Brand logo light

অপরাধ সংবাদ

হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য সাব্বির ও তার স্ত্রী মুমু
সোনারগাঁয়ে কলেজছাত্রীকে খালি বাসায় ডেকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ, চাঁদা দাবি ৫০ হাজার টাকা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক কলেজছাত্রীকে ‘হানি ট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে খালি বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, গত ২৯ জুন সকালে স্থানীয় একটি চক্র ওই কলেজছাত্রীকে একটি পরিত্যক্ত বাসায় ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল সাব্বির (২৬), তার স্ত্রী মুমু (২৩) এবং তাদের সহযোগী রিফাতসহ কয়েকজন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ওই কলেজছাত্রীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক তার পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করে। পরিবারের অভিযোগে বলা হয়, ভিডিও ধারণের পর ভুক্তভোগীকে অবরুদ্ধ রেখে সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ভুক্তভোগীর বাবা মমিন আলী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাব্বির ও তার স্ত্রী মুমুসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হানি ট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে মানুষকে বাসায় ডেকে এনে লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার জানিয়েছেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
বরিশালে কলেজছাত্রীর ওপর কিশোরী গ্যাংয়ের হামলা, টাকা ও মোবাইল লুটের অভিযোগ : কিশোরী গ্যাং নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ে আলোচনা চললেও এবার বরিশালে সামনে এসেছে ভিন্ন এক অভিযোগ। এক কলেজছাত্রী দাবি করেছেন, পূর্ববিরোধের জেরে একদল কিশোরী গ্যাং  তার ওপর হামলা চালিয়েছে, পরে তার বাসায় গিয়ে তাকে ও তার মাকে মারধর করেছে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাবেয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুন দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল সিটি কলেজ মাঠে প্রথম দফায় রাবেয়ার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। কলেজের অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়। রাবেয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিন পরে ফকিরবাড়ি রোডে তার ভাড়া বাসায় গিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে ও তার মাকে মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা একটি মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়।     কি ঘটেছিল সেই দিন : থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের একজন একই কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আগে থেকেই ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। রাবেয়ার অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন। তিনি জানিয়েছেন, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রযোজ্য আইনের আওতায় পৃথক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লিখিত অভিযোগে জানা গেছে,ঝালকাঠির বহুল আলোচিত জেসলি জান্নাত,অন্তি ও কলির নেতৃত্বে একদল কিশোরী গ্যাং ২২ জুন দুপুর দেড় টায় প্রথম দফায় বরিশাল সিটি কলেজ মাঠে সিটি কলেজের ছাত্রী রাবেয়ার ওপর পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে।কলেজের শিক্ষার্থীদের বাঁধায় পালিয়ে যায় এই কিশোরী গ্যাংয় গ্রুপটি। পরে দ্বিতীয় দফায় কলেজ ছাত্রী রাবেয়ার ফকিরবাড়ি রোডস্থ ভাড়া বাসায় হামলা করে। এ সময় রাবেয়া ও তার মাকে মারধর করে।লুটপাট করে মালামাল। কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অন্তির সাথে রাবেয়া একই কলেজের শিক্ষার্থী।টুকটাক ঝামেলা চলে আসছিলো দু জনের মাঝে।সেই ঝামেলার সুত্রধরে বাসায় রাবেয়া ও তার মাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়।এ ছাড়া রাবেয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে তারা। আরও গুরুতর অভিযোগ লিখিত অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল এবং তথাকথিত "হানিট্র্যাপ" কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত।এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অতীতে ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত একটি ঘটনায় এক যুবক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।   কিশোরী গ্যাং তারা তাদের গ্যাংয়ে মেয়েদের হায়ার করার জন্য হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্লাকমেইলিং করে গ্রুপ বড় করছে। এই গ্রুপ সরকারি চাকুরীজীবি, বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে হানিট্রাপের টোপ ফেলে ব্লাকমেইলিং করে অর্থ হাতিয়ে নেয়।এছাড়া আবাসিক হোটেল ডেটের জন্য দেশ ও বিদেশের পর্যটন এলাকার বিলাসবহুল হোটেল আমোদফুর্তির অভিযোগ রয়েছে।সম্প্রতি এক যুবককে ব্লাকমেইলিংয়ের কারনে সেই যুবক থানায় সাধারন ডায়েরী করার পরে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পেয়ে যায় হানিট্রাপ গ্রুপের সেই বহুল আলোচিত কিশোরী গ্যাং প্রধান। ভুক্তভোগীর বক্তব্য এ ব্যাপারে হামলার শিকার শিক্ষার্থী রাবেয়া জানান,আমাকে ও আমার মায়ের ওপর হামলা করেছে। পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে তারা তাদের মোবাইলে ভিডিও করে তারা তাদের ফেসবুক আইডিতে এবং তাদের লোকজনদের মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। রাবেয়া আরো জানান,আমাদের ওপর হামলা, মারধর, মোবাইল ও টাকা নেয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দিবো। তিনি বিতর্কিত কিশোরী গ্যাং গ্রুপের হাত থেকে বাচাঁর জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।   পুলিশের অবস্থান বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৬, ২০২৬ 0
সোহেলি ইসলাম
ঢাকায় ছিনতাইকারীর হামলায় আহত হওয়ার চার দিন পর মৃত্যু: সোহেলির মৃত্যুতে নগর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনে ছিনতাই এখন কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তার আরেকটি মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে সোহেলি ইসলামের মৃত্যু। ভোরবেলায় মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাসা ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের এক ছিনতাইচেষ্টাই কেড়ে নিল তার জীবন। চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান ৪২ বছর বয়সী এই কর্মজীবী নারী। ঘটনাটি ঘটে গত রোববার ভোরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে। পরিবার ও স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পর গাবতলী এলাকায় বাস থেকে নেমে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রিকশায় করে ধানমন্ডির বাসার উদ্দেশে রওনা দেন সোহেলি ইসলাম। পথে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তাদের অনুসরণ করে। একপর্যায়ে হেলমেট পরা এক ব্যক্তি সোহেলির হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ টান দিতে শুরু করে। ব্যাগ রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে চলন্ত রিকশা থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে যান তিনি। মাথায় গুরুতর আঘাত, শুরু হয় জীবন-মৃত্যুর লড়াই পড়ে গিয়ে সোহেলির ডান হাত ভেঙে যায়। একই সঙ্গে মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত লাগে এবং কান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনের সহায়তায় তার মেয়ে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রথমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। কর্মজীবী এক মায়ের অসমাপ্ত জীবন নিহত সোহেলি ইসলামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায়। তিনি একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে মেডিক্যাল সার্ভিস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মসূত্রে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বসবাস করতেন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মেয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য নিরলস পরিশ্রম করতেন তিনি। তার একমাত্র মেয়ে বর্তমানে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন। ভোরের ঢাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন পরিবার জানায়, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান শেষে শনিবার রাতে মেয়েকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন সোহেলি। ভোরে গাবতলীতে পৌঁছে কিছু সময় অপেক্ষা করার পর রিকশায় করে বাসার দিকে রওনা দেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন। ঘটনাটি আবারও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ভোররাত ও সকালবেলার সময় মোটরসাইকেলভিত্তিক ছিনতাই চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। আহত অবস্থায় পড়ে থাকলেও দ্রুত সহায়তা মেলেনি স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকলেও শুরুতে আশপাশের অনেক মানুষ এগিয়ে আসেননি। পরে রিকশাচালক ও কয়েকজন পথচারীর সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়। মানবিক সহায়তার এই বিলম্ব আহত ব্যক্তির চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার সম্ভাবনায় কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেই প্রশ্নও উঠছে পরিবারের পক্ষ থেকে। মামলা হয়নি, আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে চিকিৎসা ও দাফনসংক্রান্ত ব্যস্ততার কারণে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে সোহেলির মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনরা দ্রুত তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৩, ২০২৬ 0
বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলো
বরগুনায় মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ৭ দিন পর হত্যা মামলা, তদন্তে নতুন মোড়

ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর দুটি পৃথক কক্ষ থেকে মা ও তার দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাত দিন পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলাটি করেছেন। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার পাশাপাশি দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪), তার বড় মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২) এবং ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল, দুই মেয়েকে হত্যার পর ইতি রানী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়। তবে ঘটনার শুরু থেকেই নিহতদের স্বজনরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঘটনার পরদিন, ৪ জুন বিকেলে বরগুনা পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময়ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। তার দাবি, এর আগে থানায় মামলা করতে গেলে অন্য একজনকে বাদী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি আদালতের দ্বারস্থ হলেও মামলা গ্রহণে জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছিল। এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, “নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
হানি ট্র্যাপে ফেলে ব্ল্যাকমেইল
পটুয়াখালীতে হানি ট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, বিএনপি নেতা ও যুবলীগ কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৩

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির এক নেতা, যুবলীগের এক কর্মীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত শহরের বনানী, সবুজবাগ, কলেজ রোড এলাকা এবং বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন (৫৫), গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মো. কবির হোসেন (৪০) এবং পটুয়াখালী পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার মোহাম্মদ রাসেল তালুকদার (৩৪)। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাসেল তালুকদার যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ‘হানি ট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে ফাঁদ তৈরি করে অন্তত এক ঔষধ ব্যবসায়ী ও এক চাকরিজীবীর কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শহিদুল নামে এক ব্যক্তিকে কৌশলে ডেকে এনে নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বনানী এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে বাকি দুজনও গ্রেপ্তার হন। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “অভিযান চালিয়ে হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।” তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের তথ্য মিলেছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
কথিত স্বামী-স্ত্রী
বরিশালে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র: আটক দুইজন রিমান্ডে চেয়ে আবেদন, জড়িত থাকতে পারে আরও সদস্য

বরিশাল মহানগরীতে কথিত ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আটক নারীসহ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। মহানগর কোতয়ালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফর রহমান জানান, গত ৫ মে ইউনুছ আলী নামে এক ব্যক্তিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে তার কাছ থেকে নগদ ২৩ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আহত অবস্থায় তাকে সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। ঘটনার পর ভিকটিম থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় অভিযুক্ত নারী ও তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটককৃতরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবি করলেও পুলিশের ভাষ্য, তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের সদস্য হতে পারে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা বিভিন্ন ধরনের অসংলগ্ন তথ্য দিয়েছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কললিস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একই ধরনের আরও অভিযোগ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে আটককৃতদের দাবি, তারা একতরফাভাবে অভিযুক্ত হচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, “যদি আমরা অপরাধী হই, তাহলে নারীলোভ দেখিয়ে যোগাযোগ করা ওই ব্যক্তিকেও আইনের আওতায় আনা উচিত।” তবে পুলিশ বলছে, কোনো ব্যক্তি অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা ছিনতাই করার সুযোগ নেই। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সম্পর্ক ও অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে গোপন সাক্ষাৎ বাড়ার কারণে এ ধরনের অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাইবার নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। কোতয়ালী থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও ছিনতাই চক্রের বিরুদ্ধে পৃথক ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
জামায়াত নেতা
চট্টগ্রামে ১৭৫ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথসহ দুইজন গ্রেপ্তার, ‘জামায়াত সম্পৃক্ততা’ নিয়ে ভিন্ন দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামে ক্রিস্টাল মেথ বা ‘আইস’ বিক্রির সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এর আগে সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় নগরীর ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন ফিনলে স্কয়ারের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—২৭ বছর বয়সী মো. সাজ্জাদুর রহমান সাকিব এবং ২৬ বছর বয়সী মো. আবু ফয়সাল। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সাকিব ফটিকছড়ি থানার জামায়াত ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের অফিস সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন ফটিকছড়ি থানা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, “সাকিবের সঙ্গে দলের কোনো বর্তমান সম্পৃক্ততা নেই। কলেজ জীবনে তিনি শিবিরের রাজনীতি করলেও বর্তমানে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন এবং তার কোনো পদও নেই।” পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির উত্তর বিভাগের একটি দল ফিনলে স্কয়ারের সপ্তম তলায় অভিযান চালায়। এ সময় দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ১৭৫ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ উদ্ধার করা হয়, যা একটি বায়ুরোধক পলিপ্যাকে সংরক্ষিত ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, তারা ওমানে অবস্থানরত এক মাদককারবারি চক্রের মাধ্যমে এসব মাদক সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিল। ঘটনাটি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
পিরোজপুরে জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার ৩
পিরোজপুরের নাজিরপুরে জাল নোটসহ তিনজন গ্রেপ্তার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় জাল টাকার নোটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩ মে) বিকেলে উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের মাটিভাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাঁচটি এক হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মৃত আবু বক্কর খলিফার ছেলে রাসেল খলিফা (৪৫), পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের মো. দুলাল শেখের পুত্র মো. সাইদুল ওরফে রানা (৪৮) এবং মো. মজিবুর খানের ছেলে হাসিব খান (৪৬)। নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
ইতালির স্বপ্নে কোটি টাকার ফাঁদ
ভাঙ্গায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে মানবপাচার ও ৫০ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ

ফরিদপুর: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে বিদেশে পাচার ও বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে আসামি করে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জসিম সরদার নামে একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। মামলা সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া এলাকার মনিরুজ্জামান মিয়া (৫১) তার ছেলে মো. মিনহাজ মিয়াকে (২১) বৈধভাবে বিমানে ইতালি পাঠানোর জন্য স্থানীয় কয়েকজন দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযুক্তরা ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রথমে ২৬ লাখ টাকা দাবি করে এবং ধাপে ধাপে সেই অর্থ গ্রহণ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল আসামি মনির সরদারের (৪৮) নির্দেশে তার স্ত্রী ও সহযোগীরা অর্থ সংগ্রহ ও বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। অপর আসামিরা হলেন পপি আক্তারী (৩৫), জসিম সরদার (৪৭) এবং রেজাউল কাজী (৫৫)। তারা সংঘবদ্ধভাবে একটি মানবপাচার চক্র পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম দফায় ২৬ লাখ টাকা পরিশোধের পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে মিনহাজ মিয়াকে ঢাকা থেকে ইতালি না পাঠিয়ে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি সেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে আটক রয়েছেন বলে জানানো হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে তাকে নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হয় এবং আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। চাপের মুখে পরিবার জমি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে। প্রায় ৭ শতাংশ জমি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে তা আসামিদের নামে দলিল করে দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে আরও ১৮ লাখ টাকা বিভিন্ন ধাপে দেওয়া হয়। এত টাকা নেওয়ার পরও ভুক্তভোগীকে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে পুনরায় অর্থ দাবি করা হয় এবং তাকে লিবিয়ায় আটকে রাখা হয়। বর্তমানে তার সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে চারজনকে আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জসিম সরদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্কুলের টিউবওয়েল
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্কুলের টিউবওয়েলে কীটনাশক মিশিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি

 বরিশাল অফিস :   বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে কীটনাশক প্রয়োগের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি, যা স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল (বুধবার) সকালে উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের পূর্ব মোহনকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টিউবওয়েল থেকে পানি পান করতে গেলে দেখতে পায় পানির রং সাদা হয়ে গেছে এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকদের জানানো হলে তারা টিউবওয়েলটি বন্ধ করে দেন এবং প্রশাসনকে অবহিত করেন। ঘটনার পর থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা না হলে আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন অভিভাবকরা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী বাড়ৈ বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা টিউবওয়েলটি বন্ধ করে দিই এবং বৃহস্পতিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। অন্যদিকে, ঘটনার দুই দিন পার হলেও উপজেলা প্রশাসন বা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কোনো প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে জিডি দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানান, বিষয়টি জানার পর শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
কেয়ারটেকারকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ‘মারধর ডিবির’, ঝলসে দেয়া হয় পুরুষাঙ্গ
পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে কেয়ারটেকারকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মারধর , ঝলসে দেয়া হয় পুরুষাঙ্গ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরে এক কেয়ারটেকারের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে নীরবতা, প্রশ্ন আর শঙ্কা—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একাধিক সদস্য। ভুক্তভোগীর দাবি, একটি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, এমনকি তার পুরুষাঙ্গ ঝলসে দেওয়া হয়েছে। অথচ পরবর্তীতে চুরির ঘটনায় অন্য একজনের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার সূত্রপাত ভুক্তভোগী মো. ইউনুস ফকির (৪০), যিনি দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর পুলিশ লাইন্স এলাকায় কর্মকর্তাদের মেসে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন, জানান—১৩ এপ্রিল দুপুরে হঠাৎ করেই ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম তার কাছে থাকা কক্ষের একটি চাবি ফেরত চান। চাবিটি দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ আনা হয়। ইউনুস অভিযোগ অস্বীকার করলে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। তার ভাষ্যমতে, তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে কয়েকজন ডিবি সদস্য মিলে মারধর শুরু করে। পরে আরও সদস্য এসে নির্যাতনে যোগ দেয়। নির্যাতনের বর্ণনা ইউনুসের অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে শারীরিকভাবে মারধরের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। চিৎকার ঠেকাতে মুখে লাঠি চেপে ধরা হয়। একপর্যায়ে তাকে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে টাকা জোগাড়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরিবার সময় চাইলে আবার তাকে মেসে ফিরিয়ে এনে নির্যাতন চালানো হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি আসে পরে—ডিবি সদস্য কাওসারের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে তার পুরুষাঙ্গে গলিত মোমবাতি ফেলে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে নির্যাতন করে। এই বর্ণনা শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে। চুরির রহস্য উন্মোচন ঘটনার একপর্যায়ে ইউনুসকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী-এর কাছে নেওয়া হয়। তিনি বিষয়টি শোনার পর মেসের আরেক কর্মী শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকেন। জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল চুরির কথা স্বীকার করলে পুলিশ টাকা উদ্ধার করে। ইউনুসের কাছ থেকে নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়। চিকিৎসা ও গোপনীয়তার অভিযোগ নির্যাতনের পর ইউনুস চিকিৎসা নিতে চাইলে তাকে প্রথমে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তার প্রকৃত আঘাতের কথা চিকিৎসকদের জানাতে দেওয়া হয়নি। পরে খুলনার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাধ্য করা হয় ভিন্ন গল্প বলতে—যেন তিনি নিজেই নিজের ক্ষতি করেছেন। নীরব প্রশাসন, অজানা ভবিষ্যৎ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম ছুটিতে আছেন বলে জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীর মানসিক অবস্থা ও দাবী এই ঘটনার পর ইউনুস মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পুলিশের ভয়ে তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করতে পারেননি। তার পরিবার জানায়, “কর্মসংস্থান নয়, আমরা চাই সুষ্ঠু বিচার।” প্রশ্নগুলো রয়ে যায় এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে— আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে জবাবদিহিতা কতটা কার্যকর? নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগের পরও কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ রয়েছে? এই ঘটনা শুধু একটি নির্যাতনের গল্প নয়—এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, ন্যায়বিচারের অনিশ্চয়তা এবং ভয়ের সংস্কৃতির একটি প্রতিচ্ছবি। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত আদৌ হয় কি না, নাকি এটি আরেকটি চাপা পড়ে যাওয়া গল্প হয়ে থাকবে। এদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম ছুটিতে আছেন বলে জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।   

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান ওরফে নিজাম।
বাকেরগঞ্জে ১৬ মামলার আসামি আন্তঃজেলা ডাকাত নিজাম গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস :    বরিশালের বাকেরগঞ্জে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং একাধিক মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে নিজামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রানীরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান (৪০) উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে। পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে বরিশাল, মাদারীপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা জেলায় ডাকাতি এবং ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে অন্তত ১৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম সোহেল রানা জানান, মিজানুর রহমান একজন পেশাদার ডাকাত এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
বাউফল থানা
বাউফলে তরমুজবোঝাই ট্রলার ছিনতাই: উপখাদ্য পরিদর্শক অলিউল্লাহ গ্রেফতার

পটুয়াখালী:  পটুয়াখালীর বাউফলে তরমুজবোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চাঁদাবাজির মামলায় মো. অলিউল্লাহ (৪৩) ওরফে অলি নামের এক উপখাদ্য পরিদর্শককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (রাত ১০টা) বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত অলিউল্লাহ মির্জাগঞ্জ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপখাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। তিনি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কয়েকজন কৃষক দীর্ঘদিন ধরে বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করে আসছিলেন। চলতি মৌসুমে তারা চর দিয়ারাকচুয়া এলাকায় তরমুজ চাষ করেন। তবে ফসল ফলানোর পর থেকেই ওই জমির মালিকানা দাবি করে অলিউল্লাহ কৃষকদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতে থাকেন। গত ১৬ মার্চ বেলা ১১টার দিকে প্রায় ৯ হাজার তরমুজ কেটে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে তুলে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কৃষকরা। এ সময় অলিউল্লাহর নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। কৃষকরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের কাছ থেকে তরমুজবোঝাই দুটি ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ট্রলার ফেরত দেওয়া হলেও অন্যটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক আরব আলী বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অলিউল্লাহকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, ‘অলিউল্লাহর অত্যাচারে তরমুজ চাষিরা অতিষ্ঠ ছিলেন। তাকে গ্রেফতার করায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী
মানবপাচার মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৫ দিনের রিমান্ড

রাজধানীর পল্টন থানায় করা মানবপাচার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও এক/এগারোর আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পাঁচদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিকে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। যদিও মামলার তদন্তের স্বার্থে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।   এর আগে সোমবার (২৩ মার্চ) গভীর রাতে ডিবির একটি বিশেষ দল রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবপাচার, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, হত্যাসহ ঢাকায় পাঁচ এবং ফেনীতে ছয়টি মামলা রয়েছে। ফেনীর একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল।   /এগারো সরকারের সময় প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।অবসর পরবর্তীকালে জনশক্তি রপ্তানি খাতে যুক্ত থেকে মানবপাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলাটি করা হয়।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার সঙ্গে জড়িত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীন ইসলাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীন ইসলামকে পিটিয়ে হত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দ্বীন ইসলাম (৩৫) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দ্বীন ইসলাম কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা সফিকুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার শিমরাইল গ্রামে মঙ্গলবার দুপুরে বেশ কয়েকজনের একটি সংঘবদ্ধ দল দ্বীন ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বুড়ি নদী পার করে পাশের কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে কসবা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কসবা থানার পুলিশ বিষয়টি বাঙ্গরা থানাকে অবহিত করলে পুলিশ দ্বীন ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দ্বীন ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন। তিনি বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতেন।   নিহতের বাবা সফিকুল ইসলাম ও মা পারুল বেগম জানান, মাদকসেবন, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করতো তাদের ছেলে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। দ্বীন ইসলাম নিহতের ঘটনায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীরা জড়িত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে মেহারী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল বলেন, দ্বীন ইসলাম খারাপ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে কসবা থানাসহ বিভিন্ন থানয় বহু মামলাও রয়েছে। ফেসবুকে একটি পেজ খুলে মানুষের বিরুদ্ধে ভিডিও দিতো। তবে তিনি শুনেছেন কে বা কারা তাকে মারধর করে নদীর পাড়ে পাশের থানার সীমানায় ফেলে রেখেছে।   কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে হত্যা করে নদীর ধারে ফেলে রেখেছে বলে শুনেছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, দ্বীন ইসলামের নামে কসবা থানায় মাদক, চুরি ও ডাকাতিসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। তবে হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
নেছারাবাদ
নেছারাবাদে নদীর তীরে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় নদীর তীরে গলাকাটা অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠী গ্রামের মামুন মোল্লার ইটভাটার দক্ষিণ পাশে সন্ধ্যা নদী সংলগ্ন এলাকায় মরদেহটি পাওয়া যায়।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের দিকে পূর্ব সারেংকাঠী গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মামুন মোল্লার ইটভাটার দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে নদীর ধারে একটি গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন ইটভাটার শ্রমিকেরা। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশের নেছারাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিচয় শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করা হয়। পুলিশ জানায়, মরদেহটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় স্থানীয় কেউই মৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত কোনো স্থান থেকে ওই ব্যক্তিকে ধরে এনে নির্জন স্থানে হত্যা করে মরদেহটি সেখানে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সার্কেল এসপি সাবিহা মেহেবুবা। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
যুবককে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক তরুণীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বরিশালে হোটেলে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র: তরুণীসহ গ্রেপ্তার ২, মালিক-ম্যানেজারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গির্জামহল্লা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ‘হানিট্র্যাপ’ ফাঁদ পেতে এক যুবকের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এক তরুণীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হোটেলের মালিক ও ম্যানেজারসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং এটি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কার্যক্রমের ইঙ্গিত দিতে পারে। তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, একই কৌশলে আরও অনেক ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। কীভাবে ফাঁদে পড়েন ভুক্তভোগী মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম খান (ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়নি) গত ৭ মার্চ বিকেলে আব্দুর রহমান নামে এক পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ফোন পান। ফোনে আব্দুর রহমান তাকে জরুরি কাজের কথা বলে নগরীর গির্জামহল্লা এলাকায় আসতে বলেন। সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি রাত প্রায় ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছালে তাকে কৌশলে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে হোটেল ইম্পেরিয়ালের চতুর্থ তলার ৪২৮ নম্বর কক্ষে ঢুকতে বলা হয়। কক্ষটিতে ঢোকার পরই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি ও ভিডিও ধারণ ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কক্ষে ঢোকার পর সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি ওত পেতে ছিলেন। একপর্যায়ে চক্রের নারী সদস্য মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা তার সঙ্গে কুশল বিনিময়ের ভান করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করে পরিস্থিতিকে ‘অপত্তিকর’ আকার দেওয়ার চেষ্টা করে। সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন লোক এসে আমাকে জোর করে বিছানায় বসায়। এরপর তারা বলে আমি নাকি ওই মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত।” তার অভিযোগ, তখনই তারা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। অর্থ দাবি ও ছিনতাই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিডিও ধারণের পর চক্রের সদস্যরা সিরাজুল ইসলামের কাছে টাকা দাবি করতে থাকে। প্রথমে তারা তার পকেটে থাকা ১২০০ টাকা নিয়ে নেয়। পরে আরও ১৩ হাজার টাকা দিতে চাপ দেয়। প্রাণভয়ে সিরাজুল কৌশলে তার এক পরিচিত ব্যক্তি হিজবুল্লাহ সম্রাটকে বিষয়টি জানাতে সক্ষম হন। পুলিশের অভিযান সিরাজুলের কাছ থেকে খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানা দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশ হোটেল ইম্পেরিয়ালে পৌঁছালে অভিযুক্ত চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা (চক্রের নারী সদস্য) সান্টু হাওলাদার (সহযোগী) পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে মামলার ভিত্তিতে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম খান বাদী হয়ে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— হোটেল মালিক মানিক হাওলাদার ম্যানেজার আব্দুল হাই বশির মোল্লা আবিদ হাসান জাকির হোসেন গাজী আব্দুর রহমানসহ আরও কয়েকজন পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের বক্তব্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সনজিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ‘হানিট্র্যাপ’ অপরাধ বর্তমানে বিভিন্ন শহরে সংঘবদ্ধভাবে ঘটছে কিনা সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ‘হানিট্র্যাপ’ কী এবং কীভাবে কাজ করে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ‘হানিট্র্যাপ’ একটি প্রতারণামূলক কৌশল, যেখানে সাধারণত একজন নারী বা পুরুষকে ব্যবহার করে টার্গেট ব্যক্তিকে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এই ধরনের চক্র সাধারণত কয়েকটি ধাপে কাজ করে— ১. টার্গেট নির্বাচন ২. পরিচিত বা বিশ্বাসযোগ্য কারও মাধ্যমে যোগাযোগ ৩. নির্জন স্থান বা হোটেলে ডেকে নেওয়া ৪. আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি ৫. ভিডিও বা ছবি ধারণ ৬. ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। আবাসিক হোটেলগুলো কেন ঝুঁকিপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় অপরাধীরা আবাসিক হোটেলকে ব্যবহার করে কারণ— সেখানে সহজে কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায় পরিচয় যাচাই অনেক সময় দুর্বল সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ সীমিত হোটেল কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে এই ঘটনার ক্ষেত্রেও হোটেল মালিক ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অপরাধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ প্রযোজ্য হতে পারে। যেমন— ছিনতাই প্রতারণা চাঁদাবাজি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র মানহানির হুমকি যদি প্রমাণিত হয় যে হোটেল কর্তৃপক্ষ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই অভিযোগ করেন না ক্রাইম বিশ্লেষকদের মতে, ‘হানিট্র্যাপ’ অপরাধের অনেক ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না। কারণ— সামাজিক লজ্জার ভয় পারিবারিক সমস্যার আশঙ্কা ব্ল্যাকমেইলের ভয় আইনগত জটিলতা ফলে অপরাধচক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকতে পারে। তদন্ত কোন দিকে এগোচ্ছে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা হচ্ছে— হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ মোবাইল ফোনের ভিডিও ও কল রেকর্ড চক্রের সদস্যদের আর্থিক লেনদেন পূর্বের সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের তথ্য তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এটি একটি সংগঠিত চক্র হতে পারে যারা দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতিতে প্রতারণা করে আসছিল। সতর্কতার পরামর্শ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাগরিকদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে— অপরিচিত বা কম পরিচিত কারও ডাকে নির্জন স্থানে না যাওয়া আবাসিক হোটেলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশকে জানানো ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে আইনগত সহায়তা নেওয়া   বরিশালের এই ঘটনাটি শুধু একটি ছিনতাইয়ের অভিযোগ নয়, বরং এটি নগর জীবনে নতুন ধরনের প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে জানা যাবে—এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি বড় কোনো অপরাধচক্রের অংশ। ততদিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
শেখ সোহেল
খুলনায় মোটরসাইকেলে এসে ব্যবসায়ী শেখ সোহেলকে গুলি করে হত্যা

খুলনা: খুলনা মহানগরীতে দিনদুপুরে মোটরসাইকেলে এসে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম শেখ সোহেল (৪১)। তিনি মাছের ঘের ও ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে খানজাহান আলী থানা এলাকার আফিলগেট পেট্রল পাম্প-সংলগ্ন একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শেখ সোহেল থানাধীন আটরা শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাচ্চু শেখের ছেলে। ঘটনাস্থলে যা ঘটে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা আড়াইটার দিকে আফিলগেট এলাকার বিসমিল্লাহ মোটর গ্যারেজে মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য আসেন শেখ সোহেল। বিকাল ৩টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক তাকে লক্ষ্য করে পরপর চার থেকে পাঁচটি গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। পুলিশের বক্তব্য খানজাহান আলী থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম জানান, দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে শেখ সোহেলকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় আতঙ্ক ঘটনার পর আফিলগেট এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
বরিশালে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
বরিশালে বিএনপি কর্মী দেলোয়ারকে কুপিয়ে হত্যা, বিরোধের অভিযোগ

বরিশাল, ১৯ ফেব্রুয়ারি: বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী নামের এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাতে স্থানীয় বৌসেরহাট বাজারের অদূরে বাদামতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর বিমানবন্দর থানা পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী বৌসেরহাট বাজারে ইজারা উত্তোলনের কাজ করতেন। তারাবির নামাজ চলাকালে তিনি বাইসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে বাদামতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ রাস্তার পাশে হাঁটুসমান পানিতে ফেলে রেখে যায়। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মরদেহের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। রাত ১টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) মর্গে পাঠায়। এদিকে, রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন চৌধুরী ও তার ছোট ভাই কবির চৌধুরীর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। জমি সংক্রান্ত সেই বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তাদের দাবি। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজ বলেন, “দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে চাচাতো ভাইয়ের সন্তান আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরীর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জেরেই তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।” তবে এ হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত—তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), সিআইডি এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।  প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রামের বাদামতলা এলাকায় বসুরহাট-কাশিপুর বাজার সড়কের উত্তর পাশে একটি গোলপাতার ক্ষেতে বৃদ্ধ দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।  পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা বৃদ্ধের মাথার বাম পাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। পরে সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
রাকিব হোসেন
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত

খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে রাকিব হোসেন (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে মহানগরীর লবণচরা থানাধীন কোপা মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাকিব হোসেন লবণচরা থানার আশি‌বিঘা এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রাকিব কোপা মসজিদের সামনে একটি সেলুনে বসে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ দুই যুবক সেলুনে প্রবেশ করে তাকে টেনে বাইরে নিয়ে যায়। পরে রাস্তায় নিয়ে রাকিবের মাথায় পরপর দুইটি গুলি করে তারা। গুলিবিদ্ধ হয়ে রাকিব মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা হেঁটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রাকিবকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহত রাকিব একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ মোট তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনের নাম ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। খুব দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0