ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীসহ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এবার বোরো ধানের ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। মাঠভরা সোনালি ধান কৃষকের ঘরে উঠলেও সেই আনন্দ এখন অনেকের কাছে লোকসানের হিসাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারে ধানের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে এক ধরনের অদৃশ্য সিন্ডিকেট। ফলে বাম্পার ফলনের মৌসুমেও তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, ফলন ভালো হয়েছে। খাদ্য বিভাগ বলছে, সরকার বাজারের চেয়ে বেশি দামে ধান কিনছে। কিন্তু মাঠের কৃষকরা বলছেন, সেই সুবিধা তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। বিঘাপ্রতি লোকসান দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা কৃষক ও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২২ মণ বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি বিঘায় চাষ খরচ হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। ধান কাটা ও মাড়াইয়ে আরও ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা যোগ হওয়ায় মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ২৬ থেকে ২৭ হাজার টাকায়। কিন্তু বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১২০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায়। সেই হিসাবে কৃষকের আয় দাঁড়াচ্ছে ২৪ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ প্রতি বিঘায় গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। “ধান ফলাইছি, কিন্তু লাভ পাই নাই” রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কামারপাড়ার কৃষক জয়নাল আবেদিন এবছর সাড়ে তিন বিঘা জমিতে উফশী জাতের বোরো চাষ করেছিলেন। তিনি জানান, কাটা-মাড়াই শেষে তার জমি থেকে ৭৩ মণ ধান পাওয়া গেছে। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৭৮ হাজার টাকা। ধান কাটার পর শ্রমিকদের সঙ্গে বিঘাপ্রতি সাত হাজার টাকা চুক্তিতে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে তার মোট ব্যয় দাঁড়ায় ১ লাখ ৩ হাজার টাকায়। বর্তমান বাজারদরে ৭৩ মণ ধান বিক্রি করলে তিনি পাচ্ছেন প্রায় ৯১ হাজার ২৫০ টাকা। অর্থাৎ সাড়ে তিন বিঘা জমিতে তার নিট লোকসান ১১ হাজার ৭৫০ টাকা। জয়নাল আবেদিন বলেন, “ধান তো ভালোই হইছে। কিন্তু বাজারে যে দাম, তাতে খরচই উঠতেছে না।” বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে কারা? রাজশাহীর বিভিন্ন মোকাম ও হাটে কৃষকদের বড় অভিযোগ—ধানের বাজার এখন কয়েকটি বড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। মোহনপুরের কৃষক মহিউদ্দিন শেখ বলেন, বড় বড় কোম্পানির এজেন্টরা প্রতি হাটবারে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে ধানের দাম ঠিক করেন। তার ভাষায়, “কৃষকের হাতে কোনো দরকষাকষির সুযোগ নাই। তারা যে দাম বলে, সেই দামে ধান বেচে বাড়ি ফিরতে হয়।” নওগাঁর মান্দা উপজেলার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলছেন, একসময় এই অঞ্চলে অসংখ্য ছোট চাতাল ছিল। চাতাল মালিকরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে বড় চাল কোম্পানিগুলোর দাপটে ছোট চাতালগুলো একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আগে বাজারে প্রতিযোগিতা ছিল। এখন বড় কোম্পানির এজেন্ট ছাড়া কৃষকের আর কোনো ক্রেতা নাই।” উৎপাদন খরচ বেড়েছে, দাম কমেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচও বেড়েছে। পাশাপাশি সার ও কৃষি উপকরণের দামও ছিল চড়া। তার দাবি, “সবকিছুর খরচ বাড়ছে, কিন্তু ধানের দাম বাড়ে নাই।” রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কৃষক আব্দুল মান্নানও একই অভিযোগ করেন। তার মতে, কৃষক এখন উৎপাদনের ঝুঁকি নেয়, কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণ করে মধ্যস্বত্বভোগীরা। কেশরহাট এলাকার কৃষক নুর ইসলাম বলেন, “ধান ওঠার সময় দাম কমে যায়। ব্যবসায়ীরা কম দামে কিনে মজুত করে রাখে। পরে সেই ধানই বেশি দামে বাজারে বিক্রি হয়।” সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতেও অভিযোগ সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে ১৫ মে থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। সরকার প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে কিনছে, যা প্রতি মণে প্রায় ১ হাজার ৪৪০ টাকা—বর্তমান বাজারদরের চেয়ে প্রায় ৩০০ টাকা বেশি। তবে কৃষকদের অভিযোগ, সাধারণ চাষিরা সহজে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। সেখানে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়। যদিও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুদ্দিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই ধান কিনতে চাই। কিন্তু অনেক কৃষক প্রক্রিয়াকে জটিল মনে করে আসতে চান না।” বাম্পার ফলন, কিন্তু অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, হাওড় অঞ্চলে উৎপাদন কম হলেও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। তার মতে, “উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার হলে বাজারে ধানের দাম বাড়তে পারে।” কিন্তু মাঠের কৃষকদের প্রশ্ন অন্য জায়গায়। তারা বলছেন, যদি বাম্পার ফলনের মৌসুমেও উৎপাদন খরচ না ওঠে, তাহলে আগামী মৌসুমে কৃষক কীভাবে টিকে থাকবে? বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার বড় অংশ যাদের ঘামে নির্ভরশীল, সেই কৃষকদের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট এখন শুধু উৎপাদন নয়—ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নেসকো’র নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচি । বরাজশাহী ভিত্তিক বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো)-এর নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন ও মানব সম্পদ উন্নয়ন) আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব এ. জে. এম. এরশাদ আহসান হাবিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা এক অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নেসকোতে চলমান বিভিন্ন নিয়োগ ও বদলি কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের সাব-স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অর্থ লেনদেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, লিখিত পরীক্ষার মাত্র এক দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করে ২১৭ জনকে ভাইভার জন্য ডাকা হয়, যা নিয়ে নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার চুক্তি করা হয়েছে। এছাড়াও বদলি বাণিজ্য, পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা এবং অপছন্দের কর্মকর্তাদের দূরবর্তী এলাকায় বদলির অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, উৎকোচের বিনিময়ে পদায়ন ও বদলির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে আসছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজ নিয়মিত দরপত্র ছাড়াই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তার ঘনিষ্ঠজনদের ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। এছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বলা হয়, রাজশাহীতে বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট ও জমিসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহ। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প ও উন্নয়ন খাত থেকে অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চলমান সাব-স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগে পুকুর ও খাল পুনঃখনন এবং খরা সহিষ্ণু কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর তত্ত্বাবধানে এবং এসকেএস ফাউন্ডেশন-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত এই প্রকল্প এখন বিতর্কের মুখে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের বিনোদপুর এলাকায় পাঁচটি খাস পুকুর সংস্কারকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান একটি পুকুর ভরাটের জন্য ঠিকাদারকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। ঠিকাদার ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর খনন কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটরের চারটি ব্যাটারি ও টুলবক্স খুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সময় চালকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ইউএনও কার্যালয়ের পিয়ন রাজন হোসেন-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর পুকুর খননের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পের প্রেক্ষাপট জানা গেছে, রাজশাহীসহ তিন জেলায় মোট ১৮টি এনজিও এই জলাশয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তানোর উপজেলায় প্রায় ৫২ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় “মেসার্স কুশ এন্টারপ্রাইজ” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যার কাজ শুরু হয় ১ এপ্রিল। অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও প্রকল্প সমন্বয়কারী আরাফাত রহমান-কে ডেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি পুকুর ভরাটের প্রস্তাব দেন। পরে অফিস সহকারী ইমরান আলী ঠিকাদারদের ডেকে একই বিষয়ে তাগিদ দেন বলেও অভিযোগ। ঠিকাদার দাবি করেন, পুকুরটি ভরাট করতে প্রায় ৫–৬ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা প্রকল্পের আওতার বাইরে। পরবর্তীতে এক লাখ টাকা উৎকোচ দাবির অভিযোগও ওঠে, যা তারা প্রত্যাখ্যান করেন। ঠিকাদার পক্ষের বক্তব্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বাপ্পির দাবি, অভিযানের সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গালিগালাজ করা হয় এবং এক্সকেভেটর চালকের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন রাজন হোসেন। তার দাবি, কোনো ব্যাটারি ভাঙা বা মোবাইল নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি এবং উৎকোচ দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন। অন্যদিকে ইমরান আলী বলেন, তিনি ইউএনওর নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ডেকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। ইউএনও নাঈমা খান অভিযোগ নাকচ করে জানান, এটি কোনো সরকারি প্রকল্পের কাজ নয় এবং সংশ্লিষ্ট জলাশয়টি একটি ছোট ডোবা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঠিকাদার পুকুরের মাটি বাইরে বিক্রি করছিলেন—এই অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার অঙ্গীকার করলে জব্দ করা সরঞ্জাম ফেরত দেওয়া হবে। তদন্তের ইঙ্গিত এ বিষয়ে কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, বলেন—অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং তহবিল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো স্পষ্ট নয়—কারা এই সংঘর্ষের মূল পরিকল্পনাকারী এবং কীভাবে পরিস্থিতি এতটা সহিংসতায় গড়ায়। তবে স্থানীয় সূত্র, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রভাবশালী চক্রের সম্পদ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার বিষয়টি সামনে এসেছে। সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্ব কলেজটির রয়েছে প্রায় ৮ বিঘা পুকুর, কয়েকটি পানের বরজ এবং প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর একটি বড় কাঠামো। এসব সম্পদ থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আসে—ভর্তি ফি, বিভিন্ন চাঁদা ও লিজ বাবদ আয় মিলিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব অর্থের একটি অংশ তছরুপ হয়েছে। পুকুর ও বরজ লিজে দিয়ে বেশি টাকা নেওয়া হলেও রসিদে কম দেখানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। নতুন অধ্যক্ষ ও বিরোধের সূচনা গত ১৭ ডিসেম্বর নতুন অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অডিটে তহবিল অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর তিনি স্বচ্ছতার উদ্যোগ নেন। ২৩ এপ্রিল কলেজের পুকুর ও পানের বরজ উন্মুক্তভাবে লিজ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলে একটি প্রভাবশালী চক্রের স্বার্থে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সংঘর্ষের দিন যা ঘটেছিল ঘটনার দিন কয়েক দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে: একদল স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হিরাকে ধাক্কা দেওয়া হয় ভিডিও ধারণের সময় তাকে জুতাপেটা ও মারধর করা হয় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে আবারও আক্রমণ করা হয় পরবর্তীতে আরও লোকজন লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলায় অংশ নেয়। অধ্যক্ষকেও মারধর করা হয় এবং তার মোবাইল ফোনে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক ও কর্মচারী আহত হন। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও একই ধারা অব্যাহত থাকে। একাধিক সূত্র বলছে, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি চক্র কলেজের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করত। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তহবিল অনিয়মের অভিযোগ লিজগ্রহীতাদের অভিযোগ অনুযায়ী: বছরে ৭০ হাজার টাকা লিজ দিলেও রসিদ দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকার অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ কলেজ তহবিলে পুরোপুরি জমা হয়নি। প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘটনায় জড়িত এক স্থানীয় নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে অভিযুক্ত এক কর্মী এখনও গ্রেপ্তার হয়নি, যদিও তার বিরুদ্ধে আগেই পরোয়ানা ছিল শিক্ষিকা হিরাকে উল্টো সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং শুরু থেকেই চাঁদার চাপের মুখে ছিলেন। এখনো অনিশ্চয়তা ঘটনার পরও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষকরা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও উঠে এসেছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর একটি বেসরকারি কলেজে এক নারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ ও জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যের ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হয়ে তিনি প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে সাচিবিক বিদ্যা বিষয়ের প্রদর্শক হিসেবে মোছা. আলেয়া খাতুন হীরার নিয়োগটি জনবল কাঠামোর অনুমোদন ছাড়াই দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ সময় তিনি এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০২ সালের ১৮ জানুয়ারি শুধুমাত্র একটি আঞ্চলিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়; জাতীয় পর্যায়ের কোনো পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়নি। ওই বছরের ৮ মে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে নির্বাচিত করা হয়। নিয়োগ বোর্ডে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিও ছিলেন। তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী সাচিবিক বিদ্যা বিভাগে প্রদর্শক বা প্রশিক্ষক পদ অনুমোদিত না থাকায় তার এমপিওভুক্তি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে। পরবর্তীতে, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে আলেয়া খাতুন একই প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মী চামেলী খাতুনের ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চামেলী খাতুন প্রতিষ্ঠান ছাড়ার পরও এমপিও তালিকা থেকে তার নাম অপসারণ করা হয়নি। এই সুযোগে ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আলেয়া খাতুন ধারাবাহিকভাবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের সহযোগিতায় তথ্য গোপন করে মোট ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮১৩ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার এমপিও বাতিল, আত্মসাৎকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদান, বিভাগীয় মামলা দায়ের এবং ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞানভিত্তিক কয়েকটি বিষয়ে ল্যাব থাকলে প্রদর্শক পদ অনুমোদিত হয়, তবে সাচিবিক বিদ্যা বিভাগে এ ধরনের কোনো পদ নেই।
রাজশাহী: দুর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারি কলেজে শিক্ষিকার সঙ্গে মারামারির ঘটনায় আলোচিত আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কলেজ পরিদর্শন শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “তদন্তের স্বার্থে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।” ঘটনাটি ঘটে দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওই শিক্ষিকা এবং স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মধ্যে হাতাহাতির দৃশ্য দেখা যায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নজরে আসে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি), এবং পরে তদন্ত শুরু হয়। এদিকে, একই ঘটনায় শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলীকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী কলেজে ঢুকে ভাঙচুর চালান এবং এক শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। ঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে নারী শিক্ষককে লাঞ্ছনা ও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের পাশাপাশি এক নারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মোহা. আসাদুজ্জামান রোববার কলেজ পরিদর্শন শেষে প্রদর্শক আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তাকে এবং কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। কী ঘটেছিল? স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে কলেজে একটি তাফসির মাহফিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আয়োজকদের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আলিয়া খাতুন দুইজনকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী শাহাদাত আলী কলেজে গিয়ে আলিয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ান। আলিয়ার দাবি, তাকে আপত্তিকর কথা বলায় তিনি প্রতিক্রিয়ায় চড় মারেন। এর জেরে শাহাদাত আলী তাকে জুতা খুলে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এরপর তার ছেলে লিটন ও কর্মচারী মাহবুব এসে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালান। পরে আরও ৪০-৫০ জন বিএনপি নেতা-কর্মী কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং শিক্ষকদ্বয়কে মারধর করেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পদক্ষেপ পরিদর্শনের সময় পরিচালক জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অধ্যক্ষ কলেজে উপস্থিত ছিলেন না এবং তাদের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিকল্প উপায়ে যোগাযোগ করে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।” এ ঘটনায় দুর্গাপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটি গঠন এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুগ্ম সচিব (কলেজ-২) আহ্বায়ক উপ-পরিচালক (কলেজ-১, সরকারি কলেজ) সদস্য রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সদস্যসচিব কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ ঘটনার পরদিন বিএনপির কয়েকজন নেতা অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের আলটিমেটাম দেন। অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক দাবি করেন, তার ওপর হামলা হয়েছে এবং তার মুঠোফোন ভেঙে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরাসরি মামলা করতে পারছেন না, তবে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিষয়টি জানিয়েছেন। পুলিশের অবস্থান দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে আগেই একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং পুলিশ তাকে খুঁজছে। তাকে আটক করা গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতি হামলার শিকার আলিয়া খাতুন বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং এখনো কর্মস্থলে ফেরার মতো অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছেন। তিনি সুস্থ হওয়ার পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।
রাজশাহী: দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, চাঁদা না পেয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়। তবে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজটিতে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে কলেজের আগের প্রশাসনের সময়কার আয়-ব্যয়ের হিসাব দাবি করেন। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে মারধর করা হয়। পরে অধ্যক্ষসহ অন্যান্য শিক্ষকদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং অফিস কক্ষে ভাঙচুর করা হয়। একটি ভিডিওতে নারী শিক্ষককে জুতাপেটা করার দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ অন্তত পাঁচজন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, “তারা বিভিন্ন সময় কলেজে এসে হিসাব চাইতেন। মূলত চাঁদা দাবির বিষয়েই বিরোধ তৈরি হয়। প্রতিবাদ করায় আমার ওপর হামলা করা হয়।” অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি চার মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কলেজের অনিয়ম ও দুর্নীতির হিসাব চাইতে গেলে আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। শিক্ষকই প্রথমে আমাদের ওপর হামলা করেন, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।” দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। তবে কিছু লোক জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার জোত কাদিরপুর গ্রামের নৃত্যশিল্পী ফিরোজ আহমেদ (২৯) দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা সম্পর্ককে বৈবাহিক জীবনে রূপান্তর করার আশায় জীবনের সর্বস্ব বাজি রাখেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আদায়ে ব্যর্থ হওয়া প্রেমিক বিপ্লব হোসেন (৩০)‑এর বিরুদ্ধে ফিরোজ দায়ের করেছেন প্রতারণা, অর্থ আত্মসাত ও মিথ্যা বিয়ে‑প্রতিশ্রুতি এর অভিযোগ। স্কুল জীবন থেকে শুরু প্রেম — স্বপ্ন ভাঙা বাস্তবে ফিরোজ ও বিপ্লব একই উপজেলার ইসলামী একাডেমিতে পড়াশোনা করার সময় থেকেই পরিচিত। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিপ্লবের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় বহু বছর ফিরোজের বাড়িতে থাকতে হয় তাকে, এমনকি এলাকাবাসীর চোখেও তাদের সম্পর্ক “স্বামী‑স্ত্রীর মতোই” দেখা যেত। শিশু বয়স থেকেই নৃত্যে প্রতিভা থাকা ফিরোজ পরবর্তী সময়ে সাভার শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমিতে নৃত্য শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকেন এবং “নাচের পুতুল একাডেমি” পরিচালনা করেন। পাশাপাশি তিনি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেন। ২০১৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর দু’জন ঢাকায় জড়িয়ে ওঠে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তে। রুম ভাড়া নিয়ে তারা এক ছাদের নিচে বসবাস করেন ও একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সময়ের সঙ্গে ফিরোজ নিজে একটি নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানও শুরু করেন। বৈবাহিক জীবনের আশায় লিঙ্গান্তর ফিরোজ জানায়, বিপ্লব তাদের সম্পর্ককে শুধু “ডেটিং” হিসাবে দেখেননি, বরং দাম্পত্যে রূপ দিতে চাইতেন — এই প্রতিশ্রুতিতে তিনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভারতে গিয়ে লিঙ্গান্তর অস্ত্রোপচার ও হরমোন চিকিৎসা নেন। বিপ্লব তাকে বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন, ভারতে চিকিৎসার জন্য মানসিক ও আর্থিক সাহয্যও করেছেন বলে ফিরোজ জানিয়েছেন। ফিরোজের চিকিৎসা ছাড়াও ঢাকায় থাকার সময়ে বিপ্লব প্রায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা হত। ভারতে থাকা অবস্থায় ফেরোজ এবং বিপ্লব শ্রীমংলে भ्रमণও করেন। দেশে ফেরার পর ঘটনা উল্টে যায় প্রায় এক বছর চিকিৎসা শেষে ২০২৫ সালে দেশে ফেরার পরই ফিরোজ জানতে পারেন বিপ্লব অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন বরিশালে। ফিরোজ দাবি করেন, এই খবর তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে। এতে শেষ নয় — তিনি অভিযোগ করেন, বিপ্লব তাঁর উপার্জিত প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সেই টাকা দিয়ে বিপ্লব ও তার পরিবার বাড়ি‑গাড়ি করেছে এবং লেনদেনের প্রায় ৩০ লাখ টাকা দালিলিক প্রমাণও রয়েছে, ফিরোজ জানান। অর্থ আত্মসাত ও প্রশাসনিক চাপের অভিযোগ ফিরোজ দাবি করেন, বিপ্লব টাকা ফেরত দেয়ার চেষ্টা না করে বরং এখন প্রশাসনিকভাবে তাকে হয়রানি করছে। সম্প্রতি বিপ্লব এক ফরমে জোর করে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করেন বলে ফিরোজের অভিযোগ, যার কারণে তাঁকে বরিশালে থাকা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রতিবাদ ও বিচার দাবি ফিরোজ জানিয়েছেন, বিপ্লব তাকে মিথ্যা বিয়ে‑প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছেলে থেকে মেয়ে হওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করেছে, যার ফলে তিনি জীবনের অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিপ্লবের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ ও ন্যায়ের বিচার চাই। প্রতিদ্বন্দ্বী বক্তব্য: বিপ্লবের পাল্টা অভিযোগ অভিযোগের বিষয়ে বিপ্লব হোসেন ঘটনা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ফিরোজ টাকাপয়সা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে এবং নিজেকে “হতাহত” দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে তিনি পূর্বে ফিরোজের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। পেছনের প্রেক্ষাপট: সম্পর্ক, সমাজ ও আইনি জটিলতা দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও বৈবিক দাম্পত্য প্রতিষ্ঠায় বাধা, বিশেষ করে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ক্ষেত্রে সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা আছে‑না, এ ধরনের প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে বিচার দাবির আলোচনায়। অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপের ঘটনায় সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর আনন্দ‑আত্মসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি সমাজে ব্যাপক সংবেদনশীল। যৌথ অবস্থান থেকে শুরু করে একতরফা প্রতিশ্রুতি, লিঙ্গান্তর সিদ্ধান্ত ও পরে জীবন‑জীবিকার বিবাদ — এই সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল ও নৈতিক, আইনি, সামাজিক দিক থেকে গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে। লিঙ্গান্তর ও বাংলাদেশে আইনি প্রেক্ষাপট লিঙ্গ পরিবর্তনের আইন বাংলাদেশে ২০১৩ সালে “হিজড়া ও তৃতীয় লিঙ্গ সনদ” সংক্রান্ত আইনি কাঠামো চালু হয়েছে। এই আইনের অধীনে একজন ব্যক্তি লিঙ্গ পরিবর্তনের পর সরকারি সনদ পেতে পারে, যা স্কুল, ব্যাংক, ভোটার নিবন্ধন ইত্যাদিতে ব্যবহারযোগ্য। চিকিৎসার মাধ্যমে লিঙ্গান্তর (মেডিকেল প্রক্রিয়া) আইনের আওতায় সম্পূর্ণ বৈধ, তবে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন। আইনি সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের বিয়ের আইন (ইসলামী, হিন্দু বা সাধারণ) সাধারণত পুরুষ ও নারী—এই সনাক্ত লিঙ্গের ভিত্তিতে বিবাহ স্বীকৃতি দেয়। লিঙ্গান্তর হওয়ার পর আগের প্রেমিক/প্রেমিকা সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দেয়া জটিল। তাই ফিরোজের লিঙ্গান্তর হয়ে বৈবাহিক স্বীকৃতি আশা করা আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের আইনি প্রেক্ষাপট প্রয়োগযোগ্য ধারা ফিরোজের অভিযোগ অনুযায়ী বিপ্লব: মিথ্যা আশ্বাসে লিঙ্গান্তর করানোর প্রলোভন দিয়েছে। উপার্জিত ৫০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে। বাংলাদেশের ফৌজদারি আইন (Penal Code) অনুযায়ী: ধারা ৪২০ : প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ অর্জন → শাস্তিযোগ্য। ধারা ৪০৬ : বিশ্বস্ততা ভঙ্গ করে সম্পদ হরণ → শাস্তিযোগ্য। প্রমাণ ও পদক্ষেপ ফিরোজের কাছে থাকা লেনদেনের দালিলিক কাগজপত্র, ব্যাংক ট্রান্সফার, সাক্ষী — শক্ত প্রমাণ। স্থানীয় থানায় অভিযোগ (এফআইআর) দায়েরের পর মামলা গ্রহণ ও তদন্ত শুরু হয়। আদালতে সিভিল ও ফৌজদারি মামলা উভয়ই সম্ভব। প্রশাসনিক ও পেশাগত প্রতিকার প্রশাসনিক পদক্ষেপ জোরপূর্বক স্বাক্ষর বা দলিল গ্রহণের অভিযোগে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করা। যদি প্রমাণিত হয় যে ফিরোজকে হয়রানি করা হচ্ছে, রিপোর্ট দিয়ে প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও নোটিশ পাওয়া যায়। পেশাগত/অর্থনৈতিক প্রতিকার সিভিল মামলা: আত্মসাত করা অর্থ ফেরত আদায়। মর্যাদা ক্ষতিপূরণ: সামাজিক ও মানসিক ক্ষতি মানিয়ে আদালত ক্ষতিপূরণ দিতে পারে। সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানিক সহায়তা: তৃতীয় লিঙ্গের জন্য থাকা অধিকার সংরক্ষণকারী এনজিও/সংগঠন যেমন কর্ন ইত্যাদি, আইনগত সহায়তা বা মিডিয়েশন দিতে পারে। সামাজিক ও নৈতিক বিবেচনা লিঙ্গান্তর ব্যক্তি ও তাদের পরিবার সামাজিক বৈষম্য, মানসিক চাপ ও ভীতি সম্মুখীন হতে পারে। এই ধরনের ঘটনা আইনি ও সামাজিক শিক্ষা হিসেবে গণ্য হয়, যাতে: লিঙ্গান্তর ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও লিখিত সমঝোতা থাকে। আর্থিক লেনদেন ও প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি বা ব্যাংক রেকর্ড নিশ্চিত করা হয়। সংক্ষিপ্ত পরামর্শমূলক পথ লেনদেন ও প্রতারণার প্রমাণ হাতে রেখে ফৌজদারি মামলা দায়ের। প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ পুলিশের কাছে উপস্থাপন। সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক পুনরুদ্ধারের জন্য সিভিল মামলা। স্থানীয় তৃতীয় লিঙ্গ অধিকার সংস্থা‑র সহায়তা গ্রহণ। ভবিষ্যতের জন্য লিখিত চুক্তি বা বৈধ প্রমাণ নিশ্চিত করা। আইনজীবী নিয়োগ: ফৌজদারি ও সিভিল মামলা প্রস্তুতি। মানসিক সহায়তা: কাউন্সেলিং। এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অর্থ, সম্পর্ক ও মানসিক নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়।
উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক জনপদ রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন বাঘা শাহী জামে মসজিদ আজও ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও নান্দনিক স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এই প্রাচীন মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন। ইতিহাস অনুযায়ী, ১৫২৩-১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার হুসেন শাহী বংশের শাসক সুলতান নসরত শাহ মসজিদটি নির্মাণ করেন। তারও আগে হজরত শাহ দৌলাহ (রহ.) এ অঞ্চলে এসে ইসলাম প্রচার করেন এবং বাঘা এলাকাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরে এ অঞ্চলকে ঘিরেই গড়ে ওঠে একটি সমৃদ্ধ জনপদ। স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে মসজিদটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও দৃষ্টিনন্দন। এতে আছে ১০টি গম্বুজ, চার কোণায় চারটি মিনার এবং অভ্যন্তরে একাধিক মজবুত স্তম্ভ, যা পুরো কাঠামোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে রেখেছে। মসজিদের দেওয়ালজুড়ে টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ মধ্যযুগীয় শিল্পরীতির এক অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে ফুল-লতা ও জ্যামিতিক নকশার অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়। মসজিদটির চারপাশের পরিবেশও অত্যন্ত মনোরম। বিস্তীর্ণ পুকুর, সবুজ বৃক্ষরাজি এবং শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ, ছুটির দিন ও শীত মৌসুমে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পায়। স্থানীয়দের কাছে এ মসজিদ শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয় বরং এটি তাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রতিদিন এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয় এবং ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা স্থাপনাটিকে একটি জীবন্ত ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে ধরে রেখেছে। সচেতন মহল মনে করেন, এত প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটিকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আরও কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বাঘা শাহী জামে মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, ‘এই মসজিদ আমাদের গর্ব। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এখানে আসে। এটি শুধু একটি মসজিদ নয়, আমাদের ইতিহাসের অংশ।’দর্শনার্থী সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবার এসে মসজিদের টেরাকোটার কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এত পুরোনো স্থাপনা হয়েও এখনো এত সুন্দরভাবে দাঁড়িয়ে আছে, এটি সত্যিই বিস্ময়কর।’
রাজশাহী : জুলাই আন্দোলনের ‘যোদ্ধা’ পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখল, টেন্ডার অনিয়ম, মামলাবাণিজ্য এবং নারী সাংবাদিকদের যৌন হয়রানিসহ নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিজেকে “জুলাইযোদ্ধা” হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন তিনি। তবে অভিযোগ রয়েছে, এর আগ থেকেই সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন। অর্পিত সম্পত্তি দখলের অভিযোগ আয়কর নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রাজশাহীর তানোর উপজেলার দুটি মৌজায় প্রায় ৮.৩০ একর (২৪ বিঘার বেশি) জমি কেনেন গোলাম রাব্বানী, যার মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ২.৭৪ কোটি টাকা। যদিও স্থানীয়দের দাবি, জমির প্রকৃত মূল্য প্রায় দ্বিগুণ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই জমি ‘খ’ তফসিলভুক্ত—অর্থাৎ অর্পিত (শত্রু) সম্পত্তি। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি লিজ নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে কৌশলে জমিটি দেবাশীষ রায়ের নামে দেখানো হয়, পরে তার কাছ থেকে কেনার মাধ্যমে নিজের নামে দলিল করেন রাব্বানী। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো বৈধ কাগজ না দেখিয়েই তাদের উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। জমি দখলের চেষ্টা একই কৌশলে আরও প্রায় ৩০ বিঘা অর্পিত সম্পত্তি নামজারির চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে একটি আবেদন করা হলেও তদন্তে সত্যতা না পাওয়ায় তা বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বদলির ঘটনাও সামনে এসেছে, যা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে। ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ থেকে বাণিজ্যিক ভাড়া রাজশাহীতে ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ভবন ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ করার কথা থাকলেও পরে তা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মাত্র একজন বৈধ দরদাতা থাকা সত্ত্বেও তাকে ভাড়া দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে—এই প্রক্রিয়ায় রাব্বানীর প্রভাব ছিল। যৌন হয়রানির অভিযোগ গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে অন্তত দুই নারী সাংবাদিক যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন। একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, অফিসে ডেকে নিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন এবং থানায় মামলা করেন। আরেকজন নারী সাংবাদিকও একই ধরনের অভিযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে একটি মামলায় রাব্বানী জামিনে রয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মামলাবাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, একটি মামলার এজাহার থেকে নাম প্রত্যাহারের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন রাব্বানী। এছাড়া সিটি করপোরেশন থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। দুদকে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, মামলাবাণিজ্য এবং যৌন হয়রানির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। গোলাম রাব্বানী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “এসব মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
বাংলাদেশে আরও পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা আগামীকাল থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। শনিবার প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বরিশাল, রাজশাহী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও রংপুর সিটি করপোরেশনে পাঁচজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া পাঁচজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতা। যাঁরা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী— বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মাহফুজুর রহমান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মো. ইউসুফ মোল্লা ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে রুকুনোজ্জামান রোকন রংপুর সিটি করপোরেশনে মাহফুজ উন নবী চৌধুরী তাদের সবাই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃস্থানীয় দায়িত্বে রয়েছেন। বিলকিস আক্তার জাহান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ)। মাহফুজুর রহমান রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মো. ইউসুফ মোল্লা কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া রুকুনোজ্জামান রোকন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এবং মাহফুজ উন নবী চৌধুরী রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব। মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন প্রশাসকেরা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪–এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (৩) অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। এখন পর্যন্ত ১১ সিটিতে প্রশাসক এই পাঁচজনকে নিয়োগের মাধ্যমে দেশে মোট ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রশাসকেরা দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচন শেষে নির্বাচিত মেয়রের কাছে তারা দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। এর আগে ছয় সিটিতে প্রশাসক এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দেশের আরও ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। সেগুলো হলো— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন – মো. আব্দুস সালাম ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন – মো. শফিকুল ইসলাম খান খুলনা সিটি করপোরেশন – নজরুল ইসলাম মঞ্জু সিলেট সিটি করপোরেশন – আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন – মো. সাখাওয়াত হোসেন খান গাজীপুর সিটি করপোরেশন – মো. শওকত হোসেন সরকার সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন আয়োজনের আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি সেতাফুর রহমান বাবুকে এবার দেখা গেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলের মঞ্চে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের এ নেতার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা হয়েছে এবং এতদিন তিনি পলাতক ছিলেন। সোমবার (৯ মার্চ) রাজশাহীর গোদাগাড়ী জামায়াতের উদ্যোগে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে এমপির ঠিক পেছনের সারিতে বসে থাকতে দেখা যায় সেতাফুর রহমান বাবুকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুর বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার রেলগেট এলাকায়। একসময় তিনি পাওয়ার টিলারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে হেরোইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হন। এরপর তিনি মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ থেকে প্রকাশিত মাদক কারবারিদের এক তালিকায় সেতাফুর রহমান বাবুর নাম ৯ নম্বরে ছিল। ওই প্রতিবেদনে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীকে মাদকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহীর উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু অসাধু রাজনীতিক ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বাবুর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তিনি মাটিকাটা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি ছিলেন এবং সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তার নেতৃত্ব থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলায় স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম নিহত হন। গণঅভ্যুত্থানের পর নিহত নজরুল ইসলামের বড় ছেলে মাসুম সরকার বাদী হয়ে সেতাফুর রহমান বাবুকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের আমলে ওই এলাকায় জিয়া পরিষদের কার্যালয় দখলের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সাব্বির রহমান জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হন তৎকালীন ইউপি সদস্য সেতাফুর রহমান বাবু। পরে তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় জেলা প্রশাসনের সুপারিশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে ইউপি সদস্য পদ থেকে বরখাস্ত করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর গোদাগাড়ী ও রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানায় একাধিক মামলা হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। কয়েকদিন আগে এলাকায় ফিরে এসে তাকে জামায়াতের ইফতার মাহফিলের মঞ্চে দেখতে পাওয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, এতদিন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর আশীর্বাদে থাকা এ মাদক কারবারি এখন জামায়াতের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে। নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে এবং জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম অরণ্য কুসুম অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতের ওই ইফতার মাহফিল আয়োজনের পুরো খরচই নাকি বহন করেছে সেতাফুর রহমান বাবু। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখল করতে গিয়ে আমার বাবাকে হত্যা করেছে। সেই আসামিকেই এখন জামায়াতের মঞ্চে এমপির পাশে বসতে দেখা যাচ্ছে। এটি খুবই দুঃখজনক।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান ভালো বলতে পারবে। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান জানান, সেতাফুর রহমান বাবু যে একজন মাদক কারবারি এবং যুবলীগের নেতা— এটি তিনি জানেন। তবে তাকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হয়নি এবং মঞ্চে বসার বিষয়টি পরে শুনেছেন বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেতাফুর রহমান বাবুর দুটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। গোদাগাড়ী থানার কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির বলেন, সেতাফুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না তা যাচাই করে বলতে হবে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি বলেন, মাদক কারবারি হলে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিলেও আইনের বাইরে থাকার সুযোগ নেই।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় মাহফিলের প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে দলের এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের সিপাইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নেতা হলেন এরশাদ আলী (৬৫)। তিনি ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ-এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার বাড়ি সিপাইপাড়া এলাকায়। মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিরোধ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজের পর স্থানীয় লোকজন একটি মাহফিল আয়োজনের বিষয়ে মসজিদে বৈঠকে বসেন। এ সময় এক পক্ষ জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল-কে প্রধান অতিথি করার প্রস্তাব দেন। অপরদিকে এরশাদ আলীসহ আরেক পক্ষ স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদকে প্রধান অতিথি করার দাবি তোলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হলে আলোচনা ভেস্তে যায়। স্থানীয়রা জানান, প্রায় আড়াই মাস আগেও একই বিষয় নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় এবং তখন মাহফিল আয়োজন স্থগিত করা হয়। ওই ঘটনায় সংঘর্ষে চারজন আহত হন এবং এ বিষয়ে একটি মামলাও হয়। তারাবি শেষে ফেরার পথে হামলা নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এরশাদ আলী তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের কয়েকজন অনুসারী তার পথরোধ করেন। একপর্যায়ে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের বক্তব্য চারঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম বলেন, হত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। আবু সাঈদ চাঁদ এমপির প্রতিক্রিয়া এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, “এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।” ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে 'বিশেষ নির্দেশনা' দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। মঙ্গলবারের এই “বিশেষ নির্দেশনা” সংবলিত চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজশাহী রেঞ্জের আওতায় থাকা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট এই আট জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে। "পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আদিষ্ট হয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে" উল্লেখ করে চিঠিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করার কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা স্থগিত ফ্যাসিস্ট সংগঠন বা সংগঠনসমূহের যে নেতৃবৃন্দ এবং কর্মী জামিনে মুক্তির পর দলকে শক্তিশালী, সংগঠিতকরণ এবং মাঠপর্যায়ে তৎপরতা প্রদর্শন করতে সক্ষম, তাদের জামিন হওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট) হবে”। "আর যারা ওই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী নয়, তাদের জামিন হলে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানোর প্রয়োজন আপাতত নেই" বলে ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে। তবে, এই চিঠিতে "কার্যক্রম নিষিদ্ধ/স্থগিত ফ্যাসিস্ট সংগঠনের" কথা বলা হলেও আওয়ামী লীগ বা তাদের কোনো সহযোগী সংগঠনের কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। একইসাথে “প্রটোকল ও প্রটেকশন প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করতে হবে” বলেও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। মি. শাহজাহানের এই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ইতিপূর্বে এই বিষয়ে গ্রুপ মেসেজের মাধ্যমে পুলিশ সুপারদের অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি অনুসরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইজি মো. শাহজাহান 'ক্ষোভ' প্রকাশ করে বলেন, এই চিঠি সাংবাদিকদের কাছে যাওয়া "চরম দুর্বলতা আমি মনে করি, আপনাদের কাছে যাওয়া উচিত ছিল না। এটা একান্তই সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়"। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ বা তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে এই নির্দেশনা নয়। বরং "সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের জন্য" এই বিশেষ নির্দেশনা। আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয় সেজন্য নিজেদের সদস্যদের আগাম বার্তা দেওয়ার অংশ এই নির্দেশনা। এটি রুটিন ওয়ার্ক নয়। "আমরা কোনো ব্যক্তি, কোনো সংগঠন বা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি যারা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত, তাদের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন টার্গেট করি নাই। যারা নিষিদ্ধঘোষিত, যারা সমাজের অপরাধী, বিভিন্ন কারণে নিষিদ্ধ সংগঠন, সমাজের ভেতরে বিশৃঙ্খলা করতে পারে, তাদের বিষয়ে কনসার্ন আমাদের" বলেন মি. শাহজাহান। পুলিশের সদর দফতর থেকে এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য কোনো নির্দেশ এসেছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "এটা সদর দফতরের না, এটা আমাদের একেবারেই ইন্টারনাল বিষয়। আমাদের সদস্যদেরকে অগ্রীম বার্তা দিয়ে রাখছি এটা"। চিঠির ভাষাগত কারণে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে উল্লেখ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, "যেসব সংগঠন নিষিদ্ধ তাদের তৎপরতা যদি বেড়ে যায় তাহলে তাদের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এইজন্য তাদেরকে আমরা বলছি আইনের আওতায় আনার জন্য। সিম্পল কথাটা আইনের আওতায় বললে এই শব্দগুলো আসতো না"।
ভিক্ষুকদের সরকারি রেশন ও ভাতা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) নম্বর সংগ্রহ করে অভিনব কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল একটি চক্র। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তাররা হলেন সুলতানা খাতুন ও তার স্বামী মোবারক হোসেন। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, অপরাধে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও চারটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। রাজশাহীতে অভিযান সিআইডি সূত্রে জানা যায়, এলআইসি শাখার অ্যানালাইসিস ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় গত সোমবার পবা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। যেভাবে চালানো হতো প্রতারণা তদন্তে জানা গেছে, মোবারক-সুলতানা দম্পতি তাদের বাড়িতে যাওয়া ভিক্ষুকদের সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে তাদের সিমকার্ড ও এমএফএস নম্বর সংগ্রহ করত। পরে সেই সিমকার্ড ব্যবহার করে টার্গেট ব্যক্তিদের ফোন দেওয়া হতো। প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের জানাত— তাদের মা, মেয়ে বা স্ত্রী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। জরুরি চিকিৎসার জন্য দ্রুত টাকা পাঠাতে হবে। টাকা পাঠানোর জন্য দেওয়া হতো ভিক্ষুকের এমএফএস নম্বর। ভুক্তভোগী কেউ কণ্ঠস্বর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে প্রতারকরা বলত, ঠান্ডা লাগা বা দুর্ঘটনার কারণে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। টাকা পাওয়ার পর ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল ফোন নষ্ট করে ফেলায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত। সুইডেন প্রবাসীর পরিচয়ে প্রতারণা এক ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সুইডেন প্রবাসী বোনের পরিচয় দিয়ে তার মাকে ফোন করা হয়। প্রতারক জানায়, সুইডেন থেকে দেশে এসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য জরুরি অর্থ প্রয়োজন। চিকিৎসার খরচের কথা বলে একটি এমএফএস নম্বর দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর মা বিভিন্ন সময়ে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা পাঠান। পরে মেয়ের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এ ঘটনায় গত বছরের ২৯ এপ্রিল গোমস্তাপুর থানা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যা পরবর্তীতে মামলায় রূপ নেয়। সতর্ক থাকার আহ্বান সিআইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অচেনা নম্বর থেকে আত্মীয় পরিচয়ে জরুরি অর্থ চাওয়া হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নিজের সিমকার্ড ও এমএফএস নম্বর অন্যের কাছে হস্তান্তর না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণা রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।