মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করেই দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর একদিনেই তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। গত এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই (WTI) অপরিশোধিত তেল সোমবার একদিনেই ১৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০২.৯৮ ডলারে পৌঁছেছে।
একই সময়ে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫.১৬ ডলার, যা ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আতঙ্কজনিত কেনাবেচা শুরু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার খবরের পর এই আতঙ্ক আরও বাড়ে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী—
প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়
সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বড় তেল উৎপাদক দেশগুলোর রপ্তানি এই পথেই যায়
এশিয়ার বড় আমদানিকারক দেশ যেমন চীন, জাপান, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া এই রুটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল
যুদ্ধের কারণে যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে বিশ্ববাজারে সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন টন জ্বালানি তেল আমদানি করে, যার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লেই বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় কয়েকশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
যদি দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে দেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে।
এর ফলে—
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বাড়বে
জ্বালানি ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে
বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়বে
পরিবহন ও শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র বলছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে খরচ পড়ছে প্রায় ১৪২ টাকা, কিন্তু দেশে তা বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ টাকায়।
বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে ১৫টি জাহাজে জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়।
যদি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে না আসে, তাহলে মাসে অতিরিক্ত খরচ পড়তে পারে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।
এক্ষেত্রে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—
সরকার ভর্তুকি বাড়াবে
তেলের দাম বাড়ানো হবে
বিপিসি বড় ধরনের লোকসানে পড়বে
বাংলাদেশের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনও ফার্নেস অয়েল নির্ভর।
তেলের দাম বাড়লে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎ কোম্পানির পাওনা প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে বিপিডিবি সরকারের কাছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে, কিন্তু বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৩৬ হাজার কোটি টাকা।
ফলে আয়-ব্যয়ের বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।
এই কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হলো—
জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো
বাজারভিত্তিক জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ
বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা আনা
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার এক ধরনের নীতিগত দ্বিধায় পড়েছে।
যদি ভর্তুকি কমানো হয়, তাহলে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে।
আর যদি দাম না বাড়ানো হয়, তাহলে সরকারের আর্থিক চাপ বাড়বে।
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রমশ বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর ওপর।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী—
২০১৮ সাল থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সাত বছরে:
এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা
ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়লে এই ভর্তুকি আরও দ্রুত বাড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে।
ভিয়েতনাম: ডিজেল ও পেট্রলের দাম ২১% বৃদ্ধি
পাকিস্তান: পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ২০% বাড়িয়ে ৩২০ রুপি
যুক্তরাষ্ট্র: এক সপ্তাহে পেট্রলের দাম প্রায় ১০% বৃদ্ধি
ইউরোপ: মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা
অস্ট্রেলিয়া: পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি দুই ডলার ছাড়িয়েছে
চীন, জাপান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বাংলাদেশ অতীতেও কয়েকবার তেলের দামের বড় ধাক্কা অনুভব করেছে।
২০০৮ সালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ ডলার পর্যন্ত ওঠে।
২০১১-২০১৪ সময়ে দীর্ঘদিন তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে ছিল।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানি মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়।
এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা এলে দেশে দীর্ঘ সময় ধরে দাম স্থির রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
সরকার বলছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
জ্বালানি তেল আমদানির চুক্তিগুলো সাধারণত ছয় মাস মেয়াদি, এবং আগামী জুন পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল আসবে বলে জানিয়েছে বিপিসি।
সরকার যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় তেল ব্যবহারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু রেখেছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় তাহলে—
তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়াতে পারে
বিদ্যুৎ ভর্তুকি ৭৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে
মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে যেতে পারে
পরিবহন ব্যয় বাড়বে
কৃষি ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে
এমন পরিস্থিতিতে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন,
“সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এলএনজি সরবরাহ কমে গেলে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে।”
অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ড. ইজাজ হোসেন মনে করেন,
“দুই সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত না থামলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি সম্ভাব্য কৌশল রয়েছে—
১. জ্বালানি মজুদ বাড়ানো
২. বিকল্প সরবরাহ উৎস খোঁজা
৩. নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি
৪. জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো
৫. বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ও নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানো
তবে তারা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্বল্পমেয়াদে সংকট সমাধান করতে পারবে না।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট নয়, এটি দ্রুত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে রূপ নিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
যুদ্ধ দীর্ঘ হলে জ্বালানি মূল্য, বিদ্যুৎ ভর্তুকি, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ—সব ক্ষেত্রেই বড় চাপ তৈরি হতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখনই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতি পুনর্বিবেচনা না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করেই দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর একদিনেই তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। গত এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের হঠাৎ উল্লম্ফন বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই (WTI) অপরিশোধিত তেল সোমবার একদিনেই ১৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০২.৯৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫.১৬ ডলার, যা ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আতঙ্কজনিত কেনাবেচা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার খবরের পর এই আতঙ্ক আরও বাড়ে। হরমুজ প্রণালি: বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী— প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয় সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বড় তেল উৎপাদক দেশগুলোর রপ্তানি এই পথেই যায় এশিয়ার বড় আমদানিকারক দেশ যেমন চীন, জাপান, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া এই রুটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল যুদ্ধের কারণে যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে বিশ্ববাজারে সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য কেন উদ্বেগজনক বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন টন জ্বালানি তেল আমদানি করে, যার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লেই বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় কয়েকশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। যদি দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে দেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে। এর ফলে— বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বাড়বে জ্বালানি ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়বে পরিবহন ও শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়বে বিপিসির লোকসানের ঝুঁকি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র বলছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে খরচ পড়ছে প্রায় ১৪২ টাকা, কিন্তু দেশে তা বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ টাকায়। বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে ১৫টি জাহাজে জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে না আসে, তাহলে মাসে অতিরিক্ত খরচ পড়তে পারে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এক্ষেত্রে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে— সরকার ভর্তুকি বাড়াবে তেলের দাম বাড়ানো হবে বিপিসি বড় ধরনের লোকসানে পড়বে বিদ্যুৎ খাতে নতুন চাপ বাংলাদেশের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনও ফার্নেস অয়েল নির্ভর। তেলের দাম বাড়লে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎ কোম্পানির পাওনা প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে বিপিডিবি সরকারের কাছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে, কিন্তু বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৩৬ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয়-ব্যয়ের বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আইএমএফের চাপ ও নীতিগত সংকট বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হলো— জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো বাজারভিত্তিক জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা আনা কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার এক ধরনের নীতিগত দ্বিধায় পড়েছে। যদি ভর্তুকি কমানো হয়, তাহলে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে। আর যদি দাম না বাড়ানো হয়, তাহলে সরকারের আর্থিক চাপ বাড়বে। এলএনজি আমদানির বাড়তি ব্যয় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রমশ বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর ওপর। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী— ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সাত বছরে: এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়লে এই ভর্তুকি আরও দ্রুত বাড়বে। বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জ্বালানি দাম মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে। ভিয়েতনাম: ডিজেল ও পেট্রলের দাম ২১% বৃদ্ধি পাকিস্তান: পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ২০% বাড়িয়ে ৩২০ রুপি যুক্তরাষ্ট্র: এক সপ্তাহে পেট্রলের দাম প্রায় ১০% বৃদ্ধি ইউরোপ: মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা অস্ট্রেলিয়া: পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি দুই ডলার ছাড়িয়েছে চীন, জাপান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতীতের জ্বালানি ধাক্কার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ অতীতেও কয়েকবার তেলের দামের বড় ধাক্কা অনুভব করেছে। ২০০৮ সালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ ডলার পর্যন্ত ওঠে। ২০১১-২০১৪ সময়ে দীর্ঘদিন তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানি মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা এলে দেশে দীর্ঘ সময় ধরে দাম স্থির রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারের অবস্থান সরকার বলছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। জ্বালানি তেল আমদানির চুক্তিগুলো সাধারণত ছয় মাস মেয়াদি, এবং আগামী জুন পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল আসবে বলে জানিয়েছে বিপিসি। সরকার যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় তেল ব্যবহারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু রেখেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে অর্থনীতির ঝুঁকি অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় তাহলে— তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়াতে পারে বিদ্যুৎ ভর্তুকি ৭৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে যেতে পারে পরিবহন ব্যয় বাড়বে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে এমন পরিস্থিতিতে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতামত জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, “সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এলএনজি সরবরাহ কমে গেলে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে।” অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ড. ইজাজ হোসেন মনে করেন, “দুই সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত না থামলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।” দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি সম্ভাব্য কৌশল রয়েছে— ১. জ্বালানি মজুদ বাড়ানো ২. বিকল্প সরবরাহ উৎস খোঁজা ৩. নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ৪. জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো ৫. বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ও নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানো তবে তারা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্বল্পমেয়াদে সংকট সমাধান করতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট নয়, এটি দ্রুত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে রূপ নিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে জ্বালানি মূল্য, বিদ্যুৎ ভর্তুকি, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ—সব ক্ষেত্রেই বড় চাপ তৈরি হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখনই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতি পুনর্বিবেচনা না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয়ে ৩ ভাইয়ের রাজ্যের অঘোষিত রাজা।বরিশালের সাবেক বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ কর কর্মকর্তা নেফাউল ইসলাম সরকারের দোসর মোঃ রতন মোল্লা।স্টেনো টাইপিস্ট পদে কর্মরত।তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী হলেও নিজ স্বার্থ আদায়ে কর কমানো -বাড়ানোসহ তদবির ও সুপারিশের মাধ্যমে করের যাবতীয় কার্য্যক্রম সম্পন্ন করেন।এক সময়ের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী কর বিভাগে স্টেনো টাইপিস্ট পদে চাকুরী লাভের পরেই ভাগ্য খুলে যায়। এখন তিনি অসংখ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক,বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর, কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র,জায়গা-জমি,বহুতল ভবনের মালিক।আলাদিনের চেরাগও যেন হার মানিয়েছে রতন মোল্লার কাছে।এখন তিনি একজন ধনকুব।সহায়-সম্পদে ছুয়েঁছেন পাহাড়। রতন মোল্লার বিরুদ্ধে কর কমিশনার ও এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট একাধিকবার অভিযোগ দেয়া হলেও রহস্যজনক কারনে নেয়া হয়নি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা। ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডাক্তারদের করের ফাইল আটকিয়ে জিম্মী করে অনৈতিকভাবে ঘুস আদায় করাই যেন রতন মোল্লার পেশা।তিনি কাউকে থোরাই কেয়ার করেন না।ঘুস আদায়ে বেপরোয়া । কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলার কারনে একজন প্রিয় কর্মচারীতে পরিনত হয়েছেন বরিশাল কর বিভাগে।একই কর্মস্থলে সার্কেল -২ ও সার্কেল -৮ এ রয়েছেন ১০ বছর।সকলের বদলী হলেও রতন যেন কর ভবনের স্থায়ী কর্মচারী।তার বদলী না হওয়ায় কর বিভাগের সকলেই বিস্মিত। কে এই রতন মোল্লা : অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয় সার্কেল-৮ এ স্টোনো পদে মোঃ রতন মোল্লা চাকুরী নেয়ার পূর্বে বরিশাল নগরীর সদর রোড সংলগ্ন বাটার গল্লির একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকুরী করতেন। এ সময় তিনি জমির দালালিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। কর বিভাগে চাকুরী হবার পরও পূর্বের অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। বরিশাল পূর্ব বগুড়া রোড ‘সাউথ ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস’ নামক প্রতিষ্ঠানে শেয়ার রয়েছে। যেভাবে জড়িয়েছে দুর্নীতিতে : রতন মোল্লা।স্টোনো টাইপিস্ট পদে থাকায় অফিসের নির্দেশে তার দায়িত্ব বিভিন্ন ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ ডাক্তারদের কর এর তালিকা করার। তালিকা অনুযায়ী রতন মোল্লা সকল ডায়াগনস্টিক ,ক্লিনিক থেকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন। বরিশালের ছোট-বড় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডাক্তারদের আয়ের অনুকূলে কর দেয়ার সঠিক তালিকা করেন না। অফিসের বড় বড় ফাইলের ট্রাক্স কমানো, অডিটের কথা বলে ব্যবসায়ীদের হয়রানী, কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বদলি বাণিজ্য করাই যেন তার পেশা । বরিশালে কর অফিসে রতনকে অর্থ দিলে নিয়মের কাজ অনিয়মে হয়, আবার অনিয়মের কাজ নিয়মে হয়। দীর্ঘদিন ধরে একতরফাভাবে এ সব কার্যক্রম করে আসছেন রতন মোল্লা। একাধিক স্থানে ক্রয় করেছেন জমি, হয়েছেন ভবন মালিক। রতন মোল্লার যত সহায় সম্পদ : কর অফিসে তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী হয়েও রতন মোল্লার সম্পত্তি আকাঁশছোঁয়া।তিনি বরিশাল নগরীর সাউথ ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস’ নামক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মালিক,গ্রামের বাড়ি চরফ্যাশনে ৫ একর জায়গা ক্রয় করেছেন। বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডে ২ কোটি টাকা দিয়ে জায়গা ক্রয় করেছেন। সেখানে ৫ তলা ভবন নির্মাণাধীন। এছাড়া চরফ্যাশন শহরে একটি দ্বিতল ভবনের কাজ নির্মাণাধীন। রতন মোল্লা সার্কেল -২ ও সার্কেল-৮ এই দুই সার্কেলে কর্মরত থাকাকালিন কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । যার বড় অংশ অফিসারদের দিয়ে বাকি অংশ নিজে নিয়েছেন। তিনি তার শ্বশুর বাড়ি ভোলায় শ্বশুর এবং শ্বাশুড়ির নামে ১ কোটি টাকায় ৩০ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেছেন। অজপাড়াগায়ের কৃষক বাবার সন্তান স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লার চালচলন যেন মস্তবড় অফিসার। বরিশাল সোনালী ব্যাংক এর কর্পোরেট শাখা, সিএন্ডবি রোড শাখা, জনতা ব্যাংক-বাংলা বাজার শাখায় তার ২ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। নিজ ও স্ত্রীর নামে ১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে।কর আইনজীবীদের থেকে করদাতাদের ফাইল নিয়ে তিনি ঢিল করেন।কর বিভাগে তিনি একজন অঘোষিত কর আইনজীবীও। রতন মোল্লার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ : মোঃ রতন মোল্লা। একজন স্টেনো টাইপিস্ট, যিনি বর্তমানে সার্কেল-৮ কর অঞ্চল বরিশালে কর্মরত। ২০১৩ সালে নিয়োগের পর থেকে তিনি একমাত্র স্টেনো-টাইপিস্ট যিনি বরিশালের সার্কেল-২ এবং সার্কেল-৮ ব্যতীত অন্য কোনো সার্কেলে চাকুরি করেননি। এ দুই সার্কেলে কর্মরত থাকার কারণে সে সবসময় হেডকোয়ার্টার এডমিন ও টেকনিক্যাল এর সাথে থাকেন। যে কারণে তার দুই সার্কেল ব্যতিত অন্য কোথাও পদায়ন হয় না। এই দুই সার্কেলে বেশিরভাগ ফাইলই তার দখলে। এই দুই সার্কেলে বড় বড় করদাতাদের সাথে যোগসাজসে অনেক ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এছাড়া ফাইল গায়েব করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে । বড় বড় দাবি নিস্পত্তি করেন বড় অংকের ঘুস নিয়ে। বিভিন্ন ডাক্তারদের ফাইল অডিটের ভয় দেখিয়ে তিনি নিয়মিত হারে চাঁদাবাজি করছেন। ডাক্তাররা সংশ্লিষ্ট সার্কেলের অফিসারের নাম না জানলেও স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লার নাম মুখস্থ।এ বিষয়ে বরিশালের কর আইনজীবীরা একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে কর কমিশনারকে অবগত করানোর পরেও কোন এক অদৃশ্য কারণে তিনি বহাল তবিয়তে থেকে যান বলে একাধিক আইনজীবী জানিয়েছে। আরও পড়ুন: বরিশাল কর অঞ্চল অফিসে ৫ ভাইয়ের রাজত্ব সম্প্রতি হেমায়েত উদ্দিন নামে একজন এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট রতন মোল্লার দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে লিখিত আবেদন করেছেন।আবেদনে তার ভয়ংকর দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়।আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বরিশালের বেশিরভাগ ডাক্তারদের ফাইল করেন মাহমুদুর রহমান তপু নামক একজন এ্যাডভোকেট। তার বোনের বিবাহে সহযোগিতা করে রতন মোল্লা তার খুব কাছের লোক হয়ে গেছেন। তপু এবং রতন মোল্লা যোগসাজসে বেশিরভাগ ডাক্তারদেরকেই বিপদগ্রস্থ করেন। কোনো কোনো ডাক্তারদের অফিসে ডেকে বড় অঙ্কের ঘুসের বিনিময়ে দফারফা করেন। এক্ষেত্রে রাজস্বের পরিবর্তে সবটাই তাদের নিজস্ব। লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়,তদন্ত করলেই যার সত্যতা পাওয়া যাবে। রতন মোল্লার ক্ষমতার প্রভাবে তার ভাই নাইটগার্ড ইব্রাহিম দীর্ঘদিন যাবৎ সার্কেল-১৬ লালমোহনে কর্মরত। তার আরেক ভাই লিটন মোল্লা নোটিশ সার্ভার, কর সার্কেল-১৯, গলাচিপায়। রতন মোল্লা ও তার ভাই ইব্রাহিম মোল্লা, লিটন মোল্লাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি -অনিয়মের ব্যাপারে ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা মোঃ আতাহার উদ্দিন।এছাড়া রতন মোল্লার বিরুদ্ধে কর আইনজীবীগন রেজুলেশন করে অভিযোগ দিয়েছিলেন কর কমিশনারের নিকট।সর্বশেষ চলতি বছরের ১০ আগষ্ট এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: বরিশাল নগরীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বরিশাল জিলা স্কুল-এর প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম। আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াত হয়ে সর্বশেষ বিএনপির ছায়াতলে যাওয়ার অভিযোগে তাকে ঘিরে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। দলবদলের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, গত সতেরো বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি নিজেকে শেখ মুজিবুর রহমান-এর আদর্শের সৈনিক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে একাধিক বই রচনা করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি প্রকাশ্যে নিজেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বরিশাল সদর পাঁচ আসনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার-এর বাসভবনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে গেলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সরকারি প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগ বরিশালে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নবনির্বাচিত এমপিকে এভাবে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা জানাননি। অভিজ্ঞ মহলের মতে, শপথ গ্রহণের আগে এ ধরনের শুভেচ্ছা প্রটোকলবিরোধী। সমালোচকদের অভিযোগ, আগেভাগেই রাজনৈতিক আনুগত্য প্রকাশ করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন নুরুল ইসলাম। অতীতের বিতর্ক বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জিলা স্কুল মাঠে বিএনপির সমাবেশ ঠেকাতে তিনি কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট অভিযোগটি করা হয়েছিল বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানা-য়। যদিও নুরুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, তিনি কখনো বিএনপির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। দুর্নীতি ও বদলির ইতিহাস স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ আমলে নিজেকে বঙ্গবন্ধুর অনুসারী পরিচয় দিয়ে বরিশাল জিলা স্কুলে প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। পরবর্তীতে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে বদলি করে পাঠানো হয় ঝালকাঠি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়-এ। সেখানেও অনিয়ম ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুনরায় বরিশাল জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। জামায়াত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জামায়াত-ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ‘রেটিনা কোচিং সেন্টার’-কে জিলা স্কুলের কয়েকটি কক্ষ ভাড়া দেন পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। বিষয়টি নিয়ে তখন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতার বক্তব্য এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, “স্বৈরাচারি আমলে সুযোগ-সুবিধা নেওয়া কেউ যদি খোলস পাল্টে অবৈধ স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। এরা শিক্ষক রূপে ব্যবসার ধান্দা করে, না হলে সবসময় ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয় খুঁজত না।” আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতা, জামায়াত সমর্থন এবং সর্বশেষ বিএনপি নেতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা—এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগে নুরুল ইসলাম এখন বরিশাল নগরীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার সুস্পষ্ট লিখিত ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সময়ে প্রশাসনিক ও শিক্ষাঙ্গনে দলীয় প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এই ঘটনা। কে এই বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বরিশালের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন বহুল সমালোচিত ও বিতর্কিত শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম। নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জড়িত এই শিক্ষকের নিয়োগে শিক্ষার্থী-অভিভাবক মহলে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নারী কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির অভিযোগ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের পরিবর্তে তিনি সবসময় সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে তৎপর ছিলেন। ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় আলোচিত হয়ে পড়েন তিনি। এমনকি এক অভিজাত হোটেলে নারীসহ ধরা পড়ার ঘটনাও তাকে বদলির মুখে ঠেলে দেয়। ক্ষমতার প্রভাব খাটানো বিভিন্ন সময়ে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় টিকে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, মাদারীপুরে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ও ঝালকাঠিতে আমির হোসেন আমুর প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নানা অনিয়ম আড়াল করেছেন। শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বই লিখে তিনি ‘মুজিববাদী প্রচারক’ হিসেবে পরিচিতি নিলেও সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত ঘরানার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বরিশাল জিলা স্কুলে যোগদানের পরপরই তিনি তিনটি ক্লাস বন্ধ রেখে রোদে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা নেন। অডিটরিয়াম থাকা সত্ত্বেও এমন আয়োজন করায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এর আগে ঝালকাঠিতেও একইভাবে শিক্ষার্থীদের দিয়ে সংবর্ধনা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বরিশাল জিলা স্কুলে ছাত্রদের কাছ থেকে আইসিটি বাবদ মাসিক টাকা নেওয়ার পাশাপাশি এককালীন অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও স্কুল উন্নয়নের নামে ভুয়া বিল ও ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার প্রমাণ মিলেছে। নিয়োগ পরীক্ষার সম্মানী আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরিসহ নানা অভিযোগে বারবার সমালোচিত হয়েছেন তিনি। আন্দোলন দমনে ভূমিকা ২০২৪ সালের আগস্টে যখন দেশব্যাপী ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন চলছিল, তখন ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনরত নুরুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নিতে না দিতে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে জোর করে বিদ্যালয়ে আটকে রাখেন। সমালোচনার ঝড় বিগত আওয়ামী সরকারের দালাল খ্যাত নুরুল ইসলাম দলীয় প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিয়ম-নীতির কোনরুপ তোয়াক্কা না করে সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান এর সাথে গোপনে স্ব-পরিবারে হজ পালন করেন। এমনকি দেশের বাইরে অবস্থানকালীন সময়ে অর্ধ বেতন এর নিয়ম-নীতিকে লঙ্ঘন করে তুলেছেন পুরো মাসের বেতন। সরকারের অনুমতি ছাড়া হজ পালন করার বিষয়ে ইসলামের ধর্মীয় ব্যাখ্যা জানতে চাইলে জিলা স্কুলের পেশ ইমাম ও খতিব মুফতি আব্দুল কাদের কাশেমী বলেন, সরকারি চাকুরীজীবিরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত হজ পালন করলে স্পষ্টতই গুনাহের কাজে শামিল হবেন। এমনকি হজের তথ্য গোপন করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করলে সেই টাকাও হারাম বলে গন্য হবে। এদিকে একের পর এক চাঞ্চল্যকর দূর্নীর্তির তথ্য রয়েছে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিনা টেন্ডারে বিক্রি করেছেন স্কুল কম্পাউন্ডের শতবর্ষী গাছ। এছাড়াও দেড় লক্ষ টাকার কম্পউিটার, অত্যাধুনিক টেলিভিশন আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুল ইসলাম বলেন, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের সাথে দলীয় কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করতে হয়। এছাড়া কতিপয় মানুষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। উল্লেখ্য, জিলা স্কুলের নতুন ছয়তলা ভবন করার জন্য সীমানা নির্ধারনী সভা হয়। ওই সভায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনিতা রানি হালদার, সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব, মিজানুর রহমান খান ও সিনিয়র শিক্ষক ফারুক আলম অভিযোগ করেন সাবেক প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম স্কুল কম্পাউন্ডের পিছনের শতবর্ষী ৩ টি রেইনট্রি গাছ বিনা টেন্ডারে বিক্রি করেন। জানা গেছে, ২০২৩ সালে রমজান মাসের ছুটি চলাকালীন সময়ে এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় ওই গাছ তিনটি বিক্রি করে দেন। এ বিষয়ে স্কুলের অফিস সহায়ক (নৈশ প্রহরী/দাড়োয়ান) আঃ জব্বার জানান, প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের সময়ে গাছগুলো কাঁটা হয়েছে। শুনেছি টেন্ডার ছাড়াই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ২০২২ সালের জুলাই মাসে স্কুলের ফান্ড থেকে লাখ টাকা মূল্যের স্যামসাং ব্রান্ডের একটি টেলিভিশন ক্রয় করার কিছুদিন পর মেরামতের কথা বলে টিভিটি বাসায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্কুল থেকে বদলি হয়ে গেলেও টিভি আর ফেরত দেয়নি তিনি। এছাড়াও স্কুলের ফান্ড থেকে ১টি ল্যাপটপ কম্পিউটার, ১টি ডেক্সটপ কম্পিউটার ও একটি প্রিন্টার মোট একলাখ বায়ান্ন হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করে কিন্তু ল্যাপটপ ও ডেক্সটপ কম্পিউটার দুইটি আর স্কুলে জমা দেয়নি নুরুল ইসলাম। অন্যদিকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিফিন বাবদ খরচেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। টিফিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চাপ প্রয়োগ করে কম দামে টিফিন সরবরাহ করা হতো এবং মাস শেষে নিজের ইচ্ছামত বাড়িয়ে টিফিনের বিল-ভাউচার করে অর্থ আত্মসাত করারও অভিযোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে ঝালকাঠি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছিল তাকে। এর আগে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি নারী কেলেঙ্কারির মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ঝালকাঠীর এক অভিজাত হোটেলে নারীসহ ধরা পড়লে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পালিয়ে এসে বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছিলেন। পরে তাকে বরগুনা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। কিন্তু বরগুনাতেও তিনি একই ধরনের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে তাকে দুই দিন অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে হয়েছিল। বরগুনাতে নানা অঘটনের জন্ম দিয়ে কয়েক মাস পরই বদলি হন মাদারীপুর ইউনাইটেড সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে। মাদারীপুরে অবস্থানকালে, নুরুল ইসলামের দুর্নীতি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা শাজাহান খানের সাথে পারিবারিক সখ্যতা গড়ে তুলে নাম ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। তবে তার এই অনিয়ম ও দুর্নীতি স্থানীয় জনগণের চোখ এড়াতে পারেনি। তাদের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে তাকে বরিশালে বদলি করা হয়। এরপর ২০২১ সালে বরিশাল জিলা স্কুলে যোগদান করেন। বরিশাল জিলা স্কুলে যোগদানের পর সুচতুর নুরুল ইসলাম সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ ও সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর জাহিদ ফারুকের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। এরপরই লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নানা অনিয়য়ে জড়িয়ে পড়েন তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকসহ সিন্ডিকেট করে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেন। স্কুলের ছাত্রদের কাছ থেকে প্রতি মাসে আইসিটি বাবদ ২০ টাকা করে আদায় করার পরেও এককালীন ছাত্র প্রতি ২৪০ টাকা আদায় করতেন যা সম্পূর্ণরূপে আইন পরিপন্থী এবং এই টাকার হিসাব কোন শিক্ষকই তখন জানতেন না। এছাড়াও ভুয়া বিল করে স্কুলের উন্নয়নের নামে বিভিন্ন ফান্ডের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি। সরকারি বিধি অনুযায়ী খরচ করার বিধান থাকলেও তিনি ওই বিধানের তোয়াক্কা না করে লোক দেখানো কিছু কাজ করে বেশিরভাগ টাকা পকেটস্থ করেছিলেন এবং শিক্ষকদের জোরপূর্বক ভাউচারে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। স্কুলের ক্রীড়া ফান্ড থেকে নিজের ও পরিবারের জন্য মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এমনকি বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের কারনে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। ২০২৩ সালের মাসে বরিশাল-২ আসনের (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম তালুকদারের নির্দেশে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত রাখায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি। যা বিভিন্ন পত্রিকায় খবরের শিরোনাম হয়েছিল। এছাড়াও বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আগের রাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র সরবরাহের অসংখ্য অভিযোগও রয়েছে নুরুল ইসলমের বিরদ্ধে । এছাড়াও স্কুলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বেসরকারী স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী না রেখে তাদের সম্মানী নিজেই আত্মসাত করতেন। এসব অপকর্ম আড়াল করতে নিজের ফেসবুক আইডিতে হরহামেসাই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের গুনকীর্তন চালিয়ে যেতেন এই শিক্ষক। এমনকি বঙ্গবন্ধুর নামে কয়েকটি বইও লিখেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালে ‘চেনায় মুক্তিযুদ্ধ অন্তরে বঙ্গবন্ধু’ ও ‘মার্চের চেতনা জন্ম-ভাসন স্বধীনতা’ নামে দুটি বই লিখে বরিশাল জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। মাদারীপুর ইউনাইটেড সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে নিজ খরচায় শেখ মুজিবের মুরাল নির্মান করেন। এছাড়াও বিভিন্ন পত্রিকায় ৭ মার্চের ভাষন, ১৫ আগষ্ট, শেখ মুজিবের জন্মদিনে নিয়মীত কলামও লিখেতেন এই শিক্ষক। শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা বলছেন, দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত একজন শিক্ষককে বরিশাল জিলা স্কুলের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক করা দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার পদোন্নতি ও পুনঃনিয়োগ নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে। শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবি বরিশাল জিলা স্কুলের মূল ফটকে স্থাপন করা হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম কারো সাথে আলোচনা না করেই ওই ছবির ওপরে নিজের স্বাক্ষর দিয়ে রেখেছেন। এর বিরোধিতা করলে তিনি সকলের সাথে খারাপ আচরন করেছেন।বঙ্গবন্ধুর ছবিতে সই করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জিলা স্কুলে আমিই প্রথম বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙিয়েছি। এজন্য বঙ্গবন্ধুর পায়ের কাছে একটি সই করেছি।