Brand logo light

কুমিল্লা

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধান
কুমিল্লায় ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়া কারাগারে: ধর্ষণ, গর্ভপাত ও ‘অপহরণ নাটক’ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলার পাশাপাশি ‘অপহরণ’ ও ‘অসুস্থতা’ ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন, যা এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে জিসানকে হাজির করা হয়। বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে তার মাথায় হেলমেট এবং শরীরে পুলিশি নিরাপত্তা ভেস্ট দেখা যায়। আদেশের পরপরই তাকে দ্রুত প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রতিবেদন কী বলছে? জিসানকে চার দিন ধরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেডিক্যাল বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে সুস্থ বলে মত দিয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চিকিৎসকদের মূল্যায়নে জিসানের শারীরিক অবস্থায় এমন কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি, যা হাসপাতালে রাখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। সেই ভিত্তিতেই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্রেপ্তারের পর থেকে জিসান নিজেকে অসুস্থ দাবি করে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন এবং সে কারণে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছিল পুলিশ। ‘অপহরণ’ না ‘আত্মগোপন’? ঘটনার আরেকটি বিতর্কিত দিক হলো জিসানের কথিত নিখোঁজ হওয়া। ১১ জুন রাতে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরদিন বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি ওঠে, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তে তারা অপহরণের কোনো প্রমাণ পায়নি। বরং জিসান স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে তাদের দাবি। পুলিশের ভাষ্যমতে, এক বিধবা নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক, পরবর্তীতে ওই নারীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়া এবং বিয়ের চাপ থেকে বাঁচতেই তিনি নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজান। পরে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে পরিবারের দাবি ছিল, তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। এই দুই বিপরীতমুখী বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী, সেটি এখনো তদন্তের বিষয়। ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্পর্কের একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হন। এরপর তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ে এড়াতেই জিসান আত্মগোপনে যান বলে দাবি পুলিশের। শুক্রবার রাতে উদ্ধার হওয়ার পর ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আদালতে আইনজীবীদের অভিযোগ জিসানের আইনজীবী মনির হোসেন দাবি করেছেন, আদালতে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারা হাসপাতালে রাখার আবেদন করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, ওকালতনামা সংগ্রহের জন্য তারা পুলিশ হেফাজতে থাকা জিসানের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া আদালতের আদেশের পর পুলিশ দ্রুত তাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন ঘটনার বিভিন্ন দিক সামনে আসার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন আলোচনায় রয়েছে— জিসান সত্যিই অপহরণের শিকার হয়েছিলেন, নাকি আত্মগোপনে ছিলেন? চিকিৎসাধীন থাকার প্রয়োজন ছিল কি না, সে বিষয়ে হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ ও তার দাবির মধ্যে এত পার্থক্য কেন? ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে? বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্কের প্রকৃত প্রকৃতি কী ছিল? মামলার অন্য আসামিদের ভূমিকা কী? এখন কী হবে? মামলার তিন আসামি—সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব হাসান—ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন। জিসানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর ফলে এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য জিজ্ঞাসাবাদের ওপর গুরুত্ব বাড়বে। একদিকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ, অন্যদিকে অপহরণ ও আত্মগোপনের পরস্পরবিরোধী বর্ণনা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন শুধু একটি ফৌজদারি মামলা নয়; বরং এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত, চিকিৎসা মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিকভাবে পরিচিত একজন নেতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বহুমাত্রিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে পরোয়ানা
তনু হত্যা মামলা: দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ইন্টারপোল রেড নোটিশের নির্দেশ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দীর্ঘ এক দশক ধরে দেশের অন্যতম আলোচিত ও রহস্যাবৃত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আলোচনায় থাকা সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। কুমিল্লার একটি আদালত দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং তাঁদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ। কারা এই দুই সাবেক সেনাসদস্য? আদালতের আদেশে যাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাঁরা হলেন তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান (জাহিদ) এবং সৈনিক শাহীন আলম। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদুজ্জামান ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটা এলাকায়। অন্যদিকে শাহীন আলম তখন ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আদালতের নির্দেশনায় কী আছে? মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সম্প্রতি আদালতে একটি আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ গ্রহণ এবং হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা নথি সেনাবাহিনীর কাছে থাকলে তা তদন্তকারী সংস্থাকে সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। আদালত ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরোয়ানা জারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলাটির শুনানির তারিখ থাকলেও আদালতের আদেশের অনুলিপি হাতে না পাওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারেননি। ডিএনএ বিশ্লেষণে নতুন তথ্য তদন্তে সম্প্রতি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা আলামতের ডিএনএ বিশ্লেষণে পূর্বে শনাক্ত তিনজনের পাশাপাশি আরও একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন করে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির রক্তের নমুনার সঙ্গে আলামত থেকে পাওয়া নমুনার মিল পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের মতে, এই তথ্য মামলার গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে সহায়ক হতে পারে। কারাগারে সাবেক সেনা কর্মকর্তা এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে সোমবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে উত্তরহীন প্রশ্ন ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে হত্যার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, প্রতিবাদ ও প্রশ্ন তৈরি হয়। বিভিন্ন সময় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। সাম্প্রতিক আদালতের নির্দেশনা, নতুন ডিএনএ তথ্য এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে প্রায় এক দশক ধরে আলোচিত এই মামলাটি আবারও নতুন করে জনমতের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এখন নজর থাকবে, নতুন তদন্ত তথ্য ও আইনগত পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত তনু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং বিচার নিশ্চিত করতে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে তার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
পুলটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে অচল পুল: ঝুঁকি নিয়ে চলাচল, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরসপুর গ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুল দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ছয়টি গ্রামের মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ হওয়া সত্ত্বেও পুলটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা। এলাকাবাসীর দাবি, কিছুদিন আগে পুলটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। এতে তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়। তবে অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং এরপর আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই পুল দিয়ে প্রতিদিন আমাদের বাজার, স্কুল ও হাসপাতালে যেতে হয়। কাজ শুরু হওয়ায় আমরা ভেবেছিলাম দ্রুত সমাধান হবে। কিন্তু হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা এখন হতাশ।” অন্য একজন ভুক্তভোগী জানান, “বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। জরুরি সময়ে রোগী নিয়ে যাওয়া খুব কষ্টকর হয়ে যায়।” বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এলাকাবাসী পুলটির নির্মাণকাজ পুনরায় চালু করে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
ন্যাড়া হলেন ১০ যুবক
বন্ধুর পাশে থাকতে ৯ যুবকের ন্যাড়া হওয়া: মুরাদনগরে ভাইরাল মানবিকতার গল্প

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কেবল আনন্দ ভাগাভাগি নয়, দুঃখের সময় পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয় মেলে—কুমিল্লার মুরাদনগরে এমনই এক ঘটনা স্পর্শ করেছে বহু মানুষের হৃদয়। উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার খৈয়াখালী বাজারের একটি সেলুনে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেখা যায় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। পরে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর গ্রামের সজীব নামের এক যুবক মাথার ত্বকের সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি নিজের মাথার চুল ফেলে ন্যাড়া হন। বিষয়টি জানার পর তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা একটি অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নেন। সজীব যাতে নিজেকে একা বা বিব্রত না মনে করেন, সেই লক্ষ্যেই একে একে নিজেদের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া হয়ে যান আরও নয়জন বন্ধু। এই বন্ধুদের মধ্যে রয়েছেন—কাইয়ুম মিয়া, মো. আলম, শরিফ, মো. মোমেন, মো. নাজিম, মো. শাহজালাল, মো. মাইনুদ্দিন, মো. সাদ্দাম ও মো. সাগর। বন্ধুরা জানান, এটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত একটি উদ্যোগ। তাদের ভাষায়, “সজীব যেন মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে, সে জন্যই আমরা সবাই একসঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” এই ঘটনাকে অনেকেই প্রকৃত বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার পাশাপাশি এটি মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবেও আলোচিত হচ্ছে। “বন্ধুর জন্য নিজের চেহারাও বদলে ফেলতে পারেন—মুরাদনগরের এই গল্প প্রমাণ করলো, সত্যিকারের বন্ধুত্ব এখনো বেঁচে আছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
দুই সাংবাদিককে হাতকড়া ,এসিল্যান্ডকে বদলি
চান্দিনায় সাংবাদিকদের হাতকড়া পরানোর ঘটনায় এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূর বদলি

ইত্তেহাদ  নিউজ: কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানোর ঘটনায় অভিযুক্ত এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূরকে স্ট্যান্ড রিলিজ দিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুরে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বরমান হোসেন। এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে চান্দিনা উপজেলা ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক মানবজমিনের দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ‘ফেস দ্য পিপল’ অনলাইন নিউজ পোর্টালের দেবিদ্বার প্রতিনিধি আব্দুল আলীম। কী ঘটেছিল সাংবাদিক আব্দুল আলীম অভিযোগ করেন, তার এক আত্মীয়ের নামজারি সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দপ্তরে যাতায়াতের পর নির্ধারিত শুনানির দিনে তিনি সহকর্মীকে নিয়ে ভূমি অফিসে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে আচরণ নিয়ে ভিডিও ধারণ করতে গেলে কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে পুলিশ ডেকে এনে তাদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানো হয়। আরও অভিযোগ আব্দুল আলীম আরও অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার পর তার মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে ভিডিও ও ছবি মুছে ফেলা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযুক্ত এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূরকে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ দিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুরে বদলি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
৫ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ
পাঁচ সিটি করপোরেশনে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ

বাংলাদেশে আরও পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা আগামীকাল থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। শনিবার প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বরিশাল, রাজশাহী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও রংপুর সিটি করপোরেশনে পাঁচজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া পাঁচজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতা। যাঁরা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী— বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মাহফুজুর রহমান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মো. ইউসুফ মোল্লা ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে রুকুনোজ্জামান রোকন রংপুর সিটি করপোরেশনে মাহফুজ উন নবী চৌধুরী তাদের সবাই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃস্থানীয় দায়িত্বে রয়েছেন। বিলকিস আক্তার জাহান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ)। মাহফুজুর রহমান রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মো. ইউসুফ মোল্লা কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া রুকুনোজ্জামান রোকন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এবং মাহফুজ উন নবী চৌধুরী রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব। মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন প্রশাসকেরা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪–এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (৩) অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। এখন পর্যন্ত ১১ সিটিতে প্রশাসক এই পাঁচজনকে নিয়োগের মাধ্যমে দেশে মোট ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রশাসকেরা দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচন শেষে নির্বাচিত মেয়রের কাছে তারা দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। এর আগে ছয় সিটিতে প্রশাসক এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দেশের আরও ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। সেগুলো হলো— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন – মো. আব্দুস সালাম ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন – মো. শফিকুল ইসলাম খান খুলনা সিটি করপোরেশন – নজরুল ইসলাম মঞ্জু সিলেট সিটি করপোরেশন – আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন – মো. সাখাওয়াত হোসেন খান গাজীপুর সিটি করপোরেশন – মো. শওকত হোসেন সরকার সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন আয়োজনের আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0