ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই নরসিংদীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গুরুতর প্রশাসনিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় একাধিক পরীক্ষার্থীর হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ মিনিট পর ভুলটি ধরা পড়লে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, হারিয়ে যাওয়া সময়ের কোনো ক্ষতিপূরণ তারা পাননি। ঘটনার পর কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের অধীন নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারের ২০১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ১৫ মিনিট পর ধরা পড়ে ভুল কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কিছু শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাদের হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এরপর নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা অব্যাহত রাখা হলেও পরীক্ষার্থীদের দাবি, ভুলের কারণে নষ্ট হওয়া সময়ের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। তবে কোনো শিক্ষার্থীই পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি। ওই কক্ষে মোট কতজন পরীক্ষার্থী ছিলেন, তাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। 'বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর' কেন্দ্রসচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "২০১ নম্বর কক্ষে ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর।" তিনি জানান, ঘটনার প্রাথমিক দায়ে প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়া ও কেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অধ্যক্ষের ভাষ্য, তদন্ত শেষে লিখিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত এইচএসসি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাসেদুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি নিজেই কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনাটি যাচাই করেছেন। তার ভাষায়, "ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" কত শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন? জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক জানান, মূল কেন্দ্রের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারে পরীক্ষায় অংশ নেন। এদিকে জেলা শিক্ষা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নরসিংদী জেলায় মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা মিলিয়ে ৩১টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ১৬৮ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ২১৪ জন। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ঘটনাটি শুধু মানবিক ভুল, নাকি প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় আরও বড় ধরনের ত্রুটির ইঙ্গিত—তা এখন তদন্তের বিষয়। তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে— কেন ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকক্ষে পৌঁছালো? প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্বে কারা ছিলেন? ভুল শনাক্ত হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন? এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নে কোনো প্রভাব পড়বে কি না? শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না? প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর মিলতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নরসিংদীর কান্দাইল মৌজায় রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই “পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী” নামে একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ল্যান্ড ডেভেলোপার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক হাজার একর জমি জবরদখল করে গড়ে ওঠা এ প্রকল্পে সরকারি খাস জমি, অর্পিত সম্পত্তি, খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট করা হয়েছে অবৈধভাবে। প্রকল্পটির বিরুদ্ধে জলাধার সংরক্ষণ আইনে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। আদালত প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি সেই নির্দেশ অমান্য করে প্রকল্প সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস হয়ে পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লীর মহাব্যবস্থাপক মফিজুর রহমান মফিজ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “রাষ্ট্রের সকল নিয়ম-কানুন মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।” অন্যদিকে রাজউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “আমার জানামতে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী একটি অবৈধ আবাসন প্রকল্প। এতে রাজউকের কোনো অনুমোদন নেই। প্রতিষ্ঠানটিকে সকল অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, সরকারি খাল, জলাশয় ও তিন ফসলি জমি ভরাটের দায়ে প্রকল্প এলাকায় একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থদণ্ড এবং জলাধার আইনে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়েছে। জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচল প্রবাসী পল্লীর চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখল, বালু ভরাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা রাজউক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। বরং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং ৬১২৯/২০১১ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে যে, সংশ্লিষ্ট মৌজায় এককভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের অধিকার তাদের রয়েছে। এ রিটের অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। ব্যারিস্টার আক্তার-উল-আলম বলেন, “উচ্চ আদালতের আদেশের অপব্যবহার এবং আদালত অবমাননার শামিল এমন কর্মকাণ্ড। কোনো ব্যক্তি বিশেষের এককভাবে পুরো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।” সরকার পরিবর্তনের পর ফের সক্রিয় চক্র স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর কিছু সময় আত্মগোপনে থাকলেও ২০২৬ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে সংশ্লিষ্ট চক্রটি। প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তারা পুনরায় জমি দখল ও ভরাট কার্যক্রম শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি মাধবদী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় প্রশাসনকে প্রবাসী পল্লীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তার অনুরোধ জানানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে পুনরায় উল্লেখ করা হয় রিট পিটিশন নং ৬১২৯/২০১১। এছাড়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার একটি তদন্তে অভিযোগ ওঠে, স্বল্প পরিমাণ জমি ক্রয়ের বিপরীতে পাঁচ থেকে ছয় হাজার প্লট বিক্রির মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের ঘটনা ঘটেছে। আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ গত ২ অক্টোবর ২০২৪ দায়ের হওয়া দেওয়ানি মামলা নং ১২১/২০২৪-এ নরসিংদীর সদর সহকারী জজ আদালত কান্দাইল মৌজার বিতর্কিত জমিতে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে এখনো সেখানে বালু ভরাট ও উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা ফসলি জমি বালু ফেলে ভরাট করায় এক সময়ের উর্বর কৃষি অঞ্চল এখন ধূধূ বালুচরে পরিণত হয়েছে। কৃষকদের দুর্দশা কান্দাইল গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা রতন মিয়া, মানিক ও সাইদুল ইসলাম জানান, একসময় এ এলাকায় ধান, গম, পাট, শাক-সবজি ও নানা কৃষিপণ্যের সমৃদ্ধ উৎপাদন ছিল। এখন সেখানে ফসল জন্মায় না। ফলে শত শত কৃষক পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, “একাধিক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও এই শক্তিশালী ভূমিদস্যু চক্রকে থামানো যায়নি। হাজার হাজার প্রবাসীর কাছ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।” ভুক্তভোগী হারুন মিয়া জানান, “অনেক প্রবাসী গ্রাহক ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করেও বছরের পর বছর প্লট বুঝে পাননি। অনেকে অপেক্ষা করতে করতে মৃত্যুবরণ করেছেন।” স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষকদের কাছ থেকে অস্থায়ীভাবে জমি ভাড়া নিয়ে সেখানে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্লট বিক্রির নামে প্রতারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও কালো টাকা বিনিয়োগের অভিযোগ স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, প্রকল্পটির সঙ্গে সাবেক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির বিনিয়োগ রয়েছে এ প্রকল্পে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় ১৭ বছর ধরে “প্রবাসী পল্লী” প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভনের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষা ও গণমাধ্যম গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানকে তার নিজ গ্রাম নরসিংদীর শিবপুরে দাফন করা হয়েছে। সোমবার (১০ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে, তার মা খালিকা আক্তারের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার রাতে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে তিনি স্ট্রোক করেছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাসায় ফিরেছিলেন। কিন্তু রবিবার রাতে হঠাৎ আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গন, শিক্ষা মহল এবং নাগরিক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নরসিংদীতে শেষ বিদায় সোমবার দুপুরে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জানাজায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ এবং এলাকাবাসী অংশ নেন। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান খান, শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হারিস রিকাবদার এবং সাধারণ সম্পাদক আবু ছালেক রিকাবদার। এছাড়াও নরসিংদী আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল হান্নান ভূঁইয়া, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম শাহজাহানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। “তিনি ছিলেন নেতার নেতা” জানাজায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, “সাখাওয়াত আলী খান অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী এবং গুণী একজন বুদ্ধিজীবী ছিলেন। তিনি ছিলেন নেতার নেতা—এ কথা অনেকেই হয়তো জানেন না। তার মেধা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “শুধু ধানুয়া বা শিবপুর নয়, তিনি পুরো বাংলাদেশের কৃতী সন্তান। সাংবাদিকতা করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং কলামিস্ট হিসেবেও তার লেখনী ছিল অত্যন্ত ক্ষুরধার। অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন তিনি।” অন্যদিকে সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী বলেন, “আমরা দোয়া করি, আল্লাহপাক দুনিয়াতে সাখাওয়াত আলী খান স্যারকে যে সম্মান দিয়েছেন, আখিরাতেও তাকে সেই সম্মান দান করুন। তার জীবনের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তার ভালো কাজগুলো কবুল করুন।” মুক্তিযুদ্ধের সময় আশ্রয়স্থল বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান খান বলেন, “আমরা একজন অভিভাবক হারালাম। সক্রিয় রাজনীতি না করলেও তিনি ছিলেন বিচক্ষণ বামপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার এই বাড়ি আমাদের আশ্রয়স্থল ছিল।” তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছিলেন। পরিবারের শোক জানাজায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মরহুমের ছেলে নওশাদ আলী খান বলেন, “বাবা আমাদের ছায়া ছিলেন। যদি কারও মনে তিনি কষ্ট দিয়ে থাকেন, ক্ষমা করে দেবেন। তার জন্য দোয়া করবেন। আর যদি কারও কোনো পাওনা থেকে থাকে, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।” তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী সমাজকর্মী মালেকা খান, মেয়ে সুমনা শারমীন এবং ছেলে নওশাদ আলী খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সহকর্মীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে তার মরদেহ নিজ জেলা নরসিংদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সাংবাদিকতা থেকে শিক্ষকতা সাখাওয়াত আলী খান ১৯৪১ সালে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশাগত জীবন শুরু করেন সাংবাদিকতা দিয়ে। প্রায় এক দশক দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তাকে সাংবাদিকতা শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার সুযোগ করে দেয়। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং দীর্ঘ সময় সেখানে শিক্ষকতা করেন। ২০০৮ সালে তিনি অবসরে গেলেও পরবর্তী পাঁচ বছর “সুপারনিউমারারি” অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ওই বিভাগের অনারারি প্রফেসর হিসেবে যুক্ত ছিলেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও নাগরিক সংগঠনে ভূমিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও তিনি দেশের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নয়, নাগরিক সমাজেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট নামের একটি সামাজিক সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন। সাংবাদিকতা শিক্ষায় অবদান বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বিকাশে সাখাওয়াত আলী খানের অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তার সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করার সময় তিনি সংবাদ বিশ্লেষণ, গণমাধ্যম নীতি এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ বিষয়ে গবেষণা ও পাঠদান করেছেন। তার শিক্ষার্থীদের অনেকেই বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিতি যদিও তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তার পরিচিতি ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র, গণমাধ্যম স্বাধীনতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ে তার বিশ্লেষণ ও মতামত বিভিন্ন সময় আলোচিত হয়েছে। তার সহকর্মীরা বলেন, তিনি বামঘেঁষা প্রগতিশীল চিন্তাধারার একজন বুদ্ধিজীবী ছিলেন, যিনি গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলতেন। একজন শিক্ষক, সাংবাদিক ও চিন্তাবিদ সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মতে, সাখাওয়াত আলী খান ছিলেন একজন শিক্ষক, সাংবাদিক এবং চিন্তাবিদ—এই তিন পরিচয়ের সমন্বয়। তার শিক্ষকতা, লেখালেখি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড তাকে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার মৃত্যুতে শুধু একজন শিক্ষাবিদ নয়, বরং সাংবাদিকতা শিক্ষা ও গণমাধ্যম চিন্তার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে মনে করছেন অনেকেই।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় গোষ্ঠীগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জেরে উভয়পক্ষের নারীসহ অন্তত আটজন আহত হন এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এলাকার এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন এরশাদ মিয়া। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চাইনা গুলি ছোড়েন। এতে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, সকালে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। তখন হঠাৎ গুলি এসে লাগে। আমরা কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নই। যারা আমার বুক খালি করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিম নামে এক কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায় তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং গুলিটি শরীর ভেদ করে বের হয়ে গেছে। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। রায়পুরা থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।