Brand logo light

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

হরমুজ সংকটের ধাক্কা সৌদি বাজেটে
হরমুজ প্রণালি সংকট: সৌদি আরবে রেকর্ড বাজেট ঘাটতি, নতুন নিয়ন্ত্রণে ইরান

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে সৌদি আরবের অর্থনীতিতে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটি ১২৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন রিয়াল বা প্রায় ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। ২০১৮ সালের পর এটিই সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বাজেট ঘাটতি। একই সঙ্গে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই ঘাটতি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এবং জ্বালানি পরিবহন ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার আগেভাগেই বড় অঙ্কের ব্যয় শুরু করে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, খাদ্য আমদানি এবং বিকল্প বাণিজ্যপথ শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। লোহিত সাগর ঘিরে নতুন বিনিয়োগ সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে নতুন প্রকল্পেও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে সৌদি আরব অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এর তাৎক্ষণিক চাপ পড়ছে রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর। ট্যাংকার জব্দ করল ইরান এদিকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরান। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, বার্বাডোজের পতাকাবাহী ‘ওশান কোই’ নামের ট্যাংকারটি ইরানের তেল বহন করছিল এবং দেশটির তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত ছিল। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, জাহাজটিকে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘ওশান কোই’ গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসে। তবে কী কারণে জাহাজটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। নতুন নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে তেহরান। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিচালিত হতো। সম্প্রতি ইরানের নবগঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ (পিজিএসএ) নতুন একটি ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক সব জাহাজকে ৪০টির বেশি প্রশ্নের উত্তরসহ একটি আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। এতে জাহাজের পরিচয়, মালিকানা, ক্রুদের জাতীয়তা এবং বহন করা পণ্যের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ‘কৌশলগত হাতিয়ার’ হিসেবে হরমুজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির টেলিগ্রাম বার্তায় বলা হয়েছে, ‘শক্তিশালী ইরানের কৌশল’ বাস্তবায়নে নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে বিদেশি শক্তির কোনো স্থান থাকবে না। তিনি হরমুজ প্রণালিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘লিভারেজ’ বা কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন। জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার দাবি সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালি ব্যবহারকারী প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত পারাপার ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো মার্কিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই অর্থ পরিশোধ করলে তা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমানে ভারত, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৮, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ সংকটের ছায়ায় নতুন বাণিজ্যপথ: ইউরোপমুখী বিকল্প করিডোরে জোর দিচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চল

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে জ্বালানি ও বাণিজ্য প্রবাহে নতুন কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য অস্থিরতা বাড়তে থাকায় সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থল ও পাইপলাইনভিত্তিক বাণিজ্য করিডোর গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরাকের বহুল আলোচিত ২৪ বিলিয়ন ডলারের ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ প্রকল্পকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরাকের ডেভেলপমেন্ট রোড: নতুন ভূরাজনৈতিক করিডোর মধ্যপ্রাচ্য কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের বিশ্লেষক মুহানাদ সেলুম বলছেন, পরিকল্পনাটি ইরাকের গ্র্যান্ড ফাও বন্দর থেকে শুরু হয়ে তুরস্ক হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পরিবহন করিডোর তৈরির দিকে এগোচ্ছে। তার মতে, “যুদ্ধকালীন বাস্তবতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা।” এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে বসরা অঞ্চলের মাধ্যমে কনটেইনার পরিবহন বৃদ্ধি পাবে এবং ইরান-নিয়ন্ত্রিত জলপথ এড়িয়ে বাণিজ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে ইরাকের ওপর তেহরানের ভূরাজনৈতিক প্রভাবও হ্রাস পেতে পারে। উপসাগরজুড়ে বিকল্প অবকাঠামোর বিস্তার ইরাকের বাইরে পুরো অঞ্চলে জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনের বিকল্প পথ তৈরি করতে একাধিক বড় প্রকল্প এগোচ্ছে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পেট্রোলাইন বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল পরিবহন সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং এর সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিসিওপি পাইপলাইনও পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহৃত হচ্ছে এবং দ্বিতীয় একটি লাইন চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তুরস্কের জাঙ্গেজুর ও তথাকথিত মিডল করিডোর প্রকল্পও ইরানকে পাশ কাটিয়ে ককেশাস অঞ্চলের মাধ্যমে ইউরোপমুখী নতুন বাণিজ্য পথ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রকল্প পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। হরমুজ: এখনো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একমাত্র নয় বিশ্লেষক সেলুমের মতে, হরমুজ প্রণালি এখনো বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটিকে আর একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তার ভাষায়, চলমান সংঘাত ও আঞ্চলিক ঝুঁকির কারণে “এই পরিবর্তন স্থায়ী হতে পারে” এবং জ্বালানি রুটের বৈচিত্র্য আরও বাড়বে। ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি ও কূটনৈতিক উত্তেজনা এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে কঠোর বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের তেল অবকাঠামো বা স্থাপনায় হামলা হলে, সেই হামলাকে সমর্থনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সাকাব ইসফাহানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, কোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব “সমপরিমাণ নয়, বরং চারগুণ” আকারে দেওয়া হবে। তার ভাষায়, “যদি আমাদের একটি তেল শোধনাগারে হামলা হয়, আমরা চারটি শোধনাগারে হামলা চালাব।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্পের মন্তব্য ও অর্থনৈতিক চাপের ইঙ্গিত এই উত্তেজনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যও প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির কারণে দেশটির জ্বালানি সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। ট্রাম্প আরও বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে ইরানের তেল পরিবহন ব্যবস্থা কয়েক দিনের মধ্যেই অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। তার এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের রাজনৈতিক মহল থেকে পাল্টা বক্তব্য আসে, যেখানে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলার সক্ষমতার কথা তুলে ধরা হয়। রাজনৈতিক বার্তা ও বাজারের চাপ ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এক্স-এ এক পোস্টে জ্বালানি সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য নিয়ে একটি প্রতীকী সমীকরণ তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, হরমুজ, বাব এল-মান্দেব ও বিভিন্ন পাইপলাইনকে কাজে লাগিয়ে ইরান বিশ্ববাজারে চাপ তৈরি করতে সক্ষম। তিনি সতর্ক করে বলেন, আসন্ন গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে জ্বালানি চাহিদা বাড়বে এবং তখন হরমুজে অস্থিরতা দেখা দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর রাজনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনেও পড়তে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরিবর্তনশীল মধ্যপ্রাচ্য হরমুজ সংকট ঘিরে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে বিকল্প বাণিজ্য ও জ্বালানি করিডোর গড়ে ওঠার চেষ্টা, অন্যদিকে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা—দুই প্রবণতা একসঙ্গে এগোচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছর এই অঞ্চল শুধু জ্বালানি নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য মানচিত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সাক্ষী হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
‘বুর্জ আল আরব’ ১৮ মাসের জন্য বন্ধ
দুবাইয়ের বিখ্যাত হোটেল বুর্জ আল আরব ১৮ মাসের জন্য বন্ধ: উপসাগরে যুদ্ধের প্রভাব গভীর

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের বিখ্যাত হোটেল বুর্জ আল আরব পর্যটক কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের সংস্কারের জন্য ১৮ মাসের জন্য বন্ধ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে হোটেলের মালিক কর্তৃপক্ষ জুমেইরাহ জানায়, দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত সংস্কারকাজ ধাপে ধাপে প্রায় ১৮ মাস ধরে চলবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, পারস্য উপসাগর ও চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব—এই তিনটি সূত্র ধরে একটি বিস্তৃত চিত্র ফুটে উঠছে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে। পর্যটন, নিরাপত্তা, সামরিক উপস্থিতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা—সবকিছুই এখন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।  দুবাইয়ের হোটেল বন্ধের আড়ালে কী? দুবাইয়ের আইকনিক স্থাপনা বুর্জ আল আরব —যা দীর্ঘদিন ধরে বিলাসবহুল পর্যটনের প্রতীক—বড় ধরনের সংস্কারের জন্য প্রায় ১৮ মাস বন্ধ রাখা হতে পারে। মালিক প্রতিষ্ঠান জুমেইরাহ গ্রুপ জানিয়েছে, সংস্কার কাজটি ধাপে ধাপে পরিচালিত হবে এবং এর নেতৃত্ব দেবেন প্যারিসভিত্তিক স্থপতি ট্রিস্টান আউয়ার। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো সময় হোটেল বন্ধ থাকবে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি, তবে অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে—সংস্কার চলাকালে কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং বুকিং করা অতিথিদের অন্য হোটেলে সরিয়ে নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দুবাইয়ের পর্যটন খাতে ধাক্কা লেগেছে। মার্চ মাসে ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে হোটেলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে।  নিরাপত্তা সংকটের বিস্তার মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান ও তার সামরিক কার্যক্রম। ২৮ মার্চ পর্যন্ত আমিরাতের দিকে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা হয়েছে, তবুও ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—যার মধ্যে রয়েছে: * পাম জুমেইরা * দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর * ফুজাইরাহর তেল শিল্পাঞ্চল এর ফলে, একসময় স্থিতিশীল ও নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।  অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে। যুদ্ধ শুরুর মাত্র এক মাসের মধ্যে দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার মূলধন উধাও হয়ে যায় এবং ১৮ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়। তেলের দাম বৃদ্ধিতে যেখানে সৌদি আরব ও ওমান লাভবান হয়েছে, সেখানে পর্যটন ও সেবাখাতনির্ভর আমিরাত বড় ধরনের চাপে পড়েছে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন ড্রোন রহস্য এই উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন নজরদারি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। মার্কিন নৌবাহিনী নিশ্চিত করেছে, MQ-4C ট্রাইটন মডেলের ড্রোনটি ৯ এপ্রিল নিখোঁজ হয়। এটি ইতালির নৌ বিমান ঘাঁটি সিগোনেলা  থেকে উড্ডয়ন করে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় রাডার সংযোগ হারায়। ড্রোনটি প্রথমে ‘৭৪০০’ সংকেত পাঠায়—যা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ইঙ্গিত—এবং পরে ‘৭৭০০’ জরুরি সংকেত পাঠায়। এরপর এটি সম্পূর্ণভাবে রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। ড্রোনটির নির্মাতা নর্থরপ গ্রুম্যান  একে বিশ্বের অন্যতম উন্নত গোয়েন্দা ড্রোন হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিটির মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ডলার। যুদ্ধবিরতির আশা, কিন্তু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক পর্যায়ে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির-এর মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষের কাছাকাছি। তবে মূল জটিলতা রয়ে গেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। * যুক্তরাষ্ট্র চায় ২০ বছরের জন্য কার্যক্রম স্থগিত * ইরান প্রস্তাব করেছে ৩–৫ বছরের বিরতি * ওয়াশিংটন চায় ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরানো হোক * তেহরান দাবি করছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার  হরমুজ প্রণালী: সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী  এখনো উত্তেজনার কেন্দ্রে। ইরান কার্যত নিজেদের ছাড়া অন্য জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ জোরদার করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা কয়েকটি জাহাজ ফেরত পাঠিয়েছে—যা ইরান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে—অবরোধ না সরালে তারা উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে।   বর্তমান পরিস্থিতি একাধিক স্তরে অনিশ্চয়তায় ভরা: * পর্যটন খাতে আস্থার সংকট * সামরিক উত্তেজনা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি * পারমাণবিক ইস্যুতে অচলাবস্থা * বৈশ্বিক বাণিজ্য রুটে চাপ যদিও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে এবং যুদ্ধবিরতির আশা তৈরি হয়েছে, তবুও বাস্তবতা হলো—মধ্যপ্রাচ্য এখনো এক অস্থির সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
হরমুজ পাড়ি দিল একমাত্র তেলবাহী জাহাজ
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ, বিশ্ব তেল ও জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকটের আশঙ্কা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক কৌশলের জটিল সমন্বয়ে এই জলপথ এখন কার্যত অস্বাভাবিক এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাইরে থেকে এটি শুধু জাহাজ চলাচলের সাময়িক স্থবিরতা মনে হলেও, গভীরে রয়েছে বড় ধরনের কৌশলগত পালাবদলের ইঙ্গিত। অস্বাভাবিক নীরবতা: পরিসংখ্যান যা বলছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন -এর জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বিস্ময়কর চিত্র—তেহরান সময় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পুরো প্রণালী দিয়ে মাত্র একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার অতিক্রম করেছে। ‘ম্যাব ৫’ নামের এই ট্যাঙ্কারটির ওপর আবার খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে—যা ঘটনাটিকে আরও ব্যঙ্গাত্মক করে তোলে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১০৭টি পণ্যবাহী জাহাজ এই পথে চলাচল করত। সেই তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কার্যত অচলাবস্থার সমান।   দৃশ্যমানের বাইরে অদৃশ্য বাস্তবতা মেরিন ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, কয়েকটি ছোট জাহাজ—ভারত ও পানামার পতাকাবাহী—এই পথ ব্যবহার করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি পুরো চিত্র নয়। কারণ: অনেক জাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের AIS (Automatic Identification System) বন্ধ রাখে বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নজর এড়াতে এটি একটি প্রচলিত কৌশল ফলে প্রকৃত জাহাজ চলাচলের সংখ্যা সরকারি বা উন্মুক্ত ডেটার চেয়ে বেশি হতে পারে এই “ডিজিটাল অদৃশ্যতা” এখন সামুদ্রিক বাণিজ্যের এক নতুন বাস্তবতা।   যুদ্ধবিরতির পরও স্থবিরতা কেন? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমলেও বাণিজ্যিক আস্থা এখনও ফেরেনি। কারণগুলো স্পষ্ট: নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি বীমা খরচ বেড়েছে নৌপথে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা রয়ে গেছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে   অর্থনৈতিক চাপ: বিশ্ববাজারে প্রতিক্রিয়া বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০% এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এই স্থবিরতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে: তেলের দাম বৃদ্ধি প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি সারের বাজারে অস্থিরতা পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—এশিয়া, ইউরোপ এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।   নতুন অর্থনৈতিক কৌশল: ডলারকে চ্যালেঞ্জ? এই সংকটের মধ্যেই ইরান এক নতুন প্রস্তাব সামনে এনেছে— হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ট্রানজিট ফি নিজস্ব মুদ্রা রিয়ালে পরিশোধ করতে হবে। একইসঙ্গে অবরোধ চলাকালে কিছু জাহাজকে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে অর্থ দিতে বলা হয়েছিল। আল-জাজিরা-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ: ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য দুর্বল করা বিকল্প মুদ্রাভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা চীন -এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সমন্বয় জোরদার করা অবরোধের সময় অন্তত দুটি জাহাজ ইউয়ানে অর্থ পরিশোধ করেছে—যা এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগের ইঙ্গিত দেয়।   “টোল বুথ” কৌশল: সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণের নতুন রূপ বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীকে একটি “টোল বুথ” হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত ক্ষমতার প্রদর্শন: কে চলাচল করবে কোন মুদ্রায় অর্থ দেবে কোন শর্তে নিরাপত্তা পাবে এই নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন নিয়ম তৈরি করতে পারে।   বর্তমান পরিস্থিতি কয়েকটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে: স্বাভাবিকতায় ধীর প্রত্যাবর্তন — নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে জাহাজ চলাচল বাড়বে বিকল্প রুটের ব্যবহার — দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা মুদ্রা যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি — ডলার বনাম রিয়াল/ইউয়ান প্রতিযোগিতা স্থায়ী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা — প্রণালীকে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার   হরমুজ প্রণালীর বর্তমান সংকট কেবল একটি সামুদ্রিক সমস্যাই নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থার এক জটিল সংযোগস্থল। জাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়া হয়তো চোখে পড়ে, কিন্তু আসল গল্পটি লুকিয়ে আছে এর পেছনের শক্তির খেলায়—যেখানে প্রতিটি ট্যাঙ্কার, প্রতিটি মুদ্রা লেনদেন, এবং প্রতিটি নৌচলাচল সিদ্ধান্ত হয়ে উঠছে ভূরাজনীতির অংশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের হামলা
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ‘যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন’: ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতির পরও গতকাল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। এতে দুইশরও বেশি মানুষ নিহত ও হাজারের অধিক মানুষ আহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েলের এ হামলাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরান লেবানিজদের ছেড়ে কখনো যাবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যদি লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা অব্যাহত রাখে তাহলে সামনের আলোচনা অর্থহীন হয়ে উঠবে। তিনি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে লিখেছেন, “লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলা যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন। এটি প্রতারণা এবং সম্ভাব্য চুক্তির প্রতি দায়বদ্ধতাহীনতার একটি বিপজ্জনক লক্ষণ। এই ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে যেকোনো আলোচনা নিরর্থক হয়ে পড়বে। আমাদের আঙুল এখনো ট্রিগারেই আছে। ইরান কখনোই তার লেবানিজ ভাই-বোনদের একা ফেলে যাবে না।” ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের দুই সপ্তাহের যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে সেখানে লেবানন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি দখলদার ইসরায়েল চুক্তি লঙ্ঘন করে তাহলে তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি বলেছেন, ইরানের মিত্র হিসেবে লেবানন এ যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঘালিবাফ এক্সে লিখেছেন, “লেবানন এবং পুরো প্রতিরক্ষা জোট ইরানের মিত্র হিসেবে যুদ্ধবিরতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে পরিণতি হবে অত্যন্ত কঠোর।” ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বরাবরই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের। পরমাণু অস্ত্রের এই প্রধান উপাদানের ব্যাপারে ইরান শান্তিপূর্ণ অবস্থান জানালেও এক বছরের মধ্যে দুইবার দেশটিজুড়ে আগ্রাসন চালিয়েছে ওয়াশিংটন-তেল আবিব। এমন পরিস্থিতিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি বলেছেন, ‘ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কমানো হবে না।’ ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনের বরাতে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, এসলামি আরও বলেছেন, ‘শত্রুরা ইরানের সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে সীমিত করতে সফল হবে না।’ ট্রাম্প বিজয় দাবি করলেও হরমুজে প্রভাব বাড়িয়ে শক্তিশালী অবস্থানে ইরান এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন বন্ধ করলেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য নিরাপত্তা প্রদান করবে ইরান।’ তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি হাজার বছর ধরে উন্মুক্ত ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে।’ তবে প্রণালিটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিরাপদ চলাচল অনেকটাই ইরান ও ওমানের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
অত্যাধুনিক রাডার
কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক রাডার ধ্বংসের দাবি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান দাবি করেছে, কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে। তেহরানভিত্তিক একাধিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনীর এলিট ইউনিট Iইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে   স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের এএন/এফপিএস-১৩২ (AN/FPS-132) দীর্ঘ-পাল্লার রাডার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত নজরদারি সক্ষম এই শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থা ২০১৩ সালে প্রায় ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছিল। এটি মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত ছিল। আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলাটি ছিল “অত্যন্ত নির্ভুল ও কৌশলগতভাবে পরিকল্পিত” এবং এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানি সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, কাতারের কিছু কর্মকর্তা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটন নীরব থাকায় দাবিটির সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এ দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর এর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনা সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক এই দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0