Brand logo light

কীর্তনখোলা নদী

এ্যাংকর সিমেন্ট
এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ ,বহুমাত্রিক সংকটে বন্ধ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী

ইত্তেহাদ নিউজ অনলাইন: চারদিক অন্ধকার।কারো মোবাইল বন্ধ।কারো সচল।সচল থাকলেও কল রিসিভ করছেননা।সকল দিক থেকে পাওনাদারদের আওয়াজ।কোন সারা শব্দ নাই।এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে নেই বিদ্যুৎ, নেই পানি।হাহাকার অবস্থা।বেতন -ভাতা বকেয়ার কারনে চলছে কর্ম বিরতি।বন্ধ উৎপাদন।অচলাবস্থায় মালিক পক্ষ ভাড়ায় ও বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করছেন।তবে কেউ দ্বায়িত্ব নিতে আগ্রহী হয়নি।কারন পাশে বৃহৎ ঔষধ কোম্পানীর ফ্যাক্টরী রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্টের ধুলাবালিতে ওখানের পরিবেশ দুষনের রেট অনেক উচ্চ।পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঘুষ দিয়ে প্রতি বছর অলিম্পিক সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   তিন কোটি টাকার বেশি বকেয়া, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ:    ব্যাগ ফ্যাক্টরীর পর এবার এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ। এরই মাঝে ১৪ মে বেলা ১১ টার দিকে তিন কোটি টাকারও বেশী বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারনে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওজোপাডিকো বরিশালের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার। পাওনাদারদের তালিকা হচ্ছে দীর্ঘ :    অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড বর্তমানে দেউলিয়া হওয়ার পথে।আর্থিক সংকট।অচলাবস্থা ভিতরে ও বাইরে।একে একে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ব্যাংক ও অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।বিদেশে অর্থপাচার,লুটপাট,অনিয়ম,দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনার কারনে শতভাগ সফল হওয়া কোম্পানীটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এই মুহুর্তে বিদ্যুৎ বিভাগের ৬ কোটি টাকারও বেশী পাওনা রয়েছে।চট্রগ্রামের মেরিন সার্ভিস এ্যান্ড ট্রেডার্স ৫ কোটিরও বেশী টাকা পাওনা রয়েছে। যেসব ডিলার টাকা পাবে :    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের ডিলার মিখাইল শেখ পাবে ৫০ লাখ টাকা।এ ভাবে মাদারীপুরের ফয়সাল ট্রেডার্স পাবে ৫ হাজার ব্যাগ  সিমেন্টের টাকা,মোড়লগঞ্জের হাওলাদার ট্রেডার্স। রাজশাহীর মক্কা ট্রেডার্স ( ট্রাইকন মার্কেটিং) পাবে ৭০ হাজার  ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। আলহাজ্ব আতাউর রহমান পাবে ৩৫০০০  হাজার ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। সাতক্ষীরার আল আমিন এজেন্সি পাবে ১০০০০ ব্যাগ সিমেন্টের টাকা।কুষ্টিয়ার সালাম এন্ড সন্স পাবে ৫০০০ ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। মেহেরপুরের সন্ধ্যা ট্রেডার্স পাবে  ৫০০০ ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। এভাবে  প্রায় শতাধিক ডিলার ও রিটেইলারের থেকে বেশী কমিশনের লোভ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়ে সিমেন্ট দিতে ব্যর্থ হয়েছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।  সিমেন্ট দিচ্ছেনা ডিলার ও রিটেইলাদারকে। আবার পাওনা অর্থও দিচ্ছেনা।ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে রিটেইলার ও ডিলাররা।      আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে      টাকা ফেরৎ বা সিমেন্ট কবে দেয়া হবে তা কেউ জানেনা:   এ ব্যাপারে এ্যাংকর সিমেন্টের কর্মকর্তা  ইমাম ফারুকীর মোবাইলে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।নাম প্রকাশে এক কর্মকর্তা বলেন,যেখানে বিদ্যুৎ বিল দিতে পারছেনা সেখানে কিভাবে অগ্রীম টাকা দেয়া ডিলার, রিটেইলার ও করপোরেট ক্রেতাদের টাকা ফেরৎ দিবে। কবে টাকা ফেরৎ বা টাকার বিনিময়ে সিমেন্ট দেয়া হবে তা কেউ জানেনা।     কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইমাম ফারুকী ও  দীপংকর   এ্যাংকর সিমেন্টের সাবেক কর্মকর্তা আমিনুল জানান, ডিলারদের থেকে দাম বৃদ্ধির কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সিএমও ইমাম ফারুকী, ও আরএসএম দীপংকর।এখন সিমেন্ট এর জন্য কল দিলেও  কেউ ডিলারদের ফোন রিসিভ করেনা এবং মার্কেটে না এসে আত্নগোপনে চলে গেছে। কোম্পানীকে কিছু টাকা দিয়ে ইমাম ফারুকী বরিশালে আলিশান বাড়ি ও মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়েছেন।     যেসব সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন এখনও বকেয়া:   অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষের নিকট সিফাত পাবে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা।এছাড়া এখনো সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বেতন ভাতা পাবে তারা হলেন,মোঃ তুহিন শেখ, মেঃ আরিফ আহম্মেদ,মোঃ দেলোয়ার হোসেন,মোঃ এনামুল হক,রফিক,মোঃ মামুন হোসেন,মোঃ মুকিত হাসান,মোঃ মাহফুজর রহমান,মো: মামুন, রিয়াজ খান, মোঃ শাহিন ও মোঃ কামরুল ইসলাম সহ অসংখ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী।     আকাশ বাতাস ভাড়ি হয়ে উঠেছে আর্তনাদে   এ ছাড়া একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী শ্রম আদালতে মামলা করলেও কোন সুফল পাচ্ছেননা।বার বার তারিখের গ্যাড়াকলে পরে সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিঃস্ব হয়ে গেছে।তাদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভাড়ি হয়ে উঠেছে।   দেশে আছেন তারা:   অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকরা বাংলাদেশে থাকলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও করপোরেট অফিস থেকে বলা হচ্ছে চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকরা বিদেশে। অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকরা বাংলাদেশেই রয়েছেন বলে বিশ্বস্ত একটি সুত্র নিশ্চিত করেছেন। পরিবেশ দূষণ নিয়ে নতুন উদ্বেগ : দুষনে শীর্ষে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী    বরিশালের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী এলাকা অন্যতম দূষিত বাতাসের স্থান। IQAir Barisal ও  AccuWeather Barishal-এর প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ২০২৬ সালের মে মাসের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের রুপাতলীর এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও  সংলগ্ন শিল্প এলাকায় সিমেন্টের গুঁড়ো এবং গাড়ির ধোঁয়ার কারণে বাতাসে ক্ষতিকর ভাসমান কণা বা PM2.5-এর উপস্থিতি অনেক বেশি।যার কারনে যেসব মানুষের ফুসফুসের সমস্যা বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এমন সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘসময় এই এলাকায় মাস্ক ছাড়া অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া তারা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, আর্থিক  জটিলতার কারণে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে কারখানার নিজস্ব নির্গমন কম থাকলেও ধুলাবালির প্রভাব রয়ে গেছে।   সৃষ্ট বায়ু দূষণের প্রভাব:    রুপাতলীতে এ্যাংকর সিমেন্ট এবং অন্যান্য শিল্পকারখানার কারণে সৃষ্ট বায়ু দূষণের প্রভাব প্রধানত মানবদেহ, স্থানীয় পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।  প্রধান প্রভাবগুলো তুলে ধরা হলো:  MDPI  +1 ১. মানবস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব (Health Impacts): শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা: সিমেন্ট উৎপাদনের সময় নির্গত সূক্ষ্ম ডাস্ট কণা (PM2.5 এবং PM10) বাতাসে মিশে ফুসফুসে প্রবেশ করে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের মধ্যে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস এবং ক্রনিক শ্বাসকষ্টের হার ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। চোখ ও গলার সংক্রমণ: বাতাসের ক্ষতিকর গ্যাসের কারণে চোখ জ্বালাপোড়া করা, অনবরত কাশি এবং গলায় ইনফেকশন বা অ্যালার্জি দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি: দীর্ঘদিন এই দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং ফুসফুসের ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।    ২. পরিবেশ ও প্রকৃতির ওপর প্রভাব (Environmental Impacts): গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি: বাতাসে ভাসমান সিমেন্টের ডাস্ট ও ছাই আশেপাশের গাছপালার পাতার ওপর আস্তরণ তৈরি করে। এর ফলে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ (খাদ্য তৈরি) ব্যাহত হয়, গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং ফলন হ্রাস পায়। মাটির গুণাগুণ নষ্ট: ডাস্ট ও ভারী ধাতু বৃষ্টির পানির সাথে মিশে মাটিতে পড়ে। এতে মাটির অম্লতা বা ক্ষারীয় ভাব পরিবর্তিত হয়ে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়।  MDPI  +2 ৩. কীর্তনখোলা নদী ও জলজ জীবনের ওপর প্রভাব: নদীর পানি দূষণ: কারখানার ধোঁয়া ও ডাস্ট সরাসরি বাতাসে ছড়ানোর পাশাপাশি বৃষ্টির মাধ্যমে এবং উড়ন্ত ছাই কীর্তনখোলা নদীর পানিতে পতিত হয়। এতে পানির পিএইচ (pH) লেভেল পরিবর্তন হয়ে পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: পানিতে রাসায়নিক ও ডাস্ট কণা দ্রবীভূত হওয়ায় অক্সিজেনের মাত্রা (DO) কমে যায়, যা মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর জীবনকে সংকটাপন্ন করে তোলে।  MDPI  +4 ৪. মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান: মানসিক চাপ ও অস্বস্তি: অতিরিক্ত ধুলাবালি এবং কারখানার যান্ত্রিক শব্দের কারণে স্থানীয় মানুষের ঘুম ব্যাহত হয় এবং মানসিক অবসাদ বা অ্যাংজাইটি বৃদ্ধি পায়।    পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন   এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর  এই দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন বাস্তবায়ন ও কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।পরিবেশগত ছাড়পত্র হালনাগাদ (Updated)  এবং ডাস্ট ফিল্টারগুলো শতভাগ সচল রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশালের অফিসকে ঘুষ দিয়ে ছাড়পত্র হালনাগাদের অভিযোগ রয়েছে।   পরিবেশ সংরক্ষণ আইন :    বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ (যা পূর্ববর্তী ১৯৯৭ সালের বিধিমালাকে প্রতিস্থাপন করেছে) অনুযায়ী সিমেন্ট কারখানার মতো লাল শ্রেণীভুক্ত (Red Category) শিল্পের জন্য কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীসহ এ জাতীয় ভারী শিল্পের দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান আইন ও নিয়মাবলী নিচে দেওয়া হলো: ১. পরিবেশগত ছাড়পত্র (Environmental Clearance Certificate - ECC): বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র: যেকোনো সিমেন্ট কারখানা স্থাপনের আগে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বাধ্যতামূলকভাবে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (EIA) অনুমোদন এবং অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয়। নবায়ন: প্রতি বছর এই ছাড়পত্র নির্দিষ্ট ফি দিয়ে নবায়ন করতে হয়। ছাড়পত্র ছাড়া কারখানা পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ।  ২. তরল বর্জ্য ও ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন: বাধ্যতামূলক ইটিপি: কারখানার ধোঁয়া বা ওয়াশিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি তরল বর্জ্য সরাসরি কীর্তনখোলা নদী বা বাইরের কোনো জলাশয়ে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পানি শোধন: কারখানায় নিজস্ব ইটিপি (ETP) থাকতে হবে এবং শোধন করা পানির মান পরিবেশ অধিদপ্তর নির্ধারিত প্যারামিটারের মধ্যে থাকতে হবে।  ৩. বায়ু দূষণ ও ডাস্ট কন্ট্রোল (Air Emission Standards): অনলাইন মনিটরিং: কারখানার চিমনি বা ক্লিংকার ক্রাশিং ইউনিট থেকে নির্গত ধোঁয়ার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে অনলাইন কন্টিনিউয়াস এমিশন মনিটরিং সিস্টেম (OCEMS) চালু রাখার নিয়ম রয়েছে। ডাস্ট কালেক্টর: কারখানায় আধুনিক 'ব্যাগ ফিল্টার' (Bag Filter) বা 'ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর' (ESP) ব্যবহার করতে হবে, যেন বাতাসে সিমেন্টের সূক্ষ্ম ডাস্ট কণা ছড়াতে না পারে। মুক্ত ডাস্ট ছড়ানো নিষিদ্ধ: কাঁচামাল আনলোড বা লোড করার সময় জেটি বা নদী তীরে কোনো উপাদান বাতাসে উড়তে পারবে না। ৪. শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা:  সিমেন্ট কারখানার ভারী যন্ত্রপাতির শব্দ দিনের বেলা ৭৫ ডেসিবেল এবং রাতের বেলা ৭০ ডেসিবেলের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। ৫. আইন অমান্যের শাস্তি ও জরিমানা: কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড: আইন লঙ্ঘন করে পরিবেশের ক্ষতি করলে বা ছাড়পত্র ছাড়া কারখানা চালালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা (অথবা উভয় দণ্ড) হতে পারে। ক্ষতিপূরণ (Compensation): পরিবেশের ক্ষতি করলে পরিবেশ অধিদপ্তর নিজস্ব মেজিস্ট্রেটের মাধ্যমে শুনানির আয়োজন করে কারখানাকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা করতে পারে এবং কারখানার গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আদেশ দিতে পারে।  খোজ নিয়ে জানা গেছে,এ্যাংকর সিমেন্টের ধুলা কনায় বায়ু মারাত্মকভাবে দুষিত হলেও বরিশালের পরিবেশ অধিদপ্তর নিশ্চুপ রয়েছে। এ ব্যাপারে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ৬ মাস আগে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে অভিযান পরিচালনা করে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।   ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত   এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীটি ভাড়া বা বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে পরিবেশগত ঝুঁকি ও আর্থিক দায়ের কারণে কেউ দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের অবস্থান নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের বিদেশে থাকার কথা বলা হলেও একাধিক সূত্র দাবি করছে, তারা দেশেই অবস্থান করছেন। সব মিলিয়ে, একসময় সফল শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এ্যাংকর সিমেন্ট এখন টিকে থাকার কঠিন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
এমভি মানিক লঞ্চ
চরমোনাই মাহফিলে ডুবে যাওয়া এমভি মানিক লঞ্চ ১২ দিন পর উদ্ধার, মালিকের খরচে অপারেশন সম্পন্ন

বরিশাল অফিস :   বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে চরমোনাই মাহফিলে এসে ডুবে যাওয়া এমভি মানিক লঞ্চটি ১২ দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই এলাকার নদী থেকে লঞ্চটি মালিক পক্ষের উদ্যোগে তুলে আনা হয়। নৌ-পুলিশ নিশ্চিত করেছে, পুরো উদ্ধার কার্যক্রমটি লঞ্চ মালিকের ব্যক্তিগত খরচে সম্পন্ন হয়েছে। বরিশাল সদর নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসিম কুমার সিকদার জানান, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি মালিক পক্ষ নিজ উদ্যোগেই উদ্ধার করেছে। ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল চরমোনাই মাহফিলে আসা এমভি মানিক মুন্সীগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে চরমোনাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভোরে যাত্রী নামানোর পর লঞ্চটি ঘাটে ফাঁকা অবস্থায় ছিল। স্থানীয় সূত্র বলছে, ভাটার সময় নদীর পানি কমে গেলে লঞ্চটির পেছনের অংশ ধীরে ধীরে হেলে পড়ে এবং একপর্যায়ে এটি ডুবে যায়। লঞ্চ সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঘাটে যথাযথভাবে বেঁধে না রাখার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এতে কোনো যাত্রী বা ক্রু ভেতরে না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। লঞ্চের ভেতরে থাকা কিছু মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চরমোনাই মাহফিলের মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, যাত্রী নামানোর পর লঞ্চটি ফাঁকা অবস্থায় ছিল এবং পানির স্তর কমে যাওয়ায় এটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়। বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, মালিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
কীর্তনখোলা ১০ লঞ্চ
চরমোনাইয়ে কীর্তনখোলা -১০ লঞ্চের কেবিনে আগুন

বরিশাল অফিস :   বরিশালে কীর্তনখোলা নদীতে নোঙর করে রাখা একটি বিলাসবহুল লঞ্চের কেবিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (১ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই সংলগ্ন এলাকায় নোঙর করা এমভি কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের তৃতীয় তলার একটি কেবিনে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লঞ্চটির ৩২৫ নম্বর কেবিন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্টাফরা দ্রুত সেখানে পৌঁছান। কেবিনটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় তারা জানালার গ্লাস ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, অগ্নিকাণ্ডে কেবিনের ভেতরের আসবাবপত্র, বিছানা, বালিশ, ফ্যান এবং যাত্রীদের কিছু মালামাল পুড়ে গেছে। তবে আশপাশের কেবিনগুলো অক্ষত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। লঞ্চটির ব্যবস্থাপক বেল্লাল হোসেন বলেন, “ঘটনার সময় কেবিনে কেউ ছিলেন না। স্টাফরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে।” তিনি আরও জানান, লঞ্চটি ঢাকা থেকে চরমোনাই মাহফিলে অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের বহন করে বরিশালে পৌঁছেছিল এবং মাহফিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নদীতেই নোঙর করে রাখা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা ছিল বলেও জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
রিংকন
বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে ‘পারাবাত-১৮’ লঞ্চের ধাক্কায় নৌকা ডুবি, দুই কৃষক আহত

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে ‘পারাবাত-১৮’ নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় একটি ছোট নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় রিংকন (২৭) ও হোসেন (৩৮) নামে দুই কৃষক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রিংকনের অবস্থা গুরুতর। জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরিশালের চরবাড়িয়া এলাকা থেকে কৃষি উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণ—সার, কীটনাশক ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে নৌকাযোগে নদী পার হচ্ছিলেন তারা। এ সময় ‘পারাবাত-১৮’ লঞ্চটি নৌকাটিকে ধাক্কা দিলে সেটি মুহূর্তেই ডুবে যায়। তবে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান দুই কৃষক। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। গুরুতর আহত রিংকনকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার বুকে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অপর আহত হোসেন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এদিকে নৌকায় থাকা সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কৃষি সামগ্রী নদীতে ডুবে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, লঞ্চটি নৌকাটিকে দেখতে পেলেও গতি কমায়নি এবং সতর্ক সংকেতও দেয়নি। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নদীপথে ছোট নৌকা ও বড় যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার এবং নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0