Brand logo light

কোটালীপাড়া

এইচ এম আনসার
কোটালীপাড়ায় টিআর-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, পিআইও-র বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে অনুসন্ধান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কোটালীপাড়ায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের পর এবার প্রশ্ন আরও গভীর—এই প্রকল্পগুলো কি আদৌ জনগণের জন্য, নাকি কেবল নথিপত্রে সীমাবদ্ধ এক উন্নয়ন ব্যবস্থার অংশ? গত পর্বে ওঠা অভিযোগগুলোতে বলা হয়, টিআর, কাবিখা এবং বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ভুয়া বিল এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম আনসারের বিরুদ্ধে। তবে এবার স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তব চিত্র আরও বিস্তৃতভাবে উঠে এসেছে।  “কাজ আছে কাগজে, মাঠে নেই কিছুই” কোটালীপাড়ার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, একাধিক প্রকল্পের নাম থাকলেও বাস্তবে কাজের কোনো চিহ্ন নেই। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “কাগজে রাস্তা মেরামত দেখানো হয়েছে, কিন্তু আমাদের গ্রামে সেই রাস্তা এখনও আগের মতোই ভাঙা।” আরও পড়ুন: কোটালীপাড়ার পিআইও আনসারের সম্পদের পাহাড় বরিশাল ও ঢাকায় আরেকজন কৃষক জানান, “প্রকল্পের কাজ শেষ দেখানো হয়, কিন্তু আমরা তো কোনো কাজই দেখি না।” স্থানীয়দের মতে, প্রকল্প অনুমোদন, বাস্তবায়ন এবং বিল উত্তোলনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি স্পষ্ট।  “অফিস খরচ” নাকি নিয়মিত কাটছাঁট? একাধিক ইউপি সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, প্রকল্পের অর্থ বিতরণে একটি অনানুষ্ঠানিক নিয়ম তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, * প্রকল্পের মোট অর্থের ১৫% থেকে ৪০% পর্যন্ত কেটে রাখা হয় * “অফিস খরচ” বা “ম্যানেজমেন্ট ফি” নামে অর্থ সংগ্রহ করা হয় * কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল অনুমোদনের নজির রয়েছে একজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “টাকা না দিলে ফাইল এগোয় না—এটা এখন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।”  টিআর ও কাবিখা প্রকল্প: সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন এখানেই গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিআর ও কাবিখা প্রকল্প নিয়েই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে— * প্রকল্পের কাজ অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে হয়নি * শ্রমিকদের পরিবর্তে কাগজে নাম দেখানো হয়েছে * প্রকল্প সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে সমন্বিত ভাগাভাগির অভিযোগ রয়েছে একজন স্থানীয় সমাজকর্মী বলেন, “এখানে উন্নয়ন নয়, বরং উন্নয়নের নামে লেনদেন চলছে।”  সম্পদের প্রশ্নে নতুন মাত্রা অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা সম্পদ সংক্রান্ত অভিযোগও স্থানীয় আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী— * বরিশাল ও ঢাকায় ফ্ল্যাট * বিভিন্ন এলাকায় জমি * ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নামে সম্পদ বৃদ্ধি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পদের উৎস যাচাই জরুরি।”  প্রশাসনিক নীরবতা: সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এত অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান তদন্ত কমিটি বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না থাকায় প্রশ্ন উঠছে। একজন স্থানীয় শিক্ষাবিদ বলেন, “অভিযোগ যদি সত্য না হয়, তাহলে তদন্তে ভয় কিসের? আর যদি সত্য হয়, তাহলে দেরি কেন?”  বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ সুশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন ব্যবস্থায় কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। তাদের মতে প্রয়োজন— * স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অডিট * ডিজিটাল প্রকল্প ট্র্যাকিং * সামাজিক নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা * প্রকল্প ব্যয়ের অনলাইন প্রকাশ   অভিযোগের পরও নীরবতা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, এত গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা রহস্যজনক। একজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “এত অভিযোগ ওঠার পরও যদি তদন্ত না হয়, তাহলে মানুষের বিশ্বাস থাকবে কোথায়?” আরেকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন, “সবাই জানে কী হচ্ছে, কিন্তু কেউ ব্যবস্থা নেয় না—এটাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়।” মাঠপর্যায়ে বাস্তবতা যাচাইয়ের দাবি স্থানীয়দের দাবি, কাগজে-কলমে দেখানো প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করা হোক। বিশেষ করে টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে— অনেক কাজ বাস্তবে হয়নি, নিম্নমানের কাজ দেখিয়ে বিল তোলা হয়েছে, প্রকৃত শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হয়েছে। একজন তরুণ সমাজকর্মী বলেন, “প্রশাসন চাইলে এক সপ্তাহের মধ্যে সব সত্য বের হয়ে আসবে—শুধু সদিচ্ছা দরকার।” সম্পদ তদন্তের দাবি জোরালো এইচ এম আনসারের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, আয়কর নথি যাচাই, ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণ, সম্পত্তির উৎস অনুসন্ধান —এসবের মাধ্যমে সহজেই সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। একজন আইনজীবীর ভাষায়, “দুর্নীতি দমন কমিশন চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করতে পারে। এখানে অভিযোগের গুরুত্ব অনেক বেশি।” কী হতে পারে পদক্ষেপ সম্ভাব্য ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি: স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন প্রকল্পভিত্তিক অডিট সংশ্লিষ্টদের সাময়িক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি জনসাধারণের জন্য প্রকল্প তথ্য উন্মুক্ত করা জনআস্থার সংকট স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একজন শিক্ষক বলেন, “উন্নয়নের টাকা যদি লুটপাট হয়, তাহলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষই।” কোটালীপাড়ার উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন শুধু একটি প্রশাসনিক ইস্যু নয়—এটি জনআস্থা, সুশাসন এবং জবাবদিহিতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।    পরবর্তী পর্বে কী থাকছে? পরবর্তী পর্বে অনুসন্ধান করা হবে— * প্রকল্পের অর্থ প্রবাহের প্রকৃত চিত্র * কোন পর্যায়ে সিদ্ধান্তে অনিয়ম হচ্ছে * এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা কতটা দায়ী   কোটালীপাড়ার উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে অভিযোগ এখন আর শুধু অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি একটি কাঠামোগত প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে যদি জবাবদিহিতা না থাকে, তাহলে উন্নয়নের প্রকৃত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছায় না—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
কোটালীপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচ এম আনসার
কোটালীপাড়ার পিআইও আনসারের সম্পদের পাহাড় বরিশাল ও ঢাকায়

মামুনুর রশীদ নোমানী : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম আনসার। নামে বেনাসে সম্পদের পাহাড়।বরিশালে জমি,ফ্লাট,ঢাকায় ফ্লাট,প্রায় দুই শত ভরি স্বর্ন, গাড়িসহ রয়েছে ঢাকা,বরিশাল ও বাকেরগঞ্জে জমি। বরিশালের প্রান কেন্দ্র সদর রোডের একটি বহুতল ভবনেও রয়েছে তার ফ্লাট। তার  আত্মীয় জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হওয়ায় দুর্নীতি করে পার পেযে যাচ্ছেন বার বার।   “১৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ”—স্থানীয়দের অভিযোগ স্থানীয় একাধিক ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের দাবি, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে অর্থ কেটে রাখা হয়। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পভেদে ১৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ “অফিস খরচ” বা অনানুষ্ঠানিক খাতে দিতে হয়। একজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রকল্প শেষ করার পর বিল নিতে গেলে পুরো টাকা পাওয়া যায় না। বিভিন্ন খাতে কেটে রাখা হয়।” আরেকজন জনপ্রতিনিধির দাবি, “কাজ ঠিকমতো করলেও একটি নির্দিষ্ট অংশ দিতে হয়, না দিলে বিল পেতে সমস্যা হয়।”   টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ কোটালীপাড়া উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ দুটি কর্মসূচি—টিআর ও কাবিখা—নিয়ে বিশেষ অভিযোগ উঠেছে। সূত্রগুলোর দাবি, কিছু প্রকল্প বাস্তবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে, প্রকল্প সভাপতি ও দপ্তরের মধ্যে যোগসাজশে অর্থ বণ্টন হয়েছে, শ্রমভিত্তিক প্রকল্প হলেও প্রকৃত শ্রমিকরা পুরো সুবিধা পাননি। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “কাগজে কাজ হয়, কিন্তু মাঠে আমরা অনেক সময় তার অস্তিত্ব দেখি না।”   “কাজের আগে টাকা”—একটি অভিযোগ একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বা চলাকালে অর্থ লেনদেন একটি অনানুষ্ঠানিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করে বলেন, “কিছু না দিলে ফাইল এগোয় না—এটাই বাস্তবতা হয়ে গেছে।” মেরামত ও সংস্কারের জন্য সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার বরাদ্দ অর্থের বেশির ভাগ তছরুপ হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কোটালীপাড়া পজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের একাংশ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। বেশির ভাগ কাজ না করে পিআইও মাধ্যমে ভাগ বাটোয়ারা হয়ে থাকে। কোটালীপাড়া উপজেলার অনুকূলে বরাদ্দ অর্থ সমন্বয় কমিটির সভার মাধ্যমে বণ্টন হয় বিভিন্ন ইউনিয়নভুক্ত এলাকার প্রকল্পের নামে। যা বাস্তবায়নের দায়িত্বে জনপ্রতিনিধিরা থাকলেও দেখাশোনার দায়িত্ব থাকে কোটালীপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ওপর।  প্রকল্প কাগজকলমে থাকলেও এগুলো বাস্তবে মাঠে হদিস খুঁজে পাচ্ছে না। এসব প্রকল্পের নামের তালিকা কাজগুলো কোটালীপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ভুয়া বিল জমা দিয়ে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেন পিআইও।   বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগ তছরুপ হচ্ছে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে   কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নভুক্ত মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট স্থাপন, মেরামত ও সংস্কারের জন্য সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগ তছরুপ হচ্ছে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে।দেশের তৃণমূলে উন্নয়ন ও দরিদ্রদের সহায়ক হিসেবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার নানা অর্থ বরাদ্দ হয় উপজেলায়। উন্নয়নের জন্য ত্রাণ, দুর্যোগ ও পুনর্বাসন এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) উপজেলা পর্যায়ে থোক বরাদ্দ, সাধারণ ও বিশেষ নামে পরিচিত।অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা বা কাবিখা কর্মসূচির আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে কাবিটা,গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচি,  গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা বা কাবিটা কর্মসূচির আওতায় তৃতীয় পর্যায়ের কাবিটা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।  ইউনিয়ন পর্যায়ে বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্প তালিকা জমা দেন।কয়েকজন সদস্য বলেন, তারা প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করে বিলের জন্য পিআইও অফিস থেকে নগদ টাকা বিল নিয়ে যান। অফিস খরচ বাবদ ১৯ শতাংশ টাকা কম দেওয়া হয় । সদস্য বলেন, একটি প্রকল্পে আমাকে বরাদ্দ দেয়। বিল পিআইও অফিস থেকে নগদ টাকায় দিয়েছে। বাকি টাকা খরচ হিসেবে কেটে রাখা হয়েছে।     উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোটালীপাড়ায় নিয়মিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য থাকে: গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জরুরি সংস্কার কাজ।   গ্রামীণ অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে টিআর ও কাবিখার প্রকল্পের কাজ না করেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনায় উপজেলাজুড়েই ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নিজেদের মধ্যে যোগসাজশে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।   কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের একটি অংশ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। কোটালীপাড়া  উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন এইচ এম আনসার এর যোগদান করার পর টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। আগে টাকা পরে কাজ, সঠিক কাজ করলে ২০ ভাগ ঘুষ দিতে হবে, না দিলে হয়রানির শিকার হতে হয়। আর সরকারি প্রকল্পে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুস নেওয়ার অভিযোগের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন ইউপি মেম্বার চেয়ারম্যানরা। বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি বরাদ্দের টাকা নয়ছয় করা হচ্ছে।   সম্পদ গঠনের অভিযোগ নামে ও আত্মীয়দের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে জমি, ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য সম্পদ রয়েছে।বরিশালে জমি,ফ্লাট,ঢাকায় ফ্লাট,প্রায় দুই শত ভরি স্বর্ন, গাড়িসহ রয়েছে ঢাকা,বরিশাল ও বাকেরগঞ্জে জমি। বরিশালের প্রান কেন্দ্র সদর রোডের একটি বহুতল ভবনেও রয়েছে তার ফ্লাট।বরিশাল নগরীর চৈতন্য স্কুল এলাকায় রয়েছে জমি ও ফ্লাট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ যাচাই করতে আয়কর নথি, সম্পত্তি রেকর্ড ও ব্যাংকিং তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন।   প্রশাসনিক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন এতগুলো অভিযোগের পরও কোনো দৃশ্যমান তদন্ত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। একজন স্থানীয় নাগরিক বলেন, “অভিযোগ বহুদিনের, কিন্তু কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।”   বিশেষজ্ঞদের মতামত সুশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে: ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা, প্রকল্প তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা, সামাজিক নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা, নিয়মিত নিরপেক্ষ অডিট করা। তাদের মতে, জবাবদিহিতা না থাকলে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ে।   কোটালীপাড়া উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। অভিযোগের ব্যাপারে  কোটালীপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচ এম আনসার এর সরকারি ও নিজস্ব মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি  রিসিভ করেন নি।ফলে তার বক্তব্য দেযা সম্ভব হয়নি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
হাসপাতালে ঢুকে রোগীকে কুপিয়ে জখম
গোপালগঞ্জে হাসপাতালে ঢুকে রোগীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন এক রোগীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত রাসেল বিশ্বাস (২৫) উপজেলার বর্ষাপাড়া গ্রামের জামাল বিশ্বাসের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জামাল বিশ্বাসের সঙ্গে তার ভাই পান্না বিশ্বাসের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে পান্না বিশ্বাসের লোকজন রাসেল বিশ্বাসকে মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাসেলকে দেখতে এসে পুনরায় হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় শাওন বিশ্বাস, বাবু বিশ্বাস, মানিক বিশ্বাস, অনিক বিশ্বাস ও হাফিজুর বিশ্বাস ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আহতের ভাই রবিউল বিশ্বাস জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রথমে তাকে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পরও হামলাকারীরা ক্ষান্ত হয়নি, আবারও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অভিযুক্ত পান্না বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। কোটালীপাড়া থানার এসআই সুব্রত মালো জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0