Brand logo light

শুভেন্দু অধিকারী

পশ্চিমবঙ্গে গরু কোরবানিতে বিধিনিষেধ, হিন্দু ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত!
ভারতের বিজেপি সরকারের নতুন আইনে পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির গরু সংকট: নতুন বিধিনিষেধে বিপাকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ঈদুল আজহার আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গরু কেনাবেচা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিজেপি সরকারের নতুন পশু জবাই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে মুসলিম ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে হিন্দু খামারি ও গরু ব্যবসায়ীদের ওপর। একই সময়ে ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধের ঘোষণাও রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পশুর হাটে সাধারণত যে বেচাকেনার চাপ দেখা যায়, এবার তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন আইনি বিধিনিষেধ এবং প্রশাসনিক নজরদারির কারণে মুসলিম ক্রেতারা গরু কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে কোটি টাকার বাজারে নেমে এসেছে স্থবিরতা। গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা ‘পশু জবাই সংক্রান্ত নির্দেশিকা’ অনুযায়ী, সরকারি অনুমতি ও সরকারি পশু চিকিৎসকের ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর কিংবা স্ত্রী-পুরুষ মহিষ জবাই করা যাবে না। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো পশুকে জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করতে হলে তার বয়স অন্তত ১৪ বছর হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা শ্রমের কাজে অক্ষম হতে হবে। গুরুতর আঘাত, স্থায়ী বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগে আক্রান্ত পশুর ক্ষেত্রেও বিশেষ অনুমতির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া শুধুমাত্র অনুমোদিত কসাইখানা বা প্রশাসন নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে বা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় পশু জবাই করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ঈদের বাজারে অনিশ্চয়তা মুর্শিদাবাদ, মালদহ, নদীয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের গরু ব্যবসা হয়। স্থানীয় হিন্দু খামারিদের বড় একটি অংশ এই মৌসুমি বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এবার ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন নিয়মে ১৪ বছরের কম বয়সী গবাদিপশু নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় ক্রেতারা হাটে আসলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়ছেন। পুলিশের হয়রানি বা আইনি জটিলতার আশঙ্কাও অনেকের মধ্যে কাজ করছে। ফলে অনেকে গরুর বদলে ছাগল বা ভেড়ার দিকে ঝুঁকছেন। এতে বড় আকারের গরু খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একাধিক খামারি জানিয়েছেন, বছরজুড়ে গরু লালন-পালনের পর ঈদের বাজার থেকেই তারা মূল বিনিয়োগ ফেরত পান। কিন্তু এবার বিক্রি না হলে ঋণের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। সরকারের অবস্থান কী? সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং খুব দ্রুত একটি “সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা” ঘোষণা করা হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টা নিজে দেখছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুব তাড়াতাড়ি কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হবে।” যদিও সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শিথিলতার ঘোষণা দেয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে—ঈদ, আদালতের গাইডলাইন এবং জনমতের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মধ্যপন্থী সমাধানের চেষ্টা করা হতে পারে। ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নতুন বিধিনিষেধকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, কোরবানির মতো ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলে তা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র খামারি ও পশু ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ক্ষতিও গভীর হবে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, এই পদক্ষেপ মূলত অবৈধ পশু জবাই ও প্রকাশ্যে কসাই কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনতেই নেওয়া হয়েছে। দলটি দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু সংরক্ষণ ও “আইনসম্মত জবাই ব্যবস্থার” পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধের ঘোষণা পশু জবাই নির্দেশিকার বিতর্কের মধ্যেই রাজ্য সরকার ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধের ঘোষণাও দিয়েছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন থেকে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য চালু থাকা ভাতা প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে একইসঙ্গে সরকার “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার” প্রকল্পকে পুনর্গঠন করে “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার” নামে চালুর ঘোষণা দিয়েছে। আগের সুবিধাভোগীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবেন বলেও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বার্তা নাকি প্রশাসনিক সংস্কার? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই বিজেপির এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্তগুলো মূলত তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধ, পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন সরকার তাদের ভোটারদের কাছে একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। তবে এর বাস্তব অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের ওপর—বিশেষ করে ঈদুল আজহার বাজার পরিস্থিতি এবং সরকারের সম্ভাব্য নতুন ঘোষণার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
ইত্তেহাদ নিউজ
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন : বিজেপির ঐতিহাসিক জয়, ইস্তফা দেবেন না বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ-এর রাজনীতিতে বড় ধরনের পালাবদলের ইঙ্গিত দিয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস-কে সরিয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি। এই ফলাফলকে রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।  নেতৃত্বে পরিবর্তনের ইঙ্গিত এই নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করা এই নেতা এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকট এবং সাংগঠনিক পরিবর্তন দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উত্থান এবং দলীয় ভারসাম্যের পরিবর্তন শুভেন্দুর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ায়, যা শেষ পর্যন্ত দলত্যাগে রূপ নেয়। ভোটার তালিকা ও ফলাফলের প্রভাব নির্বাচনের আরেকটি আলোচিত বিষয় ছিল ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়া বা সংশোধনের আওতায় আসার ঘটনা বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। যেসব আসনে বিপুলসংখ্যক ভোটার বাদ পড়েছে, সেখানে বিজেপির সাফল্য বেশি। যেমন—২৫ হাজারের বেশি ভোটার বাদ পড়া ১৪৭টি আসনের মধ্যে ৯৫টিতে জয় পেয়েছে দলটি।  সংখ্যালঘু ভোট বিভাজন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা—যেমন মুর্শিদাবাদ—এ ভোট বিভাজনও ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একাধিক দলের মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি দুর্বল হয়ে পড়ে।  মমতার অবস্থান: “আমরা হারিনি” ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। তার অভিযোগ, নির্বাচন “জোর করে প্রভাবিত” করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা তো হারিনি। ভোট লুট হয়েছে। তাহলে ইস্তফা দেব কেন?” সংবিধান ও রীতি ভারতের সংবিধানে এমন পরিস্থিতির স্পষ্ট উল্লেখ নেই যে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলে কী হবে। তবে এটি একটি প্রতিষ্ঠিত রীতি বা সাংবিধানিক শিষ্টাচার যে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। উদাহরণ হিসেবে ২০১১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল ঘোষণার পরই রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দেন। মেয়াদ শেষ হলেই কী হবে? বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে। ইস্তফা না দিলেও ওই দিন পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার মেয়াদ শেষ হবে এবং তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হবেন।  নতুন সরকার গঠন বিজেপির পক্ষ থেকে সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি-র বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তী-র দিন শপথগ্রহণ হতে পারে। এদিকে অমিত শাহ কলকাতায় এসে পরিষদীয় দলের বৈঠকে নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে পারেন। নির্বাচিত নেতা রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি যদি শপথগ্রহণ বিলম্বিত হয়, তাহলে স্বল্প সময়ের জন্য প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে রাজ্যপাল ভূমিকা রাখতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকেও ‘তত্ত্বাবধায়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়। তবে এত স্বল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0