ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীসহ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এবার বোরো ধানের ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। মাঠভরা সোনালি ধান কৃষকের ঘরে উঠলেও সেই আনন্দ এখন অনেকের কাছে লোকসানের হিসাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারে ধানের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে এক ধরনের অদৃশ্য সিন্ডিকেট। ফলে বাম্পার ফলনের মৌসুমেও তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, ফলন ভালো হয়েছে। খাদ্য বিভাগ বলছে, সরকার বাজারের চেয়ে বেশি দামে ধান কিনছে। কিন্তু মাঠের কৃষকরা বলছেন, সেই সুবিধা তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। বিঘাপ্রতি লোকসান দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা কৃষক ও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২২ মণ বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি বিঘায় চাষ খরচ হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। ধান কাটা ও মাড়াইয়ে আরও ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা যোগ হওয়ায় মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ২৬ থেকে ২৭ হাজার টাকায়। কিন্তু বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১২০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায়। সেই হিসাবে কৃষকের আয় দাঁড়াচ্ছে ২৪ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ প্রতি বিঘায় গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। “ধান ফলাইছি, কিন্তু লাভ পাই নাই” রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কামারপাড়ার কৃষক জয়নাল আবেদিন এবছর সাড়ে তিন বিঘা জমিতে উফশী জাতের বোরো চাষ করেছিলেন। তিনি জানান, কাটা-মাড়াই শেষে তার জমি থেকে ৭৩ মণ ধান পাওয়া গেছে। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৭৮ হাজার টাকা। ধান কাটার পর শ্রমিকদের সঙ্গে বিঘাপ্রতি সাত হাজার টাকা চুক্তিতে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে তার মোট ব্যয় দাঁড়ায় ১ লাখ ৩ হাজার টাকায়। বর্তমান বাজারদরে ৭৩ মণ ধান বিক্রি করলে তিনি পাচ্ছেন প্রায় ৯১ হাজার ২৫০ টাকা। অর্থাৎ সাড়ে তিন বিঘা জমিতে তার নিট লোকসান ১১ হাজার ৭৫০ টাকা। জয়নাল আবেদিন বলেন, “ধান তো ভালোই হইছে। কিন্তু বাজারে যে দাম, তাতে খরচই উঠতেছে না।” বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে কারা? রাজশাহীর বিভিন্ন মোকাম ও হাটে কৃষকদের বড় অভিযোগ—ধানের বাজার এখন কয়েকটি বড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। মোহনপুরের কৃষক মহিউদ্দিন শেখ বলেন, বড় বড় কোম্পানির এজেন্টরা প্রতি হাটবারে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে ধানের দাম ঠিক করেন। তার ভাষায়, “কৃষকের হাতে কোনো দরকষাকষির সুযোগ নাই। তারা যে দাম বলে, সেই দামে ধান বেচে বাড়ি ফিরতে হয়।” নওগাঁর মান্দা উপজেলার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলছেন, একসময় এই অঞ্চলে অসংখ্য ছোট চাতাল ছিল। চাতাল মালিকরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে বড় চাল কোম্পানিগুলোর দাপটে ছোট চাতালগুলো একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আগে বাজারে প্রতিযোগিতা ছিল। এখন বড় কোম্পানির এজেন্ট ছাড়া কৃষকের আর কোনো ক্রেতা নাই।” উৎপাদন খরচ বেড়েছে, দাম কমেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচও বেড়েছে। পাশাপাশি সার ও কৃষি উপকরণের দামও ছিল চড়া। তার দাবি, “সবকিছুর খরচ বাড়ছে, কিন্তু ধানের দাম বাড়ে নাই।” রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কৃষক আব্দুল মান্নানও একই অভিযোগ করেন। তার মতে, কৃষক এখন উৎপাদনের ঝুঁকি নেয়, কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণ করে মধ্যস্বত্বভোগীরা। কেশরহাট এলাকার কৃষক নুর ইসলাম বলেন, “ধান ওঠার সময় দাম কমে যায়। ব্যবসায়ীরা কম দামে কিনে মজুত করে রাখে। পরে সেই ধানই বেশি দামে বাজারে বিক্রি হয়।” সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতেও অভিযোগ সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে ১৫ মে থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। সরকার প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে কিনছে, যা প্রতি মণে প্রায় ১ হাজার ৪৪০ টাকা—বর্তমান বাজারদরের চেয়ে প্রায় ৩০০ টাকা বেশি। তবে কৃষকদের অভিযোগ, সাধারণ চাষিরা সহজে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। সেখানে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়। যদিও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুদ্দিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই ধান কিনতে চাই। কিন্তু অনেক কৃষক প্রক্রিয়াকে জটিল মনে করে আসতে চান না।” বাম্পার ফলন, কিন্তু অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, হাওড় অঞ্চলে উৎপাদন কম হলেও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। তার মতে, “উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার হলে বাজারে ধানের দাম বাড়তে পারে।” কিন্তু মাঠের কৃষকদের প্রশ্ন অন্য জায়গায়। তারা বলছেন, যদি বাম্পার ফলনের মৌসুমেও উৎপাদন খরচ না ওঠে, তাহলে আগামী মৌসুমে কৃষক কীভাবে টিকে থাকবে? বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার বড় অংশ যাদের ঘামে নির্ভরশীল, সেই কৃষকদের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট এখন শুধু উৎপাদন নয়—ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
বরিশাল অফিস : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুপ্ত খাল পুনঃখনন না হওয়ায় এলাকায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বোরো ধান চাষে। খালে পানি না থাকায় অনেক কৃষক এখন বাণিজ্যিক সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কেউ কেউ বোরো আবাদই বন্ধ করে দিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় গুপ্ত খালের দুই প্রান্ত দিয়েই সন্ধ্যা নদীর পানি প্রবাহিত হতো। সেই পানির ওপর নির্ভর করে অন্তত ২০ হেক্টর জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা হতো। তবে দীর্ঘদিন পুনঃখনন না হওয়া এবং দখলের কারণে খালটি এখন প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম ছাড়া বছরের অধিকাংশ সময় খালে পর্যাপ্ত পানি থাকে না। শুষ্ক মৌসুমে খাল পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। পাশাপাশি সন্ধ্যা নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে খালে পানি প্রবেশও বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে নদীর মোহনায় সেচ পাম্প বসিয়ে খালে পানি তুলে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে বোরো ধান চাষের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বাণিজ্যিক সেচ ব্যবস্থায় ২০ শতক জমিতে পানি দিতে পাম্প মালিককে তিন শতক জমির সমপরিমাণ ধান দিতে হয়। অতিরিক্ত এই ব্যয় বহন করতে না পেরে অনেক কৃষক এবার বোরো আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন, কেউ কেউ পুরোপুরি বন্ধও করে দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কপিল বিশ্বাস বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে সন্ধ্যা নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গুপ্ত খালে পানি প্রবেশ করতে পারে না। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খাল পুনঃখননের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে।” স্থানীয়দের আশা, দ্রুত খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হলে কৃষিতে সেচ সংকট কমবে এবং আবারও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারবেন কৃষকরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের বালুঘাটা গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেনের কণ্ঠে ক্ষোভ আর হতাশা। ধান বিক্রির আয় দিয়ে শ্রমিকের মজুরিও দিতে পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, “এক মণ ধান বিক্রির টাকার সঙ্গে আরও ২৫০ টাকা যোগ কইরা শ্রমিকের মজুরি দিতেছি। সব জিনিসের দাম বাড়ে, বাড়ে না শুধু কৃষকের ধানের দাম। আমরা বাঁচমু কীভাবে।” মঙ্গলবার নালিতাবাড়ী পৌরশহরের একটি বাজারে শক্তি-১ জাতের ২০ মণ ধান বিক্রি করেন তিনি। প্রতি মণ ধানের দাম পান ৮৫০ টাকা। কিন্তু তাঁর হিসাব বলছে, উৎপাদন খরচই ছিল মণপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি। ফলে বিক্রি করেও লোকসান গুনতে হচ্ছে। শুধু ইসমাইল হোসেন নন—জেলার অধিকাংশ কৃষকেরই একই অভিজ্ঞতা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শেরপুরে ৯১ হাজার ৮১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, ঝড় ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে ২৪৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায়। নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের হাওরা বিল, বাউসি বিল ও খৈলাকুড়া মরাগাংসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৫০ একর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, তাঁর দুই একর জমির ধান দীর্ঘদিন পানির নিচে ছিল। শ্রমিকদের দৈনিক ১২০০ টাকা মজুরি ও খাবার দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। কিন্তু ভেজা ধানের কারণে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “ভেজা ধান বলে ৪০ কেজির জায়গায় ৪৫ কেজি ধরে নেয় পাইকাররা, তবুও ৮০০ টাকায় বিক্রি করছি। আমাদের দুঃখের কথা কেউ শোনে না। ভবিষ্যতে ধান চাষ বাদ দিতে হবে হয়তো।” একই চিত্র ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমানের ক্ষেত্রেও। তিনি জানান, ঋণ করে ধান চাষ করলেও এখন দাম কমে যাওয়ায় ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “অহনে ধানের দাম নাই, দুশ্চিন্তায় আছি।” এদিকে একসঙ্গে সব এলাকায় ধান কাটা শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় ধান বেশি থাকায় দাম আরও কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, শ্রমিকের মজুরি বেশি এবং বাজারে দাম কম। সরকার নির্ধারিত দরে ধান কেনার জন্য কৃষকের তালিকা করা হচ্ছে। নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল ওয়াহেদ খান বলেন, “উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দাম অনেক কম। আবহাওয়াও কৃষকের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করেছে।” শেরপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফাতেমা খাতুন জানান, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে ধান বিক্রির জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং বাজারদর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু এলাকায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একসঙ্গে ধান কাটা শুরু হওয়ায় বাজারে প্রভাব পড়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :সুনামগঞ্জে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও মাঠপর্যায়ে তথ্য না পৌঁছানো এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সক্রিয়তার কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। সরকারি ঘোষণায় প্রতি মণ ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। গত রোববার (৩ মে) থেকে সুনামগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে, যা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, হাওরাঞ্চলের বহু কৃষক এখনো এই দামের বিষয়ে অবগত নন। এই সুযোগে স্থানীয় ব্যাপারীরা খলা থেকেই কম দামে ধান কিনে নিচ্ছেন। ভেজা বা আর্দ্র ধানের অজুহাতে প্রতি মণ ধান ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় কেনা হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। সুনামগঞ্জের দেখার হাওর পাড়ের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক এমরান মিয়া ও সামরান মিয়া জানান, ধার-দেনা করে ১৭ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন তারা। কিন্তু অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ৭ বিঘার ধান এখনো পানির নিচে। শ্রমিক সংকট ও হারভেস্টার না পাওয়ায় সময়মতো ধান কাটা সম্ভব হয়নি। লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের জানিগাঁও গ্রামের কৃষক জব্বার মিয়া বলেন, “ঋণ করে চাষ করেছি। খলায় আনার পরেই বেপারীরা ৬০০–৭০০ টাকা দাম বলছে। সরকার যে ১৪৪০ টাকায় ধান কিনবে, তা আমরা জানিই না।” একই ধরনের অভিজ্ঞতা জানান জলিলপুর গ্রামের রংমালা বিবি। তিনি বলেন, খলায় ধান ভেজা থাকায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ধান নষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, তারা কৃষকদের সচেতন করতে মাইকিংসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বি এম মুশফিকুর রহমান জানান, এ বছর জেলায় ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকরা চাইলে লোকাল সাপ্লাই ডিপোতে (এলএসডি) ধান শুকিয়ে গুদামে দিতে পারবেন। তবে আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের বেশি হলে ধান গ্রহণ করা হবে না। শান্তিগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. আবদুর রব জানান, ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হবে এবং স্যাম্পল যাচাইয়ের পরই ধান গ্রহণ করা হবে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, কেবল প্রচারণা যথেষ্ট নয়। মাঠপর্যায়ে তদারকি না থাকায় ফরিয়া ও দাদন ব্যবসায়ীরা কৃষকদের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। এতে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। জেলা কৃষি ও খাদ্য সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কৃষ্ণপুর এলাকার ছায়ার হাওরের প্রায় পুরো বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনের বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবার ভোরে হঠাৎ পানি বেড়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, কয়েক দিনের ধারাবাহিক বৃষ্টিতে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে অনেকেই ধান কাটার সুযোগ পাননি। কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক মো. রুহুল আমিনের ভাষায়, “৫০ কাঠা জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারলাম না।” ক্ষতির প্রভাব শুধু ফসলেই সীমাবদ্ধ নয়। লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, গবাদিপশুর খাদ্য সংকটও দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে শ্রমিক সংকট ও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে আগে কাটা ধানও শুকাতে না পেরে নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, কোথাও কোথাও ধানে অঙ্কুরও দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে এবং প্রায় ২০ শতাংশ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা যথাযথ সহায়তা পাবেন কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন কাজ করছে এবং দ্রুত ধান কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নতুন করে পানি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকার থাকবে এবং খাদ্য ও কৃষি সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তিন মাসের খাদ্য সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দিনাজপুরে প্রথমবারের মতো ‘রাইস গার্ডেন’ স্থাপন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), যেখানে একসঙ্গে ৫৪টি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত প্রদর্শন করা হচ্ছে। কৃষকদের জন্য উপযোগী জাত নির্বাচন সহজ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার কাউগা এলাকায় স্থাপিত এই গার্ডেনের মূল লক্ষ্য হলো মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধানের জাতের বৈশিষ্ট্য সরাসরি দেখানো। এখানে কৃষকরা ধানের গাছের বৃদ্ধি, উচ্চতা, শিষের গঠন, রোগবালাই সহনশীলতা এবং ফলনক্ষমতার পার্থক্য একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আধুনিক জাতের সম্প্রসারণে এ ধরনের প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি কৃষকদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি করে, যা প্রচলিত প্রশিক্ষণের চেয়ে বেশি কার্যকর। ‘নতুন ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন’—এই এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় দেশজুড়ে প্রায় ১৫টি প্রযুক্তি গ্রামে একই ধরনের রাইস গার্ডেন গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানান, “কৃষকদের কাছে উন্নত ধানের জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি সহজভাবে পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।” কৃষকদের প্রতিক্রিয়া স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এই উদ্যোগ ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। প্রতিদিনই অনেক কৃষক ও আগ্রহী দর্শনার্থী গার্ডেনটি পরিদর্শন করছেন। কাউগা গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল আলিম বলেন, “এ ধরনের রাইস গার্ডেন আগে দেখিনি। এখানে এসে বিভিন্ন জাত সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পেয়েছি। আগামী বোরো মৌসুমে কোন ধান চাষ করব, তা ঠিক করে ফেলেছি।” গবেষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্রি’র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ জাহিদ হাসান বলেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক ধান চাষ প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। ভবিষ্যতে আউশ ও আমন মৌসুমেও একই ধরনের রাইস গার্ডেন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি মোট ৬১টি ধানের জাত অবমুক্ত করেছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে ৫৪টি জাত প্রদর্শন করা হচ্ছে। নতুন সম্ভাবনার দ্বার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘রাইস গার্ডেন’ শুধু প্রদর্শনী নয়—এটি একটি জীবন্ত গবেষণা ক্ষেত্র। যেখানে একই সঙ্গে বিভিন্ন জাতের তুলনামূলক মূল্যায়ন সম্ভব হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় আগাম প্লাবন দেখা দিয়েছে। এতে পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। সুনামগঞ্জের জিনারিয়া হাওরে একটি রক্ষা বাঁধ ভেঙে পড়ায় আকস্মিকভাবে পানি ঢুকে ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২৬ হেক্টর জমির মধ্যে আগে থেকেই ৮ হেক্টর জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত ছিল; বাঁধ ভাঙার পর আরও প্রায় ৩ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একজন জানান, মাসের পর মাস বাড়িঘর ছেড়ে হাওরে অবস্থান করে চাষাবাদ করার পর শেষ সময়ে এসে এমন বিপর্যয় তাদের নিঃস্ব করে দিয়েছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন, ফলে ক্ষতির বোঝা আরও বাড়ছে। দোয়ারাবাজার উপজেলাসহ সুনামগঞ্জের একাধিক হাওরে একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও ধানের শীষ সম্পূর্ণ পানির নিচে, আবার কোথাও আংশিক ভাসমান। কৃষকেরা কোমরসমান পানিতে নেমে শেষ চেষ্টা হিসেবে ধান কাটছেন, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। নেত্রকোনার হাওর এলাকাগুলোতেও গত তিন দিনের টানা বর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের হিসেবে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে, যদিও মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। জেলায় এ বছর প্রায় ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ধান কাটার জন্য মাইকিং করা হলেও শ্রমিক সংকট ও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। ফলে পাকা ধানও এখন পানির নিচে। মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরেও পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রশাসনের দাবি, অধিকাংশ ফসল ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে, তবে কৃষকদের মতে বাস্তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধান এখনো মাঠে ছিল, যা বর্তমানে ডুবে যাচ্ছে। হবিগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি প্লাবিত করেছে। কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং নদীর পানি বাড়তে থাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাওর অঞ্চলে একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল কৃষকদের জন্য এই ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে এবং পানি দ্রুত না নামলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কুমিল্লা: কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষি মাঠজুড়ে এখন বোরো ধানের সবুজ সমারোহ। প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হওয়া এই ধানক্ষেত যেন এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মাঠ, বিল ও খালজুড়ে বোরো ধানের চাষাবাদে প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামীণ জনপদ। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চল নতুন রূপ ধারণ করলেও বোরো মৌসুমে এর সৌন্দর্য বিশেষভাবে চোখে পড়ে। স্থানীয়ভাবে ঝলা অঞ্চল হিসেবে পরিচিত মনোহরগঞ্জে বছরের প্রায় ৯ মাস জমি পানির নিচে থাকে। ফলে এখানে মূলত বছরে একটি ফসলই আবাদযোগ্য—আর সেটি হচ্ছে বোরো ধান। এই কারণে উপজেলাটি ধান উৎপাদনের জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে বিবেচিত। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকদের শ্রমে গড়ে ওঠা ধানের সবুজ পাতায় ভরে গেছে মাঠের পর মাঠ। আর কিছু দিনের মধ্যেই ধানের শীষ বের হওয়া শুরু হবে। মৈশাতুয়া গ্রামের কৃষক শাহাদত হোসেন ভূঁইয়া, ছিকটিয়া গ্রামের ছালে আহম্মেদ, হাটিরপাড়ের শুকুর আলী, দিশাবন্দের নুরুল আমিন ও ঝলম গ্রামের আবদুল কাদের মোল্লাসহ একাধিক কৃষক জানান, তারা প্রত্যেকে ২-৩ কানি জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। তারা বলেন, “ইতোমধ্যে বোরো ধানের রোপণ শেষ হয়েছে। ধানের গাছ ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।” চলতি মৌসুমে পানির সংকট নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ঈদের আগে-পরে কয়েক দফা বৃষ্টিপাত কৃষকদের স্বস্তি দিয়েছে। এতে ধানক্ষেত সতেজ হয়ে উঠেছে। উপজেলার মৈশাতুয়া, ঝলম উত্তর, ঝলম দক্ষিণ, বাইশগাঁও, হাসনাবাদ, খিলা ও সরসপুর-উত্তর হাওলা ইউনিয়নসহ ১১টি ইউনিয়নে এবার সবচেয়ে বেশি বোরো উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম জানান, এ বছর ব্রি ধান-৮৯, ৯২, ১০১, ১০২, ব্রি হাইব্রিড ধান, বীনা-২৫ এবং হীরা-২ ও ১৯সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের বোরো ধানের চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার তুষার বলেন, “চলতি মৌসুমে ৯ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় ধানের অবস্থা ভালো। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলন ভালো হবে।” তিনি আরও বলেন, “এবার স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে জেলার বাইরেও ধান সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”
বরিশাল: বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে ৫টি তেল ডিপোতে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একজন করে প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বরিশালের ২৯টি পেট্রোল পাম্পে এই কর্মকর্তারা সরেজমিনে জ্বালানির মজুত, বিক্রি ও বিপণন ব্যবস্থা তদারক করছেন। তাদের কার্যক্রম তদারকি করছেন সংশ্লিষ্ট ইউএনও এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরা। ভ্রাম্যমাণ আদালতও ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমন জানিয়েছেন, এলাকায় জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। তিনি বলেন, “ঈদের আগে বাড়তি যাত্রী পরিবহনের কারণে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, তবে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কিছু মোটরবাইকের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতায় প্যানিক তৈরি হলেও, কর্মকর্তারা বলছেন, কাগজপত্র, লাইসেন্স ও হেলমেট থাকলে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। জেলা প্রশাসকও এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাই জানিয়েছেন। বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কৃষি সেচে ডিজেল সরবরাহ। দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৪ লাখ হেক্টরের বোরো ধানের সেচে ৮৭ হাজার পাওয়ার পাম্পের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজারই ডিজেল চালিত। প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত সেচে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট দেখা দেয়নি। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটর করছে। কৃষি মন্ত্রণালয় আশাবাদী, চলতি রবি মৌসুমে ৪ লাখ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদন সম্ভব। জেলা প্রশাসক ২৮ মার্চ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে সরকারি কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের মনিটরিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বরিশাল মহানগরী ও সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ট্যাগ অফিসাররা পাম্পে নিয়মিত তদারকি করবেন এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে বাধ্য থাকলেও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উত্তরের জেলা নীলফামারীর বিভিন্ন উপজেলায় আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৪৯৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টির পর শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই তথ্য জানায়। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ডোমার, ডিমলা এবং জলঢাকা উপজেলার অন্তত ছয়টি ইউনিয়নে এই দুর্যোগ আঘাত হানে। এতে ঘরবাড়ির পাশাপাশি মাঠের উঠতি ফসলের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। প্রাথমিক হিসেবে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভুট্টা চাষ। এছাড়া বোরো ধান, মরিচ এবং কলার ক্ষেতেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব: ভুট্টা: ৩২৫ হেক্টর বোরো ধান: ১৫০ হেক্টর মরিচ: ১৫ হেক্টর কলা: ৩ হেক্টর উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী— ডিমলা উপজেলার ডিমলা সদর, পূর্ব ছাতনাই ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নে প্রায় ৭৫ হেক্টর ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখানে ১৫০ হেক্টর বোরো ধান, ২০০ হেক্টর ভুট্টা, ১৫ হেক্টর মরিচ এবং ৩ হেক্টর কলা নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ও শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হেক্টর ভুট্টার জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) জাকির হোসেন জানান, জেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯১৩ হেক্টর। এর মধ্যে ক্ষতির পর বর্তমানে ফসলি জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৪৩ হেক্টরে। তিনি বলেন, “এটি প্রাথমিক হিসাব। মাঠপর্যায়ে আরও যাচাই চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন এলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।” স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে অনেক ক্ষেতের ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।