মো. আমিনুল ইসলাম : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় বালুবোঝাই একটি ট্রলি থেকে ছিটকে পড়ে মো. জাহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল আটটার দিকে উপজেলার পশ্চিম ছিটকি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাহিদুল ইসলাম কাঁঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মো. ইউনুস হাওলাদারের ছেলে। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, জাহিদুল একটি বালুবোঝাই ট্রলি নিয়ে পশ্চিম ছিটকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে যান। সেখানে ট্রলিটি ঘোরানোর সময় তিনি পিছনের গিয়ারে নিয়ে পেছাতে থাকেন। এ সময় ট্রলির একটি চাকা বালুর মধ্যে দেবে যায়। এর ফলে ট্রলির সামনের অংশ হঠাৎ উপরের দিকে উঠে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছনের দিকে ছিটকে পড়েন। এতে বিদ্যালয়ের গেটের সঙ্গে তার মাথার পেছনের অংশে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাসের রায়হান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
মো. আমিনুল ইসলাম ,ঝালকাঠি : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় সরকারি জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, উপজেলার পূর্ব ছিটকি এলাকায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সরকারি রাস্তা ও খালের পাশের জায়গা দখল করে পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম (৫০) এর বিরুদ্ধে। শহিদুল ইসলাম স্থানীয় মৃত্যু ফজলুর রহমানের ছেলে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে ভূমি অফিস থেকে তহসিলদার সরজমিন পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাদের নজরদারি এড়িয়ে রাতের আধারে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ করে যাচ্ছে তারা। শহিদুল ইসলামের বড় ভাই সাবেক স্কুল শিক্ষক ফখরুল ইসলাম বাদশা (৬২) স্থাপনা নির্মানে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে। স্থানীয়রা এবস বিষয়ে প্রতিবাদ করলে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে তাদের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম এর বড়ো ভাই ফকরুল ইসলাম বাদশা জানায়, এটা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির দাগের মাথার জমি। এটা আমরা প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছর যাবৎ ভোগ দখল করে আসছি। ওখানে পুরাতন একটা দোকান আছে,সেখানে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা তা মেনে নেবো। এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম জানায়, এটা আমাদের দাগের মাথার সম্পত্তি। প্রায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর যাবৎ আমরা ভোগ দখল করতেছি। এটা সরকারি জমি হলে আমরা ছেড়ে দিবো। এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়ে ওখানে ভূমি অফিস থেকে তহসিলদারকে পাঠিয়েছি। তিনি কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। ওটা সরাসরি সম্পত্তি হলে খুব তারাতারি তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে।
মো. আমিনুল ইসলাম ,ঝালকাঠি : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার তাঁরাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় কাঁঠালিয়া সদরের একটি ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা অহিদুজ্জামান এনায়েত এবং দেলোয়ার হোসেন জমাদ্দার। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খান ১৯৮৭ সালের ০৩ জানুয়ারি সহকারি শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ গাজীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে বরখাস্ত করান। ১৯৮৮ সালে একাধিক সিনিয়র শিক্ষক থাকলেও বিধি ভঙ্গ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব নেন শহীদুল ইসলাম। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়োগ বানিজ্য, স্কুলের বই, গাছ, আসবাবপত্র, বিদ্যালয়ের পুরাতন ঘর বিক্রি, বিদ্যালয়ের স্বীকৃতিপত্রে টেম্পারিং ও অর্থ আত্মসাৎসহ সীমাহিন অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিদ্যালয়ের জমি অন্যত্র বিক্রিতে তিনি পরিচিতির স্বাক্ষর দেন। তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, শহীদুল ইসলাম ১৯৮৮ সালে বিদ্যালয়ে একাধিক সিনিয়র শিক্ষক থাকলেও বিধি ভঙ্গ করে সহকারি শিক্ষক হয়েও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব নেন শহীদুল ইসলাম। এরপর থেকে শুরু হয় তার অপকর্ম। নিজের চাচাতো ভাইকে বিদ্যালয়ের সভাপতি বানিয়ে নিজের মেয়েকে সহকারি গ্রান্থগারিক পদে এবং দুই কর্মচারীকে ২০ লাখ টাকার বিনিয়মে নিয়োগ দেন। বিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিল ও এফডিআর এর অর্থ আত্মসাতের করেন। যাহা তদন্তে প্রমানিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের বই, গাছ, আসবাবপত্রসহ বিদ্যালয়ের পুরাতন ঘর বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করে যাহা দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের জমিদাতা অহিদুজ্জামান এনায়েত বলেন, তার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসকসহ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে অভিযোগের বিষয় সত্যতা প্রমানিত হলেও অদৃশ্য কারণে তার অপকর্মের এখন পর্যন্ত কোন বিচার হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খান সম্প্রতি অবসরে যান। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মকবুল হোসেন । সভায় সাবেক প্রধান শিক্ষকের কাছে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তিনি তা দিতে পারেনি। এ বিষয়ে জানতে সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলামকে মুঠোফোনে জানান, আমি এ বছরের ১০ মার্চ অবসরে যাই। আমাকে হয়রানী করার জন্য এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করছেন। কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মকবুল হোসেন জানান, সভায় সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলামের কাছে বিদ্যালয়ে তার সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়। তিনি অগোচালোভাবে উপস্থাপন করেন। সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য তাকে সময় দেওয়া হয়েছে।
ঝালকাঠি : কাঁঠালিয়া উপজেলার ৪নং সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক জরিপ, জনমত এবং স্থানীয়দের আলোচনায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম হচ্ছে আলিমুল ইসলাম আলিম মুন্সি। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার ফলে এলাকায় তার একটি শক্ত অবস্থান গড়ে উঠেছে। বর্তমানে তিনি কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা রেখে চলেছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে আলিম মুন্সি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। এলাকার উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও এখনো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি এবং তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি, তবুও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মুখে মুখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তার নামই ঘুরছে। স্থানীয়দের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলিম মুন্সি ইতোমধ্যে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা আসন্ন নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
মো. আমিনুল ইসলাম : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহতের নাম জোস্না আক্তার (৩০)। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর তালগাছিয়া গ্রামে। স্থানীয়ভাবে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী জোস্না আক্তার বুধবার দুপুরে কাঁঠালিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি খাদিজা বেগম (৪৫)-কে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ ঘটনায় মোসাঃ ফারিহা আক্তারের নামও উঠে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে জোস্না আক্তারের সঙ্গে খাদিজা বেগমের বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জোস্না আক্তারকে লাকড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার সময় তার মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. আমিনুল ইসলাম,ইত্তেহাদ নিউজ: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক বিএনপি নেতা আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার হেতালবুনিয়া গ্রামে মো. শাহজাহান মাষ্টারের সঙ্গে মো. সিদ্দিক উকিল ও ফুল মিয়া উকিলের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিরোধীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিল প্রতিপক্ষ। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। সর্বশেষ ২১ এপ্রিল চূড়ান্ত মীমাংসার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তার আগেই নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল সকালে শাহজাহান মাষ্টার নিজ বাগান থেকে কলা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। তাকে রক্ষা করতে গেলে কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মৃধা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা আসাদুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। শালিশের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বারবার সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে।” কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে এবং শালিশ প্রক্রিয়া চলমান। এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাসের রায়হান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. আমিনুল ইসলাম, কাঁঠালিয়া : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় এক প্রবাসীর জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত নেতা অভিযোগটি ‘অপপ্রচার’ বলে অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে প্রবাসী রিয়াজ তালুকদারের স্ত্রী হনুফা বেগম প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বিষয়টি সামনে আনেন। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ তালুকদার বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তিনি আড়াই একর জমি ক্রয় করে এর একটি অংশে পাকা ভবন নির্মাণ করেন। অবশিষ্ট জমি ফাঁকা থাকায় একই এলাকার জাকির ও ছগির হোসেন পাশের জমি কেনার পর একটি দাগ থেকে দখলের চেষ্টা চালান। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে হনুফা বেগম ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে বিরোধপূর্ণ জমিতে নিষেধাজ্ঞার নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে বর্তমান অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করে জাকির ও ছগির দলবল নিয়ে সেখানে কাজ করতে যান। প্রবাসে অবস্থান করায় রিয়াজ তালুকদারের অনুপস্থিতির সুযোগে তাদের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ জমি দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। বাধা দিলে হনুফা বেগমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মামুনুর রশীদ বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাসের রায়হান জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমিতে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন বা চাঁদাবাজির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঝালকাঠি: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া এলাকায় পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে এক প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত এই খেলায় অংশ নেয় “লিজেন্ড অফ কাঁঠালিয়া” বনাম “লিজেন্ড অফ আমুয়া” দল। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয় লাভ করে লিজেন্ড অফ কাঁঠালিয়া এবং রানার্সআপ হয় লিজেন্ড অফ আমুয়া। বিজয়ী দলের হয়ে দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেন, যিনি দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করেন। লিজেন্ড অফ কাঁঠালিয়া দলের অধিনায়ক ছিলেন স্থানীয়ভাবে পরিচিত প্রিয় হাছিব ভুট্টো আকন। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কাঁঠালিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আখতার হোসেন নিজাম মিরবহর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমুয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ এলাকার অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমী দর্শক। নববর্ষের আনন্দকে ঘিরে আয়োজিত এই প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঝালকাঠি: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিং করার অভিযোগে মো. রাজু লাহেরী (২১) নামের এক যুবককে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত রাজু লাহেরী উপজেলার আমুয়া গ্রামের মৃত সত্তার লাহেরীর ছেলে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মকবুল হোসেন এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আমুয়া গ্রামের এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করা এবং অশ্লীল ভাষায় কথা বলার অভিযোগ উঠে একই গ্রামের রাজু লাহেরীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত রাজু লাহেরীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৫০৯ ধারায় তাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন বলেন, “ইভটিজিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজু লাহেরীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।