ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের "বিধ্বস্ত অর্থনীতি" পুনরুদ্ধারের একটি বাস্তবভিত্তিক রূপরেখা হিসেবে অভিহিত করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য, কঠিন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করবে। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। আলোচনায় আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে চীন সফরকে তিনি উচ্চ পর্যায়ের সফল সফর হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। এ উপলক্ষে তিনি সংসদ এবং দেশবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমান সংসদের অধিকাংশ সদস্য অতীত সরকারের আমলে মামলা, কারাবাস, হয়রানি ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই তারা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের প্রথম চার মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, এরই মধ্যে কাবিখা, কাবিটা, টিআর এবং ভিজিএফ কর্মসূচির বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনালয়ের অনুদান, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, পাদ্রী ও ভান্তেদের ভাতা, বয়স্ক, বিধবা, মাতৃত্বকালীন ও প্রতিবন্ধী ভাতা, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি। আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এ ধরনের বাজেট প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সময়োপযোগী বাজেট উপস্থাপন সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিফলন। তবে সংসদে দেওয়া এসব বক্তব্য সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্যায়নের অংশ। প্রস্তাবিত বাজেটের কার্যকারিতা, রাজস্ব আহরণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো সূচকগুলো আগামী অর্থবছরে বাস্তবায়নের অগ্রগতির মাধ্যমে মূল্যায়িত হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা বলা হয় তৈরি পোশাক শিল্পকে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। কিন্তু গত কয়েক মাসে গাজীপুর, সাভার ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে একের পর এক কারখানা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত কি গভীর সংকটে পড়েছে? অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, বাস্তবতা একমাত্রিক নয়। একদিকে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। অন্যদিকে একই সময়ে নতুন কারখানা চালু হয়েছে, নতুন বিনিয়োগ এসেছে এবং রপ্তানি আয়ও বেড়েছে। ফলে প্রশ্নটি এখন শুধু সংকটের নয়; বরং শিল্পটির কাঠামোগত রূপান্তরও কি ঘটছে? ঈদের পর নতুন করে আলোচনায় কারখানা বন্ধ কোরবানির ঈদের পর পোশাক শিল্পাঞ্চলে ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে এসে তারা জানতে পারেন তাদের চাকরি নেই। অন্যদিকে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক ও কর্মচারী একসঙ্গে কর্মহীন হয়েছেন। শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাকরি হারানোর পর তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সংসার চালানো, সন্তানদের শিক্ষাব্যয় এবং বাসাভাড়া পরিশোধ নিয়ে। তিন বছরে বন্ধ প্রায় ৪০০ কারখানা বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, অনেক কারখানা এখনও আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে। কারখানা মালিকদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠান এখন পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। উৎপাদন কমলেও ব্যাংকঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল, ভাড়া এবং প্রশাসনিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে নিয়মিত। ফলে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছে। কিন্তু একই সময়ে নতুন কারখানাও আসছে সংকটের এই আলোচনার মাঝেই ভিন্ন এক চিত্র উঠে এসেছে। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৫ মাসে সংগঠনটির নতুন সদস্য হয়েছে ১২৮টি কারখানা। একই সময়ে বন্ধ হয়েছে ১১৩টি কারখানা। নতুন কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষের। অন্যদিকে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর কারণে চাকরি হারিয়েছেন ৯৬ হাজার ১০৪ শ্রমিক। অর্থাৎ কর্মসংস্থানের হিসাবে এখনও প্রায় ২২ হাজার মানুষের নিট কর্মসংস্থান ঘাটতি রয়ে গেছে। তবে শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান আরেকটি বাস্তবতাও তুলে ধরে—শিল্পটি পুরোপুরি সংকুচিত হচ্ছে না; বরং পুরোনো ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানের জায়গায় নতুন বিনিয়োগ এবং নতুন ধরনের উৎপাদন কাঠামো গড়ে উঠছে। কেন বন্ধ হচ্ছে কারখানা? খাত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে চারটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে। ১. আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ায় ক্রয়াদেশের প্রবৃদ্ধি আগের মতো নেই। ২. উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ডলারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয় এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ উৎপাদন ব্যয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ৩. শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি নতুন মজুরি কাঠামো এবং নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক হলেও উৎপাদনশীলতা সমান হারে না বাড়ায় দুর্বল কারখানাগুলো অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছে। ৪. ঋণ ও তারল্য সংকট অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে রয়েছে। ফলে ব্যাংকঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে তারা উৎপাদন কমাচ্ছে অথবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে। বেক্সিমকো থেকে কেয়া: বড় গ্রুপও চাপের মুখে সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপের ২৪টি, কেয়া গ্রুপের ৪টি এবং টিএনজেড গ্রুপের ৪টি প্রতিষ্ঠান। বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ১৪টি কারখানা বন্ধের ঘটনা। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৩ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে সংকট কেবল ছোট কারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোকেও আর্থিক ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ কোথায় যাচ্ছে? অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগের ধারা বলছে, উদ্যোক্তারা এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন সদস্য হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে একেএইচ আউটওয়্যার, এজেড কম্পোজিট, নেক্সটন, এলএসএ অ্যাপারেলস, সিটেক ফ্যাশন, সুপ্রিম আউটফিট এবং স্প্যারো গ্রিনটেক। তবে নতুন ১২৮ কারখানার মধ্যে মাত্র ১৮টিতে শ্রমিক সংখ্যা এক হাজারের বেশি। অর্থাৎ নতুন বিনিয়োগের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে একই পরিমাণ উৎপাদনের জন্য তুলনামূলক কম শ্রমিকের প্রয়োজন হতে পারে। রপ্তানি আয় কিন্তু বাড়ছে কারখানা বন্ধের খবরের বিপরীতে রপ্তানি আয়ের চিত্র তুলনামূলক ইতিবাচক। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ২৫ কোটি ডলার। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ কর্মসংস্থান ও কারখানা সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা পুরোপুরি কমে যায়নি। ৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা: বাস্তবায়ন কোথায়? বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা তারল্য সংকট। তিনি মনে করেন, রুগ্ন ও বন্ধপ্রায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা তহবিল এখনও কার্যকর না হওয়ায় অনেক কারখানা প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করে সহায়তা দেওয়া না হলে আগামী মাসগুলোতে আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংকট, নাকি শিল্পের পুনর্গঠন? তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে দ্বৈত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে শ্রমিক ছাঁটাই, কারখানা বন্ধ, ঋণ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয়ের চাপ রয়েছে। অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও দেখা যাচ্ছে। ফলে বিষয়টি শুধু শিল্প সংকটের নয়; বরং শিল্পের পুনর্গঠন এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি পর্যায়ও হতে পারে। তবে এই রূপান্তরের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন শ্রমিকরাই। কারণ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ থাকলেও চাকরি হারানো হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য বর্তমান বাস্তবতা হলো অনিশ্চয়তা, আয়হীনতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—শিল্পের এই রূপান্তর কি কর্মসংস্থান রক্ষা করে এগোবে, নাকি আরও হাজারো শ্রমিককে কর্মহীন করে নতুন ভারসাম্য খুঁজবে? সেটিই নির্ধারণ করবে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাতের আগামী পথচলা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)কে ভেঙে নতুন কাঠামোয় সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এই সংস্কারের আওতায় করনীতি প্রণয়ন এবং রাজস্ব প্রশাসনের দায়িত্ব পৃথক দুটি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকার বলছে, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণে দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—এনবিআরের বিদ্যমান কাঠামোতে এমন কী সমস্যা রয়েছে, যার কারণে এই বড় ধরনের পুনর্গঠনের প্রয়োজন দেখা দিল? রোববার (২১ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। কেন ভাঙা হচ্ছে এনবিআর? বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এনবিআর একইসঙ্গে করনীতি প্রণয়ন এবং সেই নীতির বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে আসছে। অর্থনীতিবিদ ও কর বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, একই প্রতিষ্ঠানের হাতে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকারিতার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অর্থমন্ত্রীও সেই সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, "এনবিআর এমন একটি সমস্যা, যা আমাদের সমাধান করতে হবে। আমরা এটিকে দুই ভাগে ভাগ করতে যাচ্ছি। নীতি নির্ধারণের জন্য একটি আলাদা বডি এবং ব্যবস্থাপনার জন্য আরেকটি আলাদা বডি থাকবে।" সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি স্বাধীন রাজস্ব নীতি বিভাগ করনীতি প্রণয়ন করবে। অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ সেই নীতির বাস্তবায়ন, তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য? কর প্রশাসন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পৃথক করলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা বাড়ে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নত হয়। সরকারও মনে করছে, নতুন কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের কর প্রশাসন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের রাজস্ব খাতকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে। নীতিনির্ধারণে আমলাতন্ত্রের বাইরে কারা আসবেন? প্রস্তাবিত সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো করনীতি প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র আমলাদের ওপর নির্ভর না করা। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কর বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হবে। তার ভাষায়, "নীতি নির্ধারণী পর্যায় আমলাদের দ্বারা পরিচালিত হতে যাচ্ছে না। আমরা চাই কর বিশেষজ্ঞ এবং যারা বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষকে বোঝেন, তারা নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আসুক।" কর ব্যবস্থার মূল দুর্বলতা কোথায়? অর্থমন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশের কর প্রশাসনের বড় সংকটগুলোর একটি হলো দুর্বল নীতি প্রণয়ন। সঠিক সময়ে বাস্তবসম্মত এবং কার্যকর নীতি গ্রহণ করা না গেলে প্রশাসনিক পর্যায়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়। তিনি বলেন, "শুরুতেই যদি নীতি নির্ধারণের জায়গাটি ঠিক করা যায়, তাহলে সমস্যার অন্তত ৫০ শতাংশ সমাধান হয়ে যায়।" এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সরকার প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি করনীতির দর্শন ও প্রণয়ন প্রক্রিয়াকেও পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে। কী পরিবর্তন আসতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যেতে পারে— করনীতি প্রণয়নে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি পাবে। নীতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত কমবে। রাজস্ব প্রশাসনে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়বে। করদাতাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। রাজস্ব আহরণে দক্ষতা বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘদিনের নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। এনবিআর পুনর্গঠনের এই ঘোষণা দেশের রাজস্ব খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য আইনগত, প্রশাসনিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—সরকার কর প্রশাসনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিতে চাইছে। সেই সংস্কার কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নতুন কাঠামোর স্বাধীনতা, দক্ষতা এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলন, নগদ অর্থের চাহিদা বৃদ্ধি এবং আস্থাজনিত চাপের মুখে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংকের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে শাখা ও এটিএম নেটওয়ার্কে নগদ অর্থের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকটি সাময়িক তারল্য চাপে পড়ে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে—এই সহায়তা কি শুধুই সাময়িক নগদ সংকট মোকাবিলার পদক্ষেপ, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর উদ্বেগ? কেন প্রয়োজন হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা? ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি সরাসরি দেউলিয়াত্বের সংকেত নয়। বরং এমন পরিস্থিতি, যেখানে একটি ব্যাংকের সম্পদ ও বিনিয়োগ পর্যাপ্ত থাকলেও স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক অর্থ উত্তোলন করতে চাইলে নগদ অর্থের চাপ তৈরি হয়। গত কয়েক সপ্তাহে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা পর্ষদ এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা, সমালোচনা ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে আমানতকারীদের আচরণে। সূত্রগুলো বলছে, অনেক গ্রাহক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে একযোগে অর্থ উত্তোলন শুরু করেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাংকটি থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছিল বলে জানা গেছে। তারই অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে আড়াই হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। শুধু নগদ অর্থ নয়, আস্থার বার্তাও বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের অর্থ কেবল নগদ অর্থ সরবরাহ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক মূলত বাজার ও আমানতকারীদের কাছে একটি বার্তা দিতে চেয়েছে—দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংককে ঘিরে কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, ব্যাংকিং খাতে আস্থা অনেক সময় মূলধনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে একটি সুস্থ ব্যাংকও তারল্য সংকটে পড়তে পারে। সেই বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপকে অনেকেই ‘কনফিডেন্স সাপোর্ট’ বা আস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা কী বলে? বাংলাদেশ ব্যাংক অতীতেও বিভিন্ন ব্যাংককে রেপো সুবিধা, বিশেষ তারল্য সহায়তা এবং অন্যান্য আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নগদ অর্থ সরবরাহ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, সুশাসনের ঘাটতি এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একাধিকবার বাজারে তারল্য সহায়তা দিতে হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারল্য সহায়তা কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। এটি মূলত তাৎক্ষণিক চাপ মোকাবিলার একটি উপায়। সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতিবিদদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার। যদি আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ অব্যাহত থাকে এবং অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা কমে না আসে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও তারল্য সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকটির নতুন পরিচালনা কাঠামো, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকসেবার মান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ আমানতভিত্তিক ব্যাংক। ফলে এর স্থিতিশীলতা সরাসরি বাংলাদেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের ওপর প্রভাব ফেলে। সংকট কি কাটবে? আড়াই হাজার কোটি টাকার সহায়তার ফলে স্বল্পমেয়াদে শাখা ও এটিএমে নগদ অর্থ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মূল প্রশ্ন রয়ে গেছে—গ্রাহকদের আস্থা কত দ্রুত ফিরবে? কারণ ব্যাংকিং খাতে ইতিহাস বলছে, তারল্য সংকটের চেয়ে আস্থার সংকট মোকাবিলা অনেক বেশি কঠিন। আর ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই আস্থার পরীক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বরিশাল অফিস : বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পের পরিচিত প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধের ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা, ব্যাংক ঋণ, শ্রমিক পাওনা এবং বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর, ভ্যাট ফাঁকি, ব্যাংক ঋণের অপব্যবহার এবং বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি এবং অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই তদন্তাধীন। অলিম্পিক সিমেন্ট বন্ধের পেছনে কী? অলিম্পিক সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কাঁচামাল সংকট, ঋণের চাপ, এলসি জটিলতা এবং ধারাবাহিক ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সংকটের পেছনে শুধু ব্যবসায়িক লোকসান নয়, বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়ম ব্যাংক ঋণ, শ্রমিক পাওনা এবং বিদেশে অর্থপাচারের কারনে। তাদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হতে থাকে। একই সময়ে বাজার থেকে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ, অতিরিক্ত কমিশনের প্রতিশ্রুতি এবং স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল সংগ্রহের মাধ্যমে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হয়। অর্থপাচারের অভিযোগ : একাধিক সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত রহমানের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর ও সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন ব্যবসা, আবাসিক সম্পত্তি এবং বিনিয়োগে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এলসি লেনদেন ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ: কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র অভিযোগ করেছে, বিদেশে প্রতিষ্ঠিত একই নামের কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি ও এলসি লেনদেনে অতিমূল্যায়নের (Over-Invoicing) মাধ্যমে অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে । তদন্ত সংস্থাগুলো এসব অভিযোগ যাচাই করছে বলে জানা গেছে। ভ্যাট ফাঁকি ও শুল্ক জালিয়াতির অভিযোগ: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা গ্রহণ এবং বিপুল অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির সঙ্গে জড়িত । এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য কোম্পানিকে তলব করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ: সম্প্রতি এক প্রবাসী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের পর বিদেশে সম্পদ অর্জন, নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং অর্থ স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমে কোম্পানির অর্থ এবং ব্যাংক ঋণের অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে । কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: কোম্পানির কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধেও অর্থ স্থানান্তরে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ। আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্ট ও অলিম্পিক ফাইবার প্রতিষ্ঠান স্থায়ী ভাবে বন্ধ ঘোষনা অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রির গুঞ্জন এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক চাপ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংকের বিপুল ঋণ বকেয়া থাকার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঋণের চাপ, নতুন এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতার কারণে উৎপাদন বন্ধ ছিল। শ্রমিকদের উদ্বেগ শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলছেন, উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্তের ফলে শত শত শ্রমিক চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। তাদের দাবি, মালিকানা পরিবর্তন হলে নতুন মালিককে শ্রমিকদের চাকরি বহাল রাখতে হবে এবং বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের নিশ্চয়তা দিতে হবে। শ্রমিক নেতাদের মতে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েকশ শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন, যাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে যেসব প্রশ্ন অলিম্পিক সিমেন্টের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; এটি দেশের ব্যাংকিং খাত, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং কর্পোরেট সুশাসন নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। তদন্ত সংস্থাগুলোর সামনে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে— • উৎপাদন বন্ধের কারণ কি শুধুই ব্যবসায়িক লোকসান? • ব্যাংক ঋণের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে? • এলসি লেনদেনে কোনো অনিয়ম বা অতিমূল্যায়ন হয়েছিল কি? • ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তি কতটা শক্তিশালী? • শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা কীভাবে পরিশোধ করা হবে? • অর্থপাচারের অভিযোগের পক্ষে তদন্তকারীরা কী ধরনের তথ্য পেয়েছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে দুদক, আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অন্যান্য তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ওপর। দেশের শিল্পখাতের অন্যতম আলোচিত এই ঘটনাটি ইতোমধ্যেই কর্পোরেট জবাবদিহিতা, ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক তদারকি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন। ▪️ধ্বংস অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড। ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?। ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।
বরিশাল অফিস : ক্রমাগত ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামাল ও এলসি সংকটের কারণে বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমানের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, উৎপাদন বন্ধের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সব শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব শ্রমিক তাদের প্রাপ্য পাওনা যথাযথ সময় পেয়ে যাবেন। আরো উল্লেখ করা হয়,১১ জুন থেকে বন্ধ ঘোষনা করা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা এবং ২৮ এর বিধান অনুসরনপুর্বক অলিম্পিক সিমেন্ট ও অলিম্পিক ফাইবার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল স্তরের শ্রমিক এবং কর্মকর্তা -কর্মচারীদের চাকরি থেকে ছাটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আইন মোতাবেক সকল শ্রমিক,কর্মকর্তা -কর্মচারীদের বিধি মোতাবেক প্রাপ্য পাওনাদি ও ক্ষতিপুরন সম্পুর্ন পরিশোধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আরও পড়ুন: অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রির গুঞ্জন এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ কি আছে শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা এবং ২৮ এর বিধানে : বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৮ ও ২৮(ক)-তে শ্রমিকদের অবসর গ্রহণ এবং প্রাকৃতিক বা নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয়ের কারণে চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের আইনি বিধান রয়েছে。 শ্রম আইন কী বলছে? কোম্পানি কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৮-এর উল্লেখ করলেও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারা ২৮ মূলত শ্রমিকের অবসর গ্রহণের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকদের পাওনা, ক্ষতিপূরণ এবং মালিকের দায়বদ্ধতা শ্রম আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ফলে ছাঁটাই কার্যক্রম আইনসঙ্গত হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে শ্রমিকদের পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে কি না এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না তার ওপর। পাওনাদি পরিশোধ: প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব চাকরির বিধি বা শ্রম আইনের অন্যান্য ধারা অনুযায়ী অবসর গ্রহণকারী শ্রমিকের সব পাওনাদি (যেমন: প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ইত্যাদি) পরিশোধ করতে হবে। ধারা ২৮(ক): নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয়ের কারণে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক ২০১৩ সালের সংশোধনীতে যুক্ত হওয়া এই ধারার বিধানাবলি হলো: জরুরি পরিস্থিতি: আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মহামারি বা মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোনো জরুরি কারণে যদি কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করতে হয় বা উৎপাদন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবে মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে তা সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারণ করবে। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে শ্রমিকের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং মালিকের দায়িত্ব শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। শ্রম আইনের পূর্ণাঙ্গ গেজেট ও ধারাগুলো দেখতে বাংলাদেশ লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ-এর ওয়েবসাইটটি দেখতে পারেন। যে কারনে বন্ধ হল এ্যাংকর সিমেন্ট ও এ্যাংকর সিমেন্ট এর ব্যাগ ফ্যাক্টরী: অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত যোগসাজসে দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে টাকা পাচারের কারনে লোকসানের মুখে পড়ে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। কোম্পানীর মালিক কর্তৃপক্ষ বিদেশে টাকা পাচারের তথ্য পিএস নিলুফা,পিএস জুয়েল,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট অফিসার মোস্তফা, সিওও শাহিদ উদ্তিন জেনে যাওয়ায় তারা কোম্পানী থেকে একেকজন শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। ফলে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে এ্যাংকর সিমেন্ট। ২০২৩ সাল থেকে ঋনের কিস্তি দিতে না পেরে এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ মার্কেট থেকে ডিলার,রিটেইলার ও ক্রেতাদের অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার লোভ দেখিয়ে অর্থ নিয়ে লোকাল মার্কেট থেকে ক্লিংকার,স্লাগ,জিপসাম,লাইমস্টোন ও ফ্লাই এ্যাশ সংগ্রহ করে সিমেন্ট উৎপাদন করে বাজারে সরবরাহ করতো।ফলে লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট কোম্পানী। ফলে একদিকে ব্যাংকের ঋন শোধ না করায় খেলাপীর লাইনে দাড়ায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। তেমনি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধে ব্যর্থ হয়।কোন ব্যাংক এলপি না খোলায় বিপাকে পরে তারা।কারন কোন ব্যাংকের ঋনের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেনি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড।ইসলামী ব্যাংক পিএলসিসহ অন্যান্য ব্যাংকে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের হাজার কোটি টাকা ঋন রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের ঋন পরিশোধ না করে মনোযোগী হয় বিদেশে কোম্পানী খোলা ও অর্থ পাচারে। অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড দুবাইতে স্বর্নের দোকান,ভিটা বাড়ি ক্রয়,ফুড় ডেলিভারির কোম্পানীসহ একাধিক কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে। এসব প্রতিষ্ঠান দুবাইতে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ লাভের মুখ দেখেনি।তবে তাদের জমি ও মার্কেট রয়েছে। যেভাবে টাকা পাচার করে দুবাইতে : অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত দুবাইতে একই নামে কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশে অবস্থিত অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে পিআই দিত দুবাই থেকে।এদিকে বাংলাদেশে অবস্থিত অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এলসি ওপেন করতো।অতিরিক্ত টাকা এলসির মাধ্যমে পাচার করতো।এছাড়া হুন্ডির মাধ্যমেও তারা শত শত কোটি টাকা পাচার করেছে।অন্য সিমেন্ট কোম্পানীর মালামাল ও অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর মালামাল এ্যাসেসমেন্ট করলেই বেড়িয়ে আসবে প্রতিটি এলসিতে কত ডলার পাচার করেছে।এসব বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে একটি বিশস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ,তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা: ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় কাগজপত্রসহ অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে কাস্টমস,ও ভ্যাট বিভাগ। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে এ্যাংকর সিমেন্টের শুল্ক ফাঁকি, ভ্যাট জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে নজরধারী ও তদন্ত শুরু করেছে। বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে। বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা: অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা,দুদকের অনুসন্ধান,ভ্যাট ফাঁকি ও সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ার ফলে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়ায়,ব্যাংক ঋন বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া, ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে তাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।তারা এই তিন দেশের কোন এক দেশে যাবেন বলে সুত্র জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ : সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক প্রবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাত। এরপর থেকেই কোম্পানির অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, জুলিয়া রহমান হুন্ডির মাধ্যমে ও আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ এসেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে। একইসঙ্গে জুলিয়া রহমান অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—৫১ চার্চ স্ট্রিট, সেন্ট জন’স, অ্যান্টিগুয়া। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ: অন্যদিকে আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ। ব্যাংক ঋণ সংকটে ও উৎপাদন বন্ধ: জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঋণের অর্থ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়েছে। বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি: সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত এর বিদেশ গমনের পথ বন্ধ করে তাদের আটক করে এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে দুদক ও ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করলে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা । শ্রমিকদের সাথে প্রতারনা : বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের বরিশালের সমন্বয়ক ড. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘মূলত প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের কর্মচারীদের আন্দোলনের এই নেতা আরো বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। তাই আমাদের দাবি, মালিকানা পরিবর্তন হলে পরবর্তী মালিককে ওই সব শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের পাওনা কতদিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে সে বিষয়েও নিশ্চয়তাও দিতে হবে। এদিকে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্টে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান,কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়ে শ্রমিকদের সাথে প্রতারনা করছে।শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন না করলে কর্তৃপক্ষ দেনা পাওনা পরিশোধ করবেনা। উল্লেখ্য,এ্যাংকর সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,করপোরেট, ঢাকা অফিস ও মার্কেটিং বিভাগে প্রায় ৬০০ কর্মকর্তা,কর্মচারী ও শ্রমিক কর্মরত রয়েছে।করোনার সময়ে অসংখ্য শ্রমিক ছাটাই করে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ধাপে ধাপে আরো শত শত শ্রমিক ছাটাই করে দেনা পাওনা পরিশোধ না করেই। সামনে যেসব প্রশ্ন: অলিম্পিক সিমেন্ট বন্ধ শুধু একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বন্ধ নয়; এটি দেশের শিল্পখাত, ব্যাংকিং খাত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। মূল প্রশ্নগুলো হলো— অলিম্পিক সিমেন্ট বন্ধের প্রকৃত কারণ কি শুধুই ব্যবসায়িক লোকসান? ব্যাংক ঋণের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে? এলসি লেনদেনে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি? ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত অভিযোগ? শ্রমিকদের পাওনা ও ক্ষতিপূরণ আদৌ সময়মতো পরিশোধ করা হবে কি? অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সংস্থাগুলো কী তথ্য পেয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে। তদন্তের দাবি: অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত দাবি করেছেন। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও ব্যাংক খাতকে রক্ষা করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের শিল্পখাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ্যাংকর সিমেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নয়; বরং এটি করপোরেট সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনছে। এক কথায় এই অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের গল্প শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পতনের নয়, বরং নৈতিকতার, প্রজ্ঞার, এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এ্যাংকর সিমেন্টে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! বিদেশে সম্পদের পাহাড়, তদন্তে দুদক বরিশালের সিমেন্ট সাম্রাজ্যে ধস: ব্যাংক ঋণ থেকে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি! ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি? এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে তোলপাড় বেতন নেই, উৎপাদন বন্ধ, বিদেশে সম্পদ—সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর শঙ্কা কোম্পানি কর্তাদের সিমেন্ট কোম্পানি নাকি অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাই-লন্ডন-নিউইয়র্কে সম্পদ, দেশে বন্ধ কারখানা! প্রশ্নের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ডিলারদের কোটি টাকা আটকে, তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ও দুদক আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন। ▪️ধ্বংস অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড। ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?। ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অন্যতম ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি আবারও তারল্য সংকটের মুখে পড়েছে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অস্থিরতার মধ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকার আমানত উত্তোলন হয়েছে বলে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর প্রভাবে বাধ্যতামূলক নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংকটি এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছে। ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আমানত উত্তোলনের প্রভাব কতটা? সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর ব্যাংকটিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। এর জেরে উদ্বিগ্ন গ্রাহকদের একটি অংশ গত কয়েক দিনে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আমানত তুলে নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ হিসাব বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত প্রধান বা ‘প্রিন্সিপাল’ অ্যাকাউন্টে জমাকৃত অর্থ দ্রুত কমে এসেছে। আগে সেখানে প্রায় ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকা থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। ওই কর্মকর্তা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার মধ্যে সিআরআর সংরক্ষণ করতে না পারায় ব্যাংকটি এখন ঘাটতির মুখে পড়েছে। কী এই সিআরআর, কেন গুরুত্বপূর্ণ? সিআরআর বা Cash Reserve Ratio হলো গ্রাহকদের আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নগদ হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। এটি ব্যাংকের তারল্য সক্ষমতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কোনো ব্যাংক সিআরআর বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তা সাধারণত তারল্য সংকটের একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও ব্যাংকটির কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলতি হিসাব এখনো ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। ১০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা চাওয়া হয়েছে ব্যাংক সূত্র জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইসলামী ব্যাংক সিআরআর ঘাটতির কারণে তারল্য সহায়তার আবেদন করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পটভূমিতে এস আলম ইস্যু বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক চাপের পেছনে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতাও রয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এস আলম গ্রুপের নামে-বেনামে বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণের অভিযোগে ব্যাংকটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সেই সময় ব্যাংকটির সিআরআর ঘাটতি তৈরি হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলতি হিসাবে প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষণেও ব্যর্থতার ঘটনা ঘটে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। কয়েক মাসের ব্যবধানে সিআরআর ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে পুনরায় অর্থ জমা রাখতে সক্ষম হয়েছিল ব্যাংকটি। চেয়ারম্যান পরিবর্তনের পর নতুন অস্থিরতা গত ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন রাতে সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তার নিয়োগের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন। রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে টানা নবম দিনের মতো বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। সামনে কী ঝুঁকি? ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাহকদের আস্থা ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কোনো ব্যাংককে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আমানতকারীদের আচরণ দ্রুত পরিবর্তিত হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে তারল্য ব্যবস্থাপনায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক কী ধরনের সহায়তা দেয় এবং ইসলামী ব্যাংক কীভাবে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করে—সেটিই এখন ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার প্রধান নির্ধারক হয়ে উঠেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য নিম্নমুখী হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর জন্য জেট এ-১ (Jet A-1) ফুয়েলের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এই মূল্য নির্ধারণের ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয় কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রোববার (৭ জুন) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিইআরসি জানায়, অভ্যন্তরীণ রুটে পরিচালিত এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য জেট এ-১ ফুয়েলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালিত এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ১ দশমিক ০৮২৩ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৯৮০৮ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য প্রতি লিটারে ০.১০১৫ মার্কিন ডলার মূল্যহ্রাস করা হয়েছে। বিইআরসি’র সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, নতুন এই মূল্য ৭ জুন রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। মূল্য কমানোর পেছনে কী কারণ? বিইআরসি বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের মূল্য নির্ধারণে বহুল ব্যবহৃত সূচক ‘প্লাটস রেট’-এর সাম্প্রতিক গড় মূল্য বিবেচনায় নিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২২ মে থেকে ৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের গড় প্লাটস রেট বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) আমদানি ব্যয়, এলসি নিষ্পত্তির সময়কার ডলার বিনিময় হার এবং সরবরাহ ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও এভিয়েশন ফুয়েলের দাম ওঠানামা করায় স্থানীয় বাজারেও সময়ে সময়েই সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। বিইআরসি সেই আন্তর্জাতিক মূল্য প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা করেছে। গণশুনানির পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিইআরসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (পিওসিএল) প্রস্তাবের ভিত্তিতে কমিশন গণশুনানির আয়োজন করে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ৩৪(৪) ও ৩৪(৬) ধারা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত ওই গণশুনানিতে জেট এ-১ ফুয়েলের আন্তর্জাতিক মূল্য, আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং সরবরাহ ব্যয়ের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনা শেষে জুন মাসের জন্য নতুন মূল্য অনুমোদন করে কমিশন। যাত্রীদের জন্য কি সুখবর? বিমান পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যয় সাধারণত মোট পরিচালন ব্যয়ের অন্যতম বড় অংশ। ফলে জেট ফুয়েলের দাম কমলে এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয় কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র জ্বালানির দাম কমলেই সঙ্গে সঙ্গে বিমান ভাড়া কমে যাবে—এমনটি নিশ্চিত নয়। কারণ বিমান সংস্থাগুলোকে বিমান লিজ, রক্ষণাবেক্ষণ, বীমা, বিমানবন্দর চার্জ, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় এবং অন্যান্য পরিচালন খরচও বহন করতে হয়। তবুও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যয় কম থাকলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যাত্রীদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের ইঙ্গিত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জ্বালানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিয়মিত সমন্বয় প্রক্রিয়া চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেট এ-১ ফুয়েলের সর্বশেষ মূল্যহ্রাস সেই নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য স্থিতিশীল থাকলে এবং ডলারের বিনিময় হার বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি না করলে ভবিষ্যতেও এভিয়েশন ফুয়েলের দামে সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে বিমান পরিবহন খাতের ব্যয় কাঠামোতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে এম খুরশীদ আলমের নিয়োগ ব্যাংকিং খাতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জোবায়দুর রহমান-এর পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পরপরই ব্যাংকটির একাংশ গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট মহলে অসন্তোষ দেখা দেয়। ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের উদ্যোগে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীর মতিঝিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে। যে অভিযোগগুলো ঘুরে ফিরে আসছে ব্যাংকিং খাতের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রয় ও সংস্কার কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন এবং বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষায় অভিযোগ ওঠে যে, বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে দরপত্র প্রক্রিয়া এড়িয়ে ব্যয় দেখানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট তদন্তে অন্তত ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়। তদন্তে আরও উঠে আসে, প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ টাকার বিভিন্ন কাজের মধ্যে নির্মাণ ও আসবাবপত্র ক্রয়ে বড় ধরনের আর্থিক অসঙ্গতি ছিল। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। তদন্তের পরও পদোন্নতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ দুটি পৃথক তদন্তে অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পর খুরশীদ আলমকে একসময় বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। তবে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তিনি পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে আসীন হন। সমালোচকদের অভিযোগ, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ডেপুটি গভর্নর হিসেবে বিতর্ক ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে খুরশীদ আলমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সময় দেশের ব্যাংকিং খাত নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর ঋণসংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। সমালোচকদের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে তিনি এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে S Alam Group-কে ঘিরে আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারি ও ব্যাংকিং অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে শুরু হওয়া আন্দোলনের মুখে কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন। আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের একাংশ তাদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী শাসনের সহযোগী এবং দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন। খুরশীদ আলমও সেই পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের অন্যতম ছিলেন। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্যাংকটির কিছু গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, অতীতের অভিযোগগুলো ব্যাংকের ভাবমূর্তি ও গ্রাহক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিক্রিয়া মেলেনি প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম খুরশীদ আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান-এর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন রয়ে গেছে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দীর্ঘদিন ধরে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও আস্থার সংকটে ভুগছে। এমন বাস্তবতায় অতীতে অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত কোনো কর্মকর্তাকে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের নেতৃত্বে বসানো কতটা যৌক্তিক—সে প্রশ্ন এখন ব্যাংকপাড়া ছাড়িয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলোর স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে জনমনে তৈরি হওয়া সংশয় দূর করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মনে করছেন ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকরা। খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর তিনিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাত দিনের টানা সরকারি ছুটির পর আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ফিরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘোষিত দীর্ঘ ছুটির শেষ দিন রবিবার (৩১ মে)। সোমবার থেকে খুলছে সরকারি ও বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের পুঁজিবাজার। এরই মধ্যে রাজধানীমুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা শুরু হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা সাত দিনের অবকাশ উপভোগের সুযোগ পান। ছুটি শেষে এখন প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পুনরায় সচল হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশ। রাজধানীতে ফিরতি যাত্রা, তবে এখনো নেই বড় চাপ ছুটির শেষ দিনে ঢাকার প্রধান প্রবেশপথ এবং কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে কর্মজীবী মানুষের ফেরার চিত্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রেনে করে রাজধানীতে ফিরছেন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য কর্মজীবী মানুষ। রেলস্টেশন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ভোর থেকে একের পর এক ট্রেন ঢাকায় পৌঁছেছে। তবে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত ভিড় বা যাত্রীচাপের দৃশ্য চোখে পড়েনি। অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, এবারের ফিরতি যাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক ছিল এবং বেশিরভাগ ট্রেন সময়সূচি মেনেই চলাচল করেছে। তবে সব রুটে পরিস্থিতি এক ছিল না। নেত্রকোনা, জামালপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের কিছু ট্রেন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তাদের দাবি, একক রেললাইনে একাধিক ট্রেনের ক্রসিংয়ের কারণে এই বিলম্বের সৃষ্টি হয়েছে। ৬৬টি ট্রেনে ফিরছে যাত্রী রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, রবিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ৬৬টি ট্রেন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরবে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৩টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং ২৩টি লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেন। ঈদ-পরবর্তী যাত্রীচাপ সামাল দিতে সোমবার থেকে নিয়মিত ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি প্রতিদিন একটি করে ঈদ স্পেশাল ট্রেনও যুক্ত হবে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদ-পরবর্তী ফিরতি যাত্রা সাধারণত ঈদের আগের যাত্রার তুলনায় বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হয়। ফলে চাপও তুলনামূলক কম থাকে। সড়কপথেও বাড়ছে রাজধানীমুখী চাপ শুধু রেলপথ নয়, সড়কপথেও রাজধানীতে ফেরা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রী নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করছে। নবাবগঞ্জের দোহার থেকে ঢাকায় ফেরা সুমন চৌধুরী বলেন, ছুটির শেষ দিন হওয়ায় তিনি সকালেই রওনা দিয়েছেন, যাতে শেষ মুহূর্তের যাত্রীচাপ এবং সম্ভাব্য পরিবহন সংকট এড়ানো যায়। পাশাপাশি ঢাকায় ফিরে কিছু ব্যক্তিগত কাজও সেরে নিতে চান তিনি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে ঢাকায় ফিরছেন রাজন চক্রবর্তী। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত যাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল এবং বড় ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়নি। তবে রাজধানীতে প্রবেশের মুখে কিছু যানজটের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। খুলছে ব্যাংক, ফিরছে পুঁজিবাজার দীর্ঘ ছুটির কারণে সীমিত আকারে পরিচালিত ব্যাংকিং কার্যক্রমও সোমবার থেকে পূর্ণমাত্রায় শুরু হবে। দেশের সব ব্যাংক স্বাভাবিক লেনদেনে ফিরবে। একই সঙ্গে পুনরায় চালু হবে দেশের দুই প্রধান পুঁজিবাজার— ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এর নিয়মিত লেনদেন। ব্যবসায়ী ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ছুটির পর ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সচল হওয়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আবারও স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনবে। প্রথম কর্মদিবসে কেমন থাকবে কর্মব্যস্ততা? যদিও সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সব অফিস খুলছে, তবুও প্রথম কর্মদিবসে পূর্ণ কর্মব্যস্ততা ফিরে নাও আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতি বছর ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে অনেক কর্মী সহকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ব্যক্তিগত কাজের কারণে ব্যস্ত থাকেন। অনেক প্রতিষ্ঠানও প্রথম দিন সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তবে প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে শুরু করলে রাজধানীসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবে। ঈদুল আজহার দীর্ঘ সাত দিনের ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। ট্রেন ও বাসে ফিরতি যাত্রা এখন পর্যন্ত তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক থাকলেও কিছু রুটে বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে। সোমবার থেকে অফিস-আদালত, ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খুলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আবারও পূর্ণ গতিতে সচল হতে যাচ্ছে।
ঈদের আগে আগুন, ঘাম আর হাতুড়ির শব্দে জেগে ওঠে ঢাকার কামারপাড়া ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার কারওয়ানবাজার ও খিলগাঁওয়ের কামারপট্টিতে এখন যেন সময় চলে অন্য ছন্দে। আগুনের ভাটিতে লোহা গরম হচ্ছে, হাতুড়ির আঘাতে আকার নিচ্ছে ছুরি, দা, চাপাতি আর বটি। কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ব্যস্ততা। বছরের অন্য সময় যেসব দোকানে কাজ চলে ধীরগতিতে, ঈদুল আজহার আগে সেখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থামে না কাজ। ছোট ছোট টিনশেড বা আধাপাকা দোকানের ভেতরে একসঙ্গে কাজ করছেন কয়েকজন কারিগর। কেউ আগুনে লোহা গরম করছেন, কেউ ধার দিচ্ছেন, কেউ আবার শেষ মুহূর্তের পালিশে ব্যস্ত। কারওয়ানবাজারের এক কামার, বিশ্বজিৎ, ঘামে ভেজা শরীরে হাতুড়ি চালাতে চালাতে বলেন, “ঈদের আগে প্রায় এক মাস আমাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। সকাল ৮টা থেকে অনেক সময় রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। এখন প্রতিদিন অন্তত ৫০ থেকে ৬০টা ছুরি ও দা বিক্রি হচ্ছে।” দেশীয় কারিগর বনাম কারখানার পণ্য কামারদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগেও হাতে তৈরি দেশীয় ছুরির চাহিদা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু এখন বাজারে চীনা ও স্টিল কারখানায় তৈরি রেডিমেড পণ্যের আধিপত্য বেড়েছে। তবুও কিছু ক্রেতা এখনো দেশীয় কারিগরদের ওপর আস্থা রাখেন। বিশ্বজিৎ বলেন, “আমাদের তৈরি জিনিস টেকসই হয়। একবার কিনলে কয়েক বছর ব্যবহার করা যায়।” কারওয়ানবাজারের আরেক কামার জামাল জানান, এবারের মৌসুমে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। “লোহার দাম, কয়লার দাম, শ্রমিকের মজুরি—সবই বেড়েছে। তারপরও খুব বেশি দাম বাড়াইনি। কারণ মানুষ এখন হিসাব করে খরচ করছে।” তার দোকানে ছোট ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে, আর বড় ও উন্নত মানের ছুরির দাম উঠছে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। বড় দা বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকায়। শেষ মুহূর্তের ভিড় ও বাড়তি চাপ খিলগাঁওয়ের কামার রহিম উদ্দিন বলেন, ঈদের আগে শুধু নতুন ছুরি বিক্রি নয়, পুরোনো দা ও চাপাতি ধার দেওয়ার কাজও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। “অনেক মানুষ নতুন না কিনে পুরোনো জিনিস ঠিক করেই ব্যবহার করতে চান। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ ধার করাতে আসছেন।” তার ভাষায়, ঈদের আগের দিনগুলোতে দোকানে এত ভিড় হয় যে অনেক সময় বিশ্রামের সুযোগও থাকে না। “অনেকে শেষ মুহূর্তে এসে তাড়া দেন। তখন রাত জেগেও কাজ করতে হয়।” বাড়ছে খরচ, তবুও দেশীয় পণ্যে ভরসা কারওয়ানবাজারে ছুরি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুব হাসান বলেন, গত বছরের কেনা ছুরিটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবার আবার নতুন কিনতে এসেছেন। “বাজারে রেডিমেড জিনিস আছে, কিন্তু কামারের হাতে তৈরি ছুরির ধার ও মান ভালো।” তিনি জানান, এবার একটি মাঝারি ছুরি ও একটি দা কিনতে আগের বছরের তুলনায় বেশি খরচ হয়েছে। তারপরও তিনি দেশীয় পণ্যই বেছে নিয়েছেন। খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা সালমা আক্তারও একই অভিজ্ঞতার কথা বলেন। “কোরবানির সময় ভালো ধারালো ছুরি না হলে কাজ করতে সমস্যা হয়। তাই একটু বেশি দাম হলেও ভালো জিনিস নেওয়ার চেষ্টা করি।” তবে তার অভিযোগ, ঈদ সামনে রেখে কিছু দোকানি দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। “যে ছুরি কিছুদিন আগে ৫০০-৬০০ টাকা ছিল, এখন ৮০০ টাকা চাইছে। ধার দেওয়ার খরচও বেড়েছে।” পুরোনো দা-ই ভরসা অনেকের সব ক্রেতা নতুন ছুরি কিনছেন না। অনেকেই খরচ কমাতে পুরোনো দা বা চাপাতি ধার করিয়ে নিচ্ছেন। রিকশাচালক আবুল কালাম বলেন, “নতুন কিনতে গেলে খরচ বেশি। তাই পুরোনো দাটাই ধার করিয়ে নিচ্ছি। এতে কম টাকায় কাজ হয়ে যায়।” তার মতে, কোরবানির সময় পরিবারের সবাই মিলে কাজ করেন। তাই ধারালো দা বা ছুরি ছাড়া কাজ করা কঠিন। হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো পেশা? খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী প্রদীপের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে দক্ষ কারিগররা মৌসুমি কাজের জন্য ঢাকায় আসতেন। কিন্তু এখন নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে গেছে। “কঠোর পরিশ্রম, কম লাভ আর কারখানার তৈরি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে অনেকে পেশা বদল করছেন।” তার মতে, তারপরও কোরবানির ঈদ ঘিরে এই মৌসুমটাই কামারদের নতুন আশার সময়। “এই বাড়তি আয়ে কেউ সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালান, কেউ পুরোনো ঋণ শোধ করেন।” টিকে থাকার লড়াই ঈদের সময় ধার দেওয়ার জন্য বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কামার বিশ্বজিৎ বলেন, “সারা বছর কষ্ট করি এই সময়টার আশায়। কাজ ভালো হলে পরিবার নিয়ে একটু স্বস্তিতে থাকা যায়। স্বাভাবিক সময়ে আমরা যে টাকা রাখি, এখনও তাই রাখছি। তবে কেউ কেউ ক্ষেত্রবিশেষে একটু বেশি নিতে পারে।” ঢাকার কামারপট্টিগুলোর এই ব্যস্ততা শুধু কোরবানির প্রস্তুতির গল্প নয়; এটি নগর জীবনের এক প্রাচীন পেশার টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবিও। আগুন, লোহা আর ঘামের এই শিল্প এখনো বেঁচে আছে মূলত মৌসুমি চাহিদা আর কিছু ক্রেতার আস্থার ওপর ভর করে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আবারও বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। একদিকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ হারানো খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে প্রবীণ ব্যাংকার মোহাম্মদ নূরুল আমিনকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান করেছে সরকার। দুই নিয়োগই এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দেশের ব্যাংক খাত দীর্ঘদিন ধরে আস্থাহীনতা, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিতর্কে রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান রোববার (২৪ মে) ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পরপরই খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকটির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে একই বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তার সঙ্গে তাকেও পদত্যাগ করতে হয়। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর যেসব কর্মকর্তাকে প্রশাসনিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে কাউকে এত গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে আনা তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘পরামর্শ’ ও বোর্ড রাজনীতি ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত বছরের ২৩ জুলাই সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের পদত্যাগের পর অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানকে চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। এবার তাকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের “পরামর্শে” সরে যেতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভাও স্থগিত হয়েছে আন্দোলনের মুখে। রাজধানীর দিলকুশায় প্রধান কার্যালয়ে রোববার ওই সভা হওয়ার কথা থাকলেও ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভের কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি। সভায় বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে—এমন গুঞ্জন ছিল ব্যাংকপাড়ায়। এমডিকে ঘিরে উত্তেজনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে গত এপ্রিল মাসে ওমর ফারুক খানকে ৪৯ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। তার ছুটি শেষ হওয়ার কথা আগামী ৩১ মে। রোববার তিনি প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হলেও আন্দোলনকারীরা তাকে ভবনে প্রবেশ করতে দেননি। যদিও একটি সূত্র দাবি করেছে, তিনি চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ইসলামী ব্যাংক ঘিরে এই অস্থিরতা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ব্যাংকটির মালিকানা, পরিচালনা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নটি শুধু আর্থিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাবেরও অংশ হয়ে উঠেছে। কৃষি ব্যাংকে অভিজ্ঞ ব্যাংকার একই দিনে সরকার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার মোহাম্মদ নূরুল আমিনকে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আদেশ ১৯৭৩-এর ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাকে পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চার দশকের বেশি সময় ধরে ব্যাংক খাতের সঙ্গে যুক্ত নূরুল আমিন এনসিসি ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। পরে ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তর পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে ছিলেন। ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের ইঙ্গিত? মোহাম্মদ নূরুল আমিন অতীতে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি), বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং প্রাইমারি ডিলারস বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাংকিংবিষয়ক ডিপ্লোমাও অর্জন করেছেন। চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি বলেন, কৃষি ব্যাংক দেশের কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ব্যাংক এবং এটিকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা গেলে কৃষি খাতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই দুই নিয়োগকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ কম। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের প্রত্যক্ষ তদারকিতে ব্যাংক খাতে নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে বলেই মনে করছেন তারা। ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট কাটবে? বাংলাদেশের ব্যাংক খাত গত এক দশকে খেলাপি ঋণ, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, মালিকানা সংকট এবং তারল্য চাপে একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক নিয়োগগুলো সেই সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ, নাকি নতুন প্রভাব বলয় তৈরির প্রচেষ্টা—সে প্রশ্ন এখন ব্যাংকপাড়ায় জোরালোভাবে ঘুরছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের মতো দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংকে চেয়ারম্যান ও এমডি পরিবর্তনের ঘটনাকে অনেকে ব্যাংক খাতের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার মানচিত্রের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) এজেন্ট লাইসেন্স পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, অনৈতিক তদবির ও প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি (সিইভিটিএ)। যদিও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তবু পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও ফল প্রকাশ হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান সিইভিটিএ গত ১৬ মে এ পরীক্ষা আয়োজন করে। আবেদন যাচাই-বাছাই, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য বিবেচিত ২ হাজার ৯৮৭ জন আবেদনকারীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ২ হাজার ৫২১ জন। ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৪০ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন ২১০ জন। সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স বিধিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর না পেলে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। ‘রাতেই প্রস্তুত হয়েছিল ফল’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরীক্ষা কমিটির এক সদস্য জানান, পরীক্ষার দিন রাতেই উত্তীর্ণ ২১০ জনের তালিকাসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। কমিটির ছয় সদস্যই তাতে স্বাক্ষর করেন। তার ভাষ্য, “রোববারের মধ্যেই ফল প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে হঠাৎ করেই বিষয়টি আটকে যায়। কেন আটকে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি।” পরীক্ষা কমিটির আরেক সদস্য আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, উত্তীর্ণ ২১০ জনের বাইরে অতিরিক্ত আরও শতাধিক পরীক্ষার্থীকে পাস করানোর জন্য এনবিআরের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, “কমিটির কয়েকজন সদস্য এতে আপত্তি জানান। এরপর থেকেই ফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়। এমনকি যাদের নাম পাঠানো হয়েছিল, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ১০ নম্বরও পাননি।” ‘ঊর্ধ্বতন পরামর্শের অপেক্ষা’ অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিইভিটিএর মহাপরিচালক ম. সফিউজ্জামান অনৈতিক তদবিরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কতজন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন কিংবা কেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়নি—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। তিনি বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শের জন্য বিষয়টি এনবিআরে পাঠানো হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।” তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশ বলছেন, প্রচলিত বিধিমালায় ফল প্রকাশের জন্য এনবিআরের অনুমোদন বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়ার কোনো বিধান নেই। তাদের মতে, পরীক্ষার ফল প্রকাশে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ শুধু অস্বাভাবিকই নয়, বরং এটি নিয়োগ ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। উত্তর মেলেনি এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং অতিরিক্ত পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ করানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাস্টমস সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর খাতে এ ধরনের অভিযোগ ভবিষ্যতে পুরো বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো -এর বিরুদ্ধে গত ৫৫ বছরে প্রায় ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটির অনুসন্ধান টিম ইতোমধ্যে জয়েন্ট-স্টক কোম্পানিসহ একাধিক সরকারি ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পুরোনো মালিকানা, সম্পদ হস্তান্তর, আর্থিক লেনদেন এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিক অভিযোগ যাচাই-বাছাই চলছে। বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, “প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে জয়েন্ট-স্টক কোম্পানিসহ বিভিন্ন দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি যাচাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” দেশভাগ, পরিত্যক্ত সম্পত্তি ও মালিকানা বিতর্ক দুদকে জমা হওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর করাচিভিত্তিক ‘পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি’ (পিটিসি) কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বড় দুটি কারখানা স্থাপন করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পাকিস্তানভিত্তিক মালিকানাধীন এসব সম্পদ আইন অনুযায়ী ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তি’ হিসেবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে পিটিসি পাকিস্তান সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও আদায় করে নেয়। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, স্বাধীনতার পর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র রাষ্ট্রীয় এই সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের হাতে যাওয়ার পথ তৈরি করে। অভিযোগের কেন্দ্রে সাবেক আমলা ও কর্পোরেট সিন্ডিকেট দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা জামালুদ্দিন আহমেদের নামও উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানির সাবেক এক ফাইন্যান্স কর্মকর্তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে মালিকানা ও সম্পদ হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, তবে দুদক বলছে—পুরোনো প্রশাসনিক নথি, কোম্পানির রেকর্ড ও সম্পদ হস্তান্তরের আইনগত ভিত্তি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৫৫ বছরের আর্থিক ক্ষতির হিসাব কীভাবে? অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মালিকানা নিয়ে অনিয়মের কারণে গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ সম্ভাব্য রাজস্ব, মুনাফা ও সম্পদমূল্য মিলিয়ে ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এই ক্ষতির হিসাব কী ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি দুদক। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কোম্পানির মালিকানা কাঠামো, লভ্যাংশ স্থানান্তর, কর পরিশোধ এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে। কর্পোরেট জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্ন বাংলাদেশে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সম্পদ অধিগ্রহণ, কর কাঠামো এবং মুনাফা স্থানান্তর নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখল ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে এত বড় পরিসরে অনুসন্ধান বিরল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। দুদকের এই অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক মামলায় রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষকদের প্রধান আগ্রহের বিষয়।
বরিশাল অফিস : একসময় দেশের শিল্পখাতে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল বরিশাল ভিত্তিক অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। খান সন্স ভবন, ৫১ কাঠপট্টি রোডে করপোরেট অফিস এবং রূপাতলীতে কারখানা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বিদশে অর্থ পাচারের কারনে এখন ভয়াবহ আর্থিক সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং ব্যাংক ঋন খেলাপী,বিদ্যুৎ বিল বকেয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন,কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়ায় কর্ম বিরতি, ৩ দেশে অর্থপাচার করে সম্পদের পাহাড় বানানো,৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি,সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়া,ঈদুল আজহার পরে স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেয়ার পায়তারা,ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়াসহ গুরুতর অভিযোগে আলোচনায় এসেছে। ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ,তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় কাগজপত্রসহ অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে কাস্টমস,ও ভ্যাট বিভাগ। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে এ্যাংকর সিমেন্টের শুল্ক ফাঁকি, ভ্যাট জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে নজরধারী ও তদন্ত শুরু করেছে। বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে। বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা,দুদকের অনুসন্ধান,ভ্যাট ফাঁকি ও সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ার ফলে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়ায়,ব্যাংক ঋন বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া, ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে তাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।তারা এই তিন দেশের কোন এক দেশে যাবেন বলে সুত্র জানায়। জুলিয়া রহমান-আনিকা রহমান - রিফাত ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক প্রবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাত। এরপর থেকেই কোম্পানির অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, জুলিয়া রহমান হুন্ডির মাধ্যমে ও আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ এসেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে। একইসঙ্গে জুলিয়া রহমান অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—৫১ চার্চ স্ট্রিট, সেন্ট জন’স, অ্যান্টিগুয়া। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অন্যদিকে আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ। বন্ধ রয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও ব্যাগ ফ্যাক্টরী ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ ব্যাংক ঋণ সংকটে ও উৎপাদন বন্ধ জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঋণের অর্থ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়েছে। বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকায় এখন কর্ম বিরতি চলছে। নতুন ঋণের জন্য জাল কাগজ তৈরির অভিযোগ এদিকে অভিযোগ রয়েছে, নতুন করে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু জমির জাল কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজও চলছে। এ কাজে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত এর বিদেশ গমনের পথ বন্ধ করে তাদের আটক করে এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে দুদক ও ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করলে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা । আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ , তদন্তের দাবি তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত দাবি করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও ব্যাংক খাতকে রক্ষা করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের শিল্পখাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ্যাংকর সিমেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নয়; বরং এটি করপোরেট সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনছে। এক কথায় এই অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের গল্প শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পতনের নয়, বরং নৈতিকতার, প্রজ্ঞার, এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এ্যাংকর সিমেন্টে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! বিদেশে সম্পদের পাহাড়, তদন্তে দুদক বরিশালের সিমেন্ট সাম্রাজ্যে ধস: ব্যাংক ঋণ থেকে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি! ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি? এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে তোলপাড় বেতন নেই, উৎপাদন বন্ধ, বিদেশে সম্পদ—সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর শঙ্কা কোম্পানি কর্তাদের সিমেন্ট কোম্পানি নাকি অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাই-লন্ডন-নিউইয়র্কে সম্পদ, দেশে বন্ধ কারখানা! প্রশ্নের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ডিলারদের কোটি টাকা আটকে, তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ও দুদক আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন। ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড। ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?। ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভুয়া রপ্তানি আদেশ, অতিমূল্যায়িত এলসি ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগে নতুন আর্থিক কেলেঙ্কারি। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও সামনে এসেছে ভয়াবহ এক অর্থপাচারের অভিযোগ। ভুয়া ও অতিমূল্যায়িত রপ্তানি আদেশ দেখিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখা থেকে প্রায় ১০ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অন্তত ২৯টি প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলে প্রায় ৯৬ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার বিদেশে সরিয়ে নেয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শুধু ব্যাংকিং অনিয়ম নয়; বরং পরিকল্পিত আর্থিক জালিয়াতি, যেখানে ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত মিলেছে। কীভাবে ঘটেছে অর্থপাচার বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি একটি প্রচলিত ব্যাংকিং সুবিধা। সাধারণত রপ্তানি আদেশের বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির জন্য এই সুবিধা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, বহু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেই সীমা ভয়াবহভাবে অতিক্রম করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকৃত রপ্তানির তুলনায় ১০০ থেকে ৩৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি মূল্যের এলসি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব এলসির বড় অংশই ছিল ভুয়া, অতিমূল্যায়িত অথবা প্রকৃত ব্যবসার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশেষভাবে উঠে এসেছে। টোটাল ফ্যাশন মাত্র ৬ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও তাদের নামে খোলা হয় ২৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের এলসি। অ্যাভান্টি কালার টেক্স প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রপ্তানির বিপরীতে নেয় ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের এলসি সুবিধা। ডোয়াস-ল্যান্ড অ্যাপারেলস ৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের রপ্তানির বিপরীতে ২০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের এলসি খোলে। আহোনা নিট কম্পোজিট ও এইচকে অ্যাপারেলসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও অন্তত ২৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই ধরনের অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমদানিকৃত কাঁচামাল কোথায় গেল? তদন্তের সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশ হচ্ছে—এলসির বিপরীতে আমদানি করা কাঁচামালের ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল রপ্তানি পণ্য তৈরিতে ব্যবহারের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, বন্ড সুবিধায় আনা পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা পাচারই নয়, ডিউটি ড্র-ব্যাক ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহার করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকিও দেওয়া হয়েছে। “অনেক ব্যবসায়ী জানতেনই না” ঘটনায় আলোচিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দাবি করেছেন, অনেক ব্যবসায়ী জানতেনই না যে তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে এলসি খোলা হয়েছে। তার অভিযোগ, ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা রপ্তানি আয়ের অর্থ আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেছেন। এই বক্তব্য তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ এতে প্রশ্ন উঠেছে—শুধু ব্যবসায়ী নয়, ব্যাংকের ভেতরেও কি ছিল সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র? তদন্তে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে এলসি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে, পুরো সময়জুড়ে নারায়ণগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ শহীদ হাসান মল্লিক। ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী দীর্ঘ সময় একই শাখায় দায়িত্ব পালনের বিধিনিষেধ থাকলেও তিনি টানা প্রায় ১০ বছর ওই শাখায় ছিলেন। এছাড়া আরও ২৪ কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে একই শাখায় কর্মরত ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এত বড় অঙ্কের অনিয়ম এককভাবে সম্ভব নয়; বরং এতে ব্যাংকের একাধিক স্তরের কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছিল। তদন্ত শেষ, কিন্তু ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালেই তদন্ত শেষ করলেও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে চলতি বছরের মার্চ মাসে এসে প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার অনুমোদিত ডিলার (এডি) লাইসেন্স বাতিল করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের প্রভাব এবং বিভিন্ন চাপের কারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। সেই সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে সাবেক সংসদ সদস্য এইচবিএম ইকবাল যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ মূলত ইকবাল পরিবারের হাতেই ছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেন। শুধু লাইসেন্স বাতিলেই কি যথেষ্ট? বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব মনে করেন, এই ধরনের জালিয়াতির মূল উদ্দেশ্য সাধারণত নগদ প্রণোদনা ও ভর্তুকির সুবিধা নেওয়া। তার মতে, কেবল একটি শাখার লাইসেন্স বাতিল করে দায় এড়ানো যাবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা এবং সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত ও সম্পদ অনুসন্ধান জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট আরও গভীর হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট। কিন্তু ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও এই খাত ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি ও অনিয়মের চিত্র। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কৌশলী কর ব্যবস্থাপনা, ভুয়া চালান, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেন এবং আইনের ফাঁক ব্যবহার করে একটি জটিল ‘ফাঁকি নেটওয়ার্ক’ গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই–মার্চ সময়ে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। একই সময়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা গেছে আয়কর খাতে, প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ভ্যাট খাতে ঘাটতি প্রায় ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। কাস্টমস খাতেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘাটতির বড় অংশই কাঠামোগত দুর্বলতা এবং কর ফাঁকির আধুনিক কৌশলের ফল। বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সরাসরি আইন ভাঙার চেয়ে আইনের ভেতরের ফাঁক ব্যবহার করে কর কমিয়ে দিচ্ছে। তার মতে, বিক্রয় কম দেখানো, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের অপব্যবহার এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেনের মাধ্যমে করযোগ্য আয় কমিয়ে ফেলার প্রবণতা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে সবকিছু বৈধ থাকলেও বাস্তবে রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র। অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ জটিল কর কাঠামো ও একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে লেনদেন সাজানো হচ্ছে, যাতে প্রকৃত মুনাফা আড়াল করা যায়। এতে করে করের বোঝা তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর। এছাড়া আমদানি–রফতানি খাতে পণ্যের মূল্য কম বা বেশি দেখিয়ে ভ্যাট ফাঁকি এবং ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও রয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মুনাফা বিদেশে স্থানান্তরের কারণে দেশের কর ভিত্তি আরও সংকুচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নীতিনির্ধারকদের মতে, ভ্যাট কাঠামোর জটিলতা এই সমস্যাকে আরও গভীর করেছে। বিভিন্ন খাতে ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাট হার ও কর ছাড় ব্যবস্থার কারণে পুরো কাঠামো আরও দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, এনবিআরের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। রিয়েল-টাইম অডিট ও পর্যবেক্ষণের ঘাটতিতে বড় লেনদেনগুলো অনেক সময় নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে। এনবিআর বলছে, কিছু ক্ষেত্রে অভিযান ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে ই-কমার্স ও উৎপাদন খাতে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ সামগ্রিক সমস্যার তুলনায় যথেষ্ট নয়। রাজস্ব ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যেই অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ছে, যার ফলে সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে ভ্যাট কাঠামো সরল করা, ডিজিটাল ইনভয়েসিং বাধ্যতামূলক করা এবং উন্নত ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা জরুরি। তাদের মতে, শুধু অভিযান নয়—কার্যকর আইন প্রয়োগ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই ‘করপোরেট ভ্যাট ফাঁকি নেটওয়ার্ক’ ভাঙা সম্ভব নয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গ্রাহকের বিমা দাবির টাকা পরিশোধ করতে না পারলেও ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে লাগামহীন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিডেট। প্রতিষ্ঠানটির কয়েক হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি বকেয়া। একদিকে যেমন বিমা দাবি পরিশোধে সর্বনিন্মে অবস্থান, অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের নামে ভোগ-বিলাসে এগিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে, কোম্পানিটির লাইফফান্ডের অবস্থাও অত্যান্ত নাজুক। শুধু তাই নয়, ফারইস্ট লাইফ পদে পদে লঙ্ঘন করছে আইন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীমাহীন অনিয়ম আর লুটপাটের ফলে ভয়াবহ তারল্য সংকটে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি হাতিয়ে নেয় কয়েক হাজার কোটি টাকা। গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেয় নতুন চেয়ারম্যান, কোনো উন্নতি নেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দায়িত্ব নেন বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম, পরে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নোয়াখালী-০৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কোম্পানির ২৫তম বোর্ড সভায় তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তার দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো উন্নতি হয়নি। ফারইস্ট লাইফ গ্রাহকের বিমা দাবির টাকা দিতে না পারলেও আইন লঙ্ঘন করে ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেছে। আর্থিক দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল হলেও ভোগ-বিলাসে সবচেয়ে এগিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আইডিআরএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৫ সালে ২০টি জীবন বিমা কোম্পানি ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছে ১৩২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ফারইস্ট লাইফই ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে ৮০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আইন অনুযায়ী এ খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ৫২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ আর্থিক দুর্দশার মধ্যেও আইন লঙ্ঘন করে কোম্পানিটি অবৈধভাবে ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। ভয়াবহ তারল্য সংকটেও কোম্পানিটির এত টাকা ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে খরচ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি গ্রাহক পাননি বিমার টাকা ফারইস্টের বিমা দাবির টাকার জন্য গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন অস্থিরতা বিরাজ করছে। পলিসি পরিপক্ক হয়ে বছরের পর বছর সময় কেটে গেলেও তারল্য সংকটে গ্রাহকদের টাকা দিতে পারছে না কোম্পানিটি। ফারইস্ট লাইফের স্থানীয় শাখাগুলোতে টাকা না পেয়ে প্রধান কার্যালয়ে আসছেন অনেকে, তাতেও মিলছে না ফল। দ্বারে দ্বারে ঘুরে টাকা না পেয়ে অনেকে অভিযোগ করছেন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষে (আইডিআরএ)। বিমা আইন অনুযায়ী পলিসি পরিপক্ক হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধের বিধান থাকলেও তা মানছে না ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে আলাপ হয় এ প্রতিবেদকের। সুমাইয়া নামের একজন গ্রাহক জানান, তার পলিসি পরিপক্ক হয়েছে ২০২১ সালে। অর্থাৎ প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি বিমা দাবির টাকা পাননি। পরবর্তীতে টাকা না পেয়ে অভিযোগ করেন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইডিআরএ, তাতেও মেলেনি সুরাহা। এমন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে আলাপ হয় শীর্ষনিউজের, যাদের অধিকাংশেরই ৫ থেকে ৬ বছর আগেই পলিসি পরিপক্ক হয়েছে। বিমা দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ২০২৫ সাল শেষে কোম্পানিটিতে ৩ হাজার ২২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। অর্থাৎ জীবন বিমা খাতের মোট বকেয়া দাবির ৭০ দশমিক ৩০ শতাংশই এই কোম্পানির। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৬ লাখ ২৪ হাজার ৬৯২ জন গ্রাহক ৩ হাজার ৪৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকার দাবি উত্থাপন করেন। এর বিপরীতে কোম্পানিটি ৫৮ হাজার ২১৫ জন গ্রাহকের ২১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ কোম্পানিটিতে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৭ জন গ্রাহকের ৩ হাজার ২২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। বকেয়া পড়ে থাকা দাবির হার ৯৪ শতাংশ। ফারইস্ট লাইফের আর্থিক প্রতিবেদনের সবচেয়ে আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে এর ‘লাইফ ফান্ড’ বা বিমা তহবিলে। বর্তমানে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড বা বিমা তহবিল ৮৪৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ঋণাত্মক। সাধারণত গ্রাহকদের প্রিমিয়ামের টাকা দিয়ে এই তহবিল গঠিত হয়, যা থেকে পরবর্তীতে দাবি মেটানো হয়। তহবিল ঋণাত্মক হওয়ার অর্থ হলো, গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত নগদ অর্থ বা সম্পদ কোম্পানিটির হাতে নেই। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ১৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ রয়েছে ১ হাজার ৮৪৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এসব বিষয়ে জানতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুর রহিম ভূইয়া শীর্ষনিউজ ডটকমকে বলেন, ব্যবসা কমে যাওয়ার কারণে ম্যাচিউরিটি অনেক বেড়ে গেছে। কোম্পানির খরচ কমানোর জন্য অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূল থিম হলো ব্যবসা, এটা কমে গেলে ব্যয় বেড়ে যায়। কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবসা বাড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে শীর্ষে আরও যেসব বিমা কোম্পানি আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৫ সালে ২০টি জীবন বিমা কোম্পানি ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছে ১৩২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আইন লঙ্ঘন করে বছরটিতে ব্যবস্থাপনা খাতে সব থেকে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ। প্রতিষ্ঠানটি ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। আইন অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা খাতে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ৫২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অথচ ব্যয় করা হয়েছে ৮০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর পরের স্থানেই রয়েছে শান্তা লাইফ। কোম্পানিটি অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। বিপরীতে ব্যয় করা হয়েছে ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। আইন লঙ্ঘন করে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার তালিকায় রয়েছে প্রোগ্রেসিভ লাইফও। কোম্পানিটি আইন লঙ্ঘন করে ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। আইন অনুযায়ী, কোম্পানিটির সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কিন্তু ব্যয় হয়েছে ২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। একইভাবে এনআরবি ইসলামী লাইফের সর্বোচ্চ ব্যয় সীমা ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা নির্ধারিত হলেও কোম্পানিটি ২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অর্থাৎ অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রোটেক্টিভ লাইফের সর্বোচ্চ ব্যয় সীমা ৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা নির্ধারিত হলেও কোম্পানিটি ১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এ হিসাবে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এছাড়া চার্টার্ড লাইফ ৮ কোটি ৪৭ লাখ, জেনিথ ইসলামী লাইফ ৬ কোটি ৬১ লাখ, সান লাইফ ৬ কোটি ২৩ লাখ, স্বদেশ লাইফ ৬ কোটি ৫ লাখ, হোমল্যান্ড লাইফ ৫ কোটি ৯১ লাখ, সোনালী লাইফ ৫ কোটি ৩৪ লাখ, যমুনা লাইফ ৫ কোটি ৩৩ লাখ, পদ্মা ইসলামী লাইফ ৪ কোটি ৬৬ লাখ, গোল্ডেন লাইফ ৩ কোটি ৩৮ লাখ, বায়লা লাইফ ২ কোটি ৫৮ লাখ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ ২ কোটি ৪১ লাখ, সানফ্লাওয়ার লাইফ ১ কোটি ৩৭ লাখ এবং ডায়মন্ড লাইফ ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। আইন অনুযায়ী, বছরটিতে চার্টার্ড লাইফের ৩০ কোটি ৩৯ লাখ, জেনিথ ইসলামী লাইফের ২৫ কোটি ৫৭ লাখ, সান লাইফের ৩ কোটি ৫৩ লাখ, স্বদেশ লাইফের ১০ কোটি ৭৯ লাখ, হোমল্যান্ড লাইফের ৪ কোটি ১২ লাখ, সোনালী লাইফের ৩৭৮ কোটি ৬৩ লাখ, যমুনা লাইফের ১৭ কোটি ৩৬ লাখ, পদ্মা ইসলামী লাইফের ৮ কোটি ৮৫ লাখ, গোল্ডেন লাইফের ১১ কোটি ৮৫ লাখ, বায়লা লাইফের ৬ লাখ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের ৮ কোটি ২৪ লাখ, সানফ্লাওয়ার লাইফের ৪ কোটি ৮৭ লাখ এবং ডায়মন্ড লাইফের ১০ কোটি ১ লাখ টাকা সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা নির্ধারিত ছিল। এসব বিষয়ে কথা বলতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ই-জিপিতে দ্বৈত পরিচয়ে হাজার কোটি টাকার সরকারি কাজের অভিযোগ রংপুর মেটালকে ঘিরে প্রভাব, কর ফাঁকি ও সমন্বিত দরপত্র কারসাজির বিস্তৃত তথ্য সামনে............... ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চালু হওয়া ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পদ্ধতিকে ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানের দুটি ভিন্ন পরিচয়ে শত শত কোটি টাকার সরকারি কাজ নেওয়ার অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত “Rangpur Metal Industries Limited” এবং “Rangpur Metal Industries Ltd.” নামে পরিচালিত দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করা, ভ্যাট-ট্যাক্স গোপন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অস্বচ্ছ সম্পর্কের গুরুতর অভিযোগ। দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র, ই-জিপি রেকর্ড, সরকারি নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় এক দশক ধরে একই মালিকানাধীন এই দুই পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২১৩টি সরকারি কাজ, প্রায় ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার কার্যাদেশ অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটি অন্তত ২১৩টি সরকারি কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে— “Rangpur Metal Industries Limited” নামে প্রায় ২৮৮ কোটি টাকার কাজ “Rangpur Metal Industries Ltd.” নামে প্রায় ৭৭১ কোটি টাকার কাজ সব মিলিয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার কার্যাদেশ নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, দুটি প্রতিষ্ঠান কার্যত একই নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হলেও ভিন্ন পরিচয়ে দরপত্রে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার একটি কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ‘Limited’ বনাম ‘Ltd.’: সামান্য পার্থক্যে আলাদা পরিচয় সরকারি নথিতে দেখা গেছে, “Limited” এবং “Ltd.” শব্দ ব্যবহারের সামান্য পার্থক্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটি ই-জিপি প্ল্যাটফর্মে পৃথক সত্তা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। তবে তাদের— ব্যবসায়িক কার্যক্রম অফিস ঠিকানা পরিচালনা কাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতা আর্থিক নথি বিশ্লেষণ করলে একই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাদের অভিযোগ, এই দ্বৈত পরিচয় মূলত সরকারি কাজ ভাগিয়ে নেওয়া এবং আর্থিক হিসাবকে জটিল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। ভ্যাট সনদে অসঙ্গতির অভিযোগ একাধিক নথিতে দেখা গেছে, একটি প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র জমা দেওয়া হলেও সেখানে অন্য প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সনদ ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে টেন্ডার আইডি ১০৬৩৬৯৯ এবং ১০৬০৬৯৯ সংক্রান্ত নথিতে এই অসঙ্গতির অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, “Rangpur Metal Industries Ltd.”-এর ভ্যাট সনদ ব্যবহার করে “Rangpur Metal Industries Limited” নামে দরপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এর মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক হিসাব গোপন করে সরকারের কাছে কম কাজ দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন সরকারি ক্রয়বিধি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ইউনিক e-GP Registration ID থাকার কথা। একই নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের একাধিক পরিচয় ব্যবহার করা হলে তা Public Procurement Rules (PPR 2008)-এর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে— Rule 127: প্রতারণামূলক অংশগ্রহণ Rule 128(1): বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান —এর আওতায় বিষয়টি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ই-জিপি সিস্টেম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে একটি প্রতিষ্ঠানকে ইউনিকভাবে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু কিছু বড় প্রতিষ্ঠান নামের সামান্য পরিবর্তন, আলাদা BIN বা ভিন্ন কাগজপত্র ব্যবহার করে সিস্টেমকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে।” তার ভাষায়, “এখানে শুধু সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা নয়, ভেতরের সহযোগিতার বিষয়ও থাকতে পারে।” প্রভাব বিস্তার ও ‘পূর্বনির্ধারিত’ টেন্ডারের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠান দুটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থায় প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে তারা কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে রয়েছে— বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা ওয়াসা শিক্ষা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বিশেষ করে লিফট সরবরাহ ও স্থাপনের বড় প্রকল্পগুলোতে প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদাররা। একজন ঠিকাদারের ভাষ্য, “অনেক সময় টেন্ডারের শর্তই এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ যোগ্য না হয়। আবার কোথাও একই প্রতিষ্ঠানের দুই নাম অংশ নেয়। বাইরে থেকে প্রতিযোগিতা দেখালেও ভেতরে ভেতরে কাজ আগেই নির্ধারিত থাকে।” ‘Collusive Bidding’-এর আশঙ্কা ই-জিপি বিশ্লেষকদের মতে, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে দরপত্রে অংশ নেওয়া হলে সেটি “Collusive Bidding” বা সমন্বিত দরপত্র কারসাজির পর্যায়ে পড়তে পারে। এ ধরনের কারসাজিতে— প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয় বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে কাজ কেনার ঝুঁকি তৈরি হয় সরকারি অর্থের অপচয় বাড়ে একজন সাবেক প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ বলেন, “ই-জিপি চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানো। কিন্তু একই প্রতিষ্ঠান যদি ভিন্ন নামে অংশ নেয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।” কর ফাঁকির সম্ভাবনা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, “Rangpur Metal Industries Ltd.” এবং “Rangpur Metal Industries Limited” নামে ব্যবহৃত BIN, ভ্যাট নথি এবং আর্থিক হিসাবের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। কিছু নথিতে “RFL Regal” নামও উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের মতে, এটি আর্থিক লেনদেনকে জটিল করার কৌশল হতে পারে। এক কর বিশেষজ্ঞ বলেন, “যদি কোনো প্রতিষ্ঠান আলাদা নামে কাজ করে কিন্তু আর্থিক হিসাব একত্রে না দেখায়, তাহলে ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি হয়। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।” দুদক, BPPA ও RJSC-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর তথ্য চেয়েছে। কিছু নথি পাঠানো হয়েছে দুদক, BPPA এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথোরিটির (BPPA) একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে RJSC-এর ভূমিকা নিয়েও। কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, “Limited” এবং “Ltd.” মূলত একই অর্থ বহন করে। ফলে একই ধরনের নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। আইনজীবীদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি প্রশাসনিক অনিয়মের বাইরে গিয়ে জালিয়াতি, তথ্য গোপন এবং প্রতারণার পর্যায়েও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে— কোম্পানির নিবন্ধন বাতিল কালো তালিকাভুক্তি আর্থিক জরিমানা ফৌজদারি মামলা —এসব পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ‘ব্যবস্থাগত দুর্বলতা’র বড় প্রশ্ন অভিযোগকারীদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার মালিকানা যাচাই ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি সংগঠিত প্রক্রিয়া। তাদের ভাষায়, “প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা থাকলেও প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের ঘাটতি কাজে লাগিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।” দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে— BIN ও TIN তথ্য RJSC নিবন্ধন ব্যাংক লেনদেন ভ্যাট রিটার্ন e-GP কার্যক্রম গত এক দশকের ওয়ার্ক অর্ডার —বিশ্লেষণের প্রস্তাব উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার অন্যতম বড় অনিয়মের ঘটনায় পরিণত হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : এক সময় ক্রেডিট কার্ড ছিল কেবল উচ্চবিত্ত বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের আর্থিক হাতিয়ার। বড় ব্যবসায়ী, বিদেশ ভ্রমণকারী কিংবা ব্যাংকের প্রিমিয়াম গ্রাহকদের মধ্যেই এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই বাস্তবতা। এখন শহর থেকে মফস্বল—বাংলাদেশজুড়েই ক্রেডিট কার্ড ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সঙ্গী। বাজার করা, হাসপাতালের বিল, অনলাইন কেনাকাটা, বিমান টিকিট, শিক্ষা ব্যয়, রেস্টুরেন্ট বিল কিংবা ইউটিলিটি সেবা—সবখানেই বাড়ছে কার্ডভিত্তিক লেনদেন। ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রেডিট কার্ড এখন অনেকের কাছেই “বিকল্প নগদ অর্থ” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। গ্রাহক আকর্ষণে ব্যাংকগুলোও দিচ্ছে ক্যাশব্যাক, ইএমআই, ডিসকাউ্ট, এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের সুযোগ। এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকও ক্রেডিট কার্ড ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও আধুনিক করতে নতুন নীতিমালা চালু করেছে। এতে ঋণসীমা দ্বিগুণ বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহক সুরক্ষা, সুদের স্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা এখন ৪০ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, জামানত ছাড়া ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। আগে এই সীমা ছিল যথাক্রমে ১০ লাখ ও ২০ লাখ টাকা। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চমূল্যের চিকিৎসা, বিদেশে শিক্ষা ব্যয়, ব্যবসায়িক সফর কিংবা জরুরি খরচ সামাল দিতে এই সিদ্ধান্ত অনেক গ্রাহকের জন্য বড় সহায়তা হবে। একই সঙ্গে এটি দেশে ক্যাশলেস অর্থনীতির বিস্তারেও ভূমিকা রাখবে। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, একজন গ্রাহক তার মোট ক্রেডিট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। তবে এই নগদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সুদমুক্ত গ্রেস পিরিয়ড প্রযোজ্য হবে না। সুদ ছাড়াই ৪৫ দিন পর্যন্ত খরচের সুযোগ ক্রেডিট কার্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো ‘গ্রেস পিরিয়ড’। অর্থাৎ কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটার পর সঙ্গে সঙ্গে বিল পরিশোধ করতে হয় না। ব্যাংকভেদে গ্রাহকরা ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় পান, যেখানে কোনো সুদ গুনতে হয় না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো বিল পরিশোধ করতে পারলে এটি কার্যত স্বল্পমেয়াদি সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে কাজ করে। ফলে হঠাৎ আর্থিক চাপ সামাল দেওয়া সহজ হয়। ব্যাংকারদের ভাষ্য, পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ক্রেডিট কার্ড ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনাকে আরও শৃঙ্খলিত করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে বেতনভিত্তিক চাকরিজীবী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এটি কার্যকর আর্থিক সহায়ক হয়ে উঠছে। বাড়ছে কার্ডভিত্তিক লেনদেন গত এক দশকে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অ্যাপভিত্তিক আর্থিক সেবা দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহারও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৫ কোটির বেশি কার্ড চালু রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যাই প্রায় ৫৪ লাখ। প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে ক্রেডিট কার্ডে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঙ্ক ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকাও ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে সুপারশপ, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে। এরপর রয়েছে ইউটিলিটি বিল, ওষুধ, পোশাক, পরিবহন ও সরকারি সেবা খাত। অন্যদিকে বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যবহারের বড় অংশ যাচ্ছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, যাতায়াত, শিক্ষা এবং খুচরা কেনাকাটায়। বিদেশে বাড়ছে ডেবিট কার্ডের ব্যবহার এক সময় বিদেশে বাংলাদেশিদের লেনদেনের প্রধান মাধ্যম ছিল ক্রেডিট কার্ড। তবে এখন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে ডুয়াল কারেন্সি ডেবিট কার্ডও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে বাংলাদেশি ডেবিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দেশে টাকা জমা দিলেই বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীরা সহজে কার্ড ব্যবহার করতে পারছেন। পাশাপাশি ডেবিট কার্ডে সুদের ঝুঁকি না থাকায় অনেকেই এখন এদিকে ঝুঁকছেন। নিরাপত্তায় আসছে নতুন প্রযুক্তি ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জালিয়াতির ঝুঁকিও বাড়ছে। এ কারণে ব্যাংকগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করছে। সম্প্রতি দেশে প্রথমবারের মতো নম্বরবিহীন ডেবিট কার্ড চালু করেছে মাস্টারকার্ড ও প্রাইম ব্যাংক। এই কার্ডে দৃশ্যমান কোনো কার্ড নম্বর, সিভিভি বা মেয়াদোত্তীর্ণের তথ্য থাকবে না। সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে মোবাইল অ্যাপে। এ ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংক এখন ওটিপি, বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা, অ্যাপভিত্তিক কার্ড নিয়ন্ত্রণ, তাৎক্ষণিক কার্ড ব্লক এবং রিয়েল-টাইম নোটিফিকেশন সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও নতুন নীতিমালায় নির্দেশ দিয়েছে, কার্ড হারানো বা জালিয়াতির আশঙ্কা তৈরি হলে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু রাখতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের হয়রানি করে ঋণ আদায় করা যাবে না। ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডেও বাড়ছে আগ্রহ দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের চাহিদাও বাড়ছে। এসব কার্ডে প্রচলিত সুদের পরিবর্তে নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ বা উজরাহ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ফলে ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখেও আধুনিক ডিজিটাল আর্থিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও ইসলামিক কার্ডের প্রতি আগ্রহ বাড়ার এটিও একটি কারণ। শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিশেষ কার্ড এখন শুধু চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ীরাই নন, শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও বিশেষ ধরনের কার্ড চালু করছে ব্যাংকগুলো। সম্প্রতি সাউথইস্ট ব্যাংক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ভিসা স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’ চালু করেছে। এতে অভিভাবকের গ্যারান্টিতে শিক্ষার্থীরা কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডুয়াল কারেন্সি সুবিধাসহ বিশেষ কার্ড দিচ্ছে বিভিন্ন ব্যাংক। এসব কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি সফটওয়্যার, ক্লাউড সার্ভিস, অনলাইন সাবস্ক্রিপশন এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সহজে করা যাচ্ছে। সুবিধার পাশাপাশি বাড়ছে সতর্কতার প্রয়োজন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনা ছাড়া ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে এটি আর্থিক চাপের কারণও হতে পারে। কারণ নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে উচ্চ সুদ যোগ হয় এবং দেনা দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে শুধুমাত্র ‘মিনিমাম পেমেন্ট’ দিয়ে দীর্ঘ সময় বকেয়া রাখলে সুদের বোঝা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত খরচ না করা, সময়মতো বিল পরিশোধ, ওটিপি বা পিন কারও সঙ্গে শেয়ার না করা এবং নিয়মিত স্টেটমেন্ট যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সচেতন ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ক্রেডিট কার্ড শুধু একটি আর্থিক পণ্য নয়, বরং আধুনিক জীবনযাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্যতম কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্প পায়রা বন্দরে একটি মোবাইল হারবার ক্রেন (এমএইচসি) কেনাকে ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রয় প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রশ্নে বিতর্কের মুখে পড়েছে। পটুয়াখালীতে অবস্থিত এই বন্দরের জন্য ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে মোবাইল হারবার ক্রেন উৎপাদনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং গত এক দশকে বিভিন্ন দেশে অন্তত ১০টি ক্রেন সরবরাহের প্রমাণ দেখাতে হতো। পাশাপাশি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের সন্তোষজনক সনদ এবং পারফরম্যান্স রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচিত চীনা কোম্পানি এক্সসিএমজি (XCMG)-এর ক্ষেত্রে এসব শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালিত হয়নি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তাদের ওয়েবসাইটে এই ধরনের ক্রেন উৎপাদন বা আন্তর্জাতিক সরবরাহের উল্লেখযোগ্য রেকর্ড পাওয়া যায় না। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ‘এক্সসিএমজি-এইচপি’ নামের একটি জয়েন্ট ভেঞ্চারকে নির্বাচিত করা হয়। প্রস্তাবিত মডেল ‘XMHC 3840’-এর মূল্য ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ ৪২ হাজার ৬২২ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ কোটি টাকা। স্থানীয় খরচ যোগ করলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৪২ কোটি ১৯ লাখ টাকারও বেশি। বন্দর সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রেখেছে। তাদের দাবি, দরপত্রের নথিপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হলে অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ঝুঁকির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পায়রা বন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ব্যবহৃত সরঞ্জামের নির্ভরযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞতাহীন বা কম সক্ষম কোম্পানি থেকে যন্ত্রপাতি কেনা হলে ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং অপারেশনাল কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশ্বব্যাপী এই ধরনের ক্রেন উৎপাদনে ইতালির Gottwald, জার্মানির Liebherr এবং চীনের ZPMC-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সুনাম থাকলেও তাদেরকে এই দরপত্রে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয়ের আরেক চুক্তি এমএইচসি ক্রয় নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই আরও একটি বড় আর্থিক চুক্তির তথ্য সামনে এসেছে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ‘এইচপি-এনজে’ জয়েন্ট ভেঞ্চারের সঙ্গে দুটি শিপ-টু-শোর (STS) ক্রেন সরবরাহের চুক্তি করেছে। প্রতিটি ক্রেনের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ডলার, যা মোট প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা। স্থানীয় ব্যয়সহ প্রকল্পটির মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৫৮ কোটি টাকার বেশি। এই ক্রয় প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষের নীরবতা অভিযোগের বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংশ্লিষ্ট সদস্যরা দায়িত্ব এড়িয়ে প্রকল্প পরিচালকের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তবে অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞ মত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, “দরপত্রের শর্ত পূরণ না হলে কার্যাদেশ বাতিল করে পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বাড়তে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।