Brand logo light

চাঁদপুর

আনজুম রিয়াসাত
ডিওআইসিটির চাদপুরের সহকারি প্রোগ্রামার আনজুম রিয়াসাতের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি চাকরির কাঠামোতে “সহকারী প্রোগ্রামার” পদটি সাধারণত মাঝারি পর্যায়ের একটি প্রযুক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এই তুলনামূলক নিম্নপদস্থ অবস্থান থেকেই যদি কেউ বিশাল আর্থিক অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য করার মতো গুরুতর অভিযোগের কেন্দ্রে চলে আসে, তাহলে তা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়—কীভাবে এবং কার আশ্রয়ে? তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের (ডিওআইসিটি) সহকারী প্রোগ্রামার আনজুম রিয়াসাতকে ঘিরে ঠিক এমনই এক জটিল চিত্র সামনে এসেছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকার আত্মসাত, টেন্ডার কারসাজি, তথ্য ফাঁস এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার—এসব অভিযোগে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছেন তিনি। কিন্তু অভিযোগের গুরুত্ব সত্ত্বেও, প্রশাসনিক বদলি আদেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতে অবস্থান এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বহাল তবিয়তে থাকার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। চাকরিজীবনের সূচনা ও পরিচয়ের কৌশল ২০১৯ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরে সহকারী প্রোগ্রামার পদে যোগ দেন আনজুম রিয়াসাত। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পর থেকেই নিজের পরিচয় নির্মাণে তিনি একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেন—নিজেকে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের এক শীর্ষ নেতার ‘ভাগিনা’ হিসেবে উপস্থাপন করা। যদিও বাস্তবে সেই সম্পর্ক ছিল দূরবর্তী—তার মা এবং ওই নেতার মধ্যে ছিল সহপাঠীর সম্পর্ক—তবুও এই “ভাগিনা” পরিচয় দ্রুতই তাকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে আলাদা সুবিধা এনে দেয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এই পরিচয় ব্যবহার করেই তিনি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে সক্ষম হন। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলে তিনি দ্রুত নিজের অবস্থান শক্তিশালী করে তোলেন। এতে করে চাকরির শুরুর দিকেই তিনি এমন কিছু দায়িত্ব ও সুযোগ পান, যা সাধারণত এই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বিরল। প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের সূত্রপাত প্রাথমিক পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে করতেই আনজুম যুক্ত হন বিভিন্ন প্রকল্পে, বিশেষ করে ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পে অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর তার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সময় থেকেই তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা প্রদান এবং আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—টেন্ডার ডকুমেন্ট নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী তৈরি করা এবং গোপন দরপত্র তথ্য আগেই নির্দিষ্ট পক্ষকে সরবরাহ করা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলার লঙ্ঘন নয়, বরং সরাসরি দুর্নীতির আওতায় পড়ে। এই সময়েই তার বিরুদ্ধে প্রথম দফায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে এবং তাকে মূল কর্মস্থল চাঁদপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়। বদলি—কাগজে-কলমে, বাস্তবে নয় ২০২৩ সালের আগস্টে আনজুমকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হলেও, বাস্তবে তিনি খুব বেশি দিন রাজধানীর বাইরে থাকেননি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি আবার ঢাকায় ফিরে আসেন। একাধিক সূত্র জানায়, এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক তদবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও একই বছরের জুলাই মাসে আবারও তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়—দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তার ঘাটতি পূরণের অংশ হিসেবে—তবুও সেই নির্দেশও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, আনজুম নিয়মিতভাবে বদলি আদেশ উপেক্ষা করে ঢাকাতেই অবস্থান করেছেন। মাঝে মাঝে কর্মস্থলে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ফিরে আসা—এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক নজরদারি এড়িয়ে গেছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নতুন সুযোগ ২০২৪ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আনজুমের বিশ্ববিদ্যালয়-সংযোগের এক জুনিয়র গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত হন। এই সংযোগকে কাজে লাগিয়ে আনজুম আবারও ঢাকায় সংযুক্তিতে বদলি হন—এইবার জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে। এই পদায়নের মাধ্যমে তিনি আবারও রাজধানীকেন্দ্রিক প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে প্রবেশ করেন। শুধু তাই নয়, তার ঘনিষ্ঠ আরও কয়েকজন সহকর্মীকেও একইভাবে ঢাকায় আনার অভিযোগ রয়েছে। নেটওয়ার্ক গঠন ও প্রভাব বিস্তার ঢাকায় অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর আনজুম দ্রুতই একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ স্থাপন করে তিনি নিজেকে একটি “কেন্দ্রীয় ব্যক্তি” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজেকে বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের “মেন্টর” হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি আইসিটি অধিদপ্তরের বিভিন্ন ক্রয় কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো সামনে আসে, তার মধ্যে রয়েছে: টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া গোপন দরপত্র তথ্য ফাঁস প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এই কার্যক্রমগুলোতে তিনি একাধিক সহযোগীর সহায়তা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ ও দুদকের অনুসন্ধান ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আনজুম রিয়াসাতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়—তিনি বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ২০০ কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাত করেছেন, পাশাপাশি তথ্য পাচার এবং সীমাহীন দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ১২টি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়। তবে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সেই তথ্য এখনও দুদককে সরবরাহ করা হয়নি। এতে করে তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক সুরক্ষা ও অভিযোগ ধামাচাপা এই পুরো প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো—আনজুমকে রক্ষা করতে অধিদপ্তরের ভেতর থেকেই চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে অর্থ ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী: দুদকের চিঠির জবাব বিলম্বিত করা প্রশাসনিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখা বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা এই কর্মকাণ্ডগুলো শুধু একজন ব্যক্তিকে রক্ষা করা নয়, বরং পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বদলি এড়ানোর কৌশল দুদকের তদন্তের মুখে আনজুমকে আবার চাঁদপুরে বদলি করা হলেও, বাস্তবে তিনি সেখানে যোগ দেননি। বরং রাজধানীতেই অবস্থান করে বিভিন্ন মাধ্যমে আবার ঢাকায় স্থায়ীভাবে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজনৈতিক পরিচয় বদলের কৌশলও গ্রহণ করেছেন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। এই প্রক্রিয়ায় তার সহযোগী হিসেবে কয়েকজন সহকর্মীর নামও উঠে এসেছে, যারা প্রশাসনিকভাবে তাকে সহায়তা করছেন। সামগ্রিক বিশ্লেষণ আনজুম রিয়াসাতের ঘটনাটি একটি বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিফলন—যেখানে প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক একত্রে কাজ করে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে। এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে: কীভাবে একটি মাঝারি পর্যায়ের কর্মকর্তা এত বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মে জড়াতে পারেন? কেন বারবার বদলি আদেশ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি? প্রশাসনের ভেতরে কে বা কারা তাকে সুরক্ষা দিচ্ছেন? তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পেছনে কী কারণ?   দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য এবং প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক—এই তিনটি উপাদান একত্রে আনজুম রিয়াসাতকে একটি আলোচিত ও বিতর্কিত চরিত্রে পরিণত করেছে। এই ঘটনা শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়—দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান কতটা নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে এগোয়, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত দুর্নীতির ঘটনা নয়, বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হবে। আর যদি যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তা ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
বদরপুরে শুরু হওয়া হযরত শাহ সোলেমান লেংটার মেলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ
চাঁদপুরের বেলতলীতে হযরত শাহ সোলেমান লেংটার মেলা বন্ধ, খাদেম গুরুতর আহত

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :  চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বেলতলী এলাকার বদরপুরে শুরু হওয়া হযরত শাহ সোলেমান লেংটার মেলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। প্রশাসন থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি এমন অভিযোগে বুধবার (০১ এপ্রিল) বিকাল থেকে মেলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই সোমবার (৩০ মার্চ) থেকে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। মঙ্গলবার উদ্বোধনের দিনই মাদককে কেন্দ্র করে মেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে মাজারের প্রধান খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়াকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে মেলা বন্ধের আদেশ এলো। বুধবার রাতে মেলা বন্ধের তথ্য জানিয়েছেন মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জবীর হুসাইন সানীব। তিনি বলেন, ‌‘প্রশাসন থেকে মেলার কোনও অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তাই আজকের মধ্যেই মেলার কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মেলা বন্ধের জন্য ওই এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘মেলার আয়োজন করার কোনও অনুমতি প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়নি। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেলা বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে। যারা দূরদূরান্ত থেকে এসেছেন তারা রাতে যেতে না পারলে কাল সকালে চলে যাবেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ১০৭তম লেংটার ওরশ ও মেলার উদ্বোধন করা হয়। এর আগেই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার ভক্ত মেলায় জড়ো হন। বেলতলী লঞ্চঘাট থেকে সাদুল্ল্যাপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেলা বসে। অসংখ্য দোকানপাট সাজানো হয়েছে। তৈরি হয়েছে অস্থায়ী আস্তানা ও খানকা। মাজারসংলগ্ন এলাকায় চলছিল গান-বাজনা ও বিভিন্ন আয়োজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি ও সেবন, জুয়ার আসর এবং চাঁদাবাজি চলছে। পাশাপাশি কিছু স্থানে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে অশ্লীল নৃত্যসহ অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে। এ অবস্থায় মেলায় মাদক বিক্রি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে অনুমতি না দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেয় চাঁদপুর জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নামের একটি সংগঠন। এদিকে, শাহ সোলেমান লেংটার মাজারের প্রধান খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়াকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার বিকালে মেলার স্থলে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেলায় মাদক সেবন ও জুয়ার অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে কয়েকজন জুয়াড়ির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ওই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয়ের এক ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার মাথায় আঘাত করলে গুরুতর জখম হন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আনে। মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0