Brand logo light

পদায়ন বাণিজ্য

রাজশাহীর আরসি ফুড কায়ছার আলীকে খুঁজছেন খাদ্য কর্মকর্তারা, ঘুষের টাকা ফেরত চান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের সাবেক আরসি ফুড (বর্তমানে যিনি রাজশাহীর আরসি ফুড) এস. এম. কায়ছার আলীকে খুঁজছেন খাদ্য কর্মকর্তারা। গত মার্চ মাসের শেষের দিকে চট্টগ্রাম থেকে রিলিজ হওয়ার প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে তিন দিনে ১৪ জন খাদ্য কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদায়ন করেন এস. এম. কায়ছার আলী। এদের প্রায় প্রত্যেকের কাছ থেকেই পদায়নের গুরুত্ব অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা করে অগ্রিম ঘুষ নেন তিনি। এরপর বদলির আদেশ জারি করেন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী নিজের বদলির আদেশ জারির পর কোনো কর্মকর্তা অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ রকমের বদলির আদেশ জারি করতে পারেন না। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলির ব্যাপারে তখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর থেকে সবুজ সংকেত ছিল না। এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বেপরোয়া দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এস. এম. কায়ছার আলী বদলিগুলো করেন। বিনিময়ে হাতিয়ে নেন মোট প্রায় দুই কোটি টাকা ঘুষ।   কিন্তু আরসি ফুড (আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক) কায়ছার আলীর এ অপকর্মের খবর ফাঁস হয়ে গেলে মন্ত্রণালয় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়। অবৈধ এ বদলির আদেশগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বাতিলের জন্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব নির্দেশ দেন। মন্ত্রণালয়ের চাপে পড়ে বদলির আদেশগুলো বাতিল করতে বাধ্য হন এস. এম. কায়ছার আলী। পরবর্তী কর্মস্থল খুলনায় যোগ দেন তিনি। তবে চট্টগ্রামের খাদ্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ঘুষের টাকাগুলো আর ফেরত দেননি। এই খাদ্য কর্মকর্তাদের ‘আশ^াস’ দেন, শিগগিরই আবার চট্টগ্রামে ফিরে আসছেন। যদিও খাদ্য কর্মকর্তারা বুঝতে পারছিলেন এটা অসম্ভব। কিন্তু এটাও ভাবছিলেন, দুর্নীতিবাজ কায়ছার আলীর পক্ষে সবই সম্ভব। কায়ছার আলী ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ আমলে এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এ রকমের অনেক অসম্ভব কাজকে সম্ভব করেছেন। এদিকে গত সপ্তায় কায়ছার আলী খুলনা থেকে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা পদে পদায়ন নিয়ে চলে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের খাদ্য কর্মকর্তারা এস. এম. কায়ছার আলীকে খুঁজছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে তার কাছ থেকে ঘুষের টাকাগুলো ফেরত চাচ্ছেন। তবে প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছেন না, যেহেতু ঘুষের বিষয়। তাছাড়া, দুর্নীতিবাজ কায়ছার আলীর হাত অনেক লম্বা- যে কোনো সময়, যে কারো ক্ষতি করতে পারেন তিনি। চট্টগ্রাম থেকে অবমুক্তির আগে তড়িঘড়ি যেভাবে দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেন চলতি বছরের মার্চ মাসে এস. এম. কায়ছার আলীকে চট্টগ্রামের আরসি ফুড (আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক) থেকে খুলনার আরসি ফুড পদে বদলি করা হয়। ১৫ মার্চ এই বদলির আদেশ জারি হয়। কিন্তু তিনি খুলনায় যেতে চাননি, যেহেতু সেখানে অবৈধ আয়ের সুযোগ কম। ব্যাপক দেনদরবার করছিলেন, বড় অংকের ঘুষ নিয়েও ঘুরছিলেন। এর আগেও গত বছরের আগস্টে এক দফায় তাকে চট্টগ্রামের আরসি ফুড থেকে খুলনার আরসি ফুড পদে বদলি করা হয়েছিল। তবে এক দিনের মাথায় সেই বদলির আদেশ বাতিল করিয়েছেন। বিনিময়ে তৎকালীন উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার এবং সচিব মাসুদুল হাসানকে দুই কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন।   এস. এম. কায়ছার আলীর চট্টগ্রামের আরসি ফুড পদে পদায়ন হয়েছিল ২০২৩ সালের মার্চে। ২০২৫ সালের মার্চে দুই বছর পূর্ণ হয় অর্থাৎ নীতিমালা অনুযায়ী নতুন পদায়নের সময় আসে। কিন্তু তখনকার উপদেষ্টা ও সচিবকে ম্যানেজ করে চট্টগ্রামেই থাকার ব্যবস্থা করেন তিনি। বিশেষ প্রয়োজনে কোনো কর্মকর্তাকে আরও এক বছর অতিরিক্ত অর্থাৎ তিন বছর পর্যন্ত একই পদায়নে রাখা যায়। নীতিমালার এই সুযোগটি কায়ছার আলীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। তবে নিম্নমানের ও পঁচাচাল গুদামজাতকরণ-সহ নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর আগস্টে তাকে খুলনায় বদলি করতে বাধ্য হয় মন্ত্রণালয়। ওই সময় চট্টগ্রামের অধীনস্থ খাদ্য কর্মকর্তাদের ওপর ব্যাপকহারে চাঁদাবাজি, ঘুষ বাণিজ্য ছাড়াও বদলি বাণিজের মাধ্যমে তড়িঘড়ি বড় অংকের টাকা যোগাড় করেন তিনি। ঢাকায় এসে উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গে সাক্ষাত করে বদলির আদেশ বাতিলের ব্যবস্থা করেন। বদলির আদেশ জারি হয়েছিল ১৭ আগস্ট, ২০২৫ এবং পরদিনই তা বাতিল করা হয়। সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজ ও শীর্ষনিউজ ডটকমে তখন এ নিয়ে খবরও প্রকাশিত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী যেহেতু অতিরিক্ত এক বছর থাকার মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের মার্চ মাসে। তাই এই সময় পর চট্টগ্রামে পদায়নে থাকার আর কোনো সুযোগ নেই। সেই হিসেবে গত ১৫ মার্চ, ২০২৬ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এস. এম. কায়ছার আলীকে খুলনার আরসি ফুড পদে বদলি করা হয়। কিন্তু কায়ছার আলী খুলনায় যাবেন না। বড় অংকের ঘুষ নিয়ে তিনি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মহলে আবারও তদবির শুরু করেন। আগেরবার খুলনায় বদলি ঠেকিয়েছেন, এবারও ঠেকাবেন- এমন ঘোষণা দেন নিজ দপ্তরে বসে। তবে অনেক চেষ্টা করেও এবার আর বদলি ঠেকাতে পারেননি। মন্ত্রণালয়ের তখনকার সচিব জানিয়ে দেন, বদলিস্থলে যেতেই হবে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শেষ মুহূর্তে বেপরোয়া হয়ে উঠেন কায়ছার আলী। ৩১ মার্চ, ২০২৬ ছিল চট্টগ্রাম থেকে রিলিজ (অবমুক্ত) হওয়ার দিন। চলেই যেহেতু যেতে হবে, তাই রিলিজের আগ মুহূর্তে নেমে পড়েন বেপরোয়া বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যে। ২৮ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই তিন দিনে মোট ১৪টি স্মারকে ১৪ জন খাদ্য কর্মকর্তাকে ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) পদে নতুন পদায়ন দেন। ২৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখে ২৮৬ (ম), ২৮৮ (ম), ২৮৯ (ম), ২৯০(ম), ২৯১(ম) নং স্মারকে, ২৯ মার্চ ২৯৩(ম), ২৯৪ (ম), ২৯৫(ম), ২৯৬(ম), ২৯৭(ম) নং স্মারকে এবং ৩০ মার্চ ৩১৫(ম), ৩১৬ (ম), ৩১৭(ম), ৩১৮ (ম) নং স্মারকে বদলির আদেশগুলো জারি করেন তিনি।   এই পদায়নগুলোর বিনিময়ে হাতিয়ে নেন প্রায় দুই কোটি টাকা। অগ্রিম টাকা আদায়ের পরই আদেশ জারি করা হয়। এসব ঘুষের টাকা লেনদেন হয় চট্টগ্রামস্থ আরসি ফুড অফিসে বসেই। এ সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে তার অফিসের টেবিলে একটি পিস্তলও দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। উক্ত ১৪ জনের বাইরে আরও বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি অগ্রিম ঘুষের টাকা নিয়েছেন। পরের দিন অর্থাৎ শেষ কর্মদিবসে পেছনের তারিখ দিয়ে এদের পদায়নের আদেশ জারি করার কথা ছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশের কারণে তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি। বরং যেসব বদলির আদেশ জারি করেছেন তিনি ২৮, ২৯ এবং ৩০ মার্চ- ওই অবৈধ আদেশগুলো বাতিলের নির্দেশ দেন সচিব। ৩০ মার্চ রাতেই এস. এম কায়ছার আলী বাধ্য হন সবগুলো বদলির আদেশ বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করতে। তখনকার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস. এম. কায়ছার আলী স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “অত্র দপ্তরের ২৮/০৩/২০২৬ তারিখের ২৮৬ (ম), ২৮৮ (ম), ২৮৯ (ম), ২৯০(ম), ২৯১(ম) নং স্মারকে, ২৯/০৩/২০২৬ তারিখের ২৯৩(ম), ২৯৪ (ম), ২৯৫(ম), ২৯৬(ম), ২৯৭(ম) নং স্মারকে এবং ৩০/০৩/২০২৬ তারিখের ৩১৫(ম), ৩১৬ (ম), ৩১৭(ম), ৩১৮ (ম) নং স্মারকে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন এতদ্বারা বাতিল করা হলো। এ আদেশ জনস্বার্থে জারী করা হলো।” প্রজ্ঞাপনের তারিখ ছিল ৩০ মার্চ, ২০২৬। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলেও ছিলেন ক্ষমতার শীর্ষে ফ্যাসিস্ট-লুটেরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এস. এম. কায়ছার আলী ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমতাবান। আলোচিত ক্ষমতাবান খাদ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। দুর্নীতিবাজ আওয়ামী মন্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে যখন যেটা ইচ্ছে করেছেন সেটিই হয়েছে, অনিয়মের মধ্যে হলেও। বদলি-পদায়নের নীতিমালায় অতিরিক্ত এক বছরসহ সর্বোচ্চ তিন বছর একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ আছে। কিন্তু নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এস. এম. কায়ছার আলী কুমিল্লা ডিসি ফুড-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদায়নে একনাগাড়ে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ছিলেন, যারমাধ্যমে অতীতের অনিয়মের সকল রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। তাঁর টার্গেট ছিল কুমিল্লার ডিসি ফুড থেকে সরাসরি চট্টগ্রামের আরসি ফুড হওয়া, যদিও তার জন্য এটা বৈধ নয়। প্রথমত, কায়ছার আলীর বাড়ি চট্টগ্রাম শহরে। দ্বিতীয়ত, আরসি ফুড পদে প্রথম পদায়ন হয়ে থাকে সাধারণত কম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে। কায়ছার আলীর ক্ষেত্রে এ নিয়মগুলোর তোয়াক্কা করা হয়নি। তাঁর চাহিদা অনুযায়ীই পদায়ন করা হয়েছে।   এখনও ক্ষমতাবান! অবাক ব্যাপার হলো, আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী এবং ক্ষমতাবান কর্মকর্তা কায়ছার আলী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিলেন টাকার জোরে, এ মুহূর্তে আবার নতুন করে তার ক্ষমতার নজির সৃষ্টি হয়েছে রাজশাহীর আরসি ফুড পদে পদায়ন বাগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে। কম গুরুত্বপূর্ণ খুলনা বিভাগে যোগদানের মাত্র দুই মাসের মাথায় রাজশাহীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের আরসি ফুড পদ বাগিয়ে নিলেন। অবশ্য: এরজন্য তাকে নগদ দুই কোটি টাকা ঘুষ পরিশোধ করতে হয়েছে বলে চাউর আছে। যদিও কায়ছার আলী নানা নাটকীয় প্রচার-প্রচারনার মাধ্যমে ঘুষের এই অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করেছেন তা সফল হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সংস্থা প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব মো. আবু নাসার উদ্দিনের স্বাক্ষরিত গত ১৪ মে তারিখের এক প্রজ্ঞাপনে খাদ্য অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (চ.দা.) ইকবাল বাহার চৌধুরীকে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে পদায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু ওই প্রজ্ঞাপনের পর পরই অত্যন্ত তৎপর হয়ে উঠেন দুর্নীতিবাজ কায়ছার আলী। তিনি এর আগে খুলনায় যোগদানের সময়ই ঘোষণা করেছিলেন, সেখানে থাকবেন না। তাকে খুলনায় রাখা যাবে না। মন্ত্রণালয়সহ প্রভাবশালী মহলে ব্যাপক তদবির চালিয়ে ইকবাল বাহার চৌধুরীর রাজশাহীতে যোগদান ঠেকিয়ে দেন তিনি। এর পরিবর্তে রাজশাহীর আরসি ফুড পদে নিজের পদায়নের ব্যবস্থা করেন। গত ২ জুন মন্ত্রণালয়ের একই উপসচিব আবু নাসার উদ্দিন নতুন প্রজ্ঞাপনে কায়ছার আলীকে আরসি ফুড পদে পদায়ন করেন। এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হওয়ার পর পরই কায়ছার আলী সর্বত্র প্রচার করতে থাকেন, তিনি রাজশাহীতে যেতে চান না, খুলনায়ই থাকতে চান। এমনও বলা হয় যে, ডিজি বরাবর দরখাস্ত করেছেন, রাজশাহী যেত চান না। এমনকি তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে, এমন কথাও প্রচার করেছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে আদৌ এ রকমের কোনো দরখাস্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজের হদিস পাওয়া যায়নি। আদতে তিনি যে, দুই কোটি টাকার বিনিময়ে রাজশাহীর আরসি ফুড পদে পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন তা আর গোপন থাকেনি। অধিদপ্তরের অনেকেই এখন একথা জানেন। তবে এ বিষয়ে চট্টগ্রামের খাদ্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য হলো, কায়ছার আলী যা খুশি করুক, তাদের অগ্রিম ঘুষের টাকাটা যাতে ফেরত পাওয়া যায় এই ব্যবস্থা করা হোক। খাদ্য অধিপ্তরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান একই সঙ্গে স্ত্রী শারমিন আক্তার এবং স্ত্রীর আপন ভাগ্নী দু’জনকেই বিয়ে করেছেন। খালা-ভাগ্নী উভয়ে জহিরুলের স্ত্রী। বিভিন্ন সময়ে দু’জনকেই একাধিকবার তালাকও দিয়েছেন তিনি। তালাকের পরে তাদের নিয়ে আবার সংসারও করছেন। পরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার এ ধরনের অনাচার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড খাদ্য অধিদপ্তরে মুখরোচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিপীড়ন-নির্যাতনের অভিযোগ এনে শারমিন আক্তার পর পর ৪টি মামলা করেন জহিরুলের বিরুদ্ধে। এরমধ্যে তিনটি মামলায় চার্জশিটও হয়েছে। এ কারণে গত সপ্তায় পরিচালক জহিরুল ইসলামকে সাসপেন্ড করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। স্ত্রীর বড় বোনের মেয়ে শাহানা আক্তার স্বর্ণার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে গোপন পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান জহিরুল ইসলাম খান। এক পর্যায়ে শাহানা আক্তার স্বর্ণাকে গোপনে বিয়েও করেন। একই সঙ্গে দু’জনের সঙ্গেই সংসার করছিলেন। ঘটনা ধরা পড়ে গেলে স্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ হয়। স্ত্রীর ওপর শারীরিক নিপীড়ন-নির্যাতনও চালান। এসব ঘটনা তুলে ধরে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ঢাকার ১৩ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন জহিরুল ইসলাম খানের স্ত্রী শারমিন আক্তার। মামলায় মোট চার জনকে আসামী করা হয়। এরমধ্যে এক নম্বর আসামি হলেন জহিরুল ইসলাম খান, ২ নং শাহানা আক্তার স্বর্ণা (বোনের মেয়ে), ৩ নং আসামি সাইদ হাসান শাকিল (আপন বোনের ছেলে) এবং ৪ নং আসামি (আপন বোন) সাইফুন আরা। নির্যাতনসহ বিভিন্ন ঘটনায় পরবর্তীতে একে একে আরও তিনটি মামলা দায়ের করেন শারমিন আক্তার। শারমিন আক্তারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তদন্তে শারমিন আক্তারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং অবশেষে গত সপ্তায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৬, ২০২৬ 0
ডিসি হতে ৮ কোটির ‘ডিল’, চসিক কর্মকর্তাকে শোকজ
কুমিল্লার ডিসি পদে ৮ কোটি টাকার চুক্তি! চসিক কর্মকর্তা সরওয়ার কামালকে শোকজ

“ডিসি পদে ৮ কোটি”: প্রশাসনে নতুন বিস্ফোরণ, চসিকে তোলপাড় শীর্ষনিউজ: মেয়রের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করা, অধীনস্থ কর্মকর্তাদের যখন-তখন বদলি ও পদায়ন এবং ঊর্ধ্বতনের পদায়ন করা কর্মকর্তাকে এখতিয়ারের বাইরে বদলির মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, উপসচিব এস এম সরওয়ার কামাল আগেই আলোচনায় এসেছেন। এবার ফাঁস হয়েছে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পদায়নের বিনিময়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া তাঁর ৮ কোটি টাকা পরিশোধের অঙ্গীকারনামা। ১০০ টাকা মূল্যের ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে করা এই অঙ্গীকারনামা প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় চলছে প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে। শোকজে যা বলা হয়েছে এদিকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এস এম সরওয়ার কামালকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। ১৩ মে উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই নোটিশে কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ৩ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। শোকজ নোটিশে সরওয়ারের বিরুদ্ধে ৮ কোটি টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার ডিসি পদে পদায়নে বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে এ-সংক্রান্ত প্রমাণাদি পাওয়ার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, আপনি জনাব এস এম সরওয়ার কামাল (উপসচিব, আইডি নম্বর: ১৬২১৯) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে কর্মরত আছেন। আপনার বিরুদ্ধে ৮,০০,০০,০০০/- (আট কোটি) টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেছেন মর্মে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। ০২। এমতাবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে ৮.০০.০০.০০০/-(আট কোটি) টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের কারণে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ এর নিকট লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোদ করা হলো।” আগে থেকেই বিতর্কিত ছিলেন সরওয়ার কামাল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, উপসচিব এস এম সরওয়ার কামালের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত ২ এপ্রিল সিটি করপোরেশনের সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল আমিন লাইসেন্স শাখায় (সার্কেল-৬) উপ-কর কর্মকর্তা হিসেবে মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ও মো. তৈয়বুর রহমান চৌধুরীকে একই শাখায় (সার্কেল-৮) এই পদায়ন করেন। কিন্তু নিম্নতম কর্মকর্তা হয়েও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল ৭ এপ্রিল ঊর্ধ্বতনের সেই আদেশ বাতিল করে দেন। একইভাবে সচিব মো. আশরাফুল আমিন ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে অনুমতিপত্র পরিদর্শক হিসেবে আবদুল মতিন ও মো. ইকবালকে পদায়ন করেন। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবার দুই কর্মকর্তাকে গত ৯ এপ্রিল সেখান থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে দেন। এই ধরনের পদক্ষেপে রাজস্ব শাখায় অস্থিরতা শুরু হলে রাজস্ব বিভাগে তিনটি বদলি আদেশ এক চিঠিতেই বাতিল করেন মেয়র। ১২ এপ্রিল চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব বদলি আদেশ বাতিল করা হয়। মেয়রের নির্দেশও উপেক্ষার অভিযোগ চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়, কর্মকর্তা ঘাটতিতে থাকা রাজস্ব বিভাগে গতি আনতে সম্প্রতি ১৪ জন কর আদায়কারীকে উপ-কর কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন মেয়র। এর আলোকে ১৪ জনকে বাছাই করে কাকে কোন কর অঞ্চলে বদলি করা হবে, তার একটি তালিকা ঠিক করে দেন মেয়র নিজে। কোন উপ-কর কর্মকর্তাকে কোন ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা ঠিক করে দেওয়ার জন্য প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে বলে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল মেয়রের সেই নির্দেশনা না মেনে নিজের ইচ্ছেমতো আবার একেকজনকে একেক কর অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন। এ ক্ষেত্রে মেয়রের নির্দেশনাও অমান্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় বিষয়টি যাচাই করে মেয়র এক চিঠিতেই সব বদলি আদেশ বাতিল করেন।   প্রশাসনে নতুন প্রশ্ন সরকারি প্রশাসনে পদায়নকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সরাসরি লিখিত অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে কোটি টাকার প্রতিশ্রুতির অভিযোগ সামনে আসা বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন প্রশাসন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ও পদায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করবে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের শোকজ নোটিশ প্রশাসনের ভেতরে চলমান ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, প্রভাব বিস্তার এবং পদ বাণিজ্যের অভিযোগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
সড়ক ও জনপথের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হোসেন
সওজের দুর্নীতিবাজ প্রধান প্রকৌশলী মঈনুল এখনো বহাল তবিয়তে

শীর্ষনিউজ: গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরের পতন হলেও তাদের পছন্দের দুর্নীতিবাজ সৈয়দ মঈনুল হোসেন এখনো সড়ক ও জনপথের প্রধান প্রকৌশলী পদেই বহাল তবিয়তে আছেন। এ পদে থেকে মঈনুল হোসেন আওয়ামীপন্থী ও শেখ পরিবারের মদদপুষ্ঠ কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন ও পদায়ন করে চলেছেন। কোটি কোটি টাকা লুটপাট ও আত্মসাতের অভিযোগে মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুদক আইনি ব্যবস্থার নেওয়ার সুপারিশ করে। এসবে কোনো কাজতো হয়ইনি, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের পর বিএনপি আমলেও এই পদে বহাল আছেন মঈনুল আছেন। শেখ পরিবারসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচার এবং গণঅভ্যুত্থানের পর নেতাদের দেশ ছাড়তেও সহায়তা করেন এই মঈনুল হাসান এবং তার স্ত্রী ফেরদৌসী শাহরিয়ার। অভ্যুত্থানের পরও সওজে সক্রিয় আওয়ামী সিন্ডিকেট ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও সড়কে নানা অনিয়মে সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট। সরকারের অধিকাংশ দপ্তরে কমবেশি কিছুটা সংস্কার হলেও সড়ক বিভাগে পড়েনি এর ছিটেফোটা আঁচও। তিনস্তর বিশিষ্ট আওয়ামী সিন্ডিকেটে চলেছে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি। টেন্ডার অনিয়ম, কাজে ঘাপলা, বদলি বাণিজ্য ছাড়াও অর্থপাচারের সঙ্গেও এরা জড়িত। ৫ আগস্টের পর ৩০ জন কর্মকর্তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়ে পাচার করা হয় সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তার পরিবার ও সহযোগীদের শত শত কোটি টাকা, যারা গত সাড়ে পনের বছর সড়কে গড়ে তুলেছিল ‘কাদের চক্র’। সৈয়দ মঈনুল হাসান কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সক্রিয় সদস্য। আইইবি-২০২২-২৩এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের (সবুর-মঞ্জুর প্যানেল) শেখ হাসিনার মতই বিনাভোটে নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়েছিলেন কাউন্সিল মেম্বার (আইইবি মেম্বার নং ১৪৫৫০)। সে সময় তার ব্যালট নম্বর ছিল ১২১। শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে গঠিত সড়ক কমিটির উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বুয়েট ছাত্রলীগ নেতাও ছিলেন সওজের এই প্রধান প্রকৌশলী। কর্মকর্তাদের বহর নিয়ে বারবার শেখ মুজিবের মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ করে সমালোচনায় পড়েন। তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মঈনুল হাসানের আপন চাচাতো ভাই শামসুল আলম কচি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এবং নড়াইল জেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সদস্য। মঈনুল হাসানের ভাগ্নে সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মুনতাসির হাফিজ সড়ক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির আওয়ামী প্যানেলের দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি। এর আগেও ছিলেন একই সমিতির পর পর দুইবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগ রয়েছে সড়ক নিয়ন্ত্রণের জন্যই মঈনুলের বিশেষ হস্তক্ষেপই মুনতাসীরের উত্থান হয়। মধ্যম সারির যেকোন কর্মকর্তার পদায়ন বা বদলিতে মঈনুলের ভাগ্নে মুনতাসিরের আর্শিবাদপুষ্ট হতে হতো। বদলি কিংবা পদায়নে আর্থিক লেনদেনের মূল দায়িত্বে থাকতেন মুনতাসির। বদলি-পদায়নের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পরবর্তীতে জমা দেওয়া হতো অর্থ সংগ্রাহক সিন্ডিকেট প্রধানের হাতে। বিরোধী মতাদর্শের মধ্যমসারির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শায়েস্তা করতে মুনতাসিরের ছক অনুযায়ী করা হতো ওএসডি কিংবা শাস্তিমূলক বদলি। এ কাজে তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী আর্শিবাদপুষ্ট প্রশাসন ও সংস্থাপনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আমানউল্লাহ্ ও ডিপ্লোমা সমিতির নেতা মো. মনিরুল আলম। তাদের দৌরাত্বে ঢাকা সড়ক জোন পরিণত হয় ‘মামাভাগ্নে জোনে’। প্রধান প্রকৌশলী মঈনুলের তত্ত্বাবধানে ডিপ্লোমা সমিতির ব্যানারে চলতো লোক দেখানো দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের নামে দেশব্যাপী শেখ হাসিনা বন্দনা। মঈনুল হাসান পদায়নও নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন মঈনুল হাসান সড়কের সবচেয়ে চতুর কর্মকর্তা এবং ‘ম্যানেজ মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত। নিজের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বাসভবনে কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই ঢাকা সড়ক বিভাগের ওই সময়ের আওয়ামীপন্থী নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহকে দিয়ে আড়াই কোটি টাকার আসবাবপত্র ও ইন্টেরিয়রের কাজ করান। পুরস্কার হিসাবে নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহকে প্রধান প্রকৌশলী মঈনের একক হস্তক্ষেপে গত ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগে পদায়ন করা হয়। আওয়ামী শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শাস্তির মুখে পড়ার কথা আহাদ উল্লাহর। কিন্তু এর পরিবর্তে সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়নের মাধ্যমে তাকে পুরস্কৃতই করা হয়েছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে আহাদ উল্লাহ’র স্থানে স্থলাভিষিক্ত করা হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের পিএস অশোক কুমারের ভাগ্নী জামাই রিতেশ বড়ুয়াকে। অথচ বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে দীর্ঘদিন যাবত এই রিতেশ বড়ুয়া ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের ছত্রছায়ায় কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগে কর্মরত। ইতিপূর্বে সৈয়দ মঈনুল হাসান ময়মনসিংহ সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় তার অধীনস্থ তৎকালীন কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এই রিতেশ হয়ে উঠেন বেপরোয়া ও লাগামহীন। তৎকালীন বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের প্রায় সকল সেতুতেই লোহার পাতের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করার প্রমাণসহ প্রতিবেদন এসেছিলো। সেতুতে লোহার পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করার প্রচলনের এ খবর দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার ঝড় উঠলেও মঈনুল হাসানকে দেখা যায়নি তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা নিতে। প্রধান প্রকৌশলী মঈনুলের বিরুদ্ধে আছে আওয়ামীপন্থীদের পুনর্বাসন ও পদায়নের আরো ব্যাপক অভিযোগ। ৫ই আগষ্ট, ২০২৪ পরবর্তী সময় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নতুনত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের সংস্কারের কথা বলে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের পদায়ন করেন মঈনুল। পুনর্বাসন করেন আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত ছাত্রলীগ নেতাদের। একারণে ঠিকাদারসহ কর্মকর্তাদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক অসন্তোষ। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময় তার নানা অপকর্মের হোতা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ওরফে ম্যাক আজাদকে অপসারেণের ব্যাপক দাবি উঠলে, উল্টো তাকে ২০২৪ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর ৩৫.০২২.০৬০.০০.০০.০০৭.২০০৯(অংশ-১) ৪৯৩ নং স্মারকে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকিউরমেন্ট সার্কেল থেকে লোক দেখানো সরিয়ে দিলেও; আরো বড় দায়িত্ব সড়ক গবেষণাগারের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে পদায়ন করা হয়। এই ম্যাক আজাদ ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। ১৫ই আগস্টসহ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত যাবতীয় দিবসের সড়কের সকল প্রোগ্রামের অন্যতম আয়োজক তিনি। পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে সাধারণ ঠিকাদারদেরকে কোণঠাসা করে রাখার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তিনি ছিলেন আওয়ামী যুগের মঈনুল সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্যের অর্থ সংগ্রাহক। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্য ইসকন নেতা কুষ্টিয়া সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ও বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার চক্রবর্ত্তী, ইসকন সদস্য সাবেক পাবনা সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সমীরণ রায়, ওবায়দুল কাদেরের দীর্ঘদিনের সহচর নোয়াখালী সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়া, প্রধান প্রকৌশলীর বন্ধু অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। ৩০ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের মাধ্যমে অর্থপাচার ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর ট্রেনিং ও উচ্চশিক্ষার নামে বিভিন্ন মেয়াদে ৩০ কর্মকর্তার বিদেশ গমনের অনুমোদন ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সড়ক সূত্রের তথ্যমতে, মূলতঃ সরাসরি প্রধান প্রকৌশলী মঈনের তত্ত্বাবধানে এই ৩০ জন আওয়ামী সুবিধাভোগী কর্মকর্তার মাধ্যমেই শেখ পরিবার ও ওবায়দুল কাদেরের বিপুল অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়। অর্থপাচারে সরাসরি যুক্ত ছিলেন মঈনুল হাসান। এজন্যই সড়কের একজন নিয়মিত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পরেও আওয়ামী বিশেষ মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপে তাকে অধিকাংশ সময় ডেপুটেশনে বিভিন্ন পদে স্থানান্তর করা হয়। তাকে সংযুক্ত করা হয় মিনিস্ট্রি অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্স এর ডিরেক্টর পদে। এরপর তাকে পোস্টিং করা হয় রোমের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর পদে। আওয়ামী সরকারের অর্থপাচার আরো নির্বিগ্ন ও ত্বরান্বিত করতে তার সঙ্গে পরবর্তীতে যুক্ত করা হয় তারই স্ত্রী ফেরদৌসী শাহরিয়ারকে। ফেরদৌসী শাহরিয়ারও বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি দীর্ঘদিন ওয়াশিংটন ডিসিতে ডেপুটি চিফ অফ মিশন হিসেবে বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। সরকারের বিশেষ নেক নজর ছাড়া আমেরিকার মতো দেশের দূতাবাসে ডেপুটি চিফ অফ মিশন হিসাবে কর্মরত থাকার সুযোগ নেই। তৎকালীন সরকারের সময় তাকে আমেরিকার নানা সভা, সেমিনার ও অনুষ্ঠানে আওয়ামী তথা শেখ হাসিনা বন্দনার বক্তব্য দিতেও দেখা যায়। গুঞ্জন রয়েছে ওবায়দুল কাদেরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের আমেরিকায় অর্থপাচার করা হতো এই মঈনুলের স্ত্রী ফেরদৌসী শাহরিয়ার ও ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন নেছা কাদেরের ভাতিজি কামরুন্নেসা ও ভাস্তি জামাই এ জে এম ওবায়দুর রহমান খান ওরফে শাওনের নেতৃত্বে। সড়কের নিয়মিত অফিসার না হয়েও কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত থেকেও সরাসরি অভিজ্ঞতা ছাড়াই সড়ক ও জনপথের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তরের শুধুমাত্র আওয়ামী আর্শিবাদপুষ্ট হওয়ায় রাতারাতি প্রধান প্রকৌশলী করা হয় মঈনুল হাসানকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0