ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবনির্মিত ১০ তলা আবাসিক ভবন ‘বিজয় ৭১’ হল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা যাওয়ার পাশাপাশি মেরামতের পরও পলেস্তারা খসে পড়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আবাসিক হলের নির্মাণমান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে কারণ ভবনটির নির্মাণকাজ করছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বহুল আলোচিত ‘বালিশকাণ্ড’-সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স অ্যান্ড কোম্পানি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ফাটলের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল ও মন্নুজান হলের কিছু শিক্ষার্থীকে প্রায় তিন মাস আগে অস্থায়ীভাবে বিজয় ৭১ হলে স্থানান্তর করা হয়।
কিন্তু নতুন আবাসিক ভবনে ওঠার পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পান শিক্ষার্থীরা।
হল সংসদের সহ-বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক শাহরিয়ার হাসান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো হল থেকে নিরাপত্তার জন্য নতুন ভবনে আনা হলেও এখানেও ফাটল দেখা যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি নির্মাণকাজে অনিয়ম বা দুর্নীতির ইঙ্গিত হতে পারে।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শের-ই-বাংলা হল সংসদের নির্বাহী সম্পাদক শাহিব বিল্লাহ। তিনি বলেন, নিরাপদ আবাসনের প্রত্যাশায় শিক্ষার্থীরা নতুন হলে উঠলেও ভবনের দৃশ্যমান ত্রুটিগুলো নতুন করে শঙ্কা তৈরি করছে।
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের রাবি শাখার সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফার অভিযোগ, মেরামতের পরও ভবনের কিছু অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে।
বিজয় ৭১ হলকে ঘিরে এটি প্রথম নিরাপত্তা বিতর্ক নয়।
২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ভবনটির মিলনায়তনের ছাদ ঢালাইয়ের সময় একটি অংশ ধসে পড়ে। ওই ঘটনায় অন্তত নয় শ্রমিক আহত হন। পরে নির্মাণকাজে গাফিলতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ সামনে আসে।
নির্মাণকাজ চলাকালে আরও দুটি বড় দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটি ট্রাকের চাপায় হিমেল নামে এক শিক্ষার্থীরও প্রাণহানি ঘটে।
এসব ঘটনার পরও প্রকল্পটির নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বিজয় ৭১ হল এবং ২০ তলা বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ করছে মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ের আবাসিক হলটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে গিয়েও পুরোপুরি শেষ হয়নি। গত বছরের ডিসেম্বরেই ভবনটি হস্তান্তরের কথা থাকলেও এখনও অফিস কক্ষসহ বেশ কিছু কাজ চলমান।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন চারটি বহুতল ভবনের কাজ তিন দফা সময় বাড়ানোর পরও সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
ফলে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক দফা বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
নির্মাণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অসম্পাদিত কাজের মূল্যমানের ওপর দশমিক ০.০৫ থেকে ০.১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা দিতে হওয়ার কথা।
কিন্তু শিক্ষা অডিট অধিদফতরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৩ কোটি টাকার সম্ভাব্য জরিমানা আদায় না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
অডিট প্রতিবেদনের এই তথ্য প্রকল্প তদারকি ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন পায় ২০১৭ সালে। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৬৩ কোটি টাকা।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালে সংশোধিত প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় বিজয় ৭১ হল, অপরাজিতা হল, ২০ তলা একাডেমিক ভবন, শিক্ষক কোয়ার্টার, ড্রেনেজ অবকাঠামো এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২২ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একাধিক দফায় সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মিনহাজুল আলম বলছেন, দৃশ্যমান ফাটলগুলো তাপমাত্রাজনিত কারণেও হতে পারে।
তাঁর মতে, বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে মেরামত করা হবে।
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের পরিচালক এস এম ওবায়দুল ইসলামও দাবি করেছেন, আপাতত ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকির তথ্য তাদের কাছে নেই।
তিনি বলেন, বিম ও দেয়ালের সংযোগস্থল অথবা প্লাস্টারের বিভিন্ন অংশে এ ধরনের ফাটল দেখা যেতে পারে। প্রকৌশলীদের একটি দল ইতোমধ্যে ভবনটি পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার ঘটনা সবসময় কাঠামোগত দুর্বলতার প্রমাণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্লাস্টার, তাপমাত্রা পরিবর্তন বা নির্মাণসামগ্রীর সংকোচন-প্রসারণের কারণেও এমনটি হতে পারে।
তবে উদ্বেগের জায়গা হলো—একই প্রকল্পে পূর্বে ছাদ ধস, নির্মাণ দুর্ঘটনা, দীর্ঘসূত্রতা, অডিটে অনিয়মের অভিযোগ এবং এখন দৃশ্যমান ফাটল—সব মিলিয়ে ভবনটির গুণগত মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ফাটলের প্রকৃত কারণ, নির্মাণমানের অবস্থা এবং ভবনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সম্পর্কে কী উঠে আসে, সেটিই এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের প্রধান অপেক্ষার বিষয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যশোরের শার্শার বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে পণ্য পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কাস্টমসের নির্ধারিত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের অভিযোগে দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, একই ঘটনায় বিজিবির অভিযানে প্রায় ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ এবং একজন রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভিতে ধরা পড়া মধ্যরাতের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুন গভীর রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার গুদাম থেকে একটি গাড়িতে একাধিক বস্তা ও প্যাকেজ মালামাল তোলা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া লোডিং কার্যক্রম প্রায় ২৩ মিনিট ধরে চলে। এরপর রাত ১১টা ৫৮ মিনিট থেকে ১২টা ৪ মিনিট পর্যন্ত একই গাড়িতে পুনরায় মালামাল তোলা হয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাত ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ১টা ১০ মিনিটের মধ্যে ওই গাড়ি থেকেই ২২ থেকে ২৫টি প্যাকেজ নামানো হয়। ওই সময় ঘটনাস্থলে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম চৌধুরী এবং সিপাই মোহাম্মদ সাগরের উপস্থিতি সিসিটিভিতে ধরা পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গুদাম থেকে বের করা কিছু পণ্য বিধিবহির্ভূতভাবে পরিবহনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ত্রাণের চালানের সঙ্গে মিলছে না জব্দ পণ্যের হিসাব কাস্টমস সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে পাঠানোর জন্য যে চালানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ছিল— ৩,০২২টি শাড়ি ৫৮টি থ্রি-পিস ২০৮টি চাদর ২৬৩টি কম্বল ৮টি ওড়না এ সংক্রান্ত চিঠিতে সহকারী কমিশনার অব কাস্টমসের পক্ষে স্বাক্ষর করেন রাহাত হোসেন। পরিবহনের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী। কিন্তু বিজিবির জব্দ করা কাভার্ডভ্যানে পাওয়া যায়— ৬,০০৮টি ভারতীয় শাড়ি ৬৩টি থ্রি-পিস ৩৮৬টি কম্বল ২০৮টি চাদর ৮টি ওড়না ৩৩,২২২টি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী এই হিসাব অনুমোদিত চালানের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত দেয়। এনএসআইয়ের তথ্য, বিজিবির অভিযান জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি ওই রাতে বেনাপোল বাজারের দুর্গাপুর মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৫৬২১ নম্বরের একটি কাভার্ডভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে গাড়িটি বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে কাগজপত্র যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত পণ্য উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক সিজার মূল্য ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩১০ টাকা। এ সময় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ডভ্যানের চালক মহসিন আলী এবং হেলপার জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়। বরখাস্ত পাঁচজন, তদন্তের মুখে কাস্টমস ঘটনার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে— সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম চৌধুরী সিপাই জামশেদ সিপাই সাগর সিপাই হামিদুর রহমান বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। প্রশ্নের মুখে গুদাম ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি এই ঘটনায় শুধু কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভূমিকা নয়, বরং কাস্টমসের নিলাম গুদামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পণ্য যাচাই প্রক্রিয়া এবং ত্রাণ ভাণ্ডারের নামে সরকারি মালামাল পরিবহনের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অনুমোদিত চালানের তুলনায় অতিরিক্ত কয়েক হাজার শাড়ি ও বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস কীভাবে একই পরিবহনে যুক্ত হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। সরকারি ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি চালানে এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি সীমান্ত বাণিজ্য ও কাস্টমস প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা বলা হয় তৈরি পোশাক শিল্পকে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। কিন্তু গত কয়েক মাসে গাজীপুর, সাভার ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে একের পর এক কারখানা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত কি গভীর সংকটে পড়েছে? অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, বাস্তবতা একমাত্রিক নয়। একদিকে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। অন্যদিকে একই সময়ে নতুন কারখানা চালু হয়েছে, নতুন বিনিয়োগ এসেছে এবং রপ্তানি আয়ও বেড়েছে। ফলে প্রশ্নটি এখন শুধু সংকটের নয়; বরং শিল্পটির কাঠামোগত রূপান্তরও কি ঘটছে? ঈদের পর নতুন করে আলোচনায় কারখানা বন্ধ কোরবানির ঈদের পর পোশাক শিল্পাঞ্চলে ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে এসে তারা জানতে পারেন তাদের চাকরি নেই। অন্যদিকে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক ও কর্মচারী একসঙ্গে কর্মহীন হয়েছেন। শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাকরি হারানোর পর তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সংসার চালানো, সন্তানদের শিক্ষাব্যয় এবং বাসাভাড়া পরিশোধ নিয়ে। তিন বছরে বন্ধ প্রায় ৪০০ কারখানা বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, অনেক কারখানা এখনও আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে। কারখানা মালিকদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠান এখন পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। উৎপাদন কমলেও ব্যাংকঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল, ভাড়া এবং প্রশাসনিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে নিয়মিত। ফলে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছে। কিন্তু একই সময়ে নতুন কারখানাও আসছে সংকটের এই আলোচনার মাঝেই ভিন্ন এক চিত্র উঠে এসেছে। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৫ মাসে সংগঠনটির নতুন সদস্য হয়েছে ১২৮টি কারখানা। একই সময়ে বন্ধ হয়েছে ১১৩টি কারখানা। নতুন কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষের। অন্যদিকে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর কারণে চাকরি হারিয়েছেন ৯৬ হাজার ১০৪ শ্রমিক। অর্থাৎ কর্মসংস্থানের হিসাবে এখনও প্রায় ২২ হাজার মানুষের নিট কর্মসংস্থান ঘাটতি রয়ে গেছে। তবে শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান আরেকটি বাস্তবতাও তুলে ধরে—শিল্পটি পুরোপুরি সংকুচিত হচ্ছে না; বরং পুরোনো ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানের জায়গায় নতুন বিনিয়োগ এবং নতুন ধরনের উৎপাদন কাঠামো গড়ে উঠছে। কেন বন্ধ হচ্ছে কারখানা? খাত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে চারটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে। ১. আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ায় ক্রয়াদেশের প্রবৃদ্ধি আগের মতো নেই। ২. উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ডলারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয় এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ উৎপাদন ব্যয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ৩. শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি নতুন মজুরি কাঠামো এবং নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক হলেও উৎপাদনশীলতা সমান হারে না বাড়ায় দুর্বল কারখানাগুলো অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছে। ৪. ঋণ ও তারল্য সংকট অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে রয়েছে। ফলে ব্যাংকঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে তারা উৎপাদন কমাচ্ছে অথবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে। বেক্সিমকো থেকে কেয়া: বড় গ্রুপও চাপের মুখে সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপের ২৪টি, কেয়া গ্রুপের ৪টি এবং টিএনজেড গ্রুপের ৪টি প্রতিষ্ঠান। বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ১৪টি কারখানা বন্ধের ঘটনা। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৩ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে সংকট কেবল ছোট কারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোকেও আর্থিক ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ কোথায় যাচ্ছে? অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগের ধারা বলছে, উদ্যোক্তারা এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন সদস্য হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে একেএইচ আউটওয়্যার, এজেড কম্পোজিট, নেক্সটন, এলএসএ অ্যাপারেলস, সিটেক ফ্যাশন, সুপ্রিম আউটফিট এবং স্প্যারো গ্রিনটেক। তবে নতুন ১২৮ কারখানার মধ্যে মাত্র ১৮টিতে শ্রমিক সংখ্যা এক হাজারের বেশি। অর্থাৎ নতুন বিনিয়োগের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে একই পরিমাণ উৎপাদনের জন্য তুলনামূলক কম শ্রমিকের প্রয়োজন হতে পারে। রপ্তানি আয় কিন্তু বাড়ছে কারখানা বন্ধের খবরের বিপরীতে রপ্তানি আয়ের চিত্র তুলনামূলক ইতিবাচক। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ২৫ কোটি ডলার। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ কর্মসংস্থান ও কারখানা সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা পুরোপুরি কমে যায়নি। ৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা: বাস্তবায়ন কোথায়? বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা তারল্য সংকট। তিনি মনে করেন, রুগ্ন ও বন্ধপ্রায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা তহবিল এখনও কার্যকর না হওয়ায় অনেক কারখানা প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করে সহায়তা দেওয়া না হলে আগামী মাসগুলোতে আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংকট, নাকি শিল্পের পুনর্গঠন? তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে দ্বৈত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে শ্রমিক ছাঁটাই, কারখানা বন্ধ, ঋণ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয়ের চাপ রয়েছে। অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও দেখা যাচ্ছে। ফলে বিষয়টি শুধু শিল্প সংকটের নয়; বরং শিল্পের পুনর্গঠন এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি পর্যায়ও হতে পারে। তবে এই রূপান্তরের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন শ্রমিকরাই। কারণ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ থাকলেও চাকরি হারানো হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য বর্তমান বাস্তবতা হলো অনিশ্চয়তা, আয়হীনতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—শিল্পের এই রূপান্তর কি কর্মসংস্থান রক্ষা করে এগোবে, নাকি আরও হাজারো শ্রমিককে কর্মহীন করে নতুন ভারসাম্য খুঁজবে? সেটিই নির্ধারণ করবে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাতের আগামী পথচলা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে হঠাৎ প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেট থেকে সরিয়ে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে সরকারি আদেশে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ না থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—মাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কি তার বদলির প্রধান কারণ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সামনে আসে কয়েকটি ঘটনা, যা গত কয়েক মাসে সিলেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।সাম্প্রতিক সময়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী ‘ডেগ’ সিলগালা করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কেউ এটিকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, অন্যরা একে ধর্মীয় ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন। ‘ডিসি’ সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে মাজার ভক্তরা ‘ওলির সঙ্গে বেয়াদবির খেসারত’ বললেও অপর একটি পক্ষ বিষয়টিকে মাজারে ‘মদ গাঁজার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একজন ভালো প্রশাসকের পরিণতি’ বলছেন। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে মাজারের দানবাক্স ও ডেগ ঘটনার সূত্রপাত হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ থেকে। গত ১৮ জুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারের বিদ্যমান দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একইসঙ্গে শতাব্দীপ্রাচীন তিনটি ঐতিহ্যবাহী ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করা হয়। প্রশাসনের দাবি ছিল, দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু সিদ্ধান্তটি মুহূর্তেই ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়। মাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, সাতশ বছরের ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের এ ধরনের হস্তক্ষেপ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। অন্যদিকে প্রশাসনপন্থী একটি অংশ এটিকে দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধের উদ্যোগ হিসেবে দেখেছে। তিন দিনের মাথায় প্রত্যাহার ডেগ ও দানবাক্স সিলগালার ঘটনার মাত্র তিন দিনের মাথায় আসে সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ। যদিও সরকারিভাবে দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্কের কথা বলা হয়নি, তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ের অনেকেই মনে করছেন, মাজার ইস্যুতে সৃষ্ট জনমতের চাপ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে। সিলেটের বিভিন্ন মহলে এখনো আলোচনা চলছে—এটি কি কেবল একটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি, নাকি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক পরিণতি? সারওয়ার আলমের অবস্থান: ‘ভালো কাজ শেষ করতে পারলাম না’ প্রত্যাহারের পর প্রতিক্রিয়ায় মো. সারওয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারি চাকরিতে বদলি স্বাভাবিক বিষয়। তবে তার বক্তব্যে আক্ষেপের সুরও ছিল। তিনি বলেন, “একটি ভালো কাজ শুরু করেছিলাম, শেষ করা গেল না। অনেকের পেটে হাত পড়ায় তারা এর বিরুদ্ধাচরণ করেছে।” তার এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—তিনি কি মাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছিলেন, নাকি প্রশাসনিক সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন? সিলেটে দায়িত্ব পালন: সাফল্য ও সমালোচনার মিশ্র চিত্র গত বছরের আগস্টে সাদাপাথর লুট ও চুরির ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেন সারওয়ার আলম। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বেশ কিছু আলোচিত উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছিল— সাদাপাথর লুটের ঘটনায় প্রশাসনিক অভিযান; সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ দ্রুত সম্পন্নের ঘোষণা; ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা; ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ; বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতা। তবে এসব উদ্যোগের বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত পূর্ণ বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, তিনি অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিলেও দীর্ঘমেয়াদি ফল নিশ্চিত করতে পারেননি। ‘অতিরিক্ত সক্রিয়’ না ‘সংস্কারক’? সচেতন নাগরিকদের একাংশের অভিযোগ, সারওয়ার আলম প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগে অনেক সময় অতিরিক্ত আগ্রাসী ছিলেন। তাদের মতে, মাজারের মতো সংবেদনশীল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বৃহত্তর অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে তার সমর্থকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তিনি প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিমের ভাষায়, সাদাপাথর রক্ষায় তার ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিল। তবে মাজার ব্যবস্থাপনায় কিছু পদক্ষেপ জনমনে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। মাজার ভক্তদের ক্ষোভ মাজার-সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসন দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে চাইলে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এগোতে পারত। মাজার ভক্ত সোহেল আলী মনে করেন, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিবেশকে অযথা বিতর্কিত করার কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ভক্ত আব্দুল হান্নান বলেন, মাজারকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির প্রশ্ন সারওয়ার আলমের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার মধ্যে আবার সামনে এসেছে মঙ্গল দাসের ঘটনাও। বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকায় কারাগারে যাওয়া মঙ্গল দাসের মুক্তির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের আশ্বাস থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাও প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বহাল রাখার দাবিও আছে তবে বিতর্কের পাশাপাশি তার পক্ষে অবস্থানও দেখা গেছে। প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সিলেটে যুবসমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। বক্তারা দাবি করেছেন, সিলেটের স্বার্থে সারওয়ার আলমকে বহাল রাখা উচিত। এতে স্পষ্ট হয়, জেলা প্রশাসক হিসেবে তার কর্মকাণ্ড সিলেটে বিভক্ত জনমত তৈরি করেছে। মূল প্রশ্নের উত্তর এখনও অমীমাংসিত সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখনও অমীমাংসিত—এটি কি কেবল নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি, নাকি মাজার ইস্যুতে সৃষ্ট বিতর্কের প্রত্যক্ষ ফল? সরকার এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে ঘটনাপ্রবাহ বলছে, মাজারের দানবাক্স ও ডেগ সিলগালা, জনমতের প্রতিক্রিয়া এবং তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত—এই তিনটি ঘটনার সময়গত সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। সিলেটের ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রশাসনিক কর্তৃত্ব এবং জনমতের সংঘাত—এই তিন বাস্তবতার মধ্যেই এখন খোঁজা হচ্ছে সারওয়ার আলম অধ্যায়ের প্রকৃত ব্যাখ্যা।