Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

বিয়ে ও সম্পত্তি বিতর্ক

বিএনপি নেত্রী জেবা আমিনার বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
জেবা আমিনা আহমেদ
জেবা আমিনা আহমেদ

বিএনপি নেত্রী ও ব্রিটিশ নাগরিক জেবা আমিনা আহমেদকে ঘিরে বর্তমানে এক নজিরবিহীন স্ক্যান্ডাল ও আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগটি হলো—বিদেশে থাকাকালীন প্রথম স্বামীকে আইনত তালাক না দিয়েই ২০০৫ সালে বাংলাদেশে এসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিবাহে আবদ্ধ হওয়া। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী যা সম্পূর্ণ ‘হারাম’ এবং ব্যভিচারের শামিল। শুধু ধর্মীয় বিধানই নয়, দেশের প্রচলিত আইন ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি অনুযায়ী এটি ৪৯৪ ধারার অধীনে একটি গুরুতর অপরাধ। যেহেতু প্রথম বিবাহটি ব্রিটেনে আইনিভাবে নিবন্ধিত ছিল, তাই এর বিচ্ছেদও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু জেবা আমিনা সেই আইনি তোয়াক্কা না করেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ না ঘটানোয় মুসলিম শরীয়াহ আইনের চরম লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে এলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন বিএনপি নেত্রী জেবা আমিনা আহমেদ। এই সামাজিক ও ধর্মীয় চাপের মুখে অবশেষে দুই বছর পর ২০০৭ সালে প্রথম স্বামী নিয়াজ বিন করিমের সাথে তার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি আইনত ও ধর্মীয়ভাবে চরম নীতিহীনতার পরিচয় দিয়ে যুগপৎ দুই স্বামীর ঘর করেছেন। তবে কেবল এই অবৈধ বিবাহই নয়, লন্ডনে অবস্থানকালেও তিনি জড়িয়েছিলেন বহুমুখী অনৈতিক ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে। বিলেতের মাটিতে দেউলিয়া ঘোষিত এই নেত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক প্রতারণা ও ঋণখেলাপির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে বিএনপির এই নেত্রীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন নীতিহীন কর্মকাণ্ড ও চরম স্বার্থসংঘাতের জেরে বিএনপির এই নেত্রীর ঢাকার দ্বিতীয় সংসারটিও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। আবাসন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খানের সাথেও তার দাম্পত্য জীবনে চরম তিক্ততার সৃষ্টি হয়, যার পরিণতি ঘটে ২০১৭ সালের বিচ্ছেদের মাধ্যমে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অর্থলিপ্সা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসভঙ্গের মতো গুরুতর সব অভিযোগে এই সংসারটি ভেঙে যায়। এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর সব নথি ও দালিলিক প্রমাণ বর্তমানে প্রতিবেদকের হাতে এসেছে, যা এই রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত জীবনের নৈতিক স্খলন ও স্বার্থান্বেষী আচরণের এক ভয়াবহ চিত্র উন্মোচন করে। অনুসন্ধানের গভীরতর তথ্যে উন্মোচিত হয়েছে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার চিত্র। ব্রিটিশ বৈবাহিক আইন অনুযায়ী, নিয়াজ বিন করিম ও জেবা আমিনা আহমেদ ১৯৮৩ সালের ১৫ জুলাই পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন এবং নথিপত্র অনুযায়ী ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের সেই দাম্পত্য জীবন কাগজে-কলমে অটুট ছিল। অথচ চরম অনৈতিকতা ও আইনের তোয়াক্কা না করে, প্রথম স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ ছাড়াই ২০০৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসে তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ আইনত দুই স্বামীর স্ত্রী হিসেবে অবস্থান করা কেবল ধর্মীয় ও সামাজিক বিধানের চরম অবমাননাই নয়, বরং এটি একটি দণ্ডনীয় জালিয়াতি। উল্লেখ্য, এখানে তার একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। গভীর অনুসন্ধানে ব্রিটিশ সরকারের দাপ্তরিক ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জেবা আমিনা আহমেদ জন্মসূত্রে বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী। লন্ডনে অবস্থানকালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি ‘চিলড্রেন প্যারাডাইস (ইউকে)’ (কোম্পানি নংঃ ০৩৭৭২২৩৮) নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তবে অতি দ্রুতই সেই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নানাবিধ অনৈতিক ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল অংকের ঋণে নিমজ্জিত হয়ে পড়লে এবং ব্যবসায়িক সততা লঙ্ঘিত হওয়ায় ব্রিটিশ সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তার এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চিরতরে বন্ধ করে দেয়। জেবা আমিনার এই নজিরবিহীন আর্থিক জালিয়াতি ও নীতিহীন ব্যবসায়িক অপতৎপরতা এতটাই প্রকট ছিল যে, ২০০৫ সালে বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ তাকে নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিলেতের মাটিতে ঋণের পাহাড় আর প্রথম স্বামীর সঙ্গে চরম তিক্ততার জেরে সব হারিয়ে অনেকটা নিঃস্ব অবস্থায় বাংলাদেশে পাড়ি জমান জেবা আমিনা। দেশে ফিরেই তিনি চতুরতার আশ্রয় নিয়ে দেশের শীর্ষ আবাসন ব্যবসায়ী ও তৎকালীন কনকর্ডের পরিচালক মোকাররম হোসেন খানের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই সম্পর্কের নেপথ্যে থাকা ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র ফুটে ওঠে রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খানের জবানবন্দিতে। তিনি জানান, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ২০০৫ সালে তিনি জেবা আমিনাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় জেবা তার প্রথম স্বামী থেকে বিচ্ছেদের দাবি করলেও কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পরবর্তীকালে বেরিয়ে আসে এক বিস্ফোরক তথ্য—বিয়ের সময় নয়, বরং এর দুই বছর পর ২০০৭ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে মোকাররম হোসেন খান ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নংঃ ৩৪৬/১৭)। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, জেবা আমিনা দ্বিমুখী প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। একদিকে বাংলাদেশে তিনি ২০০৫ সাল থেকে মোকাররম হোসেনের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন, অন্যদিকে ২০০৭ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ দেখিয়ে লন্ডনের আদালতে সম্পদের ভাগ চেয়ে মামলা ঠুকে দেন। আইনের চোখে ধুলো দিয়ে এবং চরম নীতিহীনতার পরিচয় দিয়ে তিনি প্রথম স্বামীর বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিকানাও হাসিল করে নেন, যা তার সীমাহীন ধূর্ততা ও অর্থলিপ্সারই বহিঃপ্রকাশ। প্রথম স্বামীকে আইনত তালাক না দিয়ে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে কঠোর আইনি ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা মেট্রো বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর দায়রা জজের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, ‘বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মৌখিক দাবি বা অস্পষ্টতার সুযোগ নেই। যেহেতু আগের বিবাহটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিবন্ধিত (রেজিস্ট্রি) ছিল, তাই তার বিচ্ছেদও অবশ্যই আইনি রেজিস্ট্রির মাধ্যমেই সম্পন্ন হতে হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, প্রথম স্বামী বর্তমান থাকা অবস্থায় এবং বৈধ বিচ্ছেদ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা কেবল দেশের প্রচলিত আইনের চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী সম্পূর্ণ ‘হারাম’ এবং ব্যভিচারের শামিল। জেবা আমিনা আহমেদের এই কর্মকাণ্ডকে একটি গুরুতর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, আইনের চোখে এমন জালিয়াতি ও চারিত্রিক স্খলনের কোনো ক্ষমা নেই। বিচ্ছেদের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে মোকাররম হোসেন খান এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জেবা আমিনা যখন লন্ডন থেকে ফিরে তাকে বিয়ে করেন, তখন জেবা ছিল আকণ্ঠ দেনায় নিমজ্জিত—যা বিয়ের আগে সুকৌশলে গোপন রাখা হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই জেবার আসল রূপ প্রকাশ পেতে থাকে; মিথ্যা তথ্য ও সুনিপুণ প্রতারণার জালে জড়িয়ে তিনি মোকাররম হোসেনের মালিকানাধীন কোম্পানি থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেন, যা পরবর্তীকালে আর ফেরত দেননি। তার এই চরম অর্থলোভ ও উগ্র আচরণের প্রভাব পড়ে পারিবারিক জীবনেও। মোকাররম হোসেনের সন্তানদের সাথে অমানবিক আচরণ এবং তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার ক্রমাগত চেষ্টার ফলে দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছায়। এই অস্থির সময়ের মধ্যেই জেবা আমিনা বিএনপিতে যোগ দিয়ে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। শুধু তাই নয়, কৌশলে মোকাররম হোসেনের কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার নিজের নামে লিখে নিলেও তার বিপরীতে কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি, যার অকাট্য প্রমাণ কোম্পানির অডিট রিপোর্টে বিদ্যমান। প্রতারণার এখানেই শেষ নয়; বিচ্ছেদের পর তিনি উল্টো কোম্পানি কোর্টে মামলা ঠুকে দিয়ে এবং ‘স্ট্যাটাস কো’ (স্থিতাবস্থা) আদেশের সুযোগ নিয়ে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকার একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট অবৈধভাবে দখল করে আছেন। নিজের দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে তিনি মোকাররম হোসেনের স্বাক্ষর জালিয়াতি (ফটোপেস্ট) করে একটি ভুয়া চুক্তিপত্র আদালতে দাখিল করেন। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে পরবর্তীতে থানায় একটি জিআর মামলা (মামলা নম্বরঃ ৩০(৮)১৭) দায়ের করা হয়, যা এই নেত্রীর সীমাহীন ধূর্ততা ও জালিয়াতির এক জীবন্ত দলিল। মোকাররম হোসেন খান জেবা আমিনার বিরুদ্ধে এক লোমহর্ষক ও দুর্ধর্ষ হামলার অভিযোগ এনে বলেন, ‘আমি এক অত্যন্ত গুরুতর ও বর্বরোচিত ঘটনার দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ২০২৫ সালের ২৭ শে জুন, ঈদুল আজহার ছুটিতে আমি যখন সপরিবারে দেশের বাইরে ছিলাম, ঠিক সেই সুযোগে জেবা আমিনার প্রত্যক্ষ কমান্ডে হিজরাসহ ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও গুন্ডাবাহিনী আমার ভবনে তাণ্ডব চালায়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বারিধারার বাসভবনে প্রবেশ করে আমার মূল বাসভবন (অ্যাপার্টমেন্ট ২০১) এবং আমার সন্তান মাহিরা হোসেন খান ও মেরাজ হোসেন খানের পরিবারসহ বসবাসের স্থান (অ্যাপার্টমেন্ট ৪০১)-এ জোরপূর্বক হানা দেয়। তারা পুরো ভবন দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, যার সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। এবং তারা আলমারি ও লকার ভেঙে আমার বেশ কিছু দামি ঘড়ি, ল্যাপটপ, মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কার, ক্যাশ টাকা ও আরও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে আমি বিদেশ থেকে ফিরে এসে একটা সংবাদ সম্মেলন করি এবং বিভিন্ন পেপার-পত্রিকা বিষয়টি ফলাও করে ছাপাও হয় এবং বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এরিয়াতে যারা বসবাস করে এবং বারিধারা সোসাইটিও বিষয়টি অবগত এবং ওই সময় আমি দেশে না থাকায় তারা আমাকে নানাভাবে সাহায্যও করেছিল। তিনি আরও জানান, এই সহিংসতা জেবা আমিনার জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও ২০১৮ সালে তিনি একইভাবে অ্যাপার্টমেন্ট দুটি দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে গুলশান থানায় একটি মামলা (নং ১৩(১২)১৮) দায়ের করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই সশস্ত্র অনুপ্রবেশ ও হামলার ঘটনায় মোকাররম হোসেন খান কেবল থানায় সাধারণ ডায়েরিই করেননি, বরং ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি সুনির্দিষ্ট সিআর মামলাও (নং ৩৫১৬/২৫) দায়ের করেছেন, যার পুলিশি প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে। বিদেশের মাটিতে দেউলিয়া এবং দেশে দখলদারিত্বের এমন ভয়ানক মিশেল এই নেত্রীর উগ্র ও অপরাধপ্রবণ মানসিকতাকেই নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। মোকাররম হোসেন খান জানান, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সম্পূর্ণ ভবনে তার নামে কোনো অ্যাপার্টমেন্টের মালিকানা না থাকলেও তিনি গায়ের জোরে একটি ফ্ল্যাট দখল করে আছেন। মূলত, একটি ‘কোম্পানি স্যুট’-এর আইনি মারপ্যাঁচে হাইকোর্ট থেকে প্রাপ্ত স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশের আড়ালে জেবা আমিনা এই দখলদারিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। আইনি এই জটিলতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি প্রকৃত মালিকের অধিকার খর্ব করছেন। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকলেও, মালিকানা ছাড়াই ফ্ল্যাটটি আঁকড়ে রাখার এই প্রবণতা তার দখলদারী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি দাবি করেন। মোকাররম হোসেন খান বলেন, বিএনপি সর্বদা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে। তাই জেবা আমিনা আহমেদের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড, আইনি জালিয়াতি ও অপকর্মের আদ্যোপান্ত তুলে ধরে আমি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র প্রেরণ করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং ন্যায়ের স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই গুরুতর অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। জেবা আমিনার সীমাহীন লোভ ও অনৈতিকতার শিকার হতে হয়েছে তার নিজ পরিবারকেও। গুলশান ২ নম্বরের ১০৮ নম্বর রোডে অবস্থিত ১৭ নম্বর প্লটটি ছিল তার বাবার রেখে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি, যা কনকর্ড আতিয়া নামে পরিচিত। অভিযোগ উঠেছে যে, প্লটটি ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণের পর গত ১৫ বছর ধরে জেবা আমিনা ক্ষমতার দাপটে পুরো ভবনের মালিকানা এককভাবে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। শরীয়াহ এবং উত্তরাধিকার আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি তার আপন তিন বোন—লাবিবা আহমেদ, দিবা আহমেদ ও আরবা আহমেদ এবং তার প্রয়াত ভাইয়ের দুই নাবালক সন্তান হেশাম ও হাসানের প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া তাদের ন্যায্য ফ্ল্যাটগুলো অবৈধভাবে দখল করে রাখা শুধু নয়, বরং সেই ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দিয়ে প্রাপ্ত বিপুল অর্থ তিনি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে একাই ভোগ করে আসছেন। প্রতারণার এই জাল পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ওপরও বিস্তৃত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জেবা আমিনা একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দুইজন পৃথক ব্যক্তির কাছে সুকৌশলে বিক্রি করেছেন এবং উভয় ক্রেতার কাছ থেকেই বিক্রয়মূল্যের মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছেন। শুধু আর্থিক জালিয়াতিই নয়, মোকাররম হোসেন খান তার বিরুদ্ধে এক চরম অমানবিক ও হৃদয়বিদারক অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যার বাবা আমি। কিন্তু জেবা আমিনা এতটাই নিষ্ঠুর যে, আমার সেই অসুস্থ মেয়েটির সঙ্গে আমাকে এবং ভাইবোনদের দেখাও করতে দেয় না।’ একজন গর্ভধারিণী মায়ের এমন প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ এবং আপনজনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার ঘটনাটি সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক চরম দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযুক্ত জেবা আমিনা খান ওরফে জেবা আলগাজীর জীবনকাহিনি যেন এক সুনিপুণ জালিয়াতি ও নৈতিক স্খলনের উপাখ্যান। অর্থের প্রতি তার মোহ তাকে এক নীতিহীন প্রতারকে পরিণত করেছে। সাহায্যের নামে মানুষের বিশ্বাস পুঁজি করে তিনি যে ঋণের পাহাড় গড়েন, যা শোধ করার কোনো সদিচ্ছা তার নেই। বরং অন্যের টাকায় বিলাসি জীবনযাপন করাই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তার জীবনের পরতে পরতে মিশে আছে প্রতারণার ছাপ। তার এ ধরনের ভয়াবহ জালিয়াতি ও বাড়ি দখলের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হওয়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। একজন রাজনৈতিক নেত্রীর এমন দ্বিমুখী জীবন ও নীতিহীনতা এখন জনমুখে আলোচনার প্রধান খোরাক। উল্লিখিত একাধিক অভিযোগের বিষয়ে মহিলা দলের সহ-সভাপতি জেবা আমিনা আহমেদ ওরফে জেবা আমিনা আলগাজী বলেন, ‘প্রথম স্বামীর সঙ্গে মৌখিক তালাকের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ইসলামী শরীআ অনুসারে কোনো নারীর তিন ইদ্দ্যত পার হলে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারেন- ইসলাম তাই বলে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে মৌখিকভাবে তালাক হলেও পরবর্তীতে ২০০৭ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে লন্ডনে আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স হয়। এরপর সম্পদের অংশ পেতে মামলা করি। সেটিও নিষ্পন্ন হয়েছে।’ লন্ডনে কোম্পানি দেউলিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে জেবা আমিনা আহমেদ বলেন, ‘দেউলিয়া নয়; লিকুয়েডেশন করে ব্রিটিশ সরকার’। আর অন্যান্য অভিযোগকে তিনি মিথ্যা দাবি করেন।

 

প্রথম বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক

নথিপত্র অনুযায়ী, জেবা আমিনা আহমেদ ১৯৮৩ সালের ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে নিয়াজ বিন করিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
অভিযোগে বলা হয়, তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল ছিল।

অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, এর মধ্যেই ২০০৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় প্রথম বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেবা আমিনা আহমেদ বলেন, প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার মৌখিক তালাক হয়েছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী,

“ইসলামী শরীয়াহ অনুসারে মৌখিক তালাকের পর ইদ্দত পার হলে দ্বিতীয় বিয়ে করা যায়। পরে ২০০৭ সালে লন্ডনে আদালতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ডিভোর্স সম্পন্ন হয়।”


দ্বিতীয় সংসার ও আইনি বিরোধ

জেবা আমিনা আহমেদের দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ী ও রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খান।

তার অভিযোগ, বিয়ের সময় জেবা আমিনা প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের দাবি করলেও কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

মোকাররম হোসেন খান ঢাকার সিএমএম আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

তার দাবি, পরে জানা যায় যে বিয়ের সময় প্রথম স্বামীর সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ হয়নি।


সম্পত্তি ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ

মোকাররম হোসেন খানের অভিযোগ অনুযায়ী, জেবা আমিনা আহমেদ তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়েছেন এবং কিছু শেয়ার নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন।

এছাড়া বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট দখল নিয়ে তাদের মধ্যে আইনি বিরোধ চলছে বলে তিনি দাবি করেন।

মোকাররম হোসেনের অভিযোগ, ওই ফ্ল্যাটের মালিকানা না থাকলেও আদালতের একটি ‘স্থিতাবস্থা’ আদেশের সুযোগ নিয়ে জেবা আমিনা সেখানে অবস্থান করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ সংক্রান্ত মামলাগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।


সহিংসতা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ

মোকাররম হোসেন খান আরও অভিযোগ করেছেন, ২০২৫ সালের ২৭ জুন ঈদুল আজহার ছুটির সময় তিনি দেশের বাইরে থাকাকালে তার বারিধারার বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে।

তার দাবি, ১০-১৫ জনের একটি দল ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

তিনি এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং আদালতে একটি মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন।


পারিবারিক সম্পত্তি নিয়েও বিরোধ

জেবা আমিনা আহমেদের বিরুদ্ধে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান এলাকার একটি পৈত্রিক সম্পত্তিতে তার বোন ও ভাতিজাদের অংশ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তা এককভাবে ব্যবহার করছেন।

তবে এসব অভিযোগকেও তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।


যুক্তরাজ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে জেবা আমিনা আহমেদ তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে ‘চিলড্রেন প্যারাডাইস (ইউকে)’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যা পরে বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে তিনি বলেন,

“দেউলিয়া হয়নি, বরং কোম্পানিটি লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বন্ধ হয়েছে।”


রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

জেবা আমিনা আহমেদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

অন্যদিকে জেবা আমিনা আহমেদ দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অধিকাংশ অভিযোগই ভিত্তিহীন এবং আদালতেই এর সত্যতা প্রমাণ হবে।


Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর: ৪৩০ কোটি টাকা লুটপাটে অভিযুক্ত বিতর্কিত শাহজাহান আলীর ছত্রছায়ায় বরিশালের শহিদুল এখনো অধরা

তদন্ত চলাকালেই ১৮ দিনে ফেরা সেই শাজাহান ঘুসের রাজা,বদলী ঠেকাতে  শাহজাহান আলীকে মাসে শহিদুল ঘুস দেন ২০ লাখ টাকা,স্কিন শর্ট ফাঁস,১৪৪ টি টেন্ডারের পে অর্ডার সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যাংক থেকে নগদায়ন করে লুট করলেন শহিদুল ।শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ইইডি) কর্মকর্তাদের পদায়ন, ঠিকাদারি কাজ বণ্টন এবং সরকারি অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহজাহান আলী এবং বরিশালে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম। ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন:  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহজাহান আলীকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনিয়মের অভিযোগের পর গত ২৩ জুলাই তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হলেও মাত্র ১৮ দিনের মাথায় ফের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পেয়েই শাজাহান আলী বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতাদের নিয়ে দেশজুড়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন।আর সেই সিন্ডিকেটের অন্যতম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নির্বাহী সদস্য শহিদুল ইসলাম। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাজাহান আলীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা শহিদুলদের নিয়ে সরকার বিরোধী কর্মকান্ড ও সরকারের সুনাম নষ্টের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।তারা এখনো ফ্যাসিস্ট কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী ও ছাত্রলীগ নেতাদের ঠিকাদারি কাজ দিচ্ছেন। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে বিএনপি নেতাদের মাঝে। এদিকে শাজাহান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে একই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-৩ শাখা থেকে ২৩ জুলাই শাহজাহান আলীকে ওএসডি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আলী ইমামকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। এরপর ১২ আগস্ট উন্নয়ন-৩ শাখা থেকে জারি করা আরেক প্রজ্ঞাপনে শাহজাহান আলীকে আবারও প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বহাল করা হয়। প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান। সরকারি ওয়েবসাইটের কর্মকর্তা তালিকাতেও মো. শাহজাহান আলীর নাম তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে রয়েছে। কে এই শাহজাহান আলী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. শাহজাহান আলী । সাম্প্রতিক সময়ে তার দুর্নীতি,অনিয়ম, পদোন্নতি, ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হওয়া এবং পুনরায় বহাল থাকার ঘটনা নিয়ে বেশ আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে । মো. শাহজাহান আলী বর্তমানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। পদোন্নতির ইতিহাস: ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান এবং প্রধান কার্যালয়ের পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ শাখায় চলতি দায়িত্ব পান ।   আরও পড়ুন:  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দুর্নীতির অদৃশ্য সম্রাট শাহজাহান আলী   ওএসডি ও বিতর্ক: অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে এবং তার স্থলে মো. আলী ইমামকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ।  পুনরায় বহাল: ওএসডি হওয়ার মাত্র ১৮ দিন পর, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে পুনরায় প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে বহাল করা হয় ।  আলোচনা-সমালোচনা: তার বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ওএসডি হওয়ার অল্প দিনের মধ্যে স্বপদে ফিরে আসায় অধিদপ্তরের ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।   কে এই শহিদুল ইসলাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. শহিদুল ইসলাম। অভিযোগ ও বিতর্ক: সম্প্রতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ, টেন্ডারবাজি, ভুয়া বিল উত্তোলন এবং ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।   আরও পড়ুন:  বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল যখন ঠিকাদার: ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ     বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ   ঠিকাদারদের অভিযোগ: তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট হারে কমিশন না দিলে কাজ শেষ হলেও বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ এনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ঠিকাদাররা। এছাড়া নিজ দপ্তরে বসে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ ও সাব-কন্টাক্টে কাজ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।  দুদক ও আন্দোলন: তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত এবং তাঁকে প্রত্যাহারের দাবিতে স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ মানববন্ধন ও দুদকে অভিযোগ দায়ের করেছেন।   শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৪৪টি টেন্ডারের পে-অর্ডার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে ১৪৪টি টেন্ডারের পে-অর্ডার নিয়ে অভিযোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব পে-অর্ডার সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যাংক থেকে নগদায়ন করা হয়েছে। এ বিষয়ে যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন— ১৪৪টি টেন্ডারের তালিকা, দরপত্র নম্বর ও সংশ্লিষ্ট নথি; পে-অর্ডার ইস্যু, জমা ও নগদায়নের ব্যাংক রেকর্ড; সরকারি কোষাগার ও সংশ্লিষ্ট হিসাবের বিবরণী; অর্থ জমা ও ফেরতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমোদন; বিভাগীয় তদন্ত বা নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ফলাফল।   মাসে ২০ লাখ টাকা ঘুষের দাবি শাহজাহান আলীর পদায়ন ও পুনর্বহাল ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের দাবি, বদলি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করতে অর্থ দেওয়া হয়। অভিযোগে শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে মাসে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।   ৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে প্রশ্ন শাহজাহান আলীকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে। প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব বহুতল ভবনের কয়েকটিতে উদ্বোধনের আগেই দেয়ালে ফাটল, জানালার লিন্টেল বাঁকা হওয়া এবং ছাদ নির্মাণে ত্রুটির অভিযোগ সামনে আসে।এই প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন শাহজাহান আলী। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির বিরুদ্ধে ১৪টি অডিট আপত্তিতে প্রায় ৩৪ কোটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই প্রতিবেদনে নির্মিত ভবনে ফাটল এবং আইসিটি ও বিজ্ঞানাগারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও তদন্ত চলমান থাকা অবস্থাতেই শাহজাহান আলীকে ফের দায়িত্বে বসানো হয়েছে—এমন অভিযোগই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ‘অদৃশ্য কারণে’ ১৮ দিনের মাথায় ফেরত? শাহজাহান আলীকে ওএসডি করার পর মাত্র ১৮ দিনের মাথায় তাকে পুনরায় একই অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে।তবে তাকে কেন এত দ্রুত পুনর্বহাল করা হলো—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকলে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাকে একই প্রকল্প বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রাখা কতটা যুক্তিসঙ্গত? ‘সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ শাহজাহান আলীকে কেন্দ্র করে ইইডিতে একটি প্রভাবশালী ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তাদের দাবি, উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জোয়ারদার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সাঈদ শিমুল আকন্দ এবং বরিশালে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে নিয়ে একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, মনিরুজ্জামান জোয়ার ও আবু সাঈদ শিমুল আকন্দকে সম্প্রতি যথাক্রমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রংপুরে বদলি করা হলেও তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তারা বদলির আদেশ কার্যকর করছেন না—এমন অভিযোগও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বদলির আদেশ, মেডিকেল সনদ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনসহ নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ঘুষের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে শাহজাহান আলীকে মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি এমন কোনো আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে তার উৎস, লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হবে কি না। শাহজাহান আলীর বক্তব্য অভিযোগ ও পুনর্বহাল প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহজাহান আলী বলেন, “এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। সরকার ওএসডি করেছিল। আবার সরকারই বহাল করেছে। আমি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যেভাবে দায়িত্ব এসেছে, সেভাবেই পালন করছি।” অর্থাৎ পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে তিনি সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন।   জবাবদিহি নিশ্চিত করবে তদন্ত শাহজাহান আলীর ওএসডি, ১৮ দিনের মধ্যে পুনর্বহাল, ৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে অভিযোগ এবং শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পে-অর্ডার ও কমিশনসংক্রান্ত অভিযোগ—সব মিলিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন— ১. শাহজাহান আলীকে ওএসডি ও পুনর্বহালের প্রশাসনিক কারণ প্রকাশ করা। ২. কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের প্রকল্পের অডিট আপত্তি ও নির্মাণমানসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি জানানো। ৩. ১৪৪টি টেন্ডারের পে-অর্ডারসংক্রান্ত অভিযোগের স্বাধীন আর্থিক নিরীক্ষা করা। ৪. ঘুষ ও কমিশনসংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা। ৫. সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়ে নথিভিত্তিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্পের অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে আসে। এসব প্রকল্পের নির্মাণমান, দরপত্রের স্বচ্ছতা এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহি সরাসরি জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। অতএব, অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় হিসেবে উপেক্ষা না করে প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও দায়মুক্তির সুযোগ দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু একজন কর্মকর্তার ওএসডি বা পুনর্বহাল নয়—সরকারি অর্থের সুরক্ষা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   এখন সামনে কয়েকটি বড় প্রশ্ন শাহজাহান আলীকে ঘিরে অভিযোগ, ওএসডি, মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে পুনর্বহাল এবং তদন্ত—সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন— তদন্ত চলাকালে কেন তাকে একই দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে দেওয়া হলো? ৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে ওঠা লুটপাট ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে কি না? তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের স্বাধীন যাচাই হবে কি? অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—২৩ জুলাই ওএসডি, ১২ আগস্ট পুনর্বহাল—মাত্র ১৮ দিনের এই প্রশাসনিক পরিবর্তনের নেপথ্যে সরকারি ব্যাখ্যাটি কী? শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রকল্পের শত শত কোটি টাকার সরকারি অর্থ, নির্মাণের মান এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই অভিযোগগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্ত এবং তদন্তের ফল জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি উঠছে সংশ্লিষ্ট মহলে। তদন্তেই এখন নির্ধারিত হতে পারে—অভিযোগগুলো কতটা সত্য, আর কতটা কেবল অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৯, ২০২৬ 0
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

গণপূর্তে লটারির পদায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

কুয়াকাটায়মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল রিসোর্টের অনুমোদন না থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ করল প্রশাসন

বিএডিসির ২৯২ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, নিম্নমানের হারভেস্টারে ক্ষতিগ্রস্ত বীজ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: নগর পরিকল্পনা বিভাগে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে নিয়োগপ্রক্রিয়া

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর পরিকল্পনা বিভাগে শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকারী দুই কর্মকর্তার নিয়োগ ও যোগ্যতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সদ্য প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম এবং বর্তমানে ওই পদে চলতি দায়িত্ব পাওয়া মো. নজরুল ইসলাম। তাঁদের বিরুদ্ধে যথাক্রমে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সনদসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নজরুল ইসলামের নিয়োগের সময় দাখিল করা সাভার পৌরসভার অভিজ্ঞতার সনদটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাভার পৌরসভায় সংশ্লিষ্ট সময়ে সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ বা সহকারী অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ পদই ছিল না। এমনকি ওই পৌরসভায় নজরুল ইসলামের চাকরির তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ পাঁচ বছরের প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল যে পদে নিয়োগের জন্য, সেই নগর পরিকল্পনাবিদ পদে তিনি নিয়োগ পান এবং পরে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের চলতি দায়িত্বও পান। অন্যদিকে, সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করে স্থপতি পদে নিয়োগ নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, অভিযোগ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তের পর সিরাজুল ইসলামকে পদটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথির স্বাধীন যাচাই এবং আইনগত পদক্ষেপের বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত, সনদ নিয়ে প্রশ্ন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের নিয়োগবিধিতে নগর পরিকল্পনাবিদ পদে নিয়োগের জন্য নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সহকারী নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও ওই শর্তের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, মো. নজরুল ইসলাম নগর পরিকল্পনাবিদ পদে নিয়োগের আবেদনের সঙ্গে সাভার পৌরসভায় কাজ করার একটি অভিজ্ঞতার সনদ দাখিল করেন। কিন্তু সনদে উল্লিখিত সময়কালে পৌরসভাটিতে সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ বা সহকারী অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ নামে কোনো পদ ছিল না। আরও দাবি করা হয়েছে, তিনি ওই সময়ে সাভার পৌরসভায় অন্য কোনো পদেও চাকরি করেননি। সাভার পৌরসভার রেকর্ডপত্রে তাঁর চাকরির গ্রহণযোগ্য তথ্য নেই বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এই দাবি সত্য হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ হয়েছিল কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়।   অভিযোগ উঠেছিল নিয়োগের সময়ই নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে অভিযোগ করা হয়েছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলামের নিয়োগের সময়ই তাঁর অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। এ বিষয়ে অভিযোগও জমা পড়ে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে তাঁর নিয়োগপত্র দীর্ঘদিন আটকে ছিল এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগের পরিচয় ও বড় অঙ্কের ঘুষের মাধ্যমে তিনি চাকরিতে যোগদানের সুযোগ পান—এমন অভিযোগও রয়েছে।  নজরুল ইসলামের নিয়োগের সময় সনদ যাচাইয়ের দায়িত্বে কারা ছিলেন, আপত্তি ওঠার পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোন নথি বিবেচনা করা হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়োগের নথি যাচাই করা হলে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। ২২ বছর অতিরিক্ত দায়িত্বে সিরাজুল ইসলাম ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনা বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের আকস্মিক মৃত্যুর পর পদটি শূন্য হয়। সে সময় স্থপতি পদে দায়িত্ব পালনকারী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামকে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা তাঁর ছিল না। এমনকি স্থপতি পদে তাঁর নিয়োগ নিয়েও জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। এরপরও তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর বহাল থাকেন। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সাময়িকভাবে কোনো কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট পদের জন্য যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও স্থায়ী নিয়োগের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মেয়র, প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী ছিল, কেন পদটিতে নিয়মিত নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্তগুলো কোন প্রশাসনিক যুক্তিতে নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকার সুযোগে তিনি বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার করেছেন। সিরাজুল ইসলামকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও ডিএসসিসির কাছে তদন্তের অগ্রগতি, অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া প্রয়োজন। নতুন দায়িত্ব, পুরোনো প্রশ্ন সিরাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার পর গত ৫ সেপ্টেম্বর মো. নজরুল ইসলামকে ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নগর পরিকল্পনাবিদের মূল পদেও দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তাঁর নিয়োগের অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি না হলে নতুন করে প্রশাসনিক প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। কারণ, যে পদে নিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল, সেই শর্ত পূরণ হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে নিয়োগের বৈধতা, দায়িত্ব পালনের প্রশাসনিক ভিত্তি এবং পরবর্তী পদায়নের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের প্রশ্ন উঠতে পারে। এ নগর পরিকল্পনায় প্রভাব কতটা? নগর পরিকল্পনা বিভাগ একটি সিটি করপোরেশনের ভূমি ব্যবহার, অবকাঠামো উন্নয়ন, নগর সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত। এ বিভাগের শীর্ষ পদে নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা শুধু প্রশাসনিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকে না; নগর উন্নয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়া সম্পর্কেও প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতামত ও প্রকল্পভিত্তিক তথ্য ছাড়া ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে যোগ্যতা যাচাইয়ের দুর্বলতা, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত দায়িত্বে পদ পরিচালনা এবং নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া—এসব বিষয় প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও জবাবদিহির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। নগরবাসীর স্বার্থে তাই প্রয়োজন নিয়োগের নথি যাচাই, সনদের সত্যতা নির্ধারণ, দায়িত্ব পালনের বৈধতা পর্যালোচনা এবং প্রকল্পসংক্রান্ত অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনা বিভাগে নিয়োগ ও পদায়নসংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তিতে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ: ১. মো. নজরুল ইসলামের সাভার পৌরসভার অভিজ্ঞতার সনদটি কে যাচাই করেছিলেন এবং কীভাবে তা গ্রহণ করা হয়েছিল? ২. সনদে উল্লেখ করা পদ ও চাকরির মেয়াদের সঙ্গে সাভার পৌরসভার মূল নথির মিল রয়েছে কি না? ৩. নিয়োগের সময় অভিযোগ বা আপত্তি উঠলে তা কীভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল? ৪. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম কী ভিত্তিতে ২০০৪ সাল থেকে দীর্ঘ সময় প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন? ৫. তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা প্রকল্পসংক্রান্ত অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কোনো নিরীক্ষা বা তদন্ত হয়েছে কি না? ৬. দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ডিএসসিসি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ অবস্থান কী? জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনা বিভাগে নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি এখন গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগাম অপরাধী সাব্যস্ত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদের সত্যতা যাচাই না করাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সাভার পৌরসভার নথি, ডিএসসিসির নিয়োগ ফাইল, সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তসংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করেই প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা সম্ভব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন। মূল প্রশ্নটি তাই শুধু কে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্বে আছেন, তা নয়; বরং নিয়োগের যোগ্যতা কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, অভিযোগ ওঠার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কী করছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৩, ২০২৬ 0

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট : বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকা নিয়ে ক্ষোভ

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর barisal

দোয়ারিকা-শিকারপুর সেতুর টোল :বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

ঢাকা জেলা প্রশাসকের এলএ শাখা-২: সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনের ঘুষ বাণিজ্যে জিম্মি জনগণ

সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনকে ঘিরে ঘুষ, ফাইল আটকে রাখা, পুনঃপদায়ন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ; দুদকের মামলার দাবির সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা-২-এ জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড় করিয়ে দেওয়ার নামে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন শাখাটির সার্ভেয়ার আফজাল হোসেন। একাধিক ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ক্ষতিপূরণের ফাইল প্রক্রিয়াকরণ ও অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরও জমির মালিকদের বারবার ঘোরানো এবং কমিশন না দিলে ফাইলের অগ্রগতি ধীর করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে আফজাল হোসেনের সম্পদ, অন্যত্র বদলির পর অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসা এবং ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত বড় একটি প্রকল্পে কয়েক শ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা থাকার দাবিও সামনে এসেছে।   ক্ষতিপূরণের ফাইলে ৫–১৫ শতাংশ কমিশনের অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণের কারণে জমি হারানো মালিকদের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণ কেবল আর্থিক পাওনা নয়; অনেক ক্ষেত্রে এটি তাঁদের জীবিকা, ব্যবসা কিংবা বিকল্প জমি কেনার প্রধান অবলম্বন। সেই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় কমিশন দাবির অভিযোগ তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের ফাইলের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে নানা অজুহাতে বিলম্ব করা হয়। ফাইলের বিভিন্ন ধাপের কথা বলে তাঁদের একাধিকবার অফিসে যেতে হয়। একপর্যায়ে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে দাবি তাঁদের। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অর্থের ৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়। তাঁদের আরও অভিযোগ, এই দাবি মেনে না নিলে ফাইলের অগ্রগতি ধীর হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় থাকা জমির মালিকেরা মধ্যস্থতাকারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করতে বাধ্য হন।   ফাইল নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এলএ শাখা-২-এর ক্ষতিপূরণের ফাইল প্রক্রিয়াকরণকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই চক্রের মাধ্যমে ফাইলের অগ্রগতি ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নির্ধারিত নিয়মে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কোনো কোনো জমির মালিককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কখনো নথির ঘাটতি, কখনো প্রক্রিয়াগত জটিলতা কিংবা অন্য দাপ্তরিক কারণ দেখিয়ে তাঁদের বারবার যোগাযোগ করতে বলা হয় বলে অভিযোগ। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠা ফাইলগুলোর আবেদন গ্রহণের তারিখ, নথি যাচাইয়ের ধাপ, অনুমোদন, অর্থ ছাড়ের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পর্যালোচনা করলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হতে পারে। বদলির পর চার মাসের মধ্যে ফের ঢাকা অফিসে? আফজাল হোসেনকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগ তাঁর বদলি ও পুনঃপদায়ন নিয়ে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর একপর্যায়ে তাঁকে ঢাকা এলএ শাখা থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু বদলির প্রায় চার মাসের মধ্যেই তিনি আবার ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পুনঃপদায়ন ঘিরে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।  একজন সরকারি কর্মচারীর বদলি ও পদায়ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ। তাই এ ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করতে বদলির আদেশ, যোগদানপত্র, পুনঃপদায়নের আদেশ, সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।  অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে এলএ শাখা-২-এ দায়িত্ব পালনকালে আফজাল হোসেন তাঁর পুরোনো যোগাযোগ ও প্রভাব কাজে লাগাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্র ক্ষতিপূরণের ফাইল ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।  ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর কথিত সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। তাঁদের দাবি, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে বা বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় তাঁর নামে কিংবা কথিত ছদ্মনামে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল অর্থ জমা থাকার দাবিও করেছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগগুলো যাচাইয়ের জন্য তাঁর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, বৈধ আয়ের উৎস, জমি ও ফ্ল্যাটের নিবন্ধন দলিল, সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী কোনো ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা যাচাইয়ের ভিত্তি হওয়া উচিত প্রামাণ্য নথি ও বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য। । কয়েক শ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলার দাবি আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত একটি বড় প্রকল্পে কয়েক শ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, মামলার পর আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মামলার অস্তিত্ব ও বিবরণ যাচাই করতে দুদকের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, মামলার এজাহার, আদালতের নথি এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব পালনের কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নির্ধারণেও প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান জরুরি। ক্ষতিপূরণপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি, জবাবদিহির প্রশ্ন ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিয়মভিত্তিক ও সময়োপযোগী হওয়া প্রয়োজন। কারণ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের অনেকেই তাঁদের সম্পদের বিনিময়ে প্রাপ্য অর্থের ওপর নির্ভর করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সত্য হলে, ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কমিশন দাবি শুধু ব্যক্তিগত অনিয়মের বিষয় হবে না; এটি সরকারি সেবা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি নাগরিকদের আস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত হবে। আফজাল হোসেনের কথিত সম্পদের উৎস নিয়ে ওঠা প্রশ্নের ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণী ও আয়কর নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সম্পদের প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করা প্রয়োজন। দুদকের মামলা থাকার দাবি সত্য হলে সেই মামলার নথি ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। বক্তব্য পাওয়া যায়নি আফজাল হোসেনের সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ, কমিশন, সম্পদ ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, এলএ শাখা-২-এ ক্ষতিপূরণের ফাইল ছাড়ের নামে কমিশন দাবির অভিযোগ, আফজাল হোসেনের  সম্পদের উৎস এবং তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা থাকার দাবির সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0
উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশার

ধানমন্ডি ৩২ থেকে ভোলা গণপূর্ত: আবুল বাশারের সম্পদ, রাজনৈতিক পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বিআরটিসিতে আশরাফুল আলমের প্রভাববলয়: ডিপোতে শতকোটি টাকার আয়-ব্যয়, যন্ত্রাংশ কেনাকাটা ও বদলি বাণিজ্য নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফিরোজ হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0