Brand logo light

ধানের শীষ

নির্বাচনে হেরেছেন তাদের কয়েকজন
দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েও হারলেন যারা

সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নানারকম রাজনীতি হয়েছে। দল ত্যাগ, জোট গঠন ও এক পক্ষ ত্যাগ করে আরেক পক্ষে যোগ দেওয়াসহ বিভিন্ন খেলা দেশবাসী দেখেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যা আলোচিত হয়েছে তা হলো- নিজের দল বিলুপ্ত করে অন্যের ছাতার নিচে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা।   এতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি দল। ২০২৫ সালে সর্বশেষ সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ তথা আরপিও অনুযায়ী জোট গঠন করলেও ভোটে লড়তে হবে নিজ দলের প্রতীক নিয়ে। যেখানে ছোট দলগুলোর বেধেছে বিপত্তি। পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় তারা দলই বিলুপ্ত করে ধানের শীষে নির্বাচন করার জন্য বিএনপিতে ভেড়েন। অর্ধ ডজনের বেশি রাজনৈতিক নেতা এবার সংসদে যাওয়ার আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু তাদের দলের অবস্থা ও জনপ্রিয়তা এর জন্য উপযোগী ছিল না। এক পর্যায়ে দল বিলুপ্ত বা বদল করে অন্য দলে যোগ দেন তারা। এরপরও তাদের অনেকের কপাল খোলেনি। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর জানা যায়, তাদের মধ্যে কয়েকজন নির্বাচনি বৈতরণী পাড় হতে পারেননি। যারা এবারের নির্বাচনে হেরেছেন তাদের কয়েকজনের বিবরণ দেওয়া হলো: সৈয়দ এহসানুল হুদা গত ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা।  রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ যোগদান করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ফুল দিয়ে সৈয়দ এহসানুল হুদাকে বরণ করে নেন। এহসানুল হুদা নির্বাচনের মাঠে নামার আগে ধানের শীষ প্রতীক পান। কিন্তু তিনি ভোটযুদ্ধে সুবিধা করতে পারেননি। হেরেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে। কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর ও নিকলী) আসনে হাঁস প্রতীকে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট। ড. রেদোয়ান আহমেদ গত ২৪ ডিসেম্বর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেন।  বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের কথা ঘোষণা দেন তিনি। পরে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে লড়েন। কিন্তু বিএনপির বিদ্রোহী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের কাছে পরাজিত হন। এ আসনে পাঁচবারের সাবেক এমপি ড. রেদোয়ান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট, অপরদিকে শাওন পেয়েছেন ৯০ হাজার ৮১৯ ভোট। রাশেদ খান গত ২৭ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটিতে যোগদানের ঘোষণা দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান।  এর আগে তিনি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি ঝিনাইদহ-৪ (সদর ও কালীগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রাশেদ ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালেবের কাছে হেরেছেন। আবু তালেব পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯ ভোট, আর রাশেদ তৃতীয় অবস্থানে থেকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট। ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির(এনপিপি) চেয়ারম্যান এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক পান। নড়াইল-২ আসনে (লোহাগড়া ও সদরের একাংশ) লড়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। এ নিয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো হারলেন। এ আসনে জেলা জামায়াতের আমির আতাউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীক নিয়ে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট এবং ধানের শীষের প্রার্থী ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট।  রশীদ বিন ওয়াক্কাস দলের নিবন্ধন না থাকায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের নেতা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু তারও কপাল পুড়েছে। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে। এ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গাজী এনামুল হক বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৫৮। বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এ আসনে নির্বাচন করা শহীদ মো. ইকবাল হোসেন দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৮৫ হাজার ৫১৭। তৃতীয় অবস্থানে আছেন বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন পাওয়া রশীদ বিন ওয়াক্কাস। তার প্রাপ্ত ভোট ৫৫ হাজার ৪১৯।  কেউ কেউ আবার দলবদলের খেলায় সাফল্য পেয়েছেন। তারা ভোটযুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম শাহাদাত হোসেন সেলিম।  তিনি গত ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- বিএলডিপির (একাংশ) চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন।  লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ও পান। ড. রেজা কিবরিয়া গত ১ ডিসেম্বর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর তাকে হবিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ও পান। এছাড়া এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে ধানের শীষ পেয়ে ঢাকা-১৩ আসনে নির্বাচন করে জয় পান।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
১০ নতুন মুখ সংসদে
বরিশালে ২১ আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপি জোটের জয়, ১০ নতুন মুখ সংসদে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে নিরঙ্কুশ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ও তাদের জোট সমর্থিত প্রার্থীরা। বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপি ও তাদের শরিকরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকি দুটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং একটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী। বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে বিভাগের প্রতিটি আসনে গণভোটে ‘হ্যা’ ভোট বিজয়ী হয়েছে বলে জানা গেছে। ১০ নতুন মুখ সংসদে বিভাগের সব আসন মিলিয়ে প্রথমবারের মতো ১০ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন, যা এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। ভোলা জেলা: চার আসনেই বিএনপি জোটের প্রাধান্য ভোলা জেলার চারটি আসনের মধ্যে: ভোলা-১: গরুর গাড়ি প্রতীকের আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি) দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত। ভোলা-2: ধানের শীষের হাফিজ ইব্রাহিম দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। ভোলা-৩: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত। ভোলা-৪: ধানের শীষের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। বরিশাল জেলা: পাঁচ আসনের চিত্র বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফলাফল: বরিশাল-১: এম জহির উদ্দিন স্বপন তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত। বরিশাল-২: সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু প্রথমবারের মতো জয়ী। বরিশাল-৩: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। বরিশাল-৪: মো. রাজিব আহসান প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য। বরিশাল-৫: অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার পঞ্চমবারের মতো জয়ী। বরিশাল-৬: আবুল হোসেন খান দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী: চার আসনে ভিন্নধর্মী ফলাফল পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনের ফলাফল: পটুয়াখালী-১: আলতাফ হোসেন চৌধুরী তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী-২: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রথমবারের মতো জয়ী। পটুয়াখালী-৩: ট্রাক প্রতীকের নুরুল হক নূর (গণ অধিকার পরিষদ) প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী-৪: এ বি এম মোশাররফ হোসেন দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। বরগুনা: দুই আসনে দুই দল বরগুনা-১: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মো. অলি উল্লাহ প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। বরগুনা-২: ধানের শীষের মো. নূরুল ইসলাম মনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। ঝালকাঠি: দুই আসনেই বিএনপি ঝালকাঠি-১: রফিকুল ইসলাম জামাল প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। ঝালকাঠি-২: ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। পিরোজপুর: বিএনপি ও জামায়াতের ভাগাভাগি পিরোজপুর জেলার তিনটি আসনের মধ্যে: পিরোজপুর-১: জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাসুদ সাঈদী প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। পিরোজপুর-২: আহম্মদ সোহেল মনজুর প্রথমবারের মতো জয়ী। পিরোজপুর-৩: মো. রুহুল আমীন দুলাল প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। সারসংক্ষেপ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে বিএনপি ও তাদের জোটের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২১টির মধ্যে ১৮টি আসনে জয়, ১০ জন নতুন মুখের অভিষেক এবং সব আসনে গণভোটে ‘হ্যা’ ভোটের বিজয়—এই তিনটি বিষয় এবারের নির্বাচনে বরিশালকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল
নাটোর-১ আসনে ইতিহাস গড়লেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে প্রথম নারী ও সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল (৪১)। এবারের নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগে একমাত্র বিজয়ী নারী প্রার্থীও তিনি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে তিনি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪৩১ ভোট। ১৮ বছর পর বিএনপির আসন পুনরুদ্ধার দীর্ঘ ১৮ বছর পর বিএনপির হারানো এই আসনটি পুনরুদ্ধার করলেন পুতুল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই আসনে বিএনপির কোনো জনপ্রতিনিধি ছিলেন না। ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বিএনপি সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের কন্যা। ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এলাকায় শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন। বিজয়ী পুতুলের প্রতিক্রিয়া বাবার মৃত্যুর পর হারানো আসন পুনরুদ্ধারের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পুতুল বলেন, “মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এই বিজয় লালপুর-বাগাতিপাড়ার সব মানুষের।” তিনি নির্বাচনি মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করা দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। রাজশাহী বিভাগে একমাত্র নারী বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে পুতুলের জয় শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর এই আসনে বিএনপির প্রত্যাবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ✍️ প্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিনিধি 📍 স্থান: নাটোর 📅 প্রকাশের তারিখ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ইলিয়াস পত্নী লুনা ও রুমিন ফারহানাসহ জয়ী হলেন ৭ নারী
সংসদে যাচ্ছেন ৭ নারী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দীর্ঘ ২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৯৯টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পেয়েছে দলটির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করেছে বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ দুই দশক পর দলের এ প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংসদে যাচ্ছেন ৭ নারী বিজয়ীদের মধ্যে বিএনপি থেকে ছয়জন নারী প্রার্থী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। এছাড়া একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বিজয়ী নারী প্রার্থীরা হলেন: মানিকগঞ্জ-৩: আফরোজা খান রিতা ঝালকাঠি-2: ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো সিলেট-২: তাহসিনা রুশদীর লুনা ফরিদপুর-২: শামা ওবায়েদ ফরিদপুর-৩: নায়াব ইউসুফ কামাল নাটোর-১: ফারজানা শারমিন পুতুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (স্বতন্ত্র) রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নারী প্রার্থীদের এই উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি সংসদে নারীর অংশগ্রহণ আরও জোরদার করবে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ২০ বছর পর চতুর্থবার বিএনপি এর আগে তিন দফা সরকার গঠন করেছিল। এবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের পথে দলটি। দীর্ঘ ২০ বছর পর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনকে দলীয় নেতাকর্মীরা ‘গণরায়ের বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নির্বাচন-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিস্তারিত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
গোপালগঞ্জে বিএনপির বিজয়ী তিন প্রার্থী
প্রথমবার গোপালগঞ্জের তিন আসনেই বিএনপির জয়

প্রথমবারের মতো গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে মাত্র একবার বিএনপির প্রার্থী এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর বিজয়ী হয়েছিলেন। এবারই প্রথম জেলার সবকটি আসনে জয় নিশ্চিত করল দলটি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। গোপালগঞ্জ-১ আসন গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্যা ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. কাবির মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট। গোপালগঞ্জ-২ আসন গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত কে এম বাবর ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট। গোপালগঞ্জ-৩ আসন গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত এস এম জিলানী ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট। তিন আসনেই গণভোটে ‘না’ ভোটের জয় এদিকে, গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে। বিষয়টি জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদীয় আসনে বিএনপির পূর্ণ বিজয়ের পাশাপাশি গণভোটের ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
সরোয়ার
বরিশাল-৫ আসনে মজিবর রহমান সরোয়ার বিজয়ী

বরিশাল-৫ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমকে হারিয়ে বেসরকারীভাবে বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মজিবর পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬ ভোট।    প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফয়জুল করীম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ২শ ১৬ ভোট। আসনের ১৭৬টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।   এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন দেশজুড়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ভোটাররা উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে তাদের রায় প্রদান করেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই রেকর্ডসংখ্যক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল এই নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৯ জন; যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৪ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮০ জন। এবারের নির্বাচনে মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে দেশবাসীর সমর্থন চাইলেন তারেক রহমান

নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গঠনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশবাসীর সমর্থন চেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটির জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রায় ৩৭ মিনিটের ভাষণে তারেক রহমান বলেন, বিদেশে অবস্থানকালীন সময় শেষ করে দেশে ফিরে স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন এবং সর্বত্র বিএনপির প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও আবেগ অনুভব করেছেন। তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির প্রতি আপনাদের ভালোবাসা প্রকাশের দিন।” অতীত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। তবে দেশ পরিচালনার সময় কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে ভিত্তি করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই।” ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি। তার ভাষায়, “বিএনপি সরকার যতটা সম্ভব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হবে। এটি আমার অঙ্গীকার, বিএনপির অঙ্গীকার।” ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ডামি নির্বাচনে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে এবার ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।” তারেক রহমান বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তিনি নিজেই নেবেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে মহানবীর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ হবে দলের মূল মন্ত্র। ধর্মীয় সহনশীলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে। তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এটাই একটি আধুনিক সভ্য সমাজের ভিত্তি।” শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বার্থে আপোষ না করেই তারা রাজনীতি করেছেন। খালেদা জিয়া জেল-জুলুম সহ্য করেও দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রশাসনের দলীয়করণ নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করা হবে। জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ সময় বিএনপির ইশতেহারে ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, বেকার ভাতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রবাসী কার্ড ও বিদেশে চাকরি পেতে আর্থিক সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের অঙ্গীকার করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে এই বিষয়টি পুনরায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, “ধানের শীষের বিজয় মানেই বাংলাদেশের বিজয়। স্বাধীন, সার্বভৌম ও তাবেদারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিন।”

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0