Brand logo light

মানবিক সংকট

মনপুরায় পানির নিচে জীবন: ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, ত্রাণহীন দুর্ভোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :        টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে ভোলার উপকূলীয় উপজেলা মনপুরার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। খাল-বিল, বসতঘর ও রাস্তাঘাট একাকার হয়ে তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় নিম্নাঞ্চলে পানি আটকে রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্নআয়ের মানুষ। কয়েক দিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বহু ঘরে রান্নার চুলা জ্বলছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনেকে চিড়া-মুড়ি খেয়ে কোনোভাবে দিন পার করছেন। তবে অধিকাংশ পরিবারে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। তারা দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল এবং নিরাপদ পানির সহায়তা চেয়েছেন। পানি নামছে না, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ও স্যানিটেশন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ঘরের ভেতর, উঠান এবং চলাচলের পথ পানিতে ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেও মনপুরায় থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সূর্যের দেখা মেলেনি। এতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। পাঁচ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের খাড়ির খাল এলাকা, মাস্টারহাট, লতাখালী ও বাতানখালী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে। এছাড়া বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমান গ্রাম, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট ও চরযতিনের নিম্নাঞ্চল, সোনারচর গ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ এবং মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক ও আন্দিড়পার এলাকাতেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পাশাপাশি বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চললেও পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। হাজিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার, আল-আমিন ও আক্তার হোসেন; দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ডা. কামাল হোসেন ও শ্রীকৃষ্ণ; উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের রিপন ও হাসান; এবং মনপুরা ইউনিয়নের মমিন তালুকদার, জিসান চন্দ্র দাস ও শুভ্র জানান, কয়েকটি স্লুইসগেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, খাল দখল ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে নামতে পারছে না। ফলে পানি আটকে গিয়ে লোকালয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত স্লুইসগেট সংস্কার, খাল পুনঃখনন এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ, ক্ষোভ বাড়ছে দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যক্তি বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত খোঁজ নেওয়া হয়নি। তারা জানান, কোনো ত্রাণ সহায়তাও এখনও পৌঁছায়নি। দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। প্রশাসনের বক্তব্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, সারা দেশের মতো মনপুরাতেও টানা বর্ষণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা সমাধানে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। কেন বারবার ডুবে যায় মনপুরা? মনপুরার বর্তমান জলাবদ্ধতা শুধু কয়েক দিনের বৃষ্টির ফল নয়—স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অকেজো স্লুইসগেট, খালের সংকোচন এবং অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে উপকূলীয় এই জনপদ বারবার পানির সংকটে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অতিবৃষ্টি এবং জোয়ারের পানির চাপ মোকাবিলায় শুধু বাঁধ নির্মাণ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত খাল রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্যকর নিষ্কাশন অবকাঠামো। মনপুরার বাসিন্দাদের এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অস্থায়ী সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কবে আসবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
বৈদেশিক সহায়তা কমায় বিপন্ন মানবিক সুরক্ষা: জরুরি সহায়তা হারিয়েছেন অন্তত ১০ লাখ নারী ও কিশোরী

জেনেভা: বৈদেশিক সহায়তায় ব্যাপক কাটছাঁটের ফলে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১০ লাখ নারী ও কিশোরী জরুরি মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। একই সময়ে প্রয়োজন বাড়লেও নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলো অর্থসংকটে টিকে থাকার লড়াই করছে। জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রতিবেদনটি বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নারী ও কিশোরীদের জন্য পরিচালিত জরুরি সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয় এবং সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসূচিতে। এতে বিশ্বের বহু সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। সহায়তা কমল কেন? গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেন। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাতা দেশও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার বাজেট সংকুচিত করেছে। ইউএন উইমেন বলছে, এই অর্থসংকোচনের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারী ও কিশোরীরা।   'প্রত্যাহার করা প্রতিটি ডলার মানে একজন নারীর কাছ থেকে সহায়তা কেড়ে নেওয়া' ইউএন উইমেনের মানবিক কার্যক্রম বিভাগের প্রধান সোফিয়া কালতোর্প বলেন, "বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা নারী সংগঠনগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের সামনের সারিতে কাজ করছে। নারী সংগঠনগুলোর জন্য প্রত্যাহার করা প্রতিটি ডলার মানে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তি, বাস্তুচ্যুত মা, স্কুলছুট হতে বাধ্য হওয়া কিশোরী এবং টিকে থাকার লড়াই করা জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে এক ডলার করে সহায়তা প্রত্যাহার করা।"   সংঘাত বাড়ছে, অথচ কমছে সহায়তা ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র সংঘাত এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ১২ কোটি নারী ও কিশোরীর মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজন বাড়লেও সহায়তার উৎস সংকুচিত হওয়ায় মাঠপর্যায়ের সংগঠনগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে।   যা বলছে জরিপ সংকটকবলিত ৫২টি দেশের নারী নেতৃত্বাধীন ও নারীর অধিকারভিত্তিক ৮৫৫টি সংগঠনের ওপর পরিচালিত জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র— ৮৪ শতাংশ সংগঠন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেবার চাহিদা বেড়েছে। প্রতি ১০টির মধ্যে প্রায় ৯টি সংগঠন বর্তমান চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। প্রতি ৫টির মধ্যে ২টি সংগঠন আগামী এক বছরের মধ্যে আংশিক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে। ৬৫ শতাংশ নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনে কর্মীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করছেন। প্রায় অর্ধেক সংগঠন জানিয়েছে, কর্মীদের মানসিক ও শারীরিক অবসাদ দ্রুত বাড়ছে।   যৌন সহিংসতা বাড়ছে, ভেঙে পড়ছে সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার ঘটনা দ্বিগুণ হয়েছে। অথচ একই সময়ে ভুক্তভোগীদের জন্য গড়ে ওঠা সহায়তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো অর্থসংকটে ভেঙে পড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৬ শতাংশ সংগঠন জানিয়েছে, তারা যেসব এলাকায় কাজ করছে সেখানে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে। ইউএন উইমেনের মতে, এর বাস্তব প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। একজন নির্যাতিত নারী আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে সেটি বন্ধ দেখতে পারেন। একজন গর্ভবতী নারীকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটতে হতে পারে। আবার কোনো মা তাঁর সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তাও নাও পেতে পারেন।   সংকট শুধু অর্থের নয়, অধিকারেরও ইউএন উইমেন বলছে, এই সংকট শুধু মানবিক সহায়তার সীমাবদ্ধতা নয়; এটি বিশ্বজুড়ে নারী ও কিশোরীদের অধিকার রক্ষার সংগ্রামকেও দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী— প্রতি ৫টি সংগঠনের একটি ইতোমধ্যে নারীর নেতৃত্ব ও লিঙ্গসমতা বিষয়ক কার্যক্রম স্থগিত করেছে। অর্ধেকের বেশি সংগঠন স্থানীয় নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করছে। সংস্থাটির ভাষ্য, নারী সংগঠনগুলোর বিলুপ্তি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এমন এক সময়ে এটি ঘটছে, যখন বিশ্বজুড়ে নারী ও কিশোরীদের অধিকারের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া আরও জোরালো হয়ে উঠছে।   সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে কারা? প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত করছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সেইসব নারী ও কিশোরীর ওপর, যারা যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট ও যৌন সহিংসতার মতো বহুমাত্রিক সংকটের মধ্যে বসবাস করছেন। অর্থায়ন কমে যাওয়ার ফলে স্থানীয় নারী সংগঠনগুলোর সক্ষমতা দুর্বল হলে শুধু জরুরি সহায়তাই নয়, দীর্ঘমেয়াদে নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নেতৃত্ব বিকাশের উদ্যোগও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা: ৭.৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ত্রাণ না পৌঁছানোয় সাতকানিয়া-বাঁশখালীতে গভীর মানবিক সংকট

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায়। প্রশাসনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জেলার সাতটি উপজেলায় অন্তত ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কিন্তু দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা এখনও বহু মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখন সবচেয়ে বড় সংকট শুধু বন্যার পানি নয়; বরং খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও আশ্রয়ের বহুমাত্রিক সংকট। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হলেও বাস্তবে অনেক মানুষ এখনও সহায়তার বাইরে রয়েছেন। সবচেয়ে সংকটে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুধু এই উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি। অন্যদিকে বাঁশখালীর পশ্চিমাঞ্চলের কাথারিয়া, বড়ইতলী, গণ্ডামারা, ডোমরা, কদমরসূল, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, চাম্বল, ছনুয়া, শেখেরখীল, সরল, রায়ছাটা ও পুঁইছড়িসহ উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা প্রায় সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। অনেক একতলা বাড়ি পুরোপুরি ডুবে গেছে। কাঁচা ঘর ভেঙে পড়েছে, আর পাকা ও আধাপাকা ঘরের নিচতলায় কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে গেলেও অনেকে এখনও বাড়ির ছাদ কিংবা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। "রান্না করারও সুযোগ নেই" বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার সাঈফী বলেন, "বন্যার পানির কারণে ঘরে রান্না করা যাচ্ছে না। সরকারি সহায়তাও তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। খাবারের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।" স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম এলাকায় নৌযান সংকট এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বহু পরিবার এখনও ত্রাণের অপেক্ষায়। বিদ্যুৎহীন জনপদ, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর অধিকাংশ এলাকায় কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। ফলে— মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন অনেকেই। রাতে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট আরও প্রকট হয়েছে। রান্না করার সুযোগ না থাকায় শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বন্যাকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং একটি মানবিক সংকটে পরিণত করেছে। প্রশাসনের দাবি বনাম বাস্তবতা জেলা প্রশাসন বলছে, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা শুক্রবার সাতকানিয়ার ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা পরিদর্শন করে ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল— ১ কেজি মুড়ি ১ কেজি চিড়া ১ কেজি চিনি দুটি বিস্কুট ২ লিটার বিশুদ্ধ পানি চারটি মোমবাতি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ তবে প্রশাসনও স্বীকার করেছে, সব এলাকায় এখনও ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসক বলেন, "অনেক এলাকায় সাধারণ নৌকাও পৌঁছাতে পারছে না। তাই দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।" সেনাবাহিনীর স্পিডবোট নামছে উদ্ধার অভিযানে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে শনিবার থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন এলাকায় কতটি স্পিডবোট প্রয়োজন এবং কোথায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অভিযান চালাতে হবে—সে বিষয়ে সেনাবাহিনীকে লিখিত তালিকা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সন্দ্বীপে সহায়তা করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী— ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫ জন। ত্রাণের হিসাব এ পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে— ৭০০ মেট্রিক টন চাল ৬০ লাখ টাকা এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে— ৩০০ মেট্রিক টন চাল ৪৩ লাখ টাকা ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বর্তমানে প্রশাসনের মজুদে রয়েছে— আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ১৭ লাখ টাকা সাতকানিয়ার জন্য আলাদাভাবে ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ জেলায় মোট ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ২৩ হাজার ৮৫০ জন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের মতে, গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত আরও কমলে পাহাড়ি ঢলের পানিও নেমে যেতে পারে। তবে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে সাংগু নদীর পানি, যা শনিবার বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্লুইসগেট সচল রাখা এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে।  শুধু বন্যা নয়, পরীক্ষায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাও চট্টগ্রামের এবারের বন্যা কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতাই নয়, দুর্গম এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা, উদ্ধার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী মানবিক সহায়তা ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যেখানে প্রশাসনের হিসাবে লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, সেখানে স্থানীয়দের অভিযোগ—ত্রাণ এখনও অনেকের কাছে পৌঁছেনি। ফলে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকট যত দীর্ঘ হবে, মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিও তত বাড়বে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
পাহাড়ের ঢালে অনিশ্চিত জীবন: উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও প্রাণ গেল আটজনের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একদিকে টানা বর্ষণ, অন্যদিকে নরম হয়ে আসা পাহাড়ের মাটি। গভীর রাতে মুহূর্তের ব্যবধানে ধসে পড়া মাটির নিচে চাপা পড়ে নিভে গেল আটটি জীবন। কিন্তু সেই মৃত্যুর পরও বদলায়নি বাস্তবতা—কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে এখনও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন লাখো মানুষ। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা, মাইকিং এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আশ্রয়ের সীমাবদ্ধতা, ঘনবসতি এবং বিকল্প জায়গার অভাবে বহু পরিবার এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়ে গেছে। ফলে যেকোনও সময় আবারও ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানি। পাহাড় কেটে তৈরি আশ্রয়, বর্ষায় বাড়ে বিপদ বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছেন ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের পর প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষের জন্য পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে বসতি গড়ে ওঠায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হলেই এসব এলাকায় তৈরি হয় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঝুঁকি। প্রতি বছরই ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সোমবার গভীর রাতে উখিয়ার ৭ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজন নিহত হন। ঘটনার পর ক্যাম্পজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে পাহাড়ঘেঁষা বসতিতে থাকা হাজারো পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন আতঙ্ক। আট মৃত্যুর পরও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে মানুষ স্থানীয় প্রশাসন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের সময় অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিছু পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে অবস্থান করছেন। এ কারণে নতুন করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কাটছে না। ৭ নম্বর ক্যাম্প: পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা জনপদ উখিয়ার কুতুপালং টিভি টাওয়ারসংলগ্ন পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে ৭ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির। এখানে ১০ হাজারের বেশি পরিবারের প্রায় অর্ধলাখ রোহিঙ্গার বসবাস। ক্যাম্পটির বড় একটি অংশ পাহাড়ের ঢাল ও নিচু এলাকায় অবস্থিত। বর্ষা এলেই এসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয় চরম উদ্বেগ। সোমবার রাতের পাহাড়ধসে এই ক্যাম্পে মো. একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ৭ নম্বর ক্যাম্পের চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা আবদুল মাবুদ বলেন, পুরো ক্যাম্পই পাহাড় কেটে তৈরি হওয়ায় টানা বৃষ্টির সময় প্রায় অর্ধলাখ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কিছু পরিবারকে লার্নিং সেন্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। নয়টি ক্যাম্পে বড় ঝুঁকি খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে অন্তত নয়টি ক্যাম্প পাহাড়ধসের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ এবং খাড়া ঢালজুড়ে তৈরি হওয়া অসংখ্য বসতিতে বসবাস করছেন এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। বর্ষার ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এসব পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ক্যাম্প-১৫-এর বাসিন্দা মো. আক্তার বলেন, বর্ষা এলেই তাদের ভয় বেড়ে যায়। সোমবার রাতের পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এমন ঘটনা ক্যাম্পবাসীর মধ্যে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এখনও টানা বৃষ্টি চলছে। কেউ জানেন না কখন কোথায় আবার পাহাড় ধসে পড়বে। প্রশাসনের সতর্কতা, কিন্তু সংকট রয়ে গেছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বড় অংশ পাহাড় কেটে তৈরি হওয়ায় ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ে। তিনি বলেন, সোমবারের ঘটনায় নারী-শিশুসহ আটজনের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো—ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও বিকল্প জায়গার অভাবে বহু মানুষ এখনও বিপজ্জনক ঢালেই বসবাস করছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে উদ্বেগ কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী দুই দিন কক্সবাজারে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। বারবার সতর্কতার পরও কেন থামছে না ঝুঁকি? রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস এখন শুধু একটি মৌসুমি দুর্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, পাহাড় কেটে বসতি তৈরি, সীমিত পুনর্বাসন সুযোগ এবং বর্ষার তীব্রতা—সব মিলিয়ে প্রতিবছর নতুন করে তৈরি হচ্ছে প্রাণহানির আশঙ্কা। প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—আর কত প্রাণহানির পর পাহাড়ের ঢালে বসবাসরত মানুষগুলোকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া সম্ভব হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0
লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনে বাস্তুচ্যুত ১০ লাখ মানুষ
লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত, ১৪ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন

বৈরুত: লেবাননে ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে বর্তমানে অন্তত ১৪ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার বৈরুতে আয়োজিত একটি সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন লেবাননে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী ইমরান রিজা। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও শুধু ত্রাণ বিতরণ করে লেবাননের চলমান সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির সংকট এখন কেবল মানবিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ইমরান রিজা আরও বলেন, বাস্তুচ্যুতি, জীবিকা সংকট এবং কর্মসংস্থানের ওপর যুদ্ধের প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে শ্রমবাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ২৭৮ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে এলো, যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় এবং জীবিকা সংকটও ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১, ২০২৬ 0
এক পরিবারের চারজনই প্রতিবন্ধী
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে একই পরিবারের চার প্রতিবন্ধীর মানবেতর জীবন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামে একই পরিবারের চারজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সদস্য দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্য ও অবহেলার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। জরাজীর্ণ ঘর, খাদ্য সংকট এবং উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় তাদের দিন কাটছে মানবেতর অবস্থায়। সরেজমিনে যা দেখা গেছে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারটির বসবাস একটি ভাঙাচোরা টিনের ঘরে। মরিচা ধরা টিনের চালের বিভিন্ন ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি সরাসরি ঘরের ভেতরে পড়ে। ঘরের ভেতরে আসবাবপত্র বলতে রয়েছে একটি মাত্র কাঠের চৌকি, যেখানে চারজন সদস্য গাদাগাদি করে বসবাস করেন। পরিবারটির সদস্যরা হলেন— আতিয়ার মোল্লা (৪২), তার স্ত্রী রহিমা বিবি (৩৯), এবং তাদের দুই সন্তান আশা আক্তার (২০) ও মো. বাদল মোল্লা (১৬)। তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বোঝা যায়, তারা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে বা প্রশ্ন বুঝতে সক্ষম নন। পরিবারের বক্তব্য আতিয়ারের বৃদ্ধ পিতা আকবর মোল্লা জানান, তার ছেলে জন্ম থেকেই শ্রবণ ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ভবিষ্যতে স্বাভাবিক হওয়ার আশায় তিনি তাকে বিয়ে করান। কিন্তু পরে জানা যায়, পুত্রবধূ রহিমা বিবিও একই ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার। তাদের দুই সন্তানও একই অবস্থায় জন্ম নেয়। প্রতিবেশীদের অভিজ্ঞতা স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম ও সহিতন বেগম জানান, পরিবারের কেউই কর্মক্ষম নয়। ফলে কোনো কাজও পায় না তারা। প্রতিবেশীদের সহায়তায় যে খাবার জোটে, তা দিয়েই কোনোভাবে বেঁচে আছেন চারজন। স্থানীয় পর্যায়ের উদ্বেগ স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাদের উপার্জনের কোনো সুযোগ নেই। বিশেষ করে বর্ষাকালে তাদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।” প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাথী দাস জানান, “পরিবারটির দুরাবস্থার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের ঘর মেরামতের জন্য টিন প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।” তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসীদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সহায়তার আহ্বান এই অসহায় পরিবারটিকে সহযোগিতা করতে আগ্রহীরা আতিয়ারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নারগিস পারভীনের সঙ্গে ০১৯৫৪১৩৮৪০৬ (বিকাশ পার্সোনাল) নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
ঝালকাঠিতে জরাজীর্ণ ঘরে নির্মল বেপারীর মানবেতর জীবন
ঝালকাঠিতে জরাজীর্ণ ঘরে নির্মল বেপারীর মানবেতর জীবন: আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসনের দাবি

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :ঝালকাঠি জেলায় এক হৃদয়বিদারক মানবিক চিত্র সামনে এসেছে। জরাজীর্ণ খুপরি ঘরে খেজুর পাতার ছাউনি ও তালি দেওয়া পলিথিনে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছেন নির্মল বেপারী ও তার পরিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরে পানি চুঁইয়ে পড়ে, আর ঝড়-বৃষ্টির শব্দেই আতঙ্কে কেঁপে ওঠে পুরো পরিবারটি। নির্মল বেপারীর বসবাসের স্থানটিকে আদৌ ঘর বলা যায় কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। সামান্য বৃষ্টিতেই ভেঙে পড়া ছাউনি আর নড়বড়ে কাঠামোর মধ্যেই টিকে আছে তাদের জীবন। নির্মল বেপারী জানান, “বৃষ্টি নামলেই রাতে ঘুম ভেঙে যায়। শিশুদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হয়। নতুন ঘর নির্মাণের সামর্থ্য না থাকায় বাধ্য হয়েই এমন অবস্থায় দিন পার করছি।” এলাকাবাসী বলছেন, সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দ্রুত এই পরিবারটিকে পুনর্বাসন করা জরুরি। না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরও জানান, শুধু নির্মল বেপারী নন, এলাকায় এমন আরও অনেক অসহায় পরিবার রয়েছে যারা এখনো মৌলিক আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
দেড় বছর ধরে ভাতাবঞ্চিত আবদুল মজিদ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নেত্রকোনায় জীবিত বৃদ্ধ ‘মৃত’ তালিকায়: দেড় বছর ধরে বন্ধ বয়স্ক ভাতা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রায় ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ সরকারি নথিতে ‘মৃত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় দেড় বছর ধরে বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভুক্তভোগী আবদুল মজিদের বাড়ি উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামে। তিনি দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে সরকারি বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে হঠাৎ করেই প্রায় দেড় বছর আগে তাঁর ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি তালিকায় তাঁকে মৃত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমস্যার সমাধানে আবদুল মজিদ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের দ্বারস্থ হলেও এখনো কোনো কার্যকর সমাধান পাননি। আবদুল মজিদ বলেন, “আগে ভাতার টাকা পাইলে ওষুধ কিনতাম, ভালো কিছু খাইতাম। দেড় বছর ধরে পাই না। বুড়া হইয়া গেছি, একটু ভালো খাইতে মন চায়।” তাঁর ছেলে আবুল বাসার জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করেন। পরে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গেলেও এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ ফকির বলেন, জীবিত একজন মানুষকে কাগজে মৃত দেখানো চরম অবহেলার পরিচয়। দ্রুত ভুল সংশোধনের দাবি জানান তিনি। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো হালনাগাদ তালিকায় আবদুল মজিদকে মৃত দেখানো হয়। এমনকি একটি মৃত সনদও জমা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে উল্লেখ ছিল ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তিনি মারা গেছেন। এর ভিত্তিতেই তাঁর পরিবর্তে অন্য একজনকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম দাবি করেছেন, তথ্য হালনাগাদের সময় তিনি আবদুল মজিদকে মৃত হিসেবে দেখাননি। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুল তালুকদার জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুতই আবদুল মজিদ পুনরায় ভাতা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0