Brand logo light

গাজা যুদ্ধ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি: কেন রাজনৈতিক দুঃস্বপ্নে পড়েছেন নেতানিয়াহু, বদলে যাচ্ছে কি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য?

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সম্পাদিত শান্তিচুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনাকে ঘিরে যখন আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তির বার্তা ছড়িয়েছে, তখনই রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে চাপে পড়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা শুধু একটি যুদ্ধের অবসান নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির বড় ভুল? মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিভিন্ন বিশ্লেষণে ইরান যুদ্ধকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বড় কৌশলগত ভুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের দাবি, যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রতিপক্ষদের ওপর ভবিষ্যৎ প্রভাব বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে। যুদ্ধের সময় শত শত মানুষের প্রাণহানি, অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে গুরুতর বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ চাপে পড়ে। এ অবস্থায় উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা জোটও প্রশ্নের মুখে পড়ে। কিছু আরব দেশের নীতিনির্ধারকেরা নীরবে নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ খোঁজার চিন্তা করছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কী আছে শান্তিচুক্তিতে? চুক্তির খসড়ায় দুই পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে বলে জানা গেছে, যেখানে ১৪টি দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও পুরো নথি প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এতে রয়েছে— হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনা অব্যাহত রাখা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই সমঝোতাকে “চমৎকার শান্তি চুক্তি” এবং “উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সমাধান” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক্সে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই নিশ্চয়তাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তবে দেশটির জন্য বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। চুক্তির নেপথ্যে পাকিস্তানের ভূমিকা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, দুই দেশের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। তিনি জানান, এতে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আলোচনায় সহযোগিতার জন্য তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি "সম্পূর্ণ" হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কেন চাপে নেতানিয়াহু? বিবিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক লুসি উইলিয়ামসনের মতে, এই চুক্তি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের তিনটি মৌলিক ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে ওয়াশিংটনের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী একজন আঞ্চলিক কৌশলবিদ হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছেন। একই সঙ্গে ইরানকে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে তুলে ধরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছেন। কিন্তু নতুন চুক্তির ফলে সেই বয়ান বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, যদি ইরান আগের চেয়ে আরও প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে আসে, তাহলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কৌশল কতটা সফল ছিল? ইসরাইলে ক্ষোভ ও বিভক্তি চুক্তির ঘোষণার পর ইসরাইলজুড়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রকাশ্যে বলেন, "ট্রাম্পের চুক্তি মানতে আমরা বাধ্য নই।" অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচও চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি ইসরাইল ও পশ্চিমা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। লিকুদ পার্টির নেতারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইসরাইল নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা নেতানিয়াহুকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করছেন। মধ্য-বামপন্থী নেতা ইয়ার গোলান বলেছেন, এই চুক্তি ইরানবিষয়ক নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের নীতির ব্যর্থতার প্রতিফলন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও অভিযোগ করেছেন যে বর্তমান সরকার দেশকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষয়িষ্ণু সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইরান কি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠল? ইসরাইলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামো আরও কঠোরপন্থী নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বজায় রেখে তেহরান নতুন কৌশলগত সুবিধাও অর্জন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরাইলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইসরাইলকে তেহরানবিষয়ক কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিয়েছে। তার মতে, ভবিষ্যতে আরও বাস্তববাদী ও সংযত নীতি গ্রহণ ছাড়া বিকল্প খুব বেশি নেই। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতা যুদ্ধ শেষ হলেও সংকট শেষ হয়নি। গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রশ্ন এখনো বহাল রয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন হলো—নেতানিয়াহু কি নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন, নাকি এই চুক্তিই তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের মোড় ঘুরিয়ে দেবে? আগামী নির্বাচন সেই প্রশ্নেরই উত্তর দেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৬, ২০২৬ 0
স্বাধীন কমিশন না গড়ায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তেল আবিবে বিক্ষোভ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ নিরাপত্তা বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রায় তিন বছর পরও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নতুন করে জনঅসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শনিবার তেল আবিবের হাবিমা চত্বরে আয়োজিত এক বিক্ষোভে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সরকারবিরোধী কর্মীরা জবাবদিহি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, হামাসের হামলা ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্ত হয়নি। তাদের মতে, এই বিলম্ব শুধু সত্য উদঘাটনকে বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং রাজনৈতিক দায় এড়ানোর সুযোগও তৈরি করছে। ‘প্রশ্নের সংখ্যা বাড়ছে, উত্তর মিলছে না’ বিক্ষোভে বক্তব্য দেন আয়ালা মেটজগার, যার ৮০ বছর বয়সী শ্বশুর ইয়োরামকে ৭ অক্টোবর হামলার দিন অপহরণ করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে হামাসের বন্দিদশায় তার মৃত্যু হয়। আয়ালা বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের প্রশ্ন আরও বাড়ছে, কিন্তু উত্তর মিলছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের আইনি কাঠামোয় রাষ্ট্রীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনই সবচেয়ে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত ব্যবস্থা। এ ধরনের কমিশন প্রধান বিচারপতির মনোনীত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার কথা। ‘রাজনীতিবিদরা নিজেদেরই তদন্ত করবেন’ বিক্ষোভকারীদের প্রধান আপত্তি নেতানিয়াহু সরকারের প্রস্তাবিত বিকল্প তদন্ত কাঠামো নিয়ে। আয়ালার অভিযোগ, সরকারের প্রস্তাবিত কমিটিতে সদস্য নির্বাচন করবেন রাজনীতিবিদরাই। সেখানে ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হলেও বাস্তবে এটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে না। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল অংশগ্রহণ না করলে ক্ষমতাসীন পক্ষের প্রতিনিধিরাই কার্যত তদন্ত পরিচালনা করবেন। ফলে যাদের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে, তারাই নিজেদের কর্মকাণ্ডের বিচারক হয়ে উঠবেন। ব্যক্তিগত শোক থেকে রাজনৈতিক ক্ষোভ বিক্ষোভে আবেগঘন বক্তব্য দেন এরান লিটম্যান, যার ২৬ বছর বয়সী মেয়ে ওরিয়া হামাসের হামলার সময় নোভা সংগীত উৎসবে নিহত হন। তিনি বলেন, কট্টরপন্থা ও ধর্মীয় উগ্রতার সংঘাতের বলি হয়েছেন তার মেয়ে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের নীতিরও কঠোর সমালোচনা করেন। লিটম্যানের বক্তব্যে ব্যক্তিগত শোক, রাজনৈতিক হতাশা এবং চলমান যুদ্ধের প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তার ক্ষোভ সরকারের প্রতি, সাধারণ ধর্মপ্রাণ নাগরিক বা উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি নয়। নিরাপত্তা ব্যর্থতা নাকি রাজনৈতিক দায়? বিশ্লেষকদের মতে, ৭ অক্টোবর হামলা ইসরাইলের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামোর বড় ধরনের দুর্বলতা সামনে নিয়ে আসে। হামলায় শত শত মানুষ নিহত ও অপহৃত হওয়ার পর থেকেই স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠিত হলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত, গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহার এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতির ঘাটতি প্রকাশ্যে আসতে পারে। এ কারণেই তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভে উত্তেজনা, পুলিশের হস্তক্ষেপ সমাবেশ চলাকালে এক পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সরকার সমর্থক হাদার মাচতার বিক্ষোভস্থলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক সরকারবিরোধী ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং উভয় পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়। পরে তাদের বক্তব্য শুনে ছেড়ে দেওয়া হয়। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিক্ষোভ? ৭ অক্টোবর হামলার তদন্ত নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু নিরাপত্তা ব্যর্থতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ইসরাইলের রাজনৈতিক জবাবদিহি, বিচারিক স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায় নির্ধারণ ছাড়া জাতীয় ক্ষত নিরাময় সম্ভব নয়। অন্যদিকে সরকারপক্ষ রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি তদন্ত কাঠামোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন নিয়ে বিরোধ এখন ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৪, ২০২৬ 0
গাজায় ইসরাইলি হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত
গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি হামলা, নিহত ১০: ৩ হাজারের বেশি লঙ্ঘনের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : উত্তর গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার গভীর রাতে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, হামলার সময় আশপাশের একটি পার্কে কয়েকজন শিশু খেলছিল। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারগুলো সন্তানদের নিয়ে ঘর কিংবা অস্থায়ী তাঁবু ছেড়ে বাইরে বের হতেও আতঙ্ক বোধ করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, উত্তর গাজাজুড়ে এখনো অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামাস নেতার জানাজার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলা এই বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই গাজায় হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান মোহাম্মদ ওদেহের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার ইসরাইলি হামলায় তিনি নিহত হন। জানাজায় শত শত ফিলিস্তিনি অংশ নেন। ইসরাইল জানিয়েছে, হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গাজা সিটিতে চালানো হামলায় মোহাম্মদ ওদেহের স্ত্রী ও ছেলেও নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার সময় ওদেহ হামাসের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন। গত সপ্তাহে ইসরাইলি হামলায় নিহত ইজ আল-দিন আল-হাদ্দাদের পর তাকে হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ‘যুদ্ধ থামেনি, শুধু নাম বদলেছে’ ওদেহের স্বজন আবু আল-আব্দ ওদেহ সংবাদ সংস্থা Reuters-কে বলেন, গাজার বাস্তবতা এখনো ভয়াবহ। তার ভাষায়, “যুদ্ধ থেমে গেছে— এমন কথা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য যুদ্ধের কোনো বিরতি নেই। জীবনযাত্রার অবস্থারও কোনো উন্নতি হয়নি।” স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরাইল ৩ হাজারের বেশি বার লঙ্ঘন করেছে। ত্রাণ প্রবেশ নিয়েও বাড়ছে অভিযোগ গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় যে পরিমাণ ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা ছিল, বাস্তবে তার অল্প অংশ প্রবেশ করতে পেরেছে। বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গত ২২৭ দিনে যুদ্ধবিরতির ৩,০০৫টি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে গাজায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রবেশ করেছে মাত্র ৪৯ হাজার ৯৭৩টি। অর্থাৎ চুক্তি বাস্তবায়নের হার ৩৬ শতাংশেরও কম। নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের শঙ্কা ইসরাইল ও হামাস— উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ইসরাইল বলছে, হামাস অস্ত্র সমর্পণে রাজি না হওয়ায় সমঝোতা এগোচ্ছে না। অন্যদিকে হামাসের দাবি, ইসরাইল নিয়মিত হামলা চালানো এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করায় আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে বহাল থাকলেও গাজার বাস্তবতা এখনো যুদ্ধক্ষেত্রের মতোই রয়ে গেছে। নিহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় সংকটও ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৯, ২০২৬ 0
তিন বছর ধরে ঈদ নেই গাজায়
তিন বছর ধরে ঈদ নেই গাজায়: নেই কোরবানির পশু, ভেঙে পড়েছে পুরো অর্থনীতি: পশু প্রায় বিলুপ্ত,যুদ্ধ, অবরোধ ও খাদ্য সংকটে নেই উৎসবের আমেজও

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : বছরের এই সময়টাতে গাজার খামারগুলোতে থাকার কথা ছিল ঈদুল আজহার ব্যস্ততা। কোরবানির পশুর হাঁকডাক, পশু কেনাবেচা, বাজারের ভিড়—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু এখন সেই গাজায় নেই কোরবানির পশু, নেই উৎসবের আমেজও। যুদ্ধ, অবরোধ ও খাদ্য সংকটে টানা তৃতীয় বছরের মতো কার্যত থমকে গেছে ঈদুল আজহার প্রধান ধর্মীয় অনুষঙ্গ কোরবানি। গাজার পরিচিত পশু খামারি মাজেন আল-জেরজাউই একসময় ঈদের আগে শত শত ভেড়া ও গরু বিক্রি করতেন। এখন তিনি একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সেখানে পরিবেশিত খাবারের জন্যও তাকে নির্ভর করতে হচ্ছে সীমিত পরিমাণে প্রবেশ করা হিমায়িত মাংসের ওপর। গাজা সিটির বাসিন্দা জেরজাউই বলেন, “এই সময়ে আমি প্রায় ২০০টি ভেড়া ও গরু বিক্রি করতাম। এখন আমার কাছে একটি পশুও নেই। গাজায় জীবন্ত পশু ঢুকতেই দেওয়া হচ্ছে না।” তার ভাষায়, ইসরায়েলের কঠোর নিয়ন্ত্রণ গাজার মানুষকে এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে, যেখানে টিকে থাকাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। যুদ্ধের আগে বছরে আসত ৬০ হাজার পশু ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের আগে প্রতি বছর গাজায় ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ভেড়া ও বাছুর আমদানি হতো। স্থানীয় খামারগুলোও ছিল সক্রিয়। কোরবানির পশুকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল বড় একটি অর্থনৈতিক চক্র। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ ও অবরোধ পরিস্থিতি পুরো খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, গবাদিপশু খাতের ৯০ শতাংশের বেশি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। শুধু খামার নয়, ধ্বংস হয়েছে গোয়ালঘর, পশুখাদ্যের গুদাম, পশু চিকিৎসা কেন্দ্র এবং কৃষিভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থা। আকাশছোঁয়া পশুর দাম যুদ্ধের আগে গাজায় একটি ভেড়ার দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ ডলারের মধ্যে। বর্তমানে হাতে গোনা যে কয়েকটি পশু টিকে আছে, সেগুলোর দাম পৌঁছেছে প্রায় ৭ হাজার ডলারে। এই পরিস্থিতিতে অনেক প্রবাসী ফিলিস্তিনি এখনও গাজায় থাকা স্বজনদের নামে কোরবানি দিতে চাইছেন। তবে জেরজাউই তাদের নিরুৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, “একটি ভেড়ার পেছনে ২০ হাজার শেকেল খরচ করার চেয়ে সেই অর্থ দিয়ে একটি পরিবারের বিয়ের খরচ চালানো সম্ভব। এখন ৫০ কেজি হিমায়িত মাংস কিনে মানুষকে খাওয়ানোই বেশি বাস্তবসম্মত।” নিশ্চিহ্নের পথে গবাদিপশু জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরের মধ্যেই গাজার ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল মারা গেছে বা হত্যা করা হয়েছে। গাজার কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে যেখানে উপত্যকাটিতে প্রায় ৬০ হাজার ভেড়া ও ছাগল ছিল, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৩ হাজারে। গরু ও বাছুর প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাফাত আসালিয়া বলেন, “যে অল্পসংখ্যক পশু বেঁচে আছে, সেগুলো যাযাবর রাখালদের কাছে রয়েছে এবং ঈদের বাজারে আনার মতো পরিস্থিতি নেই।” তার মতে, পানির সংকট ও কৃষি অবকাঠামোর ধ্বংস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে এই খাত পুনরুদ্ধারের বাস্তব সম্ভাবনাও প্রায় নেই। বোমা হামলায় মারা গেছে পশু জেরজাউই জানান, যুদ্ধের মধ্যে পশু বাঁচিয়ে রাখাই হয়ে উঠেছিল অসম্ভব। তিনি বলেন, “পশুগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা পাস্তা পর্যন্ত খাইয়েছি। কিন্তু পাশের বাড়িতে বোমা হামলার পর আমার অনেক ভেড়া মারা যায়।” শুধু বোমা হামলাই নয়, বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনাও গবাদিপশু খাতকে চূড়ান্ত ধসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালানোর সময় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে কম দামে পশু বিক্রি বা জবাই করে দেয়। জেরজাউই বলেন, “প্রতিটি উচ্ছেদ আদেশের সঙ্গে সঙ্গে গাজায় গবাদিপশুর সংখ্যা কমে গেছে। শেষ পর্যন্ত মানুষ পরিবারকে বাঁচাবে, নাকি পশুর যত্ন নেবে—এই কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়েছে সবাই।” ‘কোরবানি ছাড়া ঈদ নেই’ গাজার সাধারণ মানুষের কাছেও ঈদের অনুভূতি এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। স্কুলশিক্ষক মুহাম্মদ আবু রিয়ালা বলেন, “মনে হচ্ছে আমরা তিন বছর ধরে ঈদই উদযাপন করছি না। কোরবানির আনন্দ, ভাগাভাগি করার অনুভূতি—সবকিছু হারিয়ে গেছে।” তিনি জানান, সংকট শুধু পশুর অভাবেই সীমাবদ্ধ নয়। বহু পরিবার এখন দৈনিক খাবার জোগাড় করতেই সংগ্রাম করছে। তার ভাষায়, “অনেকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত মাংসও খেতে পারেনি। গাজায় কী ঢুকবে, তা পুরোপুরি সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ফলে বাজারে জিনিসপত্রের দামও অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে।” খাদ্য সংকটে ১৬ লাখ মানুষ জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)-এর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ গাজার প্রায় ১৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিল। যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও মানবিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশে কড়াকড়ি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ হয়ে গেলে বাজার থেকে খাদ্যপণ্য প্রায় উধাও হয়ে যায়। ধসে পড়ছে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞদের মতে, গবাদিপশু খাত ধ্বংস হওয়ায় শুধু কোরবানির ঐতিহ্যই নয়, গাজার একটি বড় অর্থনৈতিক ভিত্তিও ভেঙে পড়ছে। মুহাম্মদ আবু রিয়ালা বলেন, “গবাদিপশু প্রবেশের অনুমতি থাকলে পশু চিকিৎসক, খামারি, কৃষক, কসাই ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা সবাই উপকৃত হতেন। কিন্তু পুরো সমাজকে অকার্যকর করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” গাজার বাস্তবতা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ঈদ মানে আর উৎসব নয়; বরং বেঁচে থাকার সংগ্রামের আরেকটি দিন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৬, ২০২৬ 0
গাজায় গণহত্যা
গাজায় গণহত্যার অভিযোগের মধ্যেও থামেনি অস্ত্র সরবরাহ, আইসিজের রায়ের পরও ইসরাইলকে সহায়তা ৫১ দেশের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক :  ২০২৪ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে, নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এর সামনে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকজন বিক্ষোভকারী। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শীত উপেক্ষা করে তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। তখন গাজায় যুদ্ধ চলছিল প্রায় ১০০ দিন ধরে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির দাবিতে তীব্র চাপ, আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দা এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ সত্ত্বেও ইসরাইল সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত, ২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ গাজায় নিহত হন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ এবং আহত হন অন্তত ১ লাখ ৭১ হাজার। এই সময়ের মধ্যেই ইসরাইলে অব্যাহতভাবে প্রবেশ করেছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আইসিজে গণহত্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করার পরও অন্তত ৫১টি দেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল থেকে ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। আইসিজের রায়ের পর বেড়েছে অস্ত্র আমদানি ইসরাইলের কর কর্তৃপক্ষের (আইটিএ) আমদানি তথ্য, শুল্ক নথি এবং তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সংগৃহীত রেকর্ড বিশ্লেষণ করে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইসরাইলে মোট ২ হাজার ৬০৩টি সামরিক সরঞ্জামের চালান পৌঁছেছে। এসব চালানের মোট মূল্য ছিল প্রায় ৩.২২ বিলিয়ন ইসরাইলি শেকেল, যা মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৮৮৫ মিলিয়ন ডলারের সমান। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো—এই চালানের ৯১ শতাংশই এসেছে আইসিজের রায়ের পরবর্তী সময়ে। অধিকাংশ সরঞ্জাম ছিল গোলাবারুদ, বিস্ফোরক এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত সামরিক উপকরণ। তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের জন্য সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। মোট সামরিক আমদানির ৪২ শতাংশের বেশি এসেছে দেশটি থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারত, যার অংশ প্রায় ২৬ শতাংশ। শীর্ষ পাঁচ সরবরাহকারীর তালিকায় আরও রয়েছে রোমানিয়া, তাইওয়ান ও চেক প্রজাতন্ত্র। প্রকাশ্য সমালোচনা, আড়ালে সরবরাহ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। যেসব দেশ প্রকাশ্যে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছে বা যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তাদের অনেকেই বাস্তবে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করেনি। চীন আইসিজের রায়কে স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু শুল্ক তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালেও দেশটি থেকে সামরিক চালান গেছে ইসরাইলে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করলেও, বাণিজ্য নথিতে দেখা যায় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। একইভাবে ব্রাজিলও আইসিজের পদক্ষেপকে “বাধ্যতামূলক” বলে উল্লেখ করেছিল। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দেশটি থেকেও কিছু সামরিক সরঞ্জাম ইসরাইলে গেছে। ‘গণহত্যা প্রতিরোধের দায়িত্ব আগে থেকেই শুরু হয়’ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গণহত্যার আশঙ্কা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরও অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক স্টিফেন হামফ্রেস এবং ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ডের অধ্যাপক গেরহার্ড কেম্প বলেছেন, গণহত্যা প্রতিরোধের দায়িত্ব কেবল চূড়ান্ত রায়ের পর শুরু হয় না; ঝুঁকির ইঙ্গিত দেখা দেওয়ার মুহূর্ত থেকেই রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব কার্যকর হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনও তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক প্যাট্রিক উইলকেন বলেন, “ইসরাইল একা এত বড় পরিসরের বোমাবর্ষণ পরিচালনা করতে পারত না। এর পেছনে বৈশ্বিক অস্ত্র সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় ভূমিকা রয়েছে।” বৈশ্বিক নীরবতার বাইরে সক্রিয় সহায়তা আল-জাজিরার অনুসন্ধান এমন এক বাস্তবতা সামনে এনেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক আদালতের সতর্কতা, মানবাধিকার উদ্বেগ এবং গণহত্যার অভিযোগের পরও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হয়নি। বরং বহু দেশ প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমালোচনা করলেও বাস্তবে সামরিক সহায়তা চালিয়ে গেছে। গাজা যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের একটি সংঘাত নয়—এই অনুসন্ধান দেখাচ্ছে, এটি একটি বৈশ্বিক অস্ত্র নেটওয়ার্কেরও প্রতিচ্ছবি; যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থেকেও বহু রাষ্ট্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
ইসরাইল
গাজা যুদ্ধের পর বিশ্বে সবচেয়ে নেতিবাচক ভাবমূর্তির দেশ ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রও নেমেছে ‘হুমকি রাষ্ট্র’ তালিকায়

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের মানুষের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা দেশ ইসরাইল। এর পরেই রয়েছে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরান। বিপরীতে সবচেয়ে ইতিবাচক ভাবমূর্তির দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালির নাম। গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক জনমত নিয়ে পরিচালিত নতুন আন্তর্জাতিক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস ২০২৬’ শীর্ষক এই সমীক্ষা পরিচালনা করেছে বৈশ্বিক জরিপ সংস্থা Nira Data। জরিপে বিশ্বের ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নিয়ে ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতা মতামত দিয়েছেন। একইসঙ্গে সংস্থাটির ‘গ্লোবাল ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’ জরিপে ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজার ১৪৬ জন নাগরিক নিজ নিজ দেশে গণতন্ত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। গাজা যুদ্ধের প্রভাব জরিপ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গাজায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান, ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা, খাদ্য ও মানবিক সহায়তায় অবরোধ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরাইলের ভাবমূর্তি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক আদালতগুলোও ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা অভিযানের পর বিশ্ব জনমতের পরিবর্তন দ্রুত দৃশ্যমান হয়। এতে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, গাজার অধিকাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় পড়েছে। জাতিসংঘের একাধিক বিশেষজ্ঞ ও গণহত্যা গবেষক পরিস্থিতিকে “গণহত্যাসদৃশ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিতেও বড় পতন সমীক্ষায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার নাটকীয় অবনতি। জরিপ অনুযায়ী, বৈশ্বিক জনমতের বিচারে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা পাঁচ দেশের একটি। এমনকি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার সূচকে দেশটি রাশিয়া ও চীনেরও নিচে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেট ইতিবাচক ধারণার স্কোর ছিল +২২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে -১৬ শতাংশে। মাত্র দুই বছরে ৩৮ পয়েন্ট পতনকে গবেষকেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর পররাষ্ট্রনীতি, ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা, আগ্রাসী শুল্কনীতি, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিতর্কিত অবস্থান, ইউক্রেনকে সহায়তা কমানো এবং ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরাইল জোটের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া বহু উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রকে এখন “বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি” হিসেবে দেখছেন। এ তালিকায় রাশিয়া ও ইসরাইলের পরই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উঠে এসেছে। ‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ অভিযোগ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে ইসরাইলের প্রতি ওয়াশিংটনের অব্যাহত সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘে ইসরাইলকে জবাবদিহি থেকে রক্ষা করা, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং মানবাধিকার প্রশ্নে নির্বাচিত অবস্থান নেওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে মার্কিন নীতিকে “দ্বৈত মানদণ্ড” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে অনেকের চোখে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর শুধু একটি বৈশ্বিক শক্তি নয়; বরং আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত রাজনীতিরও প্রতীক হয়ে উঠছে। গণতন্ত্র মূল্যায়নের নতুন ধারা ‘গ্লোবাল ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’ নিজেদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ষিক গণতন্ত্র জরিপ হিসেবে দাবি করেছে। বিশেষজ্ঞভিত্তিক রেটিংয়ের পরিবর্তে এই জরিপে সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গণতন্ত্রের মান মূল্যায়ন করা হয়। জরিপে যেসব সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— নির্বাচনী ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রাজনৈতিক বহুত্ববাদ নাগরিক শিক্ষা ক্ষমতার ভারসাম্য আইনের শাসন সরকারের স্বচ্ছতা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনীতি, যুদ্ধ এবং মানবাধিকার সংকট এখন শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়; বরং দেশগুলোর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
গাজার ধ্বংসস্তূপে এখনো চাপা ৮ হাজার মরদেহ
গাজার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে হাজারো মরদেহ, উদ্ধার থমকে সরঞ্জাম সংকটে

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : গাজা উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপের নগরী। স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসরাইলি হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের নিচে এখনো অন্তত ৮ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে। কিন্তু উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় সেসব মরদেহ বের করা সম্ভব হচ্ছে না। আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল বলেন, তাদের হাতে থাকা উদ্ধার সরঞ্জাম “পুরোনো ও অকার্যকর”। ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ সরানোর মতো সক্ষমতা বর্তমানে তাদের নেই। তার ভাষায়, “ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। প্রতিদিন নতুন নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।” ধ্বংসস্তূপে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বাড়ছে ইঁদুরের উপদ্রব গাজার মানবিক সংকট এখন শুধু খাদ্য ও চিকিৎসা ঘাটতিতে সীমাবদ্ধ নেই। সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকায় সেখানে ইঁদুর ও ক্ষতিকর প্রাণীর বিস্তার ঘটছে, যা নতুন জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। মাহমুদ বাসসালের অভিযোগ, ভারী উদ্ধারযন্ত্র গাজায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ইঁদুরনাশক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে ৬ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ জমে আছে। এর মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ৮১ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত দীর্ঘ সামরিক অভিযান, বিমান হামলা ও বিস্ফোরণে গাজার অবকাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী— ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে আরও প্রায় ৭৫ হাজার ভবন আংশিক বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত গাজার মোট অবকাঠামোর প্রায় ৮১ শতাংশ ক্ষতির মুখে পড়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পুরো গাজা পরিষ্কার ও পুনর্গঠনে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। নিহত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নিহতদের একটি বড় অংশ নারী ও শিশু। পশ্চিম তীরে সহিংসতা: ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পথে ইইউ এদিকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে সহিংস ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, হাঙ্গেরির নতুন সরকার এ বিষয়ে আর বাধা দেবে না বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই উদ্যোগ আটকে রেখেছিলেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অবস্থানে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। কাজা কালাস বলেন, “সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।” ইউরোপে বাড়ছে কঠোর অবস্থানের চাপ ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভাল্টোনেন পশ্চিম তীরে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেনডসেন আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এসব ঘটনায় কার্যত দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৫৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ জন এবং আটক হয়েছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল
ইসরাইলকে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে মার্কিন সিনেটে প্রস্তাব ব্যর্থ, তবু ‘টার্নিং পয়েন্ট’—ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ইসরাইলের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বন্ধের একটি প্রস্তাব ভোটে পাস না হলেও, মানবাধিকারকর্মীরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বুধবার অনুষ্ঠিত এই ভোটে ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের বড় অংশ প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৪০-৫৯ ভোটে তা নাকচ হয়ে যায়, কারণ সাতজন ডেমোক্র্যাট রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দেন। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি বার্নি স্যান্ডার্স। এতে ইসরাইলের কাছে সামরিক বুলডোজার বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই ফলাফল ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিঃশর্ত সমর্থনের মধ্যে ফাটলের ইঙ্গিত দেয়। শান্তিবাদী সংগঠন জাতীয় আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বন্ধু কমিটি-এর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক হাসান এল-তাইয়্যাব বলেন, “প্রস্তাবটি পাস না হলেও এটি দেখিয়েছে, সিনেটের অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট এখন ইসরাইলকে নিঃশর্ত সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করছেন।” তার মতে, এটি শুধু অস্ত্র বিক্রি নয়, বরং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের বিরুদ্ধেও একটি রাজনৈতিক বার্তা। এই ভোট এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্টডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করছেন, গাজা ও লেবাননে নগর ধ্বংসে বুলডোজার ব্যবহৃত হচ্ছে, যা তারা ‘জাতিগত নির্মূল’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। এদিন আরেকটি ভোটে ৩৬ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ইসরাইলের কাছে ১,০০০ পাউন্ড বোমা সরবরাহ বন্ধের পক্ষে ভোট দেন—যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ২০২৪ সালে এমন প্রস্তাবে সমর্থন ছিল ১৮টি, আর গত বছর ছিল ২৭টি। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় চলমান যুদ্ধ, দক্ষিণ লেবাননের ধ্বংসযজ্ঞ এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা—এই পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ। স্যান্ডার্স বলেন, “আমেরিকানরা চায় তাদের করের অর্থ দেশের ভেতরে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় হোক, মধ্যপ্রাচ্যে নিরীহ মানুষ হত্যায় নয়।” বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার ৮০ শতাংশ এবং ৫০ বছরের নিচে তরুণদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, শান্তির জন্য ইহুদি কণ্ঠস্বর-এর রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেন, “গাজায় সহিংসতা, লেবাননে বোমাবর্ষণ এবং ইরান ইস্যুর প্রেক্ষাপটে অস্ত্র সরবরাহের পক্ষে ভোট দেওয়া লজ্জাজনক।” তার মতে, সিনেটে ৪০টি সমর্থন ভোটই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের রাজনৈতিক ভিত্তিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ইত্তেহাদ  নিউজ
নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি থেকে অনিশ্চয়তার বাস্তবতা—ইসরাইল ছাড়ার নীরব স্রোত”

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :  মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিরাপত্তা বলয়ের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে থাকা ইসরাইল আজ এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি। একের পর এক সামরিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান-এর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, দেশটির অভ্যন্তরে এক নতুন ধরনের সংকট তৈরি করেছে—নাগরিকদের মধ্যে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান দেশত্যাগের প্রবণতা। এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই অদৃশ্য কিন্তু গভীর সংকটের চিত্র—যেখানে যুদ্ধক্ষেত্র শুধু সীমান্তে নয়, মানুষের মনেও।  যুদ্ধের ছায়ায় নাগরিক জীবন গাজা-কে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে যখন সরাসরি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে তেহরান এবং তেল আবিবের মধ্যে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা ইসরাইলি নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনকে অস্থির করে তুলেছে। সাইরেন, বাঙ্কার আর জরুরি সতর্কতা—এসব এখন নিয়মিত বাস্তবতা। কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটছে মানুষের সিদ্ধান্তে: “থাকা, না কি চলে যাওয়া?” দেশ ছাড়ার নীরব ঢল ইসরাইলি গণমাধ্যম এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশ ছাড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে দলে দলে দেশ ছাড়ছেন ইসরাইলিরা। চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ থেকে শুরু করে সমাজের উচ্চস্তরের মানুষও দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে মিসরের সীমান্তবর্তী তাবা এখন এক গুরুত্বপূর্ণ “এস্কেপ রুট” হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫টি ফ্লাইট অধিকাংশই পূর্ণ যাত্রীদের বড় অংশ ইসরাইলি নাগরিক সীমান্ত পার হয়ে অনেকে আশ্রয় নিচ্ছেন সিনাই অঞ্চলে। কিন্তু এই পালানোর পথও সহজ নয়। পারাপার ফি দ্বিগুণ যানবাহন খরচ ৫ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি হোটেল ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেশি অর্থাৎ, নিরাপত্তা কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। অভ্যন্তরীণ “নিরাপদ অঞ্চল” খোঁজা সবাই দেশ ছাড়তে পারছে না। অনেকেই দেশের ভেতরেই তুলনামূলক নিরাপদ জায়গা খুঁজছেন। দক্ষিণের ছোট শহর মিৎসপে রামন এখন তেমনই এক আশ্রয়স্থল। জনসংখ্যা: প্রায় ৬,০০০ আশ্রয় নিয়েছে: অতিরিক্ত ~৩,০০০ মানুষ তুলনামূলক কম সাইরেন স্থানীয় প্রশাসন বলছে, শহরটি “অস্থায়ী নিরাপত্তা অঞ্চল” হিসেবে কাজ করছে। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—এটি কতদিনের জন্য?  ‘ব্রেইন ড্রেইন’—অদৃশ্য সংকট সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি উঠে এসেছে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়।  মূল তথ্য: ২০২৩–২০২৪ সালে প্রায় ১ লাখ মানুষ দেশ ছেড়েছে প্রতি বছর গড়ে ~৫০,০০০ ৯৫০ জন চিকিৎসক দেশত্যাগ করেছেন উল্লেখযোগ্য অংশ: পিএইচডিধারী গবেষক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রকৌশলী প্রযুক্তিবিদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল “জনসংখ্যা হ্রাস” নয়—এটি মানবসম্পদের ক্ষয়। ৪০ বছরের বেশি বয়সি অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের দেশত্যাগ স্বাস্থ্যখাতের জন্য বড় আঘাত হতে পারে।  অর্থনীতি ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন নাগরিকদের দেশত্যাগ দীর্ঘমেয়াদে তিনটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে: স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা প্রযুক্তি ও গবেষণায় স্থবিরতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধাক্কা যে দেশটি নিজেকে “স্টার্টআপ নেশন” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই দেশই এখন মানবসম্পদ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বাস্তবতা বনাম রাষ্ট্রীয় বয়ান সরকারি বয়ানে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার কথা বলা হলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। সীমান্তে যুদ্ধ আকাশে হুমকি ভেতরে অনিশ্চয়তা এই তিনের সংমিশ্রণ তৈরি করছে এক নতুন বাস্তবতা—যেখানে “নিরাপত্তা” আর নিশ্চিত নয়। এক নীরব সংকটের দিকে এগোচ্ছে ইসরাইল? ইসরাইলের বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি যুদ্ধের চেয়েও গভীর এক সংকটের ইঙ্গিত দেয়—মানুষের আস্থা হারানো। যখন একটি রাষ্ট্রের নাগরিকরা নিরাপত্তার জন্য নিজ দেশ ছেড়ে যেতে শুরু করে, তখন সেটি শুধু সাময়িক আতঙ্ক নয়—এটি একটি কাঠামোগত সংকটের লক্ষণ। প্রশ্ন এখন একটাই:  এই স্রোত কি সাময়িক, নাকি ইসরাইল একটি দীর্ঘমেয়াদি “মানবিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের” পথে হাঁটছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ইরানে পারমাণবিক হামলা
ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা:জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকের পদত্যাগ

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি উঠেছে। মোহাম্মদ সাফা নামের ওই কর্মকর্তা সোমবার (৩০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্ট এবং দীর্ঘ চিঠিতে তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘প্যাট্রিয়টিক ভিশন’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংস্থাটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদা পেয়ে থাকে। ২০১৬ সালে তিনি জাতিসংঘে এই সংস্থার স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত হন। কী অভিযোগ করেছেন তিনি? পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে মোহাম্মদ সাফা দাবি করেন, জাতিসংঘের শীর্ষ পর্যায়ে একটি “শক্তিশালী লবি” সক্রিয় রয়েছে, যারা এমন একটি পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তেহরানের একটি ছবি যুক্ত করে তিনি বলেন, “মানুষ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছে না। জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।” তিনি সতর্ক করে দেন, তেহরান কোনো জনশূন্য এলাকা নয়—এখানে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের বড় শহরগুলোর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি হলে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কেমন হতো। কেন পদত্যাগ? নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এই তথ্য প্রকাশ করার জন্য আমি আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছি। মানবতাবিরোধী কোনো ঘটনার অংশ বা নীরব সাক্ষী থাকতে চাই না।” তিনি সম্ভাব্য “নিউক্লিয়ার উইন্টার”-এর আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন, যা বৈশ্বিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ মোহাম্মদ সাফা দাবি করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ভিন্নমত প্রকাশ করায় তিনি সমালোচনা ও অভিযোগের মুখে পড়েন। তার অভিযোগ, গাজা যুদ্ধের পর একটি বিশেষ গোষ্ঠী নতুন বিশ্বব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তিনি ও তার পরিবার হত্যার হুমকি পেয়েছেন এবং তথ্য সেন্সরশিপের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এবং পদত্যাগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি জাতিসংঘ। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরায়েল
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহার: আবাসিক এলাকায় হামলার অভিযোগ, যুদ্ধ আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে আবারও সাদা ফসফরাসযুক্ত অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইনের পরিপন্থী হতে পারে, বিশেষ করে যখন তা বেসামরিক এলাকায় প্রয়োগ করা হয়। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, তারা যাচাই করা একাধিক ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছে যে দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমর শহরের আবাসিক এলাকায় সাদা ফসফরাসযুক্ত গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আকাশে বিস্ফোরণের পর বিশেষ ধরনের ‘গাঁটের মতো’ ধোঁয়ার আকৃতি দেখা গেছে, যা এই অস্ত্র ব্যবহারের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। গবেষকদের মতে, M825-সিরিজের ১৫৫ মিমি আর্টিলারি শেল বিস্ফোরিত হলে এর ভেতরের সাদা ফসফরাসযুক্ত ফেল্টের টুকরোগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বলে ওঠে। এতে প্রায় ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ উৎপন্ন হয় এবং ঘন ধোঁয়া তৈরি হয়। সাধারণত সামরিক বাহিনী ধোঁয়ার আড়াল তৈরি, লক্ষ্য চিহ্নিত করা বা রাতের অন্ধকারে আলোকসজ্জার জন্য সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে থাকে। তবে বেসামরিক এলাকায় এর ব্যবহার অত্যন্ত বিতর্কিত। কারণ এটি মারাত্মক দগ্ধ সৃষ্টি করতে পারে, আগুন লাগাতে পারে এবং বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধ শুরুর সময় থেকেই দক্ষিণ লেবাননে এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে। পরবর্তীতে আরও অনেক ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের দাবি করা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, বাস্তবে এই ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ প্রায় ৮ লাখ মানুষ ওই এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য হওয়ায় অনেক ঘটনাই নথিভুক্ত হয়নি। নেদারল্যান্ডসের ডেলফট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক আহমদ বেইদাউন জানান, তিনি অক্টোবর ২০২৩ থেকে নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি সাদা ফসফরাস ব্যবহারের ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন। তার গবেষণায় দেখা গেছে— ৩৯% ঘটনা আবাসিক এলাকায় ১৭% কৃষিজমিতে ৪৪% বন বা খোলা জায়গায় তার মতে, ইসরায়েলি বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে গাছপালা পুড়িয়ে দৃশ্যমানতা বাড়াতে এই অস্ত্র ব্যবহার করে, যাতে কেউ আড়ালে লুকাতে না পারে। লেবাননের সংস্থা পাবলিক ওয়ার্কস স্টুডিওর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাদা ফসফরাস ব্যবহারের ফলে দক্ষিণ লেবাননের ২০০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। এর মধ্যে ৮৭৩ হেক্টর ঘন বনভূমি, যেখানে ইউক্যালিপটাস, ওক ও পাইন গাছের বিস্তৃত অঞ্চল ছিল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সাদা ফসফরাস মাটির নিচে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে কৃষকরা জমি খুঁড়লে তা আবার জ্বলে উঠতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে। মাটিতে ফসফরিক অ্যাসিড ও ক্যাডমিয়াম, সিসা ও দস্তার মতো ভারী ধাতু জমা হয়ে মাটির উর্বরতা কমিয়ে দেয় এবং কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক মুখপাত্র এসব অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাদা ফসফরাসযুক্ত ধোঁয়ার গোলা এবং অন্যান্য ধোঁয়ার গোলার মধ্যে দৃশ্যগত মিল থাকতে পারে, তাই শুধুমাত্র ভিডিও বা ছবি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতও এ বিষয়ে সরাসরি জবাব দেননি। তিনি দাবি করেন, বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা কমাতে ইসরায়েল সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মানুষকে স্থানান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছে। গবেষক বেইদাউনের মতে, এসব ঘটনার পেছনে একটি কৌশলগত উদ্দেশ্য থাকতে পারে—মানুষকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে সীমান্ত এলাকায় একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
১২৯ সাংবাদিক নিহত
বিশ্বে রেকর্ড ১২৯ সাংবাদিক নিহত ২০২৫ সালে, দুই-তৃতীয়াংশ মৃত্যুর জন্য ইসরায়েল দায়ী: সিপিজে

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ২০২৫ সালে কাজের সময় রেকর্ড ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের প্রাণ গেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন Committee to Protect Journalists (সিপিজে)-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সংবাদকর্মীদের প্রাণহানির রেকর্ড হয়েছে। ২০২৪ সালের মতো গত বছরও নিহত সাংবাদিকদের বড় একটি অংশের মৃত্যুর জন্য ইসরায়েল দায়ী। গাজা ও ইয়েমেনে ব্যাপক প্রাণহানি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে ৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হন। তাদের অধিকাংশই ছিলেন Gaza Strip-এর ফিলিস্তিনি সাংবাদিক। এছাড়া ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী Houthis পরিচালিত একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হন। সিপিজে জানায়, সাংবাদিকদের হতাহতের সংখ্যা নথিভুক্ত করার ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। সিপিজে যে ৪৭টি হত্যাকাণ্ডকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা বা ‘হত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তার ৮১ শতাংশের জন্যও ইসরায়েল দায়ী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গাজায় প্রবেশাধিকারে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় সাংবাদিকদের হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি। অতীতে তারা দাবি করেছে, গাজায় তাদের সেনারা কেবল যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করার ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকি থাকে। গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের ওই গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার দায় স্বীকার করে ইসরায়েল। সে সময় সেটিকে হুথিদের প্রচারণা শাখা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। কিছু ঘটনায় ইসরায়েল দাবি করেছে, গাজায় নিহত কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে Hamas-এর যোগাযোগ ছিল। তবে এ দাবির পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সিপিজে ইসরায়েলের এমন অভিযোগকে ‘ভয়াবহ অপবাদ’ বলে উল্লেখ করেছে। উল্লেখ্য, গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেয় না ইসরায়েল। ফলে সেখানে নিহত সব গণমাধ্যমকর্মীই ছিলেন ফিলিস্তিনি। অন্যান্য দেশে পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ১২৯ সাংবাদিকের মধ্যে অন্তত ১০৪ জন সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গাজা ও ইয়েমেনের বাইরে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী দেশগুলোর একটি ছিল Sudan, যেখানে ৯ জন নিহত হন। এছাড়া Mexico-তে ৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। Ukraine-এ রুশ বাহিনীর হাতে চারজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে Philippines-এ তিন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের নিশানা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং উল্টো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তুলেছে। যদিও কিয়েভ এ অভিযোগ নাকচ করেছে। প্রতিবেদনের বিষয়ে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাশিয়ার দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তিন দশকের তথ্যসংগ্রহ সিপিজে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিক হতাহতের তথ্য সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করছে। সংস্থাটির মতে, বর্তমানে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী যেকোনও দেশের সামরিক বাহিনীর তুলনায় সর্বোচ্চসংখ্যক নিশানাভিত্তিক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। বিশ্বব্যাপী সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সাংবাদিকদের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে—এমন উদ্বেগও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0