অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক বিতর্ক; ডিএমপির তদন্ত চলছে, পদত্যাগের খবর অস্বীকার প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের-
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এ ঘটনার পর তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তাঁর দপ্তর এ খবরকে অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। প্রতিমন্ত্রী নিজেও পদত্যাগের খবরকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ফলে ঘটনাটি এখন শুধু মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র বহর, অভিযানে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে এ খবরের বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পদত্যাগ কিংবা পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর অস্বীকার করা হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা দাবি করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খবর সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী তাঁর সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং তাঁর পদত্যাগের প্রশ্নও ওঠে না।
এ বিষয়ে ইশরাক হোসেনও সংবাদমাধ্যমকে গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দল থেকে নেওয়া হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
তবে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তার পক্ষে সরকার-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য এবং প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতি—দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সরকারের অন্য কোনো দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় পদত্যাগসংক্রান্ত দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
তাঁর নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করছেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীদের কয়েকজনকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরতে দৌড়াতে দেখা যায়। তাঁদের একজন এক তরুণকে লাথি মারেন। ভিডিওতে কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ স্যার।’ অন্য একটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া কতটা আইনসম্মত ও দায়িত্বশীল আচরণ, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনাস্থলে প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও উপস্থিত ছিলেন। নিজস্ব নিয়োগ দেওয়া দেহরক্ষীদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ভিডিওর কিছু অংশে প্রতিমন্ত্রীর হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করা হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। গুলি করার হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে সমালোচনার মুখে রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিবৃতি দেন ইশরাক হোসেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কর্মসূচিটি পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য।
ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ পেয়ে তিনি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগও নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি।
বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানের আগে তিনি জানতে পারেন, মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে। একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করতে করতে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন।
সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।
ইশরাকের দাবি, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত। আত্মরক্ষার জন্যই সেটি প্রদর্শন করা হয়েছিল এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
তবে তাঁর বক্তব্যের এসব দিকের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের আচরণ এবং অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে কতটা নিশ্চিত করা যায়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, অভিযানে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করা হয়েছিল কি না।
ইশরাকের দাবি, মাদকবিরোধী কর্মসূচিটি পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানাননি। পরে তাঁরা অভিযানের কথা জানতে পারেন।
ইশরাকও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর পুলিশকে সেখানে আসতে বলেন তিনি।
দুটি বক্তব্যের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্ন রয়েছে। কর্মসূচি নিয়ে আগে আলোচনা হয়েছিল বলে প্রতিমন্ত্রী যে দাবি করেছেন, তা থেকে নির্দিষ্ট অভিযান সম্পর্কে পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে, পুলিশকে আগে না জানানোর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপটও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
অস্ত্রধারী নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে কোনো জনপ্রতিনিধির এমন অভিযানে যাওয়ার আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আইনগত দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ নিয়ে এ ঘটনায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে—এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।
এ কারণে অস্ত্রটির লাইসেন্স বৈধ কি না, তার পাশাপাশি কোন পরিস্থিতিতে অস্ত্রটি প্রদর্শন করা হয়েছিল, তা আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না এবং প্রদর্শনের ধরন নীতিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল কি না—এসব বিষয়ও প্রাসঙ্গিক।
ইশরাক নিজের অস্ত্রের বৈধতা ও আত্মরক্ষার যুক্তি তুলে ধরেছেন। তবে অস্ত্রের লাইসেন্স বৈধ হওয়া এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অস্ত্র প্রদর্শন আইনসম্মত হওয়া এক বিষয় নয়। এ ক্ষেত্রে ঘটনার প্রেক্ষাপট, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও এবং প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রোববার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তের ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাকে আইন লঙ্ঘন হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কেবল আত্মরক্ষার দাবি বা বৈধ লাইসেন্সের উল্লেখের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে আইনসম্মত বলেও ধরে নেওয়া যায় না।
ভিডিওতে দেখা কর্মকাণ্ড, অভিযানের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের সময়—সবকিছু মিলিয়ে তদন্তের ফলই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নিজের বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, এসব তথ্য উপেক্ষা করে কয়েকটি গণমাধ্যম ঘটনার খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরেছে। তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন।
তবে অভিযানে জব্দ করা সামগ্রীর তালিকা, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ কিংবা সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি। ফলে জব্দ ও আটকের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে তাঁর দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু আটক বা জব্দের সংখ্যা নয়, বরং উদ্ধার করা সামগ্রীর নথিভুক্তি, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনাটি বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে সরকার ও দল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকেনি; প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদেরও বিব্রত করেছে। একজন প্রতিমন্ত্রীর আচরণের দায় মন্ত্রিসভাকেও নিতে হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন তিনি। কোথাও পরিস্থিতির উন্নয়নে সময়সীমাও বেঁধে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর ওই পরিদর্শনের দিন বিকেলেই ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। দল ও সরকার-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, এতে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন ঘিরে তৈরি হওয়া ইতিবাচক আলোচনা আড়ালে পড়ে যায়।
এই প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবরকে কেউ কেউ সরকারের অভ্যন্তরে আচরণ ও জবাবদিহির প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের সম্ভাব্য বার্তা হিসেবে দেখেছেন। তবে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে। তাই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পদত্যাগের খবরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে খবর প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়।
অন্যদিকে, পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এসব সূত্রের পরিচয়, বক্তব্যের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ প্রকাশ্যে না থাকায় দাবিটি যাচাই করা কঠিন।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাংবাদিকতার জন্য জরুরি হলো, অভিযোগ, সূত্রের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাল্টা বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যকে পৃথকভাবে উপস্থাপন করা। বিশেষত মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া সংবাদটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সহায়ক।
গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। প্রথমত, অভিযানের আগে পুলিশের সঙ্গে কী ধরনের সমন্বয় হয়েছিল? দ্বিতীয়ত, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা কতটা বাস্তব ছিল এবং অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি কী ছিল? তৃতীয়ত, অভিযানে জব্দ করা সামগ্রী ও আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশের নথিতে কী তথ্য রয়েছে? চতুর্থত, ডিএমপির তদন্তে অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালা লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় কি না?
এর পাশাপাশি, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রকাশিত খবর এবং তাঁর দপ্তরের অস্বীকৃতির মধ্যকার বিরোধও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু সেই কাজের বৈধতা, পদ্ধতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন জনপ্রতিনিধি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো অভিযানে অংশ নিলে তাঁর উদ্দেশ্যের পাশাপাশি অনুসৃত প্রক্রিয়াও জনস্বার্থে যাচাইযোগ্য হওয়া প্রয়োজন।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, ডিএমপি তদন্ত শুরু করেছে এবং পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর অস্বীকার করেছে। তদন্তের ফল ও সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, ঘটনাটির আইনগত ও রাজনৈতিক পরিণতি কোন দিকে যায়।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
সহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও প্রত্যাহার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ; ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অন্তত ৯টি বিষয়ে ১৯টি নোটিশ, সতর্কপত্র ও প্রশাসনিক আদেশের তথ্য- ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের (বিএফসিসি) জুনিয়র শেফ মো. জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সহকর্মীকে মারধর, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ, দায়িত্বে অবহেলা এবং খাদ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কয়েকটি ঘটনায় অতীতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ সহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে কাজে পুনর্বহাল করেছে কর্তৃপক্ষ। শাস্তি হিসেবে দেওয়া হয়েছে তিরস্কার এবং দুটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধের আদেশ। বিএফসিসির প্রশাসন শাখার সাম্প্রতিক এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর আগে গত ২ মার্চ জহিরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। একই কর্মীর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ ওঠা, বিভিন্ন সময়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সতর্কপত্র জারি, সাময়িক বরখাস্ত এবং পরে তুলনামূলক লঘু শাস্তিতে কাজে ফেরার এই ধারাবাহিকতা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।প্রশ্ন উঠেছে, বারবার অভিযোগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরও কর্মস্থলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পেরেছে? সিসিটিভিতে মারধরের দৃশ্য, এরপর বিভাগীয় তদন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট বিএফসিসির কিচেন চত্বরের ভেতরে এক সহকর্মীকে মারধরের ঘটনা দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন জহিরুল ইসলাম তাঁর এক সহকর্মীকে পরপর চড়-থাপ্পড় মারেন। ভিডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রধান কার্যালয় বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে জহিরুলের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তে ঠিক কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তার বিস্তারিত সাম্প্রতিক অফিস আদেশে প্রকাশ করা হয়নি। বিভাগীয় তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তুলনামূলক লঘু শাস্তি দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মারধরের শিকার এক বিএফসিসি কর্মী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিমানের প্রশাসন সব সময়ই প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবানদের পক্ষে অবস্থান নেয়। কর্মস্থলে বারবার সহকর্মীদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটার পরও, এমনকি তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও নামমাত্র শাস্তি দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলো। এর মাধ্যমে বিমানে অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করা হচ্ছে।” ভুক্তভোগী কর্মীর এই বক্তব্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের চিত্র তুলে ধরে। তবে প্রশাসন প্রভাবশালীদের পক্ষ নেয়—এমন অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া না গেলে এটিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। ১৪ বছরে অন্তত ৯টি বিষয়ে ১৯টি নোটিশ ও প্রশাসনিক আদেশ প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৪ বছরে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে শৃঙ্খলাভঙ্গ, মারধর, খাদ্য সুরক্ষায় অবহেলা এবং অসদাচরণসহ অন্তত ৯টি পৃথক বিষয়ে ১৯টি কারণ দর্শানোর নোটিশ, সতর্কপত্র ও প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়েছে। নথিতে উঠে আসা ঘটনাগুলোর সময়ক্রম নিম্নরূপ: ২০১২: যাত্রীর খাবারে সিনথেটিক ফাইবার ফ্লাইটের এক যাত্রীর খাবারে সিনথেটিক ফাইবার পাওয়ার ঘটনায় জহিরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সতর্কপত্রও জারি করা হয়েছিল। ২০১৩: অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতি বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০১৪–২০১৫: নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের অভিযোগ কর্তব্যরত এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের অভিযোগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এ ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। পরে তাঁকে তিরস্কার করা হয়। ২০১৭: ঊর্ধ্বতন সহকর্মীর সঙ্গে অসদাচরণ একজন ঊর্ধ্বতন সহকর্মীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে জহিরুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তাঁকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। ২০১৯: অনুমতি ছাড়া বিএফসিসির বাইরে যাওয়া প্রাতিষ্ঠানিক পাস বা অনুমতি ছাড়া বিএফসিসির বাইরে যাওয়ার অভিযোগে তাঁর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়। ২০২৩: ফ্লাইটের খাবারে পোকা পাওয়ার ঘটনা ফ্লাইটের খাবারে পোকা পাওয়ার ঘটনায় তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় এবং সতর্ক করা হয়। ২০২৪: নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার নিরাপত্তা তল্লাশির সময় সিকিউরিটি স্টাফদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণের অভিযোগে তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়। ২০২৫: সহকর্মীকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় এক সহকর্মীকে প্রকাশ্যে পরপর দুটি থাপ্পড় মারার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। একই ঘটনায় তাঁর পদোন্নতি দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬: ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগে জহিরুলকে আবারও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সর্বশেষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাঁর বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে কাজে পুনর্বহাল করা হয়েছে। এ ঘটনাগুলোর সব কটিতে অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ এক নয়। কোনো ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ, কোনো ঘটনায় সতর্কীকরণ, আবার কোনো ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে নথিতে অভিযোগ ও আদেশের উপস্থিতি থেকে প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা বা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সিদ্ধান্ত টানা যায় না। তবে এত দীর্ঘ সময়ে একাধিকবার প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য কর্মস্থলের শৃঙ্খলা রক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ভিত্তি তৈরি করে। সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার, শাস্তি তিরস্কার ও ইনক্রিমেন্ট বন্ধ বিএফসিসির প্রশাসন শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে জহিরুল ইসলামকে তিরস্কার এবং দুটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২ মার্চ জারি করা তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে পুনঃপদায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ, বিভাগীয় তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাঁকে চাকরির দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শাস্তির অংশ হিসেবে দুটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধের কথা বলা হলেও, আদেশে কোন কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা মূল্যায়নের জন্য তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত, প্রমাণিত অভিযোগের প্রকৃতি, শাস্তি নির্ধারণের মানদণ্ড এবং একই ধরনের ঘটনায় অন্য কর্মীদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য ছাড়া শাস্তি যথাযথ হয়েছে কি না, কিংবা কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অভিযোগগুলো নিয়ে জহিরুলের বক্তব্য কী? জহিরুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে বরাবরই ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করে আসছেন। তবে সর্বশেষ বিভাগীয় তদন্তে কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং সে বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য কী, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তাঁর অভিযোগ-সংক্রান্ত বক্তব্যের পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। এদিকে, শাস্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের নতুন মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহমেদ জানান, তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ বিষয়ে বিস্তারিত অবগত নন। ফলে সাম্প্রতিক শাস্তি নির্ধারণের যুক্তি, তদন্তের সুপারিশ এবং সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের প্রশাসনিক ভিত্তি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিমানের শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থায় প্রশ্ন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দেশের জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা। এ প্রতিষ্ঠানের ফ্লাইট ক্যাটারিং বিভাগে খাবারের মান, খাদ্য সুরক্ষা, কর্মীদের আচরণ এবং কর্মস্থলের শৃঙ্খলা—সবকিছুরই সরাসরি গুরুত্ব রয়েছে। একই কর্মীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠা এবং একাধিকবার প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও নতুন অভিযোগের সৃষ্টি হওয়া প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। বিমানের অভ্যন্তরীণ কর্মীদের অভিযোগ, বারবার সতর্ক করা বা তুলনামূলক লঘু শাস্তি দেওয়ার কারণে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। তাঁদের কারও কারও মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কর্মীদের মধ্যে বৈষম্যের ধারণা তৈরি করতে পারে এবং কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা দুর্বল করতে পারে। তবে প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ যাচাই করতে হলে শাস্তির নথি, তদন্তের সুপারিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের যুক্তি এবং একই ধরনের ঘটনায় নেওয়া ব্যবস্থার তুলনামূলক তথ্য প্রয়োজন। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক বছরে অভিযোগ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য সামনে আসার পর কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথমত, ২০২৫ সালের মারধরের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তে ঠিক কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে? দ্বিতীয়ত, তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে কী যুক্তি ছিল? তৃতীয়ত, তদন্ত কমিটি কি কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির সুপারিশ করেছিল? চতুর্থত, পূর্ববর্তী অভিযোগগুলোর পর নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকর ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন, শাস্তির আদেশ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মী ও কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের দীর্ঘ ইতিহাস এবং সর্বশেষ বিভাগীয় সিদ্ধান্ত কেবল একজন কর্মীর শাস্তির বিষয় নয়; এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মস্থলের শৃঙ্খলা, অভিযোগ নিষ্পত্তির পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির কার্যকারিতা যাচাইয়েরও একটি সুযোগ। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, প্রমাণের ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারণ এবং সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে কর্মীদের আস্থা রক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে।
মোবাইল নম্বর ব্লক করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ; নিরাপত্তা চেয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন, অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্ত পক্ষের ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের মুলাদী সরকারি কলেজে মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে মারধর ও জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের এক সহপাঠী ও কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) নিরাপত্তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি তদন্তে দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযুক্ত পক্ষ হামলা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, দুই ছাত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। ঘটনাটি ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, বিরোধ নিষ্পত্তিতে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী হওয়ায় ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নম্বর ব্লক করা নিয়ে বিরোধ, এরপর মারধরের অভিযোগ ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের সঙ্গে কলেজের এক সহপাঠীর বন্ধুত্ব ছিল। তাঁরা একসঙ্গে কলেজে যাতায়াতও করতেন। কয়েক দিন আগে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে দুই ছাত্রী ওই সহপাঠীর মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করে দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নম্বর ব্লক করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সহপাঠী বৃহস্পতিবার সকালে অন্য এক সহপাঠীর মাধ্যমে তাঁদের শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নেন। পরে ওই সহপাঠীর বড় বোন নাসরিন আক্তারসহ কয়েকজন বহিরাগত তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন দুই ছাত্রী। লিখিত অভিযোগে তাঁরা দাবি করেন, হামলাকারীরা তাঁদের চুল ধরে টানাটানি করেন, পেটে লাথি মারেন এবং কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় দেন। এ ছাড়া জুতাপেটা, পোশাক ধরে টানাটানি এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কলেজে আসা এবং পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেছেন। নিরাপত্তা চেয়ে ইউএনওর কাছে আবেদন ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শনিবার ইউএনওর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন দুই ছাত্রী। তাঁরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, তাঁরা নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান। অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, তাঁদের আশঙ্কা শুধু ঘটনার সময়কার শারীরিক নির্যাতনেই সীমাবদ্ধ নয়; কলেজে যাতায়াত ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। তবে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য কী? অভিযুক্ত সহপাঠীর বড় বোন নাসরিন আক্তার তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বহিরাগতদের নিয়ে দুই ছাত্রীকে পরিকল্পিতভাবে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন। নাসরিনের দাবি, তাঁর ছোট বোনের নামে বদনাম করায় ওই দুই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।অর্থাৎ, ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে কিছুটা মিল থাকলেও শারীরিক নির্যাতনের ধরন, ঘটনার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ভিডিওতে মারামারির দৃশ্য ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কলেজ চত্বরে কয়েকজন তরুণী ও ছাত্রীকে বাগ্বিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। ভিডিওতে কয়েকজনকে দুই ছাত্রীর চুল ধরে টানতে, চড়-থাপ্পড় মারতে এবং জুতাপেটা করতে দেখা যায় বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, অভিযোগ তদন্তে দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ইউএনও ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, মুলাদীর ইউএনও মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, ঘটনাটি কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব কলেজের অধ্যক্ষকে দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে তদন্ত কমিটি কবে প্রতিবেদন দেবে, কমিটির কার্যপরিধি কী এবং তদন্তে কার কার বক্তব্য নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। থানায় মামলা হয়েছে কি? ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত পুলিশের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত শুরু করেছে কি না, সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ ইউএনওর কার্যালয়ে জমা হয়েছে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার পরবর্তী আইনি পরিণতি এখনো নির্ধারিত হয়নি। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রথমত, দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন এবং তাঁদের কলেজ চত্বরের বাইরে থেকে কেউ সেখানে এসেছিলেন কি না। দ্বিতীয়ত, ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা কী এবং ভিডিওটি ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট তুলে ধরে কি না। তৃতীয়ত, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পক্ষে প্রত্যক্ষদর্শী বা অন্য কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না। পাশাপাশি, দুই ছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত-সিদ্ধান্ত বা আইনি দায় নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষের বক্তব্যের পার্থক্য বিবেচনায় অভিযোগের প্রতিটি দিক যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হলেও অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্যাতনের অভিযোগ মোকাবিলার প্রশ্নও সামনে আসবে। এখন নজর কলেজের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে। তদন্তে কী উঠে আসে এবং ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়, তার ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক মো. রেজাউল বারীকে ঘিরে ৬০ কোটি টাকার কথিত ঋণচুক্তি, ২৪ মাসে সার্ভিস চার্জসহ ১৬৮ কোটি টাকা পরিশোধের শর্ত এবং তাঁর সরকারি পদায়নের সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ৬০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন রেজাউল বারী। কথিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২৪ মাসের মধ্যে সার্ভিস চার্জসহ মোট ১৬৮ কোটি টাকা পরিশোধের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়। এ জন্য সোনালী ব্যাংকের কয়েকটি ফাঁকা চেক দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ৬০ কোটি টাকার ঋণ, পরিশোধের অঙ্ক ১৬৮ কোটি অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ৬০ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ২৪ মাসে মোট ১৬৮ কোটি টাকা পরিশোধের কথিত শর্ত। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই অর্থ পরিশোধের মধ্যে সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং চুক্তির বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের কয়েকটি ফাঁকা চেক দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে উত্থাপিত অঙ্ক অনুযায়ী, ঋণের মূল অর্থ ৬০ কোটি টাকা এবং প্রস্তাবিত মোট পরিশোধের অঙ্ক ১৬৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মূল ঋণের তুলনায় পরিশোধের পরিমাণ ১০৮ কোটি টাকা বেশি। এখানে চুক্তিতে উল্লিখিত সার্ভিস চার্জের হার, হিসাবের পদ্ধতি, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এবং অর্থ পরিশোধের শর্তাবলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। পদায়নের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র আছে কি? দুদকে জমা দেওয়া আবেদনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে—কথিত ঋণচুক্তির সঙ্গে রাজউকের পরিচালক পদে রেজাউল বারীর পদায়নের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না।এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে তাঁর পদায়নসংক্রান্ত সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সময়কাল এবং কথিত আর্থিক লেনদেনের সময়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে, ঋণচুক্তি যদি বাস্তবে সম্পাদিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন হিসেবে সংঘটিত হয়েছিল, নাকি এর সঙ্গে কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা দাপ্তরিক সুবিধার সম্পর্ক ছিল—তা পৃথকভাবে যাচাই করা দরকার। দুদকের কাছে যেসব বিষয়ে অনুসন্ধানের আবেদন দুদকে জমা দেওয়া লিখিত আবেদনে মূলত পাঁচটি বিষয়ে অনুসন্ধানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১. ঋণচুক্তির সত্যতা যাচাই: চুক্তির মূল কপি, স্বাক্ষর, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং চুক্তিতে উল্লেখিত পক্ষগুলোর পরিচয় পরীক্ষা করা। ২. অর্থের উৎস ও লেনদেনের প্রকৃতি: ৬০ কোটি টাকার কথিত ঋণের অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে লেনদেন হয়েছে এবং সার্ভিস চার্জের হিসাব কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে, তা যাচাই করা। ৩. ফাঁকা চেক দেওয়ার অভিযোগ: সোনালী ব্যাংকের কথিত চেকগুলোর অস্তিত্ব, মালিকানা, নম্বর, ব্যবহার এবং চুক্তির সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক পরীক্ষা করা। ৪. পদায়নে অনিয়মের সম্ভাবনা: রাজউকে পরিচালক পদে পদায়নের প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা। ৫. আইনগত ব্যবস্থা: অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। আবেদনটিতে জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দুদক চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। নথি যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ঘিরে বিপুল অঙ্কের ঋণচুক্তি এবং সরকারি পদায়নের সম্ভাব্য যোগসূত্রের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার পরিবর্তে প্রমাণ, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে চুক্তির সত্যতা, ব্যাংকিং নথি, অর্থের উৎস, সার্ভিস চার্জের হিসাব এবং পদায়নসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা যেতে পারে। জনস্বার্থে এখন মূল প্রশ্ন হলো—কথিত ৬০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি বাস্তবে হয়েছিল কি না, ১৬৮ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তের ভিত্তি কী এবং এর সঙ্গে সরকারি পদায়নের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধানই এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।