্রশাসনিক সংবেদনশীলতার অভাব হিসেবে দেখছেন। জবাবে উম্মে হাবিবা ছন্দা লিখেছেন, তার গর্ভকালীন স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, ছুটির আবেদন করার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক শোকজ পাঠানো হয় এবং পরে বিষয়টি বিভাগীয় মামলায় গড়ায়। এছাড়া কোনো স্পষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়াই টানা ছয় মাস তার বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তদন্ত বা বিভাগীয় মামলা চললেও সাধারণত পুরো বেতন বন্ধ রাখা হয় না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উম্মে হাবিবা ছন্দা আরও দাবি করেন, তিনি অন্যত্র বদলির আবেদন করলেও তা কার্যকর হতে দেওয়া হয়নি। এমনকি বদলি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজেই ঢাকায় অধিদপ্তরে গিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।  জানা গেছে, ছন্দাকে মেহেন্দিগঞ্জের একটি জরাজীর্ণ ও দুর্গম কোয়ার্টারে একা থাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। ভুক্তভোগীর মতে, একজন নারী হিসেবে সেখানে একা থাকা তার জন্য নিরাপদ নয়। অনুসন্ধানে কিছু নথিতে অসঙ্গতিও পাওয়া গেছে। পাক্ষিক সভায় উপস্থিত থেকেও তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে শোকজ করা হয়েছে এবং চিকিৎসা সনদ জমা দেওয়ার পরও তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   সম্পদের পাহাড় এদিকে ডা. সোলায়মান মাসুমের পরিবারের নামে অস্বাভাবিক সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠেছে।  ঢাকার উত্তরা, ফরিদপুরের ওয়ারলেস পাড়া এবং মেহেন্দিগঞ্জের বদুরপুর এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন রয়েছে।  এছাড়া বরিশাল নগরীর কাশিপুর ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ জমি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিকানার তথ্যও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি পংকজ নাথের ঘনিষ্ঠ দোসর হওয়ায় দীর্ঘ ৮ বছর ধরে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছেন তিনি। তার ভয়ে অনেক  কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মুখ খুলতে সাহস পান না। তদন্ত কমিটি গঠন: পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ডা. এবিএম সোলায়মান মাসুমের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালককে (এডি) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।   আইনগত ও প্রশাসনিক পরিপ্রেক্ষিত: মেহেন্দিগঞ্জ ঘটনা ১. যৌন হয়রানি ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা বাংলাদেশে কর্মস্থলে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন ২০১০ অনুযায়ী: যে কোনো নারী বা পুরুষ কর্মচারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি করা, যার মধ্যে মৌখিক, শারীরিক বা মনস্তাত্ত্বিক প্ররোচনা অন্তর্ভুক্ত, তা অপরাধের পর্যায়ে গণ্য হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, অভিযুক্তকে শ্রম আইনের আওতায় শাস্তি, চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত বা স্থায়ী বরখাস্ত করা যেতে পারে। মামলা সরাসরি শ্রম আদালত, জেলা বা মহানগর পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন শাখাতে দায়ের করা যায়। প্রসঙ্গ: ভুক্তভোগী উম্মে হাবিবা ছন্দার অভিযোগ অনুযায়ী শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায়ও তাকে ছুটি না দিয়ে শোকজ ও বেতন বন্ধ করা হয়েছে। এটি প্রশাসনিক ও শ্রম আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে। ২. বেতন স্থগিতকরণ ও ছুটি সংক্রান্ত বিধি সরকারি চাকরিতে বেতন স্থগিত করা সাধারণত তদন্ত বা বিচারের ফলাফলের ভিত্তিতে সীমিত সময়ের জন্য করা হয়। বাংলাদেশ সরকারি চাকুরি বিধিমালা অনুযায়ী: বিনা সিদ্ধান্তে দীর্ঘকাল বেতন বন্ধ রাখা অযৌক্তিক এবং আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জযোগ্য। গর্ভধারণ বা মাতৃত্বকালীন অবস্থা একটি সংবেদনশীল বিষয়। কোনো সরকারি কর্মকর্তা শরীরিক বা গর্ভকালীন স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ নিতে পারবে না। ৩. দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন সন্দেহ হলে দুদক তদন্ত শুরু করতে পারে। অভিযোগ অনুসারে, ডা. সোলায়মান মাসুমের পরিবারের বহুতল ভবন, জমি এবং হাসপাতাল অন্তর্ভুক্ত সম্পদ তার সরকারি আয়ের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে এটি অবৈধ সম্পদ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। ৪. প্রশাসনিক তদন্ত ও বিভাগীয় মামলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা সরকারি চাকরির আচরণবিধি অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট অনুযায়ী: অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বরখাস্ত, বদলি বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারেন। সম্পদের অস্বাভাবিকতা যদি প্রমাণিত হয়, দুদকের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। ৫. নারীর অধিকার সংরক্ষণ ও সংবেদনশীলতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন , শ্রম অধিদপ্তর এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক সংস্থা নিশ্চিত করে যে: নারীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রতি প্রশাসন সংবেদনশীল হবে। চাকরিতে যৌন হয়রানি ও গর্ভকালীন সংক্রান্ত পদক্ষেপ আইনগতভাবে প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলাম

কুড়িগ্রামের এসিল্যান্ডকে ভাই বলায় ক্ষুব্ধ

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে তদন্ত: ৪৮১ জনের গেজেট বাতিল, আরও যাচাই চলমান

সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধিন প্ল্যান্ট

বাংলাদেশের চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোলই উৎপাদন হয় সিলেটে, অকটেন হয় ২৫ শতাংশ

অর্থনীতি

অগ্রণী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) আবুল বাশার

অগ্রণী ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে বদলি-নিয়োগ,পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সবুজের সমারোহ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ৯ হাজার হেক্টরে বোরো চাষ, সবুজে ছেয়ে গেছে কৃষি মাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0