পঞ্চগড় সদর উপজেলার দেওয়ানহাট এলাকার মহানপাড়া গ্রামে চায়ের সাথী ফসল হিসেবে আম চাষ করে বাড়তি আয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বসিরুল আলম প্রধান। চা বাগানের ফাঁকা জমি কাজে লাগিয়ে সেখানে বিভিন্ন জাতের আম গাছ লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন সমন্বিত কৃষির একটি লাভজনক মডেল। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘আলম চেয়ারম্যান’ নামেই পরিচিত। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই হলেও কৃষিকাজে এখনো সমানভাবে সক্রিয় তিনি। বাড়ির পাশের এক সময়ের পড়ে থাকা উঁচু ২২ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন চা বাগান। চা চাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ক্ষুদ্র চা চাষী হিসেবে ২০২৪ সালে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। চা বাগানের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে সেখানে সাথি ফসল হিসেবে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করেন বসিরুল আলম প্রধান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার ‘ব্যানানা ম্যাংগো’ গাছ। এছাড়া ৫০টি আম্রপালিসহ আরও শতাধিক বিদেশি জাতের আমের গাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে তার বাগানের আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। মুকুল আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে পরিচর্যার কাজ। শ্রমিকরা দিনভর বাগানে কাজ করে গাছগুলোর যত্ন নিচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে সাজানো এই বাগান এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার জায়গা হয়ে উঠেছে। বাসস’র সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন,আম উৎপাদনেও ভালো সাফল্য পেয়েছেন। ২০২৪ সালে তার বাগান থেকে আম বিক্রি করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় হয়। পরের বছর ২০২৫ সালে আম বিক্রি করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় করেন। চলতি বছর আরও বেশি ফলনের আশা করছেন তিনি। চা উৎপাদনেও রয়েছে ধারাবাহিক উন্নতি। ২০২৪ সালে তার বাগানে চা উৎপাদন হয়েছিল এক লাখ ৬৭ হাজার ৬৭১ কেজি। ২০২৫ সালে সেই উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ পাঁচ হাজার ৪৮৯ কেজিতে। চলতি মৌসুমে সবুজ চা পাতা তোলা শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি চা পাতা ৩৬ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি, যা তার আয়ের অন্যতম উৎস। বসিরুল আলম প্রধান বলেন, কৃষিকে আমি শুধু পেশা হিসেবে নয়, ভালোবাসা থেকে করি। শুরুতে চা বাগানে শেড ট্রি হিসেবে আম গাছ লাগাই। ভালো ফলন পাওয়ায় ধীরে ধীরে বাগানের ফাঁকা জায়গাগুলোতে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করি। এখন চায়ের পাশাপাশি আম থেকেও ভালো আয় হচ্ছে। অনেকেই আমার বাগান দেখতে আসেন এবং উৎসাহ পান। আমি চাই তরুণ কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিতে এগিয়ে আসুক। ব্র্যাক নার্সারির ম্যানেজার আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, চা বাগানের সঙ্গে আম চাষের এই সমন্বিত পদ্ধতি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। আলম সাহেব উদ্ভাবনী চিন্তার একজন কৃষক। আমরা নিয়মিত তাকে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড়ের উপপরিচালক আব্দুল মতিন বলেছেন, চা বাগানের মাঝখানে সাধারণত ফাঁকা জায়গা রাখা হয়। অনেক চাষী সেখানে শেড ট্রি হিসেবে বিভিন্ন গাছ লাগান। সেখানে যদি আম বা অন্য ফলজ গাছ লাগানো যায়, তাহলে সেখান থেকে বাড়তি আয় পাওয়া সম্ভব। সবুজ চা পাতার দাম কমে গেলেও ফলের আয় দিয়ে সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা যায়। তিনি আরও বলেন, বসিরুল আলম প্রধানের সমন্বিত চা ও আম বাগানটি আমরা পরিদর্শন করেছি। তিনি খুব যত্ন সহকারে বাগানটি পরিচালনা করছেন। সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এখান থেকে আরও ভালো ফলন পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হাঁকিয়ে রাখছে কৃষিক্ষেত্র; কিন্তু এই খাতে ব্যাংকঋণের বাস্তব প্রবাহ এখনও তেমন বৃদ্ধি পায়নি, যা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, একদিকে পুরনো কিস্তি আদায়ে ব্যাংকগুলো কঠোর, অন্যদিকে নতুন ঋণ বিতরণে তারা অনীহা। ফলে উৎপাদন পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে, নির্ধারিত বিনিয়োগ থেমে যাচ্ছে এবং অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তত্ত্বাবধায়ক নীতিমালার সঙ্গে বাস্তবতা এখনও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ❗ মাঠপর্যায়েও সমালোচনা ও অভিজ্ঞতা কৃষকদের অভিযোগ, ঋণ নিতে এখনো দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও কাগজপত্রের চাপ সহ্য করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে দালালদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যার ফলে সৎ কৃষক সময়মতো ঋণ পায় না এবং আস্থা কমছে। 📊 বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী: চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর শেষে কৃষি খাতে মোট ঋণের স্থিতি ৬০,০০০ কোটি টাকার মতো। দেশের সব খাতে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৮,০৩,৮৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ঋণের মাত্র **২.১৬%**ই কৃষিতে গেছে। এ তুলনায় দেশে প্রায় ৪৬% শ্রমশক্তি কৃষিকাজে নিয়োজিত এবং জিডিপিতে খাতটির অবদান ১০.৯৪%। তবুও ব্যাংকগুলোর নিট ঋণ লক্ষ্যমাত্রা কৃষিতে মাত্র ২.৫% নির্ধারিত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি খাতের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী অনেক কম এবং এটি নীতিগতভাবে অবহেলার ইঙ্গিত বহন করে। 📈 ঋণ বিতরণ ও আদায়ের গতিসূত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই‑ডিসেম্বর সময়ে: ব্যাংকগুলো ২১,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে, যা আগের বছরের একই সময় ১৬,০০০ কোটি টাকা ছিল — প্রায় ৯.৭% বৃদ্ধি। একই সময়ে ঋণ আদায় হয়েছে ২১,৭৭৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩.৮৯% বেশি। এই তুলনায় দেখা যাচ্ছে, বিতরণ বাড়লেও আদায়ও প্রায় সমানভাবে হয়েছে। তবে কৃষকদের অভিমত, নতুন ঋণ পাওয়ার কষ্ট ও জটিলতা আগের মতোই বিরাজ করছে। 🧑🌾 বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পূর্ববর্তী বন্যার কারণে পুনরুদ্ধার ও উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের আরও ঋণ প্রয়োজন ছিল, কিন্তু ব্যাংকগুলোর অনীহা কারণে কেবল প্রত্যাশিত পরিমাণে ঋণই বিতরণ হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র এবং নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, বর্তমানে ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রা কৃষকের চাহিদার তুলনায় কম। তবে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে ঋণ বিতরণ আরও সহজ করতে ব্যাংক শাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং, সাব‑ব্রাঞ্চ, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও এরিয়া অ্যাপ্রোচ পদ্ধতিতে জোর দেওয়া হচ্ছে।
ক্ষেত ভরা ফসল, গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, গোয়াল ভরা গরু, কলসী কাঁখে গাঁয়ের বধু জল আনতে যাওয়া। গোধুলী লগ্নে সোনালী আকাশে ধুলো উড়িয়ে চলা। ওসব এখন অতীত। আবহাওয়ার বেসামাল বিচরণ মনুষ্য জীবের জন্য এক অশনি সংকেতের নাম জলবায়ুর পরিবর্তন। চিরায়ত ছায়া সুনিবিড় শান্ত গ্রামীণ ঐতিহ্যমণ্ডিত জীবনধারাকে করেছে দূরাহত। দীর্ঘ জীবনের কৃষি পরিণত হয়েছে দীর্ঘশ্বাসে। আগামী তিন দশকে আমাদের খাদ্যের চাহিদা বাড়বে ৮০ শতাংশ। কমবে কৃষিজমি। আবার কৃষকদের এই প্রজন্ম প্রবীণ জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। তরুণেরা কৃষি ও কৃষিকাজে আগ্রহী নয়। এই অবস্থায় সুস্থ ও সবল সমাজ ধরে রাখতে, সবার মুখে খাবার তুলে দিতে কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হবে, তরুণ প্রজন্মকে কৃষিতে আগ্রহী করে তুলতে হবে। শুধু আগ্রহী নয় অংশীদারিত্ব বাড়াতে হবে, সর্বোপরি উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। তবে এ কাজে ডিজিটাল কৃষির কোনো বিকল্প নেই। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না একটা সময় শ্রীলঙ্কায় খাদ্য আমদানি করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত লক্ষণীয় মাত্রায় হ্রাস পেয়েছিলো।। আমরাদের ও অভিজ্ঞতা আছে দেখেছি, টাকা থাকলেও সংকটকালে বিশ্ববাজার থেকে খাদ্য আমদানি কতোটা কঠিন। তাই নিজেদের খাদ্য আমাদের নিজেদের উৎপাদন করতে হবে। তাই উৎপাদন বাড়ানো ও কৃষিকে এগিয়ে নেয়ার সব উপায় ব্যবহার করতে হবে। কৃষি হলো ফসল উৎপাদন, পশুপালন, মৎস্য চাষ, এবং বনায়ন সম্পর্কিত কার্যক্রম। এটি মানব সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপরিহার্য। জমি চাষ ও ফসল উৎপাদন, প্রাণিসম্পদ পালন, পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে কৃষি কার্যক্রম। আমরা কেনো কৃষি নির্ভর, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে আমাদের দেশের ভৌগোলিক, জনসংখ্যাগত এবং ঐতিহাসিক পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। আমাদের দেশ নদীমাতৃক দেশ, যেখানে প্রায় ৭০০ নদী প্রবাহিত হয়েছে। বন্যা, বর্ষা, এবং উর্বর পলিমাটির কারণে এ দেশের মাটি ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আবার প্রাকৃতিকভাবে উষ্ণ জলবায়ু ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত কৃষি কার্যক্রমে সহায়ক। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ শ্রমশক্তি কৃষি খাতে নিয়োজিত। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা অর্জনের প্রধান উৎস কৃষি। অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষিজ পণ্যের রপ্তানি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জনগণের খাদ্য চাহিদার একটি বড় অংশ স্থানীয় কৃষি উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ হয়। ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য, যা কৃষির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। আমাদের গ্রামীণ সমাজের জীবনযাত্রা, উৎসব, এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম কৃষিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। প্রথাগত চাষাবাদ পদ্ধতি এ দেশের মানুষের ঐতিহ্যের অংশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষি খাত হুমকির মুখে পড়লেও স্থানীয় জনগোষ্ঠী এর সঙ্গে অভিযোজিত হয়ে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। পাট বাংলাদেশকে ‘সোনালী আঁশের দেশ’ হিসেবে খ্যাতি এনে দিয়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষি কার্যক্রম দারিদ্র্য হ্রাস এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। জলবায়ুর পরিবর্তন বলতে বোঝায় দীর্ঘ সময় ধরে বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক জলবায়ুর গড় অবস্থার পরিবর্তন। এটি স্বাভাবিকভাবেই ঘটতে পারে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে মানবসৃষ্ট কার্যকলাপ, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, বনভূমি উজাড়, এবং শিল্প দূষণ, এই পরিবর্তনের মূল কারণ হয়ে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তন হলো পৃথিবীর আবহাওয়ার দীর্ঘকালীন পরিবর্তন। এক কথায় বলতে গেলে, পৃথিবী ধীরে ধীরে গরম হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তনটি কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের জন্য নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে ঘটছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। লবণাক্ত পানি ফসলি জমিতে প্রবেশ করে মাটির উর্বরতা হ্রাস করছে। ধান, গম, এবং অন্যান্য প্রধান ফসলের উৎপাদন কমছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরার প্রকোপ বাড়ছে, যা সেচনির্ভর কৃষিকে ব্যাহত করছে। বর্ষাকালে অনিয়মিত বা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকেরা সঠিক সময়ে চাষাবাদ করতে পারছে না। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বন্যার কারণে ফসল তলিয়ে যাচ্ছে এবং কৃষি জমি ধ্বংস হচ্ছে। বন্যার পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি করে, যা চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ধান, গম, এবং অন্যান্য শস্যের ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উষ্ণতার কারণে কীটপতঙ্গ ও রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ফসলের ক্ষতি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নতুন ধরনের ফসলের রোগ এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণ বাড়ছে। কীটনাশক এবং রোগ নিরোধক ওষুধের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য ব্যয়বহুল। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং নদী ভাঙনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। বন্যা ও লবণাক্ততার কারণে অনেক জমি পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। খরার কারণে সেচের জন্য পানির প্রাপ্যতা হ্রাস পাচ্ছে। পানির অপর্যাপ্ততার কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ফসল উৎপাদনে সমস্যা হওয়ার কারণে কৃষকেরা তাদের আয় হারাচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন করছে। কৃষি এবং জলবায়ু একে অপরের সঙ্গে অত্যন্ত গভীরভাবে সম্পর্কিত। আসলে, কৃষি হলো প্রকৃতির একটি প্রক্রিয়া যেখানে মানুষ জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে ফসল উৎপাদন করে। জলবায়ুর সামান্য পরিবর্তনও কৃষি উৎপাদন, কৃষকদের জীবন ও অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন আনতে পারে। প্রতিটি ফসল নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সবচেয়ে ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কিছু ফসল দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফলন কমে যায়। উচ্চ তাপমাত্রা ফসলের ফুল ফোটা এবং ফল ধরা প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়। ফসলের জন্য পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও সময়ের অনিয়মিত পরিবর্তন কৃষকদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে। অতিবৃষ্টি বা বৃষ্টির অভাব উভয়ই ফসলের ক্ষতি করে। বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। লবণাক্ততা বা মাটির আর্দ্রতা কমে গেলে চাষযোগ্য জমি কমে যায়। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা এবং তাপপ্রবাহ কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি করে। জলবায়ু পরিবর্তনে এ ধরনের দুর্যোগের তীব্রতা বেড়েছে। কৃষি মৌসুম নির্ধারণে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি মৌসুমের সময় বদলে যাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন পোকামাকড় ও রোগের বিস্তার বাড়ায়। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে কৃষি খাতকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, এটি সরাসরি আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর নির্ভরশীল। ফসল উৎপাদন, পানি সরবরাহ, মাটির উর্বরতা, এবং কৃষি পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ--সবকিছুই জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষি একটি এমন খাত যেখানে প্রকৃতির ওপর নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। জলবায়ুর সামান্য পরিবর্তনও ফসলের উৎপাদন, কৃষকদের জীবন ও অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন আনতে পারে। কৃষি উৎপাদনে বৃষ্টি, সূর্যের তাপ, এবং তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যাচ্ছে, যা ফসলের বৃদ্ধিতে সমস্যা সৃষ্টি করছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে এবং ফসলের বৃদ্ধি চক্র বিঘ্নিত হচ্ছে। বন্যার কারণে ফসল ডুবে যায় এবং কৃষি জমি উর্বরতা হারায়। খরা এবং পানির অভাবে সেচব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, যা ফসল উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে লবণাক্ততা বাড়ছে, যা মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে। উপকূলীয় অঞ্চলের ফসল উৎপাদন তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং অতিবৃষ্টির কারণে মাটির ওপরের উর্বরস্তর ধুয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মাটির গঠন ও পুষ্টিমান পরিবর্তিত হচ্ছে। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তনে নতুন ধরনের পোকামাকড় ও রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে। কীটপতঙ্গের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়া বা বরফ গলার মতো ঘটনা কৃষকদের সঠিক সময়ে চাষ করতে বাধাগ্রস্ত করছে। ফসল কাটার সময় অনিয়মিত ঝড়-বৃষ্টি ফসলের ক্ষতি করছে। দীর্ঘমেয়াদে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত আবহাওয়া ফসলের বৈচিত্র্য ও চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় স্থায়ীভাবে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দেশের মোট জমির প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের কৃষি উৎপাদন প্রতি বছর প্রায় ১-২ শতাংশ হ্রাস পাচ্ছে। ২০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে, বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও আফ্রিকার দেশগুলো এই প্রভাবের মুখে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্বের সবচেয়ে অসচ্ছল ২০ শতাংশ মানুষ তাদের আয়ের ৭০ শতাংশ খাদ্যের জন্য ব্যয় করে। আমরা কৃষি নির্ভর দেশ, কারণ দেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং জনগণের জীবনযাত্রা কৃষির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের জীবনের মান উন্নত করতে কৃষি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে ১৮টি কৃষি সংস্থা আছে যারা সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত। তবুও আমরা প্রদর্শনী প্লটের জন্য সাইনবোর্ড ব্যবহার করছি। কিন্তু না, যতো দিন না প্রতিটি কৃষকের প্লটকে সাইনবোর্ড ছাড়া প্রদর্শনী হিসেবে উপস্থাপন করতে না পারবো। ততোদিন বলতে পারবো না স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। কৃষি ও কৃষক কে বাঁচাতে হবে। তবেই জলবায়ুর পরিবর্তনে আমরা নিজেদের অস্তিত্ব খুজে পাবো।
ফারিহা হোসেন: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এর জন্য বাংলাদেশ দায়ী না হলেও এর বিরূপ প্রভাবে দেশের খাদ্য, কৃষি, স্বাস্থ্যসহ নানাবিধ ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বর্তমান বিশ্বে দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন একটি নৈমিত্তিক ঘটনা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। অতিমাত্রায় গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়সহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে কৃষি, যা এ দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ শ্রমশক্তি এ খাতে নিয়োজিত। এ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তাসহ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা এখনো কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল। বিবিএস ২০১৪-১৫-এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটির সঙ্গে প্রতি বছর ২০ লাখ জনসংখ্যা যোগ হচ্ছে। ২০৪৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে হবে প্রায় ২২ দশমিক ৫ কোটি। এ বাড়তি জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ আবশ্যক। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে সামগ্রিকভাবে বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে; যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের কৃষি তথা সার্বিক জীবনযাত্রার ওপর। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শস্যের গুণাগুণ ও উৎপাদনেও পরিবর্তন আসবে। বর্তমান চাষযোগ্য এলাকায় উৎপাদন হ্রাস পাবে। পানির স্বল্পতা বৃদ্ধি পাবে, হ্রাস পাবে মাটির উর্বরতা। একই সঙ্গে নতুন নতুন রোগবালাই দেখা দিতে পারে। ফলে কৃষিতে কীটনাশক ও সারের প্রয়োগ বৃদ্ধি পাবে। কৃষিজমিতে সেচের ব্যাপকতা বাড়বে, বাড়বে ভূমিক্ষয়। কমে যাবে জীববৈচিত্র্য। রাসায়নিকের ব্যাপক ব্যবহার পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। দরিদ্রতা বাড়বে এবং সমাজে এর প্রতিকূল প্রভাব দেখা দেবে। এ কারণে ২১ শতকে সার্বিকভাবে কৃষির উৎপাদন ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে। ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ধান ও গমের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে, শুধু তাই নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবং ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্র উপকূলে নদী ভাঙন বাড়বে, বাড়বে লবণাক্ততার পরিমাণ। সমুদ্র উপকূলে বসবাসকারীদের মধ্যে উদ্বাস্তুর হার বাড়বে, বাড়বে রোগব্যাধি এবং অপুষ্টিজনিত সমস্যা। কাজেই জলাবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়বে দেশের কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বহুলাংশে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল। মানুষের মৌলিক প্রয়োজন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জোগান দিয়ে থাকে কৃষি। কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, বীজ, গজানো, পরাগায়ন, ফুল ও ফল ধরা, পরিপক্বতা হতে সুনির্দিষ্ট তাপমাত্রা, আদ্রতা, বৃষ্টিপাত ও সূর্যালোক প্রয়োজন। জলবায়ুর এ উপাদানগুলো পরিবর্তিত হয়েছে কিন্তু বীজ বপন ও চারা রোপণের সময় পরিবর্তন সম্ভব হয়নি। ফলে কৃষি মৌসুমের সঙ্গে ফসলের চাষাবাদে খাপ খাওয়ানো যাচ্ছে না। গড় তাপমাত্রা বাড়ার কারণে গম, ছোলা, মসুর, মুগডালসহ কিছু ধানের উৎপাদন কমে যাওয়ায় কৃষকরাও কৃষি থেকে অনেকাংশে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কাজেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ দীর্ঘমেয়াদি কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। কৃষিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে হলে কৃষি খাতে, শস্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনতে হবে। মনে রাখা দরকার, প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। তাই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কম বেশি ঝুঁকিতে দেশের সব মানুষ। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক উৎপাদনের জন্য যেখানে ছিল যথাযোগ্য তাপমাত্রা, ছিল ছয়টি আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ঋতু, সেখানে দিন দিন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতু হারিয়ে যেতে বসেছে এবং তার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা সবকিছুতে আমূল পরিবর্তন আসছে। ফলে অনিয়মিত, অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত; সেচের পানির অপর্যাপ্ততা; উপকূলীয় অঞ্চলে বর্ষা মৌসুম ছাড়াও বিভিন্ন সময় উপকূলীয় বন্যা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে লবণাক্ত পানিতে জমি ডুবে যাওয়া এবং শুষ্ক মৌসুমে মাটির নিচের লবণাক্ত পানি ওপরের দিকে বা পাশের দিকে প্রবাহিত হওয়ার মতো নানাবিধ সমস্যায় বাংলাদেশের কৃষির ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চিত এবং রীতিমতো হুমকির মুখে। অসময়ে বৃষ্টিপাত কিংবা বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিভিন্ন রকম ফসল। বর্ষার মাঝামাঝি বন্যা এ দেশে স্বাভাবিক বিধায় এই সময়টুকু মাথায় রেখেই কৃষকরা চাষাবাদ করেন। কিন্তু দেশের উত্তর-পূর্বাংশে, নিকটবর্তী পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি হওয়া অনিয়মিত বন্যা ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। জুন-জুলাইয়ে বৃষ্টিপাতের মাত্রা বেড়ে গেলে হাওর অঞ্চলে শস্যের তেমন ক্ষতিসাধন না করলেও পাট, আখ ও অন্যান্য নিচু জমির ফসল নষ্ট করে। এ রকম বৃষ্টি আমনের বীজতলাও নষ্ট করে দেয়। জলবায়ুর বিরূপ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য বিশেষ করে বিভিন্ন অভিযোজন কলাকৌশল রপ্ত করতে হবে; যাতে করে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষিকে মুক্ত রাখা বা ঝুঁকি কমানো যায়। এ ছাড়া দুর্যোগমুক্ত সময়ে শস্য বহুমুখীকরণ ও ফসলের নিবিড়তা বাড়িয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। দেশের খাদ্য ও কৃষিব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও দুর্যোগ ঝুঁঁকি হ্রাস কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হলে প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য, উপাত্ত এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন উপযোগী কলাকৌশল ও সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিগত ১০০ বছরে এ দেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ৫৮টি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়। ৫০ বছরে হয়েছে ৫৩টি বন্যা, তার মধ্যে ছয়টি ছিল মহাপ্লাবন। ১৫৩ বছরে হয়েছে ২০টি বড় ধরনের ভূমিকম্প। ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এ দেশে ছোট ও বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও কালবৈশাখীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৭টি। তার মধ্যে ১৫টি ছিল ভয়াবহ। এতে সম্পদের ক্ষতি হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা (বিএমডি, ২০০৭)। তাপমাত্রা বৃদ্ধি জলবায়ুর ও আবহাওয়ার স্বাভাবিক অবস্থাকে অস্বাভাবিক ও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষির ওপর। কেননা, কোনো একটি নির্দিষ্ট শস্যের বেড়ে ওঠার জন্য একটি পরিমিত মানের জলবায়ুর তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আদ্রতা, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি উপাদানগুলোর প্রয়োজন হয়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২১০০ সাল নাগাদ সাগরপৃষ্ঠ সর্বোচ্চ ১ মিটার উঁটু হতে পারে, যার ফলে বাংলাদেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হতে পারে। বৈরী জলবায়ু তা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর মতো ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন ও আবাদ বাড়াতে হবে; নতুন শস্য পর্যায় ও অভিযোজন কৌশলের ওপর ব্যাপক গবেষণা জোরদার করতে হবে; অভিযোজন কৌশল ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে কৃষিজীবী, কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষি গবেষকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে; পরিবেশবান্ধব সমন্বিত ফার্মিং সিস্টেমের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হবে; নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে, যা সরকার ইতোমধ্যেই শুরু করেছে। উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজবেষ্টনী গড়ে তোলার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; পরিবেশের জন্য হুমকি হয় এমন কর্মকান্ড পরিহার করতে হবে। নেদারল্যান্ডসে পুরো সমুদ্র উপকূল এমনভাবে ড্যাম দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে, যাতে সমুদ্র থেকে নয়, মিটার নিচেও জমিজমা ঘরবাড়ি আছে। আমাদের সমুদ্র উপকূলে এমনিভাবে ড্যাম দিয়ে আটকে দেওয়া যায় কি না, ভেবে দেখতে হবে। এ ছাড়া এখনই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, দেশের এক-চতুর্থাংশ যদি ডুবে যায়, তাহলে সেখানকার লোকজনকে দেশের কোথায় সরিয়ে নেওয়া যাবে। কত লোক সরিয়ে নেওয়া যাবে, তাদের কর্মসংস্থান, বাসস্থান এবং খাদ্য ঘাটতি কীভাবে মেটানো যাবে, এ নিয়ে সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনা নিতে হবে। অন্যদিকে, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত কর্মসূচি সরকারকে হাতে নিতে হবে আর জনগণকেও সেই সঙ্গে আন্তরিক হতে হবে, তা বাস্তবায়নের জন্য। লেখক : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।