Brand logo light

দুর্নীতি তদন্ত

বিদেশে পাচার অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ, টার্গেটে এস আলম-বেক্সিমকোসহ আলোচিত গ্রুপ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক আইনি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ব্যাংক খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং খেলাপি ঋণের মাধ্যমে বিদেশে সরিয়ে নেওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হচ্ছে। অর্থাৎ উদ্ধার কার্যক্রম সফল হলে তবেই তারা পারিশ্রমিক পাবে। কেন এই উদ্যোগ? গত এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত সংস্থাগুলোর নজরে আসে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের অর্থ পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করা হয়েছে। প্রথম ধাপে যাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অর্থমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ব্যবসায়ী এস আলম। এছাড়া বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট মামলাও রয়েছে এই তালিকায়। আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য শনাক্ত করবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থপাচার মামলায় বিদেশি আদালত, ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সহযোগিতা ছাড়া সম্পদ উদ্ধার প্রায় অসম্ভব। ফলে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের বাস্তব চিত্র সংসদে দেওয়া তথ্যে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখের বেশি। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব ১৭ কোটি ৭৯ লাখ এবং ঋণ হিসাব প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ জুন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার জরুরি সহায়তা দিয়েছে। বর্তমানে দেশে ৬৩টি ব্যাংক ১১ হাজারের বেশি শাখা এবং প্রায় ৫ হাজার উপশাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন লক্ষ্য সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ জন্য জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণ ও রাজস্বের চিত্র অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কনসেশনাল এবং ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নন-কনসেশনাল ঋণ। এদিকে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখ ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি। তবে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক একীভূতকরণ ও আমানত সুরক্ষা ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে রেজোল্যুশন স্কিমের আওতায় আনা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, আমানত সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। অর্থপাচারবিরোধী লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত, আদালতের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে তবেই এই উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা নির্ধারিত হবে। সরকার ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রথম ধাপের কার্যক্রমের পর আরও বড় পরিসরে অর্থপাচার ও সম্পদ পুনরুদ্ধার অভিযান সম্প্রসারণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
তৃণমূলের ৪৪০ কোটি রুপি জব্দ: অর্থের উৎসের তদন্ত দাবিতে দলীয় দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-এর তিনটি ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি জব্দ হওয়ার ঘটনায় দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে। অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একটি বেসরকারি ব্যাংকে রক্ষিত তৃণমূলের তিনটি হিসাবের ওপর ‘ডেবিট ফ্রিজ’ আরোপ করা হয়েছে। ফলে এসব হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন বা অন্যত্র স্থানান্তর করা যাবে না। তবে নতুন অর্থ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকছে না। এই হিসাবগুলোতে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৭১ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে অর্থের উৎস ঘটনার সূত্রপাত হয় দলের বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত ১০ জন বিধায়কের অভিযোগের পর। তারা বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দাখিল করে হিসাবগুলোর আর্থিক লেনদেন এবং অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি জানান। অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—হিসাবগুলোতে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈধ উৎস থেকে এসেছে, নাকি অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে। অভিযোগকারীরা সম্ভাব্য ঘুষ বা ‘কাটমানি’ আদায়, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারি থেকে প্রাপ্ত অর্থ এসব হিসাবে জমা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পরিস্থিতিগত সূত্র থেকে এমন ধারণা পাওয়া গেছে যে প্রভাব খাটানো, অসাধু আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহজনক অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে অর্জিত কিছু অর্থ এসব হিসাবে স্থানান্তর করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং তদন্তও এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচনী পরাজয়ের পর ক্ষমতার লড়াই সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলটির সাংগঠনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ আরেকটি গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক হিসাব জব্দের ঘটনাটি কেবল আর্থিক তদন্তের বিষয় নয়; বরং দলীয় ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। অরূপ বিশ্বাসের চিঠি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বর্তমান বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কয়েকদিন আগেই অরূপ বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়ে দলীয় হিসাবগুলো সুরক্ষিত রাখার এবং সব ধরনের লেনদেন স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের বিভিন্ন হিসাবে প্রায় ৫০০ কোটিরও বেশি টাকা রয়েছে। নেতৃত্বসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অর্থ পরিচালনা না করার আহ্বানও জানান তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, হিসাবগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দলের ভেতরে যে বিরোধ চলছে, তা কি এখন আইনগত ও ফৌজদারি তদন্তের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে? কোষাধ্যক্ষ নিয়ে বিরোধ তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা কুণাল ঘোষ অরূপ বিশ্বাসের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তার দাবি, অরূপ বিশ্বাস বর্তমানে দলের কোষাধ্যক্ষ নন এবং দলীয় আর্থিক বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ারও তার নেই। কুণাল ঘোষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সুবাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনিই দলীয় আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই বক্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব ও আর্থিক কর্তৃত্ব নিয়ে বিদ্যমান বিভাজনের বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। রাজনৈতিক ও আইনি প্রভাব কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, তদন্তে যদি অর্থের উৎস নিয়ে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা শুধু তৃণমূলের জন্য নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্যও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, অভিযোগগুলো যদি দলীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অংশ হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা তৃণমূলের সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা ও জনসমর্থনের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এখন নজর থাকবে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কারণ, ৪৪০ কোটি রুপির এই হিসাবগুলোকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, তার উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও আর্থিক অবস্থান।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
বেনজীর আহমেদ।
বেনজীরকে ফেরাতে দুবাইয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাকে জামিনে মুক্ত করার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে শুরু হয়েছে সমান্তরাল আইনি লড়াই। একদিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল প্রত্যর্পণের পক্ষে আদালতে নথিপত্র জমা দিয়েছে, অন্যদিকে বেনজীরের আইনজীবীরা তার মুক্তির আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। দুবাই ও বাংলাদেশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ের আল আওয়ার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ, ইন্টারপোলের নোটিশ এবং প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথি যাচাই-বাছাই করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জামিনের আবেদন, কিন্তু সিদ্ধান্ত নয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুবাই কোর্ট অব আপিলে বেনজীর আহমেদের পক্ষে জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। একই দিনে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রতিনিধি দলও আদালতে পৃথক আবেদন জমা দেয়, যেখানে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের পক্ষে যুক্তি ও নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত উভয় পক্ষের আবেদন গ্রহণ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। বরং অভিযোগ, ইন্টারপোল নোটিশ, দুদকের মামলার নথি এবং দুবাইয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য সময় নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, এই প্রক্রিয়ায় অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। কী বলছেন বেনজীরের আইনজীবীরা? বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগ, তার দুবাইয়ে অবস্থানের কারণ এবং জামিনের পক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ সব নথি দুবাইয়ের পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। যদিও আদালত আবেদন গ্রহণ করেছে, তবে জামিন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে তা জানিয়ে দেওয়া হবে। বেনজীরের আইনজীবীদের দাবি, আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে জামিনে মুক্ত করার লক্ষ্যে আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুবাইয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্তত পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে দুবাই পৌঁছেছে। দলটিতে রয়েছেন— এনসিবি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) বা ইন্টারপোল-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা; পুলিশ সদর দপ্তরের তিন কর্মকর্তা; দুটি পৃথক গোয়েন্দা সংস্থার দুই প্রতিনিধি। মঙ্গলবার তারা আদালতে দুদকের মামলা, ইন্টারপোল নোটিশ এবং বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের নথি জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি দুবাইয়ের বিচারিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি সমন্বয়ও করছেন। দুবাইয়ের আইনে কী হতে পারে? দুবাইয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দায়িত্বে অতীতে কর্মরত ছিলেন—এমন একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে প্রথমে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রসিকিউশন কয়েকটি বিষয় যাচাই করে— ইন্টারপোলের রেড নোটিশ বৈধ কি না; অভিযোগকারী রাষ্ট্রের নথিপত্র যথাযথ কি না; প্রত্যর্পণের আইনি ভিত্তি রয়েছে কি না। প্রাথমিক যাচাইয়ের পর মামলাটি পাঠানো হয় দুবাই কোর্ট অব আপিলে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০০৬ সালের ৩৯ নম্বর ফেডারেল আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত মামলার প্রাথমিক শুনানির এখতিয়ার এই আদালতের। জামিন পেতে কী শর্ত পূরণ করতে হতে পারে? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারপোল-সংক্রান্ত প্রত্যর্পণ মামলায় সাধারণত অভিযুক্তের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। এছাড়া আদালত চাইতে পারে— একজন নির্ভরযোগ্য আমিরাতি নাগরিককে জামিনদার হিসেবে; উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আর্থিক বন্ড; আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করার মুচলেকা। এসব শর্ত পূরণ হলেও আদালত জামিন দেবেন কি না, তা নির্ভর করে মামলার প্রকৃতি ও বিচারকের মূল্যায়নের ওপর। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া কতটা দীর্ঘ? দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী, আদালত যদি প্রত্যর্পণের পক্ষে রায়ও দেন, তবুও সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে হস্তান্তর করা হয় না। প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো হলো— কোর্ট অব আপিলের রায়; প্রয়োজন হলে কোর্ট অব ক্যাসেশনে আপিল; সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচার মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক অনুমোদন; চূড়ান্ত প্রত্যর্পণ কার্যকর। ফলে আদালতের সিদ্ধান্তের পরও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও সময় লাগতে পারে। আগামী ১০ দিন গুরুত্বপূর্ণ পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার যেমন বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি তার পক্ষে জামিনের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষায়, “আগামী ১০ দিনের মধ্যে দুবাই আদালতের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।” তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইজিপি, এনসিবি বা পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অ্যাডমিন) একেএম আওলাদ হোসেনও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। সামনে কোন তিনটি সম্ভাবনা? বর্তমান পরিস্থিতিতে বেনজীর আহমেদের মামলায় তিনটি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে— প্রথমত, আদালত জামিন মঞ্জুর করতে পারেন, তবে তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। দ্বিতীয়ত, আদালত প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধ হিসেবে অভিযোগগুলো গ্রহণ করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। তৃতীয়ত, আইনি আপিল ও প্রশাসনিক অনুমোদনের জটিলতায় পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে। ফলে সাবেক এই পুলিশ প্রধানের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে দুবাইয়ের আদালত, ইন্টারপোল নোটিশের আইনি বৈধতা এবং বাংলাদেশ সরকারের উপস্থাপিত নথিপত্রের ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর আলী
এলজিইডির আরইউটিডিপি প্রকল্প: দুর্নীতির তদন্তের মধ্যেই সাবেক পিডির পুনর্নিয়োগ চেষ্টার অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরিচালিত এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সহনশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প (RUTDP)-এর সাবেক প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর আলীর বিরুদ্ধে নিয়োগ, কনসালটেন্সি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই অবসর-উত্তর ছুটিতে (পিআরএল) থাকা এই কর্মকর্তাকে পুনরায় একই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিষয়টি ঘিরে এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পিআরএলের পরও একই পদে ফেরার চেষ্টা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রকৌশলী মঞ্জুর আলীর পিআরএল শুরু হয় গত বছরের ১০ অক্টোবর। এরপর থেকেই তিনি পূর্বের দায়িত্বে ফেরার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি ফাইল বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কী এই আরইউটিডিপি প্রকল্প? বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং এলজিইডির ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) অনুযায়ী, আরইউটিডিপি বা "সহনশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প" দেশের বিভিন্ন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে অবকাঠামো উন্নয়নকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পের চুক্তি ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে রাস্তা, ড্রেনেজ, স্ট্রিট লাইটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণকাজ এবং টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন প্রকৌশলী মঞ্জুর আলী। ২৫০ জনের নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, পিআরএলে যাওয়ার আগে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৫০ জন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সহকারী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী, কার্যসহকারী, সোসিওলজিস্ট এবং হিসাব সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কাছ থেকে পদভেদে কয়েক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে তার ভাই মো. রাজুর মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হতো এবং অর্থ দেওয়ার পরও অনেকে চাকরি পাননি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মঞ্জুর আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কনসালটেন্সি খাতে ৩৭০ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী কনসালটেন্সি খাতে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, বড় অঙ্কের কমিশন বা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ইফতিশা, অ্যাকুয়া কনসালটেন্সি, ডেপকো এবং ডিপিএম নামের চারটি প্রতিষ্ঠানকে কনসালটেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক লাখ টাকা মাসিক বেতনের স্বতন্ত্র কনসালটেন্ট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া হাজিরা ও প্রকল্পবহির্ভূত ব্যক্তিকে বেতন দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগের তালিকায় রয়েছে আরও কয়েকটি গুরুতর বিষয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদিত পদে লোকবল নিয়োগ না দিয়েও হাজিরা দেখিয়ে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন—এমন ব্যক্তিদেরও প্রকল্পভুক্ত কর্মচারী দেখিয়ে বেতন পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে। সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়ও। অভিযোগ অনুযায়ী, অনিয়ম ও আর্থিক জালিয়াতির মাধ্যমে রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, মধুমতি মডেল টাউনে একটি প্লট এবং ঢাকার বিরুলিয়া এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ক্রয় করা হয়েছে। এ ছাড়া তার ভাই প্রকৌশলী রাজুর নামেও একাধিক ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। দুদকের অনুসন্ধান কোথায় দাঁড়িয়েছে? দুর্নীতি দমন কমিশন ইতোমধ্যে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। দুদকের উপপরিচালক আজিজুল হক জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, আউটসোর্সিং ও কনসালটেন্সি নিয়োগের শুরু থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন, নিয়োগবিধি এবং সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র এলজিইডির কাছে চাওয়া হয়েছে। পুরোনো প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ শুধু আরইউটিডিপি নয়, এর আগে এমজিএসপি প্রকল্পে উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালের সময়ও প্রকল্প সমাপ্তির পর উদ্বৃত্ত অর্থ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে প্রকৌশলী মঞ্জুর আলীর বিরুদ্ধে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্বেগ অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় তাকে পুনরায় একই পদে নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে এলজিইডির অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের তদন্ত চলছে, তাকে পুনরায় দায়িত্বে আনা হলে অধীনস্থদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যাবে এবং প্রকল্পের কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বক্তব্য মেলেনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর আলীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড
এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা

বরিশাল অফিস : একসময় দেশের শিল্পখাতে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল বরিশাল ভিত্তিক অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। খান সন্স ভবন, ৫১ কাঠপট্টি রোডে করপোরেট অফিস এবং রূপাতলীতে কারখানা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বিদশে অর্থ পাচারের কারনে এখন ভয়াবহ আর্থিক সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং ব্যাংক ঋন খেলাপী,বিদ্যুৎ বিল বকেয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন,কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়ায় কর্ম বিরতি, ৩ দেশে অর্থপাচার করে সম্পদের পাহাড় বানানো,৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি,সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়া,ঈদুল আজহার পরে স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেয়ার পায়তারা,ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়াসহ গুরুতর অভিযোগে আলোচনায় এসেছে।   ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ,তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা   ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় কাগজপত্রসহ অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে কাস্টমস,ও ভ্যাট বিভাগ। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে এ্যাংকর সিমেন্টের  শুল্ক ফাঁকি, ভ্যাট জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে নজরধারী ও তদন্ত শুরু করেছে।  বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে। বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা   অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা,দুদকের অনুসন্ধান,ভ্যাট ফাঁকি ও সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ার ফলে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়ায়,ব্যাংক ঋন বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া, ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে তাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।তারা এই তিন দেশের কোন এক দেশে যাবেন বলে সুত্র জানায়।   জুলিয়া রহমান-আনিকা রহমান - রিফাত                                                                                                                                                        ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ   পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ   সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক প্রবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাত। এরপর থেকেই কোম্পানির অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু  করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, জুলিয়া রহমান হুন্ডির মাধ্যমে ও আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ এসেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে। একইসঙ্গে জুলিয়া রহমান অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—৫১ চার্চ স্ট্রিট, সেন্ট জন’স, অ্যান্টিগুয়া।   কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অন্যদিকে আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ। বন্ধ রয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও ব্যাগ ফ্যাক্টরী                                                                                                                            ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ              ব্যাংক ঋণ  সংকটে ও উৎপাদন বন্ধ   জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঋণের অর্থ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়েছে। বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকায় এখন কর্ম বিরতি চলছে।   নতুন ঋণের জন্য জাল কাগজ তৈরির অভিযোগ   এদিকে অভিযোগ রয়েছে, নতুন করে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু জমির জাল কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজও চলছে। এ কাজে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।   বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি   সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত এর বিদেশ গমনের পথ বন্ধ করে  তাদের আটক করে এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে দুদক ও ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করলে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা ।   আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ , তদন্তের দাবি   তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত দাবি করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও ব্যাংক খাতকে রক্ষা করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের শিল্পখাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ্যাংকর সিমেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নয়; বরং এটি করপোরেট সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনছে। এক কথায় এই অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের গল্প শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পতনের নয়, বরং নৈতিকতার, প্রজ্ঞার, এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা।   এ্যাংকর সিমেন্টে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! বিদেশে সম্পদের পাহাড়, তদন্তে দুদক বরিশালের সিমেন্ট সাম্রাজ্যে ধস: ব্যাংক ঋণ থেকে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি! ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি? এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে তোলপাড় বেতন নেই, উৎপাদন বন্ধ, বিদেশে সম্পদ—সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর শঙ্কা কোম্পানি কর্তাদের সিমেন্ট কোম্পানি নাকি অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাই-লন্ডন-নিউইয়র্কে সম্পদ, দেশে বন্ধ কারখানা! প্রশ্নের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ডিলারদের কোটি টাকা আটকে, তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ও দুদক     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
জুলিয়া রহমান-আনিকা রহমান - রিফাত
এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা

বরিশাল অফিস : একসময় দেশের শিল্পখাতে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল বরিশাল ভিত্তিক অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। খান সন্স ভবন, ৫১ কাঠপট্টি রোডে করপোরেট অফিস এবং রূপাতলীতে কারখানা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বিদশে অর্থ পাচারের কারনে এখন ভয়াবহ আর্থিক সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং ব্যাংক ঋন খেলাপী,বিদ্যুৎ বিল বকেয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন,কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়ায় কর্ম বিরতি, ৩ দেশে অর্থপাচার করে সম্পদের পাহাড় বানানো,৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি,সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়া,ঈদুল আজহার পরে স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেয়ার পায়তারা,ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়াসহ গুরুতর অভিযোগে আলোচনায় এসেছে।   ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ,তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা   ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় কাগজপত্রসহ অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে কাস্টমস,ও ভ্যাট বিভাগ। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে এ্যাংকর সিমেন্টের  শুল্ক ফাঁকি, ভ্যাট জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে নজরধারী ও তদন্ত শুরু করেছে।  বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে। বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা   অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা,দুদকের অনুসন্ধান,ভ্যাট ফাঁকি ও সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ার ফলে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়ায়,ব্যাংক ঋন বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া, ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে তাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।তারা এই তিন দেশের কোন এক দেশে যাবেন বলে সুত্র জানায়।   জুলিয়া রহমান-আনিকা রহমান - রিফাত                                                                                                                                                        ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ   পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ   সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক প্রবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাত। এরপর থেকেই কোম্পানির অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু  করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, জুলিয়া রহমান হুন্ডির মাধ্যমে ও আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ এসেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে। একইসঙ্গে জুলিয়া রহমান অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—৫১ চার্চ স্ট্রিট, সেন্ট জন’স, অ্যান্টিগুয়া।   কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অন্যদিকে আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ। বন্ধ রয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও ব্যাগ ফ্যাক্টরী                                                                                                                            ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ              ব্যাংক ঋণ  সংকটে ও উৎপাদন বন্ধ   জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঋণের অর্থ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়েছে। বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকায় এখন কর্ম বিরতি চলছে।   নতুন ঋণের জন্য জাল কাগজ তৈরির অভিযোগ   এদিকে অভিযোগ রয়েছে, নতুন করে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু জমির জাল কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজও চলছে। এ কাজে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।   বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি   সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত এর বিদেশ গমনের পথ বন্ধ করে  তাদের আটক করে এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে দুদক ও ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করলে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা ।   আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ , তদন্তের দাবি   তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত দাবি করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও ব্যাংক খাতকে রক্ষা করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের শিল্পখাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ্যাংকর সিমেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নয়; বরং এটি করপোরেট সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনছে। এক কথায় এই অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের গল্প শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পতনের নয়, বরং নৈতিকতার, প্রজ্ঞার, এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা।   এ্যাংকর সিমেন্টে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! বিদেশে সম্পদের পাহাড়, তদন্তে দুদক বরিশালের সিমেন্ট সাম্রাজ্যে ধস: ব্যাংক ঋণ থেকে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি! ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি? এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে তোলপাড় বেতন নেই, উৎপাদন বন্ধ, বিদেশে সম্পদ—সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর শঙ্কা কোম্পানি কর্তাদের সিমেন্ট কোম্পানি নাকি অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাই-লন্ডন-নিউইয়র্কে সম্পদ, দেশে বন্ধ কারখানা! প্রশ্নের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ডিলারদের কোটি টাকা আটকে, তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ও দুদক     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
মনিরের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ
ঢাকা কলেজের কর্মচারী মনিরের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

ঢাকা কলেজের কর্মচারী মনিরের বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা কলেজের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র, অভিযোগকারী এবং এলাকাবাসীর দাবি—দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে তিনি নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি এবং মনিরুজ্জামান মনিরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। পরিচয়ের আড়ালে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ঢাকা কলেজে কর্মরত থাকলেও বিভিন্ন সময়ে মনির নিজেকে সাংবাদিক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা কিংবা শিক্ষা অফিসের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করতেন। শিক্ষা বিভাগের ভেতরেও তাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পদের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কালশী এলাকায় একটি বহুতল ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে মনিরের। এছাড়া মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১,৭৮০ বর্গফুট আয়তনের একটি অভিজাত ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সরকারি বেতনের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস ও বৈধতা যাচাইয়ে সরকারি তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ব্যাংকে কোটি টাকার আমানতের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে মনিরের প্রথম স্ত্রী রিমান নামে কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র, এফডিআর এবং ব্যাংক আমানত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং অস্বচ্ছ লেনদেনের মাধ্যমে এসব অর্থের উৎস তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিংবা মনিরের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চুয়াডাঙ্গায় ‘সম্পদের সাম্রাজ্য’ নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গাতেও মনিরের বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শহরের মুসলিমপাড়ায় প্রায় ১৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি বাগানবাড়ি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এছাড়া শহরের লিনার মোড় এলাকায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পত্তির মালিকানা থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, চুয়াডাঙ্গা শহরে দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে একটি চারতলা ভবনও নির্মাণ করেছেন তিনি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—সরকারি চাকরিজীবীর সীমিত আয়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব? ভয়ভীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ মনিরের বিরুদ্ধে শুধু সম্পদ অর্জনের অভিযোগই নয়, রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষা বিভাগের ভেতরে তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত বিরোধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের মতো ঘটনাতেও তার নাম এসেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, এক ভ্যানচালকের স্ত্রীকে জোরপূর্বক নিজের কাছে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে ওই ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। এছাড়াও নারী কেলেঙ্কারি, অনৈতিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে। তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর মনিরুজ্জামান মনিরের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব, জমি, ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একজন সাধারণ কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া অস্বাভাবিক। তাই তার সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা জরুরি।” তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত মনিরুজ্জামান মনিরের ব্যক্তিগত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
কাস্টমসের ঝাড়ুদার সৈয়দ আলীর ৪০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
কাস্টমস ট্রাইব্যুনালের নৈশপ্রহরী থেকে কোটিপতি: সম্পদের রহস্য ঘিরে অনুসন্ধান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের এক নৈশপ্রহরী—যার চাকরিজীবন শুরু হয়েছিল দৈনিক ২০০ টাকার ঝাড়ুদার হিসেবে—বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত একজন প্রভাবশালী কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে, যদিও তার সরকারি পদ নিম্নপদস্থ কর্মচারীর। অনুসন্ধানে জানা যায়, সৈয়দ আলী ওরফে সবুজ প্রথমে মতিঝিলের দিলকুশায় জীবন বীমা টাওয়ারে অবস্থিত ট্রাইব্যুনালে মাস্টার রোলে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে স্থায়ীভাবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নৈশপ্রহরীর পদে নিযুক্ত হন। তবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় তার পরিচিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন—সেখানে তিনি নিজেকে উচ্চপদস্থ কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অল্প আয়ের চাকরি থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় তার একাধিক বাড়ি রয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে দুটি দোতলা ভবন, ৫ তলা একটি ভবন, ৬ কাঠার জমিতে একতলা পাকা দালান ও ২০ কক্ষের টিনশেড ঘর। এছাড়া একই এলাকায় আরও একটি বহুতল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। শুধু নারায়ণগঞ্জেই নয়, ঢাকার রায়েরবাগে একটি মূল্যবান ফ্ল্যাট এবং রূপগঞ্জের গাউসিয়া এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫ কাঠার একটি বাণিজ্যিক প্লটের মালিকানার তথ্যও পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এসব সম্পদের মোট মূল্য অন্তত ১০ কোটি টাকা। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে সৈয়দ আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া যায়। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তার স্ত্রী বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেন এবং সম্পত্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জানান, এসব সম্পদ ঋণের মাধ্যমে অর্জিত। তবে কোনো ঋণের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। পরে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান। অন্যদিকে, সৈয়দ আলী দাবি করেন, এসব সম্পদের মালিক তিনি নন; তার ভাই ও শ্যালক বিদেশে থাকেন এবং সম্পদ তাদের। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং ফোনালাপে তিনি বারবার ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার ইঙ্গিতপূর্ণ অনুরোধ জানান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সৈয়দ আলীর আর্থিক প্রভাব ও আচরণ নিয়ে এলাকায় ভীতি কাজ করে। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর পক্ষে কীভাবে এত বিপুল সম্পদ অর্জন সম্ভব? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী
রিমান্ডে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী: এক-এগারোর নেপথ্যের সামরিক-বেসামরিক কুশীলবদের নাম ফাঁস

ঢাকা: রিমান্ডে থাকা সাবেক প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে এক-এগারো সরকারের নেপথ্যের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। ডিবি সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক-এগারোর সময় সক্রিয় থাকা সামরিক ও বেসামরিক বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে অনেকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে হটিয়ে সেনা-সমর্থিত সরকার প্রতিষ্ঠায় নেপথ্যে ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের পদ থেকে চাপ প্রয়োগ করে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি ‘চা-চক্র’। ওই দিন তার বাসভবনে কয়েকজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেই বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে ডিবি। তিনি আরও জানিয়েছেন, ওই দিন সেখানে তিন বাহিনীর প্রধানসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তাদের। ডিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তদন্তের অগ্রগতিতে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে পৃথক তদন্ত শুরু করতে পারে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, অভিযোগ রয়েছে—এক-এগারো সরকারের সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী রাজনৈতিক নেতাদের নির্যাতন এবং তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের দেশছাড়া করার লক্ষ্যে ‘মাইনাস-টু’ ফর্মুলা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। এর মাধ্যমে সেনা-সমর্থিত সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সম্প্রতি রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানি লন্ডারিং, মানব পাচার ও প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে অন্তত ১১টি মামলার তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। একটি মানব পাচার মামলায় আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
সাবেক এমপি মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী-ছেলে
সাবেক এমপি মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা | ৫১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী:   বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্নীতির আরেকটি আলোচিত ঘটনায় পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পিরোজপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এসব মামলা করা হয়। দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, অনুসন্ধানে দেখা গেছে—দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়ে মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে, যার বড় অংশেরই বৈধ আয়ের উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় প্রায় ৫১ কোটি টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   আরও পড়ুন: * ৩০০ কোটির অবৈধ সম্পদ: সাবেক এমপি মহারাজ ও পরিবারের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দুদকের * কাগজে ১২৮ সেতু, বাস্তবে নেই একটিও! মহিউদ্দীন মহারাজ পরিবারের ২৩৬ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ * পিরোজপুর এলজিইডিতে ১,৬৪৭ কোটি টাকার দুর্নীতিও ‘লুটতরাজ’, নেপথ্যে হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল সিন্ডিকেট * এলজিইডির শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও বহাল তবিয়তে   ১২ বছরে সম্পদের পাহাড় মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মহিউদ্দীন মহারাজ নিজের নামে ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, মার্কেট ও দোকান ক্রয় করেছেন। দুদকের হিসাব অনুযায়ী এসব স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া তার নামে রয়েছে— বিভিন্ন ব্যাংকে বড় অঙ্কের সঞ্চয় ব্যবসায় বিনিয়োগ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার দুটি বিলাসবহুল গাড়ি এসব অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে একই সময়ে তার পরিবারের ব্যয় হিসাব করা হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ফলে মোট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আয়ের উৎস মাত্র ৩ কোটি টাকা দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই বিশাল সম্পদের বিপরীতে মহিউদ্দীন মহারাজের গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই অর্থের বড় অংশ অবৈধভাবে অর্জিত এবং পরে বিভিন্ন ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে এর উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যাংক লেনদেনেই সন্দেহ দুদকের তথ্য অনুযায়ী, মহিউদ্দীন মহারাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলোতে বিপুল অঙ্কের লেনদেন পাওয়া গেছে। তদন্তে উঠে এসেছে— প্রায় ৫৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা জমা বিভিন্ন ব্যাংক শাখার মাধ্যমে প্রায় ৫৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা স্থানান্তর এই অর্থের বড় অংশ বিভিন্ন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করছে দুদক। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের লেনদেন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় অপরাধ। স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ মহিউদ্দীন মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করেছে দুদক। মামলার এজাহার অনুযায়ী, তার নামে রয়েছে— জমি, ফ্ল্যাট ও দোকানসহ প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ব্যাংক সঞ্চয় ও ব্যবসায় বিনিয়োগসহ প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। পারিবারিক ব্যয়সহ মোট হিসাব দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। কিন্তু তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ২ কোটি ৬ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুদক বলছে, গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও তার নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষার্থী ছেলের নামেও সম্পদ মহিউদ্দীন মহারাজের ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ইফতির নামে রয়েছে— জমি ও দোকানসহ প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ব্যাংক সঞ্চয় ও বিনিয়োগসহ প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। কিন্তু তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুদকের দাবি, ইফতি একজন শিক্ষার্থী হওয়ায় তার নিজস্ব আয়ের উৎস থাকার কথা নয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, মহিউদ্দীন মহারাজের অবৈধ উপার্জনের অর্থ তার ছেলের নামে দেখিয়ে বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ দুদক জানিয়েছে, পিরোজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের নির্দেশে মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের নামে থাকা সম্পদ ইতোমধ্যে ক্রোক (জব্দ) করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে তদন্ত চলাকালে সম্পদ বিক্রি বা স্থানান্তর করা না যায়। এলজিইডি প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অভিযোগ দুদক সূত্র জানিয়েছে, মহিউদ্দীন মহারাজের বিরুদ্ধে এর আগেও বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে অংশ নিয়ে কাজ না করেই প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আরও আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে।   মহিউদ্দীন মহারাজ পিরোজপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগেও আলোচনায় ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিষয়ে এখনো তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও মানিলন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত হলে রাজনৈতিক দুর্নীতি কমানোর ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, এসব মামলার স্বচ্ছ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামনে কী হতে পারে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলাগুলোর তদন্ত শেষ হলে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবে। এরপর আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতি আইনের অধীনে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর
মৎস্য অধিদপ্তরের জলবায়ু প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে

মৎস্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত  এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এক ব্যক্তি। গত ২ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মৎস্য অধিদপ্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে। টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী খামার স্থাপন এবং মৎস্যচাষিদের জন্য জলবায়ু সহিষ্ণু উপকরণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘন করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে উপকরণ দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সুবিধাভোগীর তালিকায় অনিয়ম অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রকৃত মৎস্যচাষিদের পরিবর্তে প্রকল্প এলাকার প্রভাবশালী ও ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের নাম সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষেরও সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজনের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে প্রশিক্ষণ দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে এবং সেই মাধ্যমে প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের দাবি অভিযোগকারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
পবিপ্রবি
পবিপ্রবির কল্যাণ তহবিলে অনিয়মের অভিযোগ: ঘনিষ্ঠদের লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেন ভিসি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম–এর দিকে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ না করে নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কল্যাণ তহবিল থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন উপাচার্য। এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কল্যাণ তহবিলের উদ্দেশ্য কী? সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফান্ড মূলত কর্মরত, অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত সরকারি কর্মচারী (এবং তাদের পরিবার)-এর আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গঠিত। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই তহবিলের মাধ্যমে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের— গুরুতর অসুস্থতায় চিকিৎসা সহায়তা দুর্ঘটনা বা মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ বিশেষ অনুদান প্রদান করা হয়ে থাকে। নীতিমালা অনুযায়ী— গুরুতর অসুস্থতায় চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা চরম আর্থিক সংকটে মূল বেসিকের দ্বিগুণ পর্যন্ত সহায়তা চাকুরিরত অবস্থায় মৃত্যু হলে মাসিক ২ হাজার টাকা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ৩ হাজার টাকা লাশ পরিবহনে ২ হাজার টাকা প্রদানের বিধান রয়েছে। কারা কত টাকা নিয়েছেন? সম্প্রতি প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার কল্যাণ তহবিল থেকে এক লাখ টাকারও বেশি অর্থ উত্তোলন করেছেন— ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫: আমিনুল ইসলাম টিটু – ১,৪২,০০০ টাকা (মায়ের অসুস্থতা) ১১ জানুয়ারি ২০২৬: শরীফ মেহেদী – ১,১৭,০০০ টাকা (নিজের অসুস্থতা) ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫: আবু বক্কর – ১,৩৩,০০০ টাকা (ছেলের অসুস্থতা) ২৮ মে ২০২৫: মো. শাহজালাল – ১,২৭,০০০ টাকা (সন্তানের অসুস্থতা) বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র দাবি করছে, এরা প্রত্যেকেই বর্তমান উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। প্রশ্নের মুখে নীতিমালা নীতিমালায় গুরুতর অসুস্থতায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা প্রদানের বিধান থাকলেও, একাধিক কর্মকর্তার ক্ষেত্রে লক্ষাধিক টাকা বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন— “স্বচ্ছল ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যদি এভাবে কল্যাণ তহবিলের অর্থ উত্তোলন করেন, তবে তা নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ভবিষ্যতে যে যার ইচ্ছামতো তহবিল থেকে অর্থ নিতে চাইবে।” অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারি বেতন স্কেল ও বিভিন্ন ভাতা মিলিয়ে মাসে প্রায় এক লক্ষ বা তার বেশি টাকা আয় করেন। ফলে তাদের ‘চরম আর্থিক সংকট’ দাবির যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কী বলছেন অভিযুক্তরা? অর্থ উত্তোলনকারী কর্মকর্তা শরীফ মেহেদী বলেন— “আমি অনেক আর্থিক সংকটে ছিলাম। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেই কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ নিয়েছি। প্রয়োজনে অর্থ ও হিসাব শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন।” উপাচার্যের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন— “আমি যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী কল্যাণ তহবিলের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি। এখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে বলে মনে করি না। তারা লিখিত আবেদনে চরম আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা জানা সবসময় সম্ভব নয়।” ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নীতিমালা পর্যালোচনা না হলে ভবিষ্যতে কল্যাণ তহবিলের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা আসেনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
এ.কে.এম. আরিফ উদ্দিন
বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ – বিআইডব্লিউটিএ)-এর বন্দর ও পরিবহন শাখার অতিরিক্ত পরিচালক এ.কে.এম. আরিফ উদ্দিন (ওরফে আরিফ হাসনাত)-এর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুর্নীতি দমন কমিশন – দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দলীয় ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন। ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান বদল করে নতুন প্রেক্ষাপটে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। দুদকের অনুসন্ধান: চিঠি ও নথি চাওয়া দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম (অনুসন্ধান ও তদন্ত-২) স্বাক্ষরিত ০৩/০৯/২০২৩ তারিখের এক পত্রে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রশাসন বিভাগে আরিফ হাসনাত নামে এক যুগ্ম পরিচালকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিভিন্ন নথিপত্র চাওয়া হয়। দুদকের চাহিদাপত্রে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে— নারায়ণগঞ্জ ও সদরঘাট পোর্টের নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাংক হিসাব বিবরণী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি চাকরিজীবনের শুরু থেকে জুন ২০২৩ পর্যন্ত বেতন-ভাতার বিবরণ স্ত্রী/সন্তান/ভাইয়ের নামে ব্যবসা বা শেয়ার পরিচালনার অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্র তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, বিআইডব্লিউটিএতে “আরিফ হাসনাত” নামে কোনো যুগ্ম পরিচালক নেই—যা তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে বলে জানা যায়। সম্পদের অভিযোগ অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, আরিফ উদ্দিন ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে প্রায় ২২ কোটি টাকা মূল্যে একটি বহুতল বাড়ি ক্রয় করেছেন। এছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, অভ্যন্তরীণ ডেকোরেশন, সুইমিংপুল নির্মাণসহ কয়েক কোটি টাকার বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া— পাবনা জেলার সুজানগরে বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় একাধিক বেসরকারি ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট বিদেশে (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) সম্পদ থাকার গুঞ্জন একাধিক গাড়ি ব্যবহার ও সরকারি গাড়ির সুবিধা গ্রহণ উল্লেখ্য, এসব তথ্য অভিযোগভিত্তিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। আইন ও এস্টেট পরিচালক পদ নিয়ে প্রশ্ন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্মারক অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ’র সাংগঠনিক কাঠামোতে এস্টেট ও আইন বিভাগের জন্য নতুন পরিচালক পদ সৃষ্টির প্রস্তাবে অর্থ মন্ত্রণালয় অসম্মতি জানিয়েছিল। ১৫ এপ্রিল ২০২৪ তারিখের এক পত্রে সাময়িক ভিত্তিতে সীমিত কিছু পদ সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনা হলেও প্রস্তাবিত পরিচালক পদে চূড়ান্ত সম্মতির বিষয়টি স্পষ্ট নয়। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ’র ওয়েবসাইটে ল্যান্ড ও এস্টেট বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে এ.কে.এম. আরিফ উদ্দিনের নাম দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও বিধিবিধান অনুসরণের প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অনিয়মের অভিযোগ বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে— দীর্ঘদিন প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করে প্রভাব বলয় তৈরি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম সরকারি চাকরি বিধি লঙ্ঘন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উপসংহার বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত পরিচালক এ.কে.এম. আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বর্তমানে অনুসন্ধানাধীন বলে জানা গেছে। দুদকের তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা শেষে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের। অন্যদিকে, অভিযোগ মিথ্যা হলে তা দ্রুত পরিষ্কার করাও জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0