Brand logo light
সংবাদ

বিহারের ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে বিবাদ: শিরশ্ছেদ, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
বিহারের ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে বিবাদ
বিহারের ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে বিবাদ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভারতের বিহারের আরারিয়া জেলার ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে সামান্য এক বিবাদকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল চরম নৃশংসতা। বিবাদের জেরে এক পিকআপ ভ্যান চালককে কুপিয়ে শিরশ্ছেদ করার অভিযোগ উঠল এক হকারের বিরুদ্ধে। এর কিছুক্ষণ পরই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দিলে তারও মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবারের এই জোড়া খুনের ঘটনায় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত চালকের নাম আলি হুসেন। তিনি যোগবনীর বাসিন্দা। ফরবিসগঞ্জ শহরে গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে স্থানীয় এক রাস্তার ধারের বিক্রেতা রবি চৌহানের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সামান্য বচসা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। রাগের মাথায় রবি চৌহান একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলিকে আক্রমণ করেন এবং সবার সামনে তাঁর শিরশ্ছেদ করেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, "ঘটনার পর রবি বিচ্ছিন্ন মাথাটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মানুষ আতঙ্কে দিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল, অনেকেই এগিয়ে না এসে ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিল।" এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের আত্মীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

তাঁরা অভিযুক্ত রবি চৌহানকে তাঁর বাড়ির কাছ থেকে খুঁজে বের করেন। উত্তেজিত জনতা রবিকে টেনে-হিঁচড়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে এবং লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতিতেই উন্মত্ত জনতার মারে মৃত্যু হয় অভিযুক্ত রবির। জোড়া খুনের ঘটনায় ফরবিসগঞ্জ জুড়ে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করে এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে। মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য আসা একটি অ্যাম্বুল্যান্স ভাঙচুর করা হয়।

এমনকি ফরবিসগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালেও হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা, যার ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাণভয়ে পালিয়ে যান। আতঙ্কে শহরের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরারিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জিতেন্দ্র কুমার বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স।পুলিশ সুপার বলেন, "আমরা দুটি ঘটনারই তদন্ত শুরু করেছি।

যারা এই হত্যাকাণ্ড এবং ভাঙচুরের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে।" বর্তমানে ফরবিসগঞ্জের পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশি নজরদারিতে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বা গোষ্ঠী সংঘর্ষের আশঙ্কা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবাদ

View more
সৌদি আরবে পরীক্ষামূলক ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু: এক প্ল্যাটফর্মেই ভিসা, ফ্লাইট ও হোটেল বুকিং

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং সমন্বিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু করেছে সৌদি আরব। এই উদ্যোগের আওতায় নির্দিষ্ট ট্রাভেল প্যাকেজের অংশ হিসেবে পর্যটকরা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা, যাওয়া-আসার ফ্লাইট, হোটেল বুকিং এবং অন্যান্য ভ্রমণসংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি দেশের অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের জন্য সৌদি আরব ভ্রমণকে আরও নির্বিঘ্ন করা এবং দেশটিতে তাদের অবস্থানের সময় বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া। এক প্ল্যাটফর্মে ভিসা থেকে হোটেল নতুন ব্যবস্থার আওতায় ভ্রমণকারীরা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেই ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন, রাউন্ড-ট্রিপ ফ্লাইট বুকিং এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে পারবেন। এছাড়া, প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রমণ পরিকল্পনার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিশেষ কার্যক্রম এবং পর্যটন আকর্ষণও যুক্ত করা যাবে। ফলে আলাদা করে ভিসা আবেদন, বিমান টিকিট সংগ্রহ কিংবা আবাসনের জন্য পৃথক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। কারা এই সুবিধা দিতে পারবে? তবে এই সুবিধা সব ট্রাভেল এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত নয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল সেইসব অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান এই সেবা দিতে পারবে, যাদের নিজস্ব ডিজিটাল বুকিং প্ল্যাটফর্ম, উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সার্বক্ষণিক গ্রাহকসেবা পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার ভ্রমণসেবার মান নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহকদের জন্য নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতে চায়। ‘ভিশন ২০৩০’-এর পর্যটন কৌশলের অংশ নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ উদ্যোগটি সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় পর্যটন খাত সম্প্রসারণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বীমা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব পর্যটন খাতে প্রবেশাধিকার সহজ করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্যুরিস্ট ই-ভিসা, অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং স্টপওভার ট্রানজিট ভিসা চালু করা। পর্যটক বৃদ্ধির পেছনে সহজ ভিসা নীতি সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সহজতর ভিসা নীতির ফলে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে সৌদি আরব সফর করেছেন ২ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী। পর্যটন মন্ত্রীর বক্তব্য সৌদি আরবের পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব এসপিএকে বলেন, "সৌদি আরবের পর্যটনের গল্প সবসময়ই উচ্চাকাঙ্ক্ষা, উন্মুক্ততা এবং ধারাবাহিক অগ্রগতির। প্যাকেজ ভিসার মাধ্যমে আমরা সেই যাত্রার পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করছি। এটি আমাদের পর্যটন খাতের অংশীদারদের আরও সক্ষম করবে, দর্শনার্থীদের ভ্রমণ সহজ করবে এবং সৌদি আরব সফরের অভিজ্ঞতাকে আরও স্মার্ট ও নির্বিঘ্ন করে তুলবে।" কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ? নতুন প্যাকেজ ভিসা শুধু একটি নতুন ভিসা সুবিধা নয়; এটি সৌদি আরবের পর্যটন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও সমন্বিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। একটি প্ল্যাটফর্মে ভিসা, পরিবহন, আবাসন এবং পর্যটন কার্যক্রম যুক্ত হওয়ায় ভ্রমণ পরিকল্পনার জটিলতা কমবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অবস্থান, অতিরিক্ত ব্যয় এবং বিভিন্ন পর্যটন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও বাড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব প্রযুক্তিনির্ভর ও সহজ প্রবেশব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৯, ২০২৬ 0

সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত: যুদ্ধের হুঁশিয়ারি, কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও দক্ষিণ এশিয়ার নতুন জল-সংকট

ওপেক প্লাসের উৎপাদন বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে কমছে অপরিশোধিত তেলের দাম

হামাস

খামেনির জানাজায় হামাস: ইরানের ‘বড় জয়’ দাবি, গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে বার্তা

জানাজায় শোকের মুহূর্ত
খামেনি পরিবারের জানাজা: ১৪ মাসের জাহরার কফিনের পাশে বাবার ছবি ঘিরে আলোচনায় ইরান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নাতনি, ১৪ মাস বয়সী জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানির বাবা শেখ মোহাম্মদ জাভাদ গোলপায়েগানির একটি আবেগঘন ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। জানাজায় নিহত শিশুকন্যার কফিনের পাশে শোকাহত বাবার সেই মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসল্লায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার জামাতা মেসবাহ-উল-হোদা বাকেরি, বড় মেয়ে সাইয়্যেদাহ বোশরা হোসেইনি খামেনি, পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানির জানাজা একসঙ্গে সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে ইরনা প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নিহত শিশু জাহরার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে শোকাহত অবস্থায় আছেন তার বাবা শেখ মোহাম্মদ জাভাদ গোলপায়েগানি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, শেখ মোহাম্মদ জাভাদ গোলপায়েগানি শিয়া আলেম এবং শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বড় মেয়ে সাইয়্যেদাহ বোশরা হোসেইনি খামেনির স্বামী। তিনি ১৪ মাস বয়সী জাহরার বাবা এবং প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আবুল কাসেম মোহাম্মদী গোলপায়েগানির ছেলে। এদিকে, প্রথম জানাজার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি প্রথমবারের মতো খামেনির জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাকেরির একটি ছবিও প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই ছবিতে তাকে শ্বশুর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাকেরি ছিলেন খামেনির দ্বিতীয় মেয়ে হোদা সাদাত খামেনির স্বামী এবং কূটনীতিক আলী বাকেরি কানির ভাই। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনি পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনিও নিহত হন। এ ছাড়া জানাজায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির তিন ছেলে—মোস্তফা খামেনি, মাসুদ খামেনি ও মেসাম হোসেইনি খামেনিকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির দ্বিতীয় ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬ 0
মুম্বাইয়ে রেড অ্যালার্ট জারি

মুম্বাইয়ে টানা ভারী বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি, রেড অ্যালার্ট জারি; নিচু এলাকায় নতুন করে জলাবদ্ধতার শঙ্কা

কালেমাখচিত সাদা-কালো পতাকার মিছিল: কীভাবে শুরু, কারা করছে, কেন বিতর্ক?

বম্বে হাই কোর্ট

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলেই তাকে এলাকাছাড়া করা যায় না: বম্বে হাই কোর্ট

কাতার সংলাপ শেষে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সরাসরি যোগাযোগ চ্যানেল, ৬০ দিনের ইসলামাবাদ সমঝোতা কার্যকরে নতুন পদক্ষেপ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নিজেদের মধ্যে একটি যোগাযোগ চ্যানেল খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কাতারে সংলাপ শেষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা ইরনাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। এই চ্যানেল খোলার মূল উদ্দেশ্য হবে আগামী ৬০ দিন ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির কোনো ধারা বা শর্ত লঙ্ঘন হলে উভয়পক্ষ যেন তাৎক্ষণিকভাবে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে দিয়েই শেষ হয়েছে কাতার সংলাপ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং তারপর টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত শেষে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র এবং এ কারণেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।    

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২, ২০২৬ 0
আ.লীগের সাবেক এমপি ডা. প্রাণ

ভারতে প্রকাশ্যে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ত্রিপুরার মেডিকেল কলেজে ক্লাস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

বেইজিংয়ে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে গণমাধ্যম খাতে ৪ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি

আমিরাতে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি ছাড়ানোর আশঙ্কা, আর্দ্রতা ও বৃষ্টির পূর্বাভাস

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0