বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এ দুর্নীতি, নিয়োগ জালিয়াতি এবং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের বিস্তৃত অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও উপব্যবস্থাপক মো. আহম্মদুল্লাহ।
বিপিসির ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।
যদিও এসব অভিযোগ আহম্মদুল্লাহ অস্বীকার করেছেন এবং সেগুলোকে “ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছেন।
সূত্রগুলোর দাবি, ২০১৯ সালে বিপিসিতে যোগদানের পর থেকেই আহম্মদুল্লাহ দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার সূত্রে তিনি বিপিসিতে চাকরি পান। স্থানীয় সূত্র বলছে, একসময় তিনি সামছুর রহমানের মেয়ের গৃহশিক্ষক ছিলেন এবং সেই সম্পর্ক থেকেই তার চাকরির পথ তৈরি হয়।
তবে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার দিবাকরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে চাকরি নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার কথাও বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সমালোচকদের মতে, এই রাজনৈতিক পরিচয়কেই তিনি বিপিসির ভেতরে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
বিপিসিতে চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারীর পদ সাধারণত সহকারী ব্যবস্থাপক বা ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা পালন করেন।
কিন্তু আহম্মদুল্লাহ উপব্যবস্থাপক বা ৬ষ্ঠ গ্রেডে থেকেও বছরের পর বছর ওই পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিপিসির প্রবিধানমালা অনুযায়ী এটি নিয়মবহির্ভূত হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি বহাল রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।
২০২১ সালের ৩ অক্টোবর তৎকালীন চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ দুর্নীতির অভিযোগে আহম্মদুল্লাহকে চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে বদলির আদেশ দেন।
কিন্তু বিস্ময়করভাবে মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল হয়ে যায়।
এরপর তিনি আবার আগের পদেই দায়িত্ব পালন করতে থাকেন।
বিপিসির অনেক কর্মকর্তা এই ঘটনাকে তার অদৃশ্য ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
বিপিসির ভেতরের কয়েকটি সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আহম্মদুল্লাহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী—
ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি
গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ভবন
মিরপুর এলাকায় দুটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা
কোটি কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর
একটি বেসরকারি ব্যাংকের শেয়ার ক্রয়
গোপন লকারে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ
এছাড়া স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নামেও বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিপিসির ভেতরে তার প্রভাব বজায় রাখতে আহম্মদুল্লাহ “বরিশাল সিন্ডিকেট” নামে পরিচিত একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।
যাদের বেশিরভাগই তার নিজ অঞ্চলের বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ফলে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগে তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী হিসেবে উপব্যবস্থাপক মো. আশিক শাহরিয়ারের নামও সামনে এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন ডিপো ও রিফাইনারি থেকে অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাকে “অঘোষিত ক্যাশিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যোগ্যতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও মাত্র তিন বছর ১৭ দিনের মধ্যে তার পদোন্নতি হয়েছে।
বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউস, লিয়াজো অফিস এবং অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া তার বিরাগভাজন হওয়ায় অনেক দক্ষ কর্মকর্তাকে বদলি করা বা চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিপিসির কয়েকটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পেও তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
এসপিএম প্রকল্প
ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন প্রকল্প
ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্প
অভিযোগ অনুযায়ী এসব প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, দেশের একটি প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের ব্যাংকে বিপিসির বিপুল অর্থ জমা রাখার ব্যবস্থা করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এর বিনিময়ে তার আত্মীয়দের ওইসব ব্যাংকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ওই ব্যাংকগুলোতে বিপিসির প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
কিছু সূত্রের দাবি, বেসরকারি রিফাইনারি থেকে মাসিক মাসোয়ারা গ্রহণ, বিটুমিন ও ক্রুড অয়েল আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দিতে শিল্পগোষ্ঠীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়মের সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আপ্যায়ন ও জ্বালানি বিল বাবদ ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫১ টাকা উত্তোলনের তথ্য সামনে এসেছে।
এছাড়া একটি চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সাবেক চেয়ারম্যানকে খুশি করার নামে এসি কেনার জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিপিসির নিয়োগ বাণিজ্যের অন্যতম মূল হোতা হিসেবেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বার্তাবাহক পদে ভুয়া ঠিকানায় নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবু এখনো তিনি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
এদিকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিজের সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আহম্মদুল্লাহ।
তিনি বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার নিজ জেলা ঝালকাঠি। অন্য সব অভিযোগ “বানোয়াট ও ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বিপিসিতে ‘ক্ষমতার সিন্ডিকেট’ অভিযোগে চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আহম্মদুল্লাহ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এ দুর্নীতি, নিয়োগ জালিয়াতি এবং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের বিস্তৃত অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও উপব্যবস্থাপক মো. আহম্মদুল্লাহ। বিপিসির ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ আহম্মদুল্লাহ অস্বীকার করেছেন এবং সেগুলোকে “ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন সূত্রগুলোর দাবি, ২০১৯ সালে বিপিসিতে যোগদানের পর থেকেই আহম্মদুল্লাহ দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার সূত্রে তিনি বিপিসিতে চাকরি পান। স্থানীয় সূত্র বলছে, একসময় তিনি সামছুর রহমানের মেয়ের গৃহশিক্ষক ছিলেন এবং সেই সম্পর্ক থেকেই তার চাকরির পথ তৈরি হয়। তবে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার দিবাকরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে চাকরি নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার কথাও বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সমালোচকদের মতে, এই রাজনৈতিক পরিচয়কেই তিনি বিপিসির ভেতরে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। নিয়ম ভেঙে দীর্ঘদিন একই পদে বিপিসিতে চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারীর পদ সাধারণত সহকারী ব্যবস্থাপক বা ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা পালন করেন। কিন্তু আহম্মদুল্লাহ উপব্যবস্থাপক বা ৬ষ্ঠ গ্রেডে থেকেও বছরের পর বছর ওই পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিপিসির প্রবিধানমালা অনুযায়ী এটি নিয়মবহির্ভূত হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি বহাল রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। রহস্যজনকভাবে বাতিল বদলি আদেশ ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর তৎকালীন চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ দুর্নীতির অভিযোগে আহম্মদুল্লাহকে চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে বদলির আদেশ দেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিনি আবার আগের পদেই দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। বিপিসির অনেক কর্মকর্তা এই ঘটনাকে তার অদৃশ্য ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। অবৈধ সম্পদের অভিযোগ বিপিসির ভেতরের কয়েকটি সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আহম্মদুল্লাহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী— ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ভবন মিরপুর এলাকায় দুটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা কোটি কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর একটি বেসরকারি ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় গোপন লকারে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ এছাড়া স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নামেও বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ‘বরিশাল সিন্ডিকেট’ অভিযোগ বিপিসির ভেতরে তার প্রভাব বজায় রাখতে আহম্মদুল্লাহ “বরিশাল সিন্ডিকেট” নামে পরিচিত একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই তার নিজ অঞ্চলের বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগে তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সহযোগী হিসেবে আরেক কর্মকর্তার নাম এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী হিসেবে উপব্যবস্থাপক মো. আশিক শাহরিয়ারের নামও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন ডিপো ও রিফাইনারি থেকে অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাকে “অঘোষিত ক্যাশিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যোগ্যতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও মাত্র তিন বছর ১৭ দিনের মধ্যে তার পদোন্নতি হয়েছে। আত্মীয়স্বজনের নিয়োগের অভিযোগ বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউস, লিয়াজো অফিস এবং অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া তার বিরাগভাজন হওয়ায় অনেক দক্ষ কর্মকর্তাকে বদলি করা বা চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বড় প্রকল্পেও প্রভাব বিপিসির কয়েকটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পেও তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে— এসপিএম প্রকল্প ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন প্রকল্প ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্প অভিযোগ অনুযায়ী এসব প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ আরও অভিযোগ রয়েছে, দেশের একটি প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের ব্যাংকে বিপিসির বিপুল অর্থ জমা রাখার ব্যবস্থা করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এর বিনিময়ে তার আত্মীয়দের ওইসব ব্যাংকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যাংকগুলোতে বিপিসির প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘুষ ও মাসোয়ারার অভিযোগ কিছু সূত্রের দাবি, বেসরকারি রিফাইনারি থেকে মাসিক মাসোয়ারা গ্রহণ, বিটুমিন ও ক্রুড অয়েল আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দিতে শিল্পগোষ্ঠীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়মের সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে। ব্যাংক লেনদেনের তথ্য সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আপ্যায়ন ও জ্বালানি বিল বাবদ ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫১ টাকা উত্তোলনের তথ্য সামনে এসেছে। এছাড়া একটি চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সাবেক চেয়ারম্যানকে খুশি করার নামে এসি কেনার জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিপিসির নিয়োগ বাণিজ্যের অন্যতম মূল হোতা হিসেবেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বার্তাবাহক পদে ভুয়া ঠিকানায় নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবু এখনো তিনি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। দুদকের অনুসন্ধান এদিকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিজের সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আহম্মদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার নিজ জেলা ঝালকাঠি। অন্য সব অভিযোগ “বানোয়াট ও ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেন তিনি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সেগুনবাগিচা ই/এম বিভাগ-২ এর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার-এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকা অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার সেগুনবাগিচা গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-২ এ উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা সদন এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর -এর বৈদ্যুতিক দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন। সূত্র মতে, যেখানে বড় প্রকল্প সেখানে উপস্থিত ছিলেন এই প্রকৌশলী। গণপূর্তের হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম কমিশন না পেলে তিনি কোনো ফাইলে সই করতেন না। পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল বাশার বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. আলী হোসেন হাওলাদারের ছেলে। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ধানমন্ডি ৩২ -এর বৈদ্যুতিক দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজ এলাকায় অন্যের জমি দখল এবং অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ করেছেন। এ ঘটনায় কবাই ইউনিয়নের কুদ্দুস মিয়া বাদী হয়ে গত ১২ মার্চ বরিশাল স্পেশাল জজ আদালতে আবুল বাশারসহ চারজনকে বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে জি.আর ২৯৬/২৪ (বাকেরগঞ্জ) মামলার ৩ নম্বর আসামি এবং জি.আর ২৬/২৩ (বাকেরগঞ্জ) মামলার ২ নম্বর আসামি হিসেবে নাম রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার বাবার নামে বাকেরগঞ্জের হালুয়া গ্রামে অবৈধভাবে একটি ইটভাটা চালু করেন, যা বর্তমানে এ. এইচ ব্রিকস নামে পরিচিত। এছাড়াও ঢাকায় তার নামে ৫ তলা ভবন, বিভিন্ন প্লট, নিউ মার্কেটে সোনার দোকানসহ নানা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ -এর রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন মিছিল-মিটিং ও জনসভায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এলাকায় গিয়ে তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হাফিজ মল্লিক-এর পক্ষে কাজ করেছেন এবং ভোটে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -এর বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক। চাকরি জীবনে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন সেই সরকারের নির্দেশনা মেনেই আমি দায়িত্ব পালন করেছি।”
শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ব্যক্তিগত সহকারী আবুল কালাম আজাদ ক্ষমতার আশ্রয়ে গড়ে তোলেন এক ভয়ংকর দুর্নীতির সাম্রাজ্য। ঝালকাঠির সব ঠিকাদারি কাজ হতো আজাদের ইশারায়। আমুর আস্থাভাজন হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। নামে-বেনামে গড়েছেন বিপুল সম্পদ। চলেন রেঞ্জ রোভার ও প্রাডো গাড়িতে। ইউপি নির্বাচনে বাণিজ্য, ভোটবাণিজ্য, সিন্ডিকেট বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমেও হাতিয়েছেন কোটি টাকা। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যে এসব খবর পাওয়া গেছে। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে কালাম, একসময় ছিলেন বেকার। ২০১৪ সালে সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর ব্যক্তিগত সহকারী হওয়ার পর থেকেই তার ভাগ্য বদলাতে থাকে। সাধারণ মানুষ তাকে ‘আমুর ছেলে’ নামে চিনলেও, এ পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভয়ংকর সব অপকর্ম। আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে আইজিপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। জানা গেছে, রাজাপুরের রাজনীতি, ঠিকাদারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ, সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, টেন্ডার বাণিজ্য, প্রতিপক্ষের ওপর হামলাÑ তার ক্ষমতার অপব্যবহারের তালিকা ছিল সীমাহীন। তার ছিল নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দমনে বাসাবাড়িতে ভাঙচুরের নেপথ্যেও ছিলেন তিনি। স্থানীয় ও দুদকে অভিযোগ সূত্র জানা গেছে, ঢাকার ধানমন্ডির লেকের পাশে ২/এ রোডের ৫০ নম্বর বাড়ির একটি বহুতল ভবনে তার একটি ফ্ল্যাট (৪-বি) রয়েছে। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৫ কোটি টাকা। ধানমন্ডির ১৩/এ, লেক সার্কাসের হাচান টাওয়ারে লিফটের-৫ এ তার ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া ধানমন্ডিতে তার অর্ধডজন ফ্ল্যাট রয়েছে। নিজে চলাফেরা করেন রেঞ্জ রোভার ঢাকা মেট্রো-ভ-১৮০৫০৩ ও একটি প্রাডোতে। মোহাম্মদপুর বছিলায় সওদাগর এক্সপ্রেস নামে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। তার ব্যবসা পরিচালনায় সারা দেশে ৪০০টি গাড়ি রয়েছে। গ্রামের বাড়িতে তিন কোটি টাকায় নির্মাণ করেছেন প্রাসাদ। প্রভাব খাটিয়ে নিজের এলাকায় অনেক জমিজমা ক্রয় এবং দখল করেন নিজের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নামে। এ ছাড়া তার নামে-বেনামে ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আমির হোসেন আমুর পিএস আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করলে তার অবৈধ সম্পদ বেরিয়ে আসবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকার এক ব্যক্তি জানান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমুর নাম ভাঙিয়ে সওদাগর কুরিয়ার সার্ভিস পরিচালনা করেন আমুর পিএস আজাদ। এ কুরিয়ার সার্ভিসের আড়ালে তিনি চালাতেন মাদকের ব্যবসা। সওদাগরে আমুর নাম থাকায় তার টিকিটিও ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তিনি জানান, কিছু দিন আগে কুড়িগ্রাম শহরের কলেজ মোড় এলাকায় সওদাগর এক্সপ্রেস লিমিটেড কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসের ভেতর থেকে ফেনসিডিল ও ভারতীয় প্রসাধনীসামগ্রী জব্দ করে পুলিশ। কার্টনে সাদা পলিব্যাগে মোড়ানো ১৫০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করে পুলিশ। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। বাড়ির সামনে জীবনদাসকাঠী এন এ এস দাখিল মাদ্রাসার করনিক রফিকুল আলমকে জোরপূর্বক ২০২৫ সালের জুন মাসে রিজাইনপত্র রেখে সেখানে তার আপন ভাবি রুবিনা আক্তারকে চাকরি দেন আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া তার অত্যাচারে আমরা এলাকাবাসী ১৭ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছি। দুদকের অভিযোগ সূত্র জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদ ফ্যাসিবাদের পুরো সময় ধরে আমুর নাম ভাঙিয়ে লুটপাট, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নিয়োগ-বদলিবাণিজ্য থেকে শুরু করে মনোনয়ন বাণিজ্যসহ অসংখ্য দুর্নীতি ও মাদক কারবার করে হাজার কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে কিংবা টেন্ডার বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটালে যখন তখন যে কাউকে পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনী কিংবা প্রশাসনের ক্ষমতায় জিম্মি করে চাঁদা আদায় করতেন। বর্তমান নিজ এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনুদানসহ নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করছেন আজাদ। জানা গেছে, বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসায় নিয়োগবাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। গালুয়া ইউনিয়নের এক মাদ্রাসার শিক্ষককে সরিয়ে নিজের ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়োগ দেন তিনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত এক এজেন্টকে মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন তিনি। টিপু মিয়া নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শুধু নির্বাচনে বিরোধী পক্ষের এজেন্ট থাকার কারণে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয়। এমনকি মুজাম্মেল মাওলানা নামের এক ব্যক্তির ঘর পুড়িয়ে দেন, শুধু তিনি বিএনপি করেন বলে। গালুয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য চান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন আবুল কালাম। টাকার বিনিময়ে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনে জয়লাভ করিয়েছিলেন তিনি। আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। এমন কিছু নেই, যা তিনি করেননি। যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ হলে টাকার বিনিময়ে তিনি তার পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতেন।’ আব্দুল আজিজ আকন নামে একজন জানান, এলাকায় সরকারি অনুদানের টাকাও লুটপাট করেছেন কালাম। গরিবদের জন্য বরাদ্দকৃত নলকূপ ও ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। অনেকে এখনো তার কাছে টাকা পাওয়ার দাবি করেন। এ ছাড়া, রাজাপুরের জি কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরিচয় না প্রকাশের শর্তে নলছিটি উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, আমুর সঙ্গে দেখা করতে হলে অনুমতি নিতে হতো আজাদের। উন্নয়নমূলক সব কাজের ভাগ-বাটোয়ারা করতেন তিনি। তার মাধ্যমেই নির্বাচনি এলাকা থেকে শত শত কোটি টাকা কামিয়েছেন আমু। স্থানীয়দের দাবি, শুধু গ্রেপ্তারই নয়, আজাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর সঠিক তদন্ত হতে হবে। প্রশাসনের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই দুর্নীতিবাজের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে না পারে।