Brand logo light

আওয়ামী লীগ

এইচআরএসএস
জুনে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৯ নিহত, আহত ৩৪৬; মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ:এইচআরএসএস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলতি বছরের জুন মাসে বাংলাদেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, দলীয় কোন্দল, মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী-শিশু নির্যাতন এবং সীমান্ত সহিংসতাসহ মানবাধিকার পরিস্থিতির বিভিন্ন সূচকে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত সংগঠনটির মাসিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে সারা দেশে ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ৩৪৬ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল পাঁচজন এবং আহত ছিলেন ২৮৯ জন। ফলে এক মাসের ব্যবধানে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথায় সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ? এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজনৈতিক সহিংসতার সবচেয়ে বড় অংশই ঘটেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদলীয় সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। জুন মাসে— বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ২১টি ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং অন্তত ১৪৬ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ৮টি সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ১৪টি সংঘর্ষে ২ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ৫টি সংঘর্ষে ১৮ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ৫টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৯ জন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক সংঘর্ষের আরও ৫টি ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। নিহত ৯ জনের মধ্যে বিএনপির চারজন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুজন, ছাত্রশিবিরের একজন, ইউপিডিএফের একজন এবং একটি চরমপন্থী সংগঠনের একজন সদস্য রয়েছেন। সহিংসতার পেছনে কী কারণ? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ রাজনৈতিক সংঘর্ষের পেছনে ছিল— আধিপত্য বিস্তার রাজনৈতিক বিরোধ দলীয় ও অন্তর্কোন্দল চাঁদাবাজি এছাড়া দুষ্কৃতকারীদের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর অন্তত ১২টি হামলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— আওয়ামী লীগের ৩ জন (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিএনপির ৫ জন চরমপন্থী দলের ১ সদস্য একই সময়ে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক সহিংসতা ও দখলকে কেন্দ্র করে ১৫টি ঘটনায় অন্তত ৪৫টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেফতার জুন মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২২টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায়— ৬২৭ জনকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। আরও প্রায় ১,২৬২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক ও অন্যান্য ঘটনায় মোট ২৫৭টি ঘটনায় অন্তত ৪,৭৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে— আওয়ামী লীগের অন্তত ১,৫৫৯ জন বিএনপির ৩৫ জন জামায়াতের ২ জন গ্রেফতার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মব সহিংসতার ঊর্ধ্বগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাকবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার এবং ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ৬৩টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে— ২৯টি ঘটনায় ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হামলা ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলা এইচআরএসএস বলছে, জুন মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৪৭ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে— ২৮ জন আহত ৫ জন লাঞ্ছিত ৯ জন হুমকির মুখে ৫ জন আটক এছাড়া ৭টি মামলায় ১২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রতিবেদন অনুযায়ী— ৬টি সভা-সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার অভিযোগ রয়েছে। এতে ১৭ জন আহত ও ৩৬ জন আটক হয়েছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে— ১১টি ঘটনায় ১১ জন আটক হয়েছেন। ৭টি মামলা হয়েছে। অন্তত ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান ও বিএনপির নেতাদের সমালোচনা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। একই সময়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর আওতায় পৃথক চারটি মামলায় ৯ জনকে অভিযুক্ত এবং ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত মৃত্যু ও কারাগারে প্রাণহানি এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী— আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজত ও নির্যাতনে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন কথিত বন্দুকযুদ্ধে এবং ১ জন ডিবি হেফাজতে নির্যাতনে নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জুন মাসে কারাগারে ৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যালঘু ও সীমান্ত পরিস্থিতি প্রতিবেদন বলছে— সংখ্যালঘুদের ওপর ১২টি হামলায় ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া— ১২টি মন্দির ১১টি প্রতিমা ৭টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও হামলার শিকার হয়েছে। একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে— ৫টি ঘটনায় ২ জন নিহত ২ জন আহত ৪ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বিএসএফ একজনকে আটক করেছে এবং সাতজনকে পুশইনের পাশাপাশি চার শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে পৃথক তিন ঘটনায় এক রোহিঙ্গাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শ্রমিক, নারী ও শিশুর চিত্র প্রতিবেদন অনুযায়ী— শ্রমিক ৫৫টি ঘটনায় ১১ শ্রমিক নিহত ১৮৪ জন আহত কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় আরও ৩৯ শ্রমিক নিহত নারী জুন মাসে ৩৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে— ১০৬ জন ধর্ষণের শিকার ৭৫ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে ১৯ জন গণধর্ষণের শিকার ধর্ষণের পর ২ কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে ৯৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার যৌতুক-সংক্রান্ত ঘটনায়— ৪ জন নিহত ৪ জন আহত ২ জন আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক সহিংসতায়— ৫৭ জন নিহত ৪৮ জন আহত ৩৬ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন। শিশু জুন মাসে ২৯১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে— ৫৪ জন নিহত ২৩৭ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এইচআরএসএস কী বলছে? সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, জুন মাসে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি একটি সংবেদনশীল ও পরিবর্তনশীল পর্যায় অতিক্রম করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী-শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার, মামলা ও হয়রানির ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের আরও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা এবং নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। বিশ্লেষণ জুন মাসের এই পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত করছে যে রাজনৈতিক সহিংসতা কেবল দলগুলোর পারস্পরিক সংঘর্ষেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, স্থানীয় আধিপত্য, চাঁদাবাজি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে তা জটিলভাবে জড়িয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সীমান্ত পরিস্থিতির মতো বিভিন্ন মানবাধিকার সূচকে সমান্তরাল উদ্বেগের উপস্থিতি দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার বাস্তবতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। উল্লেখ্য: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত সব পরিসংখ্যান ও দাবি হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রকাশিত জুন মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
পিরোজপুরের নাজিরপুরে শিব মন্দিরের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় আনসার কমান্ডারকে কুপিয়ে জখম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার একটি শিব মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুরুতর হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি দখলে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) এক ইউপি কমান্ডারসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। সোমবার (২৯ জুন) উপজেলার ষোলসত বাবুরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—ষোলসত গ্রামের সোনারাম চক্রবর্তীর ছেলে ও স্থানীয় আনসার ভিডিপির ইউপি কমান্ডার তপন চক্রবর্তী, তার মা বকুল রানী চক্রবর্তী এবং প্রতিবেশী মিলন কুমার শিল। অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সহসভাপতি মো. আজিজুল শেখ, তার স্ত্রী মুঞ্জিলা বেগম এবং পুত্রবধূ আরজু বেগমের নাম উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের বিরোধ, নতুন করে উত্তেজনা স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবুরহাট এলাকার ‘নিলখোলা শিব মন্দির’-এর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই জমি দখলের চেষ্টা বহুদিন ধরেই চলছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, আজিজুল শেখ স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি ছিলেন এবং জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সোমবার সকালে অভিযুক্তরা মন্দিরের জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে তপন চক্রবর্তী বাধা দেন। এরপরই তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার মা ও প্রতিবেশীকেও মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরিবারের অভিযোগ আহত তপন চক্রবর্তীর বাবা সোনারাম চক্রবর্তী বলেন, মন্দিরের জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা ঠেকাতে গেলে তার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়। তার ভাষ্য, হামলায় তার স্ত্রীও আহত হয়েছেন এবং তার ছেলে বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের বক্তব্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আকাশ কুণ্ড জানান, তপন চক্রবর্তীর মাথায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত রয়েছে। সেখানে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্য দুই আহত ব্যক্তি নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশের অবস্থান নাজিরপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ সম্পর্কে পুলিশ আগে থেকেই অবগত ছিল এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। তার দাবি, অভিযুক্ত আজিজুল শেখের বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকায় বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রধান অভিযুক্তসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে এসেছে ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— শিব মন্দিরের জমির প্রকৃত মালিকানা ও রেকর্ড কী বলছে? জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কেন হয়নি? হামলার আগে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগগুলোর অগ্রগতি কী ছিল। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল। এসব প্রশ্নের উত্তর মিললে ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৩০, ২০২৬ 0
আ.লীগের সাবেক এমপি ডা. প্রাণ
ভারতে প্রকাশ্যে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ত্রিপুরার মেডিকেল কলেজে ক্লাস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দীর্ঘদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে। তার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি কোথায় অবস্থান করছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, চিকিৎসক সমাজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ভারতের ত্রিপুরার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে তার পাঠদান করার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। বাংলাদেশ সংবাদের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) কলেজটির এক স্টাফ নার্স বাংলাদেশ সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। তবে তিনি ঠিক কবে থেকে কলেজটিতে যুক্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।   ভিডিওতে মিলল অবস্থানের প্রমাণ সম্প্রতি শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তার পেছনের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন স্লাইড প্রদর্শিত হচ্ছিল। ভিডিওর বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিষয়ে একটি একাডেমিক ক্লাস পরিচালনা করছিলেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরই তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার কার্যত অবসান ঘটে।   দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনের পর রাজনীতিতে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত দেশের একজন সুপরিচিত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।   সরকার পতনের পর আত্মগোপন গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়েছেন কি না, কোথায় অবস্থান করছেন কিংবা চিকিৎসা বা শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কি না—এসব প্রশ্নের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এতদিন পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক ভিডিও এবং কলেজ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মীর বক্তব্যের পর অন্তত এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি বর্তমানে ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করছেন এবং একটি মেডিকেল কলেজে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে তিনি কোন ধরনের ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন, কলেজটির সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক নিয়োগের ধরন কী এবং বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বর্তমান আইনি অবস্থা—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ সংবাদ এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কিংবা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0
নোয়াখালী সদরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আ.লীগের হামলা ছাত্রদলের ওপর, মোটরসাইকেলে আগুন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়সহ ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেলের নেতৃত্বে একই এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল। সমাবেশ চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খবর পান যে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে কালাদরাপ ইউনিয়নে একটি মিছিল করেছেন। পরে কর্মসূচি শেষ করে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে তারা কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে দেখতে পান। এ সময় মিছিলকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর প্রচার হলে আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শ্রমিকদল নেতা হৃদয়সহ অন্তত ছয়জন আহত হন। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিলের জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষ করে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। হামলায় ছাত্রদলের ছয়জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং একটি অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা অবস্থান করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৭, ২০২৬ 0
মাহফুজ আলম
আওয়ামী লীগ প্রশ্নে বিএনপি-জামায়াতের ‘ইনসিকিউরিটি’: তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা মাহফুজ আলমের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগকে ঘিরে বিরোধী শক্তিগুলোর অবস্থান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে দেশের দুই প্রধান ইসলামপন্থী ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি—বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী—উভয়ই এক ধরনের রাজনৈতিক ‘ইনসিকিউরিটিতে’ ভুগছে। সোমবার (১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, অতীত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ ক্ষমতার রাজনীতির সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় থাকা তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি সতর্কবার্তা দেন। ‘লীগ প্রশ্নে দুই বড় দলের ইনসিকিউরিটি’ মাহফুজ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যে রাজনৈতিক বিতর্ক ও অবস্থানগত প্রতিযোগিতা চলছে, তার মূল কারণ দুই বড় দলের অনিরাপত্তাবোধ। তিনি লেখেন, “লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা হচ্ছে দুই বড় দলের ইনসিকিউরিটি। কৌন বনেগা লীগকা বাপ? ’৮৬ আর ’৯৬-এর স্মৃতি বিএনপি ভুলতে পারছে না, আর জামায়াত আছে আদর্শিক শত্রুতা ও সহিংসতার ভয়ে।” তার মতে, বিএনপির এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে জামায়াতের আশঙ্কার উৎস নব্বইয়ের দশকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘাতময় সম্পর্ক এবং অতীত রাজনৈতিক সহিংসতার স্মৃতি। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আশঙ্কা পোস্টে মাহফুজ আলম একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যদি ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’-এর কাঠামোর মধ্যেই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করবে। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামী অপেক্ষাকৃত নীরব অবস্থান নিতে পারে। তার ভাষায়, “আগামীতে বিএনপি (আল্লাহ না করুক) ক্ষমতায় থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র করে নেবে আর জামায়াত চুপ মেরে গুপ্ত হয়ে যাবে।” এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও প্রতিরোধে যুক্ত থাকা নতুন প্রজন্মের কর্মী ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় তরুণরা বলে মন্তব্য করেন তিনি। ‘আসল বিপদ তরুণদের জন্য’ মাহফুজ আলমের মতে, আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী আন্দোলনে যারা সামনের সারিতে ছিলেন, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট বা সমঝোতার কারণে সেই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার হিসাব-নিকাশের মধ্যে আন্দোলনকারী তরুণদের স্বার্থ প্রায়ই উপেক্ষিত হয়, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন নয়। তরুণদের প্রতি আহ্বান: ‘রুটি বড় করুন’ নিজের পোস্টে তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে মাহফুজ আলম বলেন, তারা বর্তমানে সীমিত রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। তিনি লেখেন, “এ প্রজন্ম ব্যস্ত নিজেদের হাতের তালুর চেয়ে ছোট রুটি ভাগাভাগিতে। রুটিটা বড় করেন।” তরুণদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তাদের মধ্যে এমন সক্ষমতা রয়েছে যা শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এ জন্য তিনি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সামাজিক প্রভাব বিস্তার, সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ‘আগের প্রজন্ম আপনাদের বাঁচাবে না’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের উদাহরণ টেনে মাহফুজ আলম বলেন, অতীতেও তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “বড়রা হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে এ প্রজন্মকে। এভাবেই খেয়ে ফেলা হয় তরুণদের। সেটা ’৭০-এর দশকে, ’৯০-এর দশকেও ঘটেছে।” তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক সংগ্রাম মূলত প্রজন্মগত লড়াই এবং নতুন প্রজন্মকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্মাণ করতে হবে। ‘কিবলা রাখেন জুলাই আর অ্যান্টি-ফ্যাসিজম’ পোস্টের শেষাংশে তিনি রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও তরুণদের প্রতি ব্যক্তি আক্রমণ ও বিদ্বেষের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নিজেদের মধ্যে ব্যক্তি আক্রমণ আর বিদ্বেষচর্চা বন্ধ করেন। কিবলা রাখেন জুলাই আর অ্যান্টি-ফ্যাসিজম।” মাহফুজ আলমের মতে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা নিশ্চিত ঝুঁকি ও প্রতিকূলতা জেনেও সংগ্রাম করেছেন। এখন সেই সাহসের সঙ্গে সাংগঠনিক শক্তি, রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল যুক্ত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২, ২০২৬ 0
বরিশাল গণপূর্তের প্রকৌশলী মানিক লাল দাস
বরিশাল গণপূর্তের প্রকৌশলী মানিক লাল দাসের কোটি টাকার টেন্ডার ও দুর্নীতির অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : খান ট্রেডার্স, খান বিল্ডার্স, রাতুল এন্টারপ্রাইজ ও ইনভেন্ট পয়েন্ট কম্পিউটারকে নিয়ে গঠন করেছেন ঠিকাদারি সিন্ডিকেট। অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মানিক লাল দাসের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মানিক লাল দাস ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ভোলা গণপূর্ত বিভাগের ৮০% ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের অনুমতি প্রদান করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর পরিচয়ে আওয়ামী সরকারের শেষ সময়ে গোটা দক্ষিণাঞ্চল দাবড়িয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। হাসনাতের প্রভাবে বরিশাল গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়ে বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসা, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নির্মাণ মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বরাদ্দের মোটা অংকের অর্থ প্রতিবছর লোপাট করে আসছেন তিনি। অবৈধ উপায়ে আয়কৃত অর্থের একটি অংশ তিনি আ’ লীগের বিতর্কিত একতরফা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ও তার ছেলে সাদিক আবদুল্লাহর মেয়র নির্বাচনী কাজে ব্যয় করেছেন অভিযোগ রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভোলা বরিশাল ও পটুয়াখালীতে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র-জনাতার আন্দোলন দমাতে ফ্যাসিস্ট লীগের মাধ্যমে অনেক টাকা খরচ করেছেন তিনি। এখনো ফ্যাসিস্ট লীগের লোকজনকে কাজ দেয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীদের চাপ দেন। তার অধীনস্থ বিভাগগুলোতে ঝালকাঠির নাসির খানের মালিকানাধীন খান বিল্ডার্স, ভোলা সদরের ফ্যাসিস্ট লীগের সহ সভাপতি হাসান মিয়ার রাতুল এন্টারপ্রাইজ, ইনভেন্ট পয়েন্ট কম্পিউটার ও বরিশালের কাশিপুরের বাসিন্দা মিজানের খান ট্রেডার্স এর মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দিয়ে সেই টাকা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলে লোক জোগান দিতে ব্যয় করান বলে অভিযোগ উঠেছে। ,প্রত্যেক এক্সেনকে ডিসেম্বরের আগেই এই চার ফার্মের নামে মিনিমাম ৮ টি কাজ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানাগেছে। মানিক লাল দাস ২০২২ সালে যখন যশোর গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তখন মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন কাজের দরপত্র সীমিত পদ্ধতিতে আহবান করার কথা থাকলেও তার নির্দেশের কারণে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগ উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে মানিক লালের পছন্দের ঠিকাদারদের কে কাজ পাইয়ে দিতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিনিময়ে মানিক লাল দাস মোটা কমিশন হাতিয়ে নেন। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী কৃষি আবহওয়া অফিসের সিভিল স্যানিটারী ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৫৯৮ তারিখ ২১/০৩/২০২২ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৯২১১। কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ও পরিদর্শন বাংলোর সিভিল স্যানেটারী মেরামত কাজ। তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৫৯৭ তারিখ ২১/০৩/২০২২ খ্রিঃ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং- ৬৭৯০১১। কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর বাউন্ডারী ওয়াল, গেট, গার্ডরুম ও বাথরুম সিভিল ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৫ তারিখ ০৬/০৩/২০২২ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৬৪৫৩। কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর গ্রাউন্ড ফ্লোরে সিভিল, স্যানেটারী ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৭ তারিখ ০৬/০৩/২০২২ মাধ্যমে দরপত্র অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং ৬৭৫৯৭ এবং কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর ছাত্রী হোষ্টেলের ২য় তলায় সিভিল, স্যানেটারী ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছেন। অন্যদিকে তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৩ তারিখ ০৬/০৩/২০২২খ্রিঃ মাধ্যমে দরপত্র অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৬৩৬৬। ৬) কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর প্রশাসনিক ভবনের গ্যালারী মেরামত, রুম, জানালা মেরামতসহ বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৬ তারিখ ০৬/০৩/২০২২ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন ও উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৬৪১৫। এই সকল মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন কাজের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের দৃষ্টি গোচর হতে পারে বলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন কাজ সীমিত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার কথা থাকলেও উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের নির্দেশনা সম্বলিত পত্র ও প্রাক্কলন অনুমোদন দেন যশোর গণপূর্ত সার্কেলের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী মানিক লাল দাস। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে প্রধান প্রকৌশলীর জুলাই মাসের অফিস আদেশ অমান্য করে এক দিনের নোটিশে দরপত্র ওপেনিং দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেয়ার জন্য ততকালীন কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম কে জোর জবরদস্তি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বিধি বহির্ভুতভাবে সময় বর্ধন অনুমতি দিয়েছেন যেটা দিতে পারবেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলী করবেন অনুমোদন সেটা নিজেই অনুমোদন দিয়েছেন। ঝিনাইদহ পাসপোর্ট অফিস, কুষ্টিয়া সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ স্মৃথি মিউজিয়াম, মাগুরা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মান প্রকল্প ও শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠি বাড়ি সম্প্রসারিত উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গের এছাড়া যশোর সার্কেলের সকল ডিভিশনের নিয়ম বহির্ভূতভাবে সময় বর্ধন, ভেরিয়েশন ও প্রাক্কলন অনুমোদন দিয়েছেন। এছাড়া কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্প এর কাজের সময়েও এই মানিক লাল দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিলো যে দীর্ঘদিন ধরে উক্ত কাজের সাথে থাকলেও তিনি সাইট পরিদর্শনে আসেন না বললেই চলে। সারাদিন অফিসে বসে বসে ঠিকাদারদের অপেক্ষায় থাকেন কখন কোন ঠিকাদার অফিসে এসে তার কমিশন দিয়ে যাবে। এসময় ভবন নির্মাণ কাজের অবহেলায় ছাদ ধসের ঘটনায় অনেকের শাস্তি হলেও তিনি থেকে যান ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এছাড়া, সে সময় অন্য ঠিকাদারদের যেখানে কাজের মেয়াদ শেষ, সেখানে ঠিকাদার জহুরুল ইসলামের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ২০২২ সাল পর্যন্ত। অথচ এই জহুরুলের নির্মাণাধীন কাজের অংশেই ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি হাসপাতাল ভবনের গাড়ি বারান্দার ছাদ ধসে পড়ে। পরে এ প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী, এসডি, এসওসহ চারজন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও দায়িত্বে অবহেলা ও সাইট পরিদর্শনে অলসতার অভিযোগ যেই মানিক লালের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। মানিক লাল দাস ভোলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন ২০১৪ সালের নির্বাচনকালীন সরকারের ৩ মাসের তোফায়েল আহমেদের গণপূর্ত মন্ত্রী থাকাকালীন ফ্যাসিবাদ সরকারের অন্যতম দোসর ভোলার সাবেক চালচোর চেয়ারম্যান হাসান মিয়া ও তার ভাই হোসেন মিয়ার প্রভাবে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ -১ পদায়ন পেয়েছিলেন। তিনি ঢাকার একটি ডিভিশন ঠিকমতো চালাতে পারেন নি। তাই সে সময় তাকে দীর্ঘ দিন ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাখা হয়। পরে পদোন্নতি পেয়ে যশোর গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হন। যশোর গণপূর্ত সার্কেলের আওতাধীন ঝিনাইদহ, মেহেরপুর , যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল ও মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের ৮০% ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান অনুমতি দিয়ে তিনি কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানাগেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
নূরুল আনোয়ার
পাসপোর্ট ডিজিকে ঘিরে বিতর্ক: রাজনৈতিক আনুগত্য বদল, সবুজ পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে নিজ অবস্থান বদল, বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা প্রদান, সবুজ পাসপোর্ট ইস্যু এবং ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়ম—সব মিলিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে তাকে নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিবর্তন করেছেন এই কর্মকর্তা। কখনও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, কখনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থক, আবার বর্তমানে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার দিনের মাথায় তিনি টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে পাসপোর্ট অধিদপ্তর পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রশাসনের ভেতরে তখন তাকে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তা হিসেবেই দেখা হতো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন অবস্থান তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্রুত অবস্থান বদলের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে নতুন ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশের কৌশল হিসেবে তিনি এ যোগাযোগ জোরদার করেন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর আবারও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিজেকে বিএনপিপন্থী জেনারেল হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন তিনি। জামায়াত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও সূত্রগুলো জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত সমর্থিত ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আবদুল বাতেনকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন ডিজি নূরুল আনোয়ার। ওই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও পরে রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবার বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বহাল রাখার অভিযোগ ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রশাসনিক রদবদলের পরও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তা বহাল রয়েছেন। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ডিজি নূরুল আনোয়ারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও প্রভাবের কারণেই এসব কর্মকর্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল আছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরে পরিবর্তন এলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে সেই পরিবর্তনের প্রভাব দৃশ্যমান হয়নি। সবুজ পাসপোর্ট বিতর্ক জুলাই বিপ্লবের পর বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় ডিজি নূরুল আনোয়ারের নাম উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে পাসপোর্টের জন্য আঙুলের ছাপ ও ছবি সংগ্রহ করেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ডিজির নির্দেশে। একইভাবে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বিশেষ সুবিধায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম এবং ঢাকার সাবেক এক পুলিশ কমিশনারকেও বিশেষ সুবিধায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিতর্কিত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী বহু ব্যক্তিকে কূটনৈতিক সুবিধাসংবলিত পাসপোর্ট প্রদান করে বিদেশ যেতে সহায়তা করা হয়েছে। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে ই-পাসপোর্ট প্রকল্পকে ঘিরে। সূত্র বলছে, শুরুতে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প হিসেবে নেওয়া ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের ব্যয় পরে বাড়িয়ে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি, সরঞ্জাম ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয় এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে অস্বচ্ছতার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অনিয়মের সঙ্গে বর্তমান ডিজির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং পুরো প্রকল্পে একটি প্রভাবশালী চক্র কাজ করেছে। যোগাযোগের চেষ্টা এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল কেটে দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তারা
বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন? গুরুত্বপূর্ণ থানায় ওসি পদায়ন ঘিরে প্রশ্ন

বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাবর্তন: প্রশ্নের মুখে পুলিশ সংস্কারের অঙ্গীকার ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট দেশের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে একটি খবর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে—বদলির আদেশ পাওয়ার পর তিনি থানার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), টেলিভিশন, আইপিএস ও সোফা সেট খুলে বাসায় নিয়ে গেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনার মুখে তাকে ভূঞাপুর থানা থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই ফরিদুল ইসলাম এখন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বনানী থানার ওসি। ফরিদুল ইসলাম দাবি করেন, সে সময় সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি “অতিরঞ্জিতভাবে” উপস্থাপন করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, তিনি নিজেও প্রশাসনিকভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে শুধু একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন কিংবা ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে সমালোচিত বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ থানা ও প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে পুলিশের ভেতর থেকেই। ‘শাস্তিমূলক বদলি’ থেকে আবার রাজধানীতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যেসব কর্মকর্তাকে ঢাকা বা গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট থেকে সরিয়ে দূরবর্তী স্টেশনে পাঠানো হয়েছিল, তাদের অনেকেই আবার রাজধানীতে ফিরছেন। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উচ্চপর্যায়কে “ম্যানেজ” করেই এসব পদায়ন হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে এখনো প্রভাবশালী একটি বলয় সক্রিয় রয়েছে, যারা আগের সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখছে। এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে পুলিশ ভয়াবহ ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা হয়েছিল। এখন আবার বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে সেই প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” হত্যা মামলার আসামি, তবু এসপি পদে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) পদে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের পদায়ন। ৫ মে তাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের দমন, হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ বহুদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ যুবদল নেতা মিজান হত্যাকাণ্ডের মামলাটি বিশেষভাবে আলোচিত। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজান। নিহতের বাবা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হত্যা মামলা দায়ের করলে মাহবুব আলম খানকে আসামি করা হয়। আরেকটি হত্যা মামলাতেও তার নাম রয়েছে। তবে মাহবুব আলম খান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তিনি দায়মুক্ত হবেন। ডিএমপিতে ফিরছেন পুরোনো মুখ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করা নুরুল মুত্তাকিনও আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরেছেন। আওয়ামী আমলে তিনি ডেমরা, ভাটারা, তুরাগ ও লালবাগ থানার ওসি ছিলেন। পরবর্তীতে ডিএমপির সহকারী কমিশনার (এসি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তাকে এপিবিএনে পাঠানো হলেও মার্চ মাসে আবার ডিএমপিতে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুর জোনে এসি (প্যাট্রোল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে গুলশান থানার বর্তমান ওসি দাউদ খানও দীর্ঘদিন ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডিএমপির বহু কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে পাঠানো হলেও তিনি রাজধানীতেই থেকে যান। পরে পর্যায়ক্রমে খিলগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট হয়ে গুলশান থানার ওসি হন। ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তাদের ক্ষোভ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে এ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আওয়ামী আমলে তাদের “ব্ল্যাকলিস্টেড” রাখা হয়েছিল। ছাত্রদল বা বিএনপিপন্থি পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তারা পদোন্নতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন থেকে বঞ্চিত হন। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা বৈষম্য দূর হওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে আগের সরকারের সুবিধাভোগীরাই আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন। এক কর্মকর্তা বলেন, “যারা বিগত সময়ে নির্যাতন-নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারাই এখন পুনর্বাসিত হচ্ছেন। অথচ বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।” সমালোচনার মুখে একাধিক পদায়ন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও কয়েকটি পদায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মাহাবুব রহমান, যিনি আওয়ামী সরকারের শেষদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার ওসি ছিলেন, তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ওসি করা হয়েছে। আমির হোসেন সেরনিয়াবাতকে মাদারীপুরের শিবচর থানার ওসি করা হলেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে চার দিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হয়। ভোলা ছাত্রদল নেতা নুরে আলম হত্যা মামলার আসামি আরমান হোসেনকে কক্সবাজারের রামু থানার ওসি করার আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত সেই পদায়ন কার্যকর হয়নি। চট্টগ্রামে নূর হোসেন মামুন ও আতিকুর রহমানের মতো কর্মকর্তারাও গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সাভার, আশুলিয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের কয়েকটি থানার ওসি পদায়ন নিয়েও পুলিশের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে। ভাবমূর্তি বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল বা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন জনমনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তাদের মতে, প্রশাসনিক দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত না হলে পুলিশ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, তিনি সম্প্রতি প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার পর মন্তব্য করবেন। তবে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কি সত্যিই পরিবর্তন এসেছে, নাকি পুরোনো প্রভাববলয় নতুন বাস্তবতায় আবারও নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে?  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
পবিপ্রবিতে ‘গ্রিন ফোরাম’ কমিটি
পবিপ্রবিতে ‘গ্রিন ফোরাম’ কমিটি, প্রশ্নের মুখে জামায়াতের কথিত সেই আদর্শিক স্বচ্ছতা!

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ‘গ্রিন ফোরাম’-এর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ পেয়েছে। দীর্ঘদিন পর কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের এমন প্রকাশ্য কমিটি সামনে আসায় বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনকে নানা কৌশলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হয়েছে। তবে নতুন করে প্রকাশিত এই কমিটির সদস্য তালিকা পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে আলোচনায় এসেছে—এখানে এমন কয়েকজন শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন যাদেরকে বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে শিক্ষক নির্বাচন ও প্রশাসনিক সমর্থনের ক্ষেত্রে যাদের ভূমিকা নিয়ে ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ছিল, তাদের কয়েকজন এখন এই কমিটির অংশ।  অভিযোগ রয়েছে, মো. নাঈমুর রহমান, মো. মোমিন উদ্দীন, মো. আশিক ও মো. শাহীন অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।  শিক্ষক সমিতিতে 'নীল দলের' প্যানেলভুক্ত হয়ে নির্বাচনও করেছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, সরকারি প্রক্টর হিসেব ও দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে মো. মুজাহিদুল ইসলাম, মো. নুরনবী ও মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম বঙ্গবন্ধু পরিষদের তালিকাভুক্ত সদস্য হিসেবে ক্যাম্পাসে আলোচিত ছিল। এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি এতদিন তারা ভিন্ন পরিচয়ে সক্রিয় ছিলেন, নাকি নতুন বাস্তবতায় রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছেন?  আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসে—যে আদর্শিক ভিত্তির ওপর একটি সংগঠন দাঁড়িয়ে থাকে, সেখানে অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকা কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতে মত ও আদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে। কিন্তু একটি সংগঠন যখন নিজেকে আদর্শভিত্তিক হিসেবে তুলে ধরে, তখন সেই আদর্শের প্রতি স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।  তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকগণ ও সামান্য সুবিধার বিনিময়ে অনেক অনৈতিক কাজের  সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত হতে পারেন যা আমরা বিগত সময়ে দেখেছি ,যা এতদিন শুধুমাত্র ভাইস চ্যান্সেলরগণকেই শুধুমাত্র দোষী সাব্যস্ত হতে দেখেছি এমনকি জেল ও খেটেছেন। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এই কমিটি তাই শুধু একটি সাংগঠনিক ঘোষণা নয়; এটি ক্যাম্পাসের শিক্ষক রাজনীতিতে আদর্শ, অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন করে আলোচনারও জন্ম দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
এমদাদুল হক সুরুজ মোল্লা
বরিশালে জিয়াউল আহসানের ব্যবসায়িক পার্টনার সুরুজ মোল্লার বিরুদ্ধে ৫ একর জমি দখলের অভিযোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল :  বরিশাল নগরীতে আবারও আলোচনায় আয়নাঘরের জনক,গুম-খুনের মাস্টারমাইন্ড বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের ব্যবসায়িক পার্টনার রুপাতলী হাউজিং এলাকার এমদাদুল হক সুরুজ মোল্লা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে আটক হওয়ার পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির পরপরই বরিশাল মেরিন একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫ একর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এমদাদুল হক সুরুজ মোল্লা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা এবং তিনি দলটির বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থদাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা, বিশেষ করে কারাগারে থাকা নেতাদের জামিন প্রক্রিয়ায় অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথাও স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— সরকারি জমি দখল, জমি কেনাবেচায় দালালি, একই জমি একাধিকবার বিক্রি, বায়না দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রি করে পরে বুঝিয়ে না দেওয়া। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগে তার সক্রিয়তার পাশাপাশি নির্বাচনী অংশগ্রহণের ইতিহাসও রয়েছে। চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদ উপ নির্বাচনে  আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারি জমি দখল, জমি কেনাবেচায় দালালি, বায়না দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রি করে পরবর্তীতে বুঝিয়ে না দেওয়া—এমন একাধিক অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে।  জুয়ার আসরের অভিযোগ এছাড়া বিপুল অর্থ ব্যয়ে রুপাতলী হাউজিং এলাকায় জমি কিনে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। তার সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো, তার বাসায় নিয়মিত জুয়ার আসর বসে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যার ফলে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। কে এই সুরুজ মোল্লা: পুরো নাম মোঃ এমদাদুল হক সুরুজ মোল্লা।সুরুজ মোল্লা নামে পরিচিত। কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড ও কনফিডেন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করীমের বিরুদ্ধে বরিশালে মামলা করে আলোচনায় আসেন এই সুরুজ মোল্লা। জিয়াউল আহসানের থেকে টাকা নিয়ে জমি,বালুর ব্যবসা করে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। জিয়াউল আহসানের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমি দখল,একই জমি একাধিকবার বিক্রিসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন সুরুজ মোল্লা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ বরিশালের মেরিন একাডেমী এলাকায় সুরুজ গংএর থেকে ১৩ শতাংশ জমি দলিলমুলে ক্রয় করলেও পরে সুরুজ মোল্লা দলিল গ্রহিতা বাকেরগঞ্জের মিজানুর রহমান মল্লিক ও বানারীপাড়ার জালিস মাহমুদের ৮ শতাংশ জমি দখল করে।টাকাও ফেরৎ পায়নি, এমনকি জমিও ফেরৎ পায়নি তারা সুরুজ মোল্লার কাছে থেকে।এ নিয়ে মিজানুর রহমান মল্লিক ও জালিস মাহমুদ সাংবাদিক সম্মেলনও করেছিল। প্রভাব ও সম্পর্কের অভিযোগ জমি বা টাকা ফেরৎ চাইলে সুরুজ মোল্লা তাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে। অবৈধ টাকা ও জিয়াউল আহসানের ক্ষমতার প্রভাবে সুরুজ মোল্লা বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের উপ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোটর সসাইকেল প্রতীতে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। সুরুজ মোল্লা আ’লীগের সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক গ্রুপের লোক ছিল।বসবাস করেন বরিশাল নগরীর রুপাতলী হাউজিং এলাকায়। পারিবারিক অভিযোগও রয়েছে সুরুজ মোল্লার বিরুদ্ধে তার আপন ফুফুদের জমি আত্মসাৎ,কর্নকাঠি,চরকাউয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অসহায়,নিরীহ মানুষের জমি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ ও দখলের অভিযোগ রয়েছে। রুপাতলী হাউজিং এলাকার বাসিন্দা আকরাম জানান,সুরুজ মোল্লা একজন চিন্থিত ভুসিদস্যু।তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই।পাশাপাশি আয়নাঘরের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউল আহসানের সঙ্গে ব্যবসায় জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া গেছে। প্রশাসনের অবস্থান এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি, যাতে সত্যতা উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। উল্লেখ্য, আয়নাঘরের জনক,গুম-খুনের মাস্টারমাইন্ড বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের ব্যবসায়িক পার্টনার মোঃ এমদাদুল হক সুরুজ মোল্লাকে ঢাকার পুলিশ বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার সহযোগীতায় ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর আটক করে ।    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সুবর্ণা সিকদার
যদি আ.লীগ নেত্রীকেই বিএনপি এমপি করে,আমাদের বোনদের কী লাভ হলো

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোমবার (২০ এপ্রিল) এ তালিকা ঘোষণা করা হয়। মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে এক নেত্রীকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তিনি হলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর)। তিনি দল করেন আওয়ামী লীগ, কিন্তু সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হয়ে যাচ্ছেন বিএনপি থেকে— এমন ঘটনা যদি ঘটে, তাহলে সেটি তো কম বিস্ময়ের নয়। এমনটাই ঘটেছে সুবর্ণা সিকদার এর বেলায়। বিএনপি থেকে প্রকাশিত ৩৬ জন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপির তালিকায় তার নাম রয়েছে ২৩ নম্বরে। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর শ্রিধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য ও কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা সিকদারের (ঠাকুর) বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় জেলাব্যাপী চলছে তুমুল বিতর্ক। একদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিস্ময়, ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এ ধরনের মনোনয়নকে উল্লেখ করেছেন বিএনপির দেউলিয়াত্ব হিসেবে। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িতরা করছেন নানা ধরনের মন্তব্য এবং সেইসঙ্গে বিভিন্ন ছবি দিয়ে ছুড়ছেন নানা প্রশ্ন। গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রশ্ন করেছেন, ‘আমি হতাশ! দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আমাদের বোনদের কী লাভ হলো, যদি আওয়ামী লীগের নেত্রীকেই সংরক্ষিত আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়?’ ‘তিনি কি আদৌও আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন অথবা বিএনপির সদস্য হয়েছেন’— এমন প্রশ্ন যোগ করেছেন রোমান। টিটো বৈদ্য নামে আরেকজন অভিযোগ করে লিখেছেন, ‘অফিসিয়ালি কোনও জায়গায় তিনি পদত্যাগ করেননি। আর আওয়ামী লীগের পোস্টধারী নেত্রীর কোনও ত্যাগ, শ্রম ছাড়া দুই দিনেই যদি এমপি বনে যাওয়া যায়, তাহলে এটিকে বিএনপির দৈন্য ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।’ কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১ জানুয়ারি কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য মনোনয়নপ্রাপ্ত সুবর্ণা সিকদারের (ঠাকুর) মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সুবর্ণা ‘মতুয়া সম্প্রদায়ের’ একজন নারী। তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও পেশায় একজন শিক্ষক। এলাকাবাসীর দাবি, আলোচিত সুবর্ণা ঠাকুর গোপালঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি কীভাবে বিএনপি থেকে এমপি হবেন? যদি এমনটা হয় তাহলে বুঝতে হবে, দেশের জনগণের সঙ্গে বিএনপি তামাশা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল পুনর্গঠনের এই সময়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ বাড়লে নির্বাচনি কার্যক্রমে এর নেতিবাচক প্রতিফলন দেখা দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
বাম থেকে সৈয়দা নাখলু আক্তার ও নাদিয়া পাঠান পাপন।
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে নাদিয়া পাঠান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম। তবে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট এক নেতার ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ৩৬ জন মনোনীত প্রার্থীর তালিকায় নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম রয়েছে ৩২ নম্বরে। নাদিয়া বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মরহুম আনোয়ার হোসেন এবং জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে। শিক্ষাজীবনে তিনি দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকার বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। রাজনৈতিকভাবে নাদিয়া পাঠান পাপন ২০০০ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কলেজে পড়াকালীন তিনি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য। দলীয় সূত্র বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার পুলিশি অভিযান ও হামলার মুখে পড়েন। এদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা তার ফেসবুক পোস্টে নাদিয়ার মনোনয়নকে “রাজনীতিতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের উদাহরণ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি নাদিয়ার মায়ের দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার কথা তুলে ধরে লিখেছেন, ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান সত্ত্বেও বিজয়নগরের সন্তান হিসেবে নাদিয়াকে অভিনন্দন জানানো উচিত। স্থানীয় পর্যায়ে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে অনেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে নানা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, কিন্তু তখন এসব প্রশ্ন তোলা হয়নি। তার দাবি, দলীয় নেতৃত্ব যাচাই-বাছাই করেই তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখন তার লক্ষ্য দলের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
আ. লীগের বিক্ষোভ
বরিশালে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মিছিল

বরিশাল অফিস :    বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একটি বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে অনুষ্ঠিত ওই মিছিলের প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, সদর রোড থেকে মিছিলটি জেলা স্কুলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীদের কেউ মুখে মাস্ক পরেছিলেন, আবার কেউ ছিলেন মাস্কবিহীন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর রাজিব হোসেন খানের নির্দেশনায় মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে মিছিলে রাজিব হোসেন খান নিজে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। রাজিব খান জানিয়েছেন,  জুমার নামাজের পর এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কাকলির মোড় থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি জেলা স্কুল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এদিকে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম বলেন, জুমার নামাজের সময়, যখন অধিকাংশ মানুষ নামাজে ব্যস্ত ছিলেন, তখন ১০ থেকে ১২ জনের একটি ছোট দল মিছিলটি বের করে। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
সড়ক ও জনপথের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হোসেন
সওজের দুর্নীতিবাজ প্রধান প্রকৌশলী মঈনুল এখনো বহাল তবিয়তে

শীর্ষনিউজ: গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরের পতন হলেও তাদের পছন্দের দুর্নীতিবাজ সৈয়দ মঈনুল হোসেন এখনো সড়ক ও জনপথের প্রধান প্রকৌশলী পদেই বহাল তবিয়তে আছেন। এ পদে থেকে মঈনুল হোসেন আওয়ামীপন্থী ও শেখ পরিবারের মদদপুষ্ঠ কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন ও পদায়ন করে চলেছেন। কোটি কোটি টাকা লুটপাট ও আত্মসাতের অভিযোগে মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুদক আইনি ব্যবস্থার নেওয়ার সুপারিশ করে। এসবে কোনো কাজতো হয়ইনি, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের পর বিএনপি আমলেও এই পদে বহাল আছেন মঈনুল আছেন। শেখ পরিবারসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচার এবং গণঅভ্যুত্থানের পর নেতাদের দেশ ছাড়তেও সহায়তা করেন এই মঈনুল হাসান এবং তার স্ত্রী ফেরদৌসী শাহরিয়ার। অভ্যুত্থানের পরও সওজে সক্রিয় আওয়ামী সিন্ডিকেট ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও সড়কে নানা অনিয়মে সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট। সরকারের অধিকাংশ দপ্তরে কমবেশি কিছুটা সংস্কার হলেও সড়ক বিভাগে পড়েনি এর ছিটেফোটা আঁচও। তিনস্তর বিশিষ্ট আওয়ামী সিন্ডিকেটে চলেছে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি। টেন্ডার অনিয়ম, কাজে ঘাপলা, বদলি বাণিজ্য ছাড়াও অর্থপাচারের সঙ্গেও এরা জড়িত। ৫ আগস্টের পর ৩০ জন কর্মকর্তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়ে পাচার করা হয় সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তার পরিবার ও সহযোগীদের শত শত কোটি টাকা, যারা গত সাড়ে পনের বছর সড়কে গড়ে তুলেছিল ‘কাদের চক্র’। সৈয়দ মঈনুল হাসান কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সক্রিয় সদস্য। আইইবি-২০২২-২৩এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের (সবুর-মঞ্জুর প্যানেল) শেখ হাসিনার মতই বিনাভোটে নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়েছিলেন কাউন্সিল মেম্বার (আইইবি মেম্বার নং ১৪৫৫০)। সে সময় তার ব্যালট নম্বর ছিল ১২১। শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে গঠিত সড়ক কমিটির উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বুয়েট ছাত্রলীগ নেতাও ছিলেন সওজের এই প্রধান প্রকৌশলী। কর্মকর্তাদের বহর নিয়ে বারবার শেখ মুজিবের মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ করে সমালোচনায় পড়েন। তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মঈনুল হাসানের আপন চাচাতো ভাই শামসুল আলম কচি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এবং নড়াইল জেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সদস্য। মঈনুল হাসানের ভাগ্নে সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মুনতাসির হাফিজ সড়ক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির আওয়ামী প্যানেলের দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি। এর আগেও ছিলেন একই সমিতির পর পর দুইবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগ রয়েছে সড়ক নিয়ন্ত্রণের জন্যই মঈনুলের বিশেষ হস্তক্ষেপই মুনতাসীরের উত্থান হয়। মধ্যম সারির যেকোন কর্মকর্তার পদায়ন বা বদলিতে মঈনুলের ভাগ্নে মুনতাসিরের আর্শিবাদপুষ্ট হতে হতো। বদলি কিংবা পদায়নে আর্থিক লেনদেনের মূল দায়িত্বে থাকতেন মুনতাসির। বদলি-পদায়নের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পরবর্তীতে জমা দেওয়া হতো অর্থ সংগ্রাহক সিন্ডিকেট প্রধানের হাতে। বিরোধী মতাদর্শের মধ্যমসারির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শায়েস্তা করতে মুনতাসিরের ছক অনুযায়ী করা হতো ওএসডি কিংবা শাস্তিমূলক বদলি। এ কাজে তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী আর্শিবাদপুষ্ট প্রশাসন ও সংস্থাপনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আমানউল্লাহ্ ও ডিপ্লোমা সমিতির নেতা মো. মনিরুল আলম। তাদের দৌরাত্বে ঢাকা সড়ক জোন পরিণত হয় ‘মামাভাগ্নে জোনে’। প্রধান প্রকৌশলী মঈনুলের তত্ত্বাবধানে ডিপ্লোমা সমিতির ব্যানারে চলতো লোক দেখানো দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের নামে দেশব্যাপী শেখ হাসিনা বন্দনা। মঈনুল হাসান পদায়নও নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন মঈনুল হাসান সড়কের সবচেয়ে চতুর কর্মকর্তা এবং ‘ম্যানেজ মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত। নিজের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বাসভবনে কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই ঢাকা সড়ক বিভাগের ওই সময়ের আওয়ামীপন্থী নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহকে দিয়ে আড়াই কোটি টাকার আসবাবপত্র ও ইন্টেরিয়রের কাজ করান। পুরস্কার হিসাবে নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহকে প্রধান প্রকৌশলী মঈনের একক হস্তক্ষেপে গত ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগে পদায়ন করা হয়। আওয়ামী শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শাস্তির মুখে পড়ার কথা আহাদ উল্লাহর। কিন্তু এর পরিবর্তে সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়নের মাধ্যমে তাকে পুরস্কৃতই করা হয়েছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে আহাদ উল্লাহ’র স্থানে স্থলাভিষিক্ত করা হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের পিএস অশোক কুমারের ভাগ্নী জামাই রিতেশ বড়ুয়াকে। অথচ বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে দীর্ঘদিন যাবত এই রিতেশ বড়ুয়া ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের ছত্রছায়ায় কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগে কর্মরত। ইতিপূর্বে সৈয়দ মঈনুল হাসান ময়মনসিংহ সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় তার অধীনস্থ তৎকালীন কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এই রিতেশ হয়ে উঠেন বেপরোয়া ও লাগামহীন। তৎকালীন বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের প্রায় সকল সেতুতেই লোহার পাতের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করার প্রমাণসহ প্রতিবেদন এসেছিলো। সেতুতে লোহার পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করার প্রচলনের এ খবর দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার ঝড় উঠলেও মঈনুল হাসানকে দেখা যায়নি তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা নিতে। প্রধান প্রকৌশলী মঈনুলের বিরুদ্ধে আছে আওয়ামীপন্থীদের পুনর্বাসন ও পদায়নের আরো ব্যাপক অভিযোগ। ৫ই আগষ্ট, ২০২৪ পরবর্তী সময় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নতুনত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের সংস্কারের কথা বলে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের পদায়ন করেন মঈনুল। পুনর্বাসন করেন আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত ছাত্রলীগ নেতাদের। একারণে ঠিকাদারসহ কর্মকর্তাদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক অসন্তোষ। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময় তার নানা অপকর্মের হোতা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ওরফে ম্যাক আজাদকে অপসারেণের ব্যাপক দাবি উঠলে, উল্টো তাকে ২০২৪ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর ৩৫.০২২.০৬০.০০.০০.০০৭.২০০৯(অংশ-১) ৪৯৩ নং স্মারকে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকিউরমেন্ট সার্কেল থেকে লোক দেখানো সরিয়ে দিলেও; আরো বড় দায়িত্ব সড়ক গবেষণাগারের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে পদায়ন করা হয়। এই ম্যাক আজাদ ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। ১৫ই আগস্টসহ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত যাবতীয় দিবসের সড়কের সকল প্রোগ্রামের অন্যতম আয়োজক তিনি। পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে সাধারণ ঠিকাদারদেরকে কোণঠাসা করে রাখার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তিনি ছিলেন আওয়ামী যুগের মঈনুল সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্যের অর্থ সংগ্রাহক। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্য ইসকন নেতা কুষ্টিয়া সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ও বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার চক্রবর্ত্তী, ইসকন সদস্য সাবেক পাবনা সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সমীরণ রায়, ওবায়দুল কাদেরের দীর্ঘদিনের সহচর নোয়াখালী সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়া, প্রধান প্রকৌশলীর বন্ধু অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। ৩০ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের মাধ্যমে অর্থপাচার ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর ট্রেনিং ও উচ্চশিক্ষার নামে বিভিন্ন মেয়াদে ৩০ কর্মকর্তার বিদেশ গমনের অনুমোদন ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সড়ক সূত্রের তথ্যমতে, মূলতঃ সরাসরি প্রধান প্রকৌশলী মঈনের তত্ত্বাবধানে এই ৩০ জন আওয়ামী সুবিধাভোগী কর্মকর্তার মাধ্যমেই শেখ পরিবার ও ওবায়দুল কাদেরের বিপুল অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়। অর্থপাচারে সরাসরি যুক্ত ছিলেন মঈনুল হাসান। এজন্যই সড়কের একজন নিয়মিত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পরেও আওয়ামী বিশেষ মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপে তাকে অধিকাংশ সময় ডেপুটেশনে বিভিন্ন পদে স্থানান্তর করা হয়। তাকে সংযুক্ত করা হয় মিনিস্ট্রি অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্স এর ডিরেক্টর পদে। এরপর তাকে পোস্টিং করা হয় রোমের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর পদে। আওয়ামী সরকারের অর্থপাচার আরো নির্বিগ্ন ও ত্বরান্বিত করতে তার সঙ্গে পরবর্তীতে যুক্ত করা হয় তারই স্ত্রী ফেরদৌসী শাহরিয়ারকে। ফেরদৌসী শাহরিয়ারও বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি দীর্ঘদিন ওয়াশিংটন ডিসিতে ডেপুটি চিফ অফ মিশন হিসেবে বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। সরকারের বিশেষ নেক নজর ছাড়া আমেরিকার মতো দেশের দূতাবাসে ডেপুটি চিফ অফ মিশন হিসাবে কর্মরত থাকার সুযোগ নেই। তৎকালীন সরকারের সময় তাকে আমেরিকার নানা সভা, সেমিনার ও অনুষ্ঠানে আওয়ামী তথা শেখ হাসিনা বন্দনার বক্তব্য দিতেও দেখা যায়। গুঞ্জন রয়েছে ওবায়দুল কাদেরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের আমেরিকায় অর্থপাচার করা হতো এই মঈনুলের স্ত্রী ফেরদৌসী শাহরিয়ার ও ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন নেছা কাদেরের ভাতিজি কামরুন্নেসা ও ভাস্তি জামাই এ জে এম ওবায়দুর রহমান খান ওরফে শাওনের নেতৃত্বে। সড়কের নিয়মিত অফিসার না হয়েও কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত থেকেও সরাসরি অভিজ্ঞতা ছাড়াই সড়ক ও জনপথের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তরের শুধুমাত্র আওয়ামী আর্শিবাদপুষ্ট হওয়ায় রাতারাতি প্রধান প্রকৌশলী করা হয় মঈনুল হাসানকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে সংশোধনীসহ আইন পাসের সুপারিশ, গুমবিরোধী অধ্যাদেশ স্থগিত!

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান সংবলিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে বিশেষ কমিটি চূড়ান্ত রিপোর্টে এই সিদ্ধান্ত জানায়। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি এই প্রতিবেদনটি পেশ করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যে ধারা ছিল, সেখানে কিছু পরিবর্তন বা পরিমার্জন এনে এটি পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত এই অধ্যাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সত্তা বা সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই আইনটি আনা হয়। বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটি সরাসরি বাতিলের তালিকায় না রেখে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের পক্ষে মত দিয়েছে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া কঠোর আইনি পদক্ষেপটি বর্তমান সংসদীয় অধিবেশনে কার্যকর হচ্ছে না। গুমের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জারি করা অধ্যাদেশটি আপাতত স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। সংসদে জমা দেওয়া কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ’ সহ মোট ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমানে অনুমোদন না দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরবর্তীতে বিল আকারে পেশ করতে বলা হয়েছে। এর ফলে গুম বিরোধী এই কঠোর আইনের প্রয়োগ আপাতত ঝুলে গেল। কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মানবাধিকার কমিশন আইনের সংশোধন, তথ্য অধিকার আইন এবং গুম বিরোধী আইনের মতো বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন। তড়িঘড়ি করে এগুলো পাস না করে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ বিল হিসেবে সংসদে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চলতি অধিবেশনে এই অধ্যাদেশটি আর আইনে পরিণত হচ্ছে না। বিগত সরকারের আমলে ঘটা এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স বা গুমের ঘটনা তদন্ত ও বিচার করতে অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশটি জারি করেছিল। এতে গুমকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। মা নবাধিকার কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল গুম বিরোধী আইনটি দ্রুত কার্যকর করা। কিন্তু সংসদীয় কমিটির এই ‘স্থগিত’ রাখার সিদ্ধান্তে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনটি বাতিল করা হয়নি বরং প্রক্রিয়াগত কারণে এটি পরবর্তী অধিবেশনে বিল হিসেবে আসবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্তসহ মোট ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এছাড়া বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আরও ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত বা ‘শেলভড’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে যে ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের (Repealed) প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো হলো: ১. জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪। ২. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫। ৩. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫। ৪. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬। বাতিলের তালিকায় থাকা সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ মূলত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও প্রধান বিচারপতির অধীনে পৃথক সচিবালয় গঠনের লক্ষ্যে জারি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার কথা ছিল। এছাড়া ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশেষ কমিটির সুপারিশে এই ঐতিহাসিক সংস্কারগুলো বাতিলের মুখে পড়ল। বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে ২০টি অধ্যাদেশের ওপর ভিন্নমত (নোট অফ ডিসেন্ট) পোষণ করেছেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও পুলিশ কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পর্যালোচিত বিলগুলো আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে পর্যায়ক্রমে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
আলাউদ্দিন আলো
বরিশালে ডিসির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আলোকে ঘিরে তোলপাড়

বরিশাল অফিস :   বরিশালে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের নাম ভাঙিয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ট্যাংক লরি মালিক সমিতির কথিত সভাপতি আলাউদ্দিন আলোর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ঘিরে শহরজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই কল রেকর্ডে শোনা যায়, আলাউদ্দিন আলো পেট্রোল পাম্প মালিকদের প্রতি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতি পাম্প থেকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ জেলা প্রশাসকের জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এমনকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে প্রতিদিন পাম্পে অভিযান পরিচালনার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বিষয়টিকে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে সংঘটিত সুসংগঠিত চাঁদাবাজি হিসেবে দেখছেন। এদিকে আলাউদ্দিন আলোর বিরুদ্ধে বিতর্ক নতুন নয়। সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে তার আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এছাড়া সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে বিনা ভোটে ট্যাংক লরি মালিক সমিতির সভাপতির পদ দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার ছাড়াই তেল সরবরাহ, সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময়ের বিতর্কিত তেল বিল পরবর্তীতে অবৈধভাবে উত্তোলন, বিআইডব্লিউটিএ কাঁচাবাজার নামমাত্র মূল্যে টেন্ডার গ্রহণ এবং স্টিমারঘাট মসজিদের সভাপতির পদ দখলসহ নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।  এতসব গুরুতর অভিযোগের পরও জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস
শেবাচিমে আওয়ামীপন্থী কর্মচারীদের আধিপত্য বহাল, বিতর্কের কেন্দ্রে ওয়ার্ড মাস্টার ফেরদৌস

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) ঘিরে আবারও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী ও দমন-পীড়নে জড়িত একাধিক কর্মচারী এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। কেউ কেউ রাজনৈতিক ভোল পাল্টে বিএনপি বা জামায়াতপন্থী পরিচয় ধারণ করলেও বাস্তবে আগের প্রভাব-প্রতিপত্তি অটুট রয়েছে বলে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সম্প্রতি চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের একটি কমিটি অনুমোদনের লক্ষ্যে একটি মহল বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার-এর দ্বারস্থ হয়। তাদের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আপত্তি থাকায় তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তারা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লা-এর মাধ্যমে কমিটি অনুমোদন করান। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির শীর্ষে দু-একজন বিএনপিপন্থী থাকলেও অধিকাংশ সদস্যই ঘোর আওয়ামীপন্থী। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম মল্লিক ওরফে ফেরদৌস। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১ মার্চ ঔষধ চুরির সময় যৌথবাহিনীর হাতে আটক হন তিনি। এ ঘটনায় তৎকালীন উপ-পরিচালক ডা. সুভাষ দাশ কোতোয়ালি থানায় এজাহার (নং-৩২৫৯/০৭) দায়ের করেন। সেখানে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ চুরির অভিযোগ উল্লেখ ছিল। তবে পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এর হস্তক্ষেপে অভিযোগ থেকে রেহাই পান বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালে করোনা ওয়ার্ড থেকে ১০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরির অভিযোগও ওঠে ফেরদৌসের বিরুদ্ধে। তৎকালীন সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললেও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ-এর হস্তক্ষেপে তা আলোর মুখ দেখেনি। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার বদলির আদেশ এলেও তা কার্যকর হয়নি। বরং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার অব্যাহত ছিল। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ৩ আগস্ট চৌমাথা এলাকায় বিএনপি নেতা জিয়া শিকদারের ওপর হামলার সময়ও তাকে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস। তিনি বলেন, “আমাকে যৌথবাহিনী আটক করেছিল, এটা সত্য। তবে মামলায় আমি খালাস পেয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি অভিযোগগুলো তদন্তের দাবি জানান। এ বিষয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল মোনেম সা’দ বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, “বিতর্কিত কয়েকজনের ডিউটি পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে জনবল সংকট থাকায় তাদের দিয়েই সেবা চালাতে হচ্ছে। ডিজি হেলথ থেকে জনবল পরিবর্তন করা হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে।” হাসপাতাল ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বিতর্কিত ব্যক্তিরা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকেন—সে বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩, ২০২৬ 0
সাবেক এমপি শাহ আলম
পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক এমপি শাহ আলম আটক

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানী ঢাকার রমনা থানা এলাকার ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। খবরটি নিশ্চিত করেছেন রমনা থানার ডিউটি অফিসার এসআই মনির। তিনি জানান, সাবেক সংসদ সদস্য শাহ আলমকে পাবলিক কর্তৃক আটক করা হয়। যদিও তার গ্রেপ্তারের সঠিক সময়ের বিষয়ে এসআই মনির নিশ্চিত হতে পারেননি, তবে তিনি জানান যে, রাত ৮টার দিকে ডিউটিতে এসে তিনি দেখেন যে তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে এখন পর্যন্ত আটক হওয়া সাবেক এমপি শাহ আলমের বিরুদ্ধে কোন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত জানতে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে আরও তথ্য প্রদান করা হতে পারে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে, শাহ আলমের আটক হওয়ার সময় সেখানে বেশ কয়েকজন স্থানীয় নাগরিক উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সক্রিয়ভাবে এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন। এদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনার প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে এবং তার দল আওয়ামী লীগও বিষয়টি নিয়ে নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করতে আগ্রহী।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১, ২০২৬ 0
জুলাই বিপ্লব
জুলাই হত্যা মামলায় জুলাই যোদ্ধা রাজিব, ৬ মাস কারাভোগের পরও মেলেনি মুক্তি

দেশকে বৈষম্যমুক্ত ও নিরাপদ আর্থ-সামাজিক কাঠামোয় গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন পুরান ঢাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন রাজিব। স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর নতুন সূর্যোদয়ের প্রত্যাশা করলেও তার ব্যক্তিগত জীবনে নেমে আসে চরম দুর্দশা। বর্তমানে তিনি একটি আলোচিত হত্যা মামলায় জড়িয়ে হয়ে পড়েছেন চরম হয়রানি ও অনিশ্চয়তার শিকার। আন্দোলন থেকে আসামির খাতায় জানা গেছে, পুরান ঢাকায় আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন রাজিব। আন্দোলনের সময় পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরও তার দুর্ভোগ থামেনি। উত্তরায় একটি হত্যা মামলায় তাকে ৪৯ নম্বর আসামি করা হয়, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ২০০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাজিবের দাবি, তিনি কখনো উত্তরা এলাকায় যাননি। তার বাসা বংশাল এলাকায় হলেও তাকে উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় আসামি করা হয়। ৬ মাস কারাভোগ ও আর্থিক ক্ষতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় ৬ মাস কারাভোগ করেন রাজিব। জামিন পেতে ব্যয় হয় প্রায় ২৫ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে তার ১৮টি দোকান (প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের) দখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক মর্যাদা ও সন্তানের শিক্ষাজীবন—সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। থানায় ডেকে হুমকি ও লকআপে আটকের অভিযোগ ২০২৫ সালের জুনে চকবাজার থানার এক এসআই তাকে থানায় ডেকে দোকানের চাবি দাবি করেন। চাবি না দিলে ডাকাতির মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রাজিব। তিনি সেই হুমকি রেকর্ড করলে তাকে লকআপে আটক রেখে রেকর্ড মুছে ফেলা হয় বলে দাবি করেন। পরে যুবলীগ পরিচয়ে হুমকি পেয়ে থানায় অভিযোগ জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার। ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ উল্লেখ ২০২৫ সালের ২২ জুলাই আইনজীবী পরিচয়ে ডেকে তাকে আদালতপাড়ার একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রাজিব। পরে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রযুক্তিগত তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে একাধিক কর্মকর্তা মত দেন। এমনকি এক প্রতিবেদনে তাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের প্রতিবেদনেই নির্দোষ ৩ জানুয়ারি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে বংশাল থানা ও উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন— রিয়াজ উদ্দিন রাজিব কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন তার স্বভাব-চরিত্র ভালো নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি ৫ জানুয়ারি আদালতের এক আদেশে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ কমিশনার তার দোকান-সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছিলেন। এর জের ধরেই তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। থানার ওসির বক্তব্য বিষয়টি জানতে চাইলে একে মাহফুজুল হক, অফিসার ইনচার্জ, বংশাল থানা বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর রিয়াজ উদ্দিন রাজিবকে থানায় ডাকা হয়নি। আগের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে হয়রানির বিষয়টি উল্লেখ করে ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাজিব। বর্তমানে তিনি গ্রেফতার আতঙ্কে বাসায় অবস্থান করতে পারছেন না। অনিশ্চয়তায় এক ‘জুলাই যোদ্ধা’ পুলিশের প্রতিবেদন তাকে নির্দোষ বললেও মামলা থেকে অব্যাহতি মিলছে না। ফলে একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির ভার—দুইয়ের মাঝেই অসহায় সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন রিয়াজ উদ্দিন রাজিব। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের একজন অংশগ্রহণকারী হয়েও আজ তিনি নিজ দেশে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। প্রশ্ন উঠছে—একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ কবে মুক্তি পাবেন কল্পিত মামলার দায় থেকে?

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
শাপলা চত্বর
শাপলা চত্বর ২০১৩ হত্যাকাণ্ড: তদন্তে প্রধান আসামি শেখ হাসিনা

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সমাবেশে চালানো অভিযানের ঘটনায় তদন্ত শেষ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর তদন্ত সংস্থা। তদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে এই ঘটনার প্রধান নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করে তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। একটি গণমাধ্যমের হাতে আসা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ অন্তত ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সরাসরি গণভবন থেকে অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কারা আছেন আসামির তালিকায় তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার পর যাদের নাম এসেছে তারা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। এছাড়া যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান এইচ সরকার, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর, পুলিশের সাবেক আইজি হাসান মাহমুদ খোন্দকার, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ও পুলিশের আরও কয়েকজন কর্মকর্তার নাম রয়েছে। অভিযানের বর্ণনা তদন্ত প্রতিবেদনে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে সারাদেশ থেকে হেফাজতের নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসতে দেওয়া হয়। দিনভর বিভিন্ন স্থানে তাদের বাধা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে বলা হয়, গণমাধ্যমে ভাঙচুরের খবর প্রচারের মাধ্যমে সমাবেশকে বিতর্কিত করা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাত ১০টার পর শাপলা চত্বরে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে লাইট নিভিয়ে একদিক খোলা রেখে সমন্বিতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘ক্র্যাকডাউন’ শুরু করে। তবে মোট কতজন নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তদন্ত সংস্থা চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করতে পারেনি। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নিহতদের নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সমাবেশের পটভূমি কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন বাতিল, ধর্ম অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ ডাকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সারাদেশ থেকে মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হন। তৎকালীন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দিনভর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যদিও ওই সময় সরকারিভাবে বড় ধরনের প্রাণহানির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল। তদন্তের প্রেক্ষাপট ও গ্রেপ্তার গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ ঘটনায় তদন্ত চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে হেফাজতে ইসলাম। জাতীয় নির্বাচনের আগেই তদন্ত সংস্থা তাদের অনুসন্ধান শেষ করেছে বলে জানা গেছে। এ মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন— সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম। আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
বিশেষ নির্দেশনা' রাজশাহী ডিআইজির
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার দেখানো নিয়ে 'বিশেষ নির্দেশনা' রাজশাহী ডিআইজির

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে 'বিশেষ নির্দেশনা' দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। মঙ্গলবারের এই “বিশেষ নির্দেশনা” সংবলিত চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজশাহী রেঞ্জের আওতায় থাকা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট এই আট জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে। "পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আদিষ্ট হয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে" উল্লেখ করে চিঠিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করার কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা স্থগিত ফ্যাসিস্ট সংগঠন বা সংগঠনসমূহের যে নেতৃবৃন্দ এবং কর্মী জামিনে মুক্তির পর দলকে শক্তিশালী, সংগঠিতকরণ এবং মাঠপর্যায়ে তৎপরতা প্রদর্শন করতে সক্ষম, তাদের জামিন হওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট) হবে”। "আর যারা ওই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী নয়, তাদের জামিন হলে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানোর প্রয়োজন আপাতত নেই" বলে ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে। তবে, এই চিঠিতে "কার্যক্রম নিষিদ্ধ/স্থগিত ফ্যাসিস্ট সংগঠনের" কথা বলা হলেও আওয়ামী লীগ বা তাদের কোনো সহযোগী সংগঠনের কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। একইসাথে “প্রটোকল ও প্রটেকশন প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করতে হবে” বলেও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। মি. শাহজাহানের এই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ইতিপূর্বে এই বিষয়ে গ্রুপ মেসেজের মাধ্যমে পুলিশ সুপারদের অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি অনুসরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইজি মো. শাহজাহান 'ক্ষোভ' প্রকাশ করে বলেন, এই চিঠি সাংবাদিকদের কাছে যাওয়া "চরম দুর্বলতা আমি মনে করি, আপনাদের কাছে যাওয়া উচিত ছিল না। এটা একান্তই সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়"। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ বা তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে এই নির্দেশনা নয়। বরং "সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের জন্য" এই বিশেষ নির্দেশনা। আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয় সেজন্য নিজেদের সদস্যদের আগাম বার্তা দেওয়ার অংশ এই নির্দেশনা। এটি রুটিন ওয়ার্ক নয়। "আমরা কোনো ব্যক্তি, কোনো সংগঠন বা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি যারা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত, তাদের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন টার্গেট করি নাই। যারা নিষিদ্ধঘোষিত, যারা সমাজের অপরাধী, বিভিন্ন কারণে নিষিদ্ধ সংগঠন, সমাজের ভেতরে বিশৃঙ্খলা করতে পারে, তাদের বিষয়ে কনসার্ন আমাদের" বলেন মি. শাহজাহান। পুলিশের সদর দফতর থেকে এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য কোনো নির্দেশ এসেছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "এটা সদর দফতরের না, এটা আমাদের একেবারেই ইন্টারনাল বিষয়। আমাদের সদস্যদেরকে অগ্রীম বার্তা দিয়ে রাখছি এটা"। চিঠির ভাষাগত কারণে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে উল্লেখ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, "যেসব সংগঠন নিষিদ্ধ তাদের তৎপরতা যদি বেড়ে যায় তাহলে তাদের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এইজন্য তাদেরকে আমরা বলছি আইনের আওতায় আনার জন্য। সিম্পল কথাটা আইনের আওতায় বললে এই শব্দগুলো আসতো না"।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0