Brand logo light
নির্বাচিত সংবাদ

ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে ভারতের নীরবতা : মোদী সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী - ২০১৬ সালের ছবি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী - ২০১৬ সালের ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ একেকটি পক্ষের সমর্থনে সরব হলেও ভারত সরকারের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সংযত। এই নীরবতা ঘিরেই দেশে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

ভারতের সরকারি অবস্থান: সংযম ও কূটনীতির আহ্বান

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতিতে “গভীরভাবে উদ্বিগ্ন” এবং সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে “গুরুতর উদ্বেগের বিষয়” বলে উল্লেখ করেন। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পাশাপাশি বাহরাইন, সৌদি আরব ও জর্ডানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও ফোনালাপ করেন।

তবে খামেনির মৃত্যু নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করায় প্রশ্ন উঠেছে—ভারত কি কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে, নাকি এটি ঘোষিত পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে অসঙ্গত?

ইসরায়েল সফর ও সময় নিয়ে বিতর্ক

সম্প্রতি ইসরায়েল সফর করেন নরেন্দ্র মোদী। সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক কৌশলগত চুক্তি হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বার্তা দেওয়া হয়।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা করে তাকে “বর্বরোচিত” বলে মন্তব্য করেছিলেন মোদী। ‘গাজা পিস ইনিশিয়েটিভ’-এর প্রতিও সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু সংঘাত ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সফরের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।

কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা

কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক উত্তর সম্পাদকীয় প্রবন্ধে মোদী সরকারের অবস্থানকে সংবিধানের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ভারতের ঐতিহাসিক পররাষ্ট্রনীতি সার্বভৌম সমতা, হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। ইরানের ওপর হামলা ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের নিন্দা না করা সেই নীতির সঙ্গে অসঙ্গত।

সোনিয়া গান্ধী আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৪ সালে ওআইসি-তে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনার প্রচেষ্টা ঠেকাতে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ-ও মোদীর ইসরায়েল সফরের সময় ও প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিশেষজ্ঞদের ভিন্নমত

দ্য টাইমস কুয়েতের এক্সিকিউটিভ ম্যানেজিং এডিটর র‍্যাভেন ডিসুজা মনে করেন, ভারত সামরিক অভিযানের অংশ না হলেও এই সময়ে ইসরায়েল সফর এড়ানো যেত। তার মতে, আরব দেশগুলো প্রকাশ্যে সমালোচনা না করলেও বিষয়টি নজরে রাখছে।

অন্যদিকে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শশাঙ্কের মতে, ইসরায়েল ভারতের দীর্ঘদিনের অংশীদার এবং কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত অনিল ত্রিগুনায়েত বলেন, ভারতের “ডি-হাইফেনেশন নীতি” স্পষ্ট—এক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করে না।

কৌশলগত ভারসাম্য না নীতিগত সরে আসা?

ভারত ঐতিহাসিকভাবে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে ইরানের সঙ্গেও সম্পর্ক ধরে রাখা একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্ন।

সমালোচকদের মতে, খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় নীরবতা ভারতের ঐতিহ্যবাহী অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত।

অন্যদিকে সরকারের সমর্থকদের মতে, এই নীরবতাই কৌশলগত পরিপক্বতা—যেখানে প্রকাশ্য বিবৃতির চেয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


 

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামছে না। ইরান ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে ভবিষ্যতে ভারত কীভাবে কূটনৈতিক পথ নির্ধারণ করবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

পশ্চিম এশিয়ার এই সংকট শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক রাজনীতির ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করছে—আর সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতিটি পদক্ষেপই আন্তর্জাতিক মহলে গভীরভাবে পর্যবেক্ষিত হচ্ছে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচিত সংবাদ

View more
মাজারে মাজারে মৌন আর্তনাদ
মাজারে মাজারে মৌন আর্তনাদ : রক্ষা পায়নি শতবর্ষী শাহ আলী থেকে নুরাল পাগলার দরবার,—কারা, কেন টার্গেট করছে সুফি ঐতিহ্য?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার মিরপুরে শতবর্ষী শাহ আলী বোগদাদির মাজারে মধ্যরাতের হামলা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি গত প্রায় দুই বছরে বাংলাদেশজুড়ে সুফি মাজার, দরবার শরীফ, বাউল আখড়া ও পাগল-ফকিরদের আস্তানায় সংঘটিত ধারাবাহিক হামলার নতুন সংযোজন। ভিডিওতে দেখা গেছে, লাঠিসোঁটা হাতে একদল লোক মাজারে জড়ো হওয়া ভক্তদের ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে। আতঙ্কে নারী-পুরুষ ছোটাছুটি করছেন। কয়েকজনকে মারধর করে বের করে দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ তুলেছেন, হামলাকারীদের একটি অংশ রাজনৈতিক পরিচয়ে সংগঠিত ছিল। যদিও অভিযুক্ত রাজনৈতিক দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশে কি সুফি ঐতিহ্য, বাউল সংস্কৃতি ও মাজারকেন্দ্রিক ধর্মীয় চর্চা ক্রমেই সংগঠিত আক্রমণের মুখে পড়ছে?   শাহ আলী মাজারে কী ঘটেছিল? মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত শাহ আলী বোগদাদির মাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে নিয়মিত জলসা বসে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তরা সেখানে জড়ো হন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক ও হাতে লাঠি নিয়ে একদল লোক হঠাৎ হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাজারসংলগ্ন খোলা জায়গায় মাদুর বিছিয়ে বসা ভক্তদের লক্ষ্য করেই হামলা শুরু হয়। হকারদের দোকানপাটও ভাঙচুর করা হয়। আতঙ্কে অনেকেই পালিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি। এই ঘটনার পর স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—এটি কি দেশজুড়ে চলমান মাজারবিরোধী সহিংসতার আরেকটি ধাপ?   হামলার পরিসংখ্যান: কতটা বিস্তৃত এই সহিংসতা? সুফি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৯৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য একত্র করলে দেখা যায়— শতাধিক মাজারে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়েছে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন কয়েক শত মানুষ বহু মাজার পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে অনেক জায়গায় ওরস, কাওয়ালি ও বাউল সংগীত বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। কুমিল্লা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।   হামলার ধরন: শুধু ভাঙচুর নয়, সাংস্কৃতিক দমনও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হামলাগুলোর ধরন প্রায় একই রকম: প্রথমে ভক্ত ও খাদেমদের মারধর করে সরিয়ে দেওয়া এরপর মাজারে ভাঙচুর লুটপাট কোথাও কোথাও অগ্নিসংযোগ কিছু ঘটনায় বুলডোজার দিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া বাউল গান, কাওয়ালি ও ওরস বন্ধে চাপ প্রয়োগ কিছু ঘটনায় মাইকিং করে লোক জড়ো করারও অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভক্তদের চুল-দাড়ি কেটে অপমান করার অভিযোগও এসেছে।   কেন টার্গেট মাজার? বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। ১. ধর্মীয় মতাদর্শগত সংঘাত মাজার সংস্কৃতির সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, কিছু মাজারে গান, ধূমপান, নারী-পুরুষের একসঙ্গে অবস্থান বা আচার ইসলামী শরিয়তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে সুফি অনুসারীরা বলছেন, মাজার হচ্ছে বহুত্ববাদী ও আধ্যাত্মিক চর্চার জায়গা, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অংশ নেয়। এই মতাদর্শগত দ্বন্দ্বই সহিংসতার বড় কারণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। ২. রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ ‘মাকাম’-এর প্রতিবেদনে কয়েকটি হামলায় রাজনৈতিক কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে। বিভিন্ন ঘটনায় ইসলামপন্থী দলগুলোর স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নাম উঠে এসেছে। যদিও অভিযুক্ত দলগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায় অস্বীকার করেছে। ৩. প্রশাসনিক শূন্যতা ও দায়মুক্তি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে বহু এলাকায় ‘মব’ হামলা বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অধিকাংশ ঘটনায় মামলা হয়নি, তদন্ত হয়নি বা বিচার হয়নি। ফলে দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।   বাউল ও সুফি সংস্কৃতির ওপর প্রভাব মাজারভিত্তিক সাংস্কৃতিক চর্চা বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের বড় অংশ। ওরস, কাওয়ালি, বাউলগান ও ফকিরি সাধনা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বহু মানুষের জীবিকা ও পরিচয়ের অংশ। কিন্তু হামলার পর— অনেক মাজারে গান বন্ধ ওরস স্থগিত শিল্পীরা বেকার খাদেম ও ভক্তরা পালিয়ে আছেন মাজার পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে বাউল শিল্পীরা বলছেন, তারা সংঘর্ষে জড়াতে চান না, কিন্তু ক্রমাগত ভয় ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছেন।   ঐতিহ্যের ওপর আঘাত আক্রান্ত মাজারগুলোর অনেকই শত শত বছরের পুরোনো। কিছু মাজার মুঘল আমল কিংবা মধ্যযুগীয় ইসলামী প্রচারের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। গবেষকদের মতে, এসব স্থাপনা শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়—এগুলো বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অংশ। কিছু মাজারে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের যাতায়াত ছিল। ফলে হামলাকে অনেকে সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের ওপর আঘাত হিসেবেও দেখছেন।   মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ১৯ মাসে দেশে ‘মব সন্ত্রাস’, ‘গণপিটুনি’, মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। আর বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় দুই মাসের কাছাকাছি সময়ে কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলার ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থান না নিলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে।   মাজার সংস্কৃতি   ইসলামী মরমীবাদের পরম্পরাগুলো তরিকা বা সিলসিলা নামে পরিচিত। প্রতিটি তরিকার মধ্যে পীর, ফকির ও পাগল ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সাধক দেখা যায়। আবার কলন্দরিয়া ও মাদারী তরিকা মূলত পাগলদের তরিকা। সেমেটিক ও ভারতীয় ঐতিহ্যে প্রাচীনকাল থেকে সাধকদের মধ্যে পাগলপন্থা একটি প্রবহমান ধারা। সবধরনের সামাজিকতা আর বিধি-বিধানকে পাশ কাটিয়ে স্রষ্টার প্রেমে মগ্ন পাগলদের সুফি পরিভাষায় বলা হয় 'মজ্জুব'। সুফি গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল হাদী ইসলামী ঐতিহ্যে পাগল-ফকিরি ধারার সূচনা প্রসঙ্গে বলেন, 'সুফি শব্দের উৎপত্তি নিয়ে কয়েকটি মত আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, "সুফফা" শব্দ থেকে সুফি শব্দের উদ্ভব। সুফফা হচ্ছে মসজিদে নববী সংলগ্ন একটি স্থান, সেখানে মক্কা থেকে হিজরত করে আসা একদল তরুণ অবিবাহিত মুহাজির দরিদ্রতার মধ্যে বসবাস করতেন। তাদের "আসহাব আল সুফফা", "আহলুস সুফফা" অথবা "আহলে সুফফা" বলা হয়। সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রাসুল (স.)। রাসুলের (স.) সাহচর্যের জন্য আহলে সুফফারা উন্মুখ হয়ে থাকতেন, এবাদতে মগ্ন থাকতেন। পাশাপাশি তারা ধর্ম, কৃষি ও শিল্পসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করতেন।' ড. হাদী আরও বলেন, 'আহলে সুফফাদের নিয়মিত খাবার জুটতো না। কারও কারও পোশাক ছিল ছেঁড়া। আহলে সুফফাদের উপহাস করে কেউ কেউ পাগল বলতো।' সুফিদের প্রার্থনাসহ তৎপরতা পরিচালনার কেন্দ্র দরবার শরীফ মূলত কমপ্লেক্স ধরনের হয়। একেকটি কমপ্লেক্সে মসজিদ, মাদ্রাসা, হেফজখানা, গ্রন্থাগার, এতিমখানা, লঙ্গরখানা, হাসপাতাল, অফিস, অতিথি নিবাস ও ভাণ্ডারকক্ষ থাকে। কোনো কোনো দরবার শরীফের রয়েছে একাধিক শাখা দরবার ও খানকাহ। সুফি ঐতিহ্যে যেমন দরবার শরীফ, তেমনি বাউল-ফকিরদের মধ্যে রয়েছে আখড়া-আশ্রম প্রতিষ্ঠার রেওয়াজ। বাউল-ফকিরদের আখড়া ও আশ্রমের পরিসর সাধারণত দরবারের তুলনায় ছোট হয়। অনেকক্ষেত্রে বসতবাড়ির এক কোণে একটি ঘর তৈরির পর পরিণত করা হয় আখড়া বা আশ্রমে। এ ছাড়া, পাগল-ফকিরদের কিছুটা স্থায়ী অবস্থানস্থলকে বলা হয় আস্তানা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ইসলামী ঐতিহ্যের মরমী ধারার চার ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে পাগল-ফকিরদের, বিশেষ করে পাগলদের মাজার। যেখানে ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার প্রবেশাধিকার এবং প্রার্থনার অংশ হিসেবে নিয়মিত সংগীতচর্চা ছিল। অনুষ্ঠিত হতো বাৎসরিক ওরস ও মেলা। এ প্রসঙ্গে কবি এবং সুরেশ্বরী তরিকার ফকিরি ধারা অনুশীলনকারী সৈয়দ তারিক বলেন, 'মাজারের নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। এখানে ভক্তিবাদী সাংস্কৃতিক আবহ বিরাজ করে। মাজারে সব ধর্মের, সব বর্ণের মানুষ আসে। এখানে নারীদের প্রবেশাধিকার আছে। যার যেভাবে মন চায়, সেভাবেই প্রার্থনা করে। কোনো ধর্মীয় কঠোরতা নেই। মাজার হচ্ছে আধ্যাত্মিক মুক্তাঞ্চল।' 'মাজার ভাঙার মাধ্যমে সংগীতচর্চা বন্ধ, নারীদের প্রবেশ ও ভক্তি প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। জোর করে শরিয়ত সিস্টেম চাপিয়ে দিয়ে মাজারের নিজস্ব সংস্কৃতি ধ্বংসের পায়তারা চলছে। নিজের নিয়ম অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা অগণতান্ত্রিক। মাজারে জোর-জবরদস্তি করলে ফল ভালো হবে না। শরীয়ত বনাম মারিফত লড়াই বেঁধে যেতে পারে', বলেন তিনি।   প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অভিযোগ পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারও হয়েছে। তবে মানবাধিকারকর্মী ও গবেষকরা বলছেন, ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ঘটনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অনেক ভুক্তভোগী নিরাপত্তাহীনতার কারণে মামলা করতেও সাহস পাচ্ছেন না।   সামনে কী আশঙ্কা?   বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ, এই হামলাগুলো এখন আর শুধু ধর্মীয় স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক পরিচয়, আধ্যাত্মিক স্বাধীনতা ও সামাজিক সহনশীলতার প্রশ্নে রূপ নিচ্ছে। শাহ আলী মাজারে মধ্যরাতের হামলার পর তাই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে—বাংলাদেশ কি তার দীর্ঘদিনের সুফি-লোকজ ঐতিহ্যের ওপর সংগঠিত চাপের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
বিদেশে অর্থ পাচার

পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে উদ্যোগ গ্রহণ

ইকনো বলপেন মালিক কাজী সালিমুল হক কামাল

৩ টাকার কলমে স্বপ্ন: ‘ইকনো কামাল’-এর গল্প,ব্যবসা থেকে রাজনীতির উত্থান

ঝালকাঠিতে জরাজীর্ণ ঘরে নির্মল বেপারীর মানবেতর জীবন

ঝালকাঠিতে জরাজীর্ণ ঘরে নির্মল বেপারীর মানবেতর জীবন: আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসনের দাবি

উধাও ভাইরাল তাজুর ফেসবুক পেজ ‘তাজু ভাই ২.০’
ভাইরাল থেকে অদৃশ্য—‘তাজু ভাই ২.০’ পেজের হঠাৎ উধাও হওয়ার পেছনের গল্প

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে আসা এক সাধারণ দিনমজুর—তাইজুল ইসলাম তাজু। অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ফেসবুক পেজ ‘তাজু ভাই ২.০’ হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে গেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে এক মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার থাকা পেজটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাটি এখন স্থানীয় পর্যায় ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে কৌতূহল ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হঠাৎ উত্থান: ট্রল থেকে প্রশংসা মাত্র ১০ হাজারের কম ফলোয়ার নিয়ে চলা পেজটি গত ২৮ মার্চের পর থেকে আচমকাই আলোচনায় আসে। এর পেছনে ছিল ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশিত একটি ভিডিও—“সরকারি রেটে জিলাপি বিক্রি হচ্ছে”। চরনারায়ণপুরের একটি স্থানীয় বাজারে ধারণ করা সেই ভিডিওতে তাজুর উপস্থাপনা, স্বতঃস্ফূর্ত ভাষা এবং ব্যতিক্রমী স্টাইল দ্রুত দর্শকদের নজর কাড়ে। প্রথমদিকে ভিডিওটি নিয়ে ট্রল হলেও, খুব দ্রুত সেটি প্রশংসায় রূপ নেয়। কারণ, ভিডিওর আড়ালে উঠে আসে স্থানীয় মানুষের বাস্তব সমস্যা, বাজার ব্যবস্থার অসঙ্গতি এবং গ্রামীণ জীবনের অনাবৃত চিত্র। ভাইরাল বিস্ফোরণ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই তাজুর পেজে ফলোয়ার সংখ্যা লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ে তা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়—যা বাংলাদেশের ডিজিটাল কনটেন্ট জগতে বিরল ঘটনা। এই সময়ের মধ্যে তাজুর আরও কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি চরাঞ্চলের নিত্যদিনের সমস্যা—পণ্যদ্রব্যের দাম, যোগাযোগ সংকট, ও জনসেবার ঘাটতি তুলে ধরেন। হঠাৎ অদৃশ্য: কী ঘটেছে? এই দ্রুত উত্থানের মাঝেই আসে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা। ৫ এপ্রিল দুপুরের পর থেকেই পেজটি আর দেখা যাচ্ছে না। তাজুর সহযোগী শাহ আলম হোসেন জানান, এটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেও হতে পারে। তার ভাষায়, “আমরা আশা করছি, স্বল্প সময়ের মধ্যেই পেজটি আবার চালু হবে।” অন্যদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম ভিন্ন একটি সম্ভাবনার কথা বলেন। তার মতে, “অল্প সময়ে পেজটিতে বিপুল ফলোয়ার ও ভিউ বাড়ায় মেটা কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে পেজটি অদৃশ্য করে থাকতে পারে।” সম্ভাব্য কারণ বিশ্লেষণ তদন্তে উঠে আসছে কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা— ১. অস্বাভাবিক গ্রোথ অ্যালার্ট হঠাৎ করে ফলোয়ার সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেলে প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিভিউ শুরু হয়। ২. রিপোর্ট বা মাস রেপোর্টিং ভাইরাল হওয়ার পর অনেক সময় ট্রল, প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা সংগঠিত রিপোর্টিংয়ের কারণে পেজ সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। ৩. কমিউনিটি গাইডলাইন যাচাই ভিডিওর কনটেন্টে যদি কোনোভাবে প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার সঙ্গে অসঙ্গতি থাকে, তবে তা যাচাইয়ের জন্য পেজ লুকিয়ে রাখা হতে পারে। ৪. প্রযুক্তিগত ত্রুটি মাঝেমধ্যে বড় প্ল্যাটফর্মেও সাময়িক বাগ বা সার্ভার সমস্যার কারণে পেজ অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। গ্রামীণ কণ্ঠের উত্থান—নাকি ঝুঁকি? তাজুর ঘটনা শুধু একটি পেজ হারানোর গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ ডিজিটাল কনটেন্ট ইকোসিস্টেমের একটি প্রতীকী ঘটনা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একজন মানুষ যখন সরাসরি নিজের ভাষায় স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরেন, তখন তা দ্রুত মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। কিন্তু সেই একই দ্রুততা প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমিক নজরদারির ঝুঁকিও বাড়ায়। এখন কী? তাইজুল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে পেজটি স্বেচ্ছায় ডিঅ্যাক্টিভ করা হয়েছে, নাকি প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ সরিয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী—যদি এটি শুধুই যাচাই-বাছাই বা প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে খুব শিগগিরই ‘তাজু ভাই ২.০’ আবারও অনলাইনে ফিরে আসবে। তাজুর গল্প প্রমাণ করে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া যতটা সহজ মনে হয়, তা ধরে রাখা ততটাই জটিল। একদিকে মানুষের ভালোবাসা, অন্যদিকে অ্যালগরিদমের কঠোর নজরদারি—এই দুইয়ের মাঝেই এখন ঝুলে আছে ‘তাজু ভাই ২.০’-এর ভবিষ্যৎ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ইতালি উপকূলে বাংলাদেশিসহ জীবিত উদ্ধার ৩২, নিখোঁজ ৮০

ভূমধ্যসাগরের অন্ধকার পথে: লিবিয়া থেকে ইউরোপ—একটি ডুবন্ত যাত্রা

মিজানুর রহমান আজহারী

অস্ট্রেলিয়ায় ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল

মো. তাইজুল ইসলাম

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

ভারতের প্রখ্যাত লেখক অরুন্ধতী রায়
অরুন্ধতী রায়ের বিস্ফোরক বক্তব্য: ইরান যুদ্ধ, গাজা ও ভারতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা, ইরানের পাশে আছি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি-এর কামানি মিলনায়তনে এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে বই আলোচনা ছাপিয়ে উঠে এল বৈশ্বিক রাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র বক্তব্য। প্রখ্যাত ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায় তাঁর নতুন বই ‘মাদার মেরি কামস টু মি’ নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন লেখক নীলাঞ্জনা রায়। যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য প্রসঙ্গ বক্তব্যের শুরুতেই অরুন্ধতী রায় বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন তেহরান, ইসফাহান এবং বৈরুত-এর মতো শহরগুলোর পরিস্থিতি। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানে হামলার অভিযোগ তুলে বলেন, এটি “বিনা উসকানিতে এবং অবৈধভাবে” হয়েছে এবং তা গাজা-তে চলমান সহিংসতার ধারাবাহিকতা। তার ভাষায়, “একই কৌশল—নারী ও শিশু হত্যা, হাসপাতাল বোমা হামলা, শহর ধ্বংস—তারপর নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন।” বৈশ্বিক বিপদের আশঙ্কা অরুন্ধতী রায় সতর্ক করেন, ইরানকে ঘিরে এই সংঘাত বিশ্বব্যাপী বড় সংকটে রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্ব কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকেও এগোচ্ছে। তিনি ইতিহাস টেনে বলেন, হিরোশিমা ও নাগাসাকি পারমাণবিক বোমা হামলা-এর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইরানের প্রতি সমর্থন ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দায়িত্ব সেই দেশের জনগণেরই। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপকে তিনি “সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন” হিসেবে আখ্যা দেন। ভারতের সরকারের সমালোচনা ভারতের বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, দেশটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্বাধীন অবস্থান হারাচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভারতকে আন্তর্জাতিকভাবে অপমান করা হলেও সরকার নীরব। শ্রমিক ও নীতির প্রশ্ন গাজায় সংঘাত চলাকালে ইসরাইলে ভারতীয় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। বই ও ব্যক্তিগত জীবন অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল তাঁর নতুন বই। অরুন্ধতী রায় জানান, এটি সরাসরি আত্মজীবনী নয়, বরং “একজন ঔপন্যাসিকের স্মৃতিকথা”। বইটিতে তাঁর মা মেরি রায়-এর সঙ্গে জটিল সম্পর্ক উঠে এসেছে—যিনি একদিকে কঠোর মা, অন্যদিকে নারীর অধিকার আন্দোলনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। এআই ও সমাজ নিয়ে উদ্বেগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, এআই ধীরে ধীরে মানুষের মৌলিক চিন্তাশক্তিকে ক্ষয় করছে। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটি এখন শুধু “ফ্যাসিবাদী সরকার” নয়, বরং “ফ্যাসিবাদী সমাজ”-এর মুখোমুখি। অনুষ্ঠানের শেষভাগে তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে সমর্থন জানান। জবাবে অরুন্ধতী রায় ‘বিজয়’ চিহ্ন দেখিয়ে বলেন, “দিল্লিতে আমরা সব সময় প্রতিরোধ করি।”  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
জাওয়াদ আবু নাসার

গাজায় শিশুসহ আটক ওসামা আবু নাসের নিখোঁজ, ২১ মাসের শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ

তেলআবিবের আকাশে হাজার হাজার কাক

তেলআবিবের আকাশ ঢেকে দিল হাজার কাক! অশুভ সংকেত নাকি প্রাকৃতিক ঘটনা?

সন্তানের লাশটা আমারে বুঝায়ে দেন ভাই

সন্তানের লাশটা আমারে বুঝায়ে দেন ভাই,নিখোঁজ বহু যাত্রী, স্বজনদের আহাজারি ও ক্ষোভ

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0