ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি—বেতন গ্রেড উন্নীতকরণ। সেই দাবিকে সামনে রেখে এবার জাতীয় সংসদে নতুন করে আশ্বাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৩তম গ্রেডে থাকা শিক্ষকদের সরাসরি ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয় মোকাবিলায় প্রস্তাবিত বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দও রাখা হয়েছে। তবে এই ঘোষণা এখনই কোনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত নয়। সংসদে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি এখনও নীতিগত আলোচনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার পর্যায়ে রয়েছে। সংসদে কী বললেন প্রতিমন্ত্রী? রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মওলানা নুরুল আমিন প্রাথমিক শিক্ষকদের বর্তমান ১৩তম গ্রেড থেকে অন্তত ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি উত্থাপন করেন। এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু ১০ম গ্রেড নয়, শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে। বাজেটে কী রয়েছে? প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাবদ ২০ হাজার ৪২৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা হলে অতিরিক্ত প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। সেই সম্ভাব্য ব্যয় বিবেচনায় রেখেই বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, সরকার সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব মূল্যায়ন করে আগাম পরিকল্পনা করছে। তবে বাজেটে অর্থের সংস্থান রাখা হলেও গ্রেড উন্নীতকরণ কার্যকর করতে আলাদা প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘোষণা? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, তাদের দায়িত্ব, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগ কাঠামোর সঙ্গে বর্তমান বেতন গ্রেডের সামঞ্জস্য নেই। বিশেষ করে সরকারি চাকরির অন্যান্য সমপর্যায়ের পদের সঙ্গে বেতন বৈষম্যের বিষয়টি শিক্ষক সংগঠনগুলো নিয়মিতভাবে তুলে ধরছে। ফলে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার সম্ভাব্য উদ্যোগ শিক্ষকদের জন্য আর্থিক ও পেশাগত—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এখন কী অপেক্ষা? প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের ইঙ্গিত মিললেও এখনও— ৯ম গ্রেড কার্যকরের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা হয়নি। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান বেতন কাঠামো বহাল থাকবে। অর্থাৎ, সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে নীতিগত অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা গেলেও এটি এখনো বাস্তবায়িত সিদ্ধান্ত নয়। শিক্ষা খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা খাতকে আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছর একই ধারায় সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মূল তথ্য এক নজরে প্রাথমিক শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। বর্তমানে শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষকদের বেতনের জন্য বরাদ্দ ২০,৪২৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ৯ম গ্রেড কার্যকর হলে অতিরিক্ত প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। বিষয়টি এখনও নীতিগত আলোচনা পর্যায়ে; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৯১ নম্বর ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ছয় মাস আগে। কিন্তু নির্মাণে একাধিক ত্রুটির অভিযোগে এখনো ভবনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে নতুন ভবন তালাবদ্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে পাঠ নিচ্ছে পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনের মাত্র তিনটি কক্ষে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬০ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। অথচ পাঁচটি শ্রেণির পাঠদান চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্র তিনটি কক্ষ। এর মধ্যে একটি কক্ষ অফিস হিসেবে নির্ধারিত থাকলেও কক্ষ সংকটের কারণে সেখানে নিয়মিত ক্লাস নিতে হচ্ছে। বাকি দুই কক্ষে একসঙ্গে দুটি করে শ্রেণির পাঠদান চলছে। শিক্ষকদের ভাষ্য, একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। একজন শিক্ষক ক্লাস নেওয়ার সময় অন্য শিক্ষককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগও বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের আওতায় ৭১ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকা ব্যয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স টোয়াইস কনস্ট্রাকশন। পরে কাজটি হাতবদল হয়ে মেসার্স নির্ণয় এন্টারপ্রাইজ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্মাণ শেষ হলেও ভবনটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আক্তারী বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের কাঠ ব্যবহারের কারণে কয়েকটি দরজা বেঁকে গেছে এবং দরজা খোলা-বন্ধেও সমস্যা হচ্ছে। এসব ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ভবন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি ছিল। তাদের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই ভবনে অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ফলে নতুন ভবন নির্মিত হলেও শিক্ষার্থীরা এখনো গাদাগাদি করে পুরোনো ভবনে পাঠ নিতে বাধ্য হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বাপ্পি কুণ্ডু। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবন বুঝে না নেওয়ায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন জানান, নির্মাণকাজে ত্রুটি থাকার কারণেই প্রধান শিক্ষক ভবন গ্রহণ করছেন না বলে তিনি জেনেছেন। রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, ভবন হস্তান্তরের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্ন রয়ে গেছে একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভবন শেষ হওয়ার ছয় মাস পরও কেন ব্যবহার করা যাচ্ছে না? নির্মাণে যদি ত্রুটি থেকেই থাকে, তবে কাজ চলাকালীন তদারকি কতটা কার্যকর ছিল? আর যদি কাজ চুক্তি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে হস্তান্তর প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে থাকার দায় কার? এদিকে প্রশাসনিক জটিলতার ভার বইতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের, যাদের জন্য নির্মিত নতুন ভবন এখনো কেবল তালাবদ্ধ একটি অবকাঠামো।
পিরোজপুর: পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালীন সময়েই এক শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে অপর এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সদরের ১৩ নম্বর ইন্দুরকানী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর প্রায় ১টার দিকে শিক্ষার্থীদের খেলার জার্সি খুঁজে না পাওয়া নিয়ে সহকারী শিক্ষিকা আসমা আক্তার ও হালিমা সুলতানার মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত অবস্থায় আসমা আক্তার বেতের লাঠি দিয়ে হালিমা সুলতানাকে কয়েক দফা আঘাত করেন। ঘটনার সময় অফিস কক্ষে অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কয়েকজন অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে এর আগেও সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একবার এক শিক্ষককে জুতা দিয়ে মারার চেষ্টা করেছিলেন এবং প্রায়ই সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা হালিমা সুলতানা এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। অভিযুক্ত আসমা আক্তার বলেন, “কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হালিমা সুলতানা আমাকে মারতে এলে আমি আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আঘাত করি।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেকান্দার আলী খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জিয়ানগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে কীটনাশক প্রয়োগের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি, যা স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল (বুধবার) সকালে উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের পূর্ব মোহনকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টিউবওয়েল থেকে পানি পান করতে গেলে দেখতে পায় পানির রং সাদা হয়ে গেছে এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকদের জানানো হলে তারা টিউবওয়েলটি বন্ধ করে দেন এবং প্রশাসনকে অবহিত করেন। ঘটনার পর থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা না হলে আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন অভিভাবকরা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী বাড়ৈ বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা টিউবওয়েলটি বন্ধ করে দিই এবং বৃহস্পতিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। অন্যদিকে, ঘটনার দুই দিন পার হলেও উপজেলা প্রশাসন বা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কোনো প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে জিডি দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানান, বিষয়টি জানার পর শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ এখন আর আগের মতো নেই। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এটি যেন কোনো সবজি ক্ষেত—লাল ও সবুজ শাকে ভরে গেছে পুরো মাঠ। অভিযোগ উঠেছে, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে স্থানীয় একটি এনজিও মাঠটি দখল করে সেখানে সবজি চাষ করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট শিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো মাঠজুড়ে শাকের চাষ করা হয়েছে এবং এর তিন পাশ ঘিরে রাখা হয়েছে জাল দিয়ে। ফলে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা তো দূরের কথা, ঠিকমতো অ্যাসেম্বলিও করতে পারছে না। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, মাঠে ঢুকতে গেলেই তাদের বকাঝকা করা হয়, কখনও ভয়ভীতিও দেখানো হয়। এতে তারা মাঠে যাওয়া এড়িয়ে চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআরবি সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই চাষাবাদ করেছে। যদিও প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান দাবি করেন, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না। ছুটি শেষে স্কুলে এসে তিনি এ দৃশ্য দেখেন। অন্যদিকে, এনজিওটির সভাপতি হুমায়ন কবির মন্টু স্বীকার করেছেন যে তাদের পক্ষ থেকেই মাঠে শাকের বীজ বপন করা হয়েছে। তার দাবি, মাঠে ঘাস না থাকায় এটি করা হয়েছে। তবে তিনি এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হুমকিসূচক মন্তব্যও করেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ লিজ দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ এভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এতে শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।