Brand logo light

আর্থিক খাত

বিদেশে পাচার অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ, টার্গেটে এস আলম-বেক্সিমকোসহ আলোচিত গ্রুপ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক আইনি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ব্যাংক খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং খেলাপি ঋণের মাধ্যমে বিদেশে সরিয়ে নেওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হচ্ছে। অর্থাৎ উদ্ধার কার্যক্রম সফল হলে তবেই তারা পারিশ্রমিক পাবে। কেন এই উদ্যোগ? গত এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত সংস্থাগুলোর নজরে আসে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের অর্থ পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করা হয়েছে। প্রথম ধাপে যাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অর্থমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ব্যবসায়ী এস আলম। এছাড়া বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট মামলাও রয়েছে এই তালিকায়। আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য শনাক্ত করবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থপাচার মামলায় বিদেশি আদালত, ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সহযোগিতা ছাড়া সম্পদ উদ্ধার প্রায় অসম্ভব। ফলে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের বাস্তব চিত্র সংসদে দেওয়া তথ্যে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখের বেশি। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব ১৭ কোটি ৭৯ লাখ এবং ঋণ হিসাব প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ জুন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার জরুরি সহায়তা দিয়েছে। বর্তমানে দেশে ৬৩টি ব্যাংক ১১ হাজারের বেশি শাখা এবং প্রায় ৫ হাজার উপশাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন লক্ষ্য সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ জন্য জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণ ও রাজস্বের চিত্র অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কনসেশনাল এবং ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নন-কনসেশনাল ঋণ। এদিকে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখ ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি। তবে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক একীভূতকরণ ও আমানত সুরক্ষা ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে রেজোল্যুশন স্কিমের আওতায় আনা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, আমানত সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। অর্থপাচারবিরোধী লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত, আদালতের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে তবেই এই উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা নির্ধারিত হবে। সরকার ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রথম ধাপের কার্যক্রমের পর আরও বড় পরিসরে অর্থপাচার ও সম্পদ পুনরুদ্ধার অভিযান সম্প্রসারণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
ইসলামী ব্যাংক,
ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। মালিকানা পরিবর্তন, করপোরেট সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন, ঋণ বিতরণে অনিয়ম এবং অর্থ পাচারের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটির প্রতি আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের আস্থাহীনতা এখনও পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকটির গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার এবং অংশীজনদের একটি অংশ বলছে, আস্থা পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ। আস্থা পুনরুদ্ধারের দাবিতে মাঠে গ্রাহকরা ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক লেনদেন নিশ্চিত করার দাবিতে সক্রিয় হয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। সংগঠনটি আগামী সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১টায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক অভিমুখে মিছিল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে রবিবার (২১ জুন) ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সাত দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক, আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডার অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কেন তৈরি হয়েছে আস্থা সংকট? ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, গত কয়েক বছরে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক, ঋণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, করপোরেট গভর্ন্যান্সের দুর্বলতা এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ ব্যাংকটির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এবং পরিচালনা পর্ষদকে ঘিরে প্রশ্ন সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে তারল্য সহায়তা দিয়ে ব্যাংকের কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করেছে, তবুও আস্থার ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্রাহকদের সাত দফা দাবি কী? ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের মতে, সংকট নিরসনের প্রথম শর্ত হলো রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন। সংগঠনটির সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন; ২০১৭ সালের মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে বঞ্চিত শেয়ারহোল্ডারদের বৈধ মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া; ব্যাংক লুটপাটের অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন; অভিযুক্ত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা; ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাওয়া অর্থ উদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা; বিতর্কিত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে বিরত থাকা; ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিতর্কিত বিধান সংশোধনের মাধ্যমে অভিযুক্ত গোষ্ঠীর পুনর্বাসনের সুযোগ বন্ধ করা। বিশ্লেষকদের মতে, এসব দাবির কিছু বাস্তবায়ন করা গেলে শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের প্রতিও জনগণের আস্থা বাড়তে পারে। ‘দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে’ অবস্থান কর্মসূচিতে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সাত দফা দাবির পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে আসছে সংগঠনটি। তার ভাষ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পর কিছু উদ্যোগ ইতিবাচক বলে মনে হলেও এখনও দৃশ্যমান ও কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। শুধু একটি ব্যাংকের সংকট নয় অর্থনীতিবিদদের মতে, ইসলামী ব্যাংক দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি হওয়ায় এর স্থিতিশীলতা পুরো আর্থিক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ভাষ্য, কেবল তারল্য সহায়তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। বরং করপোরেট সুশাসন জোরদার করা, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার মতো কাঠামোগত পদক্ষেপ জরুরি।   সংশ্লিষ্টদের মতে, ইসলামী ব্যাংকে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ অনুযায়ী বেরিয়ে যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা গেলে আমানতকারীদের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরে আসতে পারে। আর সেই আস্থার পুনরুদ্ধারই হবে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার সবচেয়ে বড় ভিত্তি। প্রশ্ন হলো—দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর এবার কি সত্যিই কাঠামোগত সংস্কারের পথে হাঁটবে ইসলামী ব্যাংক, নাকি আস্থার সংকট আরও দীর্ঘায়িত হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
ইসলামী ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো বোর্ড বাতিল, নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থ, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং বৃহত্তর জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. জহির হোসেনকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ব্যাংকটির বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কেন হঠাৎ পুরো বোর্ড বাতিল? বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করা হলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে—সুশাসন নিশ্চিত করা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি, গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলন, পরিচালন কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন এবং বাজারে আস্থার সংকট—এসব বিষয় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়ার তথ্যও সামনে আসে। নিয়ন্ত্রণ কি সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে? সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন কাঠামোতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৭(৩) ধারা বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা স্থগিত বা বাতিল করে বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, একজন নির্বাহী পরিচালককে বোর্ডের পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করার অর্থ হলো—ব্যাংকের নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তদারকির আওতায় পরিচালিত হবে। আমানতকারীদের জন্য কী বার্তা? বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে আমানতকারীদের স্বার্থের বিষয়টি। ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ তখনই নেওয়া হয়, যখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় আস্থা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে—ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সরাসরি নজরদারি করবে। সামনে কী হতে পারে? ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বোর্ড বাতিলের পরবর্তী ধাপে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, মালিকানা কাঠামো পর্যালোচনা এবং সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এছাড়া ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, ঋণ বিতরণ, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলোও নতুন করে মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটির পেছনের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংকের পুরো পরিচালনা পর্ষদ একযোগে বাতিলের ঘটনা নিঃসন্দেহে খাতটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৫, ২০২৬ 0
জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে শফিকুর রহমানের সতর্কবার্তা, শেয়ার ফেরতের দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা, নিয়োগ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে জাতীয় সংসদে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে দেওয়া নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, অতীতে জোরজবরদস্তি ও অনিয়মের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই মালিকানা অবিলম্বে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান ও অতীত মালিকানা কাঠামো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। শেয়ারহোল্ডাররা কীভাবে মালিকানা অর্জন করেছেন, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ‘জোরপূর্বক মালিকানা হস্তান্তরের’ অভিযোগ সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে শেয়ার হস্তান্তর করানো হয়েছিল। তার দাবি, এর ফলে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও আর্থিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে নতুন কোনো নথি বা প্রমাণ সংসদে উপস্থাপন করেননি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়ম, প্রকাশ্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কিংবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বাইরে গিয়ে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার মতে, এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামো ও জবাবদিহিতাকে দুর্বল করতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগগুলোর বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়কাল বা প্রশাসনের নাম উল্লেখ করেননি। ৭০০ কোটি টাকার অভিযোগে পাল্টা চ্যালেঞ্জ আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শফিকুর রহমান ৭০০ কোটি টাকার ঋণ নির্বাচনি তহবিলে ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, অভিযোগটি প্রমাণিত হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘মেডেল’ দেবেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। ‘শুধু একটি ব্যাংক নয়, আস্থার প্রতীক’ শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ব্যাংকটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে তার মূল্যায়ন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি লাখো গ্রাহকের আস্থার জায়গা। ব্যাংকটি কোনো কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লে শুধু প্রতিষ্ঠানটি নয়, পুরো ব্যাংকিং খাতেই আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। সম্প্রতি গ্রাহকদের বড় অঙ্কের আমানত উত্তোলনের ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সরকারের প্রতি আহ্বান বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সরকারের প্রতি রাজনৈতিক অবস্থান বা পূর্বধারণার বাইরে গিয়ে বাস্তবতার ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এর প্রভাব শুধু একটি ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় সিদ্ধান্ত: পাঁচ এনবিএফআইয়ে প্রশাসক, ২৭ হাজার আমানতকারীর টাকার কী হবে?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতে দীর্ঘদিনের সংকটের পর এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বছরের পর বছর খেলাপি ঋণ, দুর্বল সুশাসন, অর্থ আত্মসাৎ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থতার অভিযোগে জর্জরিত পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসিয়ে অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। কোন পাঁচ প্রতিষ্ঠান অবসায়নের পথে? বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে যেসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেগুলো হলো— এফএএস ফাইন্যান্স ফারইস্ট ফাইন্যান্স আভিভা ফাইন্যান্স পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অন্যদিকে— বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স জিএসপি ফাইন্যান্স প্রাইম ফাইন্যান্স —এই চার প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের শেষ সুযোগ হিসেবে আরও তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। ২৭ হাজার আমানতকারী, ২,৭০০ কোটি টাকার অনিশ্চয়তা বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবসায়নের সিদ্ধান্ত হওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা হবে। এরপর প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সম্পদ, দায় এবং আদায়যোগ্য অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেওয়া হবে। প্রশাসক নিয়োগের পর ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক ব্যক্তি আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে। খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পাঁচ প্রতিষ্ঠানের ঋণ পোর্টফোলিও কার্যত ধসে পড়েছে। প্রতিষ্ঠান খেলাপি ঋণের হার এফএএস ফাইন্যান্স ৯৯.৯৯% ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ৯৯.৪৪% ফারইস্ট ফাইন্যান্স ৯৮.৫০% পিপলস লিজিং প্রায় ৯৫% আভিভা ফাইন্যান্স ৯৩.৯৩% অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ২০-৩০ শতাংশ অতিক্রম করলেই তা টিকে থাকার সক্ষমতা হারাতে শুরু করে। সেখানে এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রায় পুরো ঋণপোর্টফোলিওই অকার্যকর হয়ে গেছে। কীভাবে এ অবস্থায় পৌঁছালো প্রতিষ্ঠানগুলো? বাংলাদেশের আর্থিক খাতে গত এক দশকে সংঘটিত কয়েকটি বড় কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কিছু এনবিএফআই। খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পরিচালনা পর্ষদের অনিয়মের সুযোগে বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণ করা হয়, যার বড় অংশই পরে খেলাপিতে পরিণত হয়। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো পিকে হালদার কেলেঙ্কারি। অভিযোগ রয়েছে, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। তদন্তে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসির মতো প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সংকট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের দুর্বল তদারকি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং জবাবদিহিতার অভাবের ফল। কেন এখন কঠোর হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক? ২০২৫ সালের মে মাসে উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে বিভিন্ন পর্যায়ের মূল্যায়নে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ভিত্তিতে ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা কমিয়ে অবশেষে পাঁচটিকে অবসায়ন প্রক্রিয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের আর্থিক খাতে নতুন "রেজল্যুশন ফ্রেমওয়ার্ক" বা সংকটাপন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন ও বন্ধের কাঠামোর প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামনে কী হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অকার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজার থেকে সরিয়ে খাতকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—যেসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদের বড় অংশই খেলাপি ঋণে আটকে আছে, সেখানে আমানতকারীদের অর্থ কত দ্রুত এবং কতটুকু উদ্ধার করা সম্ভব হবে? বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, বছরের পর বছর ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা হাজার হাজার আমানতকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং প্রমাণ করা যে আর্থিক খাতে অনিয়মের পরিণতি শেষ পর্যন্ত জবাবদিহিতার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আবারও বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। একদিকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ হারানো খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে প্রবীণ ব্যাংকার মোহাম্মদ নূরুল আমিনকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান করেছে সরকার। দুই নিয়োগই এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দেশের ব্যাংক খাত দীর্ঘদিন ধরে আস্থাহীনতা, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিতর্কে রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান রোববার (২৪ মে) ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পরপরই খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকটির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে একই বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তার সঙ্গে তাকেও পদত্যাগ করতে হয়। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর যেসব কর্মকর্তাকে প্রশাসনিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে কাউকে এত গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে আনা তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘পরামর্শ’ ও বোর্ড রাজনীতি ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত বছরের ২৩ জুলাই সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের পদত্যাগের পর অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানকে চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। এবার তাকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের “পরামর্শে” সরে যেতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভাও স্থগিত হয়েছে আন্দোলনের মুখে। রাজধানীর দিলকুশায় প্রধান কার্যালয়ে রোববার ওই সভা হওয়ার কথা থাকলেও ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভের কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি। সভায় বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে—এমন গুঞ্জন ছিল ব্যাংকপাড়ায়। এমডিকে ঘিরে উত্তেজনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে গত এপ্রিল মাসে ওমর ফারুক খানকে ৪৯ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। তার ছুটি শেষ হওয়ার কথা আগামী ৩১ মে। রোববার তিনি প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হলেও আন্দোলনকারীরা তাকে ভবনে প্রবেশ করতে দেননি। যদিও একটি সূত্র দাবি করেছে, তিনি চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ইসলামী ব্যাংক ঘিরে এই অস্থিরতা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ব্যাংকটির মালিকানা, পরিচালনা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নটি শুধু আর্থিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাবেরও অংশ হয়ে উঠেছে। কৃষি ব্যাংকে অভিজ্ঞ ব্যাংকার একই দিনে সরকার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার মোহাম্মদ নূরুল আমিনকে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আদেশ ১৯৭৩-এর ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাকে পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চার দশকের বেশি সময় ধরে ব্যাংক খাতের সঙ্গে যুক্ত নূরুল আমিন এনসিসি ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। পরে ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তর পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে ছিলেন। ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের ইঙ্গিত? মোহাম্মদ নূরুল আমিন অতীতে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি), বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং প্রাইমারি ডিলারস বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাংকিংবিষয়ক ডিপ্লোমাও অর্জন করেছেন। চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি বলেন, কৃষি ব্যাংক দেশের কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ব্যাংক এবং এটিকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা গেলে কৃষি খাতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই দুই নিয়োগকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ কম। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের প্রত্যক্ষ তদারকিতে ব্যাংক খাতে নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে বলেই মনে করছেন তারা। ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট কাটবে? বাংলাদেশের ব্যাংক খাত গত এক দশকে খেলাপি ঋণ, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, মালিকানা সংকট এবং তারল্য চাপে একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক নিয়োগগুলো সেই সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ, নাকি নতুন প্রভাব বলয় তৈরির প্রচেষ্টা—সে প্রশ্ন এখন ব্যাংকপাড়ায় জোরালোভাবে ঘুরছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের মতো দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংকে চেয়ারম্যান ও এমডি পরিবর্তনের ঘটনাকে অনেকে ব্যাংক খাতের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার মানচিত্রের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
ধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ক্ষুদ্রঋণ খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ লাইসেন্স বাতিলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রেকর্ড

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (এমআরএ) গত দেড় দশকে ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়, বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে, এই প্রবণতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে—যা খাতটির শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং নীতিগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রেকর্ডসংখ্যক বাতিল: সাম্প্রতিক প্রবণতা এমআরএর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২৩৫টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। বছরভিত্তিক চিত্রে ওঠানামা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ের প্রবণতা ব্যতিক্রমধর্মী: ২০২৫ সালে একক বছরে সর্বোচ্চ ৪৮টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে মোট বাতিল: ৫৭টি ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর: ৯টি প্রতিষ্ঠান এর আগে ২০২১ সালে মাত্র একটি, ২০২২ সালে ৮টি এবং ২০২৩ সালে ১২টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়: কঠোর প্রয়োগ ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। তার নেতৃত্বে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তৎপরতা বাড়ে, যার প্রতিফলন দেখা যায় এমআরএর পদক্ষেপে। এমআরএর দাবি, লাইসেন্স বাতিলের এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, আর্থিক অব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে। গ্রামীণ ব্যাংকের কর অব্যাহতি: বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এই সময়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল গ্রামীণ ব্যাংক-কে কর অব্যাহতি দেওয়া। ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রতিষ্ঠানটির অর্জিত আয়কে পাঁচ বছরের জন্য আয়কর থেকে অব্যাহতি দেয়। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার কর দাবি ছিল। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্বার্থের সংঘাত নিয়ে, কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ ইউনূস-ই গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। বাতিলের প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে ব্যবস্থা এমআরএর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স হঠাৎ বাতিল করা হয় না; বরং একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়: নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন অনিয়ম শনাক্ত হলে সতর্কবার্তা সংশোধনের জন্য সময় প্রদান পুনঃপরিদর্শন কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) সন্তোষজনক জবাব না পেলে চূড়ান্ত বাতিল তার মতে, “গ্রাহক ও আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষাই এমআরএর প্রধান অগ্রাধিকার।” এক মাসেই সাত প্রতিষ্ঠান: মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাত্র এক মাসে সাতটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করে এমআরএ। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: আর্থ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ফরিদপুর) প্রগতি কেন্দ্র (ধামরাই, ঢাকা) ঊষা বাংলাদেশ (চুয়াডাঙ্গা) অ্যাসোসিয়েশন অব ভলান্টারি অ্যাকশন ফর সোসাইটি—আভাস (বরিশাল অঞ্চল) রুরাল রিকনস্ট্রাকশন সোসাইটি (মেহেরপুর) সীড প্রোগ্রাম অব গ্রামীণ সোসাইটি (রাজশাহী) যৌথ উদ্যোগ (টাঙ্গাইল) এমআরএ জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চলছিল এবং একাধিক সতর্কতার পরও তারা পরিস্থিতির উন্নতি করতে ব্যর্থ হয়। কাঠামোগত ঝুঁকি: ছোট প্রতিষ্ঠানের সংকট ক্ষুদ্রঋণ খাতের বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলেও ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ: সীমিত মূলধন দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো পর্যাপ্ত তদারকির অভাব ফলে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নিম্নআয়ের সঞ্চয়কারীরা। মালিক পলাতক হলে: দ্বৈত সংকট এমআরএর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক পলাতক হলে বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়: ঋণগ্রহীতারা ঋণ পরিশোধে অনীহা দেখান সঞ্চয়কারীরা তাদের জমা ফেরত পান না আইনি কাঠামো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইনি কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে। সামনে চ্যালেঞ্জ: নিয়ন্ত্রণ বনাম প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ খাত দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। তবে সাম্প্রতিক লাইসেন্স বাতিলের প্রবণতা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে: কঠোর নিয়ন্ত্রণ কি খাতের প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে? ছোট প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার পথ কী? গ্রাহকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও কী সংস্কার প্রয়োজন? এমআরএ বলছে, কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। সংস্থাটির মতে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ক্ষুদ্রঋণ খাতকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং টেকসই করা সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
মোস্তাকুর রহমান
মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর

ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নর পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মোস্তাকুর রহমানকে। মো. মোস্তাকুর রহমান একজন যোগ্যতাসম্পন্ন কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ)। দীর্ঘ ৩৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি হিসাবরক্ষণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও করপোরেট গভর্ন্যান্স সংশ্লিষ্ট খাতে কাজ করে আসছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর হিসাবরক্ষণ বিভাগ থেকে বি.কম (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন।   শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনস অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অফ বাংলাদেশ (এটিএবি) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)–সহ বিভিন্ন পেশাদার ও শিল্প সংগঠনের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।   নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে অভিজ্ঞতা তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড–এর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্য। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, নীতিনির্ধারণী পরামর্শ এবং শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে তার নিয়োগ দেশের আর্থিক খাতে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাই তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0