Brand logo light

সাংবাদিকতা

দৈনিক ‘শাহনামা’
বরিশালের প্রাচীন দৈনিক ‘শাহনামা’ ৩৬ বছরে পদার্পণ

বরিশাল অফিস :   বরিশাল থেকে প্রকাশিত প্রাচীন আঞ্চলিক সংবাদপত্র দৈনিক শাহনামা আজ ৩৬ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৯৯১ সালের ১৪ এপ্রিল যাত্রা শুরু করা পত্রিকাটি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পাঠকসমাজে আস্থা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই পত্রিকাটি বরিশালসহ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের কথা তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কেবল সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রেও অবদান রেখে এটি একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে আঞ্চলিক গণমাধ্যম হিসেবে। দৈনিক শাহনামার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বরিশালের প্রবীণ সাংবাদিক মরহুম মো. হোসেন শাহ। তাঁর দূরদর্শিতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতেই পত্রিকাটি একটি নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী আবুল কালাম আজাদ। উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে যুক্ত আছেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর শাহ সাজেদা। সিনিয়র সাংবাদিকদের মতে, বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে সংবাদপত্রের যে বিকাশ ঘটেছে, তার পেছনে দৈনিক শাহনামার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের অনেক সাংবাদিক ও সাহিত্যসেবীর লেখালেখির হাতেখড়িও হয়েছে এই পত্রিকার মাধ্যমে। ৩৬ বছরে পদার্পণের এই সময়ে পত্রিকাটি আবারও তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে—সত্য ও নিরপেক্ষতার পথে থেকে মানুষের পাশে থাকার। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের সমর্থনে ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। আঞ্চলিক সাংবাদিকতায় অবদান রাখার পাশাপাশি বরিশালের শিক্ষা ও সংস্কৃতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দৈনিক শাহনামা। পত্রিকাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, সংবাদপত্র প্রকাশনা তাদের কাছে পেশার পাশাপাশি এক ধরনের দায়বদ্ধতা—যা মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
টুলু- শফিকুল
বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচন: সভাপতি টুলু, সম্পাদক শফিকুল নির্বাচিত

বরিশাল অফিস :   উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে মোস্তাফিজুর রহমান টুলু সভাপতি এবং মোঃ শফিকুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে বিরতিহীনভাবে এই ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচন ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সিনিয়র সাংবাদিক শাহজাহান খান এবং মোস্তাফিজুর রহমান টুলু। এর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান টুলু ১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহজাহান খান পান ৯ ভোট। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোঃ শফিকুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। শফিকুল ইসলাম ১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ আল মামুন পেয়েছেন ৯ ভোট। ভোটগ্রহণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নতুন এই কমিটির নেতৃত্বে বাবুগঞ্জ উপজেলার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
১৮ মাসে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ইমেজ সংকট!

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে সবচেয়ে বেশি ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। এ সময়ে এ মন্ত্রণালয়ে তেমন কোনো কাজ হয়নি। সচিব মাহবুবা ফারজানা তথ্য মন্ত্রণালয়কে তেমন কোনো কিছুই দিতে পারেননি।সচিব মাহবুবা ফারজানার সময় কেটেছে উপদেষ্টাদের প্রটোকল দিয়ে ও নিজেকে পরিপাটি রেখে। সচিব মাহবুবা ফারজানার পরিচিতি ছিল ‘প্রটোকল অফিসার’ হিসেবে।তার দ্বারা কিছু টাউট-বাটপারের ব্যক্তিগত উপকার হলেও গণমাধ্যমের কোনো উপকার হয়নি। এমনকি প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের মর্যাদাও রক্ষা করতে পারেনি। স্বাধীনতার পর থেকে ২০২১ সালের  ১৪ মার্চ পর্যন্ত এ মন্ত্রণালয়ের নাম ছিল তথ্য মন্ত্রণালয়। আওয়ামী সরকারের সময়ে ড. হাসান মাহমুদ যখন মন্ত্রী তখন এর নাম পরিবর্তন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় করা হয়। মন্ত্রণালয়টির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশের সব বিখ্যাত ব্যক্তিরা এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডাকসাইটের আমলারা এ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। যাদের নাম এখনো শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এটি সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়। শুধু গণমাধ্যম নিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, দেশের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ইমেজ তৈরির কাজটি করার দায়িত্বও অনেকখানি। গুরুত্বপূর্ণ এ মন্ত্রণালয়টির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন শুরু হয় ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে, যখন মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ। তার পর শেখ মুজিবুর রহমান, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী, শেখ আবদুল আজিজ, এম কোরবান আলী, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, হাবিবুল্লাহ খান, শামসুল হুদা চৌধুরী, তোফাজ্জল হোসেন খান, সৈয়দ নাজিমুদ্দিন হাশিম, এ আর ইউসুফ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী জাফর আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, এম শামসুল ইসলাম, শেখ হাসিনা, ড. আবদুল মঈন খান, তরিকুল ইসলামসহ বিখ্যাত ও খ্যাতিমান রাজনৈতিক নেতারা। সাংবাদিকদের মধ্যে তথ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন তাহের উদ্দিন ঠাকুর, সিরাজুল হোসেন খান, আনোয়ার জাহিদ, সৈয়দ দিদার বখত, ড. মিজানুর রহমান শেলী। বিভিন্ন সময়ে এ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ড. আকবর আলী খান, শামসুল হুদা চৌধুরী, এ আর এস দোহা, মাহবুবুল আলম, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম সচিব ছিলেন এম হোসেন আলী। তার পর বাহাউদ্দিন চৌধুরী, খোরশেদ আলম সিএসপি, আনিসুজ্জামান খান সিএসপি, জহুরুল হক সিআইএস, এটিএম শামসুল হক সিএসপি, এবিএম গোলাম মোস্তফা সিএসপি, আনম ইউসূফ সিএসপি, মনজুর মোরশেদ সিএসপি, এজেডএম নাসিরুদ্দিন সিএসপি, কাজী মুহাম্মদ মনজুরে মওলা সিএসপি, নুরুদ্দিন আহমেদ, আলম মাসুদ সিএসপি, সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সিএসপি, ড. মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার হায়দার আলী, হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, মরতুজা আহমেদসহ ডাকসাইটের ও অভিজ্ঞ, সিনিয়র আমলাদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হতো। আওয়ামী লীগ সরকার খাজা মিয়াকে সচিবের দায়িত্ব দিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের ইমেজ অনেকটা ম্লান করেছে। তার পর থেকে মেধাবী, যোগ্য, দক্ষ কোনো আমলাকে এ মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমান তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পদোন্নতি পেয়েছেন। ১৮ মাসে  যোগ্যতা, দক্ষতা বা মেধার কোনো প্রমাণ তিনি রাখতে পারেননি বলে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জীবন বাজি রেখে রাজনীতি করছেন। মৃত্যুর দুয়ার থেকে তিনি ফিরে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরে তিনি দলের অত্যন্ত ত্যাগী নেতা জহির উদ্দিন স্বপনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি একজন সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা। অনেক ত্যাগ ও কাঠখড় পুড়িয়ে তিনি রাজনীতিতে টিকে আছেন। হামলা-মামলা মোকাবিলা করে তিনি আজ মন্ত্রী হয়েছেন। ইয়াসের খান চৌধুরী হলেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াসের খান চৌধুরী একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানী। দীর্ঘদিন বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক লন্ডনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আগে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কম্পিউটার টেকনোলজি কোম্পানি আইবিএম ও ভোডাফোনে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ক্লিন ইমেজের মানুষ। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। গণমাধ্যমে তিনি পরিচিত মুখ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে তার যোগাযোগ ভালো। তাদেরও চেয়ারের ওপরে অনার বোর্ডে বিখ্যাতদের নামও আছে, অখ্যাতদের নামও আছে। তারা  যদি খ্যাতিমান ব্যক্তিদের কাতারে নিজেদের নাম রাখতে চান, তাহলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে আগের মর্যাদায় ফিরিয়ে নিতে হবে বলে মনে করেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রতি প্রত্যাশা—তারা অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন—এই তিনটি ক্ষেত্রেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
সংবাদ স্ক্রিপ্ট লেখার আন্তর্জাতিক নিয়ম ও কৌশল
সংবাদ স্ক্রিপ্ট লেখার আন্তর্জাতিক নিয়ম ও কৌশল

📰 শিরোনাম (Headline) সংবাদ স্ক্রিপ্ট লেখার আন্তর্জাতিক নিয়ম ও কৌশল 🟡 লিড (Intro / Lead) একটি সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং উপস্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সংবাদ স্ক্রিপ্ট লেখার জন্য সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট কিছু কৌশল ও কাঠামো অনুসরণ করতে হয়। 🟢 বডি (Main Body) সংবাদ বা রিপোর্টের সঙ্গে অন্যান্য সাধারণ লেখার মূল পার্থক্য হলো তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপনের ধরনে। একজন সাংবাদিক রিপোর্ট তৈরির জন্য বিভিন্ন কৌশল অনুসরণ করেন—যেমন সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সরকারি ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ, পুরোনো তথ্য-উপাত্ত যাচাই এবং ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ। রিপোর্ট লেখার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। কোন তথ্য আগে আসবে, কোন তথ্যের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা কতটুকু—এসব নির্ধারণ করাই একজন সাংবাদিকের দক্ষতা। একটি ভালো রিপোর্টের পূর্বশর্ত হলো নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা। এর মাধ্যমে একজন সাংবাদিক প্রকৃত সত্য তুলে ধরে জনগণের প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন। 🔵 সংবাদযোগ্যতার মানদণ্ড (News Values) কোন ঘটনা কতটা সংবাদযোগ্য, তা নির্ধারণে সাধারণত ছয়টি বিষয় বিবেচনা করা হয়— টাইমলিনেস (Timeliness): সাম্প্রতিক ঘটনার গুরুত্ব বেশি প্রক্সিমিটি (Proximity): কাছাকাছি ঘটনার মূল্য বেশি প্রমিনেন্স (Prominence): পরিচিত ব্যক্তির সংবাদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিকনেস (Oddity): অস্বাভাবিক ঘটনা বেশি আকর্ষণীয় ইমপ্যাক্ট (Impact): বেশি মানুষ প্রভাবিত হলে গুরুত্ব বাড়ে কনফ্লিক্ট (Conflict): দ্বন্দ্ব থাকলে সংবাদ মূল্য বৃদ্ধি পায় এই বিষয়গুলো সংবাদ নির্বাচন, লিড নির্ধারণ এবং সাক্ষাৎকারের প্রশ্ন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 🔴 লিবেল (Libel) ও সতর্কতা সাংবাদিকতায় “লিবেল” বলতে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে কারও মানহানিকে বোঝায়। এ ধরনের ভুল থেকে বাঁচতে তথ্যের উৎস যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। যদি কোনো তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া যায়, তবে সেটি প্রকাশের আগে উৎসের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা উচিত। অন্যথায় মিথ্যা তথ্য প্রচারের কারণে আইনগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। 🟣 সংবাদ লেখার কাঠামো সংবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইন্ট্রো বা লিড, যেখানে মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়। সাধারণত 5W1H (What, Who, When, Where, Why, How) ফর্মুলা অনুসরণ করা হয়। উদাহরণ: রায়ের বাজার বস্তি থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন সিয়াম। ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৮০ হাজার ডলারের পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে এ মাসেই নিউ মেক্সিকো যাচ্ছেন তিনি। হার্ড নিউজের ক্ষেত্রে “ইনভার্টেড পিরামিড” কাঠামো ব্যবহার করা হয়। এতে— শুরুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এরপর গুরুত্বপূর্ণ বিস্তারিত সবশেষে ব্যাকগ্রাউন্ড তথ্য দেওয়া হয় ⚫ তথ্যের উৎস উল্লেখ (Attribution) সংবাদে ব্যবহৃত প্রতিটি তথ্যের উৎস উল্লেখ করা অপরিহার্য। যেমন—সরকারি রিপোর্ট, জরিপ, বা সাক্ষাৎকার। প্রথমবার কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম পুরো লিখতে হয়, পরবর্তীতে সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার করা যায়। সরাসরি উদ্ধৃতি ব্যবহার করলে সংবাদ আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়।   ✅ এই স্টাইলের বৈশিষ্ট্য: ডেটলাইন (নিজস্ব প্রতিবেদক) ব্যবহার সংক্ষিপ্ত ও প্রফেশনাল ভাষা ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ কোটেশনকে পরোক্ষভাবে উপস্থাপন অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা বাদ নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ টোন ⚪ উপসংহার (Conclusion) সঠিক তথ্য, বস্তুনিষ্ঠতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সংবাদ লিখলে একটি রিপোর্ট হয়ে ওঠে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য। তথ্য যাচাই, সঠিক কাঠামো অনুসরণ এবং দায়িত্বশীল উপস্থাপনই একজন দক্ষ সাংবাদিকের পরিচয়। @ইত্তেহাদ  নিউজ

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
প্রতিবেদন লেখার নিয়ম
প্রতিবেদন লেখার নিয়ম, কৌশল ও অনুসন্ধানী রিপোর্ট তৈরির পূর্ণাঙ্গ গাইড

সংবাদ প্রতিবেদন শুধু তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয়—এটি সমাজের বাস্তবতা, সমস্যা ও ক্ষমতার কাঠামোকে তুলে ধরার শক্তিশালী হাতিয়ার। অনেকেই মনে করেন রাজনীতি মানেই রাজনৈতিক দলের বক্তব্য, কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি সামাজিক ঘটনাই এক ধরনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ধরা যাক, রাস্তায় একজন অসহায় নারী পড়ে আছেন। এটি শুধু একটি মানবিক ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি। এই ছোট ঘটনাকে ঘিরেই তৈরি হতে পারে একটি বড় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন—যেখানে খোঁজ নেওয়া হবে, কেন তিনি ভাতা পাননি, কেন ঘর পাননি, এবং কারা সেই সুবিধা পেয়েছে।    সংবাদ প্রতিবেদনের মৌলিক কাঠামো সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে দুটি মৌলিক নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ফাইভ ডব্লিউ এইচ (5W1H): কী, কে, কোথায়, কখন, কেন, কীভাবে ইনভার্টেড পিরামিড: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শুরুতে, কম গুরুত্বপূর্ণ শেষে তবে আধুনিক সাংবাদিকতায় এই কাঠামোকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করা জরুরি। বিশেষ করে মানবিক, অনুসন্ধানী বা বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে নতুন স্টাইল প্রয়োজন।   অ্যাসাইনমেন্ট কভার করার কৌশল একজন দক্ষ রিপোর্টারকে মাঠে কাজ করার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়: আয়োজকদের যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করা বক্তাদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা ও রেকর্ড করা গুরুত্বপূর্ণ সময় (টাইমস্ট্যাম্প) নোট করা দ্রুত অনলাইন রিপোর্ট পাঠানো (১০০–২০০ শব্দ) প্রয়োজনে নিজেই ছবি তোলা   প্রতিবেদন লেখার সহজ সূত্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেই ঠিক করতে হবে কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—বাজেট, রাজনীতি বা চলমান ইস্যু—যেটি বেশি আলোচিত, সেটিকেই ফোকাস করতে হবে।   অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন: নির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন সরকারি নথি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র সংগ্রহ ভুক্তভোগী, পুলিশ, স্থানীয় প্রতিনিধি—সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলা পূর্বে প্রকাশিত তথ্য যাচাই   মানবিক প্রতিবেদন মানবিক প্রতিবেদনে মানুষের গল্পই মুখ্য। তবে: ভুক্তভোগীর বক্তব্য সরাসরি সত্য ধরে নেওয়া যাবে না প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বক্তব্য দিয়ে যাচাই করতে হবে   সরেজমিন প্রতিবেদন এখানে রিপোর্টারের নিজের দেখা ও অভিজ্ঞতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি ব্যক্তির গল্প দিয়েও পুরো দেশের চিত্র তুলে ধরা যায়।   ক্রসচেকের গুরুত্ব যেকোনো প্রতিবেদনে তথ্য যাচাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত দুই বা তিনটি সূত্র থেকে নিশ্চিত হতে হবে উভয় পক্ষের বক্তব্য নিতে হবে    একজন ভালো প্রতিবেদকের গুণ শক্তিশালী নিউজসেন্স বিশ্লেষণ ক্ষমতা নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস রাজনীতি ও সমাজ সম্পর্কে জ্ঞান সৃজনশীলতা ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা দিন শেষে একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীরতা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
সংবাদ প্রতিবেদন
প্রতিবেদন লেখার নিয়ম: প্রাতিষ্ঠানিক ও সংবাদ প্রতিবেদন কীভাবে লিখবেন

পত্রিকায় প্রকাশের উপযোগী প্রতিবেদন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন বা সাধারণ প্রতিবেদন কিভাবে লিখতে হয় তা নিয়ে আমাদের জিজ্ঞাসা কিংবা দ্বিধা-দ্বন্দের শেষ নেই। এই দুই ধরণের প্রতিবেদন লেখার কলা-কৌশল নিয়ে আজকে আমরা খুব সহযে আলোচনা করব। ইংরেজি ‘Report writing’-এর পারিভাষিক রূপ ‘প্রতিবেদন লিখন’। আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা, বিষয় বা প্রসঙ্গ সম্পর্কে নির্মোহ, নিরপেক্ষভাবে তথ্যমূলক বিবৃতি লিখনকেই বলে প্রতিবেদন লিখন। বিষয় ও বৈচিত্র্য অনুসারে প্রতিবেদন বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। মূলত সাধারণ প্রতিবেদন বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন এবং সংবাদ প্রতিবেদন লেখার দরকার হয়। ক. প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন সাধারণত আমরা যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকি, সেই প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা, বিষয় বা প্রসঙ্গ সম্পর্কে যে প্রতিবেদন লিখতে হয়, সেটিই প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন বা সাধারণ প্রতিবেদন। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেসব অনুষ্ঠানাদি হয়ে থাকে, যেমন বার্ষিক বিজ্ঞানমেলা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বিতর্ক উৎসব, নবীনবরণ, বর্ষবরণ, বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদ্যাপন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিদায় অনুষ্ঠান, মিলাদ মাহফিল, বইমেলা ইত্যাদি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ অধ্যক্ষের কাছে লিখিত প্রতিবেদনই সাধারণ প্রতিবেদন বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন।  ১. সাধারণ প্রতিবেদন লেখার জন্য প্রথমে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সাধারণ আবেদনপত্র লিখতে হয়।  ২. আবেদনপত্রের ওপরের বাঁ দিকে তারিখ, এরপর কর্তৃপক্ষের পদবি-ঠিকানা, এরপর বিষয় ও সূত্র বা স্মারক নম্বর লিখতে হয়। (কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত চিঠির নম্বরই সূত্র বা স্মারক নম্বর)। ৩. আবেদনপত্রের শেষে নিচের বাঁ দিকে শিক্ষার্থীর নাম–ঠিকানা (প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত নাম-ঠিকানা) লিখতে হয়।  ৪. পরে শিরোনামসহ মূল প্রতিবেদন লিখতে হয়। ৫. মূল প্রতিবেদনের প্রথম অনুচ্ছেদটি 5W + 1H সূত্র ব্যবহার করে লিখতে হয়। অর্থাৎ  •    W= What (কী ঘটছে/ঘটেছে) •    W= Where (কোথায় ঘটছে/ঘটেছে) •    W= When (কখন ঘটছে/ঘটেছে) •    W= Who (কারা এর সঙ্গে জড়িত/সংশ্লিষ্ট) •    W= Why (কেন ঘটছে/ঘটেছে)  •    H= How (কীভাবে ঘটছে/ঘটেছে) এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একত্র করে শিক্ষার্থী প্রথম অনুচ্ছেদটি লিখবে।  ৬. প্রথম অনুচ্ছেদের পর একাধিক অনুচ্ছেদে ধারাবাহিকভাবে পুরো বিষয়টি বর্ণনা করতে হবে। ৭. মূল প্রতিবেদন লেখা শেষে বিনীত নিবেদক, ইতি, প্রতিবেদক এই কথাগুলো লেখা যাবে না। ৮. সাধারণ প্রতিবেদন বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন লেখায় কোনো খাম দিতে হয় না। তবে প্রতিবেদন লেখা শেষে প্রতিবেদক ও প্রতিবেদন–সম্পর্কিত একটি তথ্য-ছক দেওয়া যেতে পারে। খ. সংবাদ প্রতিবেদন অন্যদিকে নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সমস্যা, কোথাও ঘটে যাওয়া জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা, দুর্ঘটনা বা বিষয় প্রসঙ্গ সম্পর্কে তথ্যমূলক বিবৃতি তুলে ধরে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই সংবাদ প্রতিবেদনের লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে আমরা হয়ে যাই কোনো পত্রিকার সাংবাদিক অর্থাৎ নিজস্ব সংবাদদাতা বা স্টাফ রিপোর্টার বা নিজস্ব প্রতিবেদক বা কোনো জেলা বা থানা প্রতিনিধি। একজন রিপোর্টার হিসেবে সংবাদপত্রে প্রকাশ উপযোগী করে এ ধরনের প্রতিবেদন লিখতে হয়।  ১. সংবাদ প্রতিবেদন লিখতে সম্পাদক বা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনপত্র লিখতে হয় না। ২. শিরোনাম (হেডলাইন) দিয়ে প্রতিবেদন লেখা শুরু করতে হয়। হেডলাইন লেখার কতগুলো রীতি আছে। যেমন হেডলাইনের ফন্ট সাইজ সাধারণ লেখার ফন্ট সাইজ থেকে একটু বড় হয়, মূল প্রতিবেদনের ওপরে মাঝখান বরাবর লিখতে হয়। এ ক্ষেত্রে অন্য রঙের কালি ব্যবহার করলে ভালো। ৩. এরপর ডেটলাইন লিখতে হয়। প্রতিবেদকের নাম বা পদবি, প্রতিবেদন লেখার স্থান এবং প্রতিবেদন লেখার তারিখ—এই তিন তথ্যকে একত্রে ডেটলাইন বলে। ৪. ডেটলাইনের পর ইন্ট্রো বা প্রথম পরিচ্ছেদ লিখতে হয়। 5W + 1H সূত্র ব্যবহার করে দারুণভাবে প্রথম অনুচ্ছেদটি লেখা যায়। ৫. প্রথম অনুচ্ছেদের পর একাধিক অনুচ্ছেদে ধারাবাহিকভাবে বিষয়টি বর্ণনা করতে হবে। ৬. মূল প্রতিবেদন লেখা শেষে প্রতিবেদকের নাম, পদবি, বিনীত নিবেদক, ইতি— লেখা যাবে না। ৭. প্রতিবেদন লেখা শেষে খাম দিতে হবে না। ৮. সংবাদ প্রতিবেদন লিখনে প্রতিবেদককে অবশ্যই নির্মোহ ও নৈর্ব্যক্তিক হতে হবে। সংবাদ প্রতিবেদনে ভালো করতে হলে গাইড বই ছেড়ে দৈনিক কোনো পত্রিকার রিপোর্ট মনোযোগ দিয়ে পড়বে।   প্রতিবেদন লেখার নিয়ম নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে প্রতিবেদন লেখার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ও সচেতনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক ও সংবাদ প্রতিবেদন লেখার নিয়ম জানা এখন শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত কর্মশালা ও ক্লাসে প্রতিবেদন লেখার কৌশল শেখানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানান, আগে প্রতিবেদন লেখাকে কঠিন মনে হলেও এখন 5W + 1H সূত্র জানার ফলে বিষয়টি অনেক সহজ হয়েছে। শিক্ষকদের মতে, একটি ভালো প্রতিবেদন হতে হলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক ও সুসংগঠিত হতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদনে সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুষ্ঠান যেমন বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বর্ণনা দেওয়া হয়। অন্যদিকে সংবাদ প্রতিবেদন লেখা হয় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ঘটনা তুলে ধরার জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিবেদনের প্রথম অনুচ্ছেদে কী, কোথায়, কখন, কে, কেন এবং কীভাবে—এই ছয়টি প্রশ্নের উত্তর থাকা জরুরি। এতে পাঠক খুব সহজেই পুরো ঘটনার সারাংশ বুঝতে পারেন। এদিকে, নতুন প্রজন্মের অনেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লেখালেখির দিকে ঝুঁকছেন। ফলে সংবাদ প্রতিবেদন লেখার দক্ষতা অর্জন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষাবিদরা মনে করেন, নিয়মিত সংবাদপত্র পড়া এবং চর্চার মাধ্যমে  খুব সহজেই দক্ষ প্রতিবেদক হয়ে উঠতে পারে।   লেখার ধাপ: আবেদনপত্র প্রয়োজন হয় না আকর্ষণীয় শিরোনাম (হেডলাইন) দিয়ে শুরু করতে হয় এরপর ডেটলাইন (স্থান, তারিখ, প্রতিবেদকের পরিচয়) লিখতে হয় প্রথম অনুচ্ছেদে 5W + 1H সূত্র ব্যবহার করতে হয় পরবর্তী অংশে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও বর্ণনা দিতে হয় প্রতিবেদকের ব্যক্তিগত মতামত পরিহার করতে হয়  5W + 1H সূত্রের গুরুত্ব একটি ভালো প্রতিবেদনের মূল ভিত্তি হলো 5W + 1H: What (কি ঘটেছে) Where (কোথায় ঘটেছে) When (কখন ঘটেছে) Who (কারা জড়িত) Why (কেন ঘটেছে) How (কীভাবে ঘটেছে) এই ছয়টি প্রশ্নের উত্তরই একটি প্রতিবেদনের প্রথম অনুচ্ছেদকে শক্তিশালী করে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0
বেলাল সিকদার
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে অ্যাডভোকেট হলেন সাংবাদিক বেলাল সিকদার

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক—তিন ধাপের পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন সাংবাদিক মোঃ বেলাল হোসেন সিকদার। দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আইন পেশায় প্রবেশ করে তিনি একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন। শিক্ষাজীবনে বেলাল হোসেন সিকদার চরমোনাই আহসানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল (এমএ) সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ (অনার্স) ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর বরিশাল ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সকল ধাপের পরীক্ষায় প্রথমবারেই উত্তীর্ণ হন। পেশাগত জীবনে তিনি প্রায় এক যুগ ধরে সাংবাদিকতায় সক্রিয় রয়েছেন। এ সময়ে বরিশালের বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন সিকদার বলেন, “সাংবাদিক হিসেবে আমি সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি—সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা আমার লক্ষ্য ছিল। এখন আইন পেশায় যুক্ত হয়ে সত্য, ন্যায়বিচার, দেশ ও মানবতার পক্ষে কাজ করতে চাই।” তিনি বর্তমানে বরিশাল জজ কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের আইনি সেবা প্রদানে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক। তার  পিতা প্রায় ১০ বছর আগে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন)। বর্তমানে তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী, মাতা, দুই ভাই ও এক বোন। নতুন এই পথচলায় সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন সিকদার।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0