বরিশাল অফিস: বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান খান ফারুকের মাদকবিরোধী উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নগরীতে আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল বরিশালের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসেবীদের আটক এবং মাদকসংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার লক্ষ্যে এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তাঁর সমর্থকেরা। এদিকে, অভিযানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে উদ্যোগটির সমর্থকদের বক্তব্য, মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান মনিরুজ্জামান খান ফারুকের মাদকবিরোধী উদ্যোগের প্রতি সংহতি জানিয়ে তাঁর সমর্থকেরা বলেছেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এর প্রভাব পড়ে পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও। বিশেষ করে তরুণদের মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা জরুরি। তাঁদের মতে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিতর্কে আটকে না থেকে মাদক নির্মূলে কার্যকর ও আইনসম্মত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, মাদকের সরবরাহ বন্ধ করা এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। আইনানুগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব মাদকবিরোধী উদ্যোগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রচলিত আইন অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন উদ্যোগটির সমর্থকেরা। তাঁদের বক্তব্য, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অভিযানের প্রতিটি পর্যায়ে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারও বিরুদ্ধে মাদকসংশ্লিষ্ট অভিযোগ উঠলে তা যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। মাদকমুক্ত বরিশাল গড়ার প্রত্যাশা বরিশালকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সমর্থকেরা। তাঁদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, মাদকের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কার্যক্রম, পরিবারে সচেতনতা এবং তরুণদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও প্রয়োজন। তাঁরা মনে করেন, মাদকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দিতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় থেকে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা জানিয়ে সমর্থকেরা মনিরুজ্জামান খান ফারুকের প্রতি শুভকামনা ও সংহতি প্রকাশ করেছেন।
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক বিতর্ক; ডিএমপির তদন্ত চলছে, পদত্যাগের খবর অস্বীকার প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের- ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এ ঘটনার পর তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তাঁর দপ্তর এ খবরকে অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। প্রতিমন্ত্রী নিজেও পদত্যাগের খবরকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ফলে ঘটনাটি এখন শুধু মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র বহর, অভিযানে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পদত্যাগের নির্দেশের খবর, পাল্টা অস্বীকার রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে এ খবরের বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পদত্যাগ কিংবা পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর অস্বীকার করা হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা দাবি করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খবর সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী তাঁর সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং তাঁর পদত্যাগের প্রশ্নও ওঠে না। এ বিষয়ে ইশরাক হোসেনও সংবাদমাধ্যমকে গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দল থেকে নেওয়া হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তবে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তার পক্ষে সরকার-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য এবং প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতি—দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সরকারের অন্য কোনো দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় পদত্যাগসংক্রান্ত দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। কী ঘটেছিল গেন্ডারিয়ায়? শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করছেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীদের কয়েকজনকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরতে দৌড়াতে দেখা যায়। তাঁদের একজন এক তরুণকে লাথি মারেন। ভিডিওতে কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ স্যার।’ অন্য একটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া কতটা আইনসম্মত ও দায়িত্বশীল আচরণ, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনাস্থলে প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও উপস্থিত ছিলেন। নিজস্ব নিয়োগ দেওয়া দেহরক্ষীদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ভিডিওর কিছু অংশে প্রতিমন্ত্রীর হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করা হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। গুলি করার হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আত্মরক্ষার যুক্তি ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে সমালোচনার মুখে রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিবৃতি দেন ইশরাক হোসেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কর্মসূচিটি পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য। ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ পেয়ে তিনি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগও নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি। বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানের আগে তিনি জানতে পারেন, মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে। একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করতে করতে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি জানান। ইশরাকের দাবি, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত। আত্মরক্ষার জন্যই সেটি প্রদর্শন করা হয়েছিল এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে তাঁর বক্তব্যের এসব দিকের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের আচরণ এবং অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে কতটা নিশ্চিত করা যায়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযানের আগে পুলিশকে জানানো হয়েছিল? ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, অভিযানে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করা হয়েছিল কি না। ইশরাকের দাবি, মাদকবিরোধী কর্মসূচিটি পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানাননি। পরে তাঁরা অভিযানের কথা জানতে পারেন। ইশরাকও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর পুলিশকে সেখানে আসতে বলেন তিনি। দুটি বক্তব্যের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্ন রয়েছে। কর্মসূচি নিয়ে আগে আলোচনা হয়েছিল বলে প্রতিমন্ত্রী যে দাবি করেছেন, তা থেকে নির্দিষ্ট অভিযান সম্পর্কে পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে, পুলিশকে আগে না জানানোর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপটও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। অস্ত্রধারী নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে কোনো জনপ্রতিনিধির এমন অভিযানে যাওয়ার আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আইনগত দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালায় কী বলা আছে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ নিয়ে এ ঘটনায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে—এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। এ কারণে অস্ত্রটির লাইসেন্স বৈধ কি না, তার পাশাপাশি কোন পরিস্থিতিতে অস্ত্রটি প্রদর্শন করা হয়েছিল, তা আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না এবং প্রদর্শনের ধরন নীতিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল কি না—এসব বিষয়ও প্রাসঙ্গিক। ইশরাক নিজের অস্ত্রের বৈধতা ও আত্মরক্ষার যুক্তি তুলে ধরেছেন। তবে অস্ত্রের লাইসেন্স বৈধ হওয়া এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অস্ত্র প্রদর্শন আইনসম্মত হওয়া এক বিষয় নয়। এ ক্ষেত্রে ঘটনার প্রেক্ষাপট, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও এবং প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। ডিএমপির তদন্ত, আইন লঙ্ঘন হলে ব্যবস্থা অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রোববার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাকে আইন লঙ্ঘন হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কেবল আত্মরক্ষার দাবি বা বৈধ লাইসেন্সের উল্লেখের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে আইনসম্মত বলেও ধরে নেওয়া যায় না। ভিডিওতে দেখা কর্মকাণ্ড, অভিযানের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের সময়—সবকিছু মিলিয়ে তদন্তের ফলই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অভিযানে কী পাওয়া গেছে, প্রতিমন্ত্রীর দাবি নিজের বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, এসব তথ্য উপেক্ষা করে কয়েকটি গণমাধ্যম ঘটনার খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরেছে। তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন। তবে অভিযানে জব্দ করা সামগ্রীর তালিকা, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ কিংবা সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি। ফলে জব্দ ও আটকের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে তাঁর দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু আটক বা জব্দের সংখ্যা নয়, বরং উদ্ধার করা সামগ্রীর নথিভুক্তি, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক অস্বস্তি ও জবাবদিহির প্রশ্ন ঘটনাটি বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে সরকার ও দল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকেনি; প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদেরও বিব্রত করেছে। একজন প্রতিমন্ত্রীর আচরণের দায় মন্ত্রিসভাকেও নিতে হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন তিনি। কোথাও পরিস্থিতির উন্নয়নে সময়সীমাও বেঁধে দেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই পরিদর্শনের দিন বিকেলেই ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। দল ও সরকার-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, এতে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন ঘিরে তৈরি হওয়া ইতিবাচক আলোচনা আড়ালে পড়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবরকে কেউ কেউ সরকারের অভ্যন্তরে আচরণ ও জবাবদিহির প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের সম্ভাব্য বার্তা হিসেবে দেখেছেন। তবে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে। তাই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গণমাধ্যমের দায়িত্ব ও তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পদত্যাগের খবরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে খবর প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়। অন্যদিকে, পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এসব সূত্রের পরিচয়, বক্তব্যের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ প্রকাশ্যে না থাকায় দাবিটি যাচাই করা কঠিন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাংবাদিকতার জন্য জরুরি হলো, অভিযোগ, সূত্রের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাল্টা বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যকে পৃথকভাবে উপস্থাপন করা। বিশেষত মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া সংবাদটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সহায়ক। সামনে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। প্রথমত, অভিযানের আগে পুলিশের সঙ্গে কী ধরনের সমন্বয় হয়েছিল? দ্বিতীয়ত, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা কতটা বাস্তব ছিল এবং অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি কী ছিল? তৃতীয়ত, অভিযানে জব্দ করা সামগ্রী ও আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশের নথিতে কী তথ্য রয়েছে? চতুর্থত, ডিএমপির তদন্তে অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালা লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় কি না? এর পাশাপাশি, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রকাশিত খবর এবং তাঁর দপ্তরের অস্বীকৃতির মধ্যকার বিরোধও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু সেই কাজের বৈধতা, পদ্ধতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন জনপ্রতিনিধি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো অভিযানে অংশ নিলে তাঁর উদ্দেশ্যের পাশাপাশি অনুসৃত প্রক্রিয়াও জনস্বার্থে যাচাইযোগ্য হওয়া প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, ডিএমপি তদন্ত শুরু করেছে এবং পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর অস্বীকার করেছে। তদন্তের ফল ও সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, ঘটনাটির আইনগত ও রাজনৈতিক পরিণতি কোন দিকে যায়।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: বরিশাল নগরীতে এক তরুণীর আত্মহত্যার চেষ্টার খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে গিয়ে ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই তরুণীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে নগরের কালুখান সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ প্রথমে এক তরুণীকে উদ্ধারের জন্য ওই বাসায় যায়। পরে সেখানে থাকা ব্যক্তিদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে দুই তরুণীর ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ৫০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। যেভাবে বাসায় পৌঁছায় পুলিশ পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে নগরের কালুখান সড়কের মিজান নামের এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় যান পুলিশ সদস্যরা। বাসার একটি কক্ষে এক যুবক ও দুই তরুণীকে দেখতে পান তাঁরা। তাঁদের মধ্যে একজন তরুণী আত্মহত্যার চেষ্টা করছিলেন। পুলিশ তাঁকে নিবৃত্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ওই কক্ষে থাকা ব্যক্তিদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে দুই তরুণীর ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এরপর তিনজনকে আটক করে পুলিশ। আটক তিনজনের পরিচয় পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা হলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাগদিয়া রাইড এলাকার শামিমা খাতুন (২২), গাইবান্ধা সদর উপজেলার শিবপুর সাহপাড়ার জান্নাত আক্তার (২২) এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৩১)। নারায়ণগঞ্জ থেকে ইয়াবা আনার অভিযোগ ওসি মনিরুল ইসলামের দাবি, আটক দুই তরুণী সোমবার নারায়ণগঞ্জ থেকে ইয়াবা নিয়ে মিজানের ভাড়া বাসায় আসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মিজান নগরীর মাদকসেবীদের কাছে খুচরা পর্যায়ে ইয়াবা বিক্রি করেন। তবে ইয়াবা পরিবহন ও বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য, উদ্ধার করা মাদকের পরীক্ষার ফল এবং তদন্তের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। চলছে মামলার প্রক্রিয়া পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা ইয়াবার উৎস, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং মাদক সরবরাহের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। আত্মহত্যার চেষ্টার খবর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে মাদক উদ্ধারের ঘটনা নগরীতে মাদক পরিবহন ও খুচরা বিক্রির অভিযোগের বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
মাদারীপুর: মাদারীপুর সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর একাধিক মামলার আসামি পারভেজ ব্যাপারী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছেন। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। ঘটনার পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈম জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারভেজ ব্যাপারীকে আটক করা হয়। এ সময় তার ফেলে দেওয়া ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর অভিযানের ধারাবাহিকতায় পারভেজকে নিয়ে একটি স্থানে যাওয়ার সময় তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে পারভেজ পালিয়ে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, পারভেজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তাকে একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং ওই পরিস্থিতির মধ্যেই পারভেজ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈম বলেন, "পারভেজ একজন মাদক ব্যবসায়ী। তাকে আটকের পরই তার সহযোগীরা একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই পরিস্থিতিতে সে পালিয়ে যায়। ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি।" পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক পারভেজকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বোমা বিস্ফোরণে জড়িত সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনায় কতজন হামলায় অংশ নিয়েছিল, কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুলিশের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কীভাবে আসামি পালাতে সক্ষম হন—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর কেডিসি কলোনি এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটকের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরে মাদক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যে বাহিনী মাদক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করে, সেই বাহিনীরই একজন সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক রাখার অভিযোগ উঠায় ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তনহাদ আহমেদ নীরব (২৫) নামে ওই কনস্টেবলকে আটক করা হয়। তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) লাইন্সের রেশন স্টোরে কর্মরত ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার অধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের একটি দল কেডিসি কলোনি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে তনহাদ আহমেদ নীরবকে তল্লাশি করা হলে তার কাছ থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন গুরুত্বপূর্ণ? বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অন্যতম প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। ফলে বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে তা শুধু একটি ব্যক্তিগত অপরাধের অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো ব্যবস্থার জবাবদিহিতা, অভ্যন্তরীণ নজরদারি এবং শৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনা বিচ্ছিন্ন হলেও তা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কেডিসি কলোনি ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্তের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আটক কনস্টেবল তনহাদ আহমেদ নীরবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের পরিমাণ, তার উৎস এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না—সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক উদ্ধারের ঘটনাটি শুধু একটি আটক অভিযানে সীমাবদ্ধ না রেখে এর পেছনে সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক বা যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হবে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস কোথায়? আটক কনস্টেবল ব্যক্তিগতভাবে মাদক বহন করছিলেন, নাকি কোনো বৃহত্তর চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন? দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চলছিল কি না? বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না? এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে। বরিশালে ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক পুলিশ কনস্টেবল আটকের ঘটনা শুধু একটি নিয়মিত মাদক উদ্ধারের ঘটনা নয়; বরং এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে ঘটনাটি ব্যক্তিগত অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো চিত্র রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শনিবার (৯ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। আগামীকাল ১০ মে শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরেছে।” তিনি আরও বলেন, জনগণ এখন এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রত্যাশা করে যেখানে গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না এবং মানুষ জানমাল, অবিচার বা নির্যাতনের শঙ্কামুক্ত জীবনযাপন করতে পারবে। এই পরিস্থিতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। “জনগণের আস্থা ছাড়া পুলিশের কাজ কঠিন” প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। তবে জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে পুলিশের দায়িত্ব পালন আরও সহজ হবে। তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। তাঁর ভাষায়, পুলিশ সপ্তাহ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জনগণের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি সুযোগ হওয়া উচিত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার বিবৃতিতে সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার একটি “সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র” গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে মানুষের মনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত না হলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার।” নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উপযোগী ও অনুকূল পরিবেশ পেলে পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম—সাম্প্রতিক নির্বাচন সেই সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের উল্লেখ বাংলাদেশ পুলিশের আন্তর্জাতিক অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের ভূমিকা বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। “জননিরাপত্তায় বিনিয়োগ অপরিহার্য” প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতি একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এজন্য পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
বরিশাল অফিস : বরিশাল জেলায় তিন পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্টে মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি ধরা পড়ায় পুরো পুলিশ বিভাগে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাহিনীকে মাদকমুক্ত রাখতে চলমান নজরদারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার উজিরপুর থানায় কর্মরত সদস্যদের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে ডোপ টেস্ট পরিচালনা করা হয়। তিন দিন আগে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় তিন কনস্টেবলের ফল পজিটিভ আসে। এরপরই তাদের বরিশাল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো সদস্য মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উজিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট তিন সদস্যকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের একাধিক সদস্য, যারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থাকতে চেয়েছেন, জানিয়েছেন যে জেলার সব থানায় ধাপে ধাপে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে উজিরপুর থানার সদস্যদের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুলিশের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। যে কোনো সদস্য মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে, পুলিশের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান জোরদার করার অংশ হিসেবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতে বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি): রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এ মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদ, আকাশ (এনপিবি নিউজ) এবং কাওসার আহমেদ রিপন (আজকের পত্রিকা)। গুরুতর আহত তোফায়েল আহমেদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লাইভ সম্প্রচারের সময় হামলার অভিযোগ জানা যায়, সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানের দৃশ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে সাংবাদিকরা ফেসবুক লাইভে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। এ সময় একদল পুলিশ সদস্য তাদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ‘আজকের পত্রিকা’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসার আহমেদ রিপন জানান, নিজেদের পরিচয় বারবার দেওয়ার পরও পুলিশ কোনো তোয়াক্কা না করে বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। তোফায়েল আহমেদকে মারধর করা হলে তাকে উদ্ধার করতে গেলে অন্য সাংবাদিকদেরও পেটানো হয়। গুরুতর আহত তোফায়েল, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আশঙ্কা সহকর্মীরা জানান, মাথা ও পিঠে আঘাতের ফলে তোফায়েলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। রক্তক্ষরণ ও তীব্র ব্যথা শুরু হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে। বাংলানিউজের নিন্দা ও বিচার দাবি বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর ক্রাইম বিট প্রধান সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট আবাদুজ্জামান শিমুল বলেন, এর আগেও রমনা পার্ক এলাকায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান দায়িত্বশীলভাবে লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ দমন কার্যক্রম ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই সচেষ্ট। তিনি অভিযোগ করেন, একই ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তোফায়েলের ওপর বেপরোয়া হামলা চালানো হয়, যার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তিনি। ডিএমপির আশ্বাস এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, “ভিডিও ফুটেজ যেহেতু রয়েছে, তা পর্যালোচনা করে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জনগুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার এই ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।