ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই নরসিংদীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গুরুতর প্রশাসনিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় একাধিক পরীক্ষার্থীর হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ মিনিট পর ভুলটি ধরা পড়লে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, হারিয়ে যাওয়া সময়ের কোনো ক্ষতিপূরণ তারা পাননি। ঘটনার পর কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের অধীন নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারের ২০১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ১৫ মিনিট পর ধরা পড়ে ভুল কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কিছু শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাদের হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এরপর নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা অব্যাহত রাখা হলেও পরীক্ষার্থীদের দাবি, ভুলের কারণে নষ্ট হওয়া সময়ের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। তবে কোনো শিক্ষার্থীই পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি। ওই কক্ষে মোট কতজন পরীক্ষার্থী ছিলেন, তাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। 'বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর' কেন্দ্রসচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "২০১ নম্বর কক্ষে ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর।" তিনি জানান, ঘটনার প্রাথমিক দায়ে প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়া ও কেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অধ্যক্ষের ভাষ্য, তদন্ত শেষে লিখিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত এইচএসসি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাসেদুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি নিজেই কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনাটি যাচাই করেছেন। তার ভাষায়, "ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" কত শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন? জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক জানান, মূল কেন্দ্রের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারে পরীক্ষায় অংশ নেন। এদিকে জেলা শিক্ষা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নরসিংদী জেলায় মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা মিলিয়ে ৩১টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ১৬৮ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ২১৪ জন। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ঘটনাটি শুধু মানবিক ভুল, নাকি প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় আরও বড় ধরনের ত্রুটির ইঙ্গিত—তা এখন তদন্তের বিষয়। তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে— কেন ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকক্ষে পৌঁছালো? প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্বে কারা ছিলেন? ভুল শনাক্ত হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন? এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নে কোনো প্রভাব পড়বে কি না? শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না? প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর মিলতে পারে।
বরিশালে ভুল সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ, ক্ষোভে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের রূপাতলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ের বহুনির্বাচনি পরীক্ষায় ভুল সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত পরীক্ষাকে ঘিরে এই অভিযোগ সামনে আসে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সরকার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস নির্ধারণ করেছিল। কারণ, তারা শুধুমাত্র দশম শ্রেণিতে এক বছর অধ্যয়ন করেই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালের শিক্ষার্থীরা পূর্ণ দুই বছর সময় পেয়ে সম্পূর্ণ বই থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, ওই কেন্দ্রে ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০২৫ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুসারে ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ের বহুনির্বাচনি প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। ফলে পরীক্ষার্থীদের এমনসব অধ্যায় থেকে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে, যা তাদের নির্ধারিত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। “পরীক্ষার হলে জানিয়েও সমাধান মেলেনি” একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, পরীক্ষা শুরুর পরই তারা প্রশ্নপত্রে অসামঞ্জস্য দেখতে পেয়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, কেন্দ্র সচিব মর্জিনা আক্তার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে বলেন, “২০২৫ ও ২০২৬ সালের সিলেবাস একই, শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না।” তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, বাস্তবে দুই বছরের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস এবং এক বছরের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস এক নয়। ফলে পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতির বাইরে থাকা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। একজন অভিভাবক বলেন, “আমার সন্তান বাড়ি ফিরে কান্না করেছে। যে অধ্যায়গুলো তাদের পড়ানো হয়নি, সেখান থেকেই প্রশ্ন এসেছে।” আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, “আমরা পরীক্ষা শুরুর পরই বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।” “ফলাফলে বিশেষ বিবেচনা” দাবি ঘটনার পর ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ফলাফল মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা চেয়েছেন তারা। তাদের অভিযোগ, ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ পরীক্ষা শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশ্নপত্র যাচাই করার কথা ছিল। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি শুধু প্রশাসনিক অবহেলাই নয়, বরং পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করবে। কেন্দ্র সচিবকে ঘিরে পুরোনো বিতর্কও সামনে এ ঘটনার পর কেন্দ্র সচিব মর্জিনা আক্তারকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে পুরোনো কয়েকটি বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছেন। তার প্রভাবের পেছনে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা শাহজাহান ওমরের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে ফেলা হলেও বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে শেখ মুজিবের ছবি ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টাঙিয়ে রাখা হয়েছিল। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের সমর্থনে এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর ছবিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্র সচিব মর্জিনা আক্তারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের দাবি বাড়ছে ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের প্রশ্ন, যদি সত্যিই ভুল সিলেবাসে প্রশ্নপত্র সরবরাহ হয়ে থাকে, তাহলে দায় কার — কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, প্রশ্ন প্রণয়ন কমিটি, নাকি শিক্ষা বোর্ড? এদিকে শিক্ষার্থীদের একাংশ আশঙ্কা করছে, ভুল প্রশ্নপত্রের কারণে তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শিক্ষাবিদদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় শিক্ষা বোর্ডকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
বরিশাল অফিস : বরিশালের একটি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের ভুলবশত ২০২৫ সালের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার সময় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, লিখিত অংশে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হলেও বহুনির্বাচনী অংশে বিতরণ করা হয় আগের বছরের প্রশ্ন। পরীক্ষার নির্ধারিত সময় শুরুর প্রায় ১০ মিনিট পর ওই প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়। শালুকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মারুফ সিকদার জানান, সময় স্বল্পতার কারণে পরীক্ষা চলাকালে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে পরীক্ষা শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়ে দেখার সময় অসামঞ্জস্যটি ধরা পড়ে। তিনি বলেন, “লিখিত অংশ ঠিক থাকলেও এমসিকিউ প্রশ্ন ছিল ২০২৫ সালের। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি আমাদের প্রধান শিক্ষিকাকে জানাই।” মারুফের অভিযোগ, বিষয়টি জানানো হলে কেন্দ্র সচিব তাকে শিক্ষা বোর্ডে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে তা বাস্তবায়ন করেননি। পরবর্তীতে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। মারুফের চাচা শাহ আলম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা রহস্যজনক। এটি শুধু দায়িত্বহীনতা নয়, প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।” এদিকে, শালুকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা খানম জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অন্যদিকে, কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্ন বিতরণ হয়েছে। আমরা শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।” তিনি আরও জানান, পরীক্ষার হলে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকেরও এ ঘটনায় গাফিলতি থাকতে পারে। তবে শিক্ষা বোর্ডের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। তারা এ ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত এবং উপযুক্ত সমাধান দাবি করেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। তবে পরীক্ষার মাত্র একদিন আগে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এখনো প্রবেশপত্র হাতে পায়নি। এতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা এবং তাদের অভিভাবকরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থীকে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় প্রবেশপত্রের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফুলছড়ি উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়, কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় এবং পলাশবাড়ী উপজেলার গৃরিধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র পায়নি। এর মধ্যে শুধু জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৬ জন এবং গৃরিধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অন্যদিকে কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে একাধিক ভুল ধরা পড়েছে। কোথাও বিভাগ পরিবর্তন হয়ে গেছে, কোথাও লিঙ্গ সংক্রান্ত ভুল, আবার কারও বাবা-মায়ের নামও ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র এখনও বিতরণই করা হয়নি। পরীক্ষার্থী সিয়াম, আরেফা খাতুন, জিহাদ ও জুঁই বলেন, “আগামীকাল পরীক্ষা। আমাদের এখন বইয়ের পাশে থাকার কথা। কিন্তু আমরা সকাল থেকে ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশপত্রের অপেক্ষায় আছি। জানি না আমরা আদৌ পরীক্ষা দিতে পারব কি না।” অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীর অবহেলা এবং গাফিলতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, এতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহ আলম সরকার দাবি করেন, প্রবেশপত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে অর্থ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা সরবরাহ করা হয়নি। তবে সহকারী শিক্ষক মোক্তার আলী জানিয়েছেন, পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার বলেন, “সব শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষা দিতে পারে, সে চেষ্টা চলছে। ভুলগুলোও সংশোধন করা হচ্ছে।” পলাশবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন জানান, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং রাতের মধ্যেই প্রবেশপত্র বিতরণের আশ্বাস পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠিও দেওয়া হচ্ছে।” ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ঘিরে গুরুতর প্রশাসনিক অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের ভুলে বিজ্ঞান বিভাগের দুই পরীক্ষার্থীকে মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তাদের নির্ধারিত বিভাগে পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী হলেন মাছনা গ্রামের যমজ ভাই জিহান ও রিহান। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় তাদের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিদ্যালয় থেকে দেওয়া প্রবেশপত্রে দেখা যায়, সেখানে তাদের বিভাগ হিসেবে ‘মানবিক’ উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রায় এক সপ্তাহ আগেই বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেনকে জানানো হয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সমাধানের আশ্বাস দিলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বরং নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসলেও শেষ পর্যন্ত সংশোধিত প্রবেশপত্র দিতে ব্যর্থ হন। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আব্দুল মতিন। তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রায় এক বছর আগে বিদ্যালয়ে পৌঁছেছিল। তখনই ভুল সংশোধন করা উচিত ছিল। তিনি প্রধান শিক্ষকের অবহেলাকে ঘটনার জন্য দায়ী করে কঠোর জবাবদিহিতার হুঁশিয়ারি দেন। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী ২১ এপ্রিল পরীক্ষার আগেই সমস্যার সমাধান করা হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের নির্ধারিত বিজ্ঞান বিভাগেই পরীক্ষা দিতে পারবে। এদিকে পরীক্ষার মাত্র তিন দিন বাকি থাকায় যমজ দুই ভাইয়ের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। তারা বলেন, সময়মতো সমাধান না হলে দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন স্বীকার করেন যে এটি একটি ভুল। তিনি বলেন, বিষয়টি সংশোধনের চেষ্টা চলছে। এখন নজর শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তের দিকে—শেষ মুহূর্তে এই প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ঝালকাঠি: ঝালকাঠির উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান পলাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, যে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, বরিশাল কর্তৃক ২০২৬ সালের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ১২৩ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা ফি নিচ্ছেন। অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, ১ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়কে ২৭৫ টাকা ফি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে ২ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত নির্দেশনায় ফি কমিয়ে ১২৩ টাকা করা হয়। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথম নির্দেশনাটি অনুসরণ করে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া অব্যাহত রেখেছে। নির্ধারিত ফি বনাম বাস্তব আদায় বোর্ড নির্ধারিত ফি: ১২৩ টাকা বিদ্যালয়ে আদায়: ৩০০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে: ১৭৭ টাকা (প্রায় দ্বিগুণ) নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি অভিযোগ অনুযায়ী— ১ ফেব্রুয়ারি: প্রথম নির্দেশনায় ফি ছিল ২৭৫ টাকা ২ ফেব্রুয়ারি: সংশোধিত নির্দেশনায় কমিয়ে করা হয় ১২৩ টাকা অভিভাবকদের ক্ষোভ অভিভাবকরা বলছেন— “বোর্ড নির্ধারিত ফি মানা হচ্ছে না” “অতিরিক্ত টাকা নেওয়া অন্যায়” “এতে আমাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে” কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ? শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ অভিভাবকদের আর্থিক চাপ বৃদ্ধি সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন লিটন হোসেন, শাহাদাত খান ও মিরাজসহ কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “বোর্ড নির্ধারিত ফি ১২৩ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় এবং আমাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।” প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান পলাশ জানান, “আমরা প্রথমে ২৭৫ টাকার নির্দেশনা পেয়েছিলাম। পরবর্তীতে সংশোধিত চিঠিটি পাঁচ দিন পরে দেখার সুযোগ হয়েছিল। তাই পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি জানার পর সমন্বয় করে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।” বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, “অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। বোর্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা প্রশাসনিক দায়িত্ব। নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।”
বরিশাল: বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলার শিকার হয়েছেন। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সেকশন অফিসার মোঃ শাহীন মিয়া (৪৫) বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে অফিস থেকে সদর রোডের দিকে রওনা দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নতুল্লাবাদ এলাকায় নির্মাণাধীন আইসিটি ভবনের সামনে পৌঁছালে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি তাকে রাস্তায় ফেলে মারধর করে। ভুক্তভোগী মোঃ শাহীন মিয়া জানান, হামলাকারীরা তাকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি হামলাকারীদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা তার মাথা ও নাকে ঘুষি মেরে তাকে রক্তাক্ত করে। ভয়ে তিনি দৌড়ে ফিরে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ভেতরে আশ্রয় নেন। শাহীন মিয়া জানিয়েছেন, হামলাকারীদের তিনি পূর্বে চিনতেন না, তবে সামনে দেখলে তাদের শনাক্ত করতে পারবেন। এই হামলার কারণে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা আতঙ্কিত। ঘটনার পর প্রশাসনিক স্তরে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। থানার কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে সহিংসতা কোনওভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এমন ঘটনার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসের পরিবেশে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়। মোঃ শাহীন মিয়ার উপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে সকলের নজর রয়েছে। নিবিড় তদন্তের জন্য এয়ারপোর্ট থানা একটি পৃথক টিম গঠন করেছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের মাধ্যমে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। শাহীন মিয়া আরও জানান, তিনি চাইছেন দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা নিরাপদভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে চাইছেন। এই ঘটনার ফলে বরিশালে শিক্ষাক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সুরক্ষার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসনও এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে। এ ঘটনায় জনসাধারণও ক্ষুব্ধ এবং হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির দাবি করছেন। বিশেষ করে বরিশাল শহরের নতুল্লাবাদ ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শাহীন মিয়ার এই হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাংলা অনলাইন নিউজ সাইট এবং স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতার ঘটনা শীতলমনে অগ্রাহ্য করা যাবে না, এ ধরনের ঘটনার প্রতিকার দ্রুত এবং কার্যকর হওয়া উচিত। বর্তমানে এয়ারপোর্ট থানার কর্মকর্তারা মামলার যথাযথ তদন্ত চালাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে। শাহীন মিয়া আহত হলেও বর্তমানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। তার পরিবার ও সহকর্মীরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন এবং হামলাকারীদের শনাক্ত ও শাস্তির জন্য পুলিশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে সহিংসতা ও দমনপীড়ন কোনওভাবেই সহ্যযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সেকশন অফিসার মোঃ শাহীন মিয়ার ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও শাস্তির প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষাক্ষেত্র সংশ্লিষ্টরা দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সোচ্চার।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।