Brand logo light

তদন্ত প্রতিবেদন

নিহত মোতালেব
ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যা: পাঁচ লাখ টাকার বিরোধ, তোশকে মোড়ানো মরদেহ ও পলাতক অংশীদার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পাঁচ লাখ টাকার ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়িক অংশীদার মোতালেব (৬৫)-কে বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ তোশকে মুড়িয়ে একটি ইজিবাইকে করে সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে একটি গ্যারেজের মহাজন ও এক ইজিবাইক চালককে আটক করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত হিসেবে যাঁর নাম উঠে এসেছে, সেই জাকির হোসেন সপরিবারে পলাতক রয়েছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় ঘটে। নিহত কে? নিহত মোতালেব লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে ফতুল্লার মাসদাইর কবরস্থান এলাকার ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসদাইর বাজারে তিনি বইয়ের দোকানের পাশাপাশি বিকাশের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। একই ব্যবসার সূত্রে জাকির হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় এবং পরে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা শুরু হয়। পাঁচ লাখ টাকার বিরোধ পরিবারের অভিযোগ, ব্যবসায়িক লেনদেনে জাকির হোসেনের কাছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পাওনা ছিল মোতালেবের। সেই টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে বাসায় ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। যেভাবে সামনে আসে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একটি গ্যারেজ থেকে একটি ইজিবাইক বের করা হয়। ভোরে বিষয়টি নিয়ে গ্যারেজ মালিক সোহেল মিয়া ও চালক ফারুকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয়। এর কিছু সময় পর সড়কের পাশে তোশকে মোড়ানো একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা গ্যারেজ মহাজন সোহেল মিয়া ও ইজিবাইক চালক ফারুককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ইজিবাইক চালকের দাবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইজিবাইক চালক ফারুক দাবি করেন, গভীর রাতে জাকির হোসেন তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। ফারুকের ভাষ্যমতে, জাকির তাকে বলেন, একটি তোশকে পোকার আক্রমণ হয়েছে এবং সেটি ফেলে দিতে হবে। প্রথমে তিনি রাজি না হলেও পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সম্মত হন। পরে জাকিরের বাসার সামনে থেকে তোশকটি ইজিবাইকে তুলে কিছু দূরে সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে তিনি টাকা নিয়ে চলে যান বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন। সিসিটিভিতে যা দেখেছে পুলিশ ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জাকির হোসেন হাসিমুখে মোতালেবের কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে একই রাতে ওই বাসা থেকে একটি তোশক ইজিবাইকে তুলে নেওয়া হয়। আরেকটি ফুটেজে একই ইজিবাইক চালককে আরও দুজনের সহায়তায় সড়কের পাশে তোশকটি ফেলে দিতে দেখা গেছে বলে দাবি পুলিশের। উদ্ধার হওয়া আলামত পুলিশ জানিয়েছে, জাকির হোসেনের বাড়ির পেছন থেকে নিহত মোতালেবের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব আলামত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। তদন্তের বর্তমান অবস্থা পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন সপরিবারে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার পরিকল্পনা এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এদিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
বেনাপোল কাস্টমসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাই বরখাস্ত
বেনাপোল কাস্টমসে ত্রাণ ভাণ্ডারের নামে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন: ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত, কোটি টাকার মালামাল জব্দ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যশোরের শার্শার বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে পণ্য পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কাস্টমসের নির্ধারিত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের অভিযোগে দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, একই ঘটনায় বিজিবির অভিযানে প্রায় ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ এবং একজন রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভিতে ধরা পড়া মধ্যরাতের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুন গভীর রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার গুদাম থেকে একটি গাড়িতে একাধিক বস্তা ও প্যাকেজ মালামাল তোলা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া লোডিং কার্যক্রম প্রায় ২৩ মিনিট ধরে চলে। এরপর রাত ১১টা ৫৮ মিনিট থেকে ১২টা ৪ মিনিট পর্যন্ত একই গাড়িতে পুনরায় মালামাল তোলা হয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাত ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ১টা ১০ মিনিটের মধ্যে ওই গাড়ি থেকেই ২২ থেকে ২৫টি প্যাকেজ নামানো হয়। ওই সময় ঘটনাস্থলে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম চৌধুরী এবং সিপাই মোহাম্মদ সাগরের উপস্থিতি সিসিটিভিতে ধরা পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গুদাম থেকে বের করা কিছু পণ্য বিধিবহির্ভূতভাবে পরিবহনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ত্রাণের চালানের সঙ্গে মিলছে না জব্দ পণ্যের হিসাব কাস্টমস সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে পাঠানোর জন্য যে চালানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ছিল— ৩,০২২টি শাড়ি ৫৮টি থ্রি-পিস ২০৮টি চাদর ২৬৩টি কম্বল ৮টি ওড়না এ সংক্রান্ত চিঠিতে সহকারী কমিশনার অব কাস্টমসের পক্ষে স্বাক্ষর করেন রাহাত হোসেন। পরিবহনের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী। কিন্তু বিজিবির জব্দ করা কাভার্ডভ্যানে পাওয়া যায়— ৬,০০৮টি ভারতীয় শাড়ি ৬৩টি থ্রি-পিস ৩৮৬টি কম্বল ২০৮টি চাদর ৮টি ওড়না ৩৩,২২২টি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী এই হিসাব অনুমোদিত চালানের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত দেয়। এনএসআইয়ের তথ্য, বিজিবির অভিযান জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি ওই রাতে বেনাপোল বাজারের দুর্গাপুর মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৫৬২১ নম্বরের একটি কাভার্ডভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে গাড়িটি বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে কাগজপত্র যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত পণ্য উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক সিজার মূল্য ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩১০ টাকা। এ সময় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ডভ্যানের চালক মহসিন আলী এবং হেলপার জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়। বরখাস্ত পাঁচজন, তদন্তের মুখে কাস্টমস ঘটনার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে— সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম চৌধুরী সিপাই জামশেদ সিপাই সাগর সিপাই হামিদুর রহমান বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। প্রশ্নের মুখে গুদাম ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি এই ঘটনায় শুধু কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভূমিকা নয়, বরং কাস্টমসের নিলাম গুদামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পণ্য যাচাই প্রক্রিয়া এবং ত্রাণ ভাণ্ডারের নামে সরকারি মালামাল পরিবহনের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অনুমোদিত চালানের তুলনায় অতিরিক্ত কয়েক হাজার শাড়ি ও বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস কীভাবে একই পরিবহনে যুক্ত হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। সরকারি ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি চালানে এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি সীমান্ত বাণিজ্য ও কাস্টমস প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।    

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। ফাইল ছবি
কুমিল্লায় মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা: বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক, উঠছে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২০ জুন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি মামলাটি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে সংসদ সদস্যকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রূপ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়। পাশাপাশি একটি ফেসবুক পোস্টে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ এবং ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বাদীর দাবি, এসব প্রচারণার মাধ্যমে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। মামলার চেয়ে বড় আলোচনায় বাদীর পরিচয় তবে মামলা দায়েরের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে অভিযোগের বিষয়বস্তু নয়, বরং মামলার বাদীর রাজনৈতিক পরিচয়। জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিলেও স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের একাধিক নেতা সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, খোকন তালুকদার যুবদলের দায়িত্বশীল কোনো নেতা নন। তার দাবি, খোকন অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবেই পরিচিত। একই বক্তব্য দিয়েছেন কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব রোমান হাসান। তার ভাষ্য, খোকন তালুকদার যুবদলের কোনো পর্যায়ের নেতা নন এবং পূর্বে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা? মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি এম এম বিলাল হোসাইন বলেন, তাদের মতে মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে যখন অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তখন মামলার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাদীর পাল্টা বক্তব্য তবে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার। তার বক্তব্য, সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে বলেই তিনি মামলা করেছেন। যুবদলের পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি যে কমিটির সদস্য বলে দাবি করছেন, সেটি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর ঘোষিত কমিটি; এটি কেন্দ্রীয় যুবদলের অনুমোদিত কমিটি নয়। এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বৈধতা ও সাংগঠনিক স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পুলিশের অবস্থান কী? মামলা গ্রহণের বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, আইনের দৃষ্টিতে যে কোনো ব্যক্তি অভিযোগ নিয়ে আদালত বা থানার দ্বারস্থ হতে পারেন। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেই মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনাকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযুক্ত বক্তব্যগুলো প্রকৃতপক্ষে কে বা কারা প্রচার করেছিলেন? মামলায় মুফতি ফয়জুল করীমের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ কী? বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার বাস্তবতা কী? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত, রাজনৈতিক সমালোচনা ও মানহানির সীমারেখা কোথায়? মামলা দায়েরের পেছনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো প্রভাব রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে। তবে আপাতত কুমিল্লার এই মামলা শুধু একটি মানহানির অভিযোগ নয়; বরং এটি স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ, সাংগঠনিক বৈধতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
ইসলামী ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো বোর্ড বাতিল, নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থ, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং বৃহত্তর জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. জহির হোসেনকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ব্যাংকটির বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কেন হঠাৎ পুরো বোর্ড বাতিল? বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করা হলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে—সুশাসন নিশ্চিত করা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি, গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলন, পরিচালন কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন এবং বাজারে আস্থার সংকট—এসব বিষয় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়ার তথ্যও সামনে আসে। নিয়ন্ত্রণ কি সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে? সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন কাঠামোতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৭(৩) ধারা বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা স্থগিত বা বাতিল করে বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, একজন নির্বাহী পরিচালককে বোর্ডের পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করার অর্থ হলো—ব্যাংকের নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তদারকির আওতায় পরিচালিত হবে। আমানতকারীদের জন্য কী বার্তা? বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে আমানতকারীদের স্বার্থের বিষয়টি। ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ তখনই নেওয়া হয়, যখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় আস্থা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে—ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সরাসরি নজরদারি করবে। সামনে কী হতে পারে? ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বোর্ড বাতিলের পরবর্তী ধাপে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, মালিকানা কাঠামো পর্যালোচনা এবং সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এছাড়া ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, ঋণ বিতরণ, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলোও নতুন করে মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটির পেছনের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংকের পুরো পরিচালনা পর্ষদ একযোগে বাতিলের ঘটনা নিঃসন্দেহে খাতটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৫, ২০২৬ 0
ডিএসসিসিতে ২২ বছর ‘অবৈধ’ দায়িত্বে সিরাজুল ইসলাম
ডিএসসিসিতে ২২ বছর ‘অবৈধ’ দায়িত্বে সিরাজুল ইসলাম, তদন্তে মিলল নিয়োগ জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) একজন কর্মকর্তা কীভাবে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ দখলে রেখে দুই দশকের বেশি সময় প্রভাব বিস্তার করেছেন— স্থানীয় সরকার বিভাগের এক তদন্তে উঠে এসেছে সেই প্রশ্নই। মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, যার মূল পদ ‘স্থপতি’, তিনি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ‘প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ’ পদে বহাল আছেন। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী এই দায়িত্ব পাওয়ার মতো গ্রেড, যোগ্যতা কিংবা প্রশাসনিক অনুমোদন— কোনোটিই তার ছিল না বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে বলা হয়েছে, ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হয়েও সিরাজুল ইসলামকে ৪র্থ গ্রেডের পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা বিদ্যমান বিধি-বিধানের সুস্পষ্ট ব্যত্যয়। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ২০১১ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত হওয়ার পর ডিএসসিসিতে তার দায়িত্ব বহালের কোনো লিখিত আদেশ বা প্রশাসনিক অনুমোদনের নথি পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “মৌখিক আদেশে প্রদত্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই।” নিয়োগের শুরুতেই প্রশ্ন তদন্তে উঠে এসেছে, ১৯৯৭ সালে ‘স্থপতি’ পদে নিয়োগ পাওয়ার সময়ও সিরাজুল ইসলামের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছিল না। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্য বিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কমপক্ষে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে বলা হয়েছে, তিনি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি প্রতিষ্ঠানের ডিপ্লোমা সনদ দাখিল করেন, যা বাংলাদেশের স্নাতক ডিগ্রির সমমান কিনা সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কোনো প্রত্যয়ন পাওয়া যায়নি। এছাড়া নিয়োগের সময় তার পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাও ছিল না। তদন্ত অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তিনি চাকরিতে যোগ দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তার জীবনবৃত্তান্তে অভিজ্ঞতার দাবি থাকলেও প্রয়োজনীয় সনদপত্র নথিতে পাওয়া যায়নি। ‘সাময়িক দায়িত্ব’ থেকে ২২ বছরের ক্ষমতা ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের মৃত্যুর পর সাময়িকভাবে সিরাজুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ‘সাময়িক’ দায়িত্বই স্থায়ী রূপ নেয়। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত এ ধরনের অতিরিক্ত দায়িত্ব কয়েক মাসের বেশি স্থায়ী হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সিরাজুল ইসলাম প্রায় ২২ বছর ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন। ২০১১ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত হওয়ার পর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নতুন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ দিলেও দক্ষিণ সিটিতে আর কোনো নিয়োগ হয়নি। বরং সিরাজুল ইসলামই দায়িত্বে থেকে যান। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভক্তির পর নতুন করে দায়িত্ব প্রদানের কোনো নথি পাওয়া যায়নি। এমনকি ডিএসসিসির প্রতিনিধিও তদন্তে স্বীকার করেছেন, “তৎকালীন মেয়রের মৌখিক নির্দেশে” তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। একসঙ্গে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক যোগাযোগ ব্যবহার করে সিরাজুল ইসলাম শুধু প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের পদেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; একই সঙ্গে একাধিক বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব নিয়েছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তিনি অন্তত তিনটি বড় প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে— ৮৫০ কোটি টাকার ঢাকা সিটি নেবারহুড আপগ্রেডিং প্রকল্প নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্প ঢাকা নগর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্প সরকারি নীতিমালায় একজন কর্মকর্তাকে সাধারণত একটি প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও, বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুটি প্রকল্পে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পর্যাপ্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সিরাজুল ইসলামের ক্ষেত্রে এসব শর্ত মানা হয়নি। দুর্নীতির অভিযোগ ও দুদক তদন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেই স্থানীয় সরকার বিভাগের এই তদন্ত শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের মতো প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তে কয়েক কোটি টাকা অনিয়মের তথ্য উঠে এলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে শুধু সিরাজুল ইসলামের ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়, বরং ডিএসসিসির প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকেও আঙুল তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে “মুন্সিয়ানার পরিচয় দেয়নি” সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নগর পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত নগরায়নের এই সময়ে একটি বৃহৎ নগরীর পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দায়িত্বে দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তার উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা একজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকায় নগর ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন প্রশ্ন স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্তে অনিয়মের একাধিক দিক উঠে এলেও এখন পর্যন্ত সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে— দুই দশকের বেশি সময় ধরে কীভাবে একজন কর্মকর্তা প্রশাসনিক নিয়ম উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকলেন? আর এই দীর্ঘ সময়জুড়ে তাকে কারা রক্ষা করেছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৬, ২০২৬ 0
ক্রিকেট বোর্ড
বিসিবি নির্বাচনে বিএনপি নেতাদের আত্মীয়দের প্রভাব, একাধিক পরিচালক হচ্ছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ঘিরে আবারও সামনে এসেছে দেশের ক্রীড়া প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন। এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের একটি বড় অংশই বর্তমান সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য, মন্ত্রী কিংবা শীর্ষ নেতাদের আত্মীয়স্বজন—যাদের কেউ কেউ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নথি, প্রার্থীদের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিসিবির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামোতে রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। একক প্রার্থী, নিশ্চিত পরিচালক বিসিবি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান শুক্রবার (২২ মে) জানান, তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে নির্বাচন শুরুর আগেই কয়েকটি বিভাগে ফল কার্যত নির্ধারিত হয়ে গেছে। রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে পরিচালক পদের বিপরীতে মাত্র একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে। রংপুর বিভাগ থেকে একমাত্র প্রার্থী বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই মির্জা ফয়সল আমীন। রাজশাহী বিভাগে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া–২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের ছেলে মীর শাকরুল আলম। সিলেট বিভাগে একমাত্র প্রার্থী আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের সরকার নিযুক্ত প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই পরিচালক হওয়ার এই প্রবণতা নির্বাচনী প্রতিযোগিতার সীমাবদ্ধতা এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রভাবের ইঙ্গিত বহন করে। বাকি বিভাগেও রাজনৈতিক বলয়ের আধিপত্য যেসব বিভাগে নির্বাচন হচ্ছে, সেখানেও রাজনৈতিক পরিচয় বা পারিবারিক সংযোগ বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ঢাকা বিভাগে প্রার্থী হয়েছেন বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ছেলে সাইদ বিন জামান। চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর চাচা মাঈন উদ্দিন চৌধুরী। খুলনা বিভাগে পরিচালক পদে লড়ছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর–৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলামের ভাই শান্তনু ইসলাম। ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক নেটওয়ার্ক এখানে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্লাব ক্যাটাগরিতেও প্রভাবশালী পরিবারের উপস্থিতি রিটার্নিং কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাব ক্যাটাগরির প্রার্থীদের নাম প্রকাশ না করলেও বিভিন্ন সূত্রে কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। এই ক্যাটাগরিতে রয়েছেন বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং মির্জা ইয়াসির আব্বাস। তাদের পারিবারিক পরিচয়ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসরাফিল খসরু অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা–১০ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের ছেলে এ ছাড়া ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব থেকে কাউন্সিলর হওয়া ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সালও মনোনয়নপত্র তুলেছেন। তার বাবা আবুল কালাম কুমিল্লা–৯ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য। ক্রিকেট প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর? বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নতুন নয়। ফুটবল, ক্রিকেটসহ বড় ফেডারেশনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক পরিচয়, ক্ষমতাকেন্দ্রিক সমর্থন এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বিসিবির মতো আর্থিকভাবে শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিবারের প্রভাব বাড়তে থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলর কাঠামো, ক্লাব রাজনীতি এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়ন ব্যবস্থা মিলিয়ে বিসিবির নির্বাচনকে অনেকেই “নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার সমীকরণ” হিসেবেও দেখছেন। সামনে কী? আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন ২৩ জন পরিচালক। পরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত করবে আরও দুই পরিচালক। সব মিলিয়ে ২৫ সদস্যের বোর্ডই পরবর্তীতে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করবে বিসিবির নতুন সভাপতি। ফলে এবারের নির্বাচন শুধু পরিচালক বাছাই নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের পরবর্তী ক্ষমতার মানচিত্র নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক
শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতির অভিযোগ, ‘ভূতুড়ে’ স্থাপনায় কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নকশায় না থাকা কিংবা ভিডিও জরিপে শনাক্ত না হওয়া তথাকথিত স্থাপনার বিপরীতে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৫১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ৩৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৬ কিলোমিটার অংশে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, আপত্তি নিষ্পত্তিতে অনিয়ম এবং ক্ষতিপূরণ বাণিজ্যের কারণে প্রকল্পটি এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ছয় বছরে অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ সহজ করতে ২০০১ সালে চালু হয় চাঁদপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়ক। সড়কটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে এটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজার থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইব্রাহিমপুর পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণে ৮৬০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা জমি অধিগ্রহণে ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে দুই দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এখনো অধিকাংশ এলাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। সওজ সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রায় ৪৭ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি আটকে আছে মাত্র ১৫ শতাংশে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ৪১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। সওজের শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, “প্রকল্পের ডিপিপিতে জমি অধিগ্রহণ ব্যয় কম ধরা হয়েছিল। ফলে জমি অধিগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই বরাদ্দ শেষ হয়ে যায়।” ‘ভূতুড়ে’ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণের অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার ভিডিও জরিপের আগে ও পরে স্থানীয় একটি চক্র ফাঁকা জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে। পরে সেসব স্থাপনাকে বৈধ দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভিডিও জরিপে না থাকা কিংবা প্রকল্প নকশার বাইরে থাকা স্থাপনাগুলোর বিপরীতেও বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এমনকি ছোট গাছকে বড় গাছ হিসেবে দেখিয়ে অস্বাভাবিক অঙ্কের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের অভিযোগও রয়েছে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর অনেক স্থাপনা আবার সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে একতলা, বিলে দুইতলা ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরতারবুনিয়া মৌজায় শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির জমিতে ভিডিও জরিপে একতলা ভবন দেখা গেলেও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের সময় সেখানে দ্বিতীয় তলায় আধাপাকা টিনশেড ঘর দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ টাকার বিল তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের। যদিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি শফিকুল ইসলাম। গাছের আকার বাড়িয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ পাপরাইল এলাকার জয়নাল খাঁর জমিতে গাছের সংখ্যা ও আকার বাড়িয়ে দেখিয়ে প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে জয়নাল খাঁ দাবি করেছেন, তাঁর ক্ষেত্রে সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে। আইন যা বলছে ২০১৭ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন অনুযায়ী, অসৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত স্থাপনা ক্ষতিপূরণের তালিকাভুক্ত করার সুযোগ নেই। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই আইন উপেক্ষা করেই বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার চরকাশাভোগ এলাকায় শাহিদা বেগম নামের এক নারী অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় নিজ জমিতে দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। প্রথমে এলএ শাখা স্থাপনাগুলোকে “জনস্বার্থবিরোধী” উল্লেখ করে তালিকা থেকে বাদ দিলেও পরে আপত্তি নিষ্পত্তির মাধ্যমে তাঁকে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সড়ক প্রকল্পের অন্তত ১৯টি এলএ কেসে প্রায় ১২০টি আপত্তি যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের চেকে ‘পারসেন্টেজ’ নেওয়ার অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার আবদুল মালেক ফকির অভিযোগ করেন, ১৬ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলতে তাঁকে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নান্নু সরদার। তাঁর দাবি, “ভ্যাটের কথা বলে” ক্ষতিপূরণের টাকার ৬ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদুল আলম বলেন, তাঁর কাছে এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যেন পারসেন্টেজ না নেন, সে বিষয়ে শুরু থেকেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেনও বলেছেন, ক্ষতিপূরণ প্রদানে অনিয়মের বিষয়ে তাঁর কাছে এখনো কোনো তথ্য আসেনি। তবে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি অবকাঠামো উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন নতুন নয়। তবে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক প্রকল্পে ওঠা অভিযোগগুলো এখন শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার নয়, বরং সরকারি অর্থ অপচয় ও সংঘবদ্ধ দুর্নীতির আশঙ্কাও সামনে আনছে। যেখানে ছয় বছরেও প্রকল্পের অর্ধেক জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি, সেখানে অতিরিক্ত শত শত কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব নতুন করে নজরদারি ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জোরালো করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
ভার্গো টোব্যাকো
ভার্গো টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৪৪৬ কোটি টাকার কর ফাঁকি অভিযোগ: এনবিআরের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার গাজীপুর ও বারিধারায় পরিচালিত একাধিক অভিযানে সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেড–এর বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তদন্ত দল। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রদর্শিত তামাক ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রি করেছে এবং এর বিপরীতে প্রাপ্য ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ করেনি। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪৪৬ কোটি টাকা।  গোপন তামাক ও উৎপাদনের হিসাব জালিয়াতির অভিযোগ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে স্থানীয় উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ তামাক কেনা হলেও তার বড় অংশ মূসক রিটার্নে দেখানো হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অঘোষিত তামাক ব্যবহার করে প্রায় ১১০ কোটি শলাকা সিগারেট উৎপাদন করা হয়। প্রতি শলাকার ন্যূনতম বাজারমূল্য ৫ টাকা ধরে এর মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫৫৪ কোটি টাকা, যার ওপর প্রযোজ্য কর ফাঁকি হয়েছে প্রায় ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একাধিক অভিযান ও নথি জব্দ এনবিআরের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (ঢাকা উত্তর) ২০২৫ সালের আগস্টে বারিধারার অফিস এবং গাজীপুরের কারখানায় অভিযান চালায়। অভিযানে জব্দ করা হয়— ব্যাংক স্টেটমেন্ট মূসক রেজিস্টার কম্পিউটার ও পেনড্রাইভ ইমেইল সার্ভারের তথ্য তদন্তকারীরা বলছেন, এসব নথিতে গোপন লেনদেন ও হিসাব গরমিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। National Board of Revenue (NBR)–এর অধীন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি কর ফাঁকির মামলা করে।  দুই মামলায় মোট দাবি ৪৪৬ কোটি টাকা তদন্ত অনুযায়ী— প্রথম মামলা: ৮৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা দ্বিতীয় মামলা: ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা মোট অভিযোগিত কর ফাঁকি: প্রায় ৪৪৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা এনবিআর বলছে, এই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আদায়যোগ্য এবং এটি ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির একটি গুরুতর উদাহরণ। অভিযোগ অস্বীকার ও আইনি প্রক্রিয়া ভার্গো টোব্যাকো কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের ব্যবসার বড় অংশ রপ্তানিনির্ভর এবং প্রয়োজনীয় নথি এনবিআরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোম্পানির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাপ্ত নথি ও উৎপাদন বিশ্লেষণে গুরুতর অসংগতি পাওয়া গেছে। মাঠ পর্যায়ের বক্তব্য ও উত্তেজনা গাজীপুর কারখানায় উপস্থিত এক জেনারেল ম্যানেজার জানান, উৎপাদন ও কেনাকাটার হিসাব হেড অফিস থেকে পরিচালিত হয় এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে নেই। অন্যদিকে, কোম্পানির অভ্যন্তরে একজন পরিচয়ধারী ব্যক্তি সাংবাদিকদের প্রশ্নে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখান এবং বিষয়টি এনবিআরের আওতাধীন বলে মন্তব্য করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
রাবিপ্রবির ১৬৪ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
রাবিপ্রবির ১৬৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, কেন্দ্রে সাবেক পিডি আবদুল গফুর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং প্রকল্পের সাবেক পরিচালক (পিডি) আবদুল গফুর। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, অতিমূল্যে ফার্নিচার ক্রয়, দ্বৈত টিএ/ডিএ বিল উত্তোলন, কমিশন বাণিজ্য, অবৈধ অগ্রিম উত্তোলন এবং সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত বাসার আসবাব কেনাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যেভাবে শুরু হয় প্রকল্প “রাবিপ্রবি স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)” প্রকল্পের আওতায় একটি একাডেমিক ভবন, একটি প্রশাসনিক ভবন এবং ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক দুটি তিনতলা আবাসিক হল নির্মাণকাজ চলছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান আবদুল গফুর। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতে থাকে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। ফার্নিচার ক্রয়ে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয় প্রকল্পের ব্যয় সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফার্নিচার কেনার ক্ষেত্রে বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মূল্য দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ খাতে অন্তত ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে একটি টেবিলের প্রকৃত মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা হলেও বিল ভাউচারে সেটির দাম দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একই ধরনের আসবাবপত্র স্থানীয় বাজারে যে দামে পাওয়া যায়, প্রকল্পে তার দ্বিগুণ-তিনগুণ মূল্য দেখানো হয়েছে।” টিএ/ডিএ বিলেও অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টিএ/ডিএ বিল গ্রহণের পরও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সফরের নামে দ্বিতীয়বার অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। নথিপত্রে দেখা যায়, এভাবে প্রায় ৭ লাখ ১১ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, একই সফরের জন্য একাধিক খাত দেখিয়ে বিল সমন্বয় করা হয়েছে। টেন্ডারে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ চারটি ভবনের নির্মাণ টেন্ডার অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে এক শতাংশ হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এভাবে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। কয়েকজন ঠিকাদার এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক নির্মাণের নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৩৭ লাখ টাকা উত্তোলন এবং পরিকল্পিত বনায়নের নামে ছবি উপস্থাপন করে আরও ৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা উত্তোলনের তথ্যও মিলেছে। সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত বাসার আসবাব? আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করে নিজের বাসার জন্য আসবাবপত্র কেনা। অভিযোগে বলা হয়েছে, জয়নাল নামে এক ঠিকাদারের মাধ্যমে তার বাসার জন্য আলমিরা, ফাইল কেবিনেট, চেয়ার-টেবিল এবং খাটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনা হয়। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো রসিদ বা সরবরাহ নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অগ্রিম উত্তোলনে অনিয়ম প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে, যদিও প্রকল্প নীতিমালায় এ ধরনের অগ্রিম গ্রহণের বিধান নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী— মার্শাল চাকমার নামে উত্তোলন করা হয় ১৪ লাখ ৭ হাজার ৩২৮ টাকা নিশান চাকমার নামে ১২ লাখ ৯ হাজার টাকা সেকশন অফিসার আবদুল হকের নামে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫০ টাকা মঞ্জুরুল ইসলামের নামে ১৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৮ টাকা এছাড়া আবদুল গফুর নিজের নামেও ১৯ লাখ ৬৮ হাজার ৫২২ টাকা উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি নথিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি বলেও জানা গেছে। নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন ২০১৭ সালে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন আবদুল গফুর। তার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাবেক কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, বয়সসীমা অতিক্রম এবং নন-টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা সত্ত্বেও তিনি ওই পদে নিয়োগ পান। এছাড়া তার শিক্ষাজীবনে দুটি তৃতীয় বিভাগ ছিল এবং এর আগে কোনো সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতাও ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, তৎকালীন রেজিস্ট্রার অঞ্জন কুমার চাকমার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ? অভিযোগ রয়েছে, এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) রিপোর্ট এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পাহাড় কাটার অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় আসামিও হন আবদুল গফুর। সাময়িক বরখাস্ত ও পাল্টা অভিযোগ চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় আবদুল গফুরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত আদেশে তার বিরুদ্ধে আইসিটি-সংক্রান্ত অপরাধ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়। বরখাস্তের পরদিনই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগে দলীয় প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। ওই চিঠিতে তিনি নিজেকে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বরখাস্ত আদেশ স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করলেও আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। উপাচার্যের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আতিয়ার রহমান বলেন, “রাবিপ্রবি স্থাপন প্রকল্পে পদে পদে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আবদুল গফুরকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সতর্ক না হয়ে বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেন।” তিনি আরও বলেন, “বহিষ্কারের পরও আবদুল গফুর ব্যাংক থেকে প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেছিলেন। এ কারণে নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবদুল গফুরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন, টেন্ডার অনুমোদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম
কুড়িগ্রামে গুচ্ছগ্রামের ৭২ একর খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় নামজারির অভিযোগ, উচ্ছেদের শঙ্কায় শতাধিক পরিবার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুড়িগ্রাম সদরের আরাজি পলাশবাড়ী গুচ্ছগ্রামের খাস জমি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের লিখিত নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারি বন্দোবস্তকৃত জমি ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অন্তত ৭২ একর খাস জমি ধাপে ধাপে বেসরকারি মালিকানায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এতে গুচ্ছগ্রামের শতাধিক পরিবার উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পরও নামজারি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও জেলা প্রশাসনের আর এম শাখা সূত্রে জানা গেছে, আরাজি পলাশবাড়ী মৌজার এস এ দাগ ২০০১, ২০৭৩ ও ২০৭৪ নম্বর জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। এই জমির ওপরই কয়েক দশক ধরে গড়ে উঠেছে সরকারি গুচ্ছগ্রাম আবাসন প্রকল্প। গুচ্ছগ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, এসব খাস জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে “ভ্রমাত্মক রেকর্ডভুক্ত” করা হয়। পরে রেকর্ড সংশোধনের দাবিতে তারা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে জেলা প্রশাসন সদর এসি ল্যান্ডকে লিখিত নির্দেশ দেয়—আর এস রেকর্ড সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমির সব কার্যক্রম এস এ রেকর্ড অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণও সেই অনুযায়ী চালিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নির্দেশনা কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। বর্তমান এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম ২০২৪ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে আর এস রেকর্ডের ভিত্তিতে ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে গুচ্ছগ্রামবাসীরা আবারও জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। পরে ২০২৫ সালের মার্চে জেলা প্রশাসন একই ধরনের আরেকটি নির্দেশনা জারি করে। “টাকা নিয়ে জমি দিয়ে দিচ্ছে” গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. ফারুক অভিযোগ করে বলেন, “ডিসি অফিসের নির্দেশনার পর জমির খাজনা দিতে গেছি। এস এ অনুযায়ী খাজনা নিচ্ছে না। শুনতেছি তলে তলে টাকা নিয়ে অন্যদেরকে জমি দিয়ে দিচ্ছে।” আরেক বাসিন্দা হাছেন আলী বলেন, “সরকার জমি দিছে, ঘর দিছে। বন্দোবস্ত দেওয়া খাস জমি কীভাবে অন্যদের দিল, এই প্রশ্ন আমাদেরও।” একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার। দীর্ঘদিনের পুনর্বাসন প্রকল্প অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে প্রথম দফায় ১৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে রেজিস্ট্রিকৃত কবুলিয়াতের মাধ্যমে এই এলাকায় পুনর্বাসন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে আরও ২০টি পরিবারকে ব্যারাক ঘরে পুনর্বাসন করা হয়। ২০২১ সালে সরকার পাকা ঘর নির্মাণ করে আরও ২৪টি পরিবারকে সেখানে বসবাসের সুযোগ দেয়। এছাড়া ২০০৯ সালে বীর প্রতীক তারামন বিবিকেও ওই মৌজার ১ একর খাস জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি পুনর্বাসন প্রকল্প গড়ে ওঠার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র জমিগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সরকারি খাস জমিকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত করা হয়। “চিঠির বিষয়ে জানা নেই” পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম শেখ প্রথমে বলেন, “চিঠির বিষয়ে আমার জানা নেই। প্রয়োজনে নামজারি বাতিল করা হবে।” তবে পরে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে বলেন, “আর এস গেজেট হওয়ায় এস এ অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কর নেওয়ার সুযোগ নেই।” অন্যদিকে এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, “আর এস রেকর্ড অনুযায়ী নামজারি করা হচ্ছে। নামজারি করার সময় আমরা এস এ রেকর্ড দেখি। সেখানে সরকারি স্বার্থ থাকলে নামজারি স্থগিত রাখা হয়।” তবে সরকারি খাস জমি কীভাবে ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি হচ্ছে—এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এমন কোনো চিঠি আমি পাইনি। পেলেও বিধিসম্মত নয় জানিয়ে উত্তর লিখতাম।” প্রশাসনের নীরবতা এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কয়েক দশক ধরে সরকারি পুনর্বাসন প্রকল্পে বসবাস করা পরিবারগুলো ভূমিহীন হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাস জমি নিয়ে রেকর্ড জটিলতা ও প্রশাসনিক অনিয়ম শুধু ভূমিহীন মানুষের নিরাপত্তাকেই হুমকিতে ফেলছে না, বরং সরকারি পুনর্বাসন নীতির বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
নূরুল আনোয়ার
পাসপোর্ট ডিজিকে ঘিরে বিতর্ক: রাজনৈতিক আনুগত্য বদল, সবুজ পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে নিজ অবস্থান বদল, বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা প্রদান, সবুজ পাসপোর্ট ইস্যু এবং ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়ম—সব মিলিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে তাকে নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিবর্তন করেছেন এই কর্মকর্তা। কখনও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, কখনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থক, আবার বর্তমানে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার দিনের মাথায় তিনি টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে পাসপোর্ট অধিদপ্তর পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রশাসনের ভেতরে তখন তাকে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তা হিসেবেই দেখা হতো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন অবস্থান তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্রুত অবস্থান বদলের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে নতুন ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশের কৌশল হিসেবে তিনি এ যোগাযোগ জোরদার করেন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর আবারও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিজেকে বিএনপিপন্থী জেনারেল হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন তিনি। জামায়াত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও সূত্রগুলো জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত সমর্থিত ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আবদুল বাতেনকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন ডিজি নূরুল আনোয়ার। ওই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও পরে রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবার বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বহাল রাখার অভিযোগ ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রশাসনিক রদবদলের পরও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তা বহাল রয়েছেন। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ডিজি নূরুল আনোয়ারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও প্রভাবের কারণেই এসব কর্মকর্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল আছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরে পরিবর্তন এলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে সেই পরিবর্তনের প্রভাব দৃশ্যমান হয়নি। সবুজ পাসপোর্ট বিতর্ক জুলাই বিপ্লবের পর বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় ডিজি নূরুল আনোয়ারের নাম উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে পাসপোর্টের জন্য আঙুলের ছাপ ও ছবি সংগ্রহ করেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ডিজির নির্দেশে। একইভাবে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বিশেষ সুবিধায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম এবং ঢাকার সাবেক এক পুলিশ কমিশনারকেও বিশেষ সুবিধায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিতর্কিত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী বহু ব্যক্তিকে কূটনৈতিক সুবিধাসংবলিত পাসপোর্ট প্রদান করে বিদেশ যেতে সহায়তা করা হয়েছে। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে ই-পাসপোর্ট প্রকল্পকে ঘিরে। সূত্র বলছে, শুরুতে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প হিসেবে নেওয়া ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের ব্যয় পরে বাড়িয়ে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি, সরঞ্জাম ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয় এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে অস্বচ্ছতার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অনিয়মের সঙ্গে বর্তমান ডিজির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং পুরো প্রকল্পে একটি প্রভাবশালী চক্র কাজ করেছে। যোগাযোগের চেষ্টা এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল কেটে দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ।
শাপলা চত্বরে নিহত- ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত, তদন্ত প্রায় শেষ—প্রসিকিউশন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হামলার ঘটনায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম মিলিয়ে মোট ৫৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য শনাক্ত করেছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) ঢাকায় প্রসিকিউশন কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, নিহতদের পরিচয় পরিবার-স্বজনের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মামলার তদন্ত কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, আগামী ৭ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে।” বর্তমানে চট্টগ্রাম অংশের কিছু কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। নিহতদের ভৌগোলিক বণ্টন প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী: ঢাকায় নিহত: ৩২ জন নারায়ণগঞ্জে: প্রায় ২০ জন চট্টগ্রামে: ৫ জন কুমিল্লায়: ১ জন এর আগে রোববার কেবল ঢাকায় ৩২ জন নিহতের তথ্য জানানো হয়েছিল। সর্বশেষ হিসাবে চার জেলায় মোট ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার দাবি চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মামলায় আসামির সংখ্যা ৩০ জনের কম হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অন্যদের নাম-পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তদন্তে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন বাহিনী প্রধান ও পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়। ‘শত শত নিহত’ দাবি নিয়ে অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে ‘শত শত’ নিহতের দাবি থাকলেও, প্রসিকিউশন বলছে তাদের তদন্তে ৫৮ জনের তথ্যই নিশ্চিত হয়েছে। “তদন্তের বাইরে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়,” বলেন আমিনুল ইসলাম। ঘটনার প্রেক্ষাপট ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি শেষে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি পায়। ওইদিন গুলিস্তান এলাকায় সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় সমাবেশকারীরা শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ২টার আগেই ১৮ থেকে ২০ জন হতাহত হন। মধ্যরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় আরও হতাহতের ঘটনা ঘটে। চিফ প্রসিকিউটর এ ঘটনাকে “সিস্টেমেটিক ও ওয়াইডস্প্রেড অ্যাটাক” এবং “টার্গেটেড কিলিং” হিসেবে উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক প্রসঙ্গ নিয়ে অবস্থান হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমঝোতা, বৈঠক বা কওমি সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার মতো বিষয় তদন্তে প্রভাব ফেলবে কি না—এ প্রশ্নে প্রসিকিউটর বলেন, “রাজনৈতিক কার্যক্রম এক জিনিস, আর আমাদের বিচারের পরিধি আলাদা। হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাগুলো আমাদের তদন্তে আসবে না।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম
নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের সফলতায় বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে পরিবর্তনের হাওয়া

বরিশাল অফিস :    বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে আলোচনায় ছিল। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধীরগতি, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন, এবং কমিশন-ভিত্তিক সংস্কৃতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্রে পরিবর্তনের দাবি উঠেছে—আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি নাম: নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়সাল আলম। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে, কাজের মান উন্নত হয়েছে এবং দুর্নীতি কমেছে—এমন দাবি করছেন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। একই সঙ্গে, তার কার্যক্রম ঘিরে অপপ্রচার, স্বার্থসংঘাত এবং চাপের কথাও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। এই প্রতিবেদনটি মাঠপর্যায়ের তথ্য, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।  দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিবর্তনের দাবি বরিশালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মোঃ ফয়সাল আলমের কর্মকাণ্ডে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তনের কথা বলছেন স্থানীয় ঠিকাদার, প্রকৌশলী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি গতিশীলতা এসেছে। একজন জ্যেষ্ঠ ঠিকাদার বলেন, “আগে অনেক প্রকল্প বছরের পর বছর ঝুলে থাকত। এখন কাজের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত চাপ থাকে।” এই পরিবর্তনের অন্যতম দিক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে নিয়মিত তদারকি এবং কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে প্রকল্পগুলোর ওপর সরাসরি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিলম্বের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে। একজন বিভাগীয় কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি এখন নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। কাজের মান এবং সময়—দুটিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”  গুণগত মান নিশ্চিতে কঠোরতা গণপূর্ত বিভাগের কাজের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগটি সবচেয়ে বেশি ছিল, তা হলো নিম্নমানের নির্মাণ। অনেক ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যেই ভবন বা অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি দেখা যেত, যা সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জনস্বার্থের জন্যও ক্ষতিকর। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বলে দাবি করছেন কয়েকজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার। তাদের ভাষ্যমতে, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এখন কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। একজন ঠিকাদার বলেন, “বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীর অধীনে কাজের গুণগত মান তদারকি করা হয় নিয়মিত। কোনো ধরনের নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” আরেকজন যোগ করেন, “আগে অনেক সময় কাজ শেষ হলেই বিল পাওয়া যেত। এখন কাজের মান যাচাই না করে বিল ছাড় হয় না।” এই কঠোরতার ফলে কিছু ক্ষেত্রে কাজের খরচ ও সময় বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  বিল উত্তোলনে স্বচ্ছতা: নতুন বার্তা? গণপূর্ত বিভাগের কাজের সঙ্গে জড়িত একটি বড় অভিযোগ ছিল বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ বা কমিশন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা। অনেক ঠিকাদারই অভিযোগ করতেন, নির্ধারিত বিল পেতে হলে “অফ দ্য রেকর্ড” অর্থ লেনদেন করতে হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা বলছেন কয়েকজন ঠিকাদার। তাদের ভাষ্যমতে, “বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত অর্থ বা কমিশনের প্রয়োজন হয় না। কাগজপত্র ঠিক থাকলে বিল সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে।” এই পরিবর্তনকে তারা একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। তবে কিছু ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সব ক্ষেত্রে একরকম নয়। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেক ভালো।”  অতীতের ছায়া: অনিয়ম ও কমিশন সংস্কৃতি বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের অতীত ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্রকল্পের বাজেট বৃদ্ধি, নিম্নমানের কাজ, এবং কাজের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার মতো অভিযোগ নতুন নয়। একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “এই বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে একটি অনানুষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, যেখানে কাজের প্রতিটি ধাপে কমিশনের বিষয়টি জড়িয়ে ছিল।” এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান পরিবর্তন হয়েছে।বর্তমানে সেই ঘুষ ও কমিশন সংস্কৃতি নেই। দুর্নীতি দমনের দাবি ও বাস্তবতা স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মোঃ ফয়সাল আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই অনিয়মের প্রবণতা কমেছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হয়েছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আগে শুনতাম কাজ পেতে হলে অনেক কিছু করতে হয়। এখন অন্তত সেই ধরনের কথা কম শোনা যায়।” সংশ্লিষ্ট মহলে তার সততা নিয়ে ইতিবাচক ধারণা থাকার কথাও উঠে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি প্রশাসনিকভাবে একটি বার্তা দিতে পেরেছেন—অনিয়মের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা।তবে এই অবস্থান তাকে কিছু বিরোধিতার মুখেও ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “যখন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তখনই একটি মহল অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। এটি নতুন কিছু নয়।” অপপ্রচার ও সমালোচনা ফয়সাল আলমকে ঘিরে একটি বিতর্কও তৈরি হয়েছে—তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এবং সমালোচনা ছড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। তবে এই অভিযোগগুলোর অনেকটাই অস্পষ্ট বা প্রমাণবিহীন বলে দাবি করছেন ঠিকাদাররা। একজন ঠিকাদার বলেন, “যারা আগে সুবিধা পেত, তারা এখন অসুবিধায় পড়ছে। তাই তারা বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।” তবে নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা বলছেন, যেকোনো প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময়ই দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়—সমর্থন ও বিরোধিতা।  জবাবদিহির প্রশ্ন গণপূর্ত বিভাগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “কোনো কর্মকর্তা ভালো কাজ করলে যেমন স্বীকৃতি পাবেন, তেমনি অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, “ব্যক্তিনির্ভর পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই টেকসই সমাধান।” প্রশাসনিক চাপ ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর জন্য কাজ করা শুধুমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়—এর সঙ্গে জড়িত থাকে রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব। এই বাস্তবতা স্বীকার করে নিজেই কথা বলেছেন মোঃ ফয়সাল আলম। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছি। কাজের ক্ষেত্রে বাধা আসে, বিশেষ করে যখন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি নিজেও চাপ ও প্রতিরোধের বিষয়টি অস্বীকার করছেন না। নেতৃত্বের ধরন: কড়াকড়ি নাকি সংস্কার? ফয়সাল আলমের নেতৃত্বের ধরন নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ তাকে কঠোর এবং নীতিনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন তার কড়াকড়ি কিছু ক্ষেত্রে  জটিলতা তৈরি করছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “তিনি নিয়ম মেনে কাজ করতে বলেন, যা অনেকের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।” অন্যদিকে একজন ঠিকাদার বলেন, “কখনো কখনো অতিরিক্ত কঠোরতার কারণে কাজের গতি কমে যায়।” এই দুই ধরনের মতামতই একটি পরিবর্তনশীল প্রশাসনিক বাস্তবতার প্রতিফলন।  জনমত: আশা ও সংশয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ফয়সাল আলমকে নিয়ে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ তাকে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এখনো অপেক্ষা করছেন দৃশ্যমান ফলাফলের জন্য। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “যদি সত্যিই দুর্নীতি কমে থাকে, তাহলে এটি খুবই ভালো উদ্যোগ।” একজন প্রবীণ নাগরিকের মন্তব্য, “অনেকেই ভালো শুরু করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা থাকে না। দেখার বিষয় হলো, এটি কতদিন টিকে।”  ভবিষ্যতের পথ: টেকসই সংস্কারের প্রয়োজন বিশ্লেষকদের মতে, একজন কর্মকর্তার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি টেকসই করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তারা কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন: * স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া * ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা * স্বাধীন অডিট * জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে গণপূর্ত বিভাগের কাজের মান আরও উন্নত হতে পারে।   বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের বর্তমান চিত্রে মোঃ ফয়সাল আলম একটি আলোচিত নাম। তার নেতৃত্বে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি এসেছে—এমন দাবি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অপপ্রচার ও স্বার্থসংঘাতের অভিযোগ। বাস্তবতা সম্ভবত এই দুইয়ের মাঝামাঝি কোথাও অবস্থান করছে। একদিকে, কাজের গতি ও গুণগত মান নিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, এই পরিবর্তন কতটা গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা এখনো সময়ই বলে দেবে। শেষ পর্যন্ত, ফয়সাল আলমের নিজের কথাতেই বিষয়টি সবচেয়ে ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়: “আমি কাজ করে যেতে চাই—মূল্যায়ন জনগণই করবে।” বরিশালের মানুষ এখন সেই মূল্যায়নের অপেক্ষায়।    

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
বরিশাল সোনালী ব্যাংক
বরিশালে সোনালী ব্যাংকে বদলি বাণিজ্য ও প্রভাব বলয়ের অভিযোগ: অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বরিশাল অফিস :    বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক পিএলসির বরিশাল অঞ্চলে কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করছে, একটি প্রভাবশালী কর্মকর্তাগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে এবং নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কর্মকর্তাদের পদায়ন দিচ্ছে।   প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর অভিযোগ   বরিশাল সোনালী ব্যাংকের ভেতরের কয়েকটি সূত্রের দাবি,বরিশাল অঞ্চলের বর্তমান জিএম ইনচার্জ মোঃ মাহমুদুল হকের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি এজিএম জহুরুল ইসলামের একটি গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে, যেখানে আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুক্ত রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই গোষ্ঠী বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বদলিতে প্রভাব বিস্তার করছে। জহুরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু পরিষদের ৬ নং সহ-সভাপতি ও বঙ্গমাতা পরিষদেরও ৬ নং সহ-সভাপতি ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রিন্সিপাল অফিস ওয়েস্টের ডিজিএম বিভাস চন্দ্র হাওলাদার, জিএম অফিসের এজিএম মোঃ জহিরুল ইসলাম, এসপিও মোঃ সাব্বির মাহমুদ এবং প্রিন্সিপাল অফিসার তিমির রঞ্জন দাস—এই কয়েকজন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ও নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতার অনুসারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, যা আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্যসিস্ট সাবেক জিএম গোপাল চন্দ্র গোলদারের পথেই যোগদানের পর থেকে হাটছেন জিএম মোঃ মাহমুদুল হক।এই পাঁচ জন মিলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন সোনালী ব্যাংক বরিশাল অঞ্চলে।   ‘পছন্দের পোস্টিং’ নিয়ে প্রশ্ন বিভিন্ন কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগও উঠেছে। সূত্রগুলো বলছে, কিছু কর্মকর্তাকে ‘পছন্দের শাখা’ বা ‘প্রাইজ পোস্টিং’-এ পাঠানো হয়েছে, আবার কেউ কেউ স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার বদলি হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন,চিন্থিত আওয়ামীলীগ নেতা আসাদুজ্জামান মোল্লাকে চাখার শাখায় ম্যানেজার হিসেবে পদায়ন, এসপিও তারিকুল ইসলামকে প্রিন্সিপাল অফিস ইস্টে পদায়ন,এসপিও মনদীপ বেপারীকে উজিরপুর শাখা থেকে বরিশাল করপোরেট শাখায় পদায়ন। পরবর্তীতে বিভিন্ন চাপের মুখে পিরোজপুরে পদায়ন করতে বাধ্য হয়।এসপিও মাসুদ পারভেজকে উজিরপুর শাখার ম্যানেজার করা হয়েছে। মোঃ কামরুজ্জামান হাওলাদারকে খানপুরা শাখার ম্যানেজার, সিনিয়র অফিসার রুপক পালকে ধামুড়া থেকে বরিশাল চকবাজার শাখায় পদায়রন করা হয়।প্রসুন কুমার পালকে পটুয়াখালী পায়রা বন্দর শাখা থেকে বরিশালের নলচিড়া শাখায় প্রাইজ পোস্টিং দেয়া হয়। এসব বদলী,পদায়ন ও প্রাইজ পোস্টিং করা হয়েছে লাখ লাখ টাকার ঘুষের বিনিময়ে। এসব অভিযোগ এই পাচঁ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।   আরও পড়ুন: বরিশাল সোনালী ব্যাংক: দুর্নীতিতে জর্জরিত, গোপালের পথে হাটছেন জিএম মাহমুদুল হক   জিএম মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ- * কিছু কর্মকর্তাকে শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে পদায়ন * করপোরেট ও প্রিন্সিপাল অফিসে স্থানান্তর * স্বল্প সময়ের মধ্যে বদলি বাতিল ও পুনর্বহাল করা হয়। একজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে বদলি পরিবর্তনের ঘটনাকেও “ব্যতিক্রমী” বলে বর্ণনা করা হয়েছে।   জিএম- ডিজিএম ও এজিএম সিন্ডিকেট :  জিএম ইনচার্জ মোঃ মাহমুদুল হকের নেতৃত্বে  প্রিন্সিপাল অফিস ওয়েষ্ট এর ডিজিএম বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা  বিভাস চন্দ্র হাওলাদার  বিভাস এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি এজিএম জহুরুল ইসলাম চিন্থিত ফ্যাসিস্টদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধাসহ পছন্দমত পোস্টিং দিয়ে আসছেন। বিগত সময়ে বরিশাল নগরীর কালীবাড়ি রোডের স্থায়ী বাসিন্দা  বঙ্গবন্ধু যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং বঙ্গমাতা পরিষদের  সহ সভাপতি   মোঃ মাইনুল ইসলামের নামে নামমাত্র অফিস অর্ডার করে তাকে সারাদিন ফ্রী থাকার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে ।   সোনালীয়ান কাশীপুর নামে একটি গ্রুপ তৈরী ডিজিএম মোঃ শাহ্আলম জিএম হওয়ার জন্য তার নিজস্ব শক্ত বলয় তৈরী করার জন্য ফ্যাসিস্ট  কর্মকর্তাদের নিয়ে  সোনালীয়ান কাশীপুর নামে একটি গ্রুপ তৈরী করেন এবং গোপনে কাশিপুরের বিভিন্ন জায়গায় মিটিং করেন। উল্লেখ্য যে, জিএম ইনচার্জ মোঃ মাহমুদুল হক পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের একনিষ্ঠ সহযোগী হওয়ার কারনে তাকে ৫ আগস্ট, ২০২৪ এর পট পরিবর্তনের পর সুদূর জামালপুর থেকে বরিশালে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। কিন্ত তিনি সংশোধন না হয়ে বরিশাল সোনালী ব্যাংকে ফ্যাসিষ্ট পুনর্বাসনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।   এসি রুমে ৭০ টাকায় বিভাস চন্দ্র হাওলাদার’র বসবাস প্রিন্সিপাল অফিস ওয়েষ্ট এর ডিজিএম বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা বিভাস চন্দ্র হাওলাদার বরিশাল করপোরেট শাখার আওতাধীন সোনালী ব্যাংক আবাসিক এলাকায় মাত্র ৭০ টাকায় এসি বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। দুইটা এসি রুমে নিয়মবহির্ভূত ভাবে তার ছেলে, স্ত্রী সহ থাকেন। এই বিভাষ চন্দ্র হাওলাদার এবং এজিএম জহুরুল ইসলাম সুকৌশলে ফ্যাসিস্টদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধাসহ পছন্দমত পোস্টিং দিয়ে আসছেন।   ১৭ বছর এসপিও ইফতেখার মাহমুদ সোহেল বরিশাল শহরে বিগত ১৭ বছর ধরে এসপিও ইফতেখার মাহমুদ সোহেল ( সভাপতি মুক্তিযুদ্ধা সন্তান সংসদ)  বরিশাল শহরের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন,এরপর কয়েকমাস আগে বরিশাল প্রিন্সিপাল অফিস ইস্ট থেকে ঝালকাঠি কোর্ট বিল্ডিং শাখায় তার বদলী করা হয়। বর্তমান জিএম মোঃ মাহমুদুল হক মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আবার তাকে প্রিন্সিপাল অফিস বরিশাল ওয়েস্ট, বরিশালে বদলী করেন। সোনালী ব্যাংকের ইতিহাসে এটা একটা  নজিরবিহীন ঘটনা। তিনি স্বেচ্ছাচারীতার সর্বোচ্চ সীমা পাড় করেছেন। জিএম ইনচার্জ মোঃ মাহমুদুল হক আগের ফ্যাসিস্ট বলয়কে আরো সুসংগঠিত করেছেন।এই বলয়ে আছেন জি এম অফিসের এজিএম মোঃ জহিরুল ইসলাম, পিও তিমির রঞ্জন দাস, এস ও সাব্বির, এসিপও অসীম  সহ আরো অনেক ফ্যাসিস্ট।   রাজনৈতিক পরিচয় ও সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কিছু কর্মকর্তা বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং সেই পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনিক সুবিধা নিচ্ছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, কিছু কর্মকর্তার পরিবার স্থানীয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যা পদায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।   সুবিধা প্রদান ও অনিয়মের অভিযোগ আরও কিছু গুরুতর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— * নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে নামমাত্র দায়িত্ব দিয়ে কার্যত কর্মমুক্ত রাখা * অফিসের সুবিধা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার * শাখা পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে অবস্থান ধরে রাখা অভ্যন্তরীণ বলয় তৈরির অভিযোগ   একজন ডিজিএমের বিরুদ্ধে নিজস্ব প্রভাববলয় তৈরির অভিযোগও উঠেছে। বলা হচ্ছে, কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক গ্রুপ গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হলেও পরবর্তীতে তারা পুনরায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেছেন।    কী বলছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ?   এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।  সোনালী ব্যাংকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বদলি ও পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা শুধু অভ্যন্তরীণ প্রশাসন নয়, সেবার মান ও স্বচ্ছতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
নবাবগঞ্জের দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে জাল এনটিআরসিএ সনদে ২০ বছর চাকরি: তদন্তে শিক্ষিকা, ফেরত চাওয়া ১৪ লাখ টাকা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে একটি বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা জাল নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে ২০০৬ সালে নিয়োগ পান এবং এরপর থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিদর্শনে তার সনদটি ভুয়া বলে শনাক্ত হয়। পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগের প্রতিবেদনে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলেও, এরপর তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সহকারী শিক্ষকের উদ্যোগে তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এ চিঠি পাঠানো হলে সংস্থাটি জানায়, সনদটি সঠিক নয়। এতে তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং তিনি সরকারি বেতন-ভাতার জন্যও প্রাপ্য নন বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে চাকরিকালে তিনি যে মোট ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা গ্রহণ করেছেন, তা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলেও জানানো হয়। অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং সনদও পেয়েছেন। অডিট প্রতিবেদনে কেন তার সনদকে জাল বলা হয়েছে, তা তার কাছে স্পষ্ট নয়। বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পুনরায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে সনদটি জাল বলে প্রতীয়মান হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হলেও তার দপ্তরে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো কপি পৌঁছায়নি। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেছেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সহকারী (নাজির) সোহাগ
চরফ্যাশনে ইউএনও অফিস সহকারী সোহাগের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিস সহকারী ও নাজির সোহাগের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সূত্রের দাবি—দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান করে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সোহাগ তা অস্বীকার করেছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব ও অভিযোগের শুরু স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহাগ প্রায় আট বছর ধরে একই উপজেলায় কর্মরত আছেন। এ দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন প্রকল্প, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিশেষ করে গত কয়েক অর্থবছরে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ভ্যাট ও অন্যান্য হিসাব-সংক্রান্ত অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে। চেয়ারম্যান বানানোর নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এক ইউপি সদস্য আবু জাহের ফরাজীর অভিযোগ অনুযায়ী, প্যানেল চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ বা সমর্থনের বিনিময়ে জনপ্রতি কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তিনি নিজেও জমি বিক্রি করে সোহাগকে কয়েক দফায় মোট ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় তিনি অর্থ ফেরত চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সম্পত্তি ও বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি, চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া এলাকায় চারতলা একটি ভবন নির্মাণ করছেন সোহাগ। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় তার নামে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে জমি ক্রয়ের অভিযোগও উঠেছে। একজন ঠিকাদারের ভাষ্য অনুযায়ী, “এই বাড়িটি সোহাগ ভাইয়ের। কয়েক মাস ধরে নির্মাণ কাজ চলছে।” তবে এসব সম্পদের উৎস নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আরও অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের ভ্যাট সংক্রান্ত অর্থ নির্ধারিত সরকারি হিসাব বা আইডিতে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে।   সোহাগের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে নাজির সোহাগ বলেন, তার দুই ভাই প্রবাসে থাকেন এবং তাদের পাঠানো অর্থ দিয়ে তিনি জমি ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন। চেয়ারম্যান বানানোর বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভ্যাট সংক্রান্ত অর্থ যথাযথভাবে চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো রসিদ বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। প্রশাসনের অবস্থান এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। জনমনে প্রশ্ন একজন উপজেলা পর্যায়ের অফিস সহকারীর সীমিত বেতনের চাকরি থেকে কীভাবে এত সম্পদ অর্জন সম্ভব—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও অস্পষ্টতার মধ্যে পুরো বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
গণপূর্ত অধিদপ্তরের  তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলম
গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: নেপথ্যে ভাই ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল–মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–৪–এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একাধিক সূত্র, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি, কমিশন বাণিজ্য এবং একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মতো অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। দরপত্র ও প্রকল্প বণ্টনে প্রভাবের অভিযোগ সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘ সময় একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সুযোগে তিনি একটি প্রভাব বলয় গড়ে তোলেন, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে বড় প্রকল্পের কাজ পেত। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের শর্ত প্রভাবিত করা এবং নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ছিল। একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বারবার বড় অঙ্কের প্রকল্প পাওয়ায় দপ্তরের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কাজ অনুমোদন এবং বিল দ্রুত অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনিয়মের বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। পারিবারিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগের আরেকটি অংশে তার পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। বিশেষ করে তার ছোট ভাই অংকুরের নাম উল্লেখ করে কিছু সূত্র দাবি করছে, প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে ঠিকাদারি কার্যক্রমে সুবিধা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থানও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক অবস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব সূত্রগুলো আরও বলছে, তিনি ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে ছিলেন। বদলি নীতির প্রচলন থাকা সত্ত্বেও একই এলাকায় ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এর ফলে প্রকল্প বণ্টন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়তে পারে—এমন আলোচনা দপ্তরের ভেতরে রয়েছে বলে জানা যায়। মামলা ও আইনি প্রক্রিয়ার দাবি একটি অংশের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার একটি আদালতে দায়ের হওয়া একটি মামলায় (সিআর মামলা নং–১১৮/২০২৫) গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই নথিতে সরকারি তহবিল ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে আদালতের নথি, অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা এবং তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনো পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি। সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ অভিযোগপত্র ও সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ই/এম সার্কেল–৪–এর অধীনে একটি সমন্বিত প্রভাব বলয় গড়ে উঠেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে— দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বিল অনুমোদনে অনিয়ম এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে অবস্থান মো. তৈমুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত নয় এবং প্রশাসনিক জটিলতা বা প্রক্রিয়াগত বিষয়কে অনেক সময় ভুলভাবে অনিয়ম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রশ্ন সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়গুলো তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো সংস্থায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় নজরদারি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না, তবে প্রশাসনিক জবাবদিহি ও তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। সামগ্রিক চিত্র সব মিলিয়ে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সার্কেল–৪–কে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখনো মূলত বিভিন্ন পক্ষের দাবি, নথি ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগগুলোর কতটুকু সত্য এবং কতটুকু প্রমাণযোগ্য—তা নির্ধারণ করবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া। এদিকে সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক মহলে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর
বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ

বরিশাল অফিস :    বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীন (পরিচিতি নং-৩১১১৪) এর বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের নামে সাধারন মানুষদের হয়রানী।বাসা বাড়িতে প্রবেশ করে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি ,অর্থ আদায়, অর্থ না পেলে মাদকদ্রব্য দিয়ে আটকসহ ঘুষ বনিজ্য রমরমার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে জসীম উদ্দীনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর একটি বিভাগীয় মামলার আদেশে একজন অভ্যাসগত অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। তিন তিনটে বিভাগীয় মামলা হলেও বার বার ঘুষের বিনিময়ে ও ক্ষমতার প্রভাবে পার পেয়ে যান জসীম উদ্দিন। বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত হলেও জসীম উদ্দিনকে বদলী করা হয় বরিশালে। বরিশালে যোগদানের পরেই পুর্বের কর্মস্থলের মত ঘুষ আদায়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেন।বরিশালে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে এসে মাদক কারবারিদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দিন। মাদক বিক্রেতাদের পথ মসৃণ করে দিয়ে নিজের পকেটে ভরছেন মাসোহারা। বেপরোয়া উপ পরিদর্শক জসীম অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছ থেকে নেওয়া সেই মাসোহারার ভাগ পান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। যে কারণে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন উপ পরিদর্শক জসীম। বরিশালে যোগদান করার পর আগের রূপে ফিরেছেন জসীম উদ্দিন। একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, বরিশাল নগরীর চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সঙ্গে জসীমের দোস্তি সম্পর্ক রয়েছে। নগরীর রিফিউজি কলোনির ‘গাঁজাসম্রাট’ রফিকের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেন জসীম। কাউনিয়ার জোসনা, সুমি, কেডিসির নিলু, ডিজে লিটন, বাবু নাজু, আসমা-পারুল, মানিক, রুবেল, ময়না ও খলিলের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুসের টাকা নেন জসীম। নগরীতে চোলাই মদের ঘরগুলো থেকে মাসোহারা উঠান জসীম। অভিযোগ রয়েছে, মাদকসহ আটক করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আসামিদের ছেড়ে দেন তিনি। অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা? বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ নতুন নয়—বরং এটি একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকতার অংশ, যা প্রশাসনিক নথি, বিভাগীয় তদন্ত এবং স্থানীয় অভিযোগের মধ্যে এক অস্বস্তিকর সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। অতীতে একাধিক বিভাগীয় মামলায় অভিযুক্ত হওয়া, শাস্তি পাওয়া এবং তারপরও দায়িত্বে বহাল থাকা—এই ঘটনাপ্রবাহ এখন নতুন কর্মস্থলেও একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে দাবি উঠেছে। এই প্রতিবেদনে সরকারি নথি, বিভাগীয় তদন্তের তথ্য এবং সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে—একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ কীভাবে প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে টিকে থাকে এবং তার প্রভাব কী হতে পারে। অভিযোগের প্রকৃতি: অভিযানের আড়ালে অনিয়ম? স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে  হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ড ঘটছে। অভিযোগে বলা হয়— * বাড়িতে তল্লাশির সময় মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় * অর্থ দিলে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয় * অর্থ না দিলে “মাদক উদ্ধার” দেখিয়ে মামলা দেওয়া হয় এ ধরনের অভিযোগ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে, বিশেষ করে যখন অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতেও একই ধরনের অভিযোগে তদন্ত ও শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন।  নথিতে যা পাওয়া যায়: ২০২৪ সালের অফিস আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অফিস আদেশ (২০ অক্টোবর ২০২৪) অনুযায়ী, উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীন  শেরপুরে কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হন। নথিতে উল্লেখ করা হয়— * মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলা * মাসোহারা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রমে সহায়তা করা * অভিযানে জব্দ মাদক অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ * মাদকসেবীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় * অর্থের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া এছাড়া, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করলেও তিনি তা আমলে নেননি বলেও উল্লেখ করা হয়। নির্দিষ্ট একটি অভিযান: তদন্তে যা উঠে আসে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি শেরপুর সদর থানাধীন একটি এলাকায় পরিচালিত অভিযানের সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা পরবর্তীতে বিভাগীয় তদন্তের কেন্দ্রে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানের সময় মাদক সেবনকারী মোঃ মিনালকে গাঁজাসহ আটক করে মারধর করা হয়। পরে তার স্ত্রী ১০ হাজার টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে— * প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন * অভিযানে অংশগ্রহণকারী দলের সদস্যদের সনাক্ত করা গেছে * অভিযুক্ত কর্মকর্তা ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন এই ঘটনাটি শেরপুর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচিত হয়, যা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। বিভাগীয় তদন্ত ও সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। বিভাগীয় মামলা নং-০৫/২০২৪ ।  তদন্ত শেষে অভিযোগ “প্রমাণিত” বলে উল্লেখ করা হয় এবং তাকে গুরুদণ্ডযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়— * ভুক্তভোগী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন * অর্থ গ্রহণের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে * অভিযানের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই এরপর তাকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি লিখিত জবাব দাখিল করলেও তা সন্তোষজনক নয় বলে বিবেচিত হয়। পূর্বের শাস্তির ইতিহাস নথিপত্র অনুযায়ী, এটি ছিল না তার বিরুদ্ধে প্রথম বিভাগীয় ব্যবস্থা। * ২০১৯ সালে একটি মামলায় তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -১৯/২০১৯) । * ২০২১ সালে তাকে তিরস্কার দণ্ড দেওয়া হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -১২৩/২০২১)। *  ২০২৪ সালে বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিতকরণ দন্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -০৫/২০২৪ )। তবুও তার আচরণে পরিবর্তন হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয় এবং তাকে “অভ্যাসগত অপরাধী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।  চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: বরখাস্ত নয়, অবনমন যদিও তদন্তে অভিযোগ গুরুতর হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং তাকে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ উঠে আসে, শেষ পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। নথিতে উল্লেখ করা হয়— * তার ওপর পরিবারের নির্ভরশীলতা (বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, তিন সন্তান) * আর্থিক অবস্থা * “শেষবারের মতো আত্মশুদ্ধির সুযোগ” এই বিবেচনায় তাকে বেতন গ্রেডে তিন ধাপ নিচে নামিয়ে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কঠোরতা বনাম মানবিক বিবেচনার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে—বিশেষ করে যখন অভিযোগগুলো গুরুতর এবং পুনরাবৃত্ত। বরিশালে নতুন অধ্যায়: পুরোনো অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর বরিশালে যোগদানের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আবারও একই ধরনের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ— * মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ * অভিযানে পাওয়া মাদক অন্যত্র বিক্রি * মাদকসেবীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়  সাম্প্রতিক অভিযোগ: দুটি ঘটনার বিবরণ প্রথম ঘটনা:- বরিশাল নগরীর সার্কুলার রোড এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশির সময় মাদক না পেয়ে ঘরে থাকা ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে ইয়াবা দিয়ে আটক দেখানো হয় বলে দাবি। দ্বিতীয় ঘটনা: গোরস্থান রোডে এক ইট ও বালু ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশির সময় তার স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মাদক দিয়ে আটক করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই অভিযোগগুলো  পূর্বের নথিভুক্ত ঘটনার সঙ্গে মিল থাকায় তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন ফেনসিডিল বিক্রেতাকে লুৎফর রহমান সড়কের ফেনসিডিল বিক্রেতা বাবুল তালুকদারকে ছয় বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন জসীম। এর কয়েক মাস আগে বরিশাল সদর উপজেলার লাকুটিয়া সড়কে নয়ন নামের এক মাদক বিক্রেতাকে তিনশ পিস ইয়াবাসহ আটক করার পর তিন লাখ টাকার বিনিময়ে অল্প কয়েকপিস ইয়াবা দিয়ে মামলা দেন জসীম। এই ঘটনার পরপরই নগরীর পলাশপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি গাঁজা কালাম ও তার পরিবারের চারজনকে ছয় কেজি গাঁজাসহ আটক করেন তিনি। পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে তিনজনকে মুক্তি দিয়ে ছয় কেজি গাঁজার পরিবর্তে দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে গাঁজা কালামের বিরুদ্ধে মামলা দেন তিনি।  কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, তিনি তল্লাশি দলের সদস্য ছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা পূর্বের বিভাগীয় মামলা বা নতুন অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন: জবাবদিহিতা কোথায়? এই ঘটনাপ্রবাহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে— * একাধিক বিভাগীয় মামলায় দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন কঠোর শাস্তি কার্যকর হয়নি? * কেন একই ধরনের অভিযোগ নতুন কর্মস্থলেও অব্যাহত? * অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও জবাবদিহিতার কাঠামো কতটা কার্যকর? আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যখন অভিযোগের ধরন একই থাকে এবং তা সময়ের সঙ্গে পুনরাবৃত্ত হয়, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত নয়—প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার ইঙ্গিতও দিতে পারে। বৃহত্তর প্রভাব: জনআস্থা ও আইন প্রয়োগ মাদকবিরোধী অভিযান একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের সময় যদি অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা জনআস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে— * স্বচ্ছ তদন্ত * দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা * জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা —এসবই অত্যন্ত জরুরি।   বরিশালের এই ঘটনাটি কেবল একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের গল্প নয়; এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, শাস্তির কার্যকারিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার একটি উদাহরণ।   অতীতের নথিভুক্ত অভিযোগ, বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত অনিয়ম এবং বর্তমানের নতুন অভিযোগ—সব মিলিয়ে একটি প্রশ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে: **ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তা কি যথেষ্ট?** এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর—যা শুধু একটি ব্যক্তির নয়, পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে জড়িত।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
এ বি এম আব্দুস সাত্তার
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিতর্কিত মুখ্যসচিব: এ বি এম আব্দুস সাত্তার-কে ঘিরে অভিযোগ, প্রশাসনে অচলাবস্থার শঙ্কা

বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে ঘিরে নানা বিতর্ক, অভিযোগ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার আলোচনা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন মহলে তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র, সাবেক আমলা এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—তার কার্যক্রম, নিয়োগ প্রক্রিয়া, এবং ব্যক্তিগত প্রভাব বলয়ের বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এসব অভিযোগের ব্যাপকতা এবং বিস্তার প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ক্ষমতার কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা এ বি এম আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন (২০১২–২০২৪)। তাঁর মৃত্যুর পর তিনি একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক ব্যক্তি হিসেবে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত হন। নতুন সরকার গঠনের পর তাকে চুক্তিভিত্তিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়—যে পদটি প্রশাসনিক সমন্বয়, নীতি বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক: অফিসার্স ক্লাব ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অভিযোগ উঠেছে, মুখ্যসচিবের দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ও তিনি ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রয়েছেন। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দ্বৈত ভূমিকা “স্বার্থের সংঘাত” তৈরি করতে পারে। একজন সাবেক সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,  “রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা যদি একই সঙ্গে একটি বিতর্কিত ক্লাব পরিচালনা করেন, তা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে।” রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা: সমন্বয়হীনতার অভিযোগ গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত এক বড় অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠে। আমন্ত্রিত অতিথিদের ভিড়, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সমন্বয়হীনতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় বিএনপির সিনিয়র নেতা নজরুল ইসলাম খান-সহ অনেকেই ভিড়ের চাপে পড়েন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এই আয়োজনের দায়িত্ব মুখ্যসচিবের ওপর বর্তালেও, অভিযোগ রয়েছে—সংকটময় মুহূর্তে তাকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে স্থবিরতা সরকার গঠনের পর দুই মাস পার হলেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সচিব পদ শূন্য রয়েছে বলে অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে: * প্রধানমন্ত্রীর সচিব * ক্যাবিনেট সচিব * জনপ্রশাসন সচিব * অর্থ, এনবিআর, ইআরডি, এফআইডি সংশ্লিষ্ট পদ প্রশাসনের ভেতরের সূত্র দাবি করেছে, এই শূন্যপদগুলো পূরণে সিদ্ধান্তহীনতা এবং সমন্বয় ঘাটতি রয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন:  “ফাইল পড়ে আছে, সিদ্ধান্ত নেই—এটাই এখন বড় সমস্যা।” দুর্নীতির অভিযোগ ও নিয়োগ বাণিজ্য সচিবালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে যে, উচ্চপদস্থ নিয়োগে অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালেও এ বিষয়ে বিভিন্ন দাবি উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।  বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনে পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা বিতর্কিত কর্মকর্তাদের তিনি রক্ষা করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখছেন। কিছু নামও আলোচনায় এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।  বিসিবি ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তে যথাযথ ঝুঁকি বিশ্লেষণ ছাড়া অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রায় ২০০০ কোটি টাকার একটি স্থগিত ফান্ড ছাড় করার চেষ্টা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।  এলজিইডি নিয়োগ কেলেঙ্কারি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে রাতারাতি চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা প্রশাসনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। অভিযোগ অনুযায়ী: * সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় * প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেতরে গোপনে ফাইল প্রস্তুত করা হয় * রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সরকার বিব্রত হয় এবং নিয়োগ বাতিল করা হয়। অফিসার্স ক্লাব দখল ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা অফিসার্স ক্লাব দখলের অভিযোগ রয়েছে এ বি এম আব্দুস সাত্তার-এর বিরুদ্ধে। সূত্রগুলো দাবি করেছে: * ক্লাবকে তদবির বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে * পদোন্নতি, বদলি, টেন্ডার ও মামলা নিষ্পত্তিতে প্রভাব খাটানো হয়েছে * কর্মকর্তাদের ক্লাবে ডেকে চাপ প্রয়োগ করা হতো একজন কর্মকর্তা বলেন:  “ক্লাবটা এক ধরনের ‘পাওয়ার হাব’-এ পরিণত হয়েছিল।”  আর্থিক অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হতো। এমনকি “কাজ না হলেও টাকা ফেরত না দেওয়া” নিয়ে অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়। অফিসার্স কল্যাণ ফান্ড ও অগ্নিকাণ্ড সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো অফিসার্স কল্যাণ ফান্ড দখল এবং পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সূত্র অনুযায়ী: * ফান্ড থেকে অর্থ তছরুপের অভিযোগ ছিল * গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করতে আগুন দেওয়া হয় * ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয় এই ঘটনায় তদন্ত সংস্থা কাজ করলেও, অভিযোগ রয়েছে—পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে।  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রভাব তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে: * ব্যাংকের পরিচালক পদ * শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি * হাসপাতাল পরিচালনা একটি স্কুলে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষা করার অভিযোগও সামনে এসেছে, যদিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।  গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তি একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তির কথাও উঠে এসেছে। সূত্র বলছে, তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।  প্রশাসনিক অচলাবস্থা: বাস্তবতা না অতিরঞ্জন? সমালোচকদের মতে, এই সব ঘটনার সম্মিলিত প্রভাব প্রশাসনের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে: * ফাইল আটকে থাকা * সিদ্ধান্তহীনতা * কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মূল্যায়ন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রশ্নের মুখে নেতৃত্ব এ বি এম আব্দুস সাত্তার-কে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো প্রশাসনের ভেতরে আস্থার সংকট তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এগুলোর অধিকাংশই অভিযোগ ও সূত্রভিত্তিক তথ্য, যেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং যাচাই প্রয়োজন। রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে এমন বিতর্ক দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, নীতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ভিআইপি প্রটোকল
ভিআইপি নিরাপত্তায় বিতর্কিত নিয়োগ: দেহরক্ষীদের নিয়ে অস্বস্তিতে সরকার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের একটি অংশকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এদের অনেকেই পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন—যা বর্তমান সরকারের নিরাপত্তা কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগ ওঠার পর অন্তত ১২ জন দেহরক্ষীকে ইতোমধ্যে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৩০ জনকে নিয়ে চলছে যাচাই-বাছাই।  নিয়োগে নীতিগত সিদ্ধান্ত, বাস্তবে ব্যত্যয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথের আগেই একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল—পূর্ববর্তী সরকারের সময় দায়িত্বে থাকা কোনো দেহরক্ষীকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, তদবির, সুপারিশ—এমনকি কিছু ক্ষেত্রে উৎকোচের বিনিময়ে—সেই সিদ্ধান্ত ভেঙে বিতর্কিত ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)-এর প্রধান সরদার নুরুল আমিন বলেন,  “দেহরক্ষী নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছে, অন্যদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”  কারা এই দেহরক্ষীরা? পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় মোট ১১১ জন পুলিশ সদস্যকে গানম্যান বা দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে উঠে এসেছে—এদের একটি বড় অংশই আগের সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সেই সময়ের মন্ত্রীদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে: * ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন * রাজনৈতিক ‘কোটা’ বা সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছিলেন * সাবেক এমপি বা নেতাদের আত্মীয়স্বজন নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই ধরনের নিয়োগ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্যের গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী: * ভিআইপিদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনে অনেক দেহরক্ষীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে * বিষয়টি আইজিপিকে অবহিত করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানানো হয় * কয়েকজনকে দ্রুত প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে একই ব্যক্তি, ভিন্ন সরকার—একই দায়িত্ব তদন্তে দেখা গেছে, অনেক দেহরক্ষী বিভিন্ন সরকারের সময় একই ধরনের দায়িত্বে বহাল ছিলেন। উদাহরণ হিসেবে: * একজন কনস্টেবল আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীর দেহরক্ষী ছিলেন, পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমানে স্পিকারের নিরাপত্তায় * আরেকজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রীর অধীনে দায়িত্ব পালন করছেন এমন একাধিক উদাহরণ প্রশাসনের ভেতরে ধারাবাহিক প্রভাব ও নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  বিশেষজ্ঞদের মত টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন,  “পুলিশ এখনো পুরোপুরি পেশাদার হয়নি। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি এড়িয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন।” সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন,  “নিয়োগ যদি দলীয় বিবেচনায় হয়, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।”  চলমান পদক্ষেপ এসবির তথ্যমতে: * অন্তত ১২ জন দেহরক্ষী ইতোমধ্যে বদলি হয়েছেন * আরও অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে * নিয়মিত ভেটিং প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়েছে সরদার নুরুল আমিন বলেন, > “প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।”  বড় প্রশ্ন এই ঘটনার পর মূল প্রশ্নগুলো সামনে আসছে: * ভিআইপি নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত? * নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব কি? * পুলিশ বাহিনী কি সত্যিই দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে—রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর জনআস্থা কতটা টিকে থাকবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে একটি কুকুরকে কুমিরের টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি
বাগেরহাটে কুমিরের আক্রমণে কুকুরের মৃত্যু: জলাতঙ্ক আক্রান্ত ছিল, টোপ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বাগেরহাটের খানজাহান (রহ.) মাজার দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে কুকুরের মৃত্যু: জলাতঙ্ক আক্রান্ত ছিল বলে জানাল তদন্ত কমিটি, ‘টোপ হিসেবে ব্যবহারের’ অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি । বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় ওঠা নানা অভিযোগের সত্যতা পায়নি জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গত ৮ এপ্রিল বিকেলে দিঘির প্রধান ঘাট থেকে একটি কুকুরকে টেনে পানিতে নিয়ে যায় একটি কুমির। ঘটনাটির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপর কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়া এবং টোপ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। তবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে যায় এবং সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে ঠেলে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রধান ও বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহায়তায় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বিভিন্ন প্রমাণ বিশ্লেষণে কুকুরটিকে ইচ্ছা করে কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত দিঘিতে পড়ে যায় এবং প্রাণীটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল।” তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কুকুরটি একাধিক ব্যক্তিকে কামড় দিয়েছিল। মাজারের নিরাপত্তা প্রহরীসহ আক্রান্ত কয়েকজন ইতোমধ্যে টিকা নিয়েছেন বলে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এর আগে ১১ এপ্রিল প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয় এবং নমুনা ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পাঠানো হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, সিডিআইএল-এর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল। তিনি আরও বলেন, “যাদের কুকুরটি কামড় দিয়েছে, তারা টিকা নিয়েছেন। তাই তাদের ঝুঁকি কম। তবে টিকা না নিলে ঝুঁকি থাকতে পারত।” তিনি যোগ করেন, কুমিরের জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই, কারণ এটি হিংস্র প্রাণী এবং এ ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি তার ক্ষেত্রে কার্যত নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0