ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক ঘিরে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে শান্তির ইঙ্গিত মিললেও, একইসঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদার করছে তেহরান। ফলে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে তৈরি হয়েছে দ্বৈত বাস্তবতা—একদিকে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা, অন্যদিকে আরও ভয়াবহ সংঘাতের হুঁশিয়ারি। ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ’ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনা ভেস্তে গেলে সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত রয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা আগেই বলেছিলেন, “ট্রিগারে হাত রেখেই” তারা আলোচনায় বসেছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও “জায়নবাদী শাসন” ইসরাইলের অতীত ভূমিকা এবং বর্তমান সামরিক অবস্থান বিবেচনায় রেখে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে। তাসনিমকে দেওয়া এক সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও “ভুল হিসাব” করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন বা “অপরাধমূলক পদক্ষেপ” নেয়, তাহলে তারা “ইরানের তৃতীয় ধাপের মোকাবিলা”র মুখে পড়বে। সূত্রটি দাবি করেছে, এই নতুন সামরিক কৌশল আগের দুই দফা সংঘাত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। লক্ষ্য নির্বাচন, সামরিক পদ্ধতি, প্রযুক্তি এবং ব্যবহৃত সরঞ্জাম—সব ক্ষেত্রেই ভিন্ন মাত্রার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের। যুদ্ধবিরতির খসড়ায় কী থাকছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছে, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তিতে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর অতিরিক্ত কোনো টোল আরোপ করা হবে না। এছাড়া ওই অঞ্চলে স্থাপন করা নৌ-মাইন সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও ইরান নিতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু বন্দর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া এবং দেশটির তেল খাতে আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ও বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা ইরানের বৈদেশিক তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ কমানোর বিনিময়ে ইরানের কাছ থেকে কৌশলগত ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন সমীকরণ সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। একইসঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রস্তাবনায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। যদিও তেহরান অতীতে বারবার দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ওয়াশিংটন। একই ধরনের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগরেহিও দুই দেশের অবস্থান আগের তুলনায় “অনেক কাছাকাছি” এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত কার হাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি সর্বোচ্চ নেতাআলী খামেনি-এর অনুমতি ছাড়া চূড়ান্ত হবে না। তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশে কোনো সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোর বাইরে এবং সর্বোচ্চ নেতার অনুমতি ছাড়া নেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভাজন তৈরি করে এমন যেকোনো বক্তব্য কার্যত “শত্রুর অবস্থানকে শক্তিশালী করে।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ইরানের ক্ষমতা কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধ থামলেও উত্তেজনা কি থামবে? সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খুলে গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ইরানের ধারাবাহিক সামরিক হুঁশিয়ারি স্পষ্ট করছে, অবিশ্বাস এখনো পুরোপুরি কাটেনি। চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পুরো সময়জুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকতে পারে। যদিও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা কার্যকর হলে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এই আলোচনা কেবল যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টা নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণেরও একটি বড় পরীক্ষা।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং(আইআরআইবি)। সোমবার নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরআইবি দাবি করে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবটি ছিল মূলত “ট্রাম্পের লোভের কাছে ইরানের নতি স্বীকার” করানোর প্রচেষ্টা। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের পক্ষ থেকে পাঠানো পাল্টা জবাবে “ইরানি জাতির মৌলিক অধিকার” রক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইআরআইবি আরও জানায়, ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণহরমুজ প্রণালী–এর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেহরান দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি অর্থ ও সম্পদ মুক্ত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও উভয় পক্ষের অবস্থান এখনো স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী রয়ে গেছে।
মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, গুরুতর আহত অবস্থায় জনসমক্ষে না এলেও ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্তে এখনো প্রভাব রাখছেন মুজতবা খামেনি। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে উদ্বেগ বাড়ছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের মধ্যে। ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের প্রভাবশালী নেতা মুজতবা খামেনিকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকলেও তিনি এখনো ইরানের যুদ্ধ ও কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শনিবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামো আগের তুলনায় আরও জটিল ও অস্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মুজতবা খামেনির প্রভাব এখনো গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান অবশ্য এসব দাবি পুরোপুরি নাকচ করেছে। তেহরানের কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি সুস্থ আছেন এবং তার আঘাত দ্রুত সেরে উঠছে। জনসমক্ষে অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন যুদ্ধ শুরুর দিকে ভয়াবহ হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। ওই হামলায় মুজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন বলে দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের। এরপর থেকেই তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তার অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কারণ তিনি কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবহার করছেন না। বরং সীমিত পরিসরে দূত বা সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব তথ্যের বড় অংশ অস্বীকার করেছে। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি মুজতবা খামেনির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন। যুদ্ধের পর এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রথম প্রকাশ্য বৈঠক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন আলোচনা এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে দ্রুত জবাব আসতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আজ রাতেই জবাব আসতে পারে। আমরা একটি চিঠির অপেক্ষায় আছি।” তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে কী রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এর আগে ইরানের দুটি ট্যাংকার জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করায় ওই ট্যাংারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে বড় সামরিক সংঘাত শুরু হয়। প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা ওই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। যদিও যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেটির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন। ইউরোপে বাড়ছে উদ্বেগ বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার চাপ পড়েছে ইউরোপের অর্থনীতিতে। একই সময়ে জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা কমানোর ঘোষণা এবং ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি হ্রাসের ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, ইউরোপীয় মিত্ররা নিজেদের নিরাপত্তা ব্যয়ের যথেষ্ট অংশ বহন করছে না। মিত্রদের মধ্যে আস্থার সংকট হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরান ইস্যুতে ইউরোপের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সহায়তা দেয়নি। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সক্রিয় হচ্ছে। যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, আঞ্চলিক সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ পুরোপুরি আত্মনির্ভর হতে এখনো সময় লাগবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি তাদের নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় নতুন হিসাব মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া অনেকের কাছে যথেষ্ট কঠোর মনে হয়নি। কিছু মিত্র দেশ আশঙ্কা করছে, ইরানের সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতা হলে যা তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, তাহলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশীয় মিত্ররাও পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ও জোটভিত্তিক কূটনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন তাদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তাইওয়ান ইস্যুতে ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। সুযোগ নিচ্ছে চীন ও রাশিয়া আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে চীন ও রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগ বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে বেইজিং ও মস্কো নিজেদের প্রভাব আরও শক্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে চীন নিজেকে আরও নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত মিলছে। এখন চূড়ান্ত সমঝোতার দর–কষাকষিতে রয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ইরানের ইউরেনিয়াম। সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান তার সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে। তার বিনিময়ে ইরানের জব্দ করা দুই হাজার কোটি ডলার ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এমন চুক্তিই হচ্ছে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনার বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দর-কষাকষিতে পৌঁছেছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত দেওয়া। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার ফেরত দিতে পারে—যদিও বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার অগ্রগতি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতে এপ্রিলের শুরু থেকে একটি অনানুষ্ঠানিক বিরতি চলছে। এরপর থেকে বিভিন্ন টানাপোড়েন সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চূড়ান্ত আলোচনার জন্য খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই বৈঠক পাকিস্তানের ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। ইউরেনিয়াম নিয়ে মূল বিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। বিশেষ করে প্রায় ২০০০ কেজি ইউরেনিয়াম, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি রয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় ওয়াশিংটন। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান তার সব পারমাণবিক উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিক। তবে ইরান এতে সম্মত নয়। বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে এখন আলোচনা চলছে—উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়ামের একটি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইরানের ভেতরেই কম সমৃদ্ধ করা। অর্থ ফেরত ও শর্ত নিয়ে টানাপোড়েন আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা ইরানের অর্থ ফেরত দেওয়া। শুরুতে খাদ্য ও ওষুধ কেনার জন্য ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইরান দাবি করে ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের একটি মধ্যবর্তী অঙ্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, “কোনো অর্থ লেনদেন হবে না”—যা আলোচনার অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। সমঝোতার খসড়া ও সময়সীমা খসড়া সমঝোতা স্মারকে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ২০ বছরের স্থগিতাদেশ চাইলে ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দেয়। এখন এই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য চুক্তি হলে ৩০ দিনের একটি পর্যবেক্ষণকাল শুরু হবে। এই সময়ে পারমাণবিক কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। হুমকি, সতর্কবার্তা ও কূটনৈতিক চাপ চুক্তি না হলে আবার সামরিক অভিযান শুরুর হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “সমঝোতা না হলে বোমাবর্ষণ আরও তীব্র হবে।” অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানি এমপি ইব্রাহিম রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ করে যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার মাধ্যমেও তা পাবে না। এছাড়া পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও গণমাধ্যমের চাপ ব্যবহার করে ইরানের ভেতরে বিভক্তি তৈরির চেষ্টা করছে। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিক্রিয়া সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, ডাও ও নাসডাক সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে অস্থিরতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ লেবানন-এ ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যা গত ২৪ ঘণ্টায় মোট নিহতের সংখ্যা ৪১-এ পৌঁছেছে। খবর জানিয়েছে আল জাজিরা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২ মে) চালানো সর্বশেষ হামলাগুলোর ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫৯ জনে এবং আহত হয়েছেন ৮ হাজার ১৮৩ জন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)-এর বরাতে জানানো হয়, নাবাতিয়েহ জেলার শৌকিন শহরে ইসরাইলি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, কফর দাজ্জাল গ্রামে একটি গাড়িতে হামলায় দু’জন নিহত হন। লোয়াইজেহ গ্রামে একটি বাড়িতে হামলায় প্রাণ হারান আরও তিনজন। শৌকিন গ্রামেও পৃথক আরেকটি হামলায় নিহত হয়েছেন দুইজন। ইসরাইলি বাহিনী নাবাতিয়েহ শহরের আল-কুদস মোড়ের কাছে একটি বিমান হামলা চালায়। পাশাপাশি যুদ্ধবিমান টাইর জেলার সিদ্দিকিন এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইল-এর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এরপরও একাধিকবার এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর সদস্যরা। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চলমান যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (১ মে) নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ব্যাপক বিমান হামলায় পুরো একটি আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বহু ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এদিন টায়ার ও নাবাতিয়েহর আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর, একটি কনভেন্ট এবং একটি স্কুল ধ্বংস করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, হামলার আগে হাব্বুশ এলাকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে এর আগের দিন একই এলাকায় কোনো সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা জোরদার করেছে ইরান—এমন দাবি করেছে মার্কিন কর্মকর্তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে তেহরান সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। দুটি অবগত সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনা এবং আঘাতপ্রাপ্ত সামরিক ঘাঁটি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে দ্রুত পুনরায় মোতায়েনযোগ্য অবস্থায় আনার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামরিক অভিযান শুরু করেন, তাহলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে হামলা চালাতে পারে। এ কারণেই দেশটি তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন করছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রেক্ষাপটে, গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সামরিক অবস্থা ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ব্রিফিং দেন। আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার কৌশলও বিবেচনায় আসে। “দুটি পথ” সামনে ট্রাম্পের শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তার সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে—সামরিক পদক্ষেপ বা কূটনৈতিক সমাধান। তিনি বলেন, “আমরা কি তাদের সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করব, নাকি একটি চুক্তির চেষ্টা করব—এই দুটি পথই খোলা রয়েছে।” তবে সরাসরি হামলার বিষয়ে তিনি অনিচ্ছার কথাও জানান। যুদ্ধবিরতি ও অচলাবস্থা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনায় কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দ্বিমত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, ইরানের অধিকাংশ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ বলেন, ইরান তাদের হারানো অস্ত্র পুনরুদ্ধার করলেও নতুন করে তা প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা নেই। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি দাবি করেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, উৎপাদন কেন্দ্র এবং নৌবাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এনবিসি নিউজ জানায়, বাস্তবে ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি এখনও অক্ষত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অংশ বিমানবাহিনীর অর্ধেকের বেশি বিমান ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের নৌবাহিনীর বড় অংশ কৌশলগত বিভ্রান্তি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান হয়তো নকল বা ডামি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রকৃত অস্ত্রভাণ্ডার আড়াল করতে সক্ষম হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে এসব ছড়িয়ে রাখার মাধ্যমে আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার কৌশলও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এখনও অবশিষ্ট রয়েছে, যদিও তার দাবি—এর প্রায় ৮২ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের হাতে এখন “মাত্র অর্ধেক” ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং তাদের সামরিক শিল্প কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই ইরান দ্রুত অস্ত্র পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। এদিকে, মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরও এই সংকট মোকাবিলায় কূটনৈতিক মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে কিছু মতভেদের কথা স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই মতপার্থক্য বৃহত্তর কৌশলগত ঐক্যের ভেতরেই সীমাবদ্ধ। মঙ্গলবার রাতে ‘আমেরিকান ফ্রেন্ডস অফ লিকুদ’ গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ মন্তব্য করেন সার। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ। বৈঠকে সার জানান, গত বছরের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করেনি—যদিও এ বিষয়ে ট্রাম্প ভিন্ন দাবি করে আসছিলেন। ২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে টানা হামলা চালায়। ওই হামলায় দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীসহ শতাধিক মানুষ নিহত হন। সার বলেন, ইসরায়েল নতুন যুদ্ধ শুরু করতে চায়নি। তবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মাটির গভীরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, যা ভবিষ্যতে সামরিকভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারত। এ কারণেই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, “আমরা দেখেছিলাম তারা কর্মসূচিটি এমন স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে, যেখানে পৌঁছানো কঠিন। তাই আমাদের সামনে কার্যকর বিকল্প খুব সীমিত ছিল।” তবে এই বক্তব্য ইসরায়েলি ও মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে বলা হয়, ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হামলার জন্য চাপ দিয়েছিল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আবারও ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্প্রসারিত হয়। সার আরও বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন এই সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য ছিল না। তবে ইসরায়েল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শাসন পরিবর্তনের দিকে যেতে পারে। তিনি স্বীকার করেন, এই ধরনের পরিবর্তন কেবল ইসরায়েলের একার পক্ষে সম্ভব নয় এবং শেষ পর্যন্ত তা নির্ভর করবে ইরানের জনগণের ওপর। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কোনো অংশ ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনাও নাকচ করেন সার। তার মতে, এমন পদক্ষেপ ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। সবশেষে, ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্যের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সার বলেন, “সামগ্রিকভাবে আমাদের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন।”
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সামরিক সংঘাত চলার পর প্রথমবারের মতো তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হয়েছে। শনিবার সকালে তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইস্তাম্বুল, মাস্কাট ও মদিনার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছেড়ে যায় বলে জানিয়েছে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরান আংশিকভাবে নিজেদের আকাশসীমা খুলে দেয়। অবরোধ ও পাল্টা ব্যবস্থা ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি ট্যাংকার জব্দসহ ইরানগামী জাহাজগুলোকে দিক পরিবর্তনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে। এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘দস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান। পাল্টা হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচল সীমিত করে এবং কয়েকটি জাহাজ আটক করে। ইরান কি অর্থনৈতিক সংকটে? যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কঠোর অবরোধে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে, বিশ্লেষকরা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছেন। যুদ্ধের আগে দৈনিক তেল আয় ছিল প্রায় ১১.৫ কোটি ডলার। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তা গড়ে ১৬ কোটির বেশি ডলারে পৌঁছেছে—যা আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞ কেনেথ কাটজম্যান বলছেন, সমুদ্রে ভাসমান ট্যাঙ্কারে থাকা ১৬০–১৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল দিয়ে ইরান অন্তত আগস্ট পর্যন্ত আয় ধরে রাখতে পারবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে টোল আদায়ের মাধ্যমে নতুন আয়ের পথও তৈরি করেছে দেশটি। কিছু ক্ষেত্রে একটি জাহাজ থেকেই প্রায় ২০ লাখ ডলার আদায় করা হচ্ছে। তেহরানের কঠোর বার্তা ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিনামূল্যে দেওয়া হবে না। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার ছাড়া পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের ভেতরে কোনো বিভাজন নেই। আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনীতি এদিকে পাকিস্তান-এর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইসলামাবাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কংগ্রেসের আইনি চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে চীনের অসন্তোষ—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত কে টিকবে? সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যাডাম এরেলি মনে করেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদি চাপ মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং তাদের স্থিতিশীলতা পরীক্ষার মুখে ফেলতে সময় লাগবে। এই পরিস্থিতিকে অনেকেই “ধৈর্যের লড়াই” হিসেবে দেখছেন—যেখানে শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎ করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই সামরিক চাপে পড়েছে, নাকি এটি কৌশলগত বিরতি? বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের তথ্য এই বিতর্ককে আরও জোরালো করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে চাপ তৈরি ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ভবিষ্যতে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ালে দেশটি স্বল্পমেয়াদে অস্ত্র সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হামলার হুঙ্কার ছেড়ে শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক রুদ্ধদার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে কি যুদ্ধাস্ত্রে টান পড়েছে বলেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ট্রাম্প? এমন প্রশ্নই উঠছে বিশেষজ্ঞ মহলে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের সঙ্গে প্রায় সাত সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত থাড সিস্টেমের অন্তত অর্ধেক এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের প্রায় ৫০ শতাংশ খরচ হয়েছে। এছাড়া, পেন্টাগন-এর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের সঙ্গেও এসব তথ্যের মিল পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যুদ্ধের আগে এবং পরে তুলনা করলে দেখা যায়, টমাহক মিসাইলের প্রায় ৩০ শতাংশ, জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইলের ২০ শতাংশের বেশি এবং এসএম-৩ ও এসএম-৬ মিসাইলের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন চুক্তি করলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষক মার্ক ক্যানসিয়ান বলেছেন, অতিরিক্ত গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র থাকলেও, সমমানের প্রতিদ্বন্দ্বী, যেমন চীন-এর মোকাবিলায় বর্তমান মজুত যথেষ্ট নয় বলে বিশ্লেষণে উলেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। তিনি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো অস্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছে না, যদিও ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছেন। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী, যে কোনো সময় ও স্থানে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা মার্কিন বাহিনীর হাতে রয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগেই সামরিক নেতারা প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুতের ওপর চাপ ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব অস্ত্র ইসরাইল ও ইউক্রেনকে সহায়তা করতে ব্যবহৃত হয়। সেটিই এখন বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রাম্প নিজে থেকেই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেকদের মতে, হামলা করে নিজেদের ক্ষমতার ঘাটতি দেখাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না আসায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় বসার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যেই মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্র–জ বিমানঘাঁটিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স টু’ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে শর্তাবলি বা রূপরেখা পাঠানো হয়েছিল, তার বিপরীতে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না আসায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পোস্টে লেখেন, ইরান তাদের প্রস্তাব জমা না দেওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনা কোনো একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে না যাওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াবেন না। একই সঙ্গে ইরানে আবারও হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতিতে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন দাবি করার পর তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান কখনও যুদ্ধবিরতি চায়নি। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও করেনি ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও করেনি ইরান। ট্রাম্পের এই ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর’ ঘোষণার কয়েকটি সম্ভাব্য অর্থ । ১. ট্রাম্প যুদ্ধটি হেরে গেছেন যুদ্ধ চলাকালীন সব ধরনের সম্ভাব্য কৌশল পরীক্ষা করেছেন ও প্রয়োগ করেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বুঝতে পেরেছেন যুদ্ধের মাধ্যমে কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। তাই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসাকেই সবচেয়ে ভালো পথ হিসেবে দেখছেন। এমনকি যদি তিনি ভুল সিদ্ধান্তে যুদ্ধ চালিয়ে যান, তাতেও কোনো লাভ হবে না। ২. প্রতারণার আশ্রয় যদিও যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অর্জন করতে পারেনি। তবুও ট্রাম্প নানা ধরনের কৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা একটি হতে পারে। ট্রাম্প দাবি করতে পারেন যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এরপর যুক্তরাষ্ট্রের একই ‘প্রশাসন’ বা তাদের আঞ্চলিক সহযোগী (ইসরাইল) আবারও ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রম চালাতে পারে। তাসনিমের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা এ ধরনের সম্ভাবনাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তারা এটি হালকাভাবে নিচ্ছেন না। ৩. প্রক্সি যুদ্ধ চালাবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে যাবে, কিন্তু ইসরাইল লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে—যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অজুহাতে। তবে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করা হয়েছে, তারা একতরফাভাবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইসরাইলকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দিতে পারবে না। ৪. নৌ অবরোধ মার্কিন বাহিনীর নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে তা মানেই শত্রুতার অব্যাহত থাকা। অবরোধ যতদিন থাকবে, ইরান অন্তত হরমুজ প্রণালী খুলবে না এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে অবরোধ ভাঙবে। ৫. যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যুদ্ধের ‘ছায়া’ বজায় রাখতে চায় এবং ইরানের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখতে চায়। ওয়াশিংটনের ধারণা, ইরানের পরিস্থিতি ১২ দিনের যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের মতোই আছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক পার্থক্য হলো—হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধের এই ছায়া বজায় রাখতে চায়, তাহলে তাদের বুঝতে হবে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। ইরান ও রাশিয়ার সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার শিথিলতার মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভয়াবহ তেল সংকটের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যেসব দেশ তেল সংকটের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস সাবকমিটির বাজেট শুনানিতে এই ঘোষণা দেন। গত সপ্তাহে তিনি জানিয়েছিলেন যে, মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া নিষেধাজ্ঞার ছাড় আর নবায়ন করা হবে না। তবে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এখন নতুন করে ৩০ দিনের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন তিনি। বেসেন্ট জানান, গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের সময় প্রায় ১০টি দেশের অর্থমন্ত্রী ও আর্থিক নেতারা তাকে এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এসব দেশ ভয়াবহ তেল সংকটের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই শিথিলতার ফলে ইরান ১৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে বলে যে হিসাব প্রচলিত রয়েছে, তা নিয়েও কথা বলেছেন ট্রেজারি সেক্রেটারি। বেসেন্ট এই তথ্যকে কল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি এর বিপরীতে ইরান প্রকৃতপক্ষে কত আয় করেছে, সেটির কোনও বিকল্প হিসাব দেননি তিনি।ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ গড়িয়েছে চতুর্থ সপ্তাহে। এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে এখন এক নতুন বিতর্ক দানা বাঁধছে। একদিকে হোয়াইট হাউসের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি, অন্যদিকে তেহরানের ‘টিকে থাকার’ রণকৌশল। কিন্তু খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরাই এখন প্রশ্ন তুলছেন যে, মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ কি ওয়াশিংটনকে আরেকটি ভিয়েতনাম বা ইরাকের মতো বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে? নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয় বোর্ড এক নিবন্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেছে, যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যা বলা জয়কে আরও কঠিন করে তোলে। ইতিহাসের প্রতিধ্বনি: ভিয়েতনাম ও ইরাকের ছায়া ইতিহাস সাক্ষী, ইরাক ও ভিয়েতনাম যুদ্ধে সত্যকে এড়িয়ে যাওয়ার চরম মূল্য দিতে হয়েছিল মার্কিনিদের। বর্তমান যুদ্ধ শুরুর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টাদের সতর্কতা কানে তোলেননি। উপদেষ্টারা জানিয়েছিলেন, ইরান চাইলে হরমজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে; কিন্তু অতি-আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখন বিশ্ব অর্থনীতি সেই ভুলের মাশুল দিচ্ছে। নিবন্ধে সতর্ক করে বলা হয়েছে, লিন্ডন জনসন বা জর্জ ডব্লিউ বুশের মতো ট্রাম্পকেও হয়তো একদিন যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যার জন্য ব্যক্তিগত মূল্য দিতে হবে। কারণ, যুদ্ধের মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া উচিত, বিশেষ করে যখন হাজার হাজার সেনার জীবন এর সঙ্গে জড়িত। মইস্তাম্বুল জাইম ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইসলাম অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-এর পরিচালক সামি আল-আরিয়ান মনে করেন, এই যুদ্ধে দুই পক্ষের লক্ষ্য সম্পূর্ণ বিপরীত এবং এই অসামঞ্জস্যই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার মূল কারণ। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে জায়নবাদী আধিপত্যের পথে বাধা হিসেবে পরিচিত ইরানকে পুরোপুরি নির্মূল করা। কৌশলগত পার্থক্য: ‘ধ্বংস’ বনাম ‘টিকে থাকা’ এর জন্য হয় ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন ঘটাতে হবে, না হয় অঞ্চলজুড়ে তাদের প্রভাব শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। এর বিপরীতে ইরানের লক্ষ্য অত্যন্ত সহজ। আল-আরিয়ান বলেন, “ইরানকে সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করতে হবে না, কিংবা ইসরায়েলের সরকারকে এই মুহূর্তে ক্ষমতাচ্যুত করারও প্রয়োজন নেই। ইরানের শুধু ‘টিকে থাকা’ প্রয়োজন।” যদি ইরানি রাষ্ট্র কাঠামো অক্ষত থাকে এবং তাদের আঞ্চলিক জোটগুলো সক্রিয় থাকে, তবেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অক্ষশক্তির মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। কৌশলগতভাবে যার লক্ষ্য যত সহজ, জয়ের সম্ভাবনা তার তত বেশি। যুদ্ধের কৌশলেও দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকাশপথের আধিপত্যে বিশ্বাসী। তারা মনে করে, বিধ্বংসী বোমা হামলা এবং শীর্ষ নেতাদের হত্যার মাধ্যমে শত্রুকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যাবে। অন্যদিকে ইরান বেছে নিয়েছে টিকে থাকার জন্য উত্তেজনার বিস্তৃতি। তারা সরাসরি আমেরিকার আকাশশক্তির মোকাবিলা না করে যুদ্ধের ময়দানকে ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ইসরায়েলের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে চাপ সৃষ্টি এবং জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মাধ্যমে তারা এই সংঘাতকে একটি আঞ্চলিক সংকটে রূপান্তর করছে। পেন্টাগন ইরানের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও অঞ্চলের সামগ্রিক কৌশলগত ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা: আকাশ বনাম বিস্তৃতি সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সেথ জি জোনস মনে করেন, এই যুদ্ধ মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। জাপানে বা ফিলিপাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ইরানের মতো অন্যান্য প্রতিপক্ষের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সামি আল-আরিয়ান আরও সতর্ক করে বলেছেন, এক অঞ্চলের সংকট অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগর বা তাইওয়ান প্রণালিতে কোনও ভুল পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের সঙ্গে মিশে গিয়ে বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এই ধরনের সংঘাত সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় না; বরং একপক্ষ যখন বুঝতে পারে যে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করা অসম্ভব, তখনই এর সমাপ্তি ঘটে। আল-আরিয়ান বলেছেন, “ইরান যদি টিকে থাকে, তবেই তাদের জয়। ইসরায়েল হয়তো প্রমাণ করবে যে তারা ধ্বংস করতে পারে, কিন্তু তারা কাউকে আত্মসমর্পণ করাতে পারে না।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন করে চারটি কঠোর শর্ত আরোপ করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানানো হয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নতুন শর্তগুলো কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও সুসংহত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘোষিত চারটি শর্তের মধ্যে রয়েছে— প্রথমত, বেসামরিক জাহাজগুলোকে শুধুমাত্র ইরান নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের সামরিক বা যুদ্ধজাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। তৃতীয়ত, প্রতিটি জাহাজকে পারাপারের আগে আইআরজিসি নৌ শাখার কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে। চতুর্থত, এই নীতিমালা চলমান যুদ্ধবিরতির শর্তের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরই এই ঘোষণা আসে। এর মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি তাদের হাতেই থাকবে। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ইরানকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। তবে তিনি একইসঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎই এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে—যুদ্ধবিরতির সময় পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখবে ইরান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, লেবাননকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সময়কাল জুড়ে নির্ধারিত সমন্বিত রুট ব্যবহার করে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথটি বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হয় এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। সাম্প্রতিক ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা দিনের শুরুতে ৯৮ ডলারের বেশি ছিল। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুডের দামেও উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। সংঘাত শুরুর আগে যেখানে তেলের দাম ৭০ ডলারের নিচে ছিল, সেখানে মার্চের শুরুতে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং মাসের শেষে ১১৯ ডলারে পৌঁছায়—যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বাজারের উচ্চমাত্রার সংবেদনশীলতাকে স্পষ্ট করে। শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও এই ঘোষণার প্রভাব পড়েছে। ইউরোপের প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে প্যারিসের সিএসি ও ফ্রাঙ্কফুর্টের ডিএএক্স দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। লন্ডনের এফটিএসই সূচকেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন শুরুর প্রথম কয়েক মিনিটেই ডাও জোনস সূচক ১.৩ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সংঘাতের পটভূমি চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়। ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে জেনেভায় আলোচনা চলাকালেই এই হামলা চালানো হয়। প্রায় ৩৯ দিন ধরে চলা এই সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমঝোতা হয়নি। মানবিক ক্ষয়ক্ষতি ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া হামলায় এ পর্যন্ত ২,০৭৬ জন নিহত এবং ২৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কৌশলগত বার্তা নাকি সাময়িক পদক্ষেপ? বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাও বহন করে। এর মাধ্যমে ইরান একদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগ্রহী—এমন বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপ কমানোরও চেষ্টা করছে। তবে এই স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সমীকরণের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতি তাই এক ধরনের ‘অস্থায়ী স্থিতিশীলতা’—যেখানে বাজারে স্বস্তি ফিরলেও মাটির নিচে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে লেবাননে। দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম ও দিব্বিন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওইসব এলাকায় শুধু গোলাবর্ষণই নয়, মেশিনগান থেকেও গুলিবর্ষণ চলছে এবং সামরিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া পশ্চিম বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি নজরদারি বিমান সক্রিয় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রাশায়া অঞ্চল ও জাবাল আল-শাইখের পশ্চিমাংশে এসব ড্রোন ও নজরদারি বিমানের উড়াউড়ি লক্ষ্য করা গেছে। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরপরই এ ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত বুধবার দেশজুড়ে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ৩০৩ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই হামলায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ। গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বুধবারের দিনটি ছিল অন্যতম রক্তক্ষয়ী। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো তল্লাশি অভিযান চলছে এবং অনেক মরদেহ শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৮৮৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৬ হাজার ৯২ জন জখম হয়েছেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সুর পাল্টেছে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশ অস্ট্রিয়া। সাধারণত ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ইসরায়েলের অন্যতম কট্টর সমর্থক মনে করা হয় তাদের। তবে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলকে অবিলম্বে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। অস্ট্রিয়ার পক্ষ থেকে জোরালোভাবে বলা হয়েছে, লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসরায়েলের দায়িত্ব। বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তারা এই সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে অস্ট্রিয়ার এই অবস্থান পরিবর্তন ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি ধরে রাখতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রোম্প। লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা কমাতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বুধবারের ওই ফোনালাপে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে ইসরায়েলকে আরও সংযত ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন সরাসরি অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ফ্রন্টকে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত বিস্তারের ঝুঁকি এড়াতেই ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসরায়েল এখন থেকে ‘সহায়ক অংশীদার’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে বাস্তবে হামলার মাত্রা কতটা কমবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর আগে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ফলে ট্রাম্পের এই আহ্বানের পর ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এর আগে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক মহলে এখন নজর—ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত আদৌ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় কিনা। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ইসরায়েলি দূতাবাস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতির পরও গতকাল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। এতে দুইশরও বেশি মানুষ নিহত ও হাজারের অধিক মানুষ আহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েলের এ হামলাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরান লেবানিজদের ছেড়ে কখনো যাবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যদি লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা অব্যাহত রাখে তাহলে সামনের আলোচনা অর্থহীন হয়ে উঠবে। তিনি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে লিখেছেন, “লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলা যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন। এটি প্রতারণা এবং সম্ভাব্য চুক্তির প্রতি দায়বদ্ধতাহীনতার একটি বিপজ্জনক লক্ষণ। এই ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে যেকোনো আলোচনা নিরর্থক হয়ে পড়বে। আমাদের আঙুল এখনো ট্রিগারেই আছে। ইরান কখনোই তার লেবানিজ ভাই-বোনদের একা ফেলে যাবে না।” ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের দুই সপ্তাহের যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে সেখানে লেবানন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি দখলদার ইসরায়েল চুক্তি লঙ্ঘন করে তাহলে তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি বলেছেন, ইরানের মিত্র হিসেবে লেবানন এ যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঘালিবাফ এক্সে লিখেছেন, “লেবানন এবং পুরো প্রতিরক্ষা জোট ইরানের মিত্র হিসেবে যুদ্ধবিরতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে পরিণতি হবে অত্যন্ত কঠোর।” ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বরাবরই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের। পরমাণু অস্ত্রের এই প্রধান উপাদানের ব্যাপারে ইরান শান্তিপূর্ণ অবস্থান জানালেও এক বছরের মধ্যে দুইবার দেশটিজুড়ে আগ্রাসন চালিয়েছে ওয়াশিংটন-তেল আবিব। এমন পরিস্থিতিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি বলেছেন, ‘ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কমানো হবে না।’ ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনের বরাতে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, এসলামি আরও বলেছেন, ‘শত্রুরা ইরানের সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে সীমিত করতে সফল হবে না।’ ট্রাম্প বিজয় দাবি করলেও হরমুজে প্রভাব বাড়িয়ে শক্তিশালী অবস্থানে ইরান এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন বন্ধ করলেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য নিরাপত্তা প্রদান করবে ইরান।’ তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি হাজার বছর ধরে উন্মুক্ত ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে।’ তবে প্রণালিটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিরাপদ চলাচল অনেকটাই ইরান ও ওমানের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে।’
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানে চলমান সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। আঙ্কারায় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এরদোয়ান বলেন, “আমরা শান্তির পক্ষে। আমরা চাই রক্তপাত বন্ধ হোক, অশ্রুধারা থেমে যাক এবং আমাদের অঞ্চল বহু বছর ধরে যে স্থায়ী শান্তির জন্য আকুল, তা অবশেষে প্রতিষ্ঠিত হোক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলেও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের কড়া সমালোচক এরদোয়ান বলেন, শনিবারের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা, যা এই যুদ্ধের সূচনা করে এবং তেহরানের পাল্টা হামলার জন্ম দেয়—তা ছিল ‘অবৈধ’। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া এবং আমাদের অঞ্চলে শান্তি ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা সব পর্যায়ে আমাদের কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করব। ইরানে সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক মানুষ ও নিষ্পাপ শিশুদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, এ দৃশ্য তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করছে। ন্যাটো জোটভুক্ত মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ তুরস্কের ইরানের সঙ্গে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ প্রায় অর্ধশত শীর্ষ নেতা নিহত হন। ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরানও পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা তেলআবিবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। আক্রান্ত স্থাপনার মধ্যে হাসপাতাল, স্কুলসহ অনেক বেসামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে মেয়েদের একটি স্কুলে হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। অন্যদিকে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১২১ জন। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাতে আরব আমিরাতে ৩ জন, কুয়েতে ১ জন, বাহরাইনে ১ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশিও আছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।