Brand logo light
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

অর্থনীতি, তেলবাজার ও বৈশ্বিক ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্র -দখলদার ইসরাইল–ইরান যুদ্ধ: তেলের দাম, মূল্যস্ফীতি ও মার্কিন অর্থনীতিতে নতুন সংকট

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১০, ২০২৬ 0
যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ওয়াশিংটন নয়, তেহরানই নির্ধারণ করবে
যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ওয়াশিংটন নয়, তেহরানই নির্ধারণ করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। মূল্যস্ফীতি কমছিল, মর্টগেজ সুদের হার ধীরে ধীরে নেমে আসছিল এবং জ্বালানির দামও ছিল অনেকটা নিয়ন্ত্রণে।

কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত সেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—মার্কিন অর্থনীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরও এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘ হবে না। তার ভাষায় এটি একটি “স্বল্পমেয়াদি অভিযান”।

কিন্তু যুদ্ধের বাস্তবতা, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং ইরানের কঠোর অবস্থান ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরছে।


যুদ্ধের শুরু ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা।

ট্রাম্পের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে প্রায় ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্র।

এই ঘটনাকে ঘিরেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

তবে ট্রাম্পের দাবি—ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে।

তিনি বলেন,

“আজ আমরা জানি তারা কোথায় কোথায় ড্রোন তৈরি করে। সেই সব স্থাপনায় একের পর এক হামলা চলছে।”

তার মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখন “প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।”


ইরানের পাল্টা বার্তা

ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি বলেন,

“এই যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ওয়াশিংটন নয়, তেহরানই নির্ধারণ করবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান আরও বেশি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে।

নাঈনির ভাষায়,

“আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড এখন এক টনেরও বেশি।”

তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে “সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে।”


তেলের বাজারে বড় ধাক্কা

এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলবাজারে।

বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

এটি ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে একটি।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরান হুমকি দিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।

এমনকি আইআরজিসি বলেছে, “অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।”


মার্কিন অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

মার্কিন অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো জ্বালানির দাম বৃদ্ধি

কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

গত এক সপ্তাহেই প্রতি গ্যালনে গ্যাসের দাম ৩৪ সেন্ট বেড়ে গেছে।

এই বৃদ্ধি ট্রাম্পের দুই মেয়াদের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তবে ট্রাম্প নিজে বলেছেন তিনি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন।

তিনি বলেন,

“যদি গ্যাসের দাম বাড়ে, তাহলে বাড়ুক।”

কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়া মানে শুধু জ্বালানি খরচ নয়—এটি পুরো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।


মূল্যস্ফীতির নতুন আশঙ্কা

এই যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল।

জানুয়ারিতে ভোক্তা মূল্যসূচক বছরে মাত্র ২.৪ শতাংশ বেড়েছিল, যা আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন ২০২৬ সালের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নেমে আসবে।

কিন্তু জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকলে সেই হিসাব বদলে যেতে পারে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এ বছর মূল্যস্ফীতি আবার ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে

এর কারণ—

  • জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে বিমান ভাড়া বাড়বে

  • পরিবহন খরচ বাড়লে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে

  • পেট্রোলিয়ামভিত্তিক শিল্পপণ্যের দাম বাড়বে

ফলে পুরো অর্থনীতিতেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হবে।


ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা

মার্কিন অর্থনীতির দুই-তৃতীয়াংশই নির্ভর করে ভোক্তা ব্যয়ের ওপর।

কিন্তু দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ খরচ কমিয়ে দেয়।

এর প্রভাব সরাসরি পড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক গতি কিছুটা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমেছে এবং জানুয়ারিতে খুচরা বিক্রি ২০২৫ সালের মে মাসের পর সবচেয়ে বেশি হারে কমেছে।

মুডিজ অ্যানালিটিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জ্যান্ডি বলেন,

“গ্যাসের দাম যদি গ্যালনপ্রতি ৩ ডলার থেকে ৪ ডলারে উঠে যায়, তাহলে মানুষের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”

তার মতে, মূল্যস্ফীতি বাড়লে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


আবাসন বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা

যুদ্ধের আগে মার্কিন আবাসন বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরছিল।

মর্টগেজ সুদের হার ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল।

কিন্তু যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আবার বদলে গেছে।

বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বেশি সুদ দাবি করছেন।

ফলে ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন বেড়েছে এবং এর সঙ্গে মর্টগেজ সুদের হারও আবার ৬ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে।

এটি বাড়ি কেনার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।


গড় পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয়

অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম টানা বাড়তে থাকলে সাধারণ পরিবারের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

মার্ক জ্যান্ডির মতে,

“প্রতি ব্যারেল তেলের দাম টানা ১০ ডলার বাড়লে গড় মার্কিন পরিবারের বছরে প্রায় ৪৫০ ডলার অতিরিক্ত খরচ হবে।”

এটি সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করবে।


হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্র

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর।

প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে—

  • বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়বে

  • জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে

  • পরিবহন ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে

এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।


যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, খুব দ্রুত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তারা ট্যাংকারগুলোর জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বিমা দিচ্ছে এবং সামরিক সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন,

“আমি কোনো সন্ত্রাসী শাসনকে বিশ্বকে জিম্মি করে তেল সরবরাহ বন্ধ করতে দেব না।”


যুদ্ধ কতদিন চলবে?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই যুদ্ধ কতদিন চলবে।

কিছু বিশ্লেষক মনে করেন এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে।

কিন্তু অন্যরা বলছেন সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

ইওয়াই-পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো বলেন,

“হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেলের দাম আবার কমে যাবে। আবার এমনও হতে পারে কয়েক মাস পরও আমরা একই অবস্থায় থাকব।”

তিনি সতর্ক করে বলেন,

“যদি তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তখন আমরা চাকরি কমানো এবং সম্ভাব্য মন্দা নিয়ে কথা বলব।”


মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতি

এই সংঘাতের একটি বড় রাজনৈতিক দিকও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

অর্থনীতি যদি খারাপ হতে শুরু করে—

  • মূল্যস্ফীতি বাড়ে

  • গ্যাসের দাম বাড়ে

  • চাকরি কমে

তাহলে তা ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক অসন্তোষ বাড়লে তা রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক লড়াই নয়—এটি অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে তেলের বাজার স্থিতিশীল হতে পারে এবং অর্থনৈতিক চাপও কমতে পারে।

কিন্তু সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়বে—

  • বিশ্ববাজারে তেলের দামে

  • মার্কিন মূল্যস্ফীতিতে

  • আবাসন বাজারে

  • বৈশ্বিক অর্থনীতিতে

অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো—এই যুদ্ধ কতদিন চলবে।

কারণ সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে বিশ্ব অর্থনীতির আগামী পথ।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

নিজেস্ব প্রতিবেদক

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

View more
যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ওয়াশিংটন নয়, তেহরানই নির্ধারণ করবে
যুক্তরাষ্ট্র -দখলদার ইসরাইল–ইরান যুদ্ধ: তেলের দাম, মূল্যস্ফীতি ও মার্কিন অর্থনীতিতে নতুন সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। মূল্যস্ফীতি কমছিল, মর্টগেজ সুদের হার ধীরে ধীরে নেমে আসছিল এবং জ্বালানির দামও ছিল অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত সেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—মার্কিন অর্থনীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরও এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘ হবে না। তার ভাষায় এটি একটি “স্বল্পমেয়াদি অভিযান”। কিন্তু যুদ্ধের বাস্তবতা, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং ইরানের কঠোর অবস্থান ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরছে। যুদ্ধের শুরু ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। ট্রাম্পের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে প্রায় ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্র। এই ঘটনাকে ঘিরেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তবে ট্রাম্পের দাবি—ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা জানি তারা কোথায় কোথায় ড্রোন তৈরি করে। সেই সব স্থাপনায় একের পর এক হামলা চলছে।” তার মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখন “প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।” ইরানের পাল্টা বার্তা ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি বলেন, “এই যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ওয়াশিংটন নয়, তেহরানই নির্ধারণ করবে।” তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান আরও বেশি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। নাঈনির ভাষায়, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড এখন এক টনেরও বেশি।” তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে “সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে।” তেলের বাজারে বড় ধাক্কা এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলবাজারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এটি ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে একটি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান হুমকি দিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। এমনকি আইআরজিসি বলেছে, “অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।” মার্কিন অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব মার্কিন অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো জ্বালানির দাম বৃদ্ধি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গত এক সপ্তাহেই প্রতি গ্যালনে গ্যাসের দাম ৩৪ সেন্ট বেড়ে গেছে। এই বৃদ্ধি ট্রাম্পের দুই মেয়াদের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে ট্রাম্প নিজে বলেছেন তিনি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তিনি বলেন, “যদি গ্যাসের দাম বাড়ে, তাহলে বাড়ুক।” কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়া মানে শুধু জ্বালানি খরচ নয়—এটি পুরো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। মূল্যস্ফীতির নতুন আশঙ্কা এই যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। জানুয়ারিতে ভোক্তা মূল্যসূচক বছরে মাত্র ২.৪ শতাংশ বেড়েছিল, যা আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন ২০২৬ সালের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নেমে আসবে। কিন্তু জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকলে সেই হিসাব বদলে যেতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এ বছর মূল্যস্ফীতি আবার ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর কারণ— জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে বিমান ভাড়া বাড়বে পরিবহন খরচ বাড়লে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে পেট্রোলিয়ামভিত্তিক শিল্পপণ্যের দাম বাড়বে ফলে পুরো অর্থনীতিতেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হবে। ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা মার্কিন অর্থনীতির দুই-তৃতীয়াংশই নির্ভর করে ভোক্তা ব্যয়ের ওপর। কিন্তু দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ খরচ কমিয়ে দেয়। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক গতি কিছুটা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমেছে এবং জানুয়ারিতে খুচরা বিক্রি ২০২৫ সালের মে মাসের পর সবচেয়ে বেশি হারে কমেছে। মুডিজ অ্যানালিটিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জ্যান্ডি বলেন, “গ্যাসের দাম যদি গ্যালনপ্রতি ৩ ডলার থেকে ৪ ডলারে উঠে যায়, তাহলে মানুষের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।” তার মতে, মূল্যস্ফীতি বাড়লে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবাসন বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা যুদ্ধের আগে মার্কিন আবাসন বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরছিল। মর্টগেজ সুদের হার ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আবার বদলে গেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বেশি সুদ দাবি করছেন। ফলে ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন বেড়েছে এবং এর সঙ্গে মর্টগেজ সুদের হারও আবার ৬ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে। এটি বাড়ি কেনার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। গড় পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম টানা বাড়তে থাকলে সাধারণ পরিবারের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। মার্ক জ্যান্ডির মতে, “প্রতি ব্যারেল তেলের দাম টানা ১০ ডলার বাড়লে গড় মার্কিন পরিবারের বছরে প্রায় ৪৫০ ডলার অতিরিক্ত খরচ হবে।” এটি সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করবে। হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্র হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে— বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়বে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে পরিবহন ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, খুব দ্রুত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা ট্যাংকারগুলোর জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বিমা দিচ্ছে এবং সামরিক সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, “আমি কোনো সন্ত্রাসী শাসনকে বিশ্বকে জিম্মি করে তেল সরবরাহ বন্ধ করতে দেব না।” যুদ্ধ কতদিন চলবে? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই যুদ্ধ কতদিন চলবে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। কিন্তু অন্যরা বলছেন সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে। ইওয়াই-পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো বলেন, “হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেলের দাম আবার কমে যাবে। আবার এমনও হতে পারে কয়েক মাস পরও আমরা একই অবস্থায় থাকব।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তখন আমরা চাকরি কমানো এবং সম্ভাব্য মন্দা নিয়ে কথা বলব।” মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতি এই সংঘাতের একটি বড় রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অর্থনীতি যদি খারাপ হতে শুরু করে— মূল্যস্ফীতি বাড়ে গ্যাসের দাম বাড়ে চাকরি কমে তাহলে তা ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক অসন্তোষ বাড়লে তা রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক লড়াই নয়—এটি অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।   যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে তেলের বাজার স্থিতিশীল হতে পারে এবং অর্থনৈতিক চাপও কমতে পারে। কিন্তু সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়বে— বিশ্ববাজারে তেলের দামে মার্কিন মূল্যস্ফীতিতে আবাসন বাজারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো—এই যুদ্ধ কতদিন চলবে। কারণ সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে বিশ্ব অর্থনীতির আগামী পথ।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ইরানের হামলায় দুই হাজার ইসরাইলি হাসপাতালে ভর্তি

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে, ইরানে নিহত ১২০০ ছাড়াল — ইসরাইলে ১৯২৯ আহত

মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে যুদ্ধ জোরদার,মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান

তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে: জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও রেমিট্যান্সে বড় ঝুঁকি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে হলেও এর অর্থনৈতিক অভিঘাত ইতোমধ্যেই অনুভূত হতে শুরু করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আমদানি নির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পঞ্চম দিনে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে। এই অঞ্চল বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম কেন্দ্র হওয়ায় যুদ্ধের প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তা একটি চেইন রিঅ্যাকশন তৈরি করে, যার প্রভাব পড়ে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি ও নিত্যপণ্যের বাজারে। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৩ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুতই ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই রুট দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি ট্যাঙ্কার, কাতারের এলএনজি স্থাপনা এবং সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আসে। এই গ্যাসের বড় অংশ এলএনজি হিসেবে আমদানি করা হয় কাতার ও ওমান থেকে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে এই সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, আমদানি নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি মজুদ সীমিত। তার ভাষায়, “আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তাতে ডিজেলের মজুদ প্রায় দুই সপ্তাহের মতো। বেশিরভাগ জ্বালানির মজুদই দুই থেকে ছয় সপ্তাহের বেশি নয়।” তিনি বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা এবং আমদানি উৎস বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন। বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে সম্ভাব্য প্রভাব জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এতে শিল্পকারখানা, উৎপাদন ও ব্যবসা কার্যক্রমে প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ ভারতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভারতের জ্বালানি সরবরাহও মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে তা শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সংকট বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে শিপিং কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত ‘ওয়ার রিস্ক সারচার্জ’ আরোপ করে। এর ফলে পণ্য পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে পুরো উৎপাদন ব্যবস্থায়। তিনি জানান, সমুদ্রপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অনেক পণ্য সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর প্রভাব জ্বালানির দাম বাড়লে সারের উৎপাদন ও আমদানির খরচও বাড়ে। বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় সারের একটি বড় অংশ আমদানি করে কাতার ও সৌদি আরব থেকে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া জ্বালানি সংকটের কারণে দেশীয় সার কারখানাগুলোর উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর ফলে খাদ্য উৎপাদন কমে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। রেমিট্যান্সের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হলো রেমিট্যান্স। বর্তমানে প্রায় এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিদেশে কর্মরত, যার বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৬০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শ্রমবাজারে নতুন কর্মী নিয়োগ কমে যেতে পারে। অতীতে কুয়েত যুদ্ধের সময় হাজার হাজার বাংলাদেশিকে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল। তবে স্বল্পমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় প্রভাব না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। সরকারের প্রস্তুতি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয় নীতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা চালু রাখলে বর্তমান মজুত দিয়ে অন্তত মার্চ মাস পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য এখনই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা আমদানি উৎস বহুমুখীকরণ কৌশলগত জ্বালানি মজুত বৃদ্ধি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৫, ২০২৬ 0
বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী

ইরানের বিধ্বংসী আঘাতে ৬৫০ মার্কিন সেনা হতাহত, পিছু হটল বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী

মাইক্রোসফটের কার্যালয়ে হামলা-দোহায় ফের বিস্ফোরণ

ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মাইক্রোসফট অফিসে আঘাতের দাবি; স্পেন-যুক্তরাজ্যের ভিন্ন অবস্থান, ইরানের পাশে চীন

ইসরাইলে দফায় দফায় মিসাইল হামলা

ইসরাইলে দফায় দফায় মিসাইল হামলা,ইরানের সরকারি রেডিও-টেলিভিশন ভবনে হামলা:মাথা নত করবে না ইরান

ইরানের রাস্তায় খামেনির হাজার হাজার সমর্থক
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত: ইরানসহ বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ayatollah Ali Khamenei নিহত হওয়ার খবরে দেশজুড়ে তীব্র শোক ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। রাজধানী Tehranসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম Fars News Agency জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সূর্য ওঠার আগেই বিপুল সংখ্যক মানুষ তেহরানের রেভোলিউশন স্কয়ারের দিকে জড়ো হতে শুরু করেন। অনেকে বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে খামেনিকে স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।   আরও পড়ুন: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানায়, সিরাজ ও ইয়াসুজসহ বিভিন্ন শহরে খামেনির ছবি ও জাতীয় পতাকা হাতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে ইরাকের রাজধানী Baghdad ও পবিত্র শহর Karbalaতেও। পাশাপাশি কাশ্মীর অঞ্চলেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। করাচিতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ ইরানে হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী Karachiতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলার বিবরণ গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনায় ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ বাহিনী হামলা চালায় বলে জানানো হয়েছে। এতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের পাল্টা জবাব ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরান তাৎক্ষণিক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশটি ইসরায়েলের রাজধানী Tel Avivসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত — ৪০ দিনের শোক ঘোষণা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, ইরান বলছে বেঁচে আছেন

তেহরানের হাসান আবাদ স্কয়ার

ইসরায়েল–ইরান সংঘাত তীব্রতর: তেহরানে বিস্ফোরণ, ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু

অর্থনীতি

Etihad Airways

Etihad Airways Joins Forces With McLaren Racing to Revolutionise Global Travel and Motorsport – Here’s How It Will Impact F1 and Beyond!

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0




অপরাধ

নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ

দুপক্ষের সংঘর্ষ নরসিংদীতে , গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও অম্লতা বেড়ে চলেছে।

১৫টি ‘জলবায়ু ঝুঁকি’তে আছে বাংলাদেশ

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0