Brand logo light
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা, হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলা
ইসরায়েলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের জেরে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি— ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি তাদের সামরিক অভিযানের অংশ, যার নাম ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’


হাইফার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার দাবি

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন হামলায় ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

তাদের দাবি অনুযায়ী হামলার লক্ষ্য ছিল—

  • ইসরায়েলের হাইফা শহরের তেল ও গ্যাস শোধনাগার

  • জ্বালানি মজুদ ট্যাংক

  • তেলআবিবের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র

ইরানি সামরিক বাহিনী বলছে, এই হামলা ছিল তাদের সামরিক অভিযানের ৩৩তম ধাপ

তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে তা ইসরায়েলের শিল্প ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


পাল্টা হামলার যুক্তি

ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের তেল ডিপোতে ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে—

“ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার জবাব দিতেই এই প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযান।”

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোও দাবি করছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কৌশলগত অবকাঠামো, বেসামরিক এলাকা নয়।


সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আরেকটি ঘটনা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের বিরুদ্ধে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে—

  • দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে

  • নাগরিক ও অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে

  • যেকোনো হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত দেশটি

এখনো পর্যন্ত কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।


হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ

এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরেকটি খবর।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানো শুরু করেছে

সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—

  • গত কয়েক দিনে কয়েক ডজন নৌমাইন স্থাপন করা হয়েছে

  • ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে

  • চাইলে হাজার হাজার মাইন বসানোর সক্ষমতা রয়েছে

এই তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে—

  • বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়

  • প্রতিদিন কয়েক কোটি ব্যারেল তেল ও গ্যাস ট্যাংকার চলাচল করে

যদি এখানে মাইন পাতা হয় বা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তবে—

  • বৈশ্বিক তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে

  • আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট দেখা দিতে পারে

  • গালফ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে


বিপ্লবী গার্ডের হুঁশিয়ারি

গত সপ্তাহে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) এক সতর্কবার্তায় বলেছিল—

“হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো শত্রু জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে ধ্বংস করা হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু সামরিক হুমকি নয়, বরং আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে।


ইরানের নৌ সক্ষমতা

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নৌবাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

তাদের কাছে রয়েছে—

  • নৌমাইন

  • দ্রুতগতির আক্রমণ নৌকা

  • উপকূলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল

  • বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন বোট

এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে তারা খুব দ্রুত ওই অঞ্চলে বড় ধরনের নৌ অবরোধ তৈরি করতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিনের।

বিশেষ করে—

  • গালফে মার্কিন নৌবহর

  • কাতার ও বাহরাইনে সামরিক ঘাঁটি

  • সৌদি আরব ও আমিরাতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

এই কারণে হরমুজ প্রণালীতে কোনো সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে।


তেলের বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত বাড়ে, তবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে।

সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হলো—

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি,জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত,শিপিং বীমা খরচ বেড়ে যাওয়া,গালফ অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া


মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা?

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, উত্তেজনা দ্রুত বাড়লেও এখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়নি।

তবে তিনটি বিষয় পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে—

  • সরাসরি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত

  • গালফ রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ

  • আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি

যদি এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।


আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলোচনার চেষ্টা করছে।

বিশেষ করে—

  • ইউরোপীয় ইউনিয়ন

  • যুক্তরাষ্ট্র

  • গালফ সহযোগিতা পরিষদ

তারা উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে।


 

বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে—

১. সীমিত সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে পারে
২. কূটনৈতিক চাপ বাড়তে পারে
৩. গালফ অঞ্চলে নৌ নিরাপত্তা জোরদার হতে পারে

তবে যদি হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।


Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

নিজেস্ব প্রতিবেদক

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

View more
ইসরায়েলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা, হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের জেরে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি— ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি তাদের সামরিক অভিযানের অংশ, যার নাম ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’। হাইফার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার দাবি ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন হামলায় ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী হামলার লক্ষ্য ছিল— ইসরায়েলের হাইফা শহরের তেল ও গ্যাস শোধনাগার জ্বালানি মজুদ ট্যাংক তেলআবিবের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ইরানি সামরিক বাহিনী বলছে, এই হামলা ছিল তাদের সামরিক অভিযানের ৩৩তম ধাপ। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে তা ইসরায়েলের শিল্প ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পাল্টা হামলার যুক্তি ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের তেল ডিপোতে ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে— “ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার জবাব দিতেই এই প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযান।” ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোও দাবি করছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কৌশলগত অবকাঠামো, বেসামরিক এলাকা নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আরেকটি ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের বিরুদ্ধে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে— দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে নাগরিক ও অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে যেকোনো হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত দেশটি এখনো পর্যন্ত কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরেকটি খবর। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানো শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী— গত কয়েক দিনে কয়েক ডজন নৌমাইন স্থাপন করা হয়েছে ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে চাইলে হাজার হাজার মাইন বসানোর সক্ষমতা রয়েছে এই তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে— বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় প্রতিদিন কয়েক কোটি ব্যারেল তেল ও গ্যাস ট্যাংকার চলাচল করে যদি এখানে মাইন পাতা হয় বা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তবে— বৈশ্বিক তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট দেখা দিতে পারে গালফ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে বিপ্লবী গার্ডের হুঁশিয়ারি গত সপ্তাহে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) এক সতর্কবার্তায় বলেছিল— “হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো শত্রু জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে ধ্বংস করা হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু সামরিক হুমকি নয়, বরং আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে। ইরানের নৌ সক্ষমতা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নৌবাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। তাদের কাছে রয়েছে— নৌমাইন দ্রুতগতির আক্রমণ নৌকা উপকূলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন বোট এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে তারা খুব দ্রুত ওই অঞ্চলে বড় ধরনের নৌ অবরোধ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের উদ্বেগ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে— গালফে মার্কিন নৌবহর কাতার ও বাহরাইনে সামরিক ঘাঁটি সৌদি আরব ও আমিরাতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই কারণে হরমুজ প্রণালীতে কোনো সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে। তেলের বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত বাড়ে, তবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে। সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হলো— আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি,জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত,শিপিং বীমা খরচ বেড়ে যাওয়া,গালফ অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা? বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, উত্তেজনা দ্রুত বাড়লেও এখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়নি। তবে তিনটি বিষয় পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে— সরাসরি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত গালফ রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি যদি এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলোচনার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে— ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্র গালফ সহযোগিতা পরিষদ তারা উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে।   বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে— ১. সীমিত সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে পারে ২. কূটনৈতিক চাপ বাড়তে পারে ৩. গালফ অঞ্চলে নৌ নিরাপত্তা জোরদার হতে পারে তবে যদি হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১১, ২০২৬ 0
যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ওয়াশিংটন নয়, তেহরানই নির্ধারণ করবে

যুক্তরাষ্ট্র -দখলদার ইসরাইল–ইরান যুদ্ধ: তেলের দাম, মূল্যস্ফীতি ও মার্কিন অর্থনীতিতে নতুন সংকট

ইরানের হামলায় দুই হাজার ইসরাইলি হাসপাতালে ভর্তি

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে, ইরানে নিহত ১২০০ ছাড়াল — ইসরাইলে ১৯২৯ আহত

মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে যুদ্ধ জোরদার,মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে প্রতিহত করছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে তীব্র যুদ্ধ, তেহরান ছেড়ে যাচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ ,ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার জবাবে কঠোর পাল্টা হুমকি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার পর ইরান যুদ্ধ ত্যাগের অঙ্গীকার জোরদার করেছে। খাতাম আল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় দপ্তরের ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল কিওমারস হেইদারি বলেন, তার দেশ লক্ষ্য পূরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তীব্র আঘাত না হানা পর্যন্ত যুদ্ধ ত্যাগ করবে না। ২৮শে ফেব্রুয়ারি হামলার পর তেহরান প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে। ইরান এখন পর্যন্ত ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিব ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ ইরানের পাশে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছে। উভয়ে মিলে তেল আবিবে হামলা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত মহাসাগরে যুদ্ধের ছড়িয়ে পড়া ভূমধ্যসাগরের উত্তেজনা ভারত মহাসাগরে পৌঁছেছে। সাইপ্রাসে ফ্রান্স রণতরী মোতায়েন করেছে, যুক্তরাজ্য অ্যান্টি-মিসাইল সরঞ্জাম পাঠিয়েছে, এবং জার্মানি মৌন সমর্থন দিয়েছে। বুধবার ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত ইরানের জাহাজে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হিসেবে ইরান একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের সমর্থিত কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে পারবে না। এদিকে যুদ্ধের তীব্রতায় স্কুল ও হাসপাতালেও ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত অন্তত ১০৫টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে তেহরান ছাড়ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দুইদিনে লক্ষাধিক মানুষ দেশ ছাড়েছে। ইরানের তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় পরিবর্তন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করার মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের শাসনব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তন। তবে, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয়নি। উল্টো, ইরান ও হিজবুল্লাহ পাল্টা আঘাত চালাচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হলে ইরান আলোচনায় যেতে রাজি নয়। আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তার মতে, তথ্য বিকৃতি পরমাণু আলোচনাকে ব্যর্থ করেছে। হতাহতের সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত ইরানে ১২৩০ জন নিহত হয়েছেন। মিনাবে স্কুলে হামলায় ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলে ১১ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ জন, কুয়েতে দুই সেনা নিহত হয়েছেন। লেবাননে ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন ও ওমান উপকূলের কাছে এক জন নিহত হয়েছেন। ট্রাম্পের যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ মার্কিন কংগ্রেসের সিনেটে ট্রাম্পের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব ৪৭-৫২ ভোটে খারিজ হয়েছে। রিপাবলিকানরা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর ফলে ট্রাম্পের সামরিক আকাঙ্ক্ষা কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণে আনা ব্যর্থ হলো এবং যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের সমর্থন স্পষ্ট হলো।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৬, ২০২৬ 0
তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে: জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও রেমিট্যান্সে বড় ঝুঁকি

বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী

ইরানের বিধ্বংসী আঘাতে ৬৫০ মার্কিন সেনা হতাহত, পিছু হটল বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী

মাইক্রোসফটের কার্যালয়ে হামলা-দোহায় ফের বিস্ফোরণ

ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মাইক্রোসফট অফিসে আঘাতের দাবি; স্পেন-যুক্তরাজ্যের ভিন্ন অবস্থান, ইরানের পাশে চীন

ইসরাইলে দফায় দফায় মিসাইল হামলা
ইসরাইলে দফায় দফায় মিসাইল হামলা,ইরানের সরকারি রেডিও-টেলিভিশন ভবনে হামলা:মাথা নত করবে না ইরান

ইরানে নতুন করে ভয়াবহ হামলা হয়েছে। সীমান্তবর্তী একটি রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে এ হামলা হয়। এতে ৪৩ সেনা নিহত হয়েছেন। এরপরই ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে ইরানও। জানা গেছে, ইসরাইলকে লক্ষ্য করে নতুন করে মিসাইল হামলা শুরু করেছে ইরান। গত এক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত তিনবার মিসাইল ছুড়েছে দেশটি। যার প্রভাবে ইসরাইলের বেশিরভাগ জায়গায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত পৌনে ২টার দিকে জানায়, ইরান নতুন করে মিসাইল ছুড়েছে। এতে করে দক্ষিণাঞ্চলে সাইরেন বাজছে। জনগণ আতঙ্কিত হয়ে বাংকারে লুকাচ্ছেন। অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে, একটি মিসাইল সরাসরি তেলআবিবে আঘাত হেনেছে। তবে বাকি মিসাইলগুলো আকাশে ভূপাতিত করে দেওয়া হয়েছে কি না সেটি নিশ্চিত নয়। আইডিএফ মিসাইল প্রতিহতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখেছে। ইরানের সরকারি রেডিও-টেলিভিশন ভবনে হামলা ইরানের সরকারি রেডিও ও টেলিভিশন সদরদপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। তবে পুরো সদরদপ্তরের বদলে এটির আংশিক জায়গায় হামলা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়াত্ত্ব টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে সম্প্রচার এখনো সক্রিয় আছে বলে জানিয়েছে তারা। কর্তৃপক্ষ বলেছে, “প্রযুক্তি দল ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে।” গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও টেলিভিশন ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। তবে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা আবার সম্প্রচারে ফিরেছিল।   ইরানে দূতাবাস বন্ধ করে দিল আরব আমিরাত ইরানে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটিতে মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান একাধিকবার হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার দিবাগত রাতে এক বিবৃতিতে বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানে তার দূতাবাস বন্ধ করার এবং রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের সকল কূটনৈতিক সদস্যকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছে। আমরা আমাদের ভূখণ্ডে ইরানের ন্যাক্কারজনক মিসাইল হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমিরাতের ওপর ইরানের 'সরাসরি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ' মিসাইল হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের হামলা আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর এক নগ্ন আগ্রাসন, যা আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর, বন্দর এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং নিরপরাধ সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এদিকে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মেহরানে নতুন করে ভয়াবহ হামলা হয়েছে। সীমান্তবর্তী একটি রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে এ হামলা হয়। এতে ৪৩ সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, রোববার (১ মার্চ) ইরাকের সীমান্তবর্তী ওই শহরটিতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই সীমান্তরক্ষী। এছাড়াও হামলায় আশপাশের কিছু ভবনও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের বরাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের এজেন্টরা এই বোমা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ। চলমান মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় ইরানের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের তালিকা প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, এ তালিকায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নামও রয়েছে।   দুই শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল তেহরান   ইরানের রাজধানী তেহরানে আরও দুটি প্রবল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ তথ্য জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা এএফপির দুজন সাংবাদিক। বিস্ফোরণের ধাক্কায় ওই দুই সাংবাদিকের আবাসিক ভবনের জানালা কেঁপে ওঠেছে, যারা একে অপরের থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিলেন। রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৯টায় এই বিস্ফোরণ দুটি ঘটে। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছিল যে তাদের সম্প্রচার কেন্দ্রকে হামলার লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে এখনো স্পষ্ট নয়, এই বিস্ফোরণের প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল। তেহরানে অবস্থানরত ওই দুই সাংবাদিক বলেন, হামলাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থানে থেকে তারা হামলার তীব্রতা অনুভব করেন। হামলার সময় তাঁদের অ্যাপার্টমেন্টের জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে। স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। ঠিক একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছিল যে, তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভশনের সম্প্রচার সচল ছিল। এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, তারা নতুন দফায় তেহরানে হামলা শুরু করেছে।   মাথা নত করবে না ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ-সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল মুলরয় আল জাজিরাকে বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করার পর সেটাকে ভেনেজুয়েলার পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ‘রেজিম পরিবর্তন’ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে ইরানের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় শাসনব্যবস্থা মূলত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। তার অধীনে তুলনামূলকভাবে তার দুর্বল সহযোগীরা ছিলেন। কিন্তু ইরানে সুপ্রিম লিডার থাকলেও, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে, সামরিক বাহিনীতে, ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসে (আইআরজিসি) এবং গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে একাধিক ক্ষমতার কেন্দ্র রয়েছে। ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে মুলরয় বলেন, সুপ্রিম লিডারকে সরিয়ে দেয়া হলেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দাবিতে ‘রাজি’ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, তারা (ইরান) বরং বর্তমান বক্তব্য ও সাম্প্রতিক বিবৃতির ভিত্তিতে পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করতে পারে এবং পুরো অঞ্চলকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে পরিণত করতে পারে। এর মাধ্যমে শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। মুলরয় আরও বলেন, তাদের (ইরানের) হাতে ড্রোন রয়েছে। সেগুলো আমরা দুবাই ও বাহরাইনের বিভিন্ন ভবনে আঘাত হানতে দেখছি। তারা এগুলো ব্যাপক হারে উৎপাদন করতে পারে এবং বহু বছর ধরে রাশিয়াকেও তারা তা সরবরাহ করে আসছে। এটি একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তিনি আরও বলেন, অবশ্যই এসব ড্রোন সাধারণত সহজেই ভূপাতিত করা যায়। কিন্তু আমরা দেখেছি অনেকগুলো লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। হয়তো তারা একসঙ্গে এত বেশি সংখ্যায় পাঠিয়েছিল যে, সবগুলো প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিস্থিতি দেখে তাই মনে হচ্ছে এবং এটিই সম্ভবত তাদের সবচেয়ে বড় হুমকি।   ফের সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সৌদি আরব রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে ইরানি এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে সৌদি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মার্কিন বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সৈন্যরা অবস্থান করছেন। ইরানি ওই হামলার বিষয়ে অবগত উপসাগরীয় একটি সূত্র এএফপিকে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।   হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা হিজবুল্লাহর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে হেজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম বলেছেন, এই গোষ্ঠী সম্মান ও প্রতিরোধের ক্ষেত্র ত্যাগ করবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে অপরাধের সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে অভিহিত করেছেন কাসেম। তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার নির্দেশনা ও সমর্থনের ওপর আস্থা রেখে আমরা এই আগ্রাসন মোকাবিলায় আমাদের কর্তব্য পালন করবো। হিজবুল্লাহ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি শিয়া মুসলিম সংগঠন; যেটি লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে।   মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের   পারস্য উপসাগরে মোতায়েনরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধে মার্কিন ওই রণতরীতে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে ওই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বলেছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ইরানের এই বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘‘জল এবং স্থল—উভয়ই হবে সন্ত্রাসী আগ্রাসনকারীদের কবরস্থান।’’ তবে পারস্য উপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার যে দাবি ইরান করেছে, তা নাকচ করে দিয়েছে পেন্টাগন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, আব্রাহাম লিঙ্কন আক্রান্ত হয়নি। যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, সেগুলো আব্রাহাম লিঙ্কনের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেনি।’’ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদরদপ্তর ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের   ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদরদপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। রোববার (১ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আমেরিকার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে। আইআরজিসির এখন আর কোনো সদরদপ্তর নেই। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আরও বলেছে, গত ৪৭ বছরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক হাজারেরও বেশি আমেরিকানকে হত্যা করেছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহৎ আকারের হামলা ‘সাপের মাথা কেটে ফেলেছে’।এর আগে, ইরানের আকাশসীমায় প্রায় ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বা ‘এয়ার সুপ্রিমেসি’ প্রতিষ্ঠার দাবি করে ইসরায়েলিবিমান বাহিনী (আইডিএফ) এবং মার্কিন বিমান বাহিনী (ইউএসএএফ)।  

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ২, ২০২৬ 0
ইরানের রাস্তায় খামেনির হাজার হাজার সমর্থক

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত: ইরানসহ বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত — ৪০ দিনের শোক ঘোষণা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, ইরান বলছে বেঁচে আছেন

অর্থনীতি

Etihad Airways

Etihad Airways Joins Forces With McLaren Racing to Revolutionise Global Travel and Motorsport – Here’s How It Will Impact F1 and Beyond!

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0




অপরাধ

নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ

দুপক্ষের সংঘর্ষ নরসিংদীতে , গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও অম্লতা বেড়ে চলেছে।

১৫টি ‘জলবায়ু ঝুঁকি’তে আছে বাংলাদেশ

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0