Brand logo light

পুলিশ অভিযান

সুদের টাকা না পেয়ে কোলের বাচ্চাকে নিয়ে গেলো ‘সুদ কারবারি’
শরীয়তপুরে সুদের টাকা আদায়ে ছয় মাসের শিশুকে অপহরণ, র‍্যাব-পুলিশের অভিযানে উদ্ধার

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শরীয়তপুরের জাজিরার পূর্ব নাওডোবা এলাকায় সুদের টাকা আদায় করার জন্য ছয় মাস বয়সী এক শিশুকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পর র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) সকালে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে রোববার দিবাগত রাতে মুন্সিগঞ্জ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, অপহৃত শিশুর নাম জাহিদ রাফসান। সে মালয়েশিয়া প্রবাসী জুয়েল মল্লিক ও রাত্রি বেগম দম্পতির সন্তান। প্রায় দুই বছর আগে রাত্রি বেগম তার জা আমেনা বেগমের মাধ্যমে চার লাখ টাকা সুদে ঋণ নেন। পরে সুদসহ প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও আরও টাকা পাওনা রয়েছে দাবি করে আসছিলেন আমেনা বেগম। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার ভোরে আমেনা বেগম কৌশলে শিশুটিকে কিছু সময়ের জন্য নিজের কাছে নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান। এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অপহরণকারী আমেনা বেগম শিশুটিকে ফেরত দিতে সুদের পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে রোববার দুপুরে শিশুটির পরিবারের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে আমেনা বেগমকে ডেকে আনা হয়। এসময় আমেনা বেগম ডুবিসায়বর এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে শিশুটিকে ছাড়াই এসে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমেনা বেগমকে আটক করে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮ এর সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে শিশুটিকে উদ্ধার করে পদ্মাসেতু দক্ষিণ থানা পুলিশ। অভিযুক্ত আমেনা বেগম দাবি করেন, আরেকজনের কাছ থেকে সুদে টাকা এনে দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেই টাকা পরিশোধ না করায় তার সাথে খুবই বাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই উপায়ান্তর না পেয়ে পাওনা সেই টাকা আদায়ের জন্যই তিনি শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাই, টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত শিশুটিকে ফেরতও দিতে চাননি তিনি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশু অপহরণের খবর পেয়ে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে র‌্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার সক্ষম হয় র‌্যাব। শরীয়তপুর জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, অভিযুক্ত নারীকে ইতোমধ্যেই আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অপহৃত শিশুটিকেও উদ্ধার করে আপাতত তার পরিবারের হেফাজতে দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত আমেনা বেগমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
ইয়াবাসহ গ্রেফতার তাসলিমা বেগম।
বরিশালের হিজলায় ৫৫২ পিস ইয়াবাসহ নারী আটক

বরিশাল অফিস :    বরিশালের হিজলা উপজেলায় ৫৫২ পিস ইয়াবাসহ তাসলিমা বেগম (৫০) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কোড়ালিয়া এলাকায় একটি অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে হিজলা থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুলাইমান। অভিযানে অংশ নেন এসআই মো. শামীম হোসেন, এসআই মনিরুজ্জামান, এসআই মোরশেদ আলম, এসআই আমিনুর রহমান, এএসআই সোহেল রানা, এএসআই আ. রাজ্জাক এবং নারী পুলিশ সদস্য চৈতি রানী ও সাইমা আক্তার মীমসহ অন্যরা। অভিযানের সময় জাহাঙ্গীর কাজীর স্ত্রী তাসলিমা বেগমকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। তার পরনের ম্যাক্সির দুই পকেট এবং একটি সাদা পলিথিন ব্যাগ থেকে মোট ৫৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। হিজলা থানার ওসি মো. সুলাইমান জানান, অভিযুক্ত নারী তার বাড়ির রান্নাঘরের পাশে সুপারি বাগানে ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাসলিমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে সহযোগীদের সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে হিজলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
মো. রুস্তুম গাজী (৬০)
গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গলাচিপার অন্ধকার রাত।এক নারীর নীরবতা, এক পরিবারের গোপন অপরাধ, আর একটি নবজাতকের হারিয়ে যাওয়া—যে গল্প এখনো শেষ হয়নি।পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আটখালী গ্রাম। চারদিকে শান্ত পরিবেশ, নদীর বাতাস, আর সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু এই নীরবতার ভেতরেই দীর্ঘ এক বছর ধরে জমছিল এমন এক ঘটনা, যা এখন পুরো এলাকাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ওমান প্রবাসীর স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ঘটনা কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শ্বশুর, শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সন্তান জন্ম দেওয়া নারী। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শ্বশুরসহ দুজনকে আটক করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে খেই হারিয়ে ফেলার দাবি করেছেন থানার ওসি। মামলায় ওই নারী অভিযোগ করেন, তিনি গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী এলাকার ওমান প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী। স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত থেকে তাকে প্রায়ই ধর্ষণ করতেন শ্বশুর মো. রুস্তুম গাজী (৬০)। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শ্বশুর, শাশুড়ি হাওয়া বেগম এবং ননদ খালেদা বেগম ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।এমনকি একবার গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ‎এরপর ওই নারী গত ২৬ মার্চ গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন। পরদিন নবজাতককে তার অজান্তে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ অজ্ঞাতনামারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রায় এক মাস পর তিনি গলাচিপা থানায় মামলা করেন। ‎এ ঘটনায় রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে ওই নারীর শ্বশুর রুস্তম গাজী ও নবজাতক বিক্রিতে সহায়তা করার অভিযোগে বেসরকারি ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান নবজাতক উদ্ধার ও দুজন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ‎মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী এলাকার ওমান প্রবাসীর স্ত্রী তার শ্বশুর মো. রুস্তম গাজীর (৬০) বাড়িতে বসবাস করতেন। তার স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাতে ধর্ষণ করেন। পরে বিভিন্ন সময় তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি অভিযুক্তরা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি গর্ভপাত করানোরও চেষ্টাও করেন। ‎পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার কথা বলে গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়, সেখানে সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। পরদিন নবজাতককে ভুক্তভোগীর অজান্তে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ অজ্ঞাতনামারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার এক মাস পর গত রবিবার গলাচিপা থানায় অভিযোগ করার পর ওই নারীর শ্বশুর এবং লিপি বেগমকে আটক করে পুলিশ। পরদিন করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   নিরাপত্তার জায়গাতেই শুরু ভয় তিনি একজন প্রবাসীর স্ত্রী। স্বামী ওমানে থাকেন, আর সেই সুযোগে শ্বশুরবাড়িই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু অভিযোগ বলছে—সেই আশ্রয়ই হয়ে ওঠে তার জন্য ভয়ংকর এক ফাঁদ। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত। অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিনই প্রথম তাকে ধর্ষণ করেন তার শ্বশুর, মো. রুস্তুম গাজী। একবার নয়—এরপর বারবার। নিয়মিত নির্যাতন চলতে থাকে, আর প্রতিবারই বাড়তে থাকে তার অসহায়ত্ব। তিনি চুপ ছিলেন। কারণ? ভয়, লজ্জা, আর সমাজের চাপ—যা অনেক সময় অপরাধের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। গর্ভধারণ: গোপন সত্যের প্রকাশ সময় গড়ায়। একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন—তিনি অন্তঃসত্ত্বা। এখানেই ঘটনা মোড় নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি জানার পর শ্বশুরের পাশাপাশি শাশুড়ি ও ননদ মিলে চেষ্টা করেন ঘটনাটি চাপা দিতে। গর্ভপাত করানোর চেষ্টাও করা হয়—কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। এটি শুধু একটি অপরাধ ঢাকার চেষ্টা নয়—এটি একটি সংগঠিত নীরবতা, যেখানে সত্যকে মুছে ফেলাই ছিল মূল লক্ষ্য।   ক্লিনিকের ভেতরে আরেক রহস্য ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ তাকে গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। কারণ দেখানো হয় চিকিৎসা। সেখানে সিজারের মাধ্যমে জন্ম হয় একটি ছেলেসন্তানের। একটি নতুন জীবনের শুরু—কিন্তু সেটিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরদিনই নবজাতকটি নিখোঁজ। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—  একটি নবজাতক কীভাবে একটি ক্লিনিক থেকে “অজান্তে” হারিয়ে যায়?   এক মাস পরে বিস্ফোরণ ঘটনার প্রায় এক মাস পর থানায় মামলা করেন ওই নারী। এই দেরি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। পুলিশও বলছে—ঘটনার অনেক দিক এখনো অস্পষ্ট। এই এক মাসে কী ঘটেছিল? •    তাকে কি চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল?  •    নাকি ভয় এতটাই গভীর ছিল যে মুখ খুলতে পারেননি?    পুলিশের অভিযান  অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালায়। আটক করা হয়— •    প্রধান অভিযুক্ত শ্বশুর মো. রুস্তুম গাজী  •    ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগম  পুলিশ জানিয়েছে, নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান, এবং আরও জড়িতদের খোঁজা হচ্ছে। গলাচিপা থানার ওসি স্বীকার করেছেন—  তদন্তে এখনো কিছু জায়গায় “খেই হারিয়ে যাচ্ছে” এই বক্তব্যই ইঙ্গিত দেয়—ঘটনাটি যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক জটিল হতে পারে। ‘মামলার এজাহার অনুযায়ী ধর্ষণের দায়ে প্রধান অভিযুক্ত ও বাচ্চা অপহরণে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বাচ্চাও উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে।’ এক বছরের বেশি সময় ধরে ধর্ষণ এবং নবজাতককে অপহরণের অভিযোগ কেন এক মাস পরে থানায় জানানো হলো, সে ব্যাপারে মামলাকারী নারীর কাছ থেকে পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওসি জানান, পুলিশও বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতায় রয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর সব কিছু পরিষ্কার হওয়া যাবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
কুড়িগ্রামে চোরচক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান
কুড়িগ্রামে চোরচক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান: ৯ জন গ্রেফতার, ১০টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে সংগঠিত মোটরসাইকেল চোরচক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১০টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে কুড়িগ্রাম সদর থানার কোর্ট চত্বর, সদর হাসপাতাল এলাকা, নিউরোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও জিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৬৪টি মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলার তদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এরপর প্রথমে গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকা থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে লালমনিরহাট, উলিপুর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের বাকি সদস্যদের আটক করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন—বাবু মিয়া ওরফে শাহজালাল, নুর ইসলাম, খাইরুল ইসলাম বাবু, রেজাউল হাসান ওরফে বারেক, রফিকুল ইসলাম, মিটুল মিয়া ওরফে পাশা, খায়রুল আলম, আজিজুল হক ও আনিছুর রহমান। পুলিশের দাবি, এই চক্রটি বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মোটরসাইকেল চুরি করে কম দামে বিক্রি করত এবং পরে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করত। গ্রেফতারদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রাজারহাট থানায় মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের মধ্যে দুইটির প্রকৃত মালিক শনাক্ত করে ইতোমধ্যে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মোটরসাইকেলগুলো থানা হেফাজতে রয়েছে এবং মালিকানা যাচাই চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাচাই শেষে সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বির দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে চোরচক্র দমনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
আ. লীগের বিক্ষোভ
বরিশালে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মিছিল

বরিশাল অফিস :    বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একটি বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে অনুষ্ঠিত ওই মিছিলের প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, সদর রোড থেকে মিছিলটি জেলা স্কুলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীদের কেউ মুখে মাস্ক পরেছিলেন, আবার কেউ ছিলেন মাস্কবিহীন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর রাজিব হোসেন খানের নির্দেশনায় মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে মিছিলে রাজিব হোসেন খান নিজে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। রাজিব খান জানিয়েছেন,  জুমার নামাজের পর এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কাকলির মোড় থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি জেলা স্কুল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এদিকে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম বলেন, জুমার নামাজের সময়, যখন অধিকাংশ মানুষ নামাজে ব্যস্ত ছিলেন, তখন ১০ থেকে ১২ জনের একটি ছোট দল মিছিলটি বের করে। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
বদরপুরে শুরু হওয়া হযরত শাহ সোলেমান লেংটার মেলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ
চাঁদপুরের বেলতলীতে হযরত শাহ সোলেমান লেংটার মেলা বন্ধ, খাদেম গুরুতর আহত

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :  চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বেলতলী এলাকার বদরপুরে শুরু হওয়া হযরত শাহ সোলেমান লেংটার মেলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। প্রশাসন থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি এমন অভিযোগে বুধবার (০১ এপ্রিল) বিকাল থেকে মেলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই সোমবার (৩০ মার্চ) থেকে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। মঙ্গলবার উদ্বোধনের দিনই মাদককে কেন্দ্র করে মেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে মাজারের প্রধান খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়াকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে মেলা বন্ধের আদেশ এলো। বুধবার রাতে মেলা বন্ধের তথ্য জানিয়েছেন মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জবীর হুসাইন সানীব। তিনি বলেন, ‌‘প্রশাসন থেকে মেলার কোনও অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তাই আজকের মধ্যেই মেলার কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মেলা বন্ধের জন্য ওই এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘মেলার আয়োজন করার কোনও অনুমতি প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়নি। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেলা বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে। যারা দূরদূরান্ত থেকে এসেছেন তারা রাতে যেতে না পারলে কাল সকালে চলে যাবেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ১০৭তম লেংটার ওরশ ও মেলার উদ্বোধন করা হয়। এর আগেই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার ভক্ত মেলায় জড়ো হন। বেলতলী লঞ্চঘাট থেকে সাদুল্ল্যাপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেলা বসে। অসংখ্য দোকানপাট সাজানো হয়েছে। তৈরি হয়েছে অস্থায়ী আস্তানা ও খানকা। মাজারসংলগ্ন এলাকায় চলছিল গান-বাজনা ও বিভিন্ন আয়োজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি ও সেবন, জুয়ার আসর এবং চাঁদাবাজি চলছে। পাশাপাশি কিছু স্থানে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে অশ্লীল নৃত্যসহ অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে। এ অবস্থায় মেলায় মাদক বিক্রি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে অনুমতি না দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেয় চাঁদপুর জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নামের একটি সংগঠন। এদিকে, শাহ সোলেমান লেংটার মাজারের প্রধান খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়াকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার বিকালে মেলার স্থলে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেলায় মাদক সেবন ও জুয়ার অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে কয়েকজন জুয়াড়ির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ওই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয়ের এক ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার মাথায় আঘাত করলে গুরুতর জখম হন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আনে। মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
সাইবার সুরক্ষা আইনে গ্রেপ্তার ৬
কিশোরগঞ্জে সাইবার প্রতারণা, অনলাইন জুয়া ও মাদক—৬ যুবক গ্রেপ্তার

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সাইবার সুরক্ষা আইনে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বড়ভিটার বড়ডুমরিয়া পাইকারটারী গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সাজু খান (৩৫), একই গ্রামের মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে আসাদুজ্জামান (৪০), মহির উদ্দিনের ছেলে তানভীর আহমেদ মিজান (৩০), দেলোয়ার হোসেনের ছেলে তানজিদ হোসেন (২৪), সাদুরারপুল গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম (৩০) এবং উত্তর বড়ভিটা ডাংগাপাড়া গ্রামের মৃত মকছুদার রহমানের ছেলে আলাল ইসলাম (৩৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করে কিশোরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী রিপন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়ভিটা বাজার এলাকার একটি ঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে কয়েকজন যুবক ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল। তিনি আরও জানান, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে ভিসা পাইয়ে দেওয়া, নকল পাসপোর্ট তৈরি, চাকরি দেওয়ার নামে ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান, চাকরিতে যোগদান ও বিদেশ গমনের কাগজপত্র তৈরি এবং ব্যাংক লোন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিল। এসব কাজে তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করত। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে অনলাইন ক্যাসিনো কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তারা মাদক সেবন করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে প্রতারণা, অনলাইন জুয়া খেলা এবং মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেছেন। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুছ জানান, তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার বিকেলে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
মাগুরা উদ্বোধনের এক ঘণ্টা পর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর
উদ্বোধনের পর উত্তেজিত জনতা আগুন ধরিয়ে দেয় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে; সহ-সভাপতি ও দুই নেতা আটক

মাগুরা : মাগুরার শহরের জামরুলতলা এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের উদ্বোধনের এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন লাগিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. এনামুল হক হিরোক এর নেতৃত্বে বিকাল ৪টায় পার্টি অফিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দলের পতাকা উত্তোলন, দোয়া এবং মোনাজাত অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্বোধনের কিছুক্ষণ পর উত্তেজিত জনতা অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ভাঙচুর চালায়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটক করে তিনজনকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন: জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. এনামুল হক হিরোক (৫২) জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোছা. সোনিয়া সুলতানা (৪০) আওয়ামী লীগ কর্মী মো. উসমান (৩১) বর্তমানে তারা মাগুরা সদর থানার হেফাজতে রয়েছেন। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম জানান, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. এনামুল হক হিরোকের নেতৃত্বে বিকেলে পার্টি অফিস উদ্বোধনের ঘটনা ঘটেছে। তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৫, ২০২৬ 0
বানারীপাড়ায় ছাত্রদল-যুবদলের ২ নেতা গ্রেপ্তার
বরিশালের বানারীপাড়ায় সরকারি ব্রিজের মালামাল চুরির ঘটনায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

বরিশাল: বরিশালের বানারীপাড়ায় পুরনো সরকারি ব্রিজের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মালামাল চুরির অভিযোগে সদর ইউনিয়নের ছাত্রদল ও যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিহাদ আকন (২০) এবং ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. সানি (২২)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতের দিকে বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের গাভা এলাকা থেকে ব্রিজ নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল চুরি করে ট্রলারযোগে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিদ্ধার্থের নেতৃত্বে পুলিশ বানারীপাড়া ফেরিঘাট সংলগ্ন নতুন ব্রিজের নিচে, সন্ধ্যা নদীর মোহনায় অবস্থান নেন। রাত প্রায় ৩টার দিকে সন্দেহভাজন ট্রলারটি সেখানে পৌঁছালে পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে চারটি লোহার রেলপাট, একটি ডিজেল ইঞ্জিন, একটি অক্সিজেন গ্যাস সিলিন্ডার, ব্রিজের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাব এবং চুরির সরঞ্জামসহ ট্রলারটি জব্দ করে। এসময় ট্রলারে থাকা জিহাদ আকন ও সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছেন, তারা গাভা এলাকা থেকে এসব মালামাল চুরি করে নিয়ে আসছিলেন। ঘটনার বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার জিহাদ ও সানিসহ চারজনকে নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গ্রেপ্তারদের বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলমান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0