ইরানের ৬০৬ জনের মৃত্যু ইসরায়েলি হামলায়


অনলাইন ডেস্ক : কোনো উসকানি ছাড়াই ইরানের ওপর ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। টানা ১২ দিনের ইসরায়েলের এই হামলায় ইরানের অন্তত ৬০৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় ইরানে কমপক্ষে ৬০৬ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৫ হাজারের বেশি মানুষ।
ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ রেজা জাফরগনি বলেন, ‘আহতদের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ ছাড়া অনেকে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইরানে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। কেবল এই সময়েই ইসরায়েলি হামলায় আমাদের অন্তত ১০৭ জন নিহত হয়েছেন।’
ইরান জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে এখনো ৯৭১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া ৬৮৭ জনের অস্ত্রোপচার হয়েছে।
জানা যায়, ইসরায়েলের এ হামলায় নিহতদের মধ্যে ১৩ জন শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়সী শিশুর বয়স মাত্র দুই মাস। নিহতদের মধ্যে ৪৯ জন নারী রয়েছেন। যাদের দুজন গর্ভবতী ছিলেন।
ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলায় পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত ও আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। হামলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাতটি হাসপাতাল, ছয়টি জরুরি সেবাকেন্দ্র, চারটি ক্লিনিক এবং ৯টি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করার অভিযোগ তুলে তেহরানে ব্যাপক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।
প্রতিবেদনে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং দুটিই প্রতিহত করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর সতর্কতা প্রত্যাহার করে আইডিএফ।
এতে আরও জানানো হয়েছে, এক বার্তায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ইসরায়েলিদের বেরিয়ে আসা নিরাপদ বলে ঘোষণা করা হয়। এরপরই ইরান হামলা করেছে বলে দাবি করা হয়।
এর আগে, টানা ১২ দিনের ভয়াবহ সংঘাতের পর অবশেষে কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
যুদ্ধের ১২তম দিনে এসে ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি হলেও ‘বিপদ রয়ে গেছে’ বলে দেশবাসীকে সতর্ক করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডিফ্রিন টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যেকোনো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার জন্য সেনাবাহিনীর প্রধান সবাইকে উচ্চ স্তরের সতর্কতা এবং প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে, এই পর্যায়ে, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশাবলিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। নির্দেশনাবলি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। বিপদ রয়ে গেছে।’
এদিকে, মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি সম্মতি দিয়ে বিবৃতি জারি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তার কিছুক্ষণ পর ইসরায়েল ভূখণ্ডে মিসাইল হামলার বার্তা পাওয়া যায়। দাবি করা হয় মিসাইল ছুড়েছে ইরান। তেহরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে (আইডিএফ) নির্দেশ দিয়েছেন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কঠোর জবাব দিতে এবং তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইরানি সরকারঘনিষ্ঠ লক্ষ্যে তীব্র হামলা চালাতে।
সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news
* অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।