Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

পদোন্নতি পেতে ৭ লাখ, পোস্টিংয়ে ২০ লাখ?৩০ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ, তদন্তেও নাম: কে এই শফিকুর রহমান?

এলজিইডিতে পদোন্নতি-বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: শফিকুর রহমানকে ঘিরে অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২১, ২০২৬ 0

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রশাসনিক কার্যক্রমে পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন ও নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও বিধিমালার পরিবর্তে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে।

এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এলজিইডির প্রশাসন শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী শফিকুর রহমানের নাম। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি, বদলি ও নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব খাটিয়ে আসছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শফিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পদোন্নতির তালিকায় উঠতে ‘নজরানা’র অভিযোগ

এলজিইডির সাম্প্রতিক পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো অর্থ লেনদেনের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রায় ১৯৭ জন সহকারী প্রকৌশলীকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার সময় জনপ্রতি ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ না দিলে সংশ্লিষ্ট ফাইলের অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখানো হতো।

শুধু সহকারী প্রকৌশলী পর্যায়েই নয়, সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রেও প্রায় ১৩৫ জন কর্মকর্তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সার্ভেয়ার পর্যায়ের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অভিযোগ আরও রয়েছে, জ্যেষ্ঠতার ক্রম উপেক্ষা করে কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সুবিধাজনক অবস্থানে নেওয়ার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ করা হতো।

 

বদলি ও পদায়নেও ‘অলিখিত রেটকার্ড’?

বদলি ও পদায়নকে ঘিরেও এলজিইডির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ বা লাভজনক হিসেবে বিবেচিত কর্মস্থলে পদায়নের জন্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক সূত্র নির্দিষ্ট কয়েকটি পদায়নের কথাও উল্লেখ করেছে।

তাদের দাবি, সাভারে একটি কাঙ্ক্ষিত পদে পোস্টিংয়ের জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। জাজিরায় সহকারী প্রকৌশলীর একটি পদে বদলির জন্য ১০ লাখ টাকা নির্ধারণের অভিযোগ রয়েছে।

বরিশাল সদর থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলায় একজন প্রকৌশলীর পদায়নের ক্ষেত্রেও ৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর সময়কার ‘সমঝোতা’

অভিযোগের পরিধি শুধু বর্তমান প্রশাসনিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের দায়িত্বকালেও নিয়োগকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একটি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় কোটি টাকার একটি গোপন সমঝোতা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘আব্দুল ওহাব’ নামে এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওই অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়া পরিচালিত হতো।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, কথিত ওই সমঝোতা অনুযায়ী ১ কোটি টাকা তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলীর জন্য, ৩০ লাখ টাকা শফিকুর রহমানের জন্য এবং বাকি অর্থ সংশ্লিষ্ট অন্যদের মধ্যে বণ্টনের পরিকল্পনা ছিল।

 

১২ প্রকৌশলীর পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন

এলজিইডির ভেতরে বিধিমালা উপেক্ষা করে ১২ জন প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, শফিকুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাইফুল কবির এবং কথিত ওহাব সিন্ডিকেটের প্রভাবে ওই পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই পদোন্নতির ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৫ কোটি টাকা বেতন-ভাতা ব্যয় হয়েছে।

একই সময়ে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির প্রত্যাশায় থাকা অনেক কর্মকর্তা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

৩০ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে।

একাধিক সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে তিনি প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ‘সোহেল’ নামে একজন ব্যক্তি প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং ‘মান্নান’ নামে আরেকজন প্রায় ৫০ লাখ টাকা অর্জন করেছেন।

এ ছাড়া শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। সূত্রের দাবি, ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় একটি সেলুন ও স্পা ব্যবহারে একবারে প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয়ের ঘটনাও তাঁর জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে আলোচিত হয়েছে।

 

পুরোনো তদন্তেও উঠেছিল নাম

এলজিইডির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে দুর্নীতির তদন্ত চলাকালে শফিকুর রহমানের নাম আলোচনায় আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক আজিজুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল এলজিইডির বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে।

সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান, আলী আকতার হোসেনসহ একাধিক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সময় শফিকুল ইসলাম ও শফিকুর রহমানকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অভিযোগ সামনে আসে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।

 

২০১০ সালের নথি থেকে ৩৬ অফিসে অভিযান

অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে বিভিন্ন সময়ে এলজিইডির পুরোনো নথিপত্রও তলব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে সংস্থাটিতে সংঘটিত নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মে মাসে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে অভিযান চালানোর কথাও আলোচনায় আসে।

পরবর্তীতে এলজিইডির ৩৬টি অফিসে একযোগে তল্লাশি চালানো হয় বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে এত অনুসন্ধান ও তৎপরতার পরও অভিযুক্ত বা অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে কী ধরনের চূড়ান্ত প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রশ্ন এখন জবাবদিহির

পদোন্নতি থেকে বদলি, পদায়ন থেকে নিয়োগ—এলজিইডির প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অনিয়মের প্রশ্ন নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

যেসব কর্মকর্তা মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও বিধিমালার ভিত্তিতে পদোন্নতি বা পদায়নের প্রত্যাশা করেন, তাঁদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ এবং সেখানে কারা প্রভাব বিস্তার করছেন?

অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত হলে তবেই স্পষ্ট হতে পারে—এলজিইডির প্রশাসনিক কাঠামোতে সত্যিই কোনো সংঘবদ্ধ অনিয়মের চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, এবং থাকলে এর পেছনে কারা রয়েছেন।

শফিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

Popular post
সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
ইইডির শীর্ষ পদ দখলের দৌড়: পদোন্নতি, সিন্ডিকেট ও বিতর্কের অভিযোগে অস্থিরতা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদীর পিআরএল বা অবসর-উত্তর ছুটি ঘনিয়ে আসার আগেই সংস্থাটির শীর্ষ পদ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা। গোপালগঞ্জে টানা পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন বিতর্কের জেরে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধান প্রকৌশলীর পদটি দখলে নিতে একাধিক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে ইইডির অভ্যন্তরে এখন পাল্টাপাল্টি প্রচার, কুৎসা রটনা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বল করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার এই লড়াইয়ে প্রশাসনিক পরিবেশও ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। এই দৌড়ঝাঁপে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন রংপুর সার্কেলের চলতি দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জাহেদুল করীম। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রধান প্রকৌশলীর পদকে কেন্দ্র করে চলমান অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে সংবাদ বা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরিতে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছেন। এমনকি একজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করানোর নেপথ্যেও ওই সিন্ডিকেটের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।   আওয়ামী আমলের সংগঠনে নেতৃত্বের ইতিহাস ইইডির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মো. জাহেদুল করীমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তাঁর অতীত সাংগঠনিক পরিচয় ঘিরেও। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী প্রকৌশলী সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ’-এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই গঠিত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে তিনি কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। সে সময় তিনি ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট গঠিত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শাখার সর্বশেষ কমিটিতে তিনি সদস্যসচিবের দায়িত্ব পান। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কীভাবে আগের প্রভাববলয়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও পদায়নের ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব ধরে রেখেছেন? পছন্দের ঠিকাদার ও বিল পরিশোধ নিয়ে অভিযোগ মো. জাহেদুল করীমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাজ শেষ হওয়ার আগেই পুরো বিল বা অগ্রিম বিল পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি ইইডির প্রধান কার্যালয়ের এক হিসাব সহকারীর মালিকানাধীন বলে অভিযোগ ওঠা ‘সাঈদ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়াকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর মালিকানাধীন বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের কাজের সম্পর্ক থাকলে সেখানে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি, মালিকানা কাঠামো, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং বিল পরিশোধের বৈধতা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাঈদ এন্টারপ্রাইজ ১১টি বিলে মোট ২ কোটি ৮০ লাখ ৫৫ হাজার ৭৬০ টাকা উত্তোলন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই অর্থের একটি বড় অংশ অনৈতিকভাবে মো. জাহেদুল করীমসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগ হয়েছে।   পদ না থাকলেও পদোন্নতি ও পদায়নের প্রশ্ন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এলেও ইইডির পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ে বিতর্ক থামেনি। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ইইডির পাঁচজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই পদোন্নতির সময় অনুমোদিত পদ না থাকা সত্ত্বেও মো. জাহেদুল করীম কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতির তালিকায় চতুর্থ স্থানে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করান এবং পরে রংপুর সার্কেলে পদায়ন বাগিয়ে নেন। ইইডিতে মোট ১২টি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এর মধ্যে প্রধান কার্যালয় ও নয়টি সার্কেলের অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে পদোন্নতি ও পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও এখন প্রশ্নের মুখে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রশাসনিক কাঠামো, শূন্যপদ এবং জ্যেষ্ঠতার নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—সে বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। শীর্ষ পদকে কেন্দ্র করে নতুন অস্থিরতা এখন প্রধান প্রকৌশলীর পদ নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় পুরোনো অভিযোগগুলো আবার সামনে আসছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে তথ্য ছড়াচ্ছে, আবার প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রশাসনিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। ইইডির একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জ্যেষ্ঠতা, প্রশাসনিক যোগ্যতা এবং অতীত কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা না গেলে এই অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তাঁদের মতে, পদোন্নতি ও পদায়নসংক্রান্ত বিতর্ক, ঠিকাদারি কাজের অভিযোগ, বিল পরিশোধের অনিয়ম এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব—সবগুলো বিষয়ই স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থার শীর্ষ পদ যদি কেবল অভ্যন্তরীণ প্রভাব, লবিং ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের লড়াইয়ে পরিণত হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়তে পারে পুরো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২১, ২০২৬ 0

এলজিইডিতে পদোন্নতি-বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: শফিকুর রহমানকে ঘিরে অনুসন্ধান

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে গালাগাল, লাঞ্চিত ও হুমকি : নেপথ্যে কী?

বরিশালের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় উপ-পরিচালক ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষের অভিযোগ

অগ্রণী ব্যাংকের মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জ হাউজে কোটি টাকার অনিয়ম, নিরীক্ষায় অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এখনও বহাল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির দুটি বিদেশি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান— অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউজ মালয়েশিয়া এবং অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউজ সিঙ্গাপুর—এ দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে সংঘটিত আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তহবিল ব্যবহারে গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ উঠে এসেছে একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। তবে প্রতিবেদনে একাধিক সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), পরিচালক ও ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য উঠে এলেও তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির জবাবদিহি ও সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাত বছরের নিরীক্ষায় যা উঠে এসেছে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা হয়েছে। পর্যালোচনায় তহবিল তছরুপ, প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, বিধি লঙ্ঘন, অনুমোদনবিহীন ব্যয়, বোর্ড ভাতা গ্রহণ, তথাকথিত "পকেট ব্যাংকিং", ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের একাধিক অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিরীক্ষকদের ভাষায়, এসব কর্মকাণ্ড ব্যাংকিং নীতিমালা ও আর্থিক সুশাসনের পরিপন্থী এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়েও পড়তে পারে। মালয়েশিয়া ইউনিটে কী ধরনের অনিয়ম? প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউজ এসডিএন. বিএইচডি. মালয়েশিয়ার সাবেক সিইও সুলতান আহমেদ নিয়োগের শর্ত ভঙ্গ করে নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিবারকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যান। এরপর তিনি প্রতিষ্ঠানের অর্থ থেকে— চিকিৎসা ভাতা গ্রহণ, সন্তানদের শিক্ষা ব্যয়, ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি ও টোল বিল, যথাযথ কাগজপত্র ছাড়া ভ্রমণ ব্যয়, দোকান ভাড়ার অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ, করেছেন বলে নিরীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বোর্ড সভার উপস্থিতি ভাতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যয়েও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু বোর্ড সভার ভাতা বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত উত্তোলনের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। সাতটি আপত্তিতেই কোটি টাকার অনিয়ম মালয়েশিয়া ইউনিটের নিরীক্ষায় মাত্র সাতটি আপত্তির মধ্যেই প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ১৬৮ রিঙ্গিত সমপরিমাণ আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সুলতান আহমেদের বিরুদ্ধেই প্রায় ৫২ হাজার ৯৪৩ রিঙ্গিত অনিয়মের দায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া— খালেদ মোরশেদ রিজভীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যয় ও বোর্ড ভাতা মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ৫৮৪ রিঙ্গিত অনিয়ম, লুৎফর রহমানর বিরুদ্ধে ৬ হাজার রিঙ্গিত, ওয়ালী উল্লাহর বিরুদ্ধে ২ হাজার রিঙ্গিত অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। সিঙ্গাপুর ইউনিটে আরও গুরুতর অভিযোগ অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউজ সিঙ্গাপুরের নিরীক্ষায় আরও বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ডজনখানেক গুরুতর আপত্তির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ৪০৪ সিঙ্গাপুর ডলার সমপরিমাণ অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আদায় করা গেছে প্রায় ৪৭ হাজার ডলার। বাকি অর্থ এখনও অনাদায়ী রয়েছে। প্রবাসীদের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ প্রতিবেদনে সাবেক সিইও আবু সুজা মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। নিরীক্ষায় বলা হয়েছে— প্রবাসীদের জমাকৃত অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার, হুন্ডি চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে লেনদেন, কভার ফান্ড সময়মতো ফেরত না দিয়ে ব্যাংককে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলা, দেশে ফেরার সময় নগদ অর্থের হিসাব বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়া। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ৬৩ হাজার ৭২০ সিঙ্গাপুর ডলারেরও বেশি অনিয়মের দায় পাওয়া গেছে। নিরীক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, ব্যাংকের অর্থ ব্যয়ে তাকে পুনরায় সিঙ্গাপুর পাঠানো হলেও তিনি অর্থের ঘাটতির ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। দুর্নীতি আড়ালের অভিযোগ সাবেক সিইও মীর বায়েজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে প্রায় ১৬ হাজার ৫৮৫ সিঙ্গাপুর ডলার অনিয়মের দায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি পূর্ববর্তী প্রশাসনের অনিয়ম গোপন, প্রকৃত আয় আড়াল, অনুমোদনবিহীন ব্যয় এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ সাবেক ব্যবস্থাপক মুনছুর আলীর বিরুদ্ধে বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ২১ হাজার ৬৯৯ সিঙ্গাপুর ডলার অতিরিক্ত গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাবেক সিইও হুমায়ুন কবির নীতিমালা অনুসরণ না করে পরিচালক হিসেবে বোর্ড সভায় অংশ নিয়ে ভাতা গ্রহণ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। অর্থ ফেরত দিয়েছেন কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিরীক্ষা প্রতিবেদনের আপত্তি ওঠার পর অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ ফেরত দিয়েছেন। তবে পুরো অর্থ এখনও উদ্ধার হয়নি। নিরীক্ষকদের সুপারিশ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে সুপারিশ করা হয়েছে— দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, অনাদায়ী অর্থ দ্রুত আদায়, প্রয়োজন হলে ফৌজদারি তদন্ত, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী অনুসন্ধান, সম্পদ জব্দের উদ্যোগ, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যবস্থা ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন কঠিন হবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কী বলছে? এ বিষয়ে জানতে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ারুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, "বিষয়টি আমরা খোঁজখবর রাখছি। কেউ অপরাধী সাব্যস্ত হলে অবশ্যই তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।"   নিরীক্ষা প্রতিবেদনে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠে এলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপের তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরীক্ষা প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে জবাবদিহি কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৪, ২০২৬ 0

নাসিমুল গনি ও আব্দুল হান্নানকে ঘিরে ঘুষ, অনিয়ম ও বিভাগীয় শাস্তি নিয়ে প্রশ্ন

ঘুস ছাড়া দলিল রেজিষ্ট্রেশন হয়না সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে

গণপূর্তের প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে টেন্ডার সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও সম্পদ নিয়ে নানা অভিযোগ: অনুসন্ধানে যা জানা গেল

বিএডিসি’র প্রকল্প পরিচালক মুজিবর
বিএডিসি’র প্রকল্প পরিচালক মুজিবরের দুনীতি,সার গুদাম প্রকল্পে ৩৫০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) অধিনে স্বৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের দোসর প্রকল্প পরিচালক মুজিবুর রহমানের বেপরোয়া ঘুষ দুনীতি কারণে প্রকল্পের আওতায় সকল কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু মাত্র পিডির আর্থিক অনিয়ম দুনীতি কারণে। সুত্রে আরও যানা যায়, লীগ সরকারের আমলে দাপট দেখিয়ে সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এর ছত্র ছায়ায় প্রকল্প পরিচালক পদটি বাগীয়ে নেন, মহা ধুত্যবাজ এই কর্মকর্তা। প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব পেয়ে গড়ে তুলেছিলেন সু বিশাল ঠীকাদার সিন্ডিকেট বাহীনি, সেই সিন্ডিকেট বাহীনি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে, গোপন দর প্রদান করেন ঠিকাদার দের কাজ পাইয়ে দিতেন তিনি। বিনিময়ে উক্ত কার্যাদেশ বিপরীতে অগ্রীম ১০% হারে কমিশন বানিজ্য চালিয়ে গেছেন পিডি মুজিবর। মিস্টার ১০% নামে পরিচিত বিএডিসি র” সাধারণ ঠিকাদার দের নিকট পিডি মুজিবের নাম। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন নির্মাণ কাজের দরপত্রের মাধ্যমে ঘুপচি টেন্ডারের কারসাজি করে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে গেছেন পিডি মুজিবর রহমান খান। অনেক জায়গায় নাম মাত্র কাজ করে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করছেন বলে একাধিক সুত্রে যানা যায়। সুত্রে আরও জানা যায়, বিএডিসি’র বিদ্যমান সার গুদামসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ,পূর্নবাসন এবং নতুন গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প (২য় পর্যায়) বিএডিসি’র “বিদ্যমান সার গুদামসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন এবং নতুন গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ” প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মো. মজিবর রহমান খানের বেপরোয়া দুনীতি চালিয়ে গেছেন দেদারসে। রাত কে দিন আর দিন কে রাত বানানোই ছিল তাঁর কাজ। নিজের আখের গুছিয়ে লাগামহীন দুনীতি মাধ্যমে প্রকল্পের থেকে । প্রকল্পের বিবরণ ও তথ্য: অনুযায়ী উক্ত প্রকল্পেটি শুরু হয়েছিল জুলাই ২০১৯ থেকে জুন ২০২৬ সালে শেষে হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের পিডি মুজিবরের অদক্ষতা কারণে পুরোপুরি ১০০% শেষ হয়নি আজ-ও পযন্ত বলে একাধিক কর্মকর্তারা জানান। প্রকল্পের মোট বরাদ্ধ: প্রায় ৩৫০.৮৮ কোটি টাকা বরাদ্ধ থাকলেও সিংহ ভাগ টাকা পিডির পকেটে গেছেন অতি নিম্নমানের সংস্কার মেরামত কাজ না করে,যা সরেজমিনে তদন্ত করলে থলের বিরাল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন বিএডিসির সাধারণ কর্মকর্তারা। সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল – সার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ কার্যক্রম জোরদারকরণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষির সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন। গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে বিএডিসি’র সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের নন-নাইট্রোজেনাস সার সংরক্ষণ ক্ষমতা বর্তমান পর্যায়ের চেয়ে ৫০% বৃদ্ধির মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ। সুষ্ঠুভাবে ও সময়মত প্রান্তিক কৃষকের দোর গোড়ায় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং গুদাম, অফিস রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রকল্পের আওতায় সকল উন্নয়ন মুলক কার্যক্রম দৃশ্যমান না হলেও পিডি মুজিবের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কারণে ডুবতে বসেছে প্রকল্পের উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড। মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর প্রকল্প পরিচালক মো. মজিবর রহমান খানের বিরুদ্ধে বেপরোয়া হয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এর ছোট ছেলের মাধ্যমে সেই সকল অভিযোগ আজও পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। দুনীতির মাধ্যমে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকলেও বিএডিসির কতৃপক্ষের নিরবতা ও অদৃশ্য শক্তি কারণে এখনো বহাল তরিয়াতে আছেন তিনি। রাতা রাতি ভোলপাল্টে বর্তমানে বিএনপি পন্থাী দাবি করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেদারসে বিএডিসিতে। বিএডিসির সারা দেশে সার ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ এবং কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যমান গুদাম সংস্কার ও নতুন গুদাম নির্মাণের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও পিডির আর্থিক দুনীতির কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রকল্পের আওতায় সকল উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড। প্রকল্পের আওতায় যেসকল স্হানে নতুন গুদাম নির্মাণ এবং পুরোনো গুদাম সংস্কারের কাজ, যে সকল জেলায় সম্পন্ন হয়েছে রয়েছে। নির্মাণ সংস্কারের কাজে ব্যাপক কারচুপির হয়েছে বলে সুত্রে যানা গেছে। বিএডিসির সার গুদাম নির্মাণ ও সংস্কার কাজ যেসকল জেলায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জেলা হলো:রংপুর: রংপুরের আলম নগরে নতুন গুদাম নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে সেটিও ডিপিপির বাইরে হয়েছে। দিনাজপুর: জেলার বিরামপুর উপজেলায় ৭২০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার সার গুদাম ও অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে অতি নিম্নমানের। ঠাকুরগাঁও: এখানে আধুনিক সার গুদাম নির্মাণ ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।সিরাজগঞ্জ: রায়গঞ্জে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক সার গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে দরপত্রে চাহিদা মাফিক হয়নী সেখানেও দুনীতির আশ্রয় নেয়য়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা: বিএডিসি প্রাঙ্গণে আড়াই হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার নতুন গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে সেটা ও একইভাবে অতি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে নিজের আখের গুছিয়ে লাগামহীন দুনীতি মাধ্যমে প্রকল্পের থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ: এই দুই জেলায় সার মজুতের জন্য নতুন দুটি গুদাম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মানিকগঞ্জ: বৃহত্তর ঢাকা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নানা অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে? সকল জায়গাতে দুনীতির আশ্রয় নেয় হয়েছে। বিএডিসি ঐ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশকে ২১টি অঞ্চলে বিভক্ত করে সার গুদাম রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন গুদাম নির্মাণের আর্থিক দুনীতি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। উল্লেখীত যেসকল স্হানে নির্মাণ সংস্কার মেরামত করা হয়েছে পিডি তাঁর মনোনীত ঠিকাদার দের গোপন দর প্রদান করে। সেই সকল ঠিকাদার দের মাধ্যমে কমিশন বানিজ্য করে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ বলে জানান একাধিক কর্মকর্তারা। এই ভাবে প্রকল্প থেকে লুটপাটের মহোৎসব চালিয়েছেন মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর পিডি মুজিবর রহমান খান।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0

পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে'র বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার ভুয়া বিল ও দুর্নীতির অভিযোগ

সিলেট গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদকে ঘিরে ঘুষ, অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগ

প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান।

গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলী বদরুল আলম খানকে ঘিরে ক্ষমতার প্রভাব, বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0