রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, কম দামের জ্বালানি আমদানির সুযোগ এখন সীমিত হয়ে পড়েছে এবং এতে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মেলনকেন্দ্রে ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের জন্য ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ইঙ্গিত করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ফলে রাশিয়ার মতো প্রতিযোগিতাহীন উৎস থেকে কম দামে জ্বালানি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। এর ফলে অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে তিন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে—তরল জ্বালানি সংকট, গ্যাসের ঘাটতি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন। এমন পরিস্থিতিতে বাজেটের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত অর্থসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য চাপে রয়েছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল মূল্যস্ফীতি কমছে না খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ছে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা দেশের বিদ্যমান আর্থিক দুর্বলতাকে আরও প্রকট করেছে। জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি তেল আমদানি বাড়ানো এবং দাম নিয়ন্ত্রণে কর ও শুল্ক কমানোর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সরকারি ব্যয় কমানো, ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস এবং অপ্রয়োজনীয় প্রণোদনা ধাপে ধাপে কমানোর ওপর জোর দেন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পুনর্মূল্যায়নে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, “এডিপি পরিষ্কার না করলে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা বাড়বে না।” সরকারি কলকারখানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। এতে সরকারের দায় কমবে এবং আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। রাজস্ব খাতেও বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। কর অবকাশ কমানো, করজাল সম্প্রসারণ, ডিজিটালাইজেশন এবং সম্পদের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে কর অবকাশের কারণে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬.৮৭ শতাংশ। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে ৩২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির তৌফিকুল ইসলাম খান ও নাজিবা মোহাম্মদ আলতাফসহ অন্যান্য গবেষকরা।
ঢাকা: বাংলাদেশের সরকারি অর্থব্যবস্থায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সৃষ্টি হয়েছে এক নজিরবিহীন বাস্তবতা। প্রায় চার দশকের মধ্যে এই প্রথম—সরকারকে নিয়মিত পরিচালন ব্যয় মেটাতেই ঋণ নিতে হয়েছে। অর্থাৎ বেতন-ভাতা, সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি ও অন্যান্য দৈনন্দিন প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহে রাজস্ব আয় যথেষ্ট হয়নি। অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন ব্যয় তো দূরের কথা—যখন রাষ্ট্রের নিয়মিত প্রশাসনিক ব্যয়ও রাজস্ব দিয়ে সামাল দেওয়া যায় না, তখন সেটি অর্থনীতির জন্য বড় সতর্ক সংকেত। নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে দায়িত্ব নেওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে তাই প্রথম বাজেটেই দেখা দিয়েছে কঠিন আর্থিক সমীকরণ। পরিচালন ব্যয়ে ঋণ: ২৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকার কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ-পানি বিল ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় ২৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, আশির দশকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর শাসনামলের পর এমন পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। একই অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ ও উন্নয়ন ব্যয় কমানোর পরও ঋণের বোঝা হালকা হয়নি। রাজস্ব আয় বনাম ব্যয়: দ্বিগুণ গতিতে বাড়ছে খরচ সরকারি হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা—বৃদ্ধি মাত্র ৬.৪ শতাংশ। অন্যদিকে নিয়মিত পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ১৫.৫ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকায়। ফলে— রাজস্ব ঘাটতি: ১ লাখ কোটি টাকার বেশি সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি: ৬০ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা (আগের বছরের প্রায় তিনগুণ) পরিচালন ব্যয়ে ঋণ: ২৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি আর্থিক ভারসাম্যহীনতার স্পষ্ট ইঙ্গিত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঋণ বৃদ্ধি মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাসে মোট সরকারি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ডেবট বুলেটিন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয়—উন্নয়ন ব্যয় কমলেও ঋণ কমেনি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বৈদেশিক ঋণে দ্রুত সম্প্রসারণ ২০২২ সালের জুনে বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ৪ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকায়—প্রায় দ্বিগুণ। এই সময়ে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-সহ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৩৪৪ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা নিয়েছে। টাকার অবমূল্যায়নের কারণে বৈদেশিক ঋণের টাকায় পরিমাণ আরও বড় হয়ে দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সুদ ও আসল পরিশোধে বাড়তি চাপ তৈরি করবে। ব্যাংকনির্ভর ঋণ: বেসরকারি খাতে সংকট অভ্যন্তরীণ ঋণে ব্যাংকনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে— ২০২২ সালে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ: ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর: ৭ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য এটি উদ্বেগজনক। ঋণ-জিডিপি অনুপাত: সতর্ক সংকেত ২০২২ সালে ঋণ-জিডিপি অনুপাত ছিল ৩৩.৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিপজ্জনক না হলেও দ্রুত ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় কম থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। প্রথম বাজেটেই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ নতুন সরকারের সামনে দুই বড় চ্যালেঞ্জ— ১. নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ২. বাজেট ঘাটতি ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ বিএনপির প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে— স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় জিডিপির ৫% বরাদ্দ ফ্যামিলি কার্ড ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ নতুন বেতন কাঠামো বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন-এর মতে, নতুন বেতন কাঠামোর এক-তৃতীয়াংশ বাস্তবায়ন করলেও অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। কাঠামোগত সংকট: রাজস্ব সংস্কার অনিবার্য বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক নয়—এটি কাঠামোগত দুর্বলতার ফল। প্রয়োজন— করজাল সম্প্রসারণ ডিজিটাল ভ্যাট ও আয়কর প্রশাসন কর অব্যাহতির যৌক্তিকীকরণ প্রত্যক্ষ করের অংশ বৃদ্ধি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ জনপ্রিয়তার রাজনীতি নয়—আর্থিক টেকসইতা এখন সময়ের দাবি। তিনটি স্পষ্ট প্রবণতা ১. মোট ঋণের দ্রুত বৃদ্ধি ২. ব্যাংকনির্ভর অভ্যন্তরীণ ঋণ ৩. বৈদেশিক ঋণের ত্বরান্বিত সম্প্রসারণ উন্নয়ন ব্যয় কমলেও ঋণ কমেনি—যা নির্দেশ করে পরিচালন ব্যয় ও সুদ পরিশোধই এখন কেন্দ্রীয় সংকট। সামনে যে প্রশ্ন ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধির এই ধারা কতটা টেকসই? রাজস্ব সংস্কার, ব্যয় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সক্ষমতা জোরদার না হলে আগামী বাজেটগুলো আরও কঠিন হয়ে উঠবে। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট কেবল একটি আর্থিক দলিল নয়—এটি হবে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রথম বড় পরীক্ষা। সময়ের দাবি—সাহসী সংস্কার। কারণ এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—হিসাবের অঙ্ক মেলানো।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।