ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) নূর মোহাম্মদকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (২৭ জুন) রাতে পরিচালিত একটি অভিযানে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, "নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে জামালপুরে একটি মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" ডিবির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মামলার প্রকৃতি বা অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া অভিযানের সময় তার সঙ্গে অন্য কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানানো হয়নি। আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর গ্রেফতার এর আগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে নূর মোহাম্মদ, তার স্ত্রী রওশন আরা বেগম এবং ভাতিজা সাইফুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকার একটি আদালত। আদালতের ওই আদেশে তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তদন্তের পরবর্তী ধাপ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতারের পর নূর মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলার পাশাপাশি ‘অপহরণ’ ও ‘অসুস্থতা’ ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন, যা এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে জিসানকে হাজির করা হয়। বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে তার মাথায় হেলমেট এবং শরীরে পুলিশি নিরাপত্তা ভেস্ট দেখা যায়। আদেশের পরপরই তাকে দ্রুত প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রতিবেদন কী বলছে? জিসানকে চার দিন ধরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেডিক্যাল বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে সুস্থ বলে মত দিয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চিকিৎসকদের মূল্যায়নে জিসানের শারীরিক অবস্থায় এমন কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি, যা হাসপাতালে রাখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। সেই ভিত্তিতেই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্রেপ্তারের পর থেকে জিসান নিজেকে অসুস্থ দাবি করে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন এবং সে কারণে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছিল পুলিশ। ‘অপহরণ’ না ‘আত্মগোপন’? ঘটনার আরেকটি বিতর্কিত দিক হলো জিসানের কথিত নিখোঁজ হওয়া। ১১ জুন রাতে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরদিন বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি ওঠে, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তে তারা অপহরণের কোনো প্রমাণ পায়নি। বরং জিসান স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে তাদের দাবি। পুলিশের ভাষ্যমতে, এক বিধবা নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক, পরবর্তীতে ওই নারীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়া এবং বিয়ের চাপ থেকে বাঁচতেই তিনি নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজান। পরে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে পরিবারের দাবি ছিল, তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। এই দুই বিপরীতমুখী বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী, সেটি এখনো তদন্তের বিষয়। ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্পর্কের একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হন। এরপর তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ে এড়াতেই জিসান আত্মগোপনে যান বলে দাবি পুলিশের। শুক্রবার রাতে উদ্ধার হওয়ার পর ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আদালতে আইনজীবীদের অভিযোগ জিসানের আইনজীবী মনির হোসেন দাবি করেছেন, আদালতে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারা হাসপাতালে রাখার আবেদন করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, ওকালতনামা সংগ্রহের জন্য তারা পুলিশ হেফাজতে থাকা জিসানের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া আদালতের আদেশের পর পুলিশ দ্রুত তাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন ঘটনার বিভিন্ন দিক সামনে আসার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন আলোচনায় রয়েছে— জিসান সত্যিই অপহরণের শিকার হয়েছিলেন, নাকি আত্মগোপনে ছিলেন? চিকিৎসাধীন থাকার প্রয়োজন ছিল কি না, সে বিষয়ে হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ ও তার দাবির মধ্যে এত পার্থক্য কেন? ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে? বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্কের প্রকৃত প্রকৃতি কী ছিল? মামলার অন্য আসামিদের ভূমিকা কী? এখন কী হবে? মামলার তিন আসামি—সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব হাসান—ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন। জিসানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর ফলে এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য জিজ্ঞাসাবাদের ওপর গুরুত্ব বাড়বে। একদিকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ, অন্যদিকে অপহরণ ও আত্মগোপনের পরস্পরবিরোধী বর্ণনা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন শুধু একটি ফৌজদারি মামলা নয়; বরং এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত, চিকিৎসা মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিকভাবে পরিচিত একজন নেতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বহুমাত্রিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বরিশাল অফিস : বরিশালে একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে মানব পাচার ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) মিডিয়া সেল জানিয়েছে, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল গত ১৮ মে রাত প্রায় ১০টার দিকে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানার পোর্ট রোড এলাকার আবাসিক হোটেল ‘পপুলার’-এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. জাফর হোসেন (৩৫), মো. আল আমিন বেপারী (৩০), মো. শাওন সিকদার (২১), মোসা. সুমাইয়া ইসলাম (২২), মিঠুন দেবনাথ (২৮) এবং মোসা. রুনা আক্তার (২২)। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে হোটেলের কাউন্টার ও বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করা হয়। এ সময় পতিতাবৃত্তি ও দেহ ব্যবসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের যোগসাজশে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও ভবনে গোয়েন্দা বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিএমপি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামে ক্রিস্টাল মেথ বা ‘আইস’ বিক্রির সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এর আগে সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় নগরীর ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন ফিনলে স্কয়ারের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—২৭ বছর বয়সী মো. সাজ্জাদুর রহমান সাকিব এবং ২৬ বছর বয়সী মো. আবু ফয়সাল। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সাকিব ফটিকছড়ি থানার জামায়াত ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের অফিস সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন ফটিকছড়ি থানা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, “সাকিবের সঙ্গে দলের কোনো বর্তমান সম্পৃক্ততা নেই। কলেজ জীবনে তিনি শিবিরের রাজনীতি করলেও বর্তমানে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন এবং তার কোনো পদও নেই।” পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির উত্তর বিভাগের একটি দল ফিনলে স্কয়ারের সপ্তম তলায় অভিযান চালায়। এ সময় দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ১৭৫ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ উদ্ধার করা হয়, যা একটি বায়ুরোধক পলিপ্যাকে সংরক্ষিত ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, তারা ওমানে অবস্থানরত এক মাদককারবারি চক্রের মাধ্যমে এসব মাদক সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিল। ঘটনাটি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পিরোজপুর : পিরোজপুরে চুরির অভিযোগে আটক এক অস্থায়ী কেয়ারটেকারকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের দাবি, তাকে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভুক্তভোগী মো. ইউনুস ফকির (৪০) পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি পুলিশ অফিসার্স মেসে অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তার কক্ষ থেকে টাকা চুরির অভিযোগ তুলে ইউনুস ফকিরকে আটক করা হয়। কক্ষের একটি চাবি তার কাছে থাকায় তাকে সন্দেহ করা হয়। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাকে হাতকড়া পরিয়ে মারধর করা হয় বলে দাবি পরিবারের। তাদের ভাষ্য, নির্যাতনের অংশ হিসেবে ইউনুসকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয় এবং গরম মোম গলিয়ে শরীরের সংবেদনশীল স্থানে ঢেলে দেওয়া হয়। চিৎকার করলে তার মুখে লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবার আরও জানায়, পরে তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ‘প্রকৃত অভিযুক্ত শনাক্ত’ ঘটনার কয়েকদিন পর নতুন মোড় আসে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মেসের এক ঝাড়ুদার শাকিল চুরির কথা স্বীকার করেন এবং টাকা ফেরত দেন বলে জানানো হয়েছে। এরপর ইউনুসের পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়। ‘ধামাচাপার চেষ্টা’ অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি গোপন রাখতে ইউনুসকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয় এবং তাকে নিজের আঘাত সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিতে চাপ দেওয়া হয়। এমনকি খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরও একই ধরনের বক্তব্য দিতে বলা হয়েছিল বলে দাবি তাদের। ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, “আমার ভাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। পুলিশের ভয়ে আমরা কোনো অভিযোগ করতে পারিনি।” পুলিশের প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মকর্তা সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি ছুটিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সহ তিনজনকে ক্লোজড করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রেক্ষাপট ও প্রশ্ন বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি আবারও মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখন মূল প্রশ্ন—অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার কতটা নিশ্চিত করা যায়, এবং ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাবেন কি না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরে এক কেয়ারটেকারের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে নীরবতা, প্রশ্ন আর শঙ্কা—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একাধিক সদস্য। ভুক্তভোগীর দাবি, একটি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, এমনকি তার পুরুষাঙ্গ ঝলসে দেওয়া হয়েছে। অথচ পরবর্তীতে চুরির ঘটনায় অন্য একজনের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার সূত্রপাত ভুক্তভোগী মো. ইউনুস ফকির (৪০), যিনি দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর পুলিশ লাইন্স এলাকায় কর্মকর্তাদের মেসে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন, জানান—১৩ এপ্রিল দুপুরে হঠাৎ করেই ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম তার কাছে থাকা কক্ষের একটি চাবি ফেরত চান। চাবিটি দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ আনা হয়। ইউনুস অভিযোগ অস্বীকার করলে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। তার ভাষ্যমতে, তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে কয়েকজন ডিবি সদস্য মিলে মারধর শুরু করে। পরে আরও সদস্য এসে নির্যাতনে যোগ দেয়। নির্যাতনের বর্ণনা ইউনুসের অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে শারীরিকভাবে মারধরের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। চিৎকার ঠেকাতে মুখে লাঠি চেপে ধরা হয়। একপর্যায়ে তাকে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে টাকা জোগাড়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরিবার সময় চাইলে আবার তাকে মেসে ফিরিয়ে এনে নির্যাতন চালানো হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি আসে পরে—ডিবি সদস্য কাওসারের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে তার পুরুষাঙ্গে গলিত মোমবাতি ফেলে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে নির্যাতন করে। এই বর্ণনা শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে। চুরির রহস্য উন্মোচন ঘটনার একপর্যায়ে ইউনুসকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী-এর কাছে নেওয়া হয়। তিনি বিষয়টি শোনার পর মেসের আরেক কর্মী শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকেন। জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল চুরির কথা স্বীকার করলে পুলিশ টাকা উদ্ধার করে। ইউনুসের কাছ থেকে নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়। চিকিৎসা ও গোপনীয়তার অভিযোগ নির্যাতনের পর ইউনুস চিকিৎসা নিতে চাইলে তাকে প্রথমে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তার প্রকৃত আঘাতের কথা চিকিৎসকদের জানাতে দেওয়া হয়নি। পরে খুলনার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাধ্য করা হয় ভিন্ন গল্প বলতে—যেন তিনি নিজেই নিজের ক্ষতি করেছেন। নীরব প্রশাসন, অজানা ভবিষ্যৎ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম ছুটিতে আছেন বলে জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীর মানসিক অবস্থা ও দাবী এই ঘটনার পর ইউনুস মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পুলিশের ভয়ে তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করতে পারেননি। তার পরিবার জানায়, “কর্মসংস্থান নয়, আমরা চাই সুষ্ঠু বিচার।” প্রশ্নগুলো রয়ে যায় এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে— আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে জবাবদিহিতা কতটা কার্যকর? নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগের পরও কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ রয়েছে? এই ঘটনা শুধু একটি নির্যাতনের গল্প নয়—এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, ন্যায়বিচারের অনিশ্চয়তা এবং ভয়ের সংস্কৃতির একটি প্রতিচ্ছবি। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত আদৌ হয় কি না, নাকি এটি আরেকটি চাপা পড়ে যাওয়া গল্প হয়ে থাকবে। এদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম ছুটিতে আছেন বলে জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাজীপুর জেলা প্রশাসকের একটি তীক্ষ্ণ সিদ্ধান্ত—আর তাতেই ভেস্তে গেল ৭৫ কোটি টাকার এক সুপরিকল্পিত প্রতারণা। উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার ছদ্মবেশে পরিচালিত এই চক্রটি শুধু একটি আর্থিক জালিয়াতির চেষ্টা করেনি, বরং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোকেই ব্যবহার করতে চেয়েছিল তাদের অপরাধ ঢাকতে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক বিস্তৃত প্রতারণা নেটওয়ার্কের চিত্র, যার শিকড় ছড়িয়ে আছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। ছদ্মবেশে প্রবেশ, লক্ষ্য কোটি টাকা বুধবার দুপুর। নিয়মিত কাজের ব্যস্ততার মধ্যেই গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে দুই ব্যক্তি। নিজেদের পরিচয় দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে। পোশাক-আশাক, আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি—সব মিলিয়ে প্রথম নজরে সন্দেহের অবকাশ কমই ছিল। তারা জেলা প্রশাসকের সামনে উপস্থাপন করে দুটি ‘সম্মতিপত্র’। কাগজে ছিল না কোনো স্বাক্ষর, অথচ দাবি—তাৎক্ষণিক অনুমোদন দরকার। প্রস্তাবটি ছিল চমকে দেওয়ার মতো: ৬৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ ১০ কোটি টাকা ‘সার্ভিস চার্জ’ মোট দায়: ৭৫ কোটি টাকা পরিশোধের শর্ত: মাত্র ১৮ মাসে ১৫০ কোটি টাকা এই অস্বাভাবিক আর্থিক কাঠামোই তৈরি করে প্রথম সন্দেহ। সন্দেহ থেকে পদক্ষেপ: মুহূর্তেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট জেলা প্রশাসক পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করেন দ্রুত। কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে সময় নিয়ে তিনি ওই দুই ব্যক্তিকে আটকে রাখেন এবং গোপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এসে তাদের গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য এবং এর পেছনে রয়েছে আরও কয়েকজন সক্রিয় সহযোগী। মধ্যরাতে অভিযান: গুলিস্তান থেকে গ্রেফতার আরেক সদস্য পরদিন গভীর রাতে ঢাকার গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় চক্রের আরেক সদস্যকে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে চালানো হয় তল্লাশি। জব্দ করা হয়: ব্ল্যাংক চেক স্ট্যাম্প পেপার ভুয়া চুক্তিপত্র গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি এই আলামতগুলো প্রমাণ করে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। চক্রের বিস্তার: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিকড় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা দেশের ভিন্ন ভিন্ন জেলার বাসিন্দা: লক্ষ্মীপুর কুমিল্লা বগুড়া পলাতক সদস্যদের বাড়ি রংপুর ও ভোলায়—যা ইঙ্গিত দেয় একটি বিস্তৃত ও সমন্বিত নেটওয়ার্কের দিকে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এরা কেবলমাত্র একটি বড় চক্রের অংশ, যারা সরকারি পরিচয়, জাল কাগজপত্র এবং প্রভাব খাটিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রতারণার কৌশল: বিশ্বাসযোগ্যতার আবরণ চক্রটির কার্যপদ্ধতি ছিল সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিত: সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার জরুরি সিদ্ধান্তের চাপ সৃষ্টি বড় অঙ্কের লেনদেনের লোভ দেখানো জাল দলিল ও ব্ল্যাংক চেকের ব্যবহার এই কৌশলগুলো সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও বিভ্রান্ত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। প্রশাসনের সতর্কবার্তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। তারা এখন আরও সদস্য শনাক্ত ও গ্রেফতারে কাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা: “যে কোনো আর্থিক প্রস্তাব বা উচ্চপর্যায়ের পরিচয় যাচাই ছাড়া গ্রহণ করবেন না।” বিশ্লেষণ: কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? এই ঘটনা শুধু একটি প্রতারণা রোধের গল্প নয়—এটি দেখায়: প্রশাসনিক সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়ের অপব্যবহার কতটা ভয়ংকর হতে পারে সংগঠিত প্রতারণা কতটা পেশাদার হয়ে উঠেছে যদি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়ে যেত, তবে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারত। গাজীপুরের এই ঘটনা একটি বড় সতর্ক সংকেত। প্রযুক্তি, তথ্য আর ভুয়া ক্ষমতার মিশেলে প্রতারক চক্রগুলো দিন দিন আরও কৌশলী হয়ে উঠছে। তবে একই সঙ্গে এটি একটি ইতিবাচক উদাহরণও—সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত কিভাবে একটি বড় বিপর্যয় ঠেকাতে পারে। এই ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। সামনে হয়তো আরও বিস্ময়কর তথ্য উঠে আসবে—যা উন্মোচন করবে দেশের আর্থিক প্রতারণার অন্ধকার জগতের আরও গভীর স্তর।
ঢাকা: সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও তিন তারকা জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গভীর রাতের অভিযানে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।পাঁচদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত। ডিবি সূত্র জানায়, রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে সোমবার গভীর রাতে তাকে আটক করা হয়। পরে পল্টন থানায় দায়ের হওয়া মানবপাচার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট ১১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফেনী জেলায় তিনটি মামলা বিচারাধীন এবং এসব মামলায় তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া ফেনীতে আরও তিনটি এবং ঢাকা মহানগর পুলিশে পাঁচটি মামলাসহ মোট আটটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্ত করছে। ওয়ান ইলেভেনের আলোচিত কর্মকর্তা ২০০৭ সালের ‘ওয়ান ইলেভেন’-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে আলোচিত সামরিক কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। সে সময় তিনি নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং পরে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। তিনি ‘গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সমন্বয়ক ছিলেন, যার মাধ্যমে যৌথবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ওই সময় শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদ এবং দুর্নীতির মামলায় জড়ানোর ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে তথাকথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ নিয়ে বিতর্কে তার নাম সামনে আসে, যেখানে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিতর্ক ও অভিযোগ ওয়ান ইলেভেনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে তারেক রহমানের ওপর গোয়েন্দা হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এখনো রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। অবসরের পর তিনি জনশক্তি রফতানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কারসাজি এবং প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ২৫ আগস্ট তাকে সহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে সিআইডি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কর্মজীবন ও রাজনৈতিক অধ্যায় ১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়ে ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন। অবসরের পর ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ২০০৬ সালের শেষ দিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি এবং ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির ঘটনাপ্রবাহ ‘ওয়ান ইলেভেন’ নামে পরিচিতি পায়। সেই সময় সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। বর্তমান অবস্থা বর্তমানে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ডিএমপির পল্টন থানায় হওয়া মানবপাচার মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রাজধানীর পল্টন থানায় করা মানবপাচার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও এক/এগারোর আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পাঁচদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিকে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। যদিও মামলার তদন্তের স্বার্থে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। এর আগে সোমবার (২৩ মার্চ) গভীর রাতে ডিবির একটি বিশেষ দল রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবপাচার, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, হত্যাসহ ঢাকায় পাঁচ এবং ফেনীতে ছয়টি মামলা রয়েছে। ফেনীর একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। /এগারো সরকারের সময় প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।অবসর পরবর্তীকালে জনশক্তি রপ্তানি খাতে যুক্ত থেকে মানবপাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলাটি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার সঙ্গে জড়িত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের এক সহকারী প্রোগ্রামারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম। তবে তার সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় দলটির পক্ষ থেকে হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বিষয়টি সাইবার অপরাধসংক্রান্ত হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব ডিবিকে দেওয়া হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। ডিবিপ্রধান আরও জানান, এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে এবং মামলাটি নিবিড় তদন্তের জন্য ডিবির কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় আটক ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কম্পিউটারের হার্ডডিস্কসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এসব আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। আটক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ছরওয়ারে আলমের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়। এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি আপত্তিকর মন্তব্যের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে সেই পোস্টটি অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সাইবার হামলার মাধ্যমে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে এবং এটি জামায়াত আমিরের বক্তব্য নয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।