ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাত দিনের টানা সরকারি ছুটির পর আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ফিরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘোষিত দীর্ঘ ছুটির শেষ দিন রবিবার (৩১ মে)। সোমবার থেকে খুলছে সরকারি ও বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের পুঁজিবাজার। এরই মধ্যে রাজধানীমুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা শুরু হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা সাত দিনের অবকাশ উপভোগের সুযোগ পান। ছুটি শেষে এখন প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পুনরায় সচল হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশ। রাজধানীতে ফিরতি যাত্রা, তবে এখনো নেই বড় চাপ ছুটির শেষ দিনে ঢাকার প্রধান প্রবেশপথ এবং কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে কর্মজীবী মানুষের ফেরার চিত্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রেনে করে রাজধানীতে ফিরছেন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য কর্মজীবী মানুষ। রেলস্টেশন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ভোর থেকে একের পর এক ট্রেন ঢাকায় পৌঁছেছে। তবে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত ভিড় বা যাত্রীচাপের দৃশ্য চোখে পড়েনি। অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, এবারের ফিরতি যাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক ছিল এবং বেশিরভাগ ট্রেন সময়সূচি মেনেই চলাচল করেছে। তবে সব রুটে পরিস্থিতি এক ছিল না। নেত্রকোনা, জামালপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের কিছু ট্রেন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তাদের দাবি, একক রেললাইনে একাধিক ট্রেনের ক্রসিংয়ের কারণে এই বিলম্বের সৃষ্টি হয়েছে। ৬৬টি ট্রেনে ফিরছে যাত্রী রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, রবিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ৬৬টি ট্রেন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরবে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৩টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং ২৩টি লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেন। ঈদ-পরবর্তী যাত্রীচাপ সামাল দিতে সোমবার থেকে নিয়মিত ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি প্রতিদিন একটি করে ঈদ স্পেশাল ট্রেনও যুক্ত হবে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদ-পরবর্তী ফিরতি যাত্রা সাধারণত ঈদের আগের যাত্রার তুলনায় বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হয়। ফলে চাপও তুলনামূলক কম থাকে। সড়কপথেও বাড়ছে রাজধানীমুখী চাপ শুধু রেলপথ নয়, সড়কপথেও রাজধানীতে ফেরা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রী নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করছে। নবাবগঞ্জের দোহার থেকে ঢাকায় ফেরা সুমন চৌধুরী বলেন, ছুটির শেষ দিন হওয়ায় তিনি সকালেই রওনা দিয়েছেন, যাতে শেষ মুহূর্তের যাত্রীচাপ এবং সম্ভাব্য পরিবহন সংকট এড়ানো যায়। পাশাপাশি ঢাকায় ফিরে কিছু ব্যক্তিগত কাজও সেরে নিতে চান তিনি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে ঢাকায় ফিরছেন রাজন চক্রবর্তী। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত যাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল এবং বড় ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়নি। তবে রাজধানীতে প্রবেশের মুখে কিছু যানজটের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। খুলছে ব্যাংক, ফিরছে পুঁজিবাজার দীর্ঘ ছুটির কারণে সীমিত আকারে পরিচালিত ব্যাংকিং কার্যক্রমও সোমবার থেকে পূর্ণমাত্রায় শুরু হবে। দেশের সব ব্যাংক স্বাভাবিক লেনদেনে ফিরবে। একই সঙ্গে পুনরায় চালু হবে দেশের দুই প্রধান পুঁজিবাজার— ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এর নিয়মিত লেনদেন। ব্যবসায়ী ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ছুটির পর ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সচল হওয়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আবারও স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনবে। প্রথম কর্মদিবসে কেমন থাকবে কর্মব্যস্ততা? যদিও সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সব অফিস খুলছে, তবুও প্রথম কর্মদিবসে পূর্ণ কর্মব্যস্ততা ফিরে নাও আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতি বছর ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে অনেক কর্মী সহকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ব্যক্তিগত কাজের কারণে ব্যস্ত থাকেন। অনেক প্রতিষ্ঠানও প্রথম দিন সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তবে প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে শুরু করলে রাজধানীসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবে। ঈদুল আজহার দীর্ঘ সাত দিনের ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। ট্রেন ও বাসে ফিরতি যাত্রা এখন পর্যন্ত তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক থাকলেও কিছু রুটে বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে। সোমবার থেকে অফিস-আদালত, ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খুলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আবারও পূর্ণ গতিতে সচল হতে যাচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম ঈদ: বদলে গেল রেড রোডের ঐতিহ্য, কোরবানিতে কড়াকড়ি ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবারের ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে এক ভিন্ন বাস্তবতায়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক রীতিনীতিতে পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ঈদের প্রধান জামাত থেকে শুরু করে কোরবানির ব্যবস্থাপনায়ও। নতুন বিজেপি সরকারের অধীনে মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশের মধ্যে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও চাপা অসন্তোষের চিত্র সামনে এসেছে। সম্প্রতি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীপশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যে প্রশাসনিক নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকার জনসমাগম ও ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। রেড রোডে ঈদের জামাত বন্ধ দশকের পর দশক ধরে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি ছিল একটি প্রতীকী আয়োজন, যেখানে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। তবে এবার সেই চিত্র বদলে গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসন রেড রোডে ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে ঈদের প্রধান জামাত সরিয়ে নেয় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সরকারের যুক্তি ছিল—জনসড়কে ধর্মীয় জমায়েত সীমিত করা। ঈদের দিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও প্রশাসন দাবি করেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোরবানিতে কড়াকড়ি, গরুর হাটে ভাটা এবারের ঈদে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে কোরবানির ব্যবস্থাপনায়। পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই সংক্রান্ত পুরোনো আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। প্রশাসনের পূর্বানুমোদন ছাড়া প্রকাশ্যে পশু জবাই নিষিদ্ধ করা হয় এবং নির্দিষ্ট স্থান বা ব্যক্তিগত পরিসরে কোরবানি সম্পন্ন করার নির্দেশনা জারি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার গরুর হাটে বেচাকেনা কমে যায় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। অনেক বিক্রেতার অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারি ও অনিশ্চয়তার কারণে ক্রেতারা আগের মতো আগ্রহ দেখাননি। তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয় বিবেচনায় এনে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বার্তা নাকি ব্যক্তিগত বিশ্বাস? ঈদ উপলক্ষে রাজনৈতিক সৌজন্যের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন ছিল স্পষ্ট। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ঈদের শুভেচ্ছা ও প্রকাশ্য অংশগ্রহণ দেখা গেলেও এবার সেই চিত্র অনেকটাই অনুপস্থিত ছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। ঈদের দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মায়াপুরের ইসকন মন্দির পরিদর্শন এবং ‘গো-সেবা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সমর্থকদের দাবি, এটি ছিল তার ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলন। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ও আবেগ ঈদের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মুসলিম নাগরিকের ফেসবুক পোস্ট ও অনলাইন প্রতিক্রিয়ায় হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি উঠে এসেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, বহু পরিবার অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপে কোরবানি দিতে পারেনি। আবার অনেকে লিখেছেন, এবারের ঈদ ছিল “নিঃশব্দ ও সংযত”। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি পোস্টে “সংখ্যাগুরুর রাজনীতি”, “সাংস্কৃতিক সংকোচন” এবং “ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন” নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব মন্তব্যের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, এবারের ঈদুল আজহা ছিল তার প্রথম বড় পরীক্ষাগুলোর একটি। পরিবর্তনের সূচনা নাকি সাময়িক পরিস্থিতি? নতুন সরকারের সমর্থকরা বলছেন, আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিপরীতে বিরোধী মহল ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি অংশের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ সামাজিক সহাবস্থান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে কতটা গভীর প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে এবারের ঈদুল আজহা রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক, রাজনৈতিক বার্তা এবং প্রশাসনিক নীতির নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে—এ নিয়ে খুব কমই দ্বিমত রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে সরকারি ঘোষণার আগেই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করতে যাচ্ছে চাঁদপুর ও চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামের মুসল্লিরা। এই আয়োজনকে ঘিরে কয়েকটি দরবার শরীফ ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু ধর্মীয় অনুশীলন নয়; বরং প্রায় এক শতাব্দী ধরে চলে আসা একটি ধারাবাহিক বিশ্বাস ও অনুসৃত ঐতিহ্য। চাঁদপুরের প্রায় ৪০ গ্রামে ঈদের প্রস্তুতি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফসহ জেলার প্রায় ৪০টি গ্রামে বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দরবার শরীফের ঈদ জামাত কমিটির সদস্য আহমেদ রেজা চৌধুরী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদ জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন দরবারের পীর জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি। পরে সকাল ৯টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ইমামতি করবেন পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী। চাঁদপুরের পার্শ্ববর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলাতেও কয়েকটি গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন হবে। সুবিদপুর ইউনিয়নের টোরামুন্সীরহাট বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ইমামতি করবেন মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান। একই এলাকায় টোরা ঈদগাহ ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ইমামতি করবেন মাওলানা মো. বরকত উল্যাহ। এদিকে মতলব উত্তর উপজেলার দেওয়ানকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৯টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন মসজিদের খতিব মাওলানা আরিফুল ইসলাম। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই উপজেলায় মোট ছয়টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ‘১৯২৮ সাল থেকে চলে আসছে প্রথা’ সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা ড. বাকীবিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও দরবার মাঠে ঈদুল আজহার জামাতের আয়োজন করা হয়েছে এবং কোরবানির পশু কেনাসহ আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ১৯২৮ সালে সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের রীতি চালু করেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে ঈদ উদযাপন করে আসছেন। চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামেও আগাম ঈদ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফ এবং চন্দনাইশের জাঁহাগীরি শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারীরাও বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। মির্জাখীল দরবার শরীফের খানকাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান। দরবারের দায়িত্বশীল মোহাম্মদ মছউদুর রহমান বলেন, তাদের অনুসারীরা দীর্ঘ দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে হজ দিবসের পরদিন ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন। তার দাবি, চাঁদের অবস্থান, আরাফাত দিবস এবং হজের আনুষ্ঠানিকতা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেই তারা ঈদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি আরও বলেন, আরাফাতের ময়দান থেকে প্রচারিত খুতবা ও হজ কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার পর দেশ-বিদেশে সিলসিলায়ে আলীয়া জাঁহাগীরিয়া ও মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা বুধবার ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং পরে কোরবানি সম্পন্ন করবেন। যেসব এলাকায় উদযাপিত হবে আগাম ঈদ মির্জাখীল দরবার শরীফের তথ্যমতে, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, দোহাজারী, কাঞ্চননগর, হারলা, বাইনজুরি, জলদী, গুনাগরি, কালিপুর, বারখাইন, চরণদ্বীপ, চুনতি, পুটিবিলা, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, পুরানগড়সহ চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামে তাদের অনুসারীরা বুধবার ঈদ উদযাপন করবেন। এ ছাড়া বান্দরবানের লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার কয়েকটি গ্রামেও একই দিনে ঈদ পালিত হবে। রাষ্ট্রীয় ঘোষণার বাইরে আলাদা ধর্মীয় চর্চা বাংলাদেশে সাধারণত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদ উদযাপিত হয়। তবে কয়েকটি দরবার শরীফ ও ধর্মীয় অনুসারী গোষ্ঠী বহু বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পৃথকভাবে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছে। ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চর্চা দেশের মূলধারার বাইরে হলেও দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট অনুসারীদের মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : বছরের এই সময়টাতে গাজার খামারগুলোতে থাকার কথা ছিল ঈদুল আজহার ব্যস্ততা। কোরবানির পশুর হাঁকডাক, পশু কেনাবেচা, বাজারের ভিড়—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু এখন সেই গাজায় নেই কোরবানির পশু, নেই উৎসবের আমেজও। যুদ্ধ, অবরোধ ও খাদ্য সংকটে টানা তৃতীয় বছরের মতো কার্যত থমকে গেছে ঈদুল আজহার প্রধান ধর্মীয় অনুষঙ্গ কোরবানি। গাজার পরিচিত পশু খামারি মাজেন আল-জেরজাউই একসময় ঈদের আগে শত শত ভেড়া ও গরু বিক্রি করতেন। এখন তিনি একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সেখানে পরিবেশিত খাবারের জন্যও তাকে নির্ভর করতে হচ্ছে সীমিত পরিমাণে প্রবেশ করা হিমায়িত মাংসের ওপর। গাজা সিটির বাসিন্দা জেরজাউই বলেন, “এই সময়ে আমি প্রায় ২০০টি ভেড়া ও গরু বিক্রি করতাম। এখন আমার কাছে একটি পশুও নেই। গাজায় জীবন্ত পশু ঢুকতেই দেওয়া হচ্ছে না।” তার ভাষায়, ইসরায়েলের কঠোর নিয়ন্ত্রণ গাজার মানুষকে এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে, যেখানে টিকে থাকাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। যুদ্ধের আগে বছরে আসত ৬০ হাজার পশু ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের আগে প্রতি বছর গাজায় ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ভেড়া ও বাছুর আমদানি হতো। স্থানীয় খামারগুলোও ছিল সক্রিয়। কোরবানির পশুকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল বড় একটি অর্থনৈতিক চক্র। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ ও অবরোধ পরিস্থিতি পুরো খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, গবাদিপশু খাতের ৯০ শতাংশের বেশি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। শুধু খামার নয়, ধ্বংস হয়েছে গোয়ালঘর, পশুখাদ্যের গুদাম, পশু চিকিৎসা কেন্দ্র এবং কৃষিভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থা। আকাশছোঁয়া পশুর দাম যুদ্ধের আগে গাজায় একটি ভেড়ার দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ ডলারের মধ্যে। বর্তমানে হাতে গোনা যে কয়েকটি পশু টিকে আছে, সেগুলোর দাম পৌঁছেছে প্রায় ৭ হাজার ডলারে। এই পরিস্থিতিতে অনেক প্রবাসী ফিলিস্তিনি এখনও গাজায় থাকা স্বজনদের নামে কোরবানি দিতে চাইছেন। তবে জেরজাউই তাদের নিরুৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, “একটি ভেড়ার পেছনে ২০ হাজার শেকেল খরচ করার চেয়ে সেই অর্থ দিয়ে একটি পরিবারের বিয়ের খরচ চালানো সম্ভব। এখন ৫০ কেজি হিমায়িত মাংস কিনে মানুষকে খাওয়ানোই বেশি বাস্তবসম্মত।” নিশ্চিহ্নের পথে গবাদিপশু জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরের মধ্যেই গাজার ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল মারা গেছে বা হত্যা করা হয়েছে। গাজার কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে যেখানে উপত্যকাটিতে প্রায় ৬০ হাজার ভেড়া ও ছাগল ছিল, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৩ হাজারে। গরু ও বাছুর প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাফাত আসালিয়া বলেন, “যে অল্পসংখ্যক পশু বেঁচে আছে, সেগুলো যাযাবর রাখালদের কাছে রয়েছে এবং ঈদের বাজারে আনার মতো পরিস্থিতি নেই।” তার মতে, পানির সংকট ও কৃষি অবকাঠামোর ধ্বংস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে এই খাত পুনরুদ্ধারের বাস্তব সম্ভাবনাও প্রায় নেই। বোমা হামলায় মারা গেছে পশু জেরজাউই জানান, যুদ্ধের মধ্যে পশু বাঁচিয়ে রাখাই হয়ে উঠেছিল অসম্ভব। তিনি বলেন, “পশুগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা পাস্তা পর্যন্ত খাইয়েছি। কিন্তু পাশের বাড়িতে বোমা হামলার পর আমার অনেক ভেড়া মারা যায়।” শুধু বোমা হামলাই নয়, বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনাও গবাদিপশু খাতকে চূড়ান্ত ধসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালানোর সময় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে কম দামে পশু বিক্রি বা জবাই করে দেয়। জেরজাউই বলেন, “প্রতিটি উচ্ছেদ আদেশের সঙ্গে সঙ্গে গাজায় গবাদিপশুর সংখ্যা কমে গেছে। শেষ পর্যন্ত মানুষ পরিবারকে বাঁচাবে, নাকি পশুর যত্ন নেবে—এই কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়েছে সবাই।” ‘কোরবানি ছাড়া ঈদ নেই’ গাজার সাধারণ মানুষের কাছেও ঈদের অনুভূতি এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। স্কুলশিক্ষক মুহাম্মদ আবু রিয়ালা বলেন, “মনে হচ্ছে আমরা তিন বছর ধরে ঈদই উদযাপন করছি না। কোরবানির আনন্দ, ভাগাভাগি করার অনুভূতি—সবকিছু হারিয়ে গেছে।” তিনি জানান, সংকট শুধু পশুর অভাবেই সীমাবদ্ধ নয়। বহু পরিবার এখন দৈনিক খাবার জোগাড় করতেই সংগ্রাম করছে। তার ভাষায়, “অনেকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত মাংসও খেতে পারেনি। গাজায় কী ঢুকবে, তা পুরোপুরি সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ফলে বাজারে জিনিসপত্রের দামও অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে।” খাদ্য সংকটে ১৬ লাখ মানুষ জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)-এর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ গাজার প্রায় ১৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিল। যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও মানবিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশে কড়াকড়ি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ হয়ে গেলে বাজার থেকে খাদ্যপণ্য প্রায় উধাও হয়ে যায়। ধসে পড়ছে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞদের মতে, গবাদিপশু খাত ধ্বংস হওয়ায় শুধু কোরবানির ঐতিহ্যই নয়, গাজার একটি বড় অর্থনৈতিক ভিত্তিও ভেঙে পড়ছে। মুহাম্মদ আবু রিয়ালা বলেন, “গবাদিপশু প্রবেশের অনুমতি থাকলে পশু চিকিৎসক, খামারি, কৃষক, কসাই ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা সবাই উপকৃত হতেন। কিন্তু পুরো সমাজকে অকার্যকর করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” গাজার বাস্তবতা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ঈদ মানে আর উৎসব নয়; বরং বেঁচে থাকার সংগ্রামের আরেকটি দিন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া এগ্রো ফার্ম। সোমবার সন্ধ্যায় নতুন মালিকের কাছে পশুটি হস্তান্তরের সময় লাল গালিচা সংবর্ধনা, বিশেষ আলোকসজ্জা ও ধোঁয়ার ইফেক্টে সাজানো আয়োজনে তৈরি হয় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত খামারটিতে দুপুর থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক মানুষ। কেউ ভিডিও ধারণ করেন, কেউ ছবি তোলেন, আবার অনেকে শুধুই একনজর দেখতে আসেন ভাইরাল এই মহিষটিকে। খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদায়ের আগে মহিষটিকে গোসল করিয়ে বিশেষভাবে সাজানো হয়। পরে রাজকীয় পোশাক পরিয়ে লাল গালিচা ধরে গাড়িতে তোলা হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল অনেকটা কোনো সেলিব্রিটিকে বিদায় জানানোর মতো। কীভাবে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নাম? খামার সূত্র বলছে, বিরল এলভিনো জাতের এই মহিষটির গায়ের রঙ, চোখ ও লোমের গঠন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হওয়ায় এর নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। নামটি দেন খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমে মহিষটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সেটি ভাইরাল হলে দেশের বাইরে থেকেও আগ্রহ তৈরি হয়। খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর দর্শনার্থীর চাপ আরও বেড়ে যায়। কোরবানির পশু থেকে ‘সামাজিক ব্র্যান্ড’ প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটি রাজধানীর জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা সামির আগেই কিনে নেন। খামার সূত্র অনুযায়ী, প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে পশুটি বিক্রি করা হয়। তবে বিক্রির পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার কারণে মহিষটি শুধু কোরবানির পশু হিসেবেই নয়, বরং এক ধরনের সামাজিক আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়। ঈদকেন্দ্রিক বাজার সংস্কৃতি, অনলাইন ভাইরাল প্রবণতা এবং ব্যতিক্রমী বিপণন কৌশল—সবকিছুর মিশেলে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ হয়ে ওঠে আলোচিত এক নাম। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির পশুর বাজারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। বড় আকৃতির গরু, বিরল জাতের পশু কিংবা অদ্ভুত নাম ব্যবহার করে অনেক খামার এখন অনলাইন জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছে। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ সেই প্রবণতারই আলোচিত উদাহরণ। আবেগঘন বিদায় রাবেয়া এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা বলেন, বহুদিন ধরে মহিষটিকে লালন-পালন করেছেন তারা। তাই বিদায়ের সময় আবেগ কাজ করেছে। তবে কোরবানির মূল শিক্ষা ত্যাগের মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। নতুন মালিক সামির বলেন, তিনি সাধারণভাবেই পশুটি কিনেছিলেন। পরে এটি ভাইরাল হয়ে গেলে এলাকায়ও মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়। বর্তমানে জিনজিরাতেও অনেকে মহিষটিকে দেখতে আসছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীতে কোরবানির পশুবাহী একটি ট্রলার ডুবে একজন ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। একই ঘটনায় অন্তত ২৩টি কোরবানির গরুও নদীতে হারিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে পদ্মা সেতু-এর ১৫ নম্বর পিলারের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ব্যক্তি আইয়ুব আলী (৪৫), তিনি ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার সালিপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র বলছে, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকা থেকে ১৫ জন গরু ব্যবসায়ী ২৮টি কোরবানির গরু নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পশুর হাটে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ঝড়ের মধ্যে ট্রলারডুবি লৌহজং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুপুর আড়াইটার দিকে পদ্মা নদীতে হঠাৎ দমকা হাওয়া ও বৈরী আবহাওয়া তৈরি হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই গরুবাহী ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, ১৪ জন ব্যবসায়ী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পাঁচটি গরুও জীবিত উদ্ধার করা গেছে। তবে একজন ব্যবসায়ী ও ২৩টি গরু এখনও নিখোঁজ রয়েছে। মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা বলছেন, ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান এখনও শনাক্ত করা যায়নি। নদীর তীব্র স্রোত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়েছে। কোরবানির মৌসুমে নৌপথে পশু পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার পশু নদীপথে পরিবহন করা হয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খরচ কম হওয়ায় অনেকেই ট্রলার বা ছোট নৌযানে পশু পরিবহন করেন। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, অতিরিক্ত বোঝাই এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব প্রায়ই বড় ঝুঁকি তৈরি করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীপথে পশুবাহী ট্রলার চলাচলে কার্যকর তদারকি খুব কম দেখা যায়। বিশেষ করে ঝড়ো আবহাওয়ার সময়েও অনেক নৌযান চলাচল অব্যাহত থাকে। নৌনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মৌসুমি পশু পরিবহনে নিবন্ধনবিহীন বা অপ্রস্তুত ট্রলার ব্যবহারের প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এছাড়া অধিকাংশ নৌযানে লাইফ জ্যাকেট বা জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম থাকে না। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যবসায়ী এবং ডুবে যাওয়া ট্রলারটির সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো নতুন তথ্য পাওয়া যায়নি। পদ্মা নদীতে সাম্প্রতিক সময়ে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নৌযান চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদকেন্দ্রিক পশু পরিবহনে নিরাপত্তা নির্দেশনা আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়তে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মধ্যখাউলিয়া গ্রামের একটি খামার ঘিরে এখন কৌতূহলী মানুষের ভিড়। কারণ, সেখানে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে দুটি বিশালাকৃতির ষাঁড়—‘কালু’ ও ‘ধলু’। খামারি মো. তাজুল ইসলামের দাবি, নিজের খামারে জন্ম নেওয়া বাছুর থেকেই বড় করে তোলা হয়েছে গরু দুটি। কয়েক বছরের পরিচর্যা শেষে এবারই প্রথম কোরবানির বাজারে এত বড় আকৃতির ষাঁড় তুলছেন তিনি। খামার সূত্রে জানা গেছে, ‘কালু’ নামের ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট এবং উচ্চতা ৬ ফুট। এর ওজন ধরা হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ মণ। অন্যদিকে ‘ধলু’র দৈর্ঘ্য ৯ ফুট ও উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট। গরুটির ওজন প্রায় ২৬ মণ। খামারি তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘কালু’র দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা এবং ‘ধলু’র দাম রাখা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। তিনি বলেন, ফ্রিজিয়ান জাতের গরু দুটি বিশেষ পরিচর্যায় বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন দুইবার গোসল করানোর পাশাপাশি চার বেলা খাবার দেওয়া হয়। খাদ্যতালিকায় রয়েছে খৈল, ভূষি, ভুট্টা, কুড়া ও কাঁচা ঘাস। শুধু খাবার বাবদ প্রতিদিন ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। প্রায় এক দশক আগে ‘তাজু ডেইরী ফার্ম’ প্রতিষ্ঠা করেন তাজুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে ছোট পরিসরে শুরু হলেও এখন খামারটি এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে বড় আকারের গবাদিপশু লালনের জন্য। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এত বড় আকৃতির গরু এলাকায় খুব কমই দেখা যায়। ফলে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ গরু দুটি দেখতে খামারে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বাড়তি উদ্যোগও রেখেছেন খামারি। তাজুল ইসলাম জানান, কাঙ্ক্ষিত দামে গরু বিক্রি হলে ক্রেতাকে উপহার হিসেবে একটি ছাগল দেওয়া হবে। এদিকে বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৩৮ হাজার ৪৩৫টি ষাঁড়। এর মধ্যে বড় আকারের গরুও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় বড় আকৃতির ষাঁড় নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও মোরেলগঞ্জের ‘কালু’ ও ‘ধলু’ ইতোমধ্যেই স্থানীয় মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে আগামী ২৮ মে, বৃহস্পতিবার দেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তারিখ ঘোষণা করেন। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জানায়, দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় ও বিভাগীয়-জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান স্পারসো থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের পর চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান, যুগ্মসচিব ছাদেক আহমেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম এবং স্পারসোর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামও সভায় অংশ নেন। চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মো. মহিউদ্দিন এবং চকবাজার শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ঈদুল আজহার আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গরু কেনাবেচা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিজেপি সরকারের নতুন পশু জবাই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে মুসলিম ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে হিন্দু খামারি ও গরু ব্যবসায়ীদের ওপর। একই সময়ে ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধের ঘোষণাও রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পশুর হাটে সাধারণত যে বেচাকেনার চাপ দেখা যায়, এবার তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন আইনি বিধিনিষেধ এবং প্রশাসনিক নজরদারির কারণে মুসলিম ক্রেতারা গরু কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে কোটি টাকার বাজারে নেমে এসেছে স্থবিরতা। গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা ‘পশু জবাই সংক্রান্ত নির্দেশিকা’ অনুযায়ী, সরকারি অনুমতি ও সরকারি পশু চিকিৎসকের ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর কিংবা স্ত্রী-পুরুষ মহিষ জবাই করা যাবে না। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো পশুকে জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করতে হলে তার বয়স অন্তত ১৪ বছর হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা শ্রমের কাজে অক্ষম হতে হবে। গুরুতর আঘাত, স্থায়ী বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগে আক্রান্ত পশুর ক্ষেত্রেও বিশেষ অনুমতির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া শুধুমাত্র অনুমোদিত কসাইখানা বা প্রশাসন নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে বা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় পশু জবাই করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ঈদের বাজারে অনিশ্চয়তা মুর্শিদাবাদ, মালদহ, নদীয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের গরু ব্যবসা হয়। স্থানীয় হিন্দু খামারিদের বড় একটি অংশ এই মৌসুমি বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এবার ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন নিয়মে ১৪ বছরের কম বয়সী গবাদিপশু নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় ক্রেতারা হাটে আসলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়ছেন। পুলিশের হয়রানি বা আইনি জটিলতার আশঙ্কাও অনেকের মধ্যে কাজ করছে। ফলে অনেকে গরুর বদলে ছাগল বা ভেড়ার দিকে ঝুঁকছেন। এতে বড় আকারের গরু খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একাধিক খামারি জানিয়েছেন, বছরজুড়ে গরু লালন-পালনের পর ঈদের বাজার থেকেই তারা মূল বিনিয়োগ ফেরত পান। কিন্তু এবার বিক্রি না হলে ঋণের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। সরকারের অবস্থান কী? সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং খুব দ্রুত একটি “সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা” ঘোষণা করা হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টা নিজে দেখছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুব তাড়াতাড়ি কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হবে।” যদিও সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শিথিলতার ঘোষণা দেয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে—ঈদ, আদালতের গাইডলাইন এবং জনমতের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মধ্যপন্থী সমাধানের চেষ্টা করা হতে পারে। ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নতুন বিধিনিষেধকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, কোরবানির মতো ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলে তা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র খামারি ও পশু ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ক্ষতিও গভীর হবে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, এই পদক্ষেপ মূলত অবৈধ পশু জবাই ও প্রকাশ্যে কসাই কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনতেই নেওয়া হয়েছে। দলটি দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু সংরক্ষণ ও “আইনসম্মত জবাই ব্যবস্থার” পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধের ঘোষণা পশু জবাই নির্দেশিকার বিতর্কের মধ্যেই রাজ্য সরকার ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধের ঘোষণাও দিয়েছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন থেকে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য চালু থাকা ভাতা প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে একইসঙ্গে সরকার “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার” প্রকল্পকে পুনর্গঠন করে “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার” নামে চালুর ঘোষণা দিয়েছে। আগের সুবিধাভোগীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবেন বলেও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বার্তা নাকি প্রশাসনিক সংস্কার? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই বিজেপির এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্তগুলো মূলত তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধ, পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন সরকার তাদের ভোটারদের কাছে একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। তবে এর বাস্তব অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের ওপর—বিশেষ করে ঈদুল আজহার বাজার পরিস্থিতি এবং সরকারের সম্ভাব্য নতুন ঘোষণার ওপর।
ত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : সৌদি আরবে পবিত্র জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখা গেছে। রবিবার (১৭ মে) দেশটির আকাশে এই চাঁদ দেখা যায়। সেই অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) থেকে হিজরি ১৪৪৭ সনের জিলহজ মাস শুরু হবে। ইসলামি চন্দ্র ক্যালেন্ডারের সর্বশেষ মাস জিলহজের ১০ম দিনে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। সেই হিসাবে আগামী ২৭ মে সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এর আগের দিন অর্থাৎ ২৬ মে পবিত্র আরাফাহ দিবস পালিত হবে।এর আগে, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, তিউনিসিয়াও ২৭ মে ঈদুল আজহা উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।