Brand logo light

নিয়োগ জালিয়াতি

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর
যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: সাতজন গ্রেপ্তার, প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস ও মূল হোতা এখনও অজানা

প্রশ্নের ছবি, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও লাখ লাখ টাকার চুক্তি—তদন্তে উঠে আসছে নিয়োগ জালিয়াতির কৌশল; সরকারি তিন দপ্তরের পাঁচ কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার দাবি এসআরবির ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৬০টির বেশি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, প্রবেশপত্র, মূল সনদপত্র, ব্যাংকের চেক, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এসআরবির দাবি, চক্রটি সরকারি চাকরির প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির মাধ্যমে প্রার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করত। কিন্তু সাতজনকে গ্রেপ্তারের পরও তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর মেলেনি—যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নপত্রটি তাঁদের কাছে পৌঁছাল কীভাবে? প্রশ্নপত্রের মূল উৎস কে? নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি কি এর সঙ্গে জড়িত, নাকি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রশ্নপত্র তাঁদের হাতে এসেছে? এসআরবির দেওয়া তথ্যে, গ্রেপ্তার সাতজনের কেউই যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মচারী নন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মচারী। বাকি দুজন চাকরিপ্রত্যাশী। ফলে প্রশ্নপত্রের ছবি সংগ্রহ, সেটি স্পষ্ট করা, উত্তর তৈরি এবং পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় তাঁরা কীভাবে যুক্ত ছিলেন, সেই সঙ্গে প্রশ্নপত্রের মূল উৎসের পরিচয়—সবই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির এসআরবি-৩-এর আর্টিলারি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন গ্রেপ্তার ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় চক্রটির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেন। তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস ও চক্রের মূল হোতাকে শনাক্ত করা যায়নি বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে। ভোর সাড়ে ৪টায় প্রশ্নের ছবি, সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে পাঠানো হয় অন্যজনকে এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগ পরীক্ষার দিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ একটি প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে তিনি ছবিটি এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীরের কাছে পাঠান। জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে স্পষ্ট প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর নূর মোহাম্মদ উত্তর তৈরি করেন। এরপর বিতরণকারীদের মাধ্যমে সেগুলো পরীক্ষার্থীদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে এসআরবি। এই বর্ণনায় প্রশ্নপত্রের ছবি পাওয়া থেকে শুরু করে উত্তর তৈরি ও বিতরণের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার কথা উঠে এসেছে। কিন্তু অস্পষ্ট ছবিটি নূর মোহাম্মদ কোথা থেকে পেয়েছিলেন, কে তাঁকে সেটি পাঠিয়েছিলেন এবং জাহাঙ্গীর কীভাবে স্পষ্ট প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন—এসব বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস শনাক্ত করতে এসব প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রশ্নপত্রের ছবি পাওয়া বা সেটি অন্যের কাছে পাঠানোর তথ্য একাই প্রমাণ করে না, প্রশ্নপত্রটি প্রথম কোথা থেকে ফাঁস হয়েছিল কিংবা নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভেতরে কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না। সরকারি তিন দপ্তরের পাঁচ কর্মচারী, বাকি দুজন চাকরিপ্রত্যাশী সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার সাতজনের পরিচয় প্রকাশ করে এসআরবি। তাঁরা হলেন— ১. মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। ২. এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর। ৩. নূর মোহাম্মদ (৩০), এনবিআরের অফিস সহায়ক। ৪. জাহাঙ্গীর (৩৮), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর। ৫. আসাদুল ইসলাম (৩৩), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক। ৬. মো. মফিজুল ইসলাম (২৩), চাকরিপ্রত্যাশী। ৭. মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), চাকরিপ্রত্যাশী। এসআরবির দাবি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে এই চক্রের সদস্যরা গত তিন থেকে চার বছর ধরে জড়িত ছিলেন। তবে কোন কোন নিয়োগ পরীক্ষায় তাঁরা জালিয়াতি করেছেন, কতজন প্রার্থী তাঁদের কাছ থেকে প্রশ্ন বা উত্তর নিয়েছেন এবং এ ঘটনায় আর কারা জড়িত—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এখানে তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সরকারি তিনটি দপ্তরের কর্মচারীদের মধ্যে কার কী ভূমিকা ছিল। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, কে প্রশ্ন সংগ্রহ করেছেন, কে উত্তর তৈরি করেছেন এবং কে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ বা অর্থ লেনদেন করেছেন—এসব পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।   প্রশ্নের জন্য ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ২০ লাখ পর্যন্ত এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে অর্থের বিনিময়ে প্রশ্ন ও উত্তর সরবরাহের চুক্তি করত। তৃতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হতো বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। চুক্তির শর্ত নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হতো নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও ব্যাংকের চেক। জামানত হিসেবে প্রার্থীদের মূল শিক্ষাগত সনদপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও রেখে দেওয়া হতো বলে জানিয়েছে এসআরবি। অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে উত্তর সরবরাহের জন্য পরীক্ষার্থীদের কানে অথবা চুলের মধ্যে সূক্ষ্ম ইলেকট্রনিক ডিভাইস লুকিয়ে দেওয়া হতো। এসব ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তর পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৬০টির বেশি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ১৯টি প্রবেশপত্র, ১০টি মূল সনদপত্র, ব্যাংকের চেক, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা জব্দের কথা জানিয়েছে এসআরবি।   পাঁচ এলাকায় অভিযান, কিন্তু মূল উৎসের সন্ধান মেলেনি এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল, উত্তরখান, মিরপুর, সাভার ও মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রবেশপত্র, সনদপত্র, স্ট্যাম্প ও ব্যাংকের চেক চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে। বিশেষ করে, এসব নথিতে থাকা নাম, পরীক্ষার বিবরণ, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং মোবাইল ফোনের যোগাযোগের রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস শনাক্ত না হওয়ায় তদন্তের কেন্দ্রীয় প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিত। প্রশ্নপত্র প্রথম কার হাতে ছিল, কীভাবে সেটির ছবি তৈরি হলো, হোয়াটসঅ্যাপে কারা সেটি আদান-প্রদান করেছেন এবং পরীক্ষার আগে উত্তর কীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল—এসব তথ্যের সমন্বিত ব্যাখ্যা ছাড়া পুরো চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। এসআরবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তদন্ত চলছে। ১০ অক্টোবরের পরীক্ষা স্থগিত, নতুন পরীক্ষাতেও আস্থার সংকট যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে এর আগেও উত্তেজনা তৈরি হয়। গত ১০ অক্টোবর পরীক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে ওই দিনই পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। পরিবর্তিত তারিখ অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং নিয়োগ পরীক্ষার ওপর আস্থার সংকটের কারণে অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ শুধু পরীক্ষার স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না; এর প্রভাব পড়ে যোগ্য প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ, সরকারি নিয়োগব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির ওপরও। বিশেষ করে, চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তা আর্থিক প্রতারণার পাশাপাশি মেধাভিত্তিক নিয়োগের নীতির জন্যও গুরুতর হুমকি। এ কারণে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তদন্তের পাশাপাশি পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। তদন্তে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন এসআরবির সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— প্রশ্নপত্রের মূল উৎস কে? নূর মোহাম্মদ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যে অস্পষ্ট ছবি পেয়েছিলেন, সেটি কে পাঠিয়েছিলেন এবং মূল প্রশ্নপত্র কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল? জাহাঙ্গীর কীভাবে প্রশ্নপত্র স্পষ্ট করলেন? তাঁর কাছে থাকা প্রশ্নপত্রের উৎস কী ছিল এবং সেটি মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে কীভাবে মিলে গেল? যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভেতরে কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি? গ্রেপ্তার সাতজনের কেউ এই অধিদপ্তরের কর্মচারী নন বলে জানানো হয়েছে। তাহলে প্রশ্নপত্র তাঁদের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাব্য পথ কী ছিল? কতজন প্রার্থী অর্থ দিয়েছেন? ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে কী ধরনের আর্থিক নথি, যোগাযোগের রেকর্ড বা সাক্ষ্য রয়েছে? আগের তিন থেকে চার বছরের জালিয়াতির অভিযোগ কতটা বিস্তৃত? চক্রটি অন্য কোন কোন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় জড়িত ছিল এবং সেসব ঘটনায় কোনো মামলা বা তদন্ত হয়েছে কি না? নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত হবে? প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর পরীক্ষা, ফলাফল ও পরবর্তী নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা কী? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে শুধু সাতজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগই নয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেটওয়ার্কের পরিধি এবং নিয়োগব্যবস্থার সম্ভাব্য দুর্বলতাও স্পষ্ট হতে পারে। সামনে এখন উৎস শনাক্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কিন্তু গ্রেপ্তারই তদন্তের শেষ ধাপ নয়। প্রশ্নপত্রের উৎস, অর্থ লেনদেনের প্রকৃত চিত্র, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এসআরবি জানিয়েছে, মূল উৎস ও অন্য জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। সেই তদন্তে প্রশ্নপত্রের ডিজিটাল উৎস, হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ, উদ্ধার হওয়া নথি এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কারণ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা গেলেও মূল উৎস অজানা থেকে গেলে পুরো নেটওয়ার্কের জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হবে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাতজনের বাইরে আর কারা জড়িত, আর সরকারি নিয়োগের প্রশ্নপত্র তাঁদের হাতে পৌঁছাল কীভাবে? তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতিতেই মিলতে পারে সেই উত্তর।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
পুলিশের এএসআই নিয়োগে জালিয়াতি: ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাসহ চারজন গ্রেফতার, মিলল জাল প্রবেশপত্র ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সক্রিয়তার অভিযোগে রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ১৭ লাখ টাকার চুক্তি, জাল প্রবেশপত্র তৈরি, প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) রংপুর জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। কারা গ্রেফতার হয়েছেন গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. বাদশা মাসউদ আলম কথিত প্রতারক চক্রের সদস্য নুরুল ইসলাম পরীক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম আশরাফুলের হয়ে প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা তাজমিলুর রহমান যেভাবে ধরা পড়ে জালিয়াতির চেষ্টা পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে এএসআই নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল নজরদারিতে ছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রের মূল ফটকে ফেস ডিটেকশন পয়েন্টে আশরাফুল ইসলামের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করে যাচাই করা হয়। পরে কেন্দ্রের একাডেমিক ভবনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকার করেন, তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি জাল। এই স্বীকারোক্তির পরই তার হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা তাজমিলুর রহমানকে আটক করা হয়। ১৭ লাখ টাকার চুক্তির অভিযোগ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল ইসলাম পুলিশকে জানান, তার বাবার সঙ্গে রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. বাদশা মাসউদ আলম এবং নুরুল ইসলামের মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির অংশ হিসেবে দিনাজপুর শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে আড়াই লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা জমা দেওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আশরাফুলের কাছে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠানো হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক শারীরিক পরীক্ষায় তিনি কখনও অংশ নেননি। এরপরও জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ডিজিটাল আলামতে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে মো. বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ জানায়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন এবং জাল প্রবেশপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে— জাল প্রবেশপত্র অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশট একাধিক মোবাইল ফোন অন্যান্য ডিজিটাল আলামত কীভাবে কাজ করত চক্রটি পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা মাসউদ আলম স্বীকার করেন যে নুরুল ইসলামসহ আরও দুই থেকে তিনজন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তদন্তকারীদের মতে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুলিশের ক্যাডেট এএসআই পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা— জাল প্রবেশপত্র তৈরি করত, প্রক্সি পরীক্ষার্থীর ব্যবস্থা করত, বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করত, এমনকি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন দিয়ে প্রভাব খাটানোরও চেষ্টা করত। ঢাকায় অভিযান বাদশা মাসউদ আলমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহানগর কোতোয়ালি থানার সহযোগিতায় ঢাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে চারজনকেই কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়। পুলিশের বক্তব্য রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, "পুলিশের যেকোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম, জালিয়াতি বা দালাল চক্রের কোনো স্থান নেই। চাকরি দেওয়ার নামে যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।" অন্যদিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানান, গ্রেফতার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে এসেছে ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে— জাল প্রবেশপত্র তৈরির প্রযুক্তিগত উৎস কোথায়? নিয়োগ পরীক্ষার আগেই কীভাবে প্রার্থীর কাছে ভুয়া প্রবেশপত্র পৌঁছায়? ১৭ লাখ টাকার চুক্তিতে আর কারা জড়িত? সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা চক্র কতদিন ধরে সক্রিয়? উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও ডিজিটাল তথ্য থেকে আরও কতজনের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসতে পারে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২, ২০২৬ 0
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সাঁটলিপিকার কামাল হোসেন
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সাঁটলিপিকার কামাল হোসেনের টাকার পাহাড়

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : কামাল হোসেন, সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারি একজন দুর্নীতিবাজ কর্মচারি। কামাল হোসেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ের ব্যক্তিগত সহকারী হওয়ার সুবাদে মহাপরিচালকের নাম ভাঙ্গিয়ে কয়েকজনের সহযোগিতায় মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের কাছ থেকে বদলি ও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ সকল অন্যায় ও দুর্নীতি দাপটের সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন। এত অন্যায় ও অবৈধ/অনৈতিক কাজের প্রমানসহ অভিযোগ থাকার পরও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।  কথায় আছে চোরের মায়ের বড় গলা, কামালের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। দুর্নীতিকে তিনি মনে করেন আলাদিনের চেরাগ। যেই চেরাগে ঘষা দিয়ে তিনি হয়েছেন অঢেল সম্পত্তির মালিক। তার হোল্ডিং নং-৫০৯, উদয়া ম্যানশন সোসাইটি, ১০নং লেন, পূর্বাঞ্চল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকায় নিয়েছেন ১২০০ স্কয়ারের ২টি ফ্ল্যাট। যার একটিতে (ফ্ল্যাট নং-ই/৪) রাজকীয়ভাবে সাজিয়ে বসবাস করছেন ও অন্যটি দিয়েছেন ভাড়ায়। উদয়া ম্যানশন সোসাইটিতে তার আরও ৫ কাঠার অংশবিশেষ জমি রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি মধুপুর, টাঙ্গাইলে কোটি টাকার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, দোকান, মার্কেট ও ফিসারিজ ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে নিজের স্ত্রীকে আরালে রেখে ২০ কোটি টাকার সম্পদ করেছেন শুধুমাত্র বোন ও শাশুড়ির নামে। শাহিনা সুলতানা (বোন) দলিল নং ৬১৮১, তারিখ: ১৬-০৬-২০২১, ঢাকা সিটি জরিপ নং-১৭২৩২, ১৭১৭৪ দাগে ০০৮৯.১৩৮ অযুতাংশ ও দলিল নং-৪৫৫৫, তারিখ: ৩০-০৩-২০২৩, ঢাকা সিটি জরিপ নং-১৭২৩২ দাগে ০০০৯. অযুতাংশ। ঢাকা শহরে প্রায় ০১ একক জমি ক্রয় করে রেখেছেন বোনের নামে এই দুর্নীতিবাজ কর্মচারি।  মোসাঃ মালেকা বেগম (শাশুড়ি) দলিল নং ৬১৮১, তারিখ: ১৬-০৬-২০২১, ঢাকা সিটি জরিপ নং-১৭২৩২, ১৭১৭৪ দাগে ০০৮৯.১৩৮ অযুতাংশ ও দলিল নং-৪৫৫৫, তারিখ: ৩০-০৩-২০২৩, ঢাকা সিটি জরিপ নং-১৭২৩২ দাগে ০০০৯. অযুতাংশ। ঢাকা শহরে প্রায় ০১ একক জমি ক্রয় করে রেখেছেন শাশুরির  নামে এই দুর্নীতিবাজ কর্মচারি। লিংক গার্ডেন, মেরুল বাড্ডা, ঢাকাতে তার স্ত্রীর নামে ১টি ফ্ল্যাট, তার শ্বশুরের নামে ১টি, শ্বাশুড়ির নামে ১টি, বোনের নামে ১টি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এছাড়াও ঢাকায় নামে-বেনামে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট ক্রয় করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।  অভিযোগ আছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে ২০২১ সালে কর্মচারি নিয়োগে কামাল হোসেন তার আপন ছোট ভাই (রবিন) কে নিয়োগ পাইয়ে দেয়ার জন্য মোটা টাকায় অন্যজনকে দিয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়ে উত্তীর্ণ করায়।  পরবর্তীতে নিয়োগ বোর্ডের মৌখিক পরীক্ষায় তার ছোট ভাই (রবিন) অংশগ্রহণ করলে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যগণ ভূয়া পরীক্ষার্থী হিসেবে বুঝতে পেরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার ছোট ভাই (রবিন) স্বীকারোক্তি দেয় যে, কামাল হোসেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়ার জন্য বদলি পরীক্ষার সকল ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। নিয়োগ বোর্ডের সদস্যগণ তার জালিয়াতির প্রমান পেয়ে গত ১৩-০২-২০২২ তারিখে বনানী থানায় এজাহার দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।  উল্লেখ্য, মোঃ কামাল হোসেন মহাপরিচালক মহোদয়কে মিথ্যা বলে তার সেই জেলখাটা ছোট ভাই (রবিন) যার মামলার বাদী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, মামলার কথা গোপন রেখে তাকে (রবিন) ০৭-০৩-২০২৩ তারিখে অত্র অধিদপ্তরাধীন সেতু/কালভার্ট শীর্ষক নির্মাণ প্রকল্পে কার্যসহকারী হিসেবে নিয়োগ পাইয়ে দেন। পরবর্তীতে নিয়োগ জালিয়াতি মামলার আসামী রবিন-কে শিক্ষা ভবন, আব্দুল গণি রোড, ঢাকাতে অফিস সহায়ক পদে আবার অন্যজনকে দিয়ে পরীক্ষা মাধ্যমে চাকুরি পাইয়ে দেন। জানা যায়, রবিন বর্তমানে কালিহাতি উপজেলা শিক্ষা অফিসে কর্মরত আছে। তার দুর্নীতির জালে আটকে পড়ে অধিদপ্তরের গাড়ি ভাড়ার টেন্ডারে এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ মাসুদ রানা গ-২১/১৩, মহাখালী, ঢাকা এর বৈধভাবে কাজ পাওয়ার পরও সুকৌশলে ফাইল আটকিয়ে তিন লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে কার্যাদেশ প্রদান করেন। এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক প্রথম মাসের বিল জমা দিলে এই দুর্নীতিবাজ কামাল হোসেন হুমকি দিয়ে বলেন, প্রতি মাসের বিলে ১০ হাজার টাকা না দিলে টেন্ডার বাতিলসহ প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে বলে হুমকি দেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি স্যারদেরকে বলে টেন্ডার বাতিল করার জন্য এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ মাসুদ রানাকে বাধ্য করেন টেন্ডার বাতিলের আবেদন করতে। বাধ্য হয়ে অনোন্যপায় হয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তিনি আবেদন দেন টেন্ডার বাতিলের। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও গায়েবিভাবে ধামাচাপা পড়ে যায়। ত্রাণ অনুবিভাগের কম্বল, ঢেউটিন, শুকনা খাবার ও বিভিন্ন প্রকল্পের ঠিকাদারদের কাছে রেইট কোড ও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মচারী কামাল হোসেন সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারীর লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছেন।  অনুসন্ধানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকের কাছ থেকে জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি (গাংগাইর বাজার, মধুপুর, টা্ঙ্গাইল) এবং শুশ্বর বাড়ির (দেউলা বাড়ী, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল) অবস্থান চাকুরির আগে তার উল্লেখযোগ্য স্থাবর সম্পত্তি কিছুই ছিল না। অভিযোগের বিষয়ে কামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার বিষয়ে যে সকল অভিযোগ করা হয়েছে সে গুলা সঠিক নয় । যে সম্পত্তি এর কথা বলা হয়েছে সে সব আমার না । আমি এখানে চাকুরি করি আমার অনেক শত্রু থাকতে পারে তারা এই মিথ্যা অভিযোগ করেছে । 

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও উপব্যবস্থাপক  আহম্মদুল্লাহ
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন: সিন্ডিকেট, নিয়োগ জালিয়াতি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে

বিপিসিতে ‘ক্ষমতার সিন্ডিকেট’ অভিযোগে চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আহম্মদুল্লাহ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এ দুর্নীতি, নিয়োগ জালিয়াতি এবং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের বিস্তৃত অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও উপব্যবস্থাপক মো. আহম্মদুল্লাহ। বিপিসির ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ আহম্মদুল্লাহ অস্বীকার করেছেন এবং সেগুলোকে “ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন সূত্রগুলোর দাবি, ২০১৯ সালে বিপিসিতে যোগদানের পর থেকেই আহম্মদুল্লাহ দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার সূত্রে তিনি বিপিসিতে চাকরি পান। স্থানীয় সূত্র বলছে, একসময় তিনি সামছুর রহমানের মেয়ের গৃহশিক্ষক ছিলেন এবং সেই সম্পর্ক থেকেই তার চাকরির পথ তৈরি হয়। তবে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার দিবাকরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে চাকরি নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার কথাও বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সমালোচকদের মতে, এই রাজনৈতিক পরিচয়কেই তিনি বিপিসির ভেতরে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। নিয়ম ভেঙে দীর্ঘদিন একই পদে বিপিসিতে চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারীর পদ সাধারণত সহকারী ব্যবস্থাপক বা ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা পালন করেন। কিন্তু আহম্মদুল্লাহ উপব্যবস্থাপক বা ৬ষ্ঠ গ্রেডে থেকেও বছরের পর বছর ওই পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিপিসির প্রবিধানমালা অনুযায়ী এটি নিয়মবহির্ভূত হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি বহাল রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। রহস্যজনকভাবে বাতিল বদলি আদেশ ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর তৎকালীন চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ দুর্নীতির অভিযোগে আহম্মদুল্লাহকে চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে বদলির আদেশ দেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিনি আবার আগের পদেই দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। বিপিসির অনেক কর্মকর্তা এই ঘটনাকে তার অদৃশ্য ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। অবৈধ সম্পদের অভিযোগ বিপিসির ভেতরের কয়েকটি সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আহম্মদুল্লাহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী— ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ভবন মিরপুর এলাকায় দুটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা কোটি কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর একটি বেসরকারি ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় গোপন লকারে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ এছাড়া স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নামেও বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ‘বরিশাল সিন্ডিকেট’ অভিযোগ বিপিসির ভেতরে তার প্রভাব বজায় রাখতে আহম্মদুল্লাহ “বরিশাল সিন্ডিকেট” নামে পরিচিত একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই তার নিজ অঞ্চলের বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগে তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সহযোগী হিসেবে আরেক কর্মকর্তার নাম এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী হিসেবে উপব্যবস্থাপক মো. আশিক শাহরিয়ারের নামও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন ডিপো ও রিফাইনারি থেকে অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাকে “অঘোষিত ক্যাশিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যোগ্যতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও মাত্র তিন বছর ১৭ দিনের মধ্যে তার পদোন্নতি হয়েছে। আত্মীয়স্বজনের নিয়োগের অভিযোগ বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউস, লিয়াজো অফিস এবং অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া তার বিরাগভাজন হওয়ায় অনেক দক্ষ কর্মকর্তাকে বদলি করা বা চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বড় প্রকল্পেও প্রভাব বিপিসির কয়েকটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পেও তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে— এসপিএম প্রকল্প ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন প্রকল্প ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্প অভিযোগ অনুযায়ী এসব প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ আরও অভিযোগ রয়েছে, দেশের একটি প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের ব্যাংকে বিপিসির বিপুল অর্থ জমা রাখার ব্যবস্থা করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এর বিনিময়ে তার আত্মীয়দের ওইসব ব্যাংকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যাংকগুলোতে বিপিসির প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘুষ ও মাসোয়ারার অভিযোগ কিছু সূত্রের দাবি, বেসরকারি রিফাইনারি থেকে মাসিক মাসোয়ারা গ্রহণ, বিটুমিন ও ক্রুড অয়েল আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দিতে শিল্পগোষ্ঠীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়মের সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে। ব্যাংক লেনদেনের তথ্য সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আপ্যায়ন ও জ্বালানি বিল বাবদ ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫১ টাকা উত্তোলনের তথ্য সামনে এসেছে। এছাড়া একটি চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সাবেক চেয়ারম্যানকে খুশি করার নামে এসি কেনার জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিপিসির নিয়োগ বাণিজ্যের অন্যতম মূল হোতা হিসেবেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বার্তাবাহক পদে ভুয়া ঠিকানায় নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবু এখনো তিনি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। দুদকের অনুসন্ধান এদিকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিজের সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আহম্মদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার নিজ জেলা ঝালকাঠি। অন্য সব অভিযোগ “বানোয়াট ও ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0