বিএনপি নেত্রী ও ব্রিটিশ নাগরিক জেবা আমিনা আহমেদকে ঘিরে বর্তমানে এক নজিরবিহীন স্ক্যান্ডাল ও আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগটি হলো—বিদেশে থাকাকালীন প্রথম স্বামীকে আইনত তালাক না দিয়েই ২০০৫ সালে বাংলাদেশে এসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিবাহে আবদ্ধ হওয়া। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী যা সম্পূর্ণ ‘হারাম’ এবং ব্যভিচারের শামিল। শুধু ধর্মীয় বিধানই নয়, দেশের প্রচলিত আইন ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি অনুযায়ী এটি ৪৯৪ ধারার অধীনে একটি গুরুতর অপরাধ। যেহেতু প্রথম বিবাহটি ব্রিটেনে আইনিভাবে নিবন্ধিত ছিল, তাই এর বিচ্ছেদও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু জেবা আমিনা সেই আইনি তোয়াক্কা না করেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ না ঘটানোয় মুসলিম শরীয়াহ আইনের চরম লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে এলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন বিএনপি নেত্রী জেবা আমিনা আহমেদ। এই সামাজিক ও ধর্মীয় চাপের মুখে অবশেষে দুই বছর পর ২০০৭ সালে প্রথম স্বামী নিয়াজ বিন করিমের সাথে তার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি আইনত ও ধর্মীয়ভাবে চরম নীতিহীনতার পরিচয় দিয়ে যুগপৎ দুই স্বামীর ঘর করেছেন। তবে কেবল এই অবৈধ বিবাহই নয়, লন্ডনে অবস্থানকালেও তিনি জড়িয়েছিলেন বহুমুখী অনৈতিক ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে। বিলেতের মাটিতে দেউলিয়া ঘোষিত এই নেত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক প্রতারণা ও ঋণখেলাপির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে বিএনপির এই নেত্রীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন নীতিহীন কর্মকাণ্ড ও চরম স্বার্থসংঘাতের জেরে বিএনপির এই নেত্রীর ঢাকার দ্বিতীয় সংসারটিও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। আবাসন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খানের সাথেও তার দাম্পত্য জীবনে চরম তিক্ততার সৃষ্টি হয়, যার পরিণতি ঘটে ২০১৭ সালের বিচ্ছেদের মাধ্যমে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অর্থলিপ্সা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসভঙ্গের মতো গুরুতর সব অভিযোগে এই সংসারটি ভেঙে যায়। এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর সব নথি ও দালিলিক প্রমাণ বর্তমানে প্রতিবেদকের হাতে এসেছে, যা এই রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত জীবনের নৈতিক স্খলন ও স্বার্থান্বেষী আচরণের এক ভয়াবহ চিত্র উন্মোচন করে। অনুসন্ধানের গভীরতর তথ্যে উন্মোচিত হয়েছে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার চিত্র। ব্রিটিশ বৈবাহিক আইন অনুযায়ী, নিয়াজ বিন করিম ও জেবা আমিনা আহমেদ ১৯৮৩ সালের ১৫ জুলাই পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন এবং নথিপত্র অনুযায়ী ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের সেই দাম্পত্য জীবন কাগজে-কলমে অটুট ছিল। অথচ চরম অনৈতিকতা ও আইনের তোয়াক্কা না করে, প্রথম স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ ছাড়াই ২০০৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসে তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ আইনত দুই স্বামীর স্ত্রী হিসেবে অবস্থান করা কেবল ধর্মীয় ও সামাজিক বিধানের চরম অবমাননাই নয়, বরং এটি একটি দণ্ডনীয় জালিয়াতি। উল্লেখ্য, এখানে তার একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। গভীর অনুসন্ধানে ব্রিটিশ সরকারের দাপ্তরিক ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জেবা আমিনা আহমেদ জন্মসূত্রে বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী। লন্ডনে অবস্থানকালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি ‘চিলড্রেন প্যারাডাইস (ইউকে)’ (কোম্পানি নংঃ ০৩৭৭২২৩৮) নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তবে অতি দ্রুতই সেই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নানাবিধ অনৈতিক ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল অংকের ঋণে নিমজ্জিত হয়ে পড়লে এবং ব্যবসায়িক সততা লঙ্ঘিত হওয়ায় ব্রিটিশ সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তার এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চিরতরে বন্ধ করে দেয়। জেবা আমিনার এই নজিরবিহীন আর্থিক জালিয়াতি ও নীতিহীন ব্যবসায়িক অপতৎপরতা এতটাই প্রকট ছিল যে, ২০০৫ সালে বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ তাকে নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিলেতের মাটিতে ঋণের পাহাড় আর প্রথম স্বামীর সঙ্গে চরম তিক্ততার জেরে সব হারিয়ে অনেকটা নিঃস্ব অবস্থায় বাংলাদেশে পাড়ি জমান জেবা আমিনা। দেশে ফিরেই তিনি চতুরতার আশ্রয় নিয়ে দেশের শীর্ষ আবাসন ব্যবসায়ী ও তৎকালীন কনকর্ডের পরিচালক মোকাররম হোসেন খানের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই সম্পর্কের নেপথ্যে থাকা ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র ফুটে ওঠে রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খানের জবানবন্দিতে। তিনি জানান, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ২০০৫ সালে তিনি জেবা আমিনাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় জেবা তার প্রথম স্বামী থেকে বিচ্ছেদের দাবি করলেও কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পরবর্তীকালে বেরিয়ে আসে এক বিস্ফোরক তথ্য—বিয়ের সময় নয়, বরং এর দুই বছর পর ২০০৭ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে মোকাররম হোসেন খান ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নংঃ ৩৪৬/১৭)। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, জেবা আমিনা দ্বিমুখী প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। একদিকে বাংলাদেশে তিনি ২০০৫ সাল থেকে মোকাররম হোসেনের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন, অন্যদিকে ২০০৭ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ দেখিয়ে লন্ডনের আদালতে সম্পদের ভাগ চেয়ে মামলা ঠুকে দেন। আইনের চোখে ধুলো দিয়ে এবং চরম নীতিহীনতার পরিচয় দিয়ে তিনি প্রথম স্বামীর বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিকানাও হাসিল করে নেন, যা তার সীমাহীন ধূর্ততা ও অর্থলিপ্সারই বহিঃপ্রকাশ। প্রথম স্বামীকে আইনত তালাক না দিয়ে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে কঠোর আইনি ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা মেট্রো বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর দায়রা জজের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, ‘বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মৌখিক দাবি বা অস্পষ্টতার সুযোগ নেই। যেহেতু আগের বিবাহটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিবন্ধিত (রেজিস্ট্রি) ছিল, তাই তার বিচ্ছেদও অবশ্যই আইনি রেজিস্ট্রির মাধ্যমেই সম্পন্ন হতে হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, প্রথম স্বামী বর্তমান থাকা অবস্থায় এবং বৈধ বিচ্ছেদ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা কেবল দেশের প্রচলিত আইনের চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী সম্পূর্ণ ‘হারাম’ এবং ব্যভিচারের শামিল। জেবা আমিনা আহমেদের এই কর্মকাণ্ডকে একটি গুরুতর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, আইনের চোখে এমন জালিয়াতি ও চারিত্রিক স্খলনের কোনো ক্ষমা নেই। বিচ্ছেদের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে মোকাররম হোসেন খান এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জেবা আমিনা যখন লন্ডন থেকে ফিরে তাকে বিয়ে করেন, তখন জেবা ছিল আকণ্ঠ দেনায় নিমজ্জিত—যা বিয়ের আগে সুকৌশলে গোপন রাখা হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই জেবার আসল রূপ প্রকাশ পেতে থাকে; মিথ্যা তথ্য ও সুনিপুণ প্রতারণার জালে জড়িয়ে তিনি মোকাররম হোসেনের মালিকানাধীন কোম্পানি থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেন, যা পরবর্তীকালে আর ফেরত দেননি। তার এই চরম অর্থলোভ ও উগ্র আচরণের প্রভাব পড়ে পারিবারিক জীবনেও। মোকাররম হোসেনের সন্তানদের সাথে অমানবিক আচরণ এবং তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার ক্রমাগত চেষ্টার ফলে দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছায়। এই অস্থির সময়ের মধ্যেই জেবা আমিনা বিএনপিতে যোগ দিয়ে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। শুধু তাই নয়, কৌশলে মোকাররম হোসেনের কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার নিজের নামে লিখে নিলেও তার বিপরীতে কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি, যার অকাট্য প্রমাণ কোম্পানির অডিট রিপোর্টে বিদ্যমান। প্রতারণার এখানেই শেষ নয়; বিচ্ছেদের পর তিনি উল্টো কোম্পানি কোর্টে মামলা ঠুকে দিয়ে এবং ‘স্ট্যাটাস কো’ (স্থিতাবস্থা) আদেশের সুযোগ নিয়ে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকার একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট অবৈধভাবে দখল করে আছেন। নিজের দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে তিনি মোকাররম হোসেনের স্বাক্ষর জালিয়াতি (ফটোপেস্ট) করে একটি ভুয়া চুক্তিপত্র আদালতে দাখিল করেন। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে পরবর্তীতে থানায় একটি জিআর মামলা (মামলা নম্বরঃ ৩০(৮)১৭) দায়ের করা হয়, যা এই নেত্রীর সীমাহীন ধূর্ততা ও জালিয়াতির এক জীবন্ত দলিল। মোকাররম হোসেন খান জেবা আমিনার বিরুদ্ধে এক লোমহর্ষক ও দুর্ধর্ষ হামলার অভিযোগ এনে বলেন, ‘আমি এক অত্যন্ত গুরুতর ও বর্বরোচিত ঘটনার দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ২০২৫ সালের ২৭ শে জুন, ঈদুল আজহার ছুটিতে আমি যখন সপরিবারে দেশের বাইরে ছিলাম, ঠিক সেই সুযোগে জেবা আমিনার প্রত্যক্ষ কমান্ডে হিজরাসহ ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও গুন্ডাবাহিনী আমার ভবনে তাণ্ডব চালায়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বারিধারার বাসভবনে প্রবেশ করে আমার মূল বাসভবন (অ্যাপার্টমেন্ট ২০১) এবং আমার সন্তান মাহিরা হোসেন খান ও মেরাজ হোসেন খানের পরিবারসহ বসবাসের স্থান (অ্যাপার্টমেন্ট ৪০১)-এ জোরপূর্বক হানা দেয়। তারা পুরো ভবন দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, যার সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। এবং তারা আলমারি ও লকার ভেঙে আমার বেশ কিছু দামি ঘড়ি, ল্যাপটপ, মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কার, ক্যাশ টাকা ও আরও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে আমি বিদেশ থেকে ফিরে এসে একটা সংবাদ সম্মেলন করি এবং বিভিন্ন পেপার-পত্রিকা বিষয়টি ফলাও করে ছাপাও হয় এবং বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এরিয়াতে যারা বসবাস করে এবং বারিধারা সোসাইটিও বিষয়টি অবগত এবং ওই সময় আমি দেশে না থাকায় তারা আমাকে নানাভাবে সাহায্যও করেছিল। তিনি আরও জানান, এই সহিংসতা জেবা আমিনার জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও ২০১৮ সালে তিনি একইভাবে অ্যাপার্টমেন্ট দুটি দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে গুলশান থানায় একটি মামলা (নং ১৩(১২)১৮) দায়ের করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই সশস্ত্র অনুপ্রবেশ ও হামলার ঘটনায় মোকাররম হোসেন খান কেবল থানায় সাধারণ ডায়েরিই করেননি, বরং ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি সুনির্দিষ্ট সিআর মামলাও (নং ৩৫১৬/২৫) দায়ের করেছেন, যার পুলিশি প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে। বিদেশের মাটিতে দেউলিয়া এবং দেশে দখলদারিত্বের এমন ভয়ানক মিশেল এই নেত্রীর উগ্র ও অপরাধপ্রবণ মানসিকতাকেই নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। মোকাররম হোসেন খান জানান, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সম্পূর্ণ ভবনে তার নামে কোনো অ্যাপার্টমেন্টের মালিকানা না থাকলেও তিনি গায়ের জোরে একটি ফ্ল্যাট দখল করে আছেন। মূলত, একটি ‘কোম্পানি স্যুট’-এর আইনি মারপ্যাঁচে হাইকোর্ট থেকে প্রাপ্ত স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশের আড়ালে জেবা আমিনা এই দখলদারিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। আইনি এই জটিলতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি প্রকৃত মালিকের অধিকার খর্ব করছেন। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকলেও, মালিকানা ছাড়াই ফ্ল্যাটটি আঁকড়ে রাখার এই প্রবণতা তার দখলদারী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি দাবি করেন। মোকাররম হোসেন খান বলেন, বিএনপি সর্বদা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে। তাই জেবা আমিনা আহমেদের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড, আইনি জালিয়াতি ও অপকর্মের আদ্যোপান্ত তুলে ধরে আমি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র প্রেরণ করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং ন্যায়ের স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই গুরুতর অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। জেবা আমিনার সীমাহীন লোভ ও অনৈতিকতার শিকার হতে হয়েছে তার নিজ পরিবারকেও। গুলশান ২ নম্বরের ১০৮ নম্বর রোডে অবস্থিত ১৭ নম্বর প্লটটি ছিল তার বাবার রেখে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি, যা কনকর্ড আতিয়া নামে পরিচিত। অভিযোগ উঠেছে যে, প্লটটি ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণের পর গত ১৫ বছর ধরে জেবা আমিনা ক্ষমতার দাপটে পুরো ভবনের মালিকানা এককভাবে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। শরীয়াহ এবং উত্তরাধিকার আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি তার আপন তিন বোন—লাবিবা আহমেদ, দিবা আহমেদ ও আরবা আহমেদ এবং তার প্রয়াত ভাইয়ের দুই নাবালক সন্তান হেশাম ও হাসানের প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া তাদের ন্যায্য ফ্ল্যাটগুলো অবৈধভাবে দখল করে রাখা শুধু নয়, বরং সেই ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দিয়ে প্রাপ্ত বিপুল অর্থ তিনি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে একাই ভোগ করে আসছেন। প্রতারণার এই জাল পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ওপরও বিস্তৃত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জেবা আমিনা একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দুইজন পৃথক ব্যক্তির কাছে সুকৌশলে বিক্রি করেছেন এবং উভয় ক্রেতার কাছ থেকেই বিক্রয়মূল্যের মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছেন। শুধু আর্থিক জালিয়াতিই নয়, মোকাররম হোসেন খান তার বিরুদ্ধে এক চরম অমানবিক ও হৃদয়বিদারক অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যার বাবা আমি। কিন্তু জেবা আমিনা এতটাই নিষ্ঠুর যে, আমার সেই অসুস্থ মেয়েটির সঙ্গে আমাকে এবং ভাইবোনদের দেখাও করতে দেয় না।’ একজন গর্ভধারিণী মায়ের এমন প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ এবং আপনজনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার ঘটনাটি সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক চরম দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযুক্ত জেবা আমিনা খান ওরফে জেবা আলগাজীর জীবনকাহিনি যেন এক সুনিপুণ জালিয়াতি ও নৈতিক স্খলনের উপাখ্যান। অর্থের প্রতি তার মোহ তাকে এক নীতিহীন প্রতারকে পরিণত করেছে। সাহায্যের নামে মানুষের বিশ্বাস পুঁজি করে তিনি যে ঋণের পাহাড় গড়েন, যা শোধ করার কোনো সদিচ্ছা তার নেই। বরং অন্যের টাকায় বিলাসি জীবনযাপন করাই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তার জীবনের পরতে পরতে মিশে আছে প্রতারণার ছাপ। তার এ ধরনের ভয়াবহ জালিয়াতি ও বাড়ি দখলের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হওয়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। একজন রাজনৈতিক নেত্রীর এমন দ্বিমুখী জীবন ও নীতিহীনতা এখন জনমুখে আলোচনার প্রধান খোরাক। উল্লিখিত একাধিক অভিযোগের বিষয়ে মহিলা দলের সহ-সভাপতি জেবা আমিনা আহমেদ ওরফে জেবা আমিনা আলগাজী বলেন, ‘প্রথম স্বামীর সঙ্গে মৌখিক তালাকের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ইসলামী শরীআ অনুসারে কোনো নারীর তিন ইদ্দ্যত পার হলে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারেন- ইসলাম তাই বলে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে মৌখিকভাবে তালাক হলেও পরবর্তীতে ২০০৭ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে লন্ডনে আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স হয়। এরপর সম্পদের অংশ পেতে মামলা করি। সেটিও নিষ্পন্ন হয়েছে।’ লন্ডনে কোম্পানি দেউলিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে জেবা আমিনা আহমেদ বলেন, ‘দেউলিয়া নয়; লিকুয়েডেশন করে ব্রিটিশ সরকার’। আর অন্যান্য অভিযোগকে তিনি মিথ্যা দাবি করেন।
নথিপত্র অনুযায়ী, জেবা আমিনা আহমেদ ১৯৮৩ সালের ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে নিয়াজ বিন করিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
অভিযোগে বলা হয়, তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল ছিল।
অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, এর মধ্যেই ২০০৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় প্রথম বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেবা আমিনা আহমেদ বলেন, প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার মৌখিক তালাক হয়েছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী,
“ইসলামী শরীয়াহ অনুসারে মৌখিক তালাকের পর ইদ্দত পার হলে দ্বিতীয় বিয়ে করা যায়। পরে ২০০৭ সালে লন্ডনে আদালতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ডিভোর্স সম্পন্ন হয়।”
জেবা আমিনা আহমেদের দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ী ও রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খান।
তার অভিযোগ, বিয়ের সময় জেবা আমিনা প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের দাবি করলেও কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
মোকাররম হোসেন খান ঢাকার সিএমএম আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
তার দাবি, পরে জানা যায় যে বিয়ের সময় প্রথম স্বামীর সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ হয়নি।
মোকাররম হোসেন খানের অভিযোগ অনুযায়ী, জেবা আমিনা আহমেদ তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়েছেন এবং কিছু শেয়ার নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন।
এছাড়া বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট দখল নিয়ে তাদের মধ্যে আইনি বিরোধ চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
মোকাররম হোসেনের অভিযোগ, ওই ফ্ল্যাটের মালিকানা না থাকলেও আদালতের একটি ‘স্থিতাবস্থা’ আদেশের সুযোগ নিয়ে জেবা আমিনা সেখানে অবস্থান করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এ সংক্রান্ত মামলাগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
মোকাররম হোসেন খান আরও অভিযোগ করেছেন, ২০২৫ সালের ২৭ জুন ঈদুল আজহার ছুটির সময় তিনি দেশের বাইরে থাকাকালে তার বারিধারার বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে।
তার দাবি, ১০-১৫ জনের একটি দল ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
তিনি এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং আদালতে একটি মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
জেবা আমিনা আহমেদের বিরুদ্ধে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান এলাকার একটি পৈত্রিক সম্পত্তিতে তার বোন ও ভাতিজাদের অংশ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তা এককভাবে ব্যবহার করছেন।
তবে এসব অভিযোগকেও তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে জেবা আমিনা আহমেদ তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে ‘চিলড্রেন প্যারাডাইস (ইউকে)’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যা পরে বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে তিনি বলেন,
“দেউলিয়া হয়নি, বরং কোম্পানিটি লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বন্ধ হয়েছে।”
জেবা আমিনা আহমেদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
অন্যদিকে জেবা আমিনা আহমেদ দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অধিকাংশ অভিযোগই ভিত্তিহীন এবং আদালতেই এর সত্যতা প্রমাণ হবে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদীর পিআরএল বা অবসর-উত্তর ছুটি ঘনিয়ে আসার আগেই সংস্থাটির শীর্ষ পদ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা। গোপালগঞ্জে টানা পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন বিতর্কের জেরে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধান প্রকৌশলীর পদটি দখলে নিতে একাধিক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে ইইডির অভ্যন্তরে এখন পাল্টাপাল্টি প্রচার, কুৎসা রটনা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বল করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার এই লড়াইয়ে প্রশাসনিক পরিবেশও ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। এই দৌড়ঝাঁপে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন রংপুর সার্কেলের চলতি দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জাহেদুল করীম। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রধান প্রকৌশলীর পদকে কেন্দ্র করে চলমান অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে সংবাদ বা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরিতে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছেন। এমনকি একজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করানোর নেপথ্যেও ওই সিন্ডিকেটের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। আওয়ামী আমলের সংগঠনে নেতৃত্বের ইতিহাস ইইডির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মো. জাহেদুল করীমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তাঁর অতীত সাংগঠনিক পরিচয় ঘিরেও। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী প্রকৌশলী সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ’-এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই গঠিত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে তিনি কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। সে সময় তিনি ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট গঠিত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শাখার সর্বশেষ কমিটিতে তিনি সদস্যসচিবের দায়িত্ব পান। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কীভাবে আগের প্রভাববলয়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও পদায়নের ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব ধরে রেখেছেন? পছন্দের ঠিকাদার ও বিল পরিশোধ নিয়ে অভিযোগ মো. জাহেদুল করীমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাজ শেষ হওয়ার আগেই পুরো বিল বা অগ্রিম বিল পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি ইইডির প্রধান কার্যালয়ের এক হিসাব সহকারীর মালিকানাধীন বলে অভিযোগ ওঠা ‘সাঈদ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়াকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর মালিকানাধীন বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের কাজের সম্পর্ক থাকলে সেখানে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি, মালিকানা কাঠামো, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং বিল পরিশোধের বৈধতা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাঈদ এন্টারপ্রাইজ ১১টি বিলে মোট ২ কোটি ৮০ লাখ ৫৫ হাজার ৭৬০ টাকা উত্তোলন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই অর্থের একটি বড় অংশ অনৈতিকভাবে মো. জাহেদুল করীমসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগ হয়েছে। পদ না থাকলেও পদোন্নতি ও পদায়নের প্রশ্ন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এলেও ইইডির পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ে বিতর্ক থামেনি। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ইইডির পাঁচজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই পদোন্নতির সময় অনুমোদিত পদ না থাকা সত্ত্বেও মো. জাহেদুল করীম কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতির তালিকায় চতুর্থ স্থানে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করান এবং পরে রংপুর সার্কেলে পদায়ন বাগিয়ে নেন। ইইডিতে মোট ১২টি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এর মধ্যে প্রধান কার্যালয় ও নয়টি সার্কেলের অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে পদোন্নতি ও পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও এখন প্রশ্নের মুখে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রশাসনিক কাঠামো, শূন্যপদ এবং জ্যেষ্ঠতার নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—সে বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। শীর্ষ পদকে কেন্দ্র করে নতুন অস্থিরতা এখন প্রধান প্রকৌশলীর পদ নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় পুরোনো অভিযোগগুলো আবার সামনে আসছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে তথ্য ছড়াচ্ছে, আবার প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রশাসনিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। ইইডির একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জ্যেষ্ঠতা, প্রশাসনিক যোগ্যতা এবং অতীত কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা না গেলে এই অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তাঁদের মতে, পদোন্নতি ও পদায়নসংক্রান্ত বিতর্ক, ঠিকাদারি কাজের অভিযোগ, বিল পরিশোধের অনিয়ম এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব—সবগুলো বিষয়ই স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থার শীর্ষ পদ যদি কেবল অভ্যন্তরীণ প্রভাব, লবিং ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের লড়াইয়ে পরিণত হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়তে পারে পুরো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির দুটি বিদেশি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান— অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউজ মালয়েশিয়া এবং অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউজ সিঙ্গাপুর—এ দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে সংঘটিত আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তহবিল ব্যবহারে গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ উঠে এসেছে একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। তবে প্রতিবেদনে একাধিক সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), পরিচালক ও ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য উঠে এলেও তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির জবাবদিহি ও সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাত বছরের নিরীক্ষায় যা উঠে এসেছে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা হয়েছে। পর্যালোচনায় তহবিল তছরুপ, প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, বিধি লঙ্ঘন, অনুমোদনবিহীন ব্যয়, বোর্ড ভাতা গ্রহণ, তথাকথিত "পকেট ব্যাংকিং", ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের একাধিক অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিরীক্ষকদের ভাষায়, এসব কর্মকাণ্ড ব্যাংকিং নীতিমালা ও আর্থিক সুশাসনের পরিপন্থী এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়েও পড়তে পারে। মালয়েশিয়া ইউনিটে কী ধরনের অনিয়ম? প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউজ এসডিএন. বিএইচডি. মালয়েশিয়ার সাবেক সিইও সুলতান আহমেদ নিয়োগের শর্ত ভঙ্গ করে নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিবারকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যান। এরপর তিনি প্রতিষ্ঠানের অর্থ থেকে— চিকিৎসা ভাতা গ্রহণ, সন্তানদের শিক্ষা ব্যয়, ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি ও টোল বিল, যথাযথ কাগজপত্র ছাড়া ভ্রমণ ব্যয়, দোকান ভাড়ার অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ, করেছেন বলে নিরীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বোর্ড সভার উপস্থিতি ভাতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যয়েও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু বোর্ড সভার ভাতা বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত উত্তোলনের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। সাতটি আপত্তিতেই কোটি টাকার অনিয়ম মালয়েশিয়া ইউনিটের নিরীক্ষায় মাত্র সাতটি আপত্তির মধ্যেই প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ১৬৮ রিঙ্গিত সমপরিমাণ আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সুলতান আহমেদের বিরুদ্ধেই প্রায় ৫২ হাজার ৯৪৩ রিঙ্গিত অনিয়মের দায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া— খালেদ মোরশেদ রিজভীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যয় ও বোর্ড ভাতা মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ৫৮৪ রিঙ্গিত অনিয়ম, লুৎফর রহমানর বিরুদ্ধে ৬ হাজার রিঙ্গিত, ওয়ালী উল্লাহর বিরুদ্ধে ২ হাজার রিঙ্গিত অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। সিঙ্গাপুর ইউনিটে আরও গুরুতর অভিযোগ অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউজ সিঙ্গাপুরের নিরীক্ষায় আরও বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ডজনখানেক গুরুতর আপত্তির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ৪০৪ সিঙ্গাপুর ডলার সমপরিমাণ অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আদায় করা গেছে প্রায় ৪৭ হাজার ডলার। বাকি অর্থ এখনও অনাদায়ী রয়েছে। প্রবাসীদের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ প্রতিবেদনে সাবেক সিইও আবু সুজা মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। নিরীক্ষায় বলা হয়েছে— প্রবাসীদের জমাকৃত অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার, হুন্ডি চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে লেনদেন, কভার ফান্ড সময়মতো ফেরত না দিয়ে ব্যাংককে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলা, দেশে ফেরার সময় নগদ অর্থের হিসাব বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়া। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ৬৩ হাজার ৭২০ সিঙ্গাপুর ডলারেরও বেশি অনিয়মের দায় পাওয়া গেছে। নিরীক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, ব্যাংকের অর্থ ব্যয়ে তাকে পুনরায় সিঙ্গাপুর পাঠানো হলেও তিনি অর্থের ঘাটতির ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। দুর্নীতি আড়ালের অভিযোগ সাবেক সিইও মীর বায়েজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে প্রায় ১৬ হাজার ৫৮৫ সিঙ্গাপুর ডলার অনিয়মের দায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি পূর্ববর্তী প্রশাসনের অনিয়ম গোপন, প্রকৃত আয় আড়াল, অনুমোদনবিহীন ব্যয় এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ সাবেক ব্যবস্থাপক মুনছুর আলীর বিরুদ্ধে বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ২১ হাজার ৬৯৯ সিঙ্গাপুর ডলার অতিরিক্ত গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাবেক সিইও হুমায়ুন কবির নীতিমালা অনুসরণ না করে পরিচালক হিসেবে বোর্ড সভায় অংশ নিয়ে ভাতা গ্রহণ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। অর্থ ফেরত দিয়েছেন কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিরীক্ষা প্রতিবেদনের আপত্তি ওঠার পর অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ ফেরত দিয়েছেন। তবে পুরো অর্থ এখনও উদ্ধার হয়নি। নিরীক্ষকদের সুপারিশ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে সুপারিশ করা হয়েছে— দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, অনাদায়ী অর্থ দ্রুত আদায়, প্রয়োজন হলে ফৌজদারি তদন্ত, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী অনুসন্ধান, সম্পদ জব্দের উদ্যোগ, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যবস্থা ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন কঠিন হবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কী বলছে? এ বিষয়ে জানতে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ারুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, "বিষয়টি আমরা খোঁজখবর রাখছি। কেউ অপরাধী সাব্যস্ত হলে অবশ্যই তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।" নিরীক্ষা প্রতিবেদনে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠে এলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপের তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরীক্ষা প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে জবাবদিহি কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) অধিনে স্বৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের দোসর প্রকল্প পরিচালক মুজিবুর রহমানের বেপরোয়া ঘুষ দুনীতি কারণে প্রকল্পের আওতায় সকল কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু মাত্র পিডির আর্থিক অনিয়ম দুনীতি কারণে। সুত্রে আরও যানা যায়, লীগ সরকারের আমলে দাপট দেখিয়ে সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এর ছত্র ছায়ায় প্রকল্প পরিচালক পদটি বাগীয়ে নেন, মহা ধুত্যবাজ এই কর্মকর্তা। প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব পেয়ে গড়ে তুলেছিলেন সু বিশাল ঠীকাদার সিন্ডিকেট বাহীনি, সেই সিন্ডিকেট বাহীনি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে, গোপন দর প্রদান করেন ঠিকাদার দের কাজ পাইয়ে দিতেন তিনি। বিনিময়ে উক্ত কার্যাদেশ বিপরীতে অগ্রীম ১০% হারে কমিশন বানিজ্য চালিয়ে গেছেন পিডি মুজিবর। মিস্টার ১০% নামে পরিচিত বিএডিসি র” সাধারণ ঠিকাদার দের নিকট পিডি মুজিবের নাম। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন নির্মাণ কাজের দরপত্রের মাধ্যমে ঘুপচি টেন্ডারের কারসাজি করে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে গেছেন পিডি মুজিবর রহমান খান। অনেক জায়গায় নাম মাত্র কাজ করে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করছেন বলে একাধিক সুত্রে যানা যায়। সুত্রে আরও জানা যায়, বিএডিসি’র বিদ্যমান সার গুদামসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ,পূর্নবাসন এবং নতুন গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প (২য় পর্যায়) বিএডিসি’র “বিদ্যমান সার গুদামসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন এবং নতুন গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ” প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মো. মজিবর রহমান খানের বেপরোয়া দুনীতি চালিয়ে গেছেন দেদারসে। রাত কে দিন আর দিন কে রাত বানানোই ছিল তাঁর কাজ। নিজের আখের গুছিয়ে লাগামহীন দুনীতি মাধ্যমে প্রকল্পের থেকে । প্রকল্পের বিবরণ ও তথ্য: অনুযায়ী উক্ত প্রকল্পেটি শুরু হয়েছিল জুলাই ২০১৯ থেকে জুন ২০২৬ সালে শেষে হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের পিডি মুজিবরের অদক্ষতা কারণে পুরোপুরি ১০০% শেষ হয়নি আজ-ও পযন্ত বলে একাধিক কর্মকর্তারা জানান। প্রকল্পের মোট বরাদ্ধ: প্রায় ৩৫০.৮৮ কোটি টাকা বরাদ্ধ থাকলেও সিংহ ভাগ টাকা পিডির পকেটে গেছেন অতি নিম্নমানের সংস্কার মেরামত কাজ না করে,যা সরেজমিনে তদন্ত করলে থলের বিরাল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন বিএডিসির সাধারণ কর্মকর্তারা। সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল – সার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ কার্যক্রম জোরদারকরণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষির সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন। গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে বিএডিসি’র সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের নন-নাইট্রোজেনাস সার সংরক্ষণ ক্ষমতা বর্তমান পর্যায়ের চেয়ে ৫০% বৃদ্ধির মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ। সুষ্ঠুভাবে ও সময়মত প্রান্তিক কৃষকের দোর গোড়ায় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং গুদাম, অফিস রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রকল্পের আওতায় সকল উন্নয়ন মুলক কার্যক্রম দৃশ্যমান না হলেও পিডি মুজিবের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কারণে ডুবতে বসেছে প্রকল্পের উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড। মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর প্রকল্প পরিচালক মো. মজিবর রহমান খানের বিরুদ্ধে বেপরোয়া হয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এর ছোট ছেলের মাধ্যমে সেই সকল অভিযোগ আজও পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। দুনীতির মাধ্যমে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকলেও বিএডিসির কতৃপক্ষের নিরবতা ও অদৃশ্য শক্তি কারণে এখনো বহাল তরিয়াতে আছেন তিনি। রাতা রাতি ভোলপাল্টে বর্তমানে বিএনপি পন্থাী দাবি করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেদারসে বিএডিসিতে। বিএডিসির সারা দেশে সার ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ এবং কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যমান গুদাম সংস্কার ও নতুন গুদাম নির্মাণের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও পিডির আর্থিক দুনীতির কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রকল্পের আওতায় সকল উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড। প্রকল্পের আওতায় যেসকল স্হানে নতুন গুদাম নির্মাণ এবং পুরোনো গুদাম সংস্কারের কাজ, যে সকল জেলায় সম্পন্ন হয়েছে রয়েছে। নির্মাণ সংস্কারের কাজে ব্যাপক কারচুপির হয়েছে বলে সুত্রে যানা গেছে। বিএডিসির সার গুদাম নির্মাণ ও সংস্কার কাজ যেসকল জেলায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জেলা হলো:রংপুর: রংপুরের আলম নগরে নতুন গুদাম নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে সেটিও ডিপিপির বাইরে হয়েছে। দিনাজপুর: জেলার বিরামপুর উপজেলায় ৭২০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার সার গুদাম ও অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে অতি নিম্নমানের। ঠাকুরগাঁও: এখানে আধুনিক সার গুদাম নির্মাণ ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।সিরাজগঞ্জ: রায়গঞ্জে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক সার গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে দরপত্রে চাহিদা মাফিক হয়নী সেখানেও দুনীতির আশ্রয় নেয়য়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা: বিএডিসি প্রাঙ্গণে আড়াই হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার নতুন গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে সেটা ও একইভাবে অতি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে নিজের আখের গুছিয়ে লাগামহীন দুনীতি মাধ্যমে প্রকল্পের থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ: এই দুই জেলায় সার মজুতের জন্য নতুন দুটি গুদাম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মানিকগঞ্জ: বৃহত্তর ঢাকা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নানা অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে? সকল জায়গাতে দুনীতির আশ্রয় নেয় হয়েছে। বিএডিসি ঐ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশকে ২১টি অঞ্চলে বিভক্ত করে সার গুদাম রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন গুদাম নির্মাণের আর্থিক দুনীতি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। উল্লেখীত যেসকল স্হানে নির্মাণ সংস্কার মেরামত করা হয়েছে পিডি তাঁর মনোনীত ঠিকাদার দের গোপন দর প্রদান করে। সেই সকল ঠিকাদার দের মাধ্যমে কমিশন বানিজ্য করে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ বলে জানান একাধিক কর্মকর্তারা। এই ভাবে প্রকল্প থেকে লুটপাটের মহোৎসব চালিয়েছেন মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর পিডি মুজিবর রহমান খান।