Brand logo light

আর্থিক অনিয়ম

বিএমইউতে ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগ বাতিল: বিধিবহির্ভূত নিয়োগ, আর্থিক সুবিধা ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে দেওয়া আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগ বাতিল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, সিদ্ধান্তটি কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি; বরং আইন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। ২০২২ সালের নিয়োগে আপত্তি ছিল না বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ এবং ৮৫তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে তিন বছরের জন্য প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় তিনি মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি, চিকিৎসা সুবিধা এবং সীমিত প্রশাসনিক সুবিধা পেতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, এই নিয়োগ বিধি অনুযায়ী হওয়ায় তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি ছিল না। ছয় মাস আগেই বদলে যায় নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগে, ২০ জুন ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়। সংশোধিত অধ্যাদেশে প্রথমবারের মতো আজীবন নিয়োগ, অবসরের সময়কার পূর্ণ অধ্যাপকের বেতন-ভাতার সমপরিমাণ মাসিক পারিশ্রমিক, আজীবন চিকিৎসা সুবিধা, অফিস, স্টাফ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধার বিধান যুক্ত করা হয়। বিএমইউর দাবি, ওই সভাটি ছিল মূলত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন। সেখানে মূল এজেন্ডার বাইরে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে "নজিরবিহীন" এবং "বেআইনি"। বিশ্ববিদ্যালয় আরও বলছে, এ পর্যন্ত এই নিয়োগের আওতায় অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আনুমানিক সাড়ে ১৪ লাখ টাকার বেশি আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগের ক্ষেত্রে অধ্যাদেশের ধারা ৫ অনুযায়ী বিভাগীয় চেয়ারম্যানের প্রস্তাব, ডিনের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন, উপাচার্যের গঠিত মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ এবং সেই সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে এসব ধাপ অনুসরণ করা হয়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি। বিএমইউ বলছে, কেবলমাত্র একজন সদস্যের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাকে আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এমনকি যোগ্যতার বিবরণে "সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক" পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, গত প্রায় দুই বছরে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত হননি, শিক্ষাদান করেননি এবং কোনো গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার তথ্যও প্রশাসনকে জানাননি। তবে এই সময়ে তিনি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিক অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন বিএমইউ বলছে, ২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে প্রফেসর ইমেরিটাস পদটি কার্যত একটি সম্মানসূচক পদ থেকে পূর্ণ বেতনসদৃশ আর্থিক সুবিধাসংবলিত পদে পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি অনুযায়ী, এ ধরনের আর্থিক পরিবর্তনের আগে অর্থ কমিটির সুপারিশ নেওয়া উচিত ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে অর্থ কমিটিতে বিষয়টি উপস্থাপন, আর্থিক বিশ্লেষণ কিংবা কোনো সুপারিশের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কী নজির? সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগের নজির থাকলেও, আজীবনের জন্য পূর্ণ অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতনের সমপরিমাণ পারিশ্রমিক এবং বিস্তৃত প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার কোনো নজির বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে পায়নি। বর্তমান প্রশাসনের মতে, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি পুনরাবৃত্ত আর্থিক দায় সৃষ্টি হয়েছে। কেন বাতিল করা হলো নিয়োগ? বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, ১৩ জুন ২০২৬ সালের সিন্ডিকেট সভায় সব নথি ও তথ্য পর্যালোচনার পর ২৪ জুন ২০২৪ সালের আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত হিসেবে বিবেচনা করে বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, বিধিবহির্ভূত নিয়োগের ভিত্তিতে প্রদত্ত আর্থিক সুবিধা আইনের বিধান অনুযায়ী পুনরুদ্ধার করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে কারণেই অধ্যাপক আব্দুল্লাহকে ওই সময়ে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, এটি কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়; বরং প্রচলিত আইন ও বিধিমালার অনুসরণ নিশ্চিত করার অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান বিএমইউর দাবি, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ছিল আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করা। বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও জবাবদিহিতা রক্ষার স্বার্থে আইন ও বিধিমালা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0
খুরশীদ আলম
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ খুরশীদ আলম: পুরনো অভিযোগ, নতুন দায়িত্ব

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে এম খুরশীদ আলমের নিয়োগ ব্যাংকিং খাতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জোবায়দুর রহমান-এর পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পরপরই ব্যাংকটির একাংশ গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট মহলে অসন্তোষ দেখা দেয়। ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের উদ্যোগে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীর মতিঝিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে। যে অভিযোগগুলো ঘুরে ফিরে আসছে ব্যাংকিং খাতের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রয় ও সংস্কার কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন এবং বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষায় অভিযোগ ওঠে যে, বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে দরপত্র প্রক্রিয়া এড়িয়ে ব্যয় দেখানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট তদন্তে অন্তত ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়। তদন্তে আরও উঠে আসে, প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ টাকার বিভিন্ন কাজের মধ্যে নির্মাণ ও আসবাবপত্র ক্রয়ে বড় ধরনের আর্থিক অসঙ্গতি ছিল। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। তদন্তের পরও পদোন্নতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ দুটি পৃথক তদন্তে অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পর খুরশীদ আলমকে একসময় বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। তবে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তিনি পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে আসীন হন। সমালোচকদের অভিযোগ, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ডেপুটি গভর্নর হিসেবে বিতর্ক ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে খুরশীদ আলমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সময় দেশের ব্যাংকিং খাত নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর ঋণসংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। সমালোচকদের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে তিনি এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে S Alam Group-কে ঘিরে আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারি ও ব্যাংকিং অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে।   ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে শুরু হওয়া আন্দোলনের মুখে কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন। আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের একাংশ তাদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী শাসনের সহযোগী এবং দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন। খুরশীদ আলমও সেই পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের অন্যতম ছিলেন। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্যাংকটির কিছু গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, অতীতের অভিযোগগুলো ব্যাংকের ভাবমূর্তি ও গ্রাহক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিক্রিয়া মেলেনি প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম খুরশীদ আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান-এর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন রয়ে গেছে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দীর্ঘদিন ধরে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও আস্থার সংকটে ভুগছে। এমন বাস্তবতায় অতীতে অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত কোনো কর্মকর্তাকে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের নেতৃত্বে বসানো কতটা যৌক্তিক—সে প্রশ্ন এখন ব্যাংকপাড়া ছাড়িয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলোর স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে জনমনে তৈরি হওয়া সংশয় দূর করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মনে করছেন ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকরা।   খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর তিনিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের টাকায় ‘জিএমের রাজকীয় অন্দরমহল’: অগ্রণী ব্যাংকে নীতিমালা ভেঙে বিলাসবহুল আবাসনের অভিযোগ

বরিশাল নগরীর জেলখানার মোড়ে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র নিজস্ব ভবনের পঞ্চম তলায় তৈরি করা হয়েছে একটি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত আবাসন। অভিযোগ উঠেছে, ব্যাংকের অর্থ ব্যয় করে এবং বিদ্যমান নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই এই আবাসন গড়ে তুলেছেন বরিশাল সার্কেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) স্বপন কুমার ধর। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, ভবনের একটি বড় অংশজুড়ে নির্মিত এই আবাসনটি কার্যত একটি ব্যক্তিগত ‘ফ্ল্যাট’-এর আদলে সাজানো হয়েছে। সেখানে রয়েছে আধুনিক আসবাব, অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং ব্যক্তিগত বসবাস উপযোগী নানা সুবিধা—যার পুরো ব্যয় বহন করা হয়েছে ব্যাংকের তহবিল থেকে। ঘটনাটি সামনে আসার পর ব্যাংকিং খাতের ভেতরে ও বাইরে প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি ব্যাংকের দাপ্তরিক অবকাঠামো কীভাবে একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রূপান্তর করা হলো? নীতিমালার বাইরে নির্মাণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে কর্মকর্তাদের আবাসন সুবিধা নির্ধারণে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সাধারণত কর্মকর্তাদের পদের ভিত্তিতে বাড়িভাতা প্রদান করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনুমোদিত আবাসিক কোয়ার্টার থাকলেও, সেগুলো পূর্বনির্ধারিত নকশা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের আওতায় পরিচালিত হয়। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশালের এই ভবনের পঞ্চম তলার আবাসনটি মূল নকশার অংশ ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই অফিস ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত জায়গা ব্যক্তিগত আবাসনে রূপান্তর করা হয়েছে। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের কাজের জন্য পরিচালনা পর্ষদ বা প্রধান কার্যালয়ের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এখানে পুরো প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে।” রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের প্রশ্ন ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনগণের আমানতের অর্থ দিয়ে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে এ ধরনের ব্যয় শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং নৈতিকতার প্রশ্নও তৈরি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনের সংস্কার, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও আবাসন উপযোগী অবকাঠামো তৈরিতে ব্যাংকের তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যয়ের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একজন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের অর্থ ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হলে সেটি ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” ‘অডিট এড়িয়ে’ কাজ সম্পন্নের অভিযোগ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সংস্কার কাজটি এমনভাবে সম্পন্ন করা হয় যাতে নিয়মিত অডিট বা তদারকিতে বিষয়টি সহজে ধরা না পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে বা প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পুরো কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। এদিকে, গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও চাপা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—যেখানে খেলাপি ঋণ, ব্যাংক খাতের অনিয়ম এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা কীভাবে এমন বিতর্কিত সুবিধা ভোগ করতে পারেন? তদন্তের দাবি ব্যাংকিং বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, যদি অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের নজরে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ
ফারইস্ট ইসলামী লাইফে গভীর সংকট:দাবির টাকা আটকে, ব্যয়ে লাগামহীনতা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের জীবন বিমা খাতের অন্যতম আলোচিত প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এখন ভয়াবহ আর্থিক সংকট, বকেয়া বিমা দাবি এবং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে চাপে রয়েছে। একদিকে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থতা, অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে লাগামহীন খরচ—এই দুই বিপরীতমুখী বাস্তবতা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জীবন বিমা খাতের মোট বকেয়া দাবির প্রায় ৭০ শতাংশই ফারইস্ট ইসলামী লাইফের একক দায়। একই সময়ে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচের তালিকাতেও শীর্ষে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ৫ লাখের বেশি গ্রাহক পাননি বিমার টাকা ফারইস্ট ইসলামী লাইফের গ্রাহকদের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে পরিপক্ক বিমা দাবির অর্থ না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে কোম্পানিটির কাছে মোট ৩ হাজার ৪৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকার বিমা দাবি উত্থাপন করেন ৬ লাখ ২৪ হাজার ৬৯২ জন গ্রাহক। কিন্তু এর বিপরীতে কোম্পানিটি পরিশোধ করেছে মাত্র ২১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা পেয়েছেন ৫৮ হাজার ২১৫ জন গ্রাহক। অর্থাৎ, ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৭ জন গ্রাহকের ৩ হাজার ২২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে। বকেয়া দাবির হার প্রায় ৯৪ শতাংশ। বিমা আইন অনুযায়ী, পলিসি পরিপক্ক হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে গ্রাহককে দাবি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বহু গ্রাহক অভিযোগ করছেন, বছরের পর বছর ঘুরেও তারা অর্থ পাচ্ছেন না। সুমাইয়া নামে এক গ্রাহক বলেন, তার পলিসি পরিপক্ক হয়েছে ২০২১ সালে। প্রায় পাঁচ বছর পার হলেও তিনি এখনো বিমার টাকা পাননি। পরে আইডিআরএ’তে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি বলে জানান তিনি। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হওয়া আরও কয়েকজন গ্রাহক জানান, তাদের অনেকের পলিসিই ৫ থেকে ৬ বছর আগে পরিপক্ক হয়েছে। তারল্য সংকটের মধ্যেও ‘অতিরিক্ত’ ব্যয় ফারইস্ট ইসলামী লাইফের আর্থিক অবস্থার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো এর ব্যবস্থাপনা ব্যয়। আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ। আইন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ৫২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। কিন্তু কোম্পানিটি ব্যয় করেছে ৮০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ, নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এমন সময়ে এই ব্যয় হয়েছে, যখন কোম্পানিটি হাজার হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থ এবং ভয়াবহ তারল্য সংকটে রয়েছে। বিমা খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, আর্থিকভাবে দুর্বল একটি প্রতিষ্ঠানের এমন ব্যয় কাঠামো স্বাভাবিক নয় এবং এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও গভীর তদন্ত দাবি করে। ঋণাত্মক লাইফ ফান্ড, বাড়ছে শঙ্কা ফারইস্ট ইসলামী লাইফের আর্থিক প্রতিবেদনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে এর ‘লাইফ ফান্ড’ বা বিমা তহবিলে। বর্তমানে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড ঋণাত্মক ৮৪৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সাধারণত গ্রাহকদের জমা দেওয়া প্রিমিয়াম থেকে এই তহবিল গড়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ বিমা দাবি পরিশোধে তা ব্যবহার করা হয়। ফলে কোনো বিমা কোম্পানির লাইফ ফান্ড ঋণাত্মক হয়ে পড়া গুরুতর আর্থিক সংকটের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ১৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ রয়েছে ১ হাজার ৮৪৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা। তবে বিপুল বকেয়া দাবি এবং ঋণাত্মক তহবিলের কারণে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। সরকার পরিবর্তনের পরও বদলায়নি পরিস্থিতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফারইস্ট ইসলামী লাইফের দায়িত্ব নেন বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম। পরে তিনি নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কোম্পানির ২৫তম বোর্ড সভায় তাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ১৮ মাস পার হলেও কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতের অনিয়ম, দুর্বল তদারকি এবং আর্থিক অব্যবস্থাপনার প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ‘লুটপাট ও জালিয়াতির’ অভিযোগ ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীমাহীন অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের ফলে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে গভীর তারল্য সংকটে পড়ে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি, তবে আইডিআরএ’র পরিসংখ্যান কোম্পানিটির আর্থিক দুর্বলতার চিত্র স্পষ্ট করছে। কোম্পানির ব্যাখ্যা কী ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম ভূইয়া বলেন, ব্যবসা কমে যাওয়ার কারণে ম্যাচিউরিটি বা পরিপক্ক দাবির চাপ বেড়েছে। তিনি বলেন, “লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূল থিম হলো ব্যবসা। ব্যবসা কমে গেলে ব্যয় বেড়ে যায়। কোম্পানির খরচ কমানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” তার দাবি, কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নতুন ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে এসব পদক্ষেপের বাস্তব প্রভাব এখনো গ্রাহকদের কাছে দৃশ্যমান হয়নি। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে যেসব কোম্পানি আলোচনায় আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ২০টি জীবন বিমা কোম্পানি ব্যবস্থাপনা খাতে আইন নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত ১৩২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পর অতিরিক্ত ব্যয়ে রয়েছে: শান্তা লাইফ — ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা প্রোগ্রেসিভ লাইফ — ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা এনআরবি ইসলামী লাইফ — ৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা প্রোটেক্টিভ লাইফ — ৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা চার্টার্ড লাইফ — ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জেনিথ ইসলামী লাইফ — ৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা সান লাইফ — ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা স্বদেশ লাইফ — ৬ কোটি ৫ লাখ টাকা হোমল্যান্ড লাইফ — ৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা এছাড়া আরও কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীরবতা এসব অভিযোগ ও পরিসংখ্যান নিয়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, কোম্পানির চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামও ফোনে সাড়া দেননি। আস্থার সংকটে বিমা খাত বিশ্লেষকরা বলছেন, জীবন বিমা খাতের মূল ভিত্তি হচ্ছে গ্রাহকের আস্থা। কিন্তু বছরের পর বছর দাবি পরিশোধে ব্যর্থতা, আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে সেই আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক বাস্তবতা দ্রুত স্বচ্ছ তদন্তের আওতায় না আনলে পুরো বিমা খাতেই দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
বরিশালে এখনো জিএম- ডিজিএম ও এজিএম সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি সোনালী ব্যাংক

বরিশাল অফিস :    সোনালী ব্যাংক পিএলসি বরিশাল অঞ্চলে কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি বানিজ্য নিয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম কমেনি। সরকার বদল হলেও সিন্ডিকেটের মূল হোতারা ভোল পাল্টে রাতারাতি নতুন পরিচয়ে রঙ্গিন ভুবন নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। কর্মকর্তা কর্মচারীদের পদায়ন, বদলি সহ নানা ইস্যুতে তারা প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এতে নিষ্পেষিত হচ্ছে সাধারণ ও নিরীহ পেশাদার কর্মকর্তারা। বরিশাল সোনালী ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেছেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা প্রিন্সিপাল অফিস ওয়েষ্ট এর ডিজিএম বিভাস চন্দ্র হাওলাদার ও এজিএম জহুরুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে একটি চক্র গড়ে উঠেছে। যেখানে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্ত রয়েছেন। এই চক্র বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বদলিতে প্রভাব বিস্তার করছে। জহুরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু পরিষদের ৬ নং সহ-সভাপতি ও বঙ্গমাতা পরিষদেরও ৬ নং সহ-সভাপতি ছিলেন। তাছাড়া এসপিও মোঃ সাব্বির মাহমুদ এবং প্রিন্সিপাল অফিসার তিমির রঞ্জন দাস সহ কয়েকজন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ও নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতার অনুসারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া চালু রেখেছে, যা অফিসিয়াল কাঠামোর বাইরে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগও উঠেছে। কিছু কর্মকর্তাকে ‘পছন্দের শাখা’ বা ‘প্রাইজ পোস্টিং’-এ পাঠানো হয়েছে, আবার কেউ কেউ স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার বদলি হয়েছেন। এর মধ্যে চিন্থিত আওয়ামীলীগ নেতা আসাদুজ্জামান মোল্লাকে চাখার শাখায় ম্যানেজার হিসেবে পদায়ন, এসপিও তারিকুল ইসলামকে প্রিন্সিপাল অফিস ইস্টে পদায়ন, এসপিও মনদীপ বেপারীকে উজিরপুর শাখা থেকে বরিশাল করপোরেট শাখায় পদায়ন। পরবর্তীতে বিভিন্ন চাপের মুখে পিরোজপুরে পদায়ন করতে বাধ্য হয়। এসপিও মাসুদ পারভেজকে উজিরপুর শাখার ম্যানেজার করা হয়েছে। মোঃ কামরুজ্জামান হাওলাদারকে খানপুরা শাখার ম্যানেজার, সিনিয়র অফিসার রুপক পালকে ধামুড়া থেকে বরিশাল চকবাজার শাখায় পদায়রন করা হয়। প্রসুন কুমার পালকে পটুয়াখালী পায়রা বন্দর শাখা থেকে বরিশালের নলচিড়া শাখায় প্রাইজ পোস্টিং দেয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে,  এসব বদলী, পদায়ন ও প্রাইজ পোস্টিং করা হয়েছে লাখ লাখ টাকার ঘুষের বিনিময়ে। এসব অভিযোগ এই পাচঁ সদস্য বিশিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। আরও পড়ুন:  বরিশালে সোনালী ব্যাংকে বদলি বাণিজ্য ও প্রভাব বলয়ের অভিযোগ প্রিন্সিপাল অফিস ওয়েষ্ট এর ডিজিএম বিভাস চন্দ্র হাওলাদার এর বিরূদ্ধে রয়েছে আরো গুরুতর অভিযোগ। তিনি সোনালী ব্যাংকের আবাসিক বাগানবিলাস এর একটি ভবনে থাকেন। সেখানে তার ছেলের সাথে ব্যাচ পড়ার কারণে যেন কোচিং সেন্টার খুলে বসেছেন। বিকেল গড়ালেই সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্ররা এসে ব্যাচ পড়ে। দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা এসি চালিয়ে মাত্র ৭০ টাকা ভাড়া দিয়ে তিনি সেখানে গড়ে তুলেছেন আরেকটি নতুন ভুবন। তাছাড়া কিছুদিন পূর্বে পিয়ন ফিরোজ শিকদারকে দিয়ে প্রায় ২৫টি কম্বল একাই নিয়েছেন ব্যাংক থেকে। এভাবে সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন সম্পদ ও আর্থিক তসরূপ করে যাচ্ছেন বিভাস হাওলাদার। ডিজিএম বিভাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে নিজস্ব প্রভাববলয় তৈরির অভিযোগও উঠেছে। কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক গ্রুপ গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।  তাছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হলেও পরবর্তীতে তারা পুনরায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেছেন। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ডিজিএম বিভাস চন্দ্র হাওলাদার বলেন, আমি যে সকল বদলি করেছি তা সম্পূর্ণ বিধিসম্মত ভাবেই করেছি। তাছাড়া আমি ছেলে সহ একটি ভবনে থাকি। সেখানে এসি চলে, ছেলের পড়াশুনা চলে এগুলো কোন ইস্যু হতে পারেনা। কিছু গরীব লোককে ২৫টি কম্বল পাইয়ে দিয়েছিলাম, সেগুলো তো আমি নিজে নেইনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভাঙন: নেতৃত্ব সংকট, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, সাংগঠনিক অচলাবস্থা এবং কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা পরিষদ—যা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। নেতৃত্ব ছাড়ার পরেই সংকট তীব্র সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশীদ ও দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার পরই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সংগঠনের একাধিক সূত্র বলছে, গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের পদত্যাগ ও দলত্যাগের কারণে কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় গত ১৮ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয় এবং গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ। এতে রাখা হয় আবু সাঈদ লিওন, হামযা মাহবুব, তারিকুল ইসলাম (রেজা), মুঈনুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনকে। বলা হয়, ৩০ দিনের মধ্যে তারা সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন করবেন। তবে এই সিদ্ধান্ত সংগঠনের ভেতরেই সর্বসম্মত সমর্থন পায়নি। ‘অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত’—বিরোধীদের অভিযোগ সংগঠনের একটি অংশ এই পদক্ষেপকে ‘একতরফা’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করার এখতিয়ার কারও নেই। সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে দাবি করা সিনথিয়া জাহীন আয়েশা অভিযোগ করেন, “রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকেই কয়েকজন নেতা সংগঠন ছেড়ে গেছেন। একই সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সামনে আসার পরই তারা সরে দাঁড়ান।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন আর্থিক বিষয়ে জবাব চাই, তখন আমাদের বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে অনুমোদনহীনভাবে কমিটি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।” উপদেষ্টা পরিষদের বিরোধিতা করায় আয়েশাকে সংগঠনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ সংগঠনের ভেতরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে। আয়েশা দাবি করেন, “কোটির ওপর একটি বড় অঙ্কের টাকা লুটপাট হয়েছে।” তিনি জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুঈনুল ইসলাম এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার ভাষায়, “কমিটিতে কোনো আর্থিক লেনদেনই হয়নি। অন্তত আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।” ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন সাবেক নেতারা সংগঠন ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দেওয়া সাবেক দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন পুরো ঘটনাকে স্বাভাবিক সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “নতুন কমিটি বা কাঠামো গঠনের সময় এমন অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ দেখা যায়। উপদেষ্টা পরিষদ তাদের মনমতো হয়নি বলেই এসব অভিযোগ আসছে।” তার দাবি, নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে বৃহত্তর সমন্বয়ক কাঠামোকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অরাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্নে বিতর্ক শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিজেদের একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংগঠনের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল বলে একাধিক নেতা দাবি করেছেন। বিশেষ করে এনসিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসার পর সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে হতাশা, তবে ঐক্যের আশ্বাস সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশও এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, আন্দোলনের আদর্শকে পাশ কাটিয়ে ‘পকেট কমিটি’ তৈরির চেষ্টা চলছে, যা কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। তবে তারা আন্দোলনের মূল চেতনাকে ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং শিগগিরই নতুন রূপরেখা ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। ভবিষ্যৎ কোন দিকে? নেতৃত্ব শূন্যতা, সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে বিতর্ক এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ—সব মিলিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। উপদেষ্টা পরিষদ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কী ধরনের পুনর্গঠন করতে পারে, এবং আর্থিক অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়—তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ফারুক ওয়াসিফ
১৮ মাসে পিআইবির সুনাম ক্ষুন্ন করেছে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ!

ইত্তেহাদ নিউজ : রাষ্ট্রীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগকেন্দ্রিক অনিয়ম  সংক্রান্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়া তীব্র আকার ধারণ করেছে। ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পিআইবি মহাপরিচালক পদে ফারুক ওয়াসিফ যোগদানের কিছুদিন পর থেকে বিধি বর্হিভূত ভাবে পরিচালক (প্রশাসন), উপ-পরিচালক, সিনিয়র রিসোর্স অফিসার, সিনিয়র প্রশিক্ষক সহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ী ভাবে অর্থের বিনিময়ে তার বন্ধু, বান্ধবী ও আত্মীয় স্বজন নিয়োগ দিয়েছেন।  আর্থিক অনিয়ম ও অস্থায়ী ভাবে পরিচালক নিয়োগ নিয়ে নিয়মের কথা বলায় মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে হিসাব রক্ষক (চ.দা.) মোঃ আলী হোসেন-কে অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক অবসরে পাঠান। অবৈধভাবে ডেপুটেশনে পাঠানো হয় পারভীন সুলতানা রাব্বী (লাকী)কে গত ১৭ বছর আওয়ামীলীগের অন্যায় অত্যাচার, পদোন্নতি বঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার পরিচালক (অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ, অতি.দা.) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামসুন নাহার হলের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রেসিডেন্ট (সাবেক) পারভীন সুলতানা রাব্বী (লাকী)কে এক রাতে নোটিশে সংযুক্ত করে পাঠিয়ে দেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে।অথচ পিআইবি'র চাকুরি ডেপুটেশন বা বদলিযোগ্য নয়। পিআইবি বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রশিক্ষণ মডিউল, জেন্ডার টুলকিট, রিসোর্স পেপারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করিয়ে নানা অপবাদ দিয়ে সেই কাজ ছিনিয়ে নিয়ে তার বান্ধবী সহযোগী অধ্যাপক মনিরা পরমিন (অস্থায়ী নিয়োগ), বন্ধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মামুন, আত্মীয় ফারুকসহ নিজের লোকদের কাছে দিয়ে নিজের নামে প্রকাশ করেছেন। স্টলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর বই দেখে রেগে যান ডিজি ফারুক ওয়াসিফ অন্তবর্তী সরকারের সময়ে জুলাই নিয়ে কিছু কাজ করলেও, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও  বিএনপির হাজার হাজার নেতা কর্মীদের নিপিড়ন ও নির্যাতন, মামলা -হামলা নিয়ে কোন কাজ করেননি, বরং তারুন্য উৎসবের মেলায় পারভীন সুলতানা রাব্বী পিআইবি'র বইয়ের স্টলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর উপরে লেখা কিছু বই প্রদর্শনী করতে গেলে "এটা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়" বলে ভূচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে রাগারাগি করেন ফারুক ওয়াসিফ।  নতুন মলাটে পুরাতন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ২০০৩ সালে প্রকাশিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে লিখিত বইকে  নতুন মলাটে ঢেকে পূণর্মুদ্রণ দেখিয়ে পুরাতন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান করেন বিএনপির মহাসচিবকে দিয়ে, অথচ গত ১৮ মাসে অফিস চেম্বারে বসে প্রতিনিয়াত বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল এবং দলের সর্বোচ্চ নেতাকে দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে পিআইবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিপীড়ন করেছেন ডিজি ফারুক ওয়াসিফ।  বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর নির্যাতন নীপিড়ন ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর  পিআইবি মহাপরিচালক পদে ফারুক ওয়াসিফ যোগদানের পর সাবেক ছাত্রদল নেতা পারভীন সুলতানা রাব্বীর নেতৃত্বে বিএনপি ঘরানার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি তাকে সকল কাজে শতভাগ সমর্থন সহযোগিতা করেছে। কিন্তু কিছু দিন পর থেকেই প্রতারণামূলক আচরণ শুরু করে নিজের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত অযোগ্য (২৫ থেকে ৩০জনকে  অবৈধ উপায়ে নিয়োগ দেন এবং ধীরেধীরে বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর নির্যাতন নীপিড়ন শুরু করেন।  এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- বিএনপি সমর্থিত ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের কয়েকজন কর্মকর্তাদের কর্মবিহিন করে রাখা হয়েছে। তাদেরকে নানা ভাবে হয়রানি ও চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষক  মোহাম্মদ শাহ আলম-কে শোকজ দিয়ে চাকুরিচ্যুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।  এম এল এস এস মো: মাহবুব আলম-কে ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারী দেরকে নানা ভাবে তার পালিত লোকজন দ্বারা অত্যাচার, নির্যাতন ও চাকুরী খেযে নেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। সদ্য অবসর প্রাপ্ত একেএম ফরিদ উদ্দিন এর দেনা পাওনা চাইতে গেলে ডিজি ফারুক ওয়াসিফ তাকে অফিস থেকে রেব করে দেয়। স্থায়ী ভাবে কর্মরত সকলের নামে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব এর নিকট মিথ্যা বনোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে তার (ফারুক ওয়াসিফ) নিজের অনিয়ম, চুরি, দুর্নীতি, নিয়োগ বানিজ্য ও কুকীর্তি আড়াল করছেন।                    আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি পিআইবিতে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ      এক দিনে ৪ কর্মশালা: ভুয়া বিল ভাউচার,২৩ লক্ষ ৯৭ হাজার পাঁচ শত টাকা আত্মসাত ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ তারিখে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫, জুলাই গণ অভ্যুত্থান। সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনার, গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে একই দিনে ৪-টি কর্মশালা দেখিয়ে ২৩ লক্ষ ৯৭ হাজার পাঁচ শত) টাকার ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করেছেন। এ বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, টিভি , অনলাইন পত্রিকায় অনুসন্ধানী মুলক সংবাদ ছাপা হয়েছে। নয় মাসের কর্মকান্ডের ১৭ অডিট আপত্তি সদ্য সমাপ্ত সরকারী অডিটে ফারুক ওয়াসিফ-এর ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের মাত্র নয় মাসের কর্মকান্ডের উপর ১৭-টি অডিট আপত্তি করেছে। যার মধ্যে রয়েছে আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ নিযোগকৃত দের প্রদত্ত বেতন- বোনাস, তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ নামে ২৩,৯৭,৫০০ টাকা নগদে বিল পরিশোধ, এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয়। ফারুক ওয়াসিফ আপত্তি নিয়ে তিনি কর্মকর্তাদের বলছেন, এ সব কিছু হবে না তথ্য সচিব-কে সব অবহিত করা হয়েছে। তথ্য সচিব আমাকে বলেছেন আপনি চিন্তা করবেন না আমি অডিটের ডিজিকে বলে আপত্তি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করব। আপনি যত দ্রুত পারেন অস্থায়ীদের স্থায়ী করার ব্যবস্থা নেন। আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির উদ্দীন চৌধুরী এই সব কাজে সহযোগিতা করছেন পিআইবির সুবিধাভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা, কর্মচারী এর মধ্যে এক জন অবসর গ্রহণকারী হিসাব অফিসার মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী যাকে বর্তমান মহাপরিচালক বিধিবর্হিভূত ভাবে অস্থায়ী ভাবে উচ্চবেতনে উপ-পরিচালক প্রশাসন পদে বসিয়ে অবৈধ ভাবে আয়ন- ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে চুরি, দুর্নীতি ও লুটপাট করে যাচ্ছেন।  একজন অস্থায়ী ভাবে কর্মরত কর্মকর্তা কখনই সরকারী অর্থ লেনদেনের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হতে পারে না।   অবৈধ কাজে সহযোগিতা করার জন্য ভয় ভীতি প্রদর্শন এ ছাড়া ফারুক ওয়াসিফ অবৈধ কাজে সহযোগিতা করা, তার পক্ষে কথা বলা, স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রুমে রুমে গিয়ে ভয় ভীতি দেখান কয়েকজন কর্মচারী-কে অবৈধ ভাবে পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, কোর্সের আর্থিক সুবিধা প্রদান করার মাধ্যমে অফিসে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করে রেখেছেন। আওয়ামী সমর্থকদের নিয়ে বিএনপি সমর্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিতাড়িত করার চেষ্টা বর্তমানে ফারুক ওয়াসিফ আওয়ামীলীগের সময়ে নিয়োগকৃতদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সমর্থিত ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিতাড়িত করার কাজে ব্যস্ত। অন্য দিকে তিনি বিএনপির উপর মহলে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজে বিএনপি সাজার চেষ্টা করছে। ২০০৯-২০২৩ পর্যন্ত প্রথমআলো ও সমকালে বিএনপির বিরদ্ধে অসংখ্য উপ-সম্পাদকীয় লিখেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ করেছেন পি়আইবির নিপিড়ীত ও নির্যাতিত কর্মকর্তা -কর্মচারীরা।  পিআইবির ব্যয় ফারুক ওয়াসিফের নাম ঘিরে এই বিতর্ক সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম উন্নয়নে কাজ করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ—পিআইবির সম্প্রতি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আলোচনায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক  ফারুক ওয়াসিফের নাম ঘিরে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে গণমাধ্যম অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠছে। পিআইবির নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উপলক্ষে কয়েকটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল একটি সংগীতসন্ধ্যা, একটি প্রদর্শনী এবং দুটি সেমিনার। চারটি কর্মসূচির জন্য মোট প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একটি জাতীয় দৈনিক। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। নথিতে উল্লেখ আছে—সেমিনার দুটিতে অংশগ্রহণকারী ২০০ জন করে মোট ৪০০ জনকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আলোচকদের সম্মানী, নাশতা ও মধ্যাহ্নভোজ, যাতায়াত ভাতা এবং সাজসজ্জাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ দেখানো হয়েছে। তালিকায় থাকা কয়েকজন সাংবাদিক ও পেশাজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, সংশ্লিষ্ট সেমিনারে তারা অংশ নেননি। কেউ কেউ তাদের নামে দেওয়া স্বাক্ষরকেও ভুয়া বলে দাবি করেছেন।এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষক ও সাংবাদিকের নাম আলোচক হিসেবে দেখানো হলেও তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, ওই সময় পিআইবির কোনো সেমিনারে তারা উপস্থিত ছিলেন না। অনুষ্ঠানগুলোর জন্য জমা দেওয়া বিভিন্ন ভাউচারও যাচাই করে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিল নিয়ে সংশ্লিষ্ট দোকান বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই ধরনের কাজ তারা করেনি বা ভাউচারের স্বাক্ষর তাদের নয়।খাবারের বিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁর কর্মীরা জানিয়েছেন, ওই সময় এত বড় কোনো অর্ডারের তথ্য তাদের কাছে নেই। পিআইবির ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে সাধারণত প্রতিষ্ঠানটির কর্মসূচির ছবি ও তথ্য প্রকাশ করা হয়। কিন্তু বিতর্কিত সেমিনার দুটির কোনো ছবি, ভিডিও বা প্রেস বিজ্ঞপ্তি সেখানে পাওয়া যায়নি। এছাড়া পিআইবির ভবনে একসঙ্গে ২০০ জনের সেমিনার আয়োজনের উপযুক্ত কক্ষ রয়েছে কি না—সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মহাপরিচালকের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগকারীরা বলেছেন, মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ  নিয়োগ বানিজ্য,অনিয়ম,দুর্নীতির বিষয়গুলো আড়াল করতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের  চাপ দিচ্ছেন। এদিকে পিআইবি ভবনে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সুবিধা অর্জনের মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নানা অভিযোগের মুখে বর্তমানে মহাপরিচালকের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি  গবেষণা, সিনিয়র সাংবাদিক,গণমাধ্যম সংগঠন ও সাংবাদকর্মীদের তরফ থেকে করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
বাবে রহমত
আধ্যাত্মিকতার আড়ালে হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য—দেওয়ানবাগ দরবার শরিফ ঘিরে বিস্ময়কর অনুসন্ধান

ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা :  রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিলের আরামবাগে অবস্থিত ‘বাবে রহমত’—বাহ্যিকভাবে এটি একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, যেখানে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবসেবার বার্তা প্রচার করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র—যেখানে আধ্যাত্মিকতার আবরণে গড়ে উঠেছে হাজার কোটি টাকার এক জটিল, অস্বচ্ছ আর্থিক সাম্রাজ্য। দেওয়ানবাগ দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা পীর সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে বিপুল সম্পদ। অনুসন্ধান বলছে, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা এই সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যার বড় অংশই অপ্রকাশিত। অভিযোগ রয়েছে, ভক্তদের দানের অর্থই বিভিন্ন কৌশলে ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তর করা হয়েছে। উত্তরাধিকার নাকি সম্পদের পুনর্বিন্যাস? প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর পর তার সাত সন্তানের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করা হয়। তবে নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ জমি, ভবন এবং ব্যাংক আমানত তাদের নামে হস্তান্তর হলেও এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যবসায়িক ব্যাখ্যা নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি—দরবারকেন্দ্রিক অনুদানই ছিল প্রধান অর্থের উৎস। সন্দেহজনক লেনদেন ও অদৃশ্য কোম্পানির জাল ব্যাংক নথি পর্যালোচনায় উঠে এসেছে শতকোটি টাকার লেনদেনের তথ্য। তিন ছেলের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩৬৭ কোটি টাকার লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একাধিক লেনদেন হয়েছে এমন কোম্পানির মাধ্যমে, যেগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব বা কার্যক্রম খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট ইতোমধ্যে এক ছেলের ২৪টি ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে। এসব অ্যাকাউন্টে জমা ও উত্তোলনের ধরনকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজধানীকেন্দ্রিক সাম্রাজ্য ঢাকার মতিঝিল, মগবাজার, পুরানা পল্টন, মিরপুর, জুরাইন, মেরাদিয়া, বেগুনবাড়ি, দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে একাধিক ভবন ও জমি। ‘বাবে কুতুবুল আকতার’, ‘বাবে রহমত কমপ্লেক্স’, ‘বাবে রিয়াজুল জান্নাত’—এমন নামের ভবনগুলো শুধু ধর্মীয় কার্যক্রম নয়, বরং সম্পদ বিস্তারের চিহ্ন হিসেবেও উঠে এসেছে। মতিঝিলের কেন্দ্রীয় দরবার ঘিরে রয়েছে একাধিক বহুতল ভবন। অভিযোগ রয়েছে, এর কিছু অংশ রাজউকের জমির ওপর নির্মিত। যদিও বহুবার উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সারা দেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানে অন্তত ৩০ জেলায় দরবার, খানকা, জমি ও স্থাপনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, রাজশাহী, রংপুর—প্রায় সব বিভাগেই রয়েছে এই নেটওয়ার্ক। এই বিস্তৃতি শুধু ধর্মীয় কার্যক্রমের সীমায় নয়—বরং একটি সংগঠিত সম্পদ ব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়। বিদেশে অর্থের ছাপ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নিবন্ধিত একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দরবার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনও উল্লেখযোগ্য। সন্দেহ রয়েছে, দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ বিদেশে বিনিয়োগ করা হয়েছে। জমি দখল ও ভয়ভীতি অনুসন্ধানে জমি দখলের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। মতিঝিলে এক ব্যক্তির জমিতে উটের খামার গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি—জাল দলিল, প্রভাবশালী মহলের সহায়তা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করা হয়েছে। একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, প্রতিবাদ করলে হামলা, মামলা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। কেউ কেউ এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন। ‘আধ্যাত্মিক’ কেন্দ্রের ভেতরের বাস্তবতা দরবার কমপ্লেক্সে সাধারণ ভক্তদের প্রবেশ সীমিত। মূল ভবনে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন বিশেষ অনুমতি। ভেতরে রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত বাহিনী এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের নানা উপকরণ—যা একটি সাধারণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অভিযোগ দেওয়ানবাগ সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, অভ্যন্তরীণ আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেই তাদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। কেউ কেউ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন। কর্তৃপক্ষের অবস্থান দেওয়ানবাগ কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সব সম্পদ পৈতৃক এবং বৈধ উৎস থেকেই অর্জিত। ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়টিও আদালতে বিচারাধীন বলে জানানো হয়েছে। জমি দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তারা বলেছে, এসব বিষয় আদালতে রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই সমাধান হবে। প্রশাসনিক নীরবতা—সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই বিস্তৃত সম্পদ, সন্দেহজনক লেনদেন এবং দখল অভিযোগের পরও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভাব সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। বহুবার নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর অভিযান হয়নি—যা প্রশাসনিক নীরবতার ইঙ্গিত দেয়। দেওয়ানবাগ দরবার শরিফ—একদিকে আধ্যাত্মিকতার বার্তা, অন্যদিকে অস্বচ্ছ সম্পদ, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং দখলের অভিযোগ। এই দ্বৈত বাস্তবতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশ্ন নয়—বরং রাষ্ট্রীয় নজরদারি, জবাবদিহিতা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতার বৃহত্তর প্রশ্নও তুলে ধরে। অনুসন্ধানের শেষ নয়—বরং এখান থেকেই শুরু হতে পারে আরও গভীর তদন্ত।   দেওয়ানবাগ দরবার শরীফ বাংলাদেশের একটি পরিচিত তাসাউফ-ভিত্তিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এটি মূলত "মোহাম্মদী ইসলাম" প্রচারের জন্য পরিচিত, যা এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মাহবুব-ই-খোদা (যিনি দেওয়ানবাগী হুজুর নামেই বেশি পরিচিত) প্রবর্তন করেন।  বাবে রহমত : বলতে সাধারণত ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত দেওয়ানবাগ শরীফ দরবারকে বোঝানো হয়। এটি এই দরবার শরীফের মূল কেন্দ্র বা সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত। মূল তথ্য:     প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার দেওয়ানবাগ এলাকায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।     প্রধান কার্যালয়: ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগে অবস্থিত 'বাবে রহমত' এই দরবার শরীফের প্রধান কেন্দ্র।     প্রতিষ্ঠাতা: সৈয়দ মাহবুব-ই-খোদা (১৯৪৯–২০২০)। তিনি নিজেকে "সুফি সম্রাট" হিসেবে পরিচয় দিতেন।     মতাদর্শ: এই প্রতিষ্ঠানটি 'মোহাম্মদী ইসলাম' নামক নিজস্ব ধর্মীয় দর্শন প্রচার করে থাকে। উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রসমূহ:  দেওয়ানবাগ শরীফের অধীনে বেশ কিছু শাখা বা দরবার রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: বাবে রহমত: মতিঝিল, ঢাকা (প্রধান কার্যালয়)। বাবে মদিনা: নারায়ণগঞ্জ। বাবে জান্নাত: দেওয়ানবাগ, নারায়ণগঞ্জ।  এই দরবার শরীফটি তার বিভিন্ন বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তব্যের কারণে বিভিন্ন সময়ে  ইসলামি দলগুলোর সমালোচনা ও বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে। ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেওয়ানবাগীর মৃত্যুর পর বর্তমানে তাঁর উত্তরসূরিরা এই দরবারের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ইভিএম
ইভিএম প্রকল্পে ৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্প এখন বড় ধরনের বিতর্কের কেন্দ্রে। প্রকল্পটির আর্থিক অনিয়ম, ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় লাখ ইভিএম মেশিন কেনার জন্য প্রায় ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাজারমূল্যের তুলনায় বহু গুণ বেশি দামে এই মেশিন কেনা হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রের প্রায় ৩ হাজার ১৭২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বড় প্রযুক্তিগত প্রকল্পে সাধারণত উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু এই প্রকল্পে সেই নিয়ম অনুসরণ না করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সেনাবাহিনীর একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরবরাহ করা হলেও যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এদিকে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ দায় স্বীকার করেননি, তবে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বিপুল ব্যয়ে কেনা মেশিনের একটি বড় অংশ বর্তমানে অচল বা ব্যবহার অযোগ্য। সাম্প্রতিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেশিন ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেছে বলেও জানা গেছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের বিষয়টি উপেক্ষা করার অভিযোগও রয়েছে। যেখানে ১০ বছরের ওয়ারেন্টির সুপারিশ ছিল, সেখানে মাত্র এক বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়—যা প্রকল্পের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়কাল এবং প্রেক্ষাপট এই বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। অনেক রাজনৈতিক দল শুরু থেকেই ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছিল। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অনেকের কাছে প্রকল্পটির ব্যর্থতার একটি পরোক্ষ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, বিশ্লেষকদের মতে, কেবল তদন্ত নয়—দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণই হবে প্রকৃত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মূল শর্ত। সবশেষে প্রশ্ন রয়ে যায়—জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা কীভাবে ব্যয় হলো এবং কারা এর সুবিধাভোগী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা এখন শুধু আর্থিক বিষয় নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের জন্যও জরুরি হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
সাদেকুর রহমান
বন বিভাগে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সিন্ডিকেট ও অনিয়ম

বন অধিদপ্তরের ‘সুফল (টেকসই বন ও জীবিকা)’ প্রকল্পে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা বাগান সৃজন না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্থিরতা। অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি তহবিল আত্মসাত ও ঘুষ প্রদান করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করার — অথচ এক বছরেও কোনো কার্যকর তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি হিসাব ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের কুমিরা রেঞ্জে ৭০ ও ১০ হেক্টর জমিতে বাগান সৃজনের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থতার বিষয়টি বন বিভাগীয় পর্যায়ে “ওপেন সিক্রেট” হলেও এখন পর্যন্ত সংঘবদ্ধ অভিযোগের কোনো প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।গত এক বছর ধরে এই অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বন বিভাগে ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও এখনো কোনো কার্যকর তদন্ত হয়নি। বরং অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সাদেকুর রহমানকে শাস্তির পরিবর্তে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দিয়ে কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বন বিভাগের ‘লোভনীয় পোস্টিং’ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগের মূল পয়েন্ট • পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটে ঘুষ দিয়ে প্রকল্পের সত্যতা লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেছে। • অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি পেয়ে কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে বদলি হয়েছেন — বন বিভাগের মধ্যে এটিকে “লোভনীয় পোস্টিং” হিসেবেও দেখা হচ্ছে। • সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির মাধ্যমে এই ঘটনার অনুসন্ধান সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম অনিয়ম গত ২৬ নভেম্বর, উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবা চট্টগ্রাম বিভাগের বন কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেন, যাতে ৭ দিনের মধ্যে কুমিরা রেঞ্জে ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্টদের তালিকা জমা দিতে বলা হয়। তবে সময়সীমা অতিক্রম করা সত্ত্বেও সেই তালিকা দপ্তরে পাঠানো হয়নি। এর আগের ২২ এপ্রিল পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ ছিল, • ১৭০ হেক্টর বাগানে জীবিত চারার হার ছিল মাত্র ৬০.২০%, • অন্য ১০ হেক্টরের বাগানে ছিল মাত্র ৫০.৪০%, যেখানে ন্যূনতম ৮০% জীবিত চারার হার থাকার কথা ছিল। অভিযুক্তরা এবং তাদের অবস্থান সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিন কর্মকর্তা এই অর্থ আত্মসাতে জড়িত — সাদেকুর রহমান — কক্সবাজার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা এস.এম. কায়চার — উপবন সংরক্ষক (বর্তমানে চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক পরিচালক) জয়নাল আবেদীন — সহকারী বন সংরক্ষক (বর্তমানে হবিগঞ্জে কর্মরত) জিজ্ঞাসা করলে, সাদেকুর রহমান বলেন, “আমি এখানে নতুন দায়িত্বে আছি; এ বিষয়ে ডিএফও’র সঙ্গে কথা বলুন।” এস.এম. কায়চার ফোন রিসিভ করেননি। জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমি অভিযুক্ত, তাই কিছু বলতে পারব না।” ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠা কর্মকর্তার মন্তব্য পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটের উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবার বিরুদ্ধেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে, যদিও তিনি সেটা গণমাধ্যমে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। বন বিভাগে হতাশা ও দ্রুত তদন্তের দাবি এই দেড় কোটি টাকা আত্মসাত ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিয়ে বন বিভাগে ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরকারি হিসাব ও বন কর্মীদের অনেকে দাবি করেছেন — • দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক • দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক বাংলাদেশের সরকারি প্রকল্পে এমন ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জনমত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জোরদার হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
জামানুর রহমান
ফরিদপুরে বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামানুর রহমান পুনর্বহাল : আর্থিক অনিয়ম, নারী সহকর্মী হয়রানি ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ফরিদপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমান সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে স্বপদে ফিরে আসায় বর্তমানে প্রশাসনিক ও জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ, যেমন আর্থিক অনিয়ম, নারী সহকর্মীদের প্রতি অসদাচরণ এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার—এসব বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।   আরথিক অনিয়মের অভিযোগ: অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, পাবনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে, সুজানগরের ‘আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও পাইপড ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন’ প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন এবং আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।   নারী সহকর্মীদের প্রতি অসদাচরণ ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ: ২০২৩ সালে রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয় (নম্বর: ১৪২/২০২৩)। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে অনৈতিক আচরণ, নারী সহকর্মীদের হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে।   পুনরায় স্বপদে ফিরে আসা এবং কর্মকর্তাদের ক্ষোভ: অর্থ ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে, তদন্ত শেষে তাঁকে পুনরায় স্বপদে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, যার ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি, ফরিদপুর সার্কেলে তাঁর প্রভাব আগের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে।   খুলনায় যৌন হয়রানির অভিযোগ: সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে খুলনায় তাঁর পূর্ববর্তী দায়িত্বকালীন সময়ে একাধিক নারী কর্মচারী যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি ফরিদপুরে পদায়িত থাকলেও খুলনায় অবস্থান করে কর্মচারীদের ওপর নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করতেন বলে জানা গেছে।   এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি, এবং এসএমএস পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। একইভাবে, প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল-এর মন্তব্যও পাওয়া যায়নি। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি: প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর, ফরিদপুর ও অন্যান্য অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি দ্রুত এবং আইনানুগ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন। তাঁরা আশাবাদী যে, এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে এগোতে পারবে প্রশাসন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
গোলাম ফারুক
বিআরটিসির ডিজিএম গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ করপোরেশন (বিআরটিসি)-এর এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম ও তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রশাসনিক মহলে। সংস্থাটির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ের তদন্ত প্রতিবেদনে মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকার আর্থিক গরমিলের তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।   📌 বগুড়া ডিপো: রাজস্ব জমা না দেওয়ার অভিযোগ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, বগুড়া ডিপোর ইউনিট প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৭৫০ টাকা রাজস্ব তহবিলে জমা হয়নি। তদন্ত নথিতে বলা হয়, দৈনন্দিন বাস পরিচালনার আয় বিভিন্ন চালক ও কর্মচারীর নামে বকেয়া দেখিয়ে তা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া নিজস্ব চালকদের পরিবর্তে বহিরাগত চালক নিয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত বাসের আয় থেকে ১ কোটি ১২ লাখ ৬২ হাজার ৬০০ টাকা জমা না হওয়ার অভিযোগও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। 📌 মোহাম্মদপুর ডিপো: বেতন ও জ্বালানি ব্যয়ে অনিয়ম ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোহাম্মদপুর বাস ডিপোতে কর্মরত অবস্থায় বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সংক্রান্ত ব্যয়ে ২৮ লাখ ৩৫ হাজার ৬০০ টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে তা নিষ্পত্তি হয়ে যায়। 📌 গাবতলী ডিপো: বকেয়া বেতন-ভাতার হিসাব ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ঢাকার গাবতলী ডিপোর ম্যানেজার থাকাকালে ৩৫ লাখ ৪৪ হাজার ৭৫ টাকা বেতন-ভাতা বাবদ পরিশোধ না করার তথ্য তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 📌 ভুয়া বিল ও লিজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানায়, বাস রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, অকেজো বাস বিক্রয় এবং লিজ নবায়নে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, ট্রিপ শিট ও সার্ভিসিং ব্যয়ের হিসাবে গরমিলের মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে। 📌 বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন তদন্ত নথিতে একাধিক শোকজ নোটিশ ও বিভাগীয় মামলার তথ্য থাকলেও গোলাম ফারুক পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ডিজিএম পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৯ সালের জুন মাসে ইন্সট্রাক্টর পদে যোগ দিয়ে বর্তমানে তিনি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। 📌 সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে গোলাম ফারুকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বর্তমান চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”   রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নিরীক্ষা ও তদন্ত ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তি না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণই প্রতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার একমাত্র পথ।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ
পিআইবিতে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ

বাসসের এমডি ও ৪ শ সাংবাদিকের নামে ভূয়া বিল ভাউচার: নিয়োগ বানিজ্য, অনিয়ম ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-কে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রথম পর্ব প্রকাশের পর নতুন করে সামনে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য। দ্বিতীয় পর্বে উঠে এসেছে ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে সাংবাদিক ভাতা উত্তোলন, একই দিনে একাধিক কর্মশালার নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং একটি সুসংগঠিত আর্থিক নেটওয়ার্কের অভিযোগ।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-এর হস্তক্ষেপ , নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও ফারুক ওয়াসিফের দ্রুত অপসারণ দাবি দাবি জানিয়েছেন। ফারুক ওয়াসিফ ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর  পিআইবির মহাপরিচালক পদে যোগদান করেই শুরু করেন দুর্নীতির বানিজ্য। বিধি বর্হিভূত ভাবে পরিচালক, উপ-পরিচালক, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার, সিনিয়র প্রশিক্ষক সহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ী ভাবে তার বন্ধু, বান্ধবী ও আত্মীয়দের-কে নিয়োগ দিতে থাকেন। এই নিয়োগের বিষয়ে পিআইবির স্থায়ী কর্মকর্তা কর্মচারী আপত্তি তুললে তাদের উপর খড়ক নেমে আসে। তিনি তখন দম্ভোক্তি করে বলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের সচিব আমার খুবই কাছের লোক, পিআইবির বিষয়ে আমি যা বলব তাই হবে। আমার সিদ্ধান্তের বাহিরে বোর্ড ও মন্ত্রনালয়ের কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। সুতরাং আমার কাজে যারা প্রশ্ন তুলবে তাদের চাকুরী নট করে দেব। নিয়োগ বানিজ্য:  ফারুক ওয়াসিফ বিধি বর্হিভূত ভাবে মোট ৩৯জন লোক অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ প্রদান করেছেন। নিয়োগ পেয়েছে যারা তারা মহাপরিচালকের বন্ধু, ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও আত্মীয়। বিভিন্ন জনের নিকট থেকে মোটা উৎকোচের বিনিময়ে চাকুরী স্থায়ী করার শর্তে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ প্রদান করেন। মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এর চুরি, দুর্নীতি ও অবৈধ নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জনালে হিসাব রক্ষক (চ.দা) মোঃ আলী হেসেন-কে বিনা অপরাধে চাকুরী থেকে অবসর দেয়া হয়। অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় পরিচালক (প্রশিক্ষক) চ.দা. পারভীন সুলতানা রাব্বী-কে  মন্ত্রনালয়ে ভুল বুঝিয়ে নিমকো-তে বদলী করা হয়। কাউকে অন্য শাখায় বদলী করা হয়। কাউকে কর্মহীন করে রাখা হয়েছে। পিআইবিতে বর্তমানে চাকুরী হারানোর বিষয়ে অনেকেই আতঙ্কে আছেন।  বোর্ড মিটিং-এ কিছু বোর্ড মেম্বার-কে ম্যানেজ করে ৩৯ জন অস্থায়ী-কর্মকর্তা কর্মচারীকে স্থায়ী করার জন্য বোর্ডেএ উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু ফারুক ওয়াসিফ-এর চালাকি বোর্ড মেম্বারদের চোখে ধরা পড়ে যায়। বোর্ড বলে দেয় বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে পুনরায় বোর্ডে উপস্থাপন করার জন্য। ফলে মহাপরিচালকের মাথা নষ্ঠ হয়ে যায়। নামে মাত্র নিয়োগ বিধি মানার জন্য সম্প্রতি তার নিয়োগকৃত অস্থায়ীদের স্থায়ী করার জন্য জরুরী ভিত্তিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। জরুরী সিলেকশন কমিটি ডেকে মোটা উৎকোচ গ্রহন করে স্থায়ী পদে নিয়োগ প্রদান করার জোর তৎপরতা চলছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি অতি গোপনে তার বন্ধু অস্থায়ী ভাবে নিয়োগকৃত পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিন, উপ-পরিচালক (প্রশা:) মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর, সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ, সহ-সম্পাদক গোলাম মর্তুজা, অবৈধ হিসাব অফিসার মো. ফকরুল ইসলাম-কে নিয়ে সন্ধ্যার পর কাজ করে যাচ্ছেন। এই সব কাজে সহযোগিতা করছে পিআইবির সুবিধাভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা এর মধ্যে এক জন অবসর গ্রহণকারী হিসাব অফিসার মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী যাকে বর্তমান মহাপরিচালক বিধিবর্হিভূত ভাবে অস্থায়ী ভাবে উচ্চ বেতনে উপ-পরিচালক প্রশাসন পদে বসিয়ে অবৈধ ভাবে আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে চুরি, দুর্নীতি ও লুটপাট করে যাচ্ছেন। এই মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর মাধ্যমে  মহাপরিচালক ভূয়া বিল ভাউচার তৈরী করে সকল অবৈধ লেনদেন সকল চুরি, দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া আইবাসের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত বিভিন্ন খাতে অব্যয়িত এক কোটি বার লক্ষ টাকা অন্য ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা হচ্ছে। অবৈধ ভূয়া আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর-কে সহযোগীতা করছেন বর্তমান মহাপরিচালকের অস্থায়ী ভাবে নিয়োগকৃত পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ, সহ-সম্পাদক গোলাম মর্তুজা, অবৈধ হিসাব অফিসার মো. ফকরুল ইসলাম সহ কয়েকজন। মধ্যে পিআইবি-কে ধংসের অন্যতম কর্মকর্তা টেকনিক্যাল সুপারভাইজার আফতাবউদ্দিন ভূইয়া যিনি আওয়ামিলীগের নিয়োগকৃত। তিনি পিআইবির টেন্ডার সংক্রান্ত সকল কাজের হোতা বিভিন্ন প্রতিষ্টানের যোগসাজসে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি, লুটপাট ও অসাধু কর্মকান্ডের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। তার পুরস্কার হিসেবে ফারুক ওয়াসিফ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রী না থাকা সর্ভেও তাকে নিয়োগ বিধি লঙন করে পরিচালনা বোর্ড-কে অবহিত না করে প্রকৌশলী পদে পদন্নোতি প্রদান করেন। প্রশাসনের সকলকাজ কর্ম তার মাধ্যমে চলে। কারন ডিজি যাদের নিয়োগ প্রদান করেছেন তারা কোন কাজ কর্ম জানেন না। এই দুর্নীতিবাজ টেকনিক্যাল সুপারভাইজার আফতাবউদ্দিন ভূইয়া সকল চুরি, দুর্নীতি, লুটপাট ও অসাধু কর্মকান্ডের একমাত্র সহযোগী। উল্লেখ্য, পিআইবির সকল অবৈধ লেনদেনের টাকা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ-কে অগ্রিম প্রদানের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করেছেন। একই দিনে ৪ কর্মশালা,কোটি টাকার ভুয়া বিল ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ তারিখে তারুণ্যের উৎসব, জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনার, গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে একই দিনে ৪-টি কর্মশালা দেখিয়ে তেইশ লক্ষ সাতানব্বই হাজার পাঁচ শত টাকার ভুয়া বিল ভাউচরের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করেছেন।  ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে তারুণ্যের উৎসব নামে পাচঁ লাখ তিয়াত্তর হাজার  টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। সঙ্গীত সন্ধ্যা নামে অনুষ্ঠান দেখিয়ে আদনান কাইয়ুম গ্রুফ লিডার নবজাগরাণ সঙ্গিত নিকেতন, বারিধারা ঢাকা নামে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে চার লক্ষ সাতষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত পিআইবিতে আধুনিক অডিটোরিয়াম ও সেমিনার রুম থাকা সত্বেও সাউন্ড সিস্টেম, আলোক সজ্জা দেখিয়ে বর্তমান বাংলা লিঃ নামে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। দুই দিনের অনুষ্ঠানে দুই বার গেট সাজানোর নামে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে অনুষ্ঠিত জুলাই অভ্যুত্থান চলচ্চিত্র, আলোক চিত্র ভিডিও প্রদর্শনীর নামে ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে চার লক্ষ সাতষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। বাস্তবে এর কিছুই হয় নাই। গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে ছয় লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত:  ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে অনুষ্ঠিত গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারে ছয় লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০ সাংবাদিককে ভাতা ও যাতায়াত পরিশোধের ভূয়া স্বাক্ষরের বিল করে টাকা আত্বসাত করা হয়েছে। এবং এই ভূয়া বিলের মধ্যে আলোচকদের সম্মানী দেখিয়েছেন মাহবুব মোর্শেদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, মো: মাঈনুল ইসলাম সাংবাদিক বাংলাভিশন, ওবায়দুল হক সহযোগী অধ্যাপক চ.বি, শহীদুল্লাহ লিপন অধ্যাপক, চ. বি, খান মোহাম্মদ বাহাদুর, অধ্যাপক সোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এদের নামে  ১ লাখ টাকা ভূয়া বিল বানিয়ে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। বাস্তবে এই সব আলোচকরা অনুষ্ঠানে আসেই নাই। জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনারের নামে ৬ লাখ ৯১ হাজার পাচঁশত টাকা আত্মসাত: গত ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে অনুষ্ঠিত জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনারের নামে ৬ লাখ ৯১ হাজার পাচঁশত টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এখানেও ২০০ জন সাংবাদিক ও ছাত্র দেখিয়ে তাদের ভূয়া স্বাক্ষর করে ভাতা ও যাতায়াত বিল এবং খাবার ও আনুসঙ্গিক ভুয়া বিল করে টাকা আত্বসাত করা হয়েছে। Camera & Crowd: Covering Revolution নামে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা দেখিয়ে ৫৫,০২৫ টাকা আত্মসাৎ: এ ছাড়া ২ সেপ্টেম্বর-২০২৫ তারিখে Camera & Crowd: Covering Revolution নামে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা দেখিয়ে ৫৫,০২৫ টাকা ফারুক ওয়াসিফের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ ভূয়া বিল ভাউচার দাখিলের মাধ্যমে উক্ত টাকা আত্মসাত করেন। এই বিল গত ৪ সেপ্টেম্বর-২০২৫ তারিখে দাখিল করে একদিনের মধ্যে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগকৃত পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, উপ-পরিচালক (প্রশাঃ) মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর, হিসাব অফিসার মো. ফকরুল ইসলাম ও মহাপরচালক ফরুক ওয়াসিফ চূড়ান্ত ভাবে পাশ করেন। তদন্ত করলে মাহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ ১৫ মাসের দায়িত্ব পালন কালে কোটি কোটি টাকা অনিয়ম মন্ত্রনালয় ও পরিচালনা বোর্ড-কে বোকা বানিয়ে স্থায়ী ও দক্ষ কর্মকর্তা কর্মচারীদের সরিয়ে দিয়ে এই চুরি, দুর্নীতির মহা উৎসব চালিয়ে যাচ্ছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের আমন্ত্রনে গত ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর তারিখে সরকারী খরচে ফারুক ওয়াসিফ আজার বাইজান সফর করেন। এই সফরের আগের দিন কোন মন্ত্রনালয়ের কোন জিও, অনুমোদনের কোন কাগজ পত্র নোট ছাড়াই তার পিএ নামে ৬৫,০০০ টাকার চেক ইস্যু করে টাকা উত্তোলন করেন ফারুক ওয়াসিফ-কে প্রদান করা হয়। টেন্ডার ছাড়াই সংস্কার কাজ  এ ছাড়া কোন প্রয়োজন ছাড়াই ৬ষ্ঠ তলা ভবনের ৩য় তলায় টেন্ডার ছাড়া কিছু মেরামত ও পরিবর্তনের কাজ দেখিয়ে ৭০ লক্ষ টাকার বিল পরিশোধের নামে ৫০% টাকা আত্মসাত করেছে মহাপরিচালক। একই বিল্ডিং এর ২য় তলায় মেরামত ও পরিবর্তন দেখিয়ে ৯০ লক্ষ টাকার বিল পরিশোধের নামে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।  অডিট নির্দেশ অমান্য ও তহবিল স্থানান্তর গত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের সরকারী অডিট চলাকালীন সময়ে পিআইবির বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা জমা ছিল। সরকারী অডিটের নির্দেশ ছিল উক্ত টাকা সরকারী তহবিলে জমা করা। কিন্তু অবৈধ ভূয়া আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর কু- পরামর্শে উক্ত টাকা সরকারী তহবিলে জমা না করে ডিজি ইচ্ছামত ব্যয় করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সুবিধা প্রাপ্ত কথিত বুদ্ধিজীবি মোন্তাছির মামুন, শাহরীয়ার কবীর, সাংবাদিক বোরহান কবীর, মোজাম্মেল বাবু, নাইমুল ইসলাম খান ও মুন্নিসাহা-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন ফারুক ওয়াসিফ, বন্ধু গোলাম মুর্শেদ, মুন্না, মনিরা শরমিন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আরিফিন সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক খোরশেদ আলমের তৃতীয় স্ত্রী সিফাত তাসনিম, সহ-সম্পাদক গোলাম মুতুর্জা সহ কয়েক জন অস্থায়ী আওয়ামী ঘরনার কর্মকর্তাকে নিয়ে পিআইবিতে স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জিম্মী করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। পিআইবির ডরমিটরিতে মদপান ও অসামাজিক কাজ: পিআইবির ডরমিটরিতে নিয়ম ভেঙ্গে সাংবাদিকদের থাকতে না দিয়ে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, অস্থায়ী পরিচালক (প্রশাঃ) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার ও অস্থায়ী উপ-পরিচালক (প্রশা:) নাছির উদ্দীন চৌধুরীর আত্মীয় স্বজনকে বিনা ভাড়ায় দিনের পর দিন থাকেন। এটা পিআইবির ইতিহাসে নজির বিহীন ঘটনা। মহাপরিচালক অফিস সময়ের পর পিআইবির ডরমিটরিতে প্রায়ই বন্ধু বান্ধবী নিয়ে মদ ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকেন। মাঝে মধ্যে মদ্যপান করে মাতাল অবস্থায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু অস্থায়ী কর্মকর্তাদের সহায়তায় তার নিজস্ব নিয়োগকৃত ড্রাইভার রাসেল বাসায় পৌছাইয়া দেন। এই ডিজি পিআইবির পরিবেশ-কে কলুষিত করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, ফারুক ওয়াসিফ মহাপরিচালক হিসাবে পিআইবিতে যোগদানের পর মদপানের জন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিকট থেকে টাকা হাওলাদ নিতেন। কিন্তু কখনো টাকা ফেরৎ দেন নাই। এখনো ৮/১০ জন তার নিকট টাকা পাওনা আছে সে টাকা ফেরৎ চাওয়ার কেহ সাহস পা না। বর্তমানে তার নিয়োগকৃত অস্থায়ী সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদের নামে অগ্রিম দেখিয়ে ট্রেনিং, সেমিনার, মিটিং ও অফিস আপ্যায়ন এর ভুয়া বিল করে নিয়মিত মদপানের অর্থ সংগ্রহ করেন। এখন সে আর কারও কাছ থেকে হাওলাত নিতে হয় না। বিভিন্ন টেনিং ও সেমিনারে তার বাহিনী ও ফারুক ওয়াসিফ প্রশিক্ষনের অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদেরসাথে দুর্ব্যবহার করেন। সদ্য সমাপ্ত একটি সমাপানী অনুষ্ঠানেও এ ঘটনা ঘটে। তদন্ত ও  ফারুক ওয়াসিফের দ্রুত অপসারণ দাবি দুর্নীতিবাজ পিআইবির মহা পরিচালক ফারুক ওয়াসিফের দ্রুত অপসারণ ও দুর্নীতির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রীর নিকট সাংবাদবক সমাজ ও পিআইবির জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।  দুর্নীতির তথ্যবলীর প্রমান হিসাবে ভূয়া বিল ভাউচারের কপিসহ সকল প্রমানাদী প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0