Brand logo light

বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাত

ইউনূস সরকার
বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ৪০৯ মৃত্যুতে টিকার গ্যাপ, স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অনুসন্ধান

স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন, বন্ধ টিকাদান—তারপরই ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাব : ৫ বছর ক্যাম্পেইন হয়নি: কীভাবে ৪০৯ শিশুমৃত্যুর পথে গেল বাংলাদেশ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ৫৬ জেলায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, হঠাৎ এই পরিস্থিতির পেছনে কোনো অবহেলা বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শুরুর আগেই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণকে সামনে আনছেন— করোনা মহামারির সময় টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, গত পাঁচ বছরে জাতীয় হাম ক্যাম্পেইন না হওয়া, স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে মাঠপর্যায়ের টিকাদান বন্ধ থাকা এবং এক বছর ধরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন স্থগিত থাকা। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এসব কারণ মিলেই দেশে “ইমিউনিটি গ্যাপ” তৈরি করেছে, যার ফল এখন প্রাণঘাতী আকারে সামনে এসেছে। টিকা ছিল, কিন্তু ক্যাম্পেইন হয়নি নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইপিআই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামের এমআর টিকার কখনও বড় ধরনের সংকট ছিল না। বরং চলমান বিশেষ ক্যাম্পেইনের টিকাও দেশে পৌঁছেছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে। তাদের দাবি, টিকা হাতে থাকার পরও কয়েক দফায় পরিকল্পনা বদলানো হয়। প্রথমে টাইফয়েড টিকা ক্যাম্পেইন, পরে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি, এরপর জাতীয় নির্বাচন—সব মিলিয়ে হামের জাতীয় ক্যাম্পেইন বারবার পিছিয়ে যায়। ফলে, যে বিশেষ ক্যাম্পেইন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হওয়ার কথা ছিল, সেটি শেষ পর্যন্ত শুরু হয় চলতি বছরের ২০ এপ্রিল। কিন্তু তখন পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ছড়িয়ে পড়ে। জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ড. তাজুল ইসলাম বারী বলেন, “২০২১ সালের পর আর জাতীয় ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের বড় একটি অংশ জমতে থাকে। গত সেপ্টেম্বরে আসা টিকা দিয়ে যদি দ্রুত ক্যাম্পেইন করা যেত, তাহলে হয়তো এত বড় আউটব্রেক এড়ানো সম্ভব হতো।” কাগজে উচ্চ কভারেজ, বাস্তবে বড় ঘাটতি? সরকারি তথ্যের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে অসামঞ্জস্য। ২০২৩ সালের কভারেজ মূল্যায়ন সমীক্ষা অনুযায়ী, এমআর-১ টিকার কভারেজ ২০১৯ সালের ৮৮.৬ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়ায় ৮৬ শতাংশে। একই সময়ে এমআর-২ কভারেজ ৮৯ শতাংশ থেকে নেমে আসে ৮০.৭ শতাংশে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের অর্থ হলো লাখ লাখ শিশু কার্যত হামের ঝুঁকিতে থেকে গেছে। তবে ইপিআইয়ের আরেক সেট তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালে রুটিন এমআর টিকার কভারেজ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশের কাছাকাছি। এমনকি ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসেও এমআর-১ কভারেজ ৯৭.৯৬ শতাংশ এবং এমআর-২ কভারেজ ৯৫.৬৭ শতাংশ দেখানো হয়। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে হঠাৎ এমআর-১ কভারেজ নেমে আসে ২৭.৭৬ শতাংশে এবং এমআর-২ হয় ২৬.৭৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হঠাৎ পতনই আউটব্রেকের বিস্ফোরণ ঘটাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনে থেমে যায় মাঠপর্যায়ের টিকাদান দেশব্যাপী প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীরা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি, নিয়োগবিধি সংশোধন ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদার দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। ২০২৫ সালে অন্তত তিন দফা কর্মসূচি পালন করেন তারা। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে ডিসেম্বর মাসে, যখন প্রায় পুরো মাসজুড়ে অস্থায়ী টিকাকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. ওয়াসি উদ্দিন রানা বলেন, “ডিসেম্বরজুড়ে আমরা আন্দোলনে ছিলাম। অস্থায়ী টিকাকেন্দ্রগুলোতে কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কিছু স্থায়ী কেন্দ্রে সীমিত টিকাদান চলেছে।” ইপিআইয়ের তৎকালীন উপ-পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ স্বীকার করেন, আন্দোলনের সময় টিকাদান কার্যক্রমে “গ্যাপ” তৈরি হয়েছিল। তার ভাষায়, “ইপিআই থেকে টিকা সরবরাহে কোনো ঘাটতি হয়নি। কিন্তু মাঠপর্যায়ে অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র বন্ধ থাকায় শিশুদের বড় অংশ টিকার বাইরে থেকে যায়।” পাঁচ বছর বন্ধ ছিল জাতীয় ক্যাম্পেইন বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় হাম ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এবং শেষ হয় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর নতুন ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুটিন টিকাদানে বাদ পড়া শিশুদের জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে কভার করার কথা। কিন্তু টানা প্রায় পাঁচ বছর এমন ক্যাম্পেইন না হওয়ায় লাখ লাখ শিশু ঝুঁকির মধ্যে জমা হতে থাকে। এটিকেই তারা “পুঞ্জীভূত ইমিউনিটি গ্যাপ” হিসেবে বর্ণনা করছেন। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকাও বাড়িয়েছে মৃত্যুঝুঁকি রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম নিজে যতটা বিপজ্জনক, তার চেয়েও মারাত্মক হয়ে ওঠে অপুষ্টি ও নিউমোনিয়ার সঙ্গে মিলিত হলে। বাংলাদেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বছরে দুবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সর্বশেষ ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। এরপর আর কোনো জাতীয় কর্মসূচি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এই ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকায় অপুষ্ট শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে দ্রুত জটিলতায় পড়েছে। তদন্তের মুখে স্বাস্থ্যব্যবস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেছেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে বড় সংখ্যক শিশু টিকা কাভারেজের বাইরে ছিল। জাতীয় ক্যাম্পেইন না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আইইডিসিআরকে গবেষণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন আরও গভীর। যখন টিকা দেশে ছিল, তখন কেন ক্যাম্পেইন পিছিয়েছে? স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘ আন্দোলন কেন সমাধান করা যায়নি? কেন টিকাদান কাভারেজের সরকারি তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলো? এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই ৪০৯ শিশুমৃত্যু কি প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল? সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে দেশ।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
ঝালকাঠিতে ডা. অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যু: তদন্তের দাবি
ঝালকাঠিতে ডা. অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যু: তদন্তের দাবি

বরিশাল অফিস :    ঝালকাঠিতে এক শিশু বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে একটি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর দাবি করেছে তার পরিবার। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসক ডা. অসীম কুমার সাহার দেওয়া চিকিৎসার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। যদিও এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয় বলে দাবি করছেন স্থানীয় অনেকেই। তাদের মতে, অতীতেও একাধিকবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝালকাঠি ও নলছিটি এলাকায় শিশু বিশেষজ্ঞের অভাব থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ওই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তবে তার আচরণ, রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে না শোনা এবং যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে ডাঃ অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ   এক অভিভাবক জানান, তার নিজের সন্তানও একবার ওই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ সেবনের পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা আরও অনেকেই জানিয়েছেন। এদিকে  প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনেও শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এতকিছুর পরও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা মনে করেন, চিকিৎসকের দায়িত্ব রোগীর জীবন রক্ষা করা—অবহেলার কারণে তা বিপন্ন করা নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
নওগাঁর ধামইরহাটে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ
নওগাঁর ধামইরহাটে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপন: পুষ্টি বৈষম্য দূর করে স্বনির্ভর বাংলাদেশের আহ্বান

ধামইরহাট: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপন করা হয়েছে। “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়ব স্বনির্ভর বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পুষ্টি মেলার উদ্বোধন করেন ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক প্রশান্ত চক্রবর্তী। উদ্বোধনের পর একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি উপজেলার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশীষ কুমার সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ ও মেধাবী জাতি গঠনে সুষম খাদ্যের বিকল্প নেই। পুষ্টি বৈষম্য কমাতে সরকার তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে কাজ করছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। সভায় মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পুষ্টি মেলায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবারের স্টল প্রদর্শন করা হয়। এসব স্টলের মাধ্যমে প্রসূতি মা, নবজাতক এবং শিশুদের জন্য সুষম খাদ্য তালিকা ও ঘরোয়া উপায়ে পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়ে দর্শনার্থীদের সচেতন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি শেষে আয়োজনে সহযোগিতার জন্য ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
শেবাচিম হাসপাতাল
বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট: ৫৭১ পদের মধ্যে ২৪০ শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

বরিশাল অফিস :    দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে তীব্র চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে। অনুমোদিত পদের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ চিকিৎসকের মোট ৫৭১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে ২৪০টি পদ বর্তমানে শূন্য, অর্থাৎ প্রায় ৪২ শতাংশ পদে কোনো চিকিৎসক নেই। বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩৩১ জন চিকিৎসক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট সবচেয়ে প্রকট। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক—এই তিন শ্রেণিতে মোট ২৪৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১০২ জন। ফলে প্রায় ৫৮.৯ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। অধ্যাপক: ৫১টির মধ্যে ১৩ জন কর্মরত, ৩৮টি পদ শূন্য সহযোগী অধ্যাপক: ৭৪টির মধ্যে ৩৮ জন কর্মরত, ৩৬টি পদ শূন্য সহকারী অধ্যাপক: ১২৩টির মধ্যে ৫১ জন কর্মরত, ৭২টি পদ শূন্য   সাধারণ চিকিৎসক পদেও সংকট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বাইরে সাধারণ চিকিৎসকের ৩২৩টি পদের মধ্যে ৯৪টি পদ শূন্য, যা প্রায় ২৯.১ শতাংশ। বিভিন্ন পদে শূন্যপদের চিত্র আরও উদ্বেগজনক: সহকারী রেজিস্ট্রার: ৯৬টির মধ্যে ৩০টি শূন্য সহকারী সার্জন: ২২টির মধ্যে ১৪টি শূন্য ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার: ১০টির মধ্যে ৬টি শূন্য ডেন্টাল সার্জন: ১৩টির মধ্যে ৯টি শূন্য এছাড়াও রেজিস্ট্রার, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, রেডিওলজিস্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল ঘাটতি রয়েছে।   রোগীর চাপ দ্বিগুণ কাগজে-কলমে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন আন্তঃবিভাগে প্রায় ২ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। পাশাপাশি বহির্বিভাগে আরও প্রায় ২ হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। এত বিপুল রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক কখনোই অনুমোদন পায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।   রোগী ও চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা রোগী তরিকুল ইসলাম ইয়াদ বলেন, “বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। চিকিৎসক সংকটের কারণে ভর্তি রোগীরাও পূর্ণ সেবা পাচ্ছেন না।” হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানান, চিকিৎসক কম থাকায় রোগীদের যথেষ্ট সময় দেওয়া সম্ভব হয় না, যা চিকিৎসার মানকে প্রভাবিত করছে।   দ্রুত সমাধানের দাবি বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা এই হাসপাতাল। দ্রুত চিকিৎসক সংকট দূর না হলে রোগীরা কখনোই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে না।”   কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর বলেন, সংকটের মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। শূন্য পদে নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
শেবাচিম হাসপাতালে আগুন
বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে আগুন: ২ রোগীর মৃত্যু, তদন্ত কমিটি

বরিশাল: বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এর মেডিসিন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (রাত ১১টা) পঞ্চম তলার একটি স্টোররুমে আগুন লাগে। এ ঘটনায় আতঙ্কে রোগী সরানোর সময় এবং অক্সিজেন সাপোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃতরা হলেন—পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর এলাকার কাজী আতাউর রহমান (৮০) এবং বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হোসেন হাওলাদার (৬৫)। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার সময় মেডিসিন বিভাগে মোট ৬৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের দ্রুত অন্য ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়।    মৃত্যুর অভিযোগ নিহত আতাউর রহমানের ছেলে কাজী আনসার আলী অভিযোগ করেন, আগুনের আতঙ্কে বাবাকে নিচে নামানোর সময় অক্সিজেনের অভাবে তার মৃত্যু হয়। তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে থাকা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকেও অক্সিজেন পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আবুল হোসেনের ছেলে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে তিনি তার বাবাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, “দুই রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। তারা গুরুতর অবস্থায় অক্সিজেন সাপোর্টে ছিলেন। আগুন লাগার পর স্বজনরা তড়িঘড়ি করে অক্সিজেন ছাড়াই নিচে নামালে এই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।”   আগুনের কারণ ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আবুল বাশার জানান, স্টোররুমে রাখা পুরোনো ফোমের বেড থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। বিড়ি বা সিগারেটের আগুন থেকেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।  আহতদের তথ্য অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়িতে তিন আনসার সদস্য—রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল এবং একজন ওয়ার্ড মাস্টার আহত হয়েছেন।   তদন্ত কমিটি ঘটনা তদন্তে প্রথমে একটি কমিটি গঠন করা হলেও তা বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটির প্রধান করা হয়েছে সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজলে রহমান খানকে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি গণপূর্ত বিভাগের প্রতিনিধি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেসিডেন্সিয়াল সার্জন তদন্ত কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   ফায়ার সার্ভিস বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আবুল বাশার জানান, স্টোররুমে থাকা পুরোনো ফোমের বেড থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেন। বিড়ি বা সিগারেটের আগুন থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন নেভাতে গিয়ে ও আতঙ্কিত পরিস্থিতিতে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে তিন আনসার সদস্য রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল এবং একজন ওয়ার্ড মাস্টার আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0