Brand logo light

মানবপাচার

আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি
আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি: ২৬৪ নিখোঁজ, শতাধিক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আন্দামান সাগর-এ মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাসহ অন্তত ২৬৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ কিশোর ও তরুণ। কী ঘটেছিল তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল কক্সবাজার উপকূল থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রলারটি উত্তাল সাগর ও অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ডুবে যায়। প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর ৯ জনকে একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ উদ্ধার করে। পরে তাদের সেন্ট মার্টিনে কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। বাকি তিনজন রোহিঙ্গা নাগরিক, যাদের কাছ থেকে ট্রলারডুবির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের পরিচয় নিখোঁজদের বেশিরভাগই উখিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গা। তবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে: টেকনাফ: ৪০ জন উখিয়া: ৬ জন রামু: ৪ জন পেকুয়া: ৭ জন বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): ৫ জন স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ এলাকা থেকেই ৩০ জনের বেশি যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারগুলোর অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা নিখোঁজদের পরিবারগুলো চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই থানায়, জনপ্রতিনিধিদের কাছে এবং বিভিন্ন দপ্তরে ছুটছেন স্বজনদের খোঁজে। পেকুয়ার রাজাখালীর বাসিন্দা সুমি আক্তার বলেন, তার স্বামী দালালের প্রলোভনে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন। “তিনি বলেছিলেন পৌঁছে ফোন দেবেন। এরপর আর কোনো খবর পাইনি,” বলেন তিনি। পাচারচক্রের ফাঁদ স্থানীয়দের মতে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে টেকনাফ উপকূল থেকে অন্তত তিনটি ট্রলার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। এর মধ্যে একটি ডুবে গেলেও অন্য দুটি থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবপাচারকারীরা মূলত দরিদ্র, বেকার ও ঋণগ্রস্ত তরুণদের লক্ষ্য করে। বিনা খরচে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পাঠানো হয়। মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী বলেন, “বেকারত্ব ও দারিদ্র্যই মানবপাচারের মূল চালিকাশক্তি। কঠোর আইন প্রয়োগ ও সচেতনতা ছাড়া এ নেটওয়ার্ক ভাঙা কঠিন।” উদ্ধার অভিযান ও অনিশ্চয়তা কোস্টগার্ড জানিয়েছে, এখনও নিখোঁজদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি ডুবে যাওয়া ট্রলারটির ধ্বংসাবশেষও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় কিছু মানুষ পানির ড্রাম ও কাঠের টুকরো ধরে ভেসে ছিলেন—যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬ 0
আসাদুল বক্তিয়ার।
লিবিয়ায় অপহৃত বরিশালের যুবক আসাদুল: নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

 বরিশাল অফিস :   লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে প্রায় দুই মাস ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার এক যুবক। তার পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। জিম্মি হওয়া ওই যুবকের নাম আসাদুল বক্তিয়ার। তিনি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার চাত্রিশিরা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ধারদেনা করে ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি অর্থ দ্রুত না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের রমজান মাসের ৯ তারিখ ভোরে ৫ থেকে ৬ জনের একটি সশস্ত্র দল লিবিয়ার আনজারা শহরে তার বাসা থেকে আসাদুলকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি চাকু দিয়ে আঘাত করা এবং নখ তুলে ফেলার হুমকির কথাও জানিয়েছে পরিবার। এসব নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও কলে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ আদায় ও হুমকি পরিবার জানায়, প্রথমে ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে সুদে ৩ লাখ টাকা এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে আরও ১ লাখ টাকা জোগাড় করে মোট ৪ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে। তবে এতে সন্তুষ্ট হয়নি অপহরণকারীরা। তারা দুই দিনের মধ্যে বাকি টাকা না দিলে আসাদুলকে হত্যা করে মরুভূমিতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে পরিবার দাবি করছে। অভিযোগের পর নির্যাতন বেড়েছে আসাদুলের শ্যালক এরফান সরদার লিবিয়ায় স্থানীয় দুই থানায় বিষয়টি জানালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে জানা গেছে। পরিবারের দাবি, এরপর অপহরণকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আসাদুলের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। নিরাপত্তাহীনতায় এরফান সরদার পরে বাংলাদেশে ফিরে এসে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরিবারের আকুতি আসাদুলের বাবা আবু বক্তিয়ার বলেন, “ছেলেকে ঝুলিয়ে পিটাচ্ছে, শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। আমাদের কোনো সম্পদ নেই। সরকার যেন আমার ছেলেকে ফিরিয়ে আনে।” মা বকুল বেগম বলেন, “ছেলেকে এভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে—আমি তা সহ্য করতে পারছি না। আমাদের কিছুই নেই, কীভাবে তাকে উদ্ধার করব?” স্ত্রী নিপা বেগমও স্বামীকে উদ্ধারের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, “পরিবার লিখিতভাবে জানালে বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকা
ইউরোপে অবৈধ প্রবেশে বাংলাদেশিরা এগিয়ে,বাড়ছে ঝুঁকি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইউরোপে সাগর ও স্থলপথে অবৈধভাবে প্রবেশের ঘটনায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটে ইতালি ও স্পেনে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা এখনও শীর্ষে রয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ কমে প্রায় ২১ হাজার ৪০০-তে নেমে এসেছে। কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের আধিপত্য কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ৬ হাজার ২০০ জন অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম। এই রুটে প্রবেশকারীদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি। লিবিয়া ও তিউনিসিয়া থেকে ইতালির দিকে যাত্রা করা এই পথটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি অভিবাসীদের কাছে জনপ্রিয়। তবে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রার কারণে এ পথে মৃত্যুঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। বলকান সীমান্তে নতুন প্রবণতা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় বলকান সীমান্ত পথেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি বেড়েছে। এ পথে ৬৮২ জন অভিবাসীর মধ্যে ইউক্রেনের নাগরিকরা শীর্ষে থাকলেও বাংলাদেশিরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এর আগে এই রুটে এত সংখ্যক বাংলাদেশি শনাক্ত হওয়ার নজির কম। পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটের গুরুত্ব চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুট, যেখানে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জনের প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে—যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কম। এই পথটিও বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই তুরস্ক হয়ে গ্রিস সীমান্ত পেরিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পশ্চিম ভূমধ্যসাগরে উল্টো চিত্র অন্যদিকে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে প্রবেশ বেড়েছে। এ পথে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ জন অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি। ইংলিশ চ্যানেলে কমেছে অনুপ্রবেশ ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টাও কমেছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে এ ধরনের অনুপ্রবেশ ৪১ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৬০০-তে নেমে এসেছে। কমছে সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা কমলেও মানবিক ক্ষয়ক্ষতি কমছে না। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে প্রায় ১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রা এসব মৃত্যুর অন্যতম কারণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মানবপাচারকারী চক্রগুলো ঝুঁকির বিষয়টি জেনেও বিপুল মুনাফার আশায় অভিবাসীদের বিপজ্জনক যাত্রায় প্রলুব্ধ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
রোহিঙ্গা
বঙ্গোপসাগর–আন্দামান সাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টায় ২০২৫ সাল রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইউএনএইচসিআর বা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ওই বছরে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে বিপজ্জনক যাত্রাকালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালে ছয় হাজার ৫০০-র বেশি রোহিঙ্গা এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনের একজনের মৃত্যু হয়েছে বা তারা নিখোঁজ হয়েছেন—যা বিশ্বব্যাপী শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রপথে চলাচলের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার হিসেবে বিবেচিত। ২০২৬ সালেও এই বিপজ্জনক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দুই হাজার ৮০০-র বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা উত্তাল সাগরে ডুবে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পরবর্তীতে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। কেন ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা? মানবপাচার, শোষণ এবং সমুদ্রে মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও হাজারো রোহিঙ্গা এই পথ বেছে নিচ্ছেন। বেশিরভাগ নৌযাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশের কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে, যার গন্তব্য ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে: মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও নিপীড়ন নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তা নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অভাব অন্যদিকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। তহবিল সংকটের কারণে মানবিক সহায়তা কমে যাওয়া, নিরাপত্তাহীনতা এবং শিক্ষা ও জীবিকার সীমিত সুযোগ অনেককেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রায় বাধ্য করছে। নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা জাতিসংঘ বলছে, রোহিঙ্গাদের বড় একটি অংশ এখনো নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়। তবে মিয়ানমারে চলমান পরিস্থিতি তাদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে—ফলে সমুদ্রপথে অনিশ্চিত যাত্রাই হয়ে উঠছে অনেকের একমাত্র বিকল্প।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ইতালির স্বপ্নে কোটি টাকার ফাঁদ
ভাঙ্গায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে মানবপাচার ও ৫০ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ

ফরিদপুর: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে বিদেশে পাচার ও বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে আসামি করে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জসিম সরদার নামে একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। মামলা সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া এলাকার মনিরুজ্জামান মিয়া (৫১) তার ছেলে মো. মিনহাজ মিয়াকে (২১) বৈধভাবে বিমানে ইতালি পাঠানোর জন্য স্থানীয় কয়েকজন দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযুক্তরা ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রথমে ২৬ লাখ টাকা দাবি করে এবং ধাপে ধাপে সেই অর্থ গ্রহণ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল আসামি মনির সরদারের (৪৮) নির্দেশে তার স্ত্রী ও সহযোগীরা অর্থ সংগ্রহ ও বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। অপর আসামিরা হলেন পপি আক্তারী (৩৫), জসিম সরদার (৪৭) এবং রেজাউল কাজী (৫৫)। তারা সংঘবদ্ধভাবে একটি মানবপাচার চক্র পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম দফায় ২৬ লাখ টাকা পরিশোধের পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে মিনহাজ মিয়াকে ঢাকা থেকে ইতালি না পাঠিয়ে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি সেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে আটক রয়েছেন বলে জানানো হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে তাকে নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হয় এবং আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। চাপের মুখে পরিবার জমি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে। প্রায় ৭ শতাংশ জমি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে তা আসামিদের নামে দলিল করে দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে আরও ১৮ লাখ টাকা বিভিন্ন ধাপে দেওয়া হয়। এত টাকা নেওয়ার পরও ভুক্তভোগীকে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে পুনরায় অর্থ দাবি করা হয় এবং তাকে লিবিয়ায় আটকে রাখা হয়। বর্তমানে তার সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে চারজনকে আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জসিম সরদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ইতালি উপকূলে বাংলাদেশিসহ জীবিত উদ্ধার ৩২, নিখোঁজ ৮০
ভূমধ্যসাগরের অন্ধকার পথে: লিবিয়া থেকে ইউরোপ—একটি ডুবন্ত যাত্রা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইতালির উপকূলে থাকা দু’টি বণিক জাহাজ একটি নৌকা থেকে ৩২ জন অভিবাসপ্রত্যাশীকে জীবিত উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি দুই অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহও উদ্ধার করেছে তারা। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহন করা নৌকাটি লিবিয়া থেকে ছেড়ে এসেছিল। জীবিত উদ্ধার হওয়াদের বরাতে উদ্ধারকারী দাতব্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অন্তত ৮০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী সাগরে নিখোঁজ হয়েছে। ইউরোপমুখী অভিবাসনের বিপজ্জনক রুট আবারও প্রাণ কেড়ে নিল অসংখ্য মানুষের। উত্তর আফ্রিকার উপকূল থেকে ছেড়ে আসা একটি ছোট নৌকার ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি একটি বৃহত্তর মানবিক সংকটের নির্মম প্রতিচ্ছবি। ঘটনাটির পুনর্গঠন শনিবার, লিবিয়ার উপকূলীয় এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে একটি ছোট, অপ্রস্তুত নৌকা। গন্তব্য—ইউরোপ। নৌকাটিতে ছিলেন শতাধিক মানুষ, যাদের অধিকাংশই যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা থেকে পালিয়ে নতুন জীবনের আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। জীবিত উদ্ধার হওয়াদের বয়ানে জানা যায়, নৌকাটি লিবিয়ার তাজোরা বন্দর থেকে ছেড়ে আসে। যাত্রার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৈরি আবহাওয়া শুরু হয়—উঁচু ঢেউ, তীব্র বাতাস, আর এক অনিশ্চিত সমুদ্র। এই পরিস্থিতিতে নৌকাটি উল্টে যায়, তখনও সেটি লিবিয়ার জলসীমার মধ্যেই ছিল। উদ্ধার অভিযান: বিলম্ব, বিভ্রান্তি ও সীমিত সক্ষমতা জার্মান দাতব্য সংস্থা সী-ওয়াচ-এর একটি নজরদারি বিমান প্রথম বিপদগ্রস্ত নৌকাটির সন্ধান পায়। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, উল্টে যাওয়া কাঠের নৌকার সঙ্গে আঁকড়ে ধরে ছিলেন প্রায় ১৫ জন। চারপাশে ভাসছিল আরও মানুষ—কেউ জীবিত, কেউ মৃত। পরবর্তীতে ভূমধ্যসাগরীয় মানুষ বাঁচানো এবং-সী-ওয়াচ এর সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ইতালীয় ও লিবীয় বাণিজ্যিক জাহাজও এতে অংশ নেয়। উদ্ধার হওয়া ৩২ জনকে ইতালির কোস্ট গার্ডের একটি টহল নৌকায় স্থানান্তর করা হয় এবং পরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ল্যাম্পেদুসা দ্বীপ-এ—যা ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান দরজা হয়ে উঠেছে। নিখোঁজদের রহস্য উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, অন্তত ৮০ জন এখনও নিখোঁজ। আন্তর্জাতিক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন  সংস্থা এবং ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রশ্ন উঠছে—উদ্ধার অভিযান কি যথাসময়ে শুরু হয়েছিল? পর্যাপ্ত নজরদারি ও সমন্বয় থাকলে কি আরও প্রাণ বাঁচানো যেত? কারা ছিলেন এই যাত্রীরা? ইতালীয় কোস্ট গার্ডের মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, জীবিতদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং মিসর-এর নাগরিকরা। তাদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ—কারণ এটি দেখায়, এই বিপজ্জনক রুট শুধু আফ্রিকানদের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের কাছেও একটি মরিয়া বিকল্প হয়ে উঠেছে। বিপজ্জনক রুট, অপ্রস্তুত নৌকা ইউএনএইচসিআর -এর মুখপাত্র ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের হালকা নৌকা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়। তবুও মানবপাচারকারী চক্রগুলো নিয়মিত এমন নৌকা ব্যবহার করছে—অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে, কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: একটি চলমান মানবিক সংকট ভূমধ্যসাগর দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুট। লিবিয়া থেকে ইতালি—এই পথটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে মানবপাচারকারী নেটওয়ার্ক, দুর্বল আইন প্রয়োগ, এবং সীমিত উদ্ধার সক্ষমতা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ বাস্তবতা। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হলো— নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথের অভাব আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের ঘাটতি এবং মানবপাচার চক্রের দৌরাত্ম্য এই ডুবন্ত নৌকাটি কেবল একটি সংখ্যা নয়—এটি শতাধিক জীবনের গল্প, যাদের অনেকেই হয়তো আর কখনও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ভূমধ্যসাগরের ঢেউ শুধু দেহ ভাসায় না, ভাসিয়ে নিয়ে যায় স্বপ্ন, পরিবার, আর ভবিষ্যৎ। প্রশ্ন এখন একটাই—এই মৃত্যু মিছিল থামাতে বিশ্ব কতটা প্রস্তুত?

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি
ইতালিতে কাজের প্রলোভন: লিবিয়ায় বন্দি বাংলাদেশি যুবকরা, নির্যাতন ও মুক্তিপণের অভিযোগ

বরিশাল অফিস :   ইতালিতে কাজের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুবকদের লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কয়েকজন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার বলছে, লাখ লাখ টাকা খরচ করেও তারা ইউরোপে পৌঁছাতে পারেননি; বরং মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে লিবিয়ায়।  যেভাবে শুরু হয় যাত্রা ভুক্তভোগীদের একজন মেহেদী হাসান খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইতালিতে বৈধভাবে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসে স্থানীয় এক দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবারের দাবি, জমি বিক্রি, ঋণ ও ধারদেনা করে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা জোগাড় করে দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রথমে নগদ অর্থ এবং পরে ব্যাংকের মাধ্যমে কিস্তিতে টাকা দেওয়া হয়।  ইতালির বদলে লিবিয়া মেহেদী হাসান জানান, তাকে প্রথমে সৌদি আরব নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, সেখানে তাদের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে খাবার কম দেওয়া, শারীরিক নির্যাতন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। এক পর্যায়ে তাকে লিবিয়ার পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে বেনগাজির একটি কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি প্রায় দেড় মাস আটক ছিলেন।  ভিডিও কলে মুক্তিপণের দাবি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করিয়ে তার করুণ অবস্থা দেখানো হতো বলে জানান মেহেদী। তার পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত আট লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ করার পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। আরও অনেকের একই পরিণতি স্থানীয় সূত্র বলছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার অন্তত পাঁচজনসহ বিভিন্ন জেলার মোট ১০৮ জন যুবক একইভাবে দালালদের মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের অনেকেই এখনও লিবিয়ায় আটকা রয়েছেন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।  মামলা ও তদন্ত এ ঘটনায় মেহেদী হাসান খান বাদী হয়ে বরিশালের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
গ্রিস উপকূল
গ্রিস উপকূলে নৌকায় ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, জীবিত উদ্ধার ২১ বাংলাদেশি

উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় আবারও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকায় ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড। শনিবার (২৮ মার্চ) জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। গ্রিক কোস্টগার্ড জানায়, ইউরোপীয় সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা ফ্রনটেক্সের একটি জাহাজ শুক্রবার গভীর রাতে Crete দ্বীপের কাছে অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন নারী ও একজন নাবালক রয়েছে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ জানায়, বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। আহত দুইজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার বন্দর শহর তোবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এই রুটটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত। যাত্রাপথে নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেলে এবং যাত্রীরা খাবার ও পানীয় ছাড়াই টানা ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকেন। এতে চরম ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও অনাহারে একে একে ২২ জনের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বরাতে কোস্টগার্ড জানায়, মৃতদের মরদেহ একজন পাচারকারীর নির্দেশে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গ্রিক কর্তৃপক্ষ দুইজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। তাদের বয়স ১৯ ও ২২ বছর। তাদের মানবপাচারকারী সন্দেহে আটক করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ ও অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত চলছে। কোস্টগার্ডের এক মুখপাত্র জানান, যাত্রাপথে নৌকাটি প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এদিকে, আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৫৫৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর আগে, গত ডিসেম্বরে ক্রিটের  দক্ষিণ-পশ্চিমে ডুবে যাওয়া একটি নৌকা থেকে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন মাত্র দুইজনকে জীবিত পাওয়া যায় এবং আরও ১৫ জন নিখোঁজ থাকেন, যাদের মৃত বলে ধারণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা অব্যাহত থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী
কে এই ১১ মামলার আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী

ঢাকা: সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও তিন তারকা জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গভীর রাতের অভিযানে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।পাঁচদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত। ডিবি সূত্র জানায়, রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে সোমবার গভীর রাতে তাকে আটক করা হয়। পরে পল্টন থানায় দায়ের হওয়া মানবপাচার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট ১১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফেনী জেলায় তিনটি মামলা বিচারাধীন এবং এসব মামলায় তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া ফেনীতে আরও তিনটি এবং ঢাকা মহানগর পুলিশে পাঁচটি মামলাসহ মোট আটটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্ত করছে।  ওয়ান ইলেভেনের আলোচিত কর্মকর্তা ২০০৭ সালের ‘ওয়ান ইলেভেন’-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে আলোচিত সামরিক কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। সে সময় তিনি নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং পরে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। তিনি ‘গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সমন্বয়ক ছিলেন, যার মাধ্যমে যৌথবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ওই সময় শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদ এবং দুর্নীতির মামলায় জড়ানোর ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে তথাকথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ নিয়ে বিতর্কে তার নাম সামনে আসে, যেখানে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।  বিতর্ক ও অভিযোগ ওয়ান ইলেভেনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে তারেক রহমানের ওপর গোয়েন্দা হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এখনো রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। অবসরের পর তিনি জনশক্তি রফতানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কারসাজি এবং প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ২৫ আগস্ট তাকে সহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে সিআইডি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।  কর্মজীবন ও রাজনৈতিক অধ্যায় ১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়ে ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন। অবসরের পর ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ২০০৬ সালের শেষ দিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি এবং ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির ঘটনাপ্রবাহ ‘ওয়ান ইলেভেন’ নামে পরিচিতি পায়। সেই সময় সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে।  বর্তমান অবস্থা বর্তমানে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর  বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ডিএমপির পল্টন থানায় হওয়া মানবপাচার মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নারী ও শিশুসহ ৫৫ জন উদ্ধার
টেকনাফ থেকে ৫৫ জন উদ্ধার, মানবপাচারে ৫ জন আটক: বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের অভিযান

উন্নত জীবনের প্রলোভনে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ৫৫ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ সময় মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া-সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কোস্টগার্ড সদর দপ্তারের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নারী ও শিশুসহ বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি টেকনাফের বাহারছড়া সমুদ্র এলাকায় অবস্থান করছে এমন গোপন তথ্য পাই আমরা। পরে বৃহস্পতিবার রাতে কোস্টগার্ডের ৩টি দল সেখানে বিশেষ অভিযান শুরু করে। অভিযানে সাগরে একটি সন্দেহজনক ট্রলারকে থামার সংকেত দেয়া হলে তা অমান্য করে ট্রলারটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে কোস্টগার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া-সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ট্রলারটি আটক করতে সক্ষম হন। তিনি আরও বলেন, পরে ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নারী ও শিশুসহ ৫৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি ৫ জন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কয়েকটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং অল্প খরচে বিদেশযাত্রার প্রলোভন দেখিয়েছিল। টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে যেতে সাগরপথে পাচারের পরিকল্পনা করছিল তারা। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি ও আটক মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া মানবপাচার রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান কোস্টগার্ডের এই কর্মকর্তা।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0