Brand logo light
বাংলাদেশ

গণভোট-গুম প্রতিরোধসহ ১৬ অধ্যাদেশ বাতিলের পথে: সংসদে না তোলার পেছনে কী সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন
ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উত্থাপিত না হওয়ায় এগুলো ১২ এপ্রিলের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারির পর পরবর্তী সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে তা পাস না হলে সেটি বাতিল হয়ে যায়। ১২ মার্চ সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ায় সময়সীমা শেষ হচ্ছে ১২ এপ্রিল।

 কেন সংসদে তোলা হচ্ছে না?

জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, এই ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমান অবস্থায় পাস করার মতো উপযুক্ত নয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী—

  • এগুলো এখনই বিল আকারে না এনে
  • আরও যাচাই-বাছাই করে
  • শক্তিশালী ও সংশোধিত আকারে পুনরায় উপস্থাপন করা হবে

এতে স্পষ্ট যে, আইনগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও নীতিগত দ্বিধা রয়েছে।

 আইনগত শূন্যতার ঝুঁকি

এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক আইনগত শূন্যতা তৈরি হতে পারে—

  • গুম প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা
  • মানবাধিকার সুরক্ষা কাঠামো
  • দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার সংস্কার
  • রাজস্ব ও করনীতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, “একই সঙ্গে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল হওয়া প্রশাসনিক ও আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।”

 ভিন্নমত ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন

বিশেষ কমিটির রিপোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’। জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য ১২টি অধ্যাদেশের বিরোধিতা করেছেন।

বিশেষ করে স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো নিয়ে তাদের আপত্তি—

  • অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ
  • সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন
  • সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের সঙ্গে অসঙ্গতি

এটি ইঙ্গিত দেয় যে, আইন প্রণয়নের এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিভাজন গভীর হচ্ছে।

১৩৩ অধ্যাদেশের বড় চিত্র

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে—

  • ৯৮টি সরাসরি পাসের সুপারিশ
  • ১৫টি সংশোধন করে বিল আনার প্রস্তাব
  • ৪টি বাতিলের জন্য বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ

অর্থাৎ, পুরো আইন কাঠামোই এখন পুনর্মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বাতিলের তালিকায় থাকা অধ্যাদেশ 

বাতিল হতে যাওয়া ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে—গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬। 

মূল প্রশ্নগুলো

এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—

  • কেন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সময়মতো সংসদে তোলা হলো না?
  • সরকারের ভেতরে কি নীতিগত দ্বন্দ্ব রয়েছে?
  • আইনগত শূন্যতা তৈরি হলে দায় কে নেবে?
  • নতুন বিল কবে নাগাদ আসবে?

 সামনে কী?

১২ এপ্রিলের পর যদি অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যায়, তবে—

  • সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নতুন করে বিল আনতে হবে
  • পুরো আইন প্রক্রিয়া আবার শুরু হবে
  • এতে সময়, প্রশাসনিক চাপ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়বে

এই পরিস্থিতি শুধু আইন নয়, দেশের শাসন কাঠামোর ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
নারী সেজে তেল নিয়ে গিয়ে ধরা পড়লেন যুবক
বোরকা পরে তেল নিতে গিয়ে যুবক ধরা, ভিডিও ভাইরাল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় বোরকা পরে নারী সেজে একটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে এক যুবক ধরা পড়েছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার (১ মার্চ) রাতে উপজেলার নজিপুর বাজার এলাকার মামুন ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তবে ওই যুবকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফিলিং স্টেশনের মালিকের ছেলে অভি জানান, সেদিন রাতে পাম্পে তেল নিতে গ্রাহকদের প্রচুর ভিড় ছিল। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছিল যানবাহন চালকদের। তেল বিক্রি ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল কর্মীদের। এই অবস্থার মধ্যেই বোরকা পরিহিত একজন ব্যক্তি তেল নিতে আসেন। উপস্থিত সাধারণ মানুষের সন্দেহ হলে বিষয়টি দ্রুত প্রকাশ পায় যে তিনি নারী নন, বরং একজন যুবক। পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলে তাকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান অভি। স্থানীয়দের ধারণা, তেলের সংকট ও দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা এড়াতে নারী সেজে আগে তেল পাওয়ার আশায় এমন কৌশল অবলম্বন করেছিলেন ওই যুবক। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন—কেউ এটিকে হাস্যকর হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ তেল সংকটের চিত্র হিসেবে তুলে ধরছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
সেন্টমার্টিন দ্বীপের কাছাকাছি বাংলাদেশের আকাশসীমায় ড্রোন উড়তে দেখা

সেন্টমার্টিনের আকাশে ড্রোন: মিয়ানমার সীমান্তে নতুন উদ্বেগ, নজরদারির আশঙ্কা

ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন

গণভোট-গুম প্রতিরোধসহ ১৬ অধ্যাদেশ বাতিলের পথে: সংসদে না তোলার পেছনে কী সিদ্ধান্ত

গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান ওরফে নিজাম।

বাকেরগঞ্জে ১৬ মামলার আসামি আন্তঃজেলা ডাকাত নিজাম গ্রেপ্তার

দুই সাংবাদিককে হাতকড়া ,এসিল্যান্ডকে বদলি
চান্দিনায় সাংবাদিকদের হাতকড়া পরানোর ঘটনায় এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূর বদলি

ইত্তেহাদ  নিউজ: কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানোর ঘটনায় অভিযুক্ত এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূরকে স্ট্যান্ড রিলিজ দিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুরে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বরমান হোসেন। এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে চান্দিনা উপজেলা ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক মানবজমিনের দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ‘ফেস দ্য পিপল’ অনলাইন নিউজ পোর্টালের দেবিদ্বার প্রতিনিধি আব্দুল আলীম। কী ঘটেছিল সাংবাদিক আব্দুল আলীম অভিযোগ করেন, তার এক আত্মীয়ের নামজারি সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দপ্তরে যাতায়াতের পর নির্ধারিত শুনানির দিনে তিনি সহকর্মীকে নিয়ে ভূমি অফিসে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে আচরণ নিয়ে ভিডিও ধারণ করতে গেলে কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে পুলিশ ডেকে এনে তাদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানো হয়। আরও অভিযোগ আব্দুল আলীম আরও অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার পর তার মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে ভিডিও ও ছবি মুছে ফেলা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযুক্ত এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূরকে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ দিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুরে বদলি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
হাম

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৬৮৫

শামসুল হক মনু মিয়া

ঝালকাঠি নারী শ্রমিককে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করায় শাহী ৯৯ জর্দা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা

সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ

১৯ বছরেও সংস্কার হয়নি সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত নলছিটির ভেরনবাড়িয়া ব্রিজ, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

চরমোনাই দরবারের বার্ষিক মাহফিলে আসিফ মাহমুদ
চরমোনাই মাহফিলে ইসলামী আন্দোলনের অবদান স্মরণ করলেন আসিফ মাহমুদ

বরিশাল অফিস :   আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে ব্যানার নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—যা “দেশ ও জাতির জন্য স্মরণীয় অবদান” হিসেবে বিবেচিত হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চরমোনাই দরবার-এ অনুষ্ঠিত বার্ষিক মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও জানান, সেই সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সমর্থন না পেলে তার বেঁচে থাকা কঠিন হতো। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে রাজপথে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। মাহফিল ও বৈঠক এর আগে ভোরে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে চরমোনাই দরবারে পৌঁছায়। ফজরের নামাজের পর মাহফিলে বয়ান করেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ঘরোয়া বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যদিও বৈঠকের আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে—দেশের সমসাময়িক রাজনীতি এবং সম্ভাব্য গণভোট ইস্যু আলোচনায় উঠে আসে। উপস্থিত নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা গাজী আতাউর রহমান ও ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম। এছাড়া এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার, ফয়সাল মাহমুদ শান্তসহ বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চরমোনাই দরবারে এটি প্রথম বড় মাহফিল। নির্বাচন-পূর্ব আয়োজনে সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল আমন্ত্রণ পেলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ ঘটনাকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
আন্ডা রফিক

গণমাধ্যমে খবরের পর গা ঢাকা, দেশত্যাগের চেষ্টার অভিযোগ আন্ডা রফিকের বিরুদ্ধে

চরমোনাই মাহফিলে আসিফ মাহমুদ

চরমোনাই মাহফিলে আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে এনসিপি নেতাদের অংশগ্রহণ

দোকান–শপিংমল

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশজুড়ে রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ দোকান ও শপিংমল

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

হাতিরঝিল থানার ওসি

‘নবীন’ পাঞ্জাবির দোকান বন্ধে চাপ: হাতিরঝিল থানার ওসি ক্লোজড, ডিএমপির তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0